রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর প্রতি ওয়াহী এর সূচনা

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর প্রতি ওয়াহী এর সূচনা

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর প্রতি ওয়াহী এর সূচনা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৭৩. অধ্যায়ঃ রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর প্রতি ওয়াহী এর সূচনা

২৯৩

আয়িশাহ্‌ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর নিকট ওয়াহীর সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। আর তিনি যে স্বপ্নই দেখিতেন তা সকালের সূর্যের মতই সুস্পষ্টরূপে সত্যে পরিণত হত। অতঃপর তাহাঁর কাছে একাকী থাকা প্রিয় হয়ে পড়ে এবং তারপর তিনি হেরা গুহায় নির্জনে কাটাতে থাকেন। আপন পরিবারের কাছে ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত সেখানে তিনি একাধারে বেশ কয়েক রাত ইবাদাতে মগ্ন থাকতেন এবং এর জন্য কিছু খাদ্য সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যেতেন। তারপর তিনি খাদীজার কাছে ফিরে যেতেন এবং আরো কয়েক দিনের জন্য অনুরূপভাবে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে আসতেন। তিনি হেরা গুহায় যখন ধ্যানে রত ছিলেন, তখন তাহাঁর নিকট ফেরেশ্‌তা আসলেন, এরপর বলিলেন, পড়ুন! তিনি [সাঃআ:] বলিলেন, আমি তো পড়তে জানি না। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, তখন ফেরেশ্‌তা আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন চাপ দিলেন যে, আমার খুবই কষ্ট হলো। তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলিলেন, পড়ুন! আমি বললাম, আমি তো পড়তে সক্ষম নই। তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং দ্বিতীয়বারও এমন জোরে চাপ দিলেন যে, আমার খুবই কষ্ট হলো। পরে ছেড়ে দিয়ে বলিলেন, পড়ুন! আমি বললাম, আমি তো পড়তে সক্ষম নই। এরপর আবার আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং তৃতীয়বারও এমন জোরে চাপ দিলেন যে আমার খুবই কষ্ট হলো। এরপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলিলেন,

اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ * خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ * اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ * الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ * عَلَّمَ الإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ

“পাঠ করুন! আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন; সৃষ্টি করিয়াছেন মানুষকে আলাক্‌ হতে। পাঠ করুন! আর আপনার প্রতিপালক মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না” – [সূরাহ আলাক্‌ ৯৬ : ১-৫]। এরপর রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] এ ওয়াহী নিয়ে ফিরে এলেন। তাহাঁর স্কন্ধের পেশীগুলো কাঁপছিল। খাদীজাহ্‌ [রাঃআ:]-এর নিকট এসে বলিলেন, তোমরা আমাকে চাদর দ্বারা ঢেকে দাও, তোমরা আমাকে চাদর দ্বারা ঢেকে দাও। তাঁরা রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] কে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তাহাঁর ভীতি দূর হলো। এরপর খাদীজাহ [রাঃআ:]-কে সকল ঘটনা উল্লেখ করে বলিলেন, খাদীজাহ্‌ আমার কি হলো? আমি আমার নিজের উপর আশঙ্কা করছি। খাদীজাহ্‌ [রাঃআ:] বললেনঃ না, কখনো তা হইবে না। বরং সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর কসম! তিনি কখনো আপনাকে অপমানিত করবেন না। আল্লাহর কসম! আপনি স্বজনদের খোঁজ-খবর রাখেন, সত্য কথা বলেন, দুঃখীদের দুঃখ নিবারণ করেন, দরিদ্রদের বাঁচার ব্যবস্থা করেন, অতিথি সেবা করেন এবং প্রকৃত দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্য করেন। এরপর খাদীজাহ [রাঃআ:] রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-কে ওয়ারাকাহ্‌ ইবনি নাওফাল ইবনি আসাদ ইবনি আবদুল উয্‌যা এর নিকট নিয়ে আসেন। ওয়ারাকাহ্‌ ছিলেন খাদীজাহ্‌ [রাঃআ:]-এর চাচাত ভাই; ইনি জাহিলিয়্যাতের যুগে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবী লিখতে জানতেন এবং ইন্‌জীল কিতাবের আরবী অনুবাদ করিতেন। তিনি ছিলেন বৃদ্ধ এবং তিনি দৃষ্টিশক্তিহীন হয়ে পড়েছিলেন। খাদীজাহ্‌ [রাঃআ:] তাঁকে বললেনঃ চাচা, [সম্মানার্থে চাচা বলে সম্বোধন করেছিলেন। অন্য রিওয়ায়াতে “হে চাচাত ভাই” এ কথা উল্লেখ রয়েছে] আপনার ভাতিজা কি বলছে শুনুন তো! ওয়ারাকাহ্‌ ইবনি নাওফাল বলিলেন, হে ভাতিজা! কি দেখেছিলেন? রসূল [সাঃআ:] যা দেখেছিলেন সব কিছু বিবৃত করিলেন। ওয়ারাকাহ্‌ বলিলেন, এ তো সে সংবাদবাহক যাকে আল্লাহ মূসা [আ:]-এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন। হায়! আমি যদি সে সময় যুবক থাকতাম, হায়! আমি যদি সে সময় জীবিত থাকতাম, যখন আপনার জাতিগোষ্ঠী আপনাকে দেশ থেকে বের করে দিবে। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বললেনঃ সত্যি কি আমাকে তারা বের করে দিবে? ওয়ারাকাহ্‌ বলিলেন, হ্যাঁ। যে ব্যক্তিই আপনার মত কিছু [নুবূওয়াত ও রিসালাত] নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেছে, তাহাঁর সঙ্গেই এরূপ দুশমনী করা হয়েছে। আর আমি যদি আপনার সে যুগ পাই তবে অবশ্যই আপনাকে পূর্ণ সহযোগিতা করব। {৬৭} [ই.ফা. ৩০০; ই.সে. ৩১১]

{৬৭} নবি [সাঃআ:]-এর নিকট ওয়াহীর সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তাহাঁর স্বপ্ন সূর্যের মতই স্পষ্টরূপে সত্যে পরিণত হত।

ইমাম নাবাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আলিমদের মত যে, নুবূওয়াতের পূর্বে এ অবস্থা ছয় মাস ছিল। তারপর জিবরীল [আ:]  ওয়াহী নিয়ে আসেন। সম্ভবতঃ এ প্রক্রিয়াই ওয়াহীর সূচনা এভাবে করা হয়েছে এজন্য যে,  প্রথম হতেই জিবরীল [আ:] ওয়াহী নিয়ে আসলে, তিনি হতবুদ্ধি বা কর্তব্য বিমূঢ় হয়ে যেতেন। মানুষ হিসেবে হঠাৎ করে নুবূওয়াতের বোঝা উঠাতে সক্ষম হতেন না। ওয়াহীর বিস্তারিত বর্ণনা আয়িশাহ্‌ সিদ্দীকাহ্‌ [রাঃআ:]-এর মুরসাল হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

তারপর আল্লাহ তাআলা সূরাহ আল মুদ্দাস্‌সিরের প্রথম কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ করেন। এরপর হতেই ঘন ঘন ওয়াহী নাযিল হতে থাকে।

ইমাম নাবাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেনঃ কেউ কেউ বলেছেন যে, সূরাহ আল মুদ্দাস্‌সির সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন যে, সূরাহ ফা-তিহাহ্‌ সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছিল। এসব কথার কোন ভিত্তি নেই।

ওয়াহী স্থগিত থাকার কারণ কি? ইবনি হাজার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ফাতহুল বারীর ১ম খণ্ডের ২৭ পৃষ্ঠায় লিখেছেন যে, নবি [সাঃআ:] ভয় পেয়েছিলেন। সে ভয় যেন কেটে যায় এবং পুনরায় ওয়াহী প্রাপ্তির আগ্রহ এবং প্রতিক্ষা যেন তাহাঁর মনে জাগ্রত হয়। [আর রাহীকুল মাখতুম, অনুবাদ-খাদীজা আখতার রেজায়ী ৯৩-৯৪ পৃষ্ঠা]

২৯৪

আয়িশাহ্‌ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, প্রথম অবস্থায় রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর নিকট যে ওয়াহীর সূচনা হয় ….. । অতঃপর হাদীসের অবশিষ্টাংশ ইউনুসের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে কিছুটা শব্দগত পার্থক্য রয়েছে। যেমন-খাদীজাহ্‌ [রাঃআ:] বলেন, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনো দুশ্চিন্তায় নিক্ষেপ করবেন না। খাদীজহ্‌ [রাঃআ:] ওয়ারাকাকে সম্বোধন করে বলিলেন, হে আমার চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজা কি বলে তা শুনেন। [ই.ফা. ৩০১; ই.সে. ৩১২]

২৯৫

নবি [সাঃআ:]-এর স্ত্রী আয়িশাহ্‌ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

অতঃপর নবি [সাঃআ:] হেরা গুহা থেকে এমন অবস্থায় খাদিজাহ্‌ [রাঃআ:]-এর নিকট [বাড়ি] ফিরলেন যে, ভয়ে তাহাঁর অন্তর কাঁপছিল। এরপর হাদীসের অবশিষ্ট ঘটনা ইউনুস ও মামারের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। কিন্তু তাহাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসের প্রথম অংশে আয়িশা [রাঃআ:]-এর বক্তব্য “রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর কাছে ওয়াহী আসার প্রথম অবস্থা ছিল সত্য-স্বপ্ন”-এ বাক্যটির উল্লেখ নেই। তবে মামার “আল্লাহর শপথ! আল্লাহ কখনো আপনাকে অপমান করবেন না”-এ বাক্য বর্ণনায় ইউনুসের অনুসরণ করিয়াছেন এবং এ কথাও বর্ণনা করিয়াছেন যে, “খাদীজাহ্‌ ওয়ারাকাকে বলিলেন, হে আমার চাচাত ভাই! আপনার ভাতিজা কি বলেন, তা শুনেন।” [ই.ফা. ৩০২; ই.সে. ৩১৩]

২৯৬

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ আল আনসারী [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর সহাবাগণ ওয়াহীর বিরতি প্রসঙ্গে পরস্পর কথাবার্তা বলছিলেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] ওয়াহীর বিরতি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যে, আমি পথ চলছিলাম সে মুহূর্তে আকাশ হতে একটি শব্দ শুনে মাথা তুলে তাকালাম, দেখি সে হিরা গুহায় যে ফেরেশতা আমার কাছে এসেছিলেন সে ফেরেশতা জমিন ও আসমানের মধ্যস্থলে কুরসীর উপর বসে আছেন। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, এ দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আর দ্রুত বাড়ি ফিরে এসে বলিতে লাগলাম, আমাকে কম্বল দ্বারা ঢেকে দাও, আমাকে কম্বল দ্বারা ঢেকে দাও। তারা আমায় কম্বল দ্বারা ঢেকে দিল। এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ

 يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ * قُمْ فَأَنْذِرْ * وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ * وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ * وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ

“অর্থাৎ “হে কম্বল জড়ানো ব্যক্তি! উঠুন, সতর্কবাণী প্রচার করুন। আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন! আপনার পরিচ্ছেদ পবিত্র রাখুন এবং অপবিত্রতা হতে দূরে থাকুন-[সূরাহ আল মুদ্দাস্‌সির ৭৪ : ১-৫] এখানে অপবিত্রতা বলে প্রতিমাকে বুঝানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, তারপর ধারাবাহিকভাবে ওয়াহী অবতরণ আরম্ভ হয়। [ই.ফা. ৩০৩; ই.সে. ৩১৪]

২৯৭

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনেছেন, অতঃপর আমার কাছে ওয়াহী আসা বন্ধ থাকল, একদিন আমি পথ চলছিলাম। হাদীসের বাকী অংশ ইউনুসের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আরো বলেছেনঃ “তাঁকে [জিবরীল] দেখে আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে জমিনে পড়ে গেলাম।” ইবনি শিহাব বলেন, আবু সালামাহ্‌ বলেছেন, আর্‌ রুজ্‌য অর্থ হচ্ছে মূর্তি, প্রতিমা। তিনি আরো বলেন, তারপর ধারাবাহিকভাবে ওয়াহী আসতে লাগলো।

মুহাম্মাদ ইবনি রাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ….. যুহরী [রাঃআ:] থেকে ইউনুস [রাঃআ:]-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে বর্ণনাকারী এ হাদীসে উল্লেখ করেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] ইরশাদ করিয়াছেন, এরপর আল্লাহ তাআলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেনঃ “হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! ….. এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন”-[সূরাহ আল মুদ্দাস্‌সির ৭৪ : ১-৫] এ আয়াতটি সলাত ফারয হবার পূর্বেই নাযিল হয়। অর্থ প্রতিমা এবং মামার এ হাদীসে উকায়লের ন্যায় বর্ণনা করেন। [ই.ফা. ৩০৪, ৩০৫; ই.সে. ৩১৫, ৩১৬] arbi

২৯৮

ইয়াহ্‌ইয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু সালামাহ্‌কে জিজ্ঞেস করলাম, কুরআনের কোন্‌ আয়াতটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বলিলেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ [সূরাহ আল মুদ্দাস্‌সির ৭৪ : ১-৫]। আমি বললাম, اقْرَأْ [সূরাহ আল আলাক ৯৬ : ১-৫]। তিনি বলিলেন, আমিও জাবির ইবনি আবদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কুরআনের কোন্‌ আয়াতটি প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমি বললাম, জাবির [রাঃআ:] বলিলেন, আমি তোমাদেরই তা-ই বর্ণনা করছি। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] আমাদের যা বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, আমি একমাস হিরা গুহায় অবস্থান করি। অবস্থান শেষে আমি নিচে নেমে এলাম। উপত্যকায় মাঝখানে যখন পৌঁছলাম তখন আমাকে ডাকা হলো। আমি সামনে-পেছনে, ডানে-বায়ে তাকালাম, কাউকে দেখলাম না। তারপর আমাকে ডাকা হলো, তখনো কাউকে দেখিতে পেলাম না। পুনঃ আমাকে ডাকা হলো। আমি তাকালাম, দেখি সে ফেরেশতা অর্থাৎ জিবরীল [আ:] শূন্যে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট। আবার প্রবল কম্পন শুরু হলো। অনন্তর খাদীজার নিকট আসলাম। বললাম, তোমরা আমার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও, তোমরা আমার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও। তারা আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিল। আমার উপর পানি ঢাললো। অনন্তর আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ “হে কম্বল জড়ানো ব্যক্তি! উঠুন সতর্কবাণী প্রচার করুন, আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন, আপনার পরিচ্ছেদ পবিত্র রাখুন”-[সূরাহ আল মুদ্দাস্‌সির ৭৪ : ১-৪]। [ই.ফা. ৩০৬; ই.সে. ৩১৭]

২৯৯

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি কাসীর [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

পূর্ব বর্ণিত সানাদে বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তিনি এ কথা উল্লেখ করেছেনঃ সে ফেরেশতা আসমান জমিনের সাথে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট। [ই.ফা. ৩০৭; ই.সে. ৩১৮]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply