ওয়ালাআ ও হিবা । আযাদকারী ব্যক্তিই ওয়ালাআর অধিকারী

ওয়ালাআ ও হিবা । আযাদকারী ব্যক্তিই ওয়ালাআর অধিকারী

ওয়ালাআ ও হিবা । আযাদকারী ব্যক্তিই ওয়ালাআর অধিকারী , এই অধ্যায়ে মোট ৮টি হাদীস (২১২৫ -২১৩২) >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-২৯ঃ ওয়ালাআ ও হিবা, অনুচ্ছেদঃ (১-৭)=৭টি

১. অনুচ্ছেদঃ আযাদকারী ব্যক্তিই ওয়ালাআর অধিকারী
২. অনুচ্ছেদঃ ওয়ালাআ-স্বত্ব বিক্রয় করা বা হিবা করা নিষেধ
৩. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি নিজের মনিব অথবা বাবাকে পরিত্যাগ করে অন্য কাউকে নিজের মনিব অথবা বাবা বলে দাবি করে ।
৪. অনুচ্ছেদঃ কেউ তার সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করলে
৫. অনুচ্ছেদঃ চেহারা ও গঠন-প্রকৃতি দেখে বংশ নির্ণয় [কিয়াফা]
৬. অনুচ্ছেদঃ উপঢৌকন আদান-প্রদানে নাবী [সাঃআঃ]-এর উৎসাহ প্রদান
৭. অনুচ্ছেদঃ দান করার পর তা ফিরিয়ে নেয়া আপত্তিকর

১. অনুচ্ছেদঃ আযাদকারী ব্যক্তিই ওয়ালাআর অধিকারী

২১২৫. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বারীরা [রাদি.] কে ক্রয় করার ইচ্ছা করিলেন। কিন্তু মালিক পক্ষ নিজেদের জন্য ওয়ালাআর শর্তারোপ করে। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ যে ব্যক্তি মূল্য পরিশোধ করে অথবা যে ব্যক্তি নিয়ামাতের [আযাদকৃতের] মালিক সে-ই ওয়ালাআর অধিকারী।

সহীহ, সহীহ আবু দাউদ [২৫৮৯], বুখারী, মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, ইবনি উমার ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহিহ। এ হাদীস মুতাবিক আলিমগণ আমল করিয়াছেন। ওয়ালাআ ও হিবা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২. অনুচ্ছেদঃ ওয়ালাআ-স্বত্ব বিক্রয় করা বা হিবা করা নিষেধ

২১২৬. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ওয়ালাআ-স্বত্ব বিক্রয় করিতে অথবা হিবা করিতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বারণ করিয়াছেন।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৭৪৭, ২৭৪৮], বুখারী মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহিহ। আমরা শুধুমাত্র আবদুল্লাহ ইবনি দীনারের সূত্রে ইবনি উমারের বরাতে রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] হইতে এ হাদীসটি জেনেছি। তিনি ওয়ালাআ বিক্রয় বা হিবা করিতে বারণ করিয়াছেন। উপরে বর্ণিত হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনি দীনারের সূত্রে শুবা, সুফিয়ান সাওরী ও মালিক ইবনি আনাস [রাহঃ] বর্ণনা করিয়াছেন। শুবা [রাহঃ] বলেন, এ হাদীসটি যখন আবদুল্লাহ ইবনি দীনার বর্ণনা করেন তখন আমি মনে মনে ইচ্ছা করছিলাম যে, তিনি সম্মতি দিলে আমি উঠে গিয়ে তার মাথায় চুমু খেতাম। এই হাদীসটি উবাইদুল্লাহ ইবনি উমার নাফি হইতে, তিনি ইবনি উমার [রাদি.] হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] হইতে এই সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনি সুলাইম বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এতে বিভ্রান্তি আছে। ইয়াহইয়া ইবনি সুলাইম এতে বিভ্রান্তি ঘটিয়েছেন। সহীহ সনদ হলো উবাইদুল্লাহ ইবনি উমার আবদুল্লাহ ইবনি দীনার হইতে, তিনি ইবনি উমার [রাদি.] হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] হইতে। উবাইদুল্লাহ ইবনি উমার হইতে একাধিক বর্ণনাকারী একইরকম বর্ণনা করিয়াছেন। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনি দীনার এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। ওয়ালাআ ও হিবা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি নিজের মনিব অথবা বাবাকে পরিত্যাগ করে অন্য কাউকে নিজের মনিব অথবা বাবা বলে দাবি করে ।

২১২৭. ইবরাহীম আত-তাইমী [রাহঃ] হইতে তার বাবার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আলী [রাদি.] আমাদের সামনে খুতবাহ দেন এবং বলেন, যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আমাদের নিকট আল্লাহ্ তাআলার গ্রন্থ এবং এই পুস্তিকা যার মধ্যে উটের বয়সের বিবরণী ও জখমের ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে তা ব্যতীত আরো কোন গ্রন্থ আছে সে মিথ্যাবাদী। তিনি তার খুৎবায় আরো বলেন, এই গ্রন্থে আরো আছেঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মাদীনার হেরেমের সীমানা হচ্ছে আইর পাহাড় হইতে সাওর পর্বত পর্যন্ত। যদি কেউ এতে কোন প্রকার বিদআতের প্রচলন ঘটায় অথবা কোন বিদআতীকে আশ্রয় দেয় তাহলে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। কিয়ামাত দিবসে তার কোন ফরয বা নাফল ইবাদাতই আল্লাহ তাআলা ক্ববূল করবেন না। যে লোক তার বাবাকে পরিত্যাগ করে অন্য কাউকে বাবা বলে দাবি করে [নিজের বংশপরিচয় গোপন করে অন্য বংশের পরিচয় দেয়] অথবা তার মনিবকে ছেড়ে দিয়ে অন্য মনিবের নিকট পালিয়ে যায় তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার ফরয বা নাফল কোন ইবাদাতই গ্রহণ করা হইবে না। মুসলমানদের যিম্মা প্রদান একই সমান ও অখন্ড। তাহাদের মধ্যকার সবচেয়ে সাধারণ ব্যক্তি [কাউকে] আশ্রয় দান করলে তাও রক্ষা করা হইবে।

সহীহ ইরওয়া [১০৫৮] নাক্বদুল কাত্তানী [৪২], সহীহ আবু দাঊদ [১৭৭৩-১৭৭৪], বুখারী, মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, কিছু বর্ণনাকারী আমাশ হইতে, তিনি ইবরাহীম আত-তাইমী হইতে, তিনি হারিস ইবনি সুওয়াইদ হইতে, তিনি আলী [রাদি.]-এর হইতে এই সূত্রে একইরকম বর্ণনা করিয়াছেন। এ হাদীসটি হাসান সহিহ। উপরোক্ত হাদীসটি একাধিকভাবে আলী [রাদি.]-এর সূত্রে রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] হইতে বর্ণিত হয়েছে। ওয়ালাআ ও হিবা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪. অনুচ্ছেদঃ কেউ তার সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করলে

২১২৮. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ফাযারা বংশের একজন লোক রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিকট এসে বলিল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]! আমার স্ত্রী একটি কালো বর্ণের ছেলেসন্তান প্রসব করেছে। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বললেনঃ তোমার উট আছে কি? সে বলিল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ সেগুলো কি বর্ণের? সে বলিল, লাল। তিনি বললেনঃ সেগুলোর মধ্যে ধূসর বর্ণের উট আছে কি? সে বলিল, হ্যাঁ সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি ধূসর বর্ণের উটও আছে। তিনি বললেনঃ সেগুলোর মধ্যে এই ধরনের রং কোথা হইতে এল? সে বলিল, হয়তো বংশধারা হইতে তা এসেছে [এই বংশে হয়তো এরকম কোন উট ছিল]। তিনি বললেনঃ এটাও হয়তো বংশধারার টান, [তোমার] পূর্বপুরুষের মধ্যে কেউ এরূপ ছিল।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২১০২], বুখারী, মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহিহ। ওয়ালাআ ও হিবা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫. অনুচ্ছেদঃ চেহারা ও গঠন-প্রকৃতি দেখে বংশ নির্ণয় [কিয়াফা]

২১২৯. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] উৎফুল্লভাবে তার সামনে আসেন। তাহাঁর মুখমন্ডলের রেখাগুলো বিদ্যুতের মতো চকচক করছিল। তিনি বললেনঃ তুমি কি দেখনি! এইমাত্র একজন বংশ বিশারদ যাইদ ইবনি হারিসা ও উসামা ইবনি যাইদকে দেখে বলিল, এগুলো একটি হইতে আর একটি উদগত হয়েছে।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৩৪৯], বুখারী, মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহিহ । এ হাদীসটি ইবনি উয়াইনা যুহ্রী হইতে, তিনি উরওয়া হইতে, তিনি আইশা [রাদি.] হইতে এই সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। তাতে আরো আছে, “তুমি কি দেখনি! যাইদ ইবনি হারিসা ও উসামা ইবনি যাইদের পাশ দিয়ে একজন বংশবিশারদ অতিক্রম করছিলো। তাহাদের দুজনের মাথা তখন ঢাকা ছিল কিন্তু তাহাদের পা খোলা অবস্থায় ছিল। সে বলিল, এ পাগুলো একটি হইতে অন্যটি উদগত”। এ হাদীসটি সাঈদ ইবনি আবদুর রাহমান এবং আরও অনেকে সুফিয়ান ইবনি উয়াইনা-যুহ্রী-উরওয়া-আইশা [রাদি.]-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। এ বর্ণনাটিও হাসান সহিহ একদল বিশেষজ্ঞ আলিমের মতে, কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসার জন্য লক্ষণ বা চিহ্নকে প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করা যেতে পারে। তারা এ হাদীসটি নিজেদের মতের পক্ষে উপস্থাপন করেন। ওয়ালাআ ও হিবা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬. অনুচ্ছেদঃ উপঢৌকন আদান-প্রদানে নাবী [সাঃআঃ]-এর উৎসাহ প্রদান

২১৩০. আবু হুরাইরাহ্ [রাযিঃ] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা একজন অন্যজনকে উপহার দাও। উপহার মনের ময়লা দূর করে। এক প্রতিবেশিনী অপর প্রতিবেশিনীকে বকরীর পায়ের এক টুকরা ক্ষুর হলেও তা উপহার দিতে যেন অবহেলা না করে।

যঈফ, মিশকাত ৩০২৮ হাদীসের ২য় অংশ এক প্রতিবেশিনী .. শেষ পর্যন্ত সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ উল্লেখিত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আবু মাশারের স্মরণশক্তির সমালোচনা করিয়াছেন। আবু মাশারের নাম নাজীহ, বানূ হাশিমের মুক্তদাস। ওয়ালাআ ও হিবা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৭. অনুচ্ছেদঃ দান করার পর তা ফিরিয়ে নেয়া আপত্তিকর

২১৩১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক দান করার পর তা আবার ফিরিয়ে নেয় সে কুকুর সমতুল্য, যে পেট ভরে খাওয়ার পর বমি করে, আবার ফিরে এসে তা খায়।

সহীহ, ইরওয়া [৬/৩৬], বুখারী, সুমলিম সংক্ষিপ্ত ভাবে। আবু ঈসা বলেন, ইবনি আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ওয়ালাআ ও হিবা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২১৩২. ইবনি উমার ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ উপহার প্রদানের পর তা আবার ফিরিয়ে নেয়া কারো জন্য বৈধ নয়। তবে পিতা তার সন্তানকে দেয়া উপহার ফিরিয়ে নিতে পারে। উপহার প্রদানের বা দানের পর তা পুনরায় যে লোক ফিরিয়ে নেয় সে লোক কুকুর সমতুল্য। যেমন কুকুর পেট ভরে খাওয়ার পর বমি করে এবং তা আবার ভক্ষণ করে।

সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহিহ। ঈমাম শাফি বলেন, যে ব্যক্তি দান করে তার জন্য তার দানকৃত বস্তু পুনরায় ফিরিয়ে নেয়া বৈধ নয়। তবে পিতার জন্য তা বৈধ অর্থাৎ সে তার সন্তনকে কিছু দান করে তা আবার ফিরিয়ে নিতে পারে। এ হাদীসটি ঈমাম শাফি তার মতের অনুকলে দলীল হিসাবে গ্রহণ করিয়াছেন। ওয়ালাআ ও হিবা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply