আত্মা, মিথ্যাচার, সুধারণা, কবিতা, স্বপ্ন, ওয়াদা সম্পর্কে হাদিস

আত্মা, মিথ্যাচার, সুধারণা, কবিতা, স্বপ্ন, ওয়াদা সম্পর্কে হাদিস

আত্মা, মিথ্যাচার, সুধারণা, কবিতা, স্বপ্ন, ওয়াদা সম্পর্কে হাদিস >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ৪৩, অনুচ্ছেদঃ ৮৪-৯৬=১৩টি

অনুচ্ছেদ-৮৪ঃ আমার আত্মা কলুষিত হয়ে গেছে এরূপ না বলা
অনুচ্ছেদ-৮৫ঃ [ এই অনুচ্ছেদে কোন শিরোনাম নেই ]
অনুচ্ছেদ-৮৬ঃ আতামার সলাত
অনুচ্ছেদ-৮৭ঃ পরিচিতির ব্যাপারে বিকল্প ব্যবস্থা অনুমোদিত
অনুচ্ছেদ-৮৮ঃ মিথ্যাচার সম্পর্কে কঠোরতা
অনুচ্ছেদ-৮৯ঃ সুধারণা পোষণ
অনুচ্ছেদ-৯০ঃ ওয়াদা পালন
অনুচ্ছেদ-৯১ঃ না পেয়েও তৃপ্তির ভান করা
অনুচ্ছেদ-৯২ঃ রসিকতা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৯৩ঃ কেউ ঠাট্টাচ্ছলে কিছু গ্রহণ করলে
অনুচ্ছেদ-৯৪ঃ বাকপটুতা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৯৫ঃ কবিতা
অনুচ্ছেদ-৯৬ঃ স্বপ্ন সম্পর্কে

অনুচ্ছেদ-৮৪ঃ আমার আত্মা কলুষিত হয়ে গেছে এরূপ না বলা

৪৯৭৮. সাহল ইবনি হুনাইফ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ যেন না বলে “আমার আত্মা কলুষিত হয়ে গেছে। বরং বলবেঃ আমার আত্মা অস্থির হয়ে পড়েছে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৯৭৯. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন না বলে, আমার আত্মা বিক্ষুব্ধ হয়ে গেছে। বরং বলবেঃ আমার আত্মা বিতৃষ্ণ হয়ে গেছে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৯৮০. হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা বলো না যে, আল্লাহ যা চান এবং অমুক লোক যা চায়। সুতরাং তোমরা বলো আল্লাহ যা চান, অতঃপর অমুকে যা চায়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮৫ঃ [ এই অনুচ্ছেদে কোন শিরোনাম নেই ]

৪৯৮১. আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক বক্তা নাবী [সাঃআঃ] এর উপস্থিতিতে বক্তৃতা করিতে গিয়ে বললোঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলের অনুসরণ করলো সে সঠিক পথ পেলো আর যে তাহাদের আদেশ অমান্য করলো-এ পর্যন্ত বলার পর তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, ওঠো। অথবা তিনি বলিলেন, চলে যাও। কারণ তুমি কতই না খারাপ বক্তা।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৯৮২. আবুল মালীহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এক ব্যক্তির হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জন্তুযানে নাবী [সাঃআঃ] এর পিছনে বসা ছিলাম। হঠাৎ তার সাওয়ারী হোঁচট খেলে আমি বলিলাম, শয়তান ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলিলেন, একথা বলো যে, না শয়তান ধ্বংস হয়েছে। কেননা তুমি একথা বললে সে অহংকারে ঘরের মতো বড় আকৃতির হয়ে যাবে এবং সে বলবে, আমার ক্ষমতায় হয়েছে। অতএব বলো, আল্লাহর নামে। যখন তুমি আল্লাহ নামে বলবে শয়তান হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে মাছির মত হয়ে যাবে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৯৮৩. আবু হুরাইয়াহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যখন তুমি কোন ব্যক্তিকে বলিতে শুনবে, সকল লোক ধ্বংস হয়েছে, তখন সে-ই তাহাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ধ্বংসের কবলে পড়বে। অথবা সে যেন তাহাদেরকে ধ্বংস করলো। বর্ণনাকারী মূসা [রাদি.] শুনিয়াছিলেন পরিবর্তে বলিয়াছেন উল্লেখ করেছেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিয়াছেন, যে যদি ধর্মীয় বিষয়ে মানুষের অবনতি লক্ষ্য করে দুঃখে একথা বলে তাহলে আমার মতে তা দূষণীয় নয়। কিন্তু সে আত্মগর্বী হয়ে এবং লোকজনকে তুচ্ছজ্ঞান করে একথা বললে তা হইবে জঘন্য আচরণ, যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮৬ঃ আতামার সলাত

৪৯৮৪. আবু সালামহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি উমার [রাদি.] কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি, তিনি বলেনঃ বেদুঈনরা যেন সলাতের ওয়াক্তের নামকরণের ক্ষেত্রে তোমাদেরকে পরাভূত করিতে না পারে। জেনে রাখো, সেটি হলো ইশার সলাত। কিন্তু তারা রাতের অন্ধকার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করে উটের দুধ দোহন করে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৯৮৫. সালিম ইবনি আবুল জাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলেন, মিসআর বলিয়াছেন, আমার ধারণা, সে ব্যক্তি খুযাআ গোত্রীয়, যদি আমি সলাত পড়তাম তাহলে প্রশান্তি পেতাম। উপস্থিত লোকজন নারাজ হলো। তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ হে বিলাল। সলাত ক্বায়িম করো। আমরা এর মাধ্যমে স্বস্তি লাভ করিতে পারবো।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৯৮৬. আবদুল্লাহ ইবনি মুহাম্মদ ইবনিল হানাফিয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখিতে আমি ও আমার পিতা আনসার গোত্রীয় আমার শ্বশুরবাড়ি গেলাম। তখন সলাতের ওয়াক্ত হলে তিনি তার পরিবারের একজনকে ডেকে বলিলেন, এই যে মেয়ে। উযূর জন্যে পানি আনো, যাতে আমি সলাত পড়ে প্রশান্তি লাভ করিতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, তার একথায় আমরা নারাজ হলে তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ হে বিলাল। আযান দাও, আমরা সলাতের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করবো।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৯৮৭. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত করা ছাড়া অন্যভাবে কারো পরিচয় দিতে শুনিনি।৪৯৮৫

৪৯৮৫ আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সনদের যায়িদ বিন আসলাম হাদিসটি আয়িশাহ হইতে শুনেননি। সুতরাং সনদ মুনকাতি। এছাড়া সানাদে হিশাম ইবনি সাঈদ সম্পর্কে ইবনি মাঈন বলেনঃ তিনি তেমন শক্তিশালী নন।

এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮৭ঃ পরিচিতির ব্যাপারে বিকল্প ব্যবস্থা অনুমোদিত

৪৯৮৮. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা মদিনায় লোকেরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লো। নাবী [সাঃআঃ] আবু ত্বালহার [রাদি.] এর ঘোড়ায় চড়ে অনুসন্ধান করে এসে বলিলেনঃ আমি তো ভীতিজনক কোন কিছুই দেখলাম না। আমি ঘোড়াটিকে সমুদ্রের ন্যায় [দ্রুতগতির] পেয়েছি।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮৮ঃ মিথ্যাচার সম্পর্কে কঠোরতা

৪৯৮৯. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা মিথ্যাচার বর্জন করো। কেননা মিথ্যা পাপাচারের দিকে ধাবিত করে এবং পাপাচার জাহান্নামে নিয়ে যায়। কোন ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বলিতে থাকলে এবং মিথ্যাচারকে স্বভাবে পরিণত করলে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নিকট তার নাম মিথ্যুক হিসেবেই লেখা হয়। আর তোমরা অবশ্যই সততা অবলম্বন করিবে। কেননা সততা নেক কাজের দিকে পথ দেখায় এবং নেক কাজ জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। আর কোন ব্যক্তি সর্বদা সততা বজায় রাখলে এবং সততাহাকে নিজের স্বভাবে পরিণত করলে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নিকটে তার নাম পরম সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৯৯০. বাহয ইবনি হাকীম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা তার পিতার সূত্রে আমাকে হাদিস বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ মানুষকে হাসানোর জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪৯৯১. আবদুল্লাহ ইবনি আমির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলিয়াছেন, একদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের ঘরে বসা অবস্থায় আমার মা আমাকে ডেকে বলিলেন, এই যে, এসো! তোমাকে দিবো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে প্রশ্ন করলেনঃ তাহাকে কি দেয়ার ইচ্ছা করেছো? তিনি বলিলেন, খেজুর। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে বলিলেনঃ যদি তুমি তাহাকে কিছু না দিতে তাহলে এ কারণে তোমার আমলনামায় একটি মিথ্যার পাপ লিপিবদ্ধ হতো।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪৯৯২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে কোন কথা শোনামাত্রই [যাচাই না করে] বলে বেড়ায়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮৯ঃ সুধারণা পোষণ

৪৯৯৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ উত্তম ধারণা পোষণ উত্তম ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।৪৯৯১

দুর্বলঃ যঈফাহ হা/৩১৫০

৪৯৯১ আহমাদ, ইবনি হিব্বান।

এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৯৯৪. উম্মুল মুমিমীন সাফিয়্যাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইতিকাফ অবস্থায় ছিলেন। এক রাতে আমি তাহাঁর সাথে দেখা করিতে তাহাঁর নিকট গেলাম। কথাবার্তা শেষ করে আমি ফিরে আসার জন্য দাঁড়ালে তিনিও আমাকে এগিয়ে দিতে দাঁড়ালেন। তার [সাফিয়া [রাদি.]] বসবাসের স্থান ছিল উসামা ইবনি যায়িদ [রাদি.]-এর ঘর [সংলগ্ন]।এ সময় আনসার গোত্রের দুই ব্যক্তি যাচ্ছিলেন। তারা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেখে দ্রুত চলে যাচ্ছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমরা থামো! ইনি [আমার স্ত্রী] সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই। তারা দুজনে বলিলেন, “সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসূল! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ শয়তান মানুষের মধ্যে রক্তের মত চলাচল করে। তাই আমার ভয় হচ্ছিল যে, সে তোমাদের দুজনের মনে মন্দ কিছু নিক্ষেপ করিবে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯০ঃ ওয়াদা পালন

৪৯৯৫. যায়িদ ইবনি আরক্বাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি তার কোন ভাইয়ের সাথে ওয়াদা পূর্ণ করার নিয়্যাতে অঙ্গীকার করে এবং কোন কারণে উক্ত অঙ্গীকার পূরণ করিতে না পারে এবং ওয়াদা পূরণের নির্দিষ্ট সময়ও না আসে তাহলে তার পাপ হইবে না।৪৯৯৩

৪৯৯৩ তিরমিজি। ঈমাম তিরমিজি বলেনঃ এই হাদিসটি গরীব। এর সনদ মজবুত নয়। সানাদে আবু নুমান ও আবু ওয়াক্কাস উভয়ে অজ্ঞাত।

এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৯৯৬. আবদুল্লাহ ইবনি আবু হাম্‌সাআ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর নবুওয়্যাত লাভের আগের ঘটনা। আমি তাহাঁর নিকট হইতে একটা জিনিস কিনে কিছু দাম বাকি রেখে এই বলে চলে গেলাম যে, আমি অবশিষ্ট মূল্য নিয়ে এখানে এসে পৌছিয়ে দিব। পরে আমি অঙ্গীকার ভুলে গেলাম। তিনদিন পর আমার এ ওয়াদার কথা মনে পড়লো। আমি অবশিষ্ট মূল্য নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখিতে পেলাম, তিনি সেখানেই আছেন। তিনি বলিলেন, ওহে যুবক! তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছ। আমি তিনদিন যাবত এখানে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।৪৯৯৪

৪৯৯৪ বায়হাক্বী। ইবনিল জাওযী বলেনঃ বর্ণনাটি সহিহ নয়। সানাদে রয়েছে আবদুল কারীম। আইয়ূব সাখতায়ানী তাহাকে মিথ্যার দোষে দোষী করেছেন। ঈমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি কিছুই না। হাফিয বলেনঃ যয়ীফ। ঈমাম নাসায়ী ও দারাকুতনী বলেনঃ মাতরূক। ইবনি হিব্বান বলেনঃ তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না।

এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯১ঃ না পেয়েও তৃপ্তির ভান করা

৪৯৯৭. আসমা বিনতু আবু বাক্‌র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা এক মহিলা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একজন সতীন আছে। আমি কি তাহাকে এরূপ বলিতে পারি যে, আমার স্বামী আমাকে এই বস্তু দিয়েছে, অথচ বাস্তবে তা দেয়নি? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ না পেয়ে পাওয়ার ভানকারী মিথ্যাচারের দুটি পোশাক পরিধানকারীর মতই।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯২ঃ রসিকতা সম্পর্কে

৪৯৯৮. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা এক লোক নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি আরোহীর ব্যবস্থা করে দিন। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ আমি তোমাকে আরোহণের জন্য একটি উষ্ট্রীর বাচ্চা দিবো। লোকটি বললো, উষ্ট্রীর বাচ্চা দিয়ে আমি কি করবো? নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ উটকে তো উষ্ট্রীই জন্ম দেয়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৯৯৯.নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আবু বকর [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ]-এর ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি আয়িশার [রাদি.] উচ্চ কন্ঠস্বর শুনতে পেলেন। আবু বকর [রাদি.] ভেতরে ঢুকে আয়িশাহ [রাদি.]-কে দুর্বল করার জন্য চড় মারতে প্রস্তুত হলেন এবং বলিলেন, আমি কি লক্ষ্য করিনি যে, তুমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সামনে উচ্চস্বরে কথা বলছো? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবু বকর [রাদি.]-কে বারণ করিলেন। আবু বকর রাগান্বিত অবস্থায় বেরিয়ে গেলেন। আবু বকর [রাদি.] চলে যাওয়ার পর নাবী [সাঃআঃ] আয়িশাহ [রাদি.]-কে [কৌতুকের ছলে] বলিলেন, দেখলে তো আমি তোমাকে কিভাবে ঐ লোকটার হাত হইতে বাঁচালাম! বর্ণনাকারী বলেন, এরপর কয়েক দিন আবু বকর [রাদি.] তাহাঁর নিকট আসলেন না। অতঃপর একদিন এসে ভেতরে আসার অনুমতি চাইলেন এবং ভিতরে ঢুকে উভয়কে সন্তুষ্ট অবস্থায় দেখিতে পেয়ে বলিলেন, আমাকেও তোমাদের শান্তির অংশীদার বানাও যেমনটি তোমরা আমাকে অংশীদার বানিয়েছিলে তোমাদের কলহে। নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ আমরা তাই করলাম।৪৯৯৭

৪৯৯৭ আহমাদ

এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০০০. আওফ ইবনি মালিক আল-আশজাঈ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তাবূক যুদ্ধের সময় আমি রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ] নিকট গেলাম। তখন তিনি চামড়ার তৈরী তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি সালামের জবাব দিয়ে ভেতরে ঢুকতে বলিলেন। আমি [কৌতুকের ছলে] বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পুরো শরীরসহ? তিনি বলিলেন, হাঁ, পুরো শরীরসহ এসো। অতঃপর আমি ঢুকলাম।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০০১. উসমান ইবনি আবুল আতিকাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাঁবুর পরিধি সংকীর্ণ হওয়ায় আওফ [রাদি.] কৌতুক করে বলেছিলেন, আমার পুরো শরীরসহ প্রবেশ করবো? {৪৯৯৯}

{৪৯৯৯} বায়হাক্বী। মুনযিরী বলেন, সনদের উসমান বিন আবুল আতিকাহ সমালোচিত। এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল মাকতু

৫০০২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] [কৌতুক করে] আমাকে বলিলেন, ওহে দুই কানওয়ালা!

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯৩ঃ কেউ ঠাট্টাচ্ছলে কিছু গ্রহণ করলে

৫০০৩. আবদুল্লাহ ইবনিস সায়িব ইবনি ইয়াযীদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার পিতা হইতে তার দাদার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের কোন জিনিস না নেয়, খেলাচ্ছলেই হোক কিংবা বাস্তবিকই হোক। আর কেউ তার কোন ভাইয়ের লাঠি নিয়ে থাকলে তা যেন ফিরিয়ে দেয়। {৫০০১}

{৫০০১} বুখারীর আদাবুল মুফরাদ, তিরমিজি। এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৫০০৪. আবদুর রহমান ইবনি আবু লাইলাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাকে মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর সাহাবীগণ হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, একদা তারা নাবী [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে সফরে ছিলেন। তাহাদের এক ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়লে তাহাদের মধ্যকার কেউ গিয়ে [মজার ছলে] তার সঙ্গের রশি নিয়ে আসলো। তাতে সে ভয় পেয়ে গেলো। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ কোন মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমকে ভয় দেখানো বৈধ নয়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯৪ঃ বাকপটুতা সম্পর্কে

৫০০৫.আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ সেসব লোককে ঘৃণা করে যারা বাকপটুত্ব প্রদর্শনের জন্য জিহবাকে দাঁতের সঙ্গে লাগিয়ে বিকট শব্দ করে, গরু তার জিহবা নেড়ে যেমন করে থাকে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০০৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি মানুষের অন্তরকে আকৃষ্ট করার জন্য চিত্তাকর্ষক কথাবার্তা শিখে, আল্লাহ ক্বিয়ামাতের দিন তার কোন তাওবাহ ও ফিদইয়া [অথবা ফরয ও নফল ইবাদত] গ্রহণ করবেন না।৫০০৪

দুর্বলঃ মিশকাত হা/৪৮০২

৫০০৪ মিশকাত। এর সনদ মুনকাতি।

এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০০৭. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা প্রাচ্য হইতে দুব্যক্তি এসে বক্তৃতা করলো এবং উভয়ের বক্তৃতা শুনে লোকেরা বিস্মিত হলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন কোন বক্তৃতায় যাদুর প্রভাব আছে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০০৮. আমর ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমর ইবনিল আস [রাদি.] একদিন বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সুদীর্ঘ বক্তৃতা দিল। আমর [রাদি.] বলিলেন, যদি সে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতো তবে তার জন্য ভালো হতো। কেননা আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ আমার নিকট উপযুক্ত মনে হয়েছে অথবা আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে ভাষণ সংক্ষিপ্ত করিতে। কেননা সংক্ষিপ্ত আলোচনা উত্তম। {৫০০৬}

{৫০০৬} বায়হাক্বী। সানাদে মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল তার পিতার সূত্রে বর্ণনায় সমালোচিত। এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯৫ঃ কবিতা

৫০০৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কবিতা দিয়ে পেট ভরার চেয়ে তোমাদের জন্য পুঁজ দিয়ে পেট ভর্তি করা উত্তম। আবু আলী [রাদি.] বলেন, আবু উবাইদ সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি যে, তিনি এ হাদিসের তাৎপর্য সম্পর্কে বলেন, কবিতায় তার কলব ভর্তি হয়ে যাওয়ায় সে কুরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর যিকির হইতে বঞ্চিত হইবে। কিন্তু কুরআন ও ইলম চর্চার প্রাধান্য থাকলে আমরা বলবো না যে, তার পেট কবিতায় ভরা। কোন কোন ভাষণে অবশ্যই যাদুর প্রভাব রয়েছে অর্থাৎ সে কোন মানুষের প্রশংসায় সীমালঙ্ঘন করিবে এবং এতো উত্তেজক বক্তব্য রাখবে যে, মানুষের মন তার ভাষণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে। আবার সে তার কুৎসা করলে এমনভাবে করিবে যে, মানুষ তা বিশ্বাস করিবে। ফলে তাহাদের অন্তর তার ভাষণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে। মনে হইবে, সে যেন তার ভাষণের দ্বারা শ্রোতাহাদের উপর যাদু করেছে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০১০. উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন কোন কবিতা প্রজ্ঞাপূর্ণ।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০১১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা এক বেদুঈন এসে কথা বলা শুরু করলে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ কোন কোন আলোচনা যাদুর মত হৃদয়গ্রাহী; আর কোন কোন কবিতা হিকমাতপূর্ণ।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০১২. সাখর ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি বুরাইদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ কোন কোন বর্ণনা যাদুর মত হৃদয়গ্রাহী হয়, কোন কোন ইলম অজ্ঞতাপূর্ণ হয়, কোন কোন কবিতা হিকমাতপূর্ণ হয় এবং কোন কোন কথা বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সাসাআহ ইবনি সুহান বলেন, আল্লাহর নাবী [সাঃআঃ] সঠিক বলিয়াছেন। প্রথমত, রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] এর বাণী “কোন কোন বর্ণনা যাদুর মত হৃদয়গ্রাহী হয়”- প্রায় দেখা যায়, কোন ব্যক্তির নিকট অপরের হক থাকে কিন্তু সে হকদারের সঙ্গে এমন সুন্দরভাবে যুক্তিপূর্ণ কথা বলে যাতে পাওনাদারের দেনা পরিশোধ করিতে হয় না। আর ইলম অজ্ঞতা হয়ে থাকে, এর অর্থ হলো, আলিম ব্যক্তি না জেনেও জানার ভান করে, ফলে এটাই অজ্ঞতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর কবিতাহাকে হিকমাত বলার কারণ হচ্ছে, কোন কোন কবিতায় এমন নসিহতপূর্ণ থাকে যা মানুষ গ্রহণ করে থাকে। আর কোন কোন কথা বোঝাস্বরূপ হওয়ার অর্থ হলো, অনুপযুক্ত ব্যক্তির কাছে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা, যা সে তা শুনতে চায় না। {৫০১০}

দুর্বলঃ মিশকাত হা/৪৮০৪। {৫০১০} ইবনি আবদুল বার আত-তামহীদ। হাফিয ইরাক্বী বলেনঃ এর সানাদে অজ্ঞাত বর্ণনাকারী আছে। এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫০১৩. সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা হাসসান [রাদি.] মাসজিদে কবিতা পাঠ করছিলেন এবং উমার [রাদি.] তখন সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। উমার [রাদি.] তার দিকে বক্র দৃষ্টিতে তাকালেন। তিনি বলিলেন, আমি মাসজিদে তখনও কবিতা পড়েছি যখন সেখানে তোমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিটি হাজির ছিলেন।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০১৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হুরায়রা [রাদি.] সূত্রে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত। তবে এতে রয়েছেঃ উমার [রাদি.] আশঙ্কা করিলেন, তিনি যদি হাসসান [রাদি.] কে বারণ করেন তবে তিনি রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] চুপ থাকাকে দলীল বানাবেন। তাই তিনি তাহাকে অনুমতি দিলেন। {৫০১২}

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০১৫. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হাসসান [রাদি.] এর জন্য মাসজিদে একটি মিম্বার স্থাপন করিতেন। তিনি তাতে দাঁড়িয়ে কাফিরদের মধ্যে যারা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ]শানে অবাঞ্চিত কথা বলতো তিনি কবিতায় তার প্রতিবাদ করিতেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ হাসসান [রাদি.] যতোক্ষণ রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ]পক্ষ হইতে প্রতিবাদ করিতে থাকে ততক্ষণ জিবরাঈল [আঃ] তার সঙ্গে থাকেন।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৫০১৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, “পথভ্রষ্ট লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে।” [সূরাহ শুআরাদি.২২৪]। এ আয়াতটি আল্লাহ রহিত করেছেন এবং ব্যতিক্রম করেছেন। অতঃপর তিনি বলিয়াছেনঃ “কিন্তু তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ রাখে।” [সূরাহ শুআরাদি. ২২৭]।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯৬ঃ স্বপ্ন সম্পর্কে

৫০১৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]ফজরের সলাত শেষে [লোকদের দিকে] মুখ করে বলিতেনঃ আজ রাতে তোমাদের কেউ কোন স্বপ্ন দেখেছে কি? অতঃপর তিনি বলিতেন, আমার পরে কেবল সত্য স্বপ্ন ছাড়া নবুওয়্যাতের ধারা অবশিষ্ট থাকিবে না।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০১৮. উবাইদাহ ইবনিস সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ মুমিন ব্যক্তির স্বপ্ন নবুওয়্যাতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।

{বুখারি, মুসলিম}এই হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৫০১৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ সময় যখন কাছাকাছি হইবে তখন মুসলিমের স্বপ্ন মিথ্যা হইবে না এবং যে যতো সত্যবাদী হইবে তার স্বপ্নও ততো সত্য হইবে। স্বপ্ন তিন প্রকার, [ক] উত্তম স্বপ্ন যা আল্লাহর পক্ষ হইতে সুসংবাদ, [খ] ভীতিপ্রদ স্বপ্ন যা শয়তানের পক্ষ হইতে হয়ে থাকে, [গ] যা মানুষ চিন্তা-ভাবনা ও ধারণা অনুপাতে দেখে থাকে। যে ব্যক্তি কোন খারাপ স্বপ্ন দেখবে, তার উচিত ঘুম থেকে জেগে সলাত আদায় করা এবং ঐ স্বপ্ন সম্বন্ধে কারো সঙ্গে আলাপ না করা। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আমি স্বপ্নে পায়ে শিকল লাগানো দেখিতে পাওয়াকে পছন্দ করি তবে গলায় শিকল লাগানো দেখাকে অপছন্দ করি। স্বপ্নে শিকল দেখার তাৎপর্য হলো, দ্বীনের উপর অবিচল থাকা। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, “সময় যখন কাছাকাছি হইবে” অর্থাৎ যখন রাত ও দিনের দৈর্ঘ্য সমান হইবে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০২০. আবু রাযীন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করার পূর্ব পর্যন্ত তা একটি পাখির পায়ের সঙ্গে ঝুলন্ত থাকে। অতঃপর ব্যাখ্যা করা হলে তা কার্যকর হয়। বর্ণনাকারী বলে, আমার ধারণা, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আরো বলিয়াছেনঃ “বন্ধু ও জ্ঞানী ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে স্বপ্নের কথা বলবে না।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০২১. আবু ক্বাতাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ হইতে এবং খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ হইতে হয়ে থাকে। তোমাদের কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখলে তার উচিৎ তার বাম দিকে তিনবার থুথু মারা। অতঃপর ঐ স্বপ্নের খারাবী হইতে আশ্রয় চাওয়া। তাহলে ঐ স্বপ্নে তার কোন ক্ষতি হইবে না।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০২২. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখলে সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করে, মহান আল্লাহর নিকট শয়তান হইতে তিনবার আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে ঘুমায়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০২৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখলো সে অতি শীঘ্রই জাগ্রত অবস্থায় আমাকে দেখিতে পাবে অথবা সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায়ই দেখলো। কারণ শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করিতে পারে না।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০২৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি কোন প্রাণীর ছবি আঁকবে ক্বিয়ামাতের দিন সে তাতে প্রাণ সঞ্চার না করা পর্যন্ত তার শাস্তি হইতে থাকিবে। অথচ তার পক্ষে তাতে প্রাণ দেয়া অসম্ভব। আর যে ব্যক্তি মিথ্যা স্বপ্ন বলবে তাহাকে যবের দানায় গিঠ দিতে বলা হইবে। আর যে ব্যক্তি এমন কওমের কথা কান লাগিয়ে শুনবে যারা তার থেকে ঐ কথা গোপন রাখতে চায়, ক্বিয়ামাতের দিন তার কানে উত্তপ্ত সিসা ঢালা হইবে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫০২৫. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ আমি রাতে স্বপ্নে দেখেছি, আমরা যেন উক্ববাহ ইবনি রাফির [রাদি.] ঘরে বসে আছি এবং আমাদের সামনে “রুত্বাবে ইবনি ত্বাব” নামক টাটকা খেজুর পরিবেশন করা হয়েছে। আমি এর ব্যাখ্যা এভাবে করেছি যে, দুনিয়াতে আমাদের বিপুল উন্নতি ও মর্যাদা লাভ হইবে এবং আখিরাতেও কল্যাণ লাভ হইবে, আর আমাদের দ্বীনও উত্তম।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply