ওয়াকফের বিধান । মসজিদের জন্য ওয়াক্‌ফ করা

ওয়াকফের বিধান

ওয়াকফের বিধান । মসজিদের জন্য ওয়াক্‌ফ করা >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ২৯, ওয়াকফ, হাদিস (৩৫৯৪ – ৩৬১০)

পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর রাস্তায় নিজের মাল দান করা
পরিচ্ছেদঃ ওয়াক্‌ফ লেখার নিয়ম এবং এ প্রসঙ্গে ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিত হাদীসে ইবনি আওনের বর্ণনায় বিরোধ
পরিচ্ছেদঃ বন্টনের পূর্বে শরীকী জমি ওয়াক্‌ফ করা
পরিচ্ছেদঃ মসজিদের জন্য ওয়াক্‌ফ করা

পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর রাস্তায় নিজের মাল দান করা

৩৫৯৪. আমর ইবনি হারিস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] দীনার-দিরহাম [স্বর্ণ মুদ্রা-রৌপ্য মুদ্রা, টাকা-পয়সা], দাস-দাসী কিছুই রেখে যান নি, একটি সাদা [শাহবা] খচ্চর ব্যতীত, যাতে তিনি আরোহণ করিতেন; আর তাহাঁর হাতিয়ার [রেখে যান]। আর তাহাঁর যমীন যা তিনি আল্লাহর রাস্তায় দান করে যান। কুতায়বা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] কখনো বলেনঃ [এগুলো] তিনি সাদাকারূপে রেখে যান।

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৯৫. আমর ইবনি হারিস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

বলেনঃ [আমি দেখেছি], রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর একটি সাদা খচ্চর ও হাতিয়ার ব্যতীত কিছুই রেখে যান নি, আর যমীন তো তিনি সাদাকা করে যান।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৯৬. আমর ইবনি হারিস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি দেখেছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর একটি সাদা খচ্চর ও হাতিয়ার ব্যতীত কিছুই রেখে যান নি, আর কিছু যমীন যা তিনি সাদ্‌কা করে যান।

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ ওয়াক্‌ফ লেখার নিয়ম এবং এ প্রসঙ্গে ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিত হাদীসে ইবনি আওনের বর্ণনায় বিরোধ

৩৫৯৭. উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি খায়বর এলাকার একখন্ড জমি পাই, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট এসে বললামঃ আমি একখন্ড জমি পেয়েছি, আমি তা হইতে উত্তম ও প্রিয় আর কোন মাল পাইনি। তিনি বললেনঃ যদি তুমি তা সাদাকা করিতে ইচ্ছা কর [তবে তা সাদ্‌কা করে দাও]। তখন তিনি তা সাদাকা করে দিলেন এভাবে যে, সে জমি বিক্রি হইবে না এবং দান-হেবা করাও যাবে না; বরং গরীব আত্মীয়দের মধ্যে এবং দাস মুক্তির জন্য, মেহমান ও মুসাফিরের জন্য সাদাকা হইবে। মুতাওয়াল্লী তা থেকে ইনসাফের সাথে ভোগ করিতে পারবে, ধনী হওয়ার জন্য নয়। [আর সে তা] অন্যদেরকেও খাওয়াতে পারবে।

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৯৮. উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] থেকে অনুরূপ বর্ণিত।

হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৫৯৯ ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ উমার [রাঃআঃ] খায়বরে একখন্ড জমি পান। তিনি নাবী [সাঃআঃ]- এর নিকট উপস্থিত হইয়া বলেনঃ আমি একখন্ড জমি পেয়েছি, আর এতো পছন্দনীয় মাল আর কখনো আমার হস্তগত হয়নি। ঐ জমির ব্যাপারে আপনি আমাকে কী আদেশ করেন? তিনি বললেনঃ যদি তুমি [তা ওয়াক্‌ফ করিতে] চাও, তবে মূল বস্তু রেখে দাও এবং যা [তাতে উৎপন্ন হয়] তা সাদাকা করে দাও। তখন তিনি তা এভাবে সাদাকা করেন যে, জমি বিক্রয় হইবে না, দানও করা যাবে না, আর মীরাসরূপে বন্টনও হইবে না [বরং তা দান করা হইবে] গরীব ও আত্মীয়দের মধ্যে, দাস-মুক্তির জন্য, আর মেহমানদের এবং মুসাফিরদের মধ্যে [বন্টন করা হইবে]। যদি এই জমির মুতাওয়াল্লী ন্যায়-নীতির সাথে খায় এবং বন্ধুদের খাওয়ায়, তবে তার তো পাপ হইবে না। কিন্তু তা দ্বারা সে ধনী হইতে পারবে না।

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬০০. ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ খায়বরে উমার [রাঃআঃ] একখন্ড জমি পান। এ ব্যাপারে পরামর্শ করার জন্য তিনি নাবী [সাঃআঃ] – এর নিকট এসে বলেনঃ আমি বড় একখন্ড জমি পেয়েছি, আর এতো পছন্দনীয় মাল আর কখনো পাইনি। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কী আদেশ করেন? তিনি [সাঃআঃ] বললেনঃ যদি তুমি ইচ্ছা কর, তবে তার মূল অবশিষ্ট রেখে [তা থেকে উৎপন্ন দ্রব্য] সাদ্‌কা করিতে পার। গরীব-দুঃখীকে, আত্মীয়দেরকে, দাস-মুক্তকরণে আল্লাহর রাস্তায় মুসাফিরদেরকে এবং মেহমানদেরকে। যদি এর মুতাওয়াল্লী ন্যায়-নীতির সাথে তা থেকে খায়, কিংবা তার বন্ধুদেরও খাওয়ায়, তবে তার কোন গুনাহ্ হইবে না। তবে তা দিয়ে সে ধনবান হইতে পারবে না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬০১. ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার [রাঃআঃ] খায়বরে একখন্ড জমি পান, তিনি নাবী [সাঃআঃ]- এর নিকট এসে এ ব্যাপারে পরামর্শ চাইলে তিনি বলেনঃ যদি তুমি ইচ্ছা কর, তবে তার মূলটি রেখে তা [থেকে উৎপন্ন দ্রব্য] সাদাকা করিতে পার। এভাবে যে, তা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না, তার কেউ ওয়ারিস হইবে না, আর তা সাদাকা করা যাবে, গরীবদের ও আত্মীয়দের মধ্যে, দাস-মুক্তকরণে, মিসকীনদের এবং মুসাফিরদের এবং মেহমানদের জন্য। যে তার তত্ত্বাবধায়ক হইবে, তার জন্য তা থেকে ন্যায়সংগতভাবে ভক্ষণ করায় কোন পাপ হইবে না। আর তার বন্ধুদের খাওয়ানেতে। কিন্তু এর দ্বারা সে মালদার হইতে পারবে না।

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬০২. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ যখন [……আরবী….] [অর্থঃ তোমরা পুণ্য লাভ করিতে পারবে না- যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হইতে ব্যয় করিবে] এ আয়াত নাযিল হলো, তখন আবু তাল্‌হা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বললেনঃ আমাদের রব আমাদেরকে মাল হইতে নিতে ইচ্ছে করেন। ইয়া রসূলুল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি আমার জমি আল্লাহর জন্য ওয়াক‌্ফ অর্থাৎ দান করে দিলাম। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি তা [তোমার যমীনকে] তোমার আত্মীয় হাস্‌সান ইবনি সাবিত এবং উবাই ইবনি কাবকে দিয়ে দাও।

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ বন্টনের পূর্বে শরীকী জমি ওয়াক্‌ফ করা

৩৬০৩. ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ উমার [রাঃআঃ], নাবী [সাঃআঃ]- কে বললেনঃ খায়বরে আমার যে একশতটি অংশ [জমি] রয়েছে, আর এত পছন্দনীয় মাল আমার কখনও ছিল না। আমি তা সাদাকা করিতে ইচ্ছা করি। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ এর মূলটি রেখে [তুমি] এর ফল [উৎপাদন] দান করে দাও।

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬০৪. ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট উপস্থিত হইয়া বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এমন উত্তম মাল পেয়েছি, যা আমি এর পূর্বে কখনও পাইনি। আমার নিকট একশত মাল [উট ইত্যাদি] ছিল, আমি খায়বরবাসীদের নিকট থেকে তা দিয়ে জমির একশত অংশ ক্রয় করেছি। এখন আমি তা দিয়ে মহান মহীয়ান আল্লাহ্ তাআলার নৈকট্য লাভ করিতে চাই। তিনি বললেনঃ তুমি তার মূল [জমি] রেখে দাও এবং তা থেকে উৎপন্নদ্রব্য দান কর।

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬০৫. উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ [মদীনার] সামগ নামক স্থানে আমার একখন্ড জমি সম্পর্কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ তুমি তার মূল রেখে দাও এবং এর উৎপাদন [আয়] ব্যয় কর।

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ মসজিদের জন্য ওয়াক্‌ফ করা

৩৬০৬. হুসায়ন ইবনি আবদুর রহমান বনী তামীমের আমর ইবনি জাওয়ান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি তাকে বললামঃ আপনি আহনাফ্ ইবনি কায়স [রাঃআঃ]- এর [সাহাবিগণের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব] পৃথক থাকা সম্পর্কে আপনার অভিমত বর্ণনা করুন। তিনি বললেনঃ আমি আহনাফ্‌কে বলিতে শুনিয়াছি। আমি হজ্জ উপলক্ষে মদীনায় আসলাম। আমরা আমাদের মনযিলে ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ লোক মসজিদে একত্রিত হচ্ছে। আমি গিয়ে দেখলাম, লোক মসজিদে একত্রিত রয়েছে। তাঁদের মাঝে রয়েছেন- আলী ইবনি আবু তালিব, যুবায়র, তালহা এবং সাদ ইবনি আবী ওয়াক্কাস [রাঃআঃ]। আমি যখন তাহাদের নিকট দাঁড়ালাম তখন বলা হলোঃ এই যে, উসমান ইবনি আফ্‌ফান এসে গেছেন। তাহাঁর গায়ে ছিল একখানা হলুদ বর্ণের চাদর। রাবী বলেনঃ আমি আমার সাথীকে বললাম, তুমি এখানে অবস্থান কর, দেখি উসমান [রাঃআঃ] কি বলেন। উসমান [রাঃআঃ] বললেনঃ এখানে কি আলী [রাঃআঃ] আছেন? এখানে কি যুবায়র [রাঃআঃ] আছেন? এখানে কি তালহা [রাঃআঃ] আছেন? এবং এখানে কি সাদ [রাঃআঃ] আছেন? তারা বললেনঃ হাঁ [আমরা এখানে আছি]। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ তাআলার কসম দিয়ে বলছি, যিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই, তোমরা কি অবগত আছ যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ যে ব্যক্তি অমুক অমুক গোত্রের [উটের] বাথান ক্রয় করিবে, আল্লাহ্ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি তা ক্রয় করে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট এসে বললামঃ আমি অমুক [উটের] বাথান খরিদ করেছি। তিনি বললেনঃ এখন তুমি তা আমাদের মসজিদের জন্য [ওয়াক্‌ফ করে] দিয়ে দাও, তাহলে এর সওয়াব তুমি পাবে। তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি আবার বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি। যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তোমরা কি অবগত আছ যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি রূমা কূপ ক্রয় করিবে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি [তা ক্রয় করে] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট এসে বললামঃ আমি রূমা কূপ ক্রয় করেছি। তখন তিনি বললেনঃ এখন তা তুমি মুসলমানদের পানি পান করার জন্য [ওয়াক্‌ফ করে] দিয়ে দাও, আর এর সওয়াব তুমি পাবে। তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি আবার বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি। যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তোমরা কি জান, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ যে ব্যক্তি অনটনগ্রস্ত [তাবুক] যুদ্ধের বাহিনীর যুদ্ধোপকরণের ব্যবস্থা করে দেবে, আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। এরপর আমি তাহাদের জন্য এমন যুদ্ধোপকরণের ব্যবস্থা করে দেই যে, ঐ বাহিনীর কোন লোকের একটি রশির বা একটি লাগামেরও অভাব হয়নি? তারা বললেনঃ হ্যাঁ। উসমান [রাঃআঃ] এরপর বলেনঃ হে আল্লাহ্! আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ্! আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ্! আপনি সাক্ষী থাকুন!

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬০৭. উমার ইবনি জাওয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমরা [বাড়ি হইতে] হজ্জ করার জন্য [বের হইয়া] মদীনায় পৌঁছলাম। আমরা আমাদের মনযিলে পৌছে আমাদের মাল-সামান যখন নামিয়ে রাখছিলাম, তখন এক ব্যক্তি এসে বললেনঃ লোকজন মসজিদে একত্রিত হইয়াছে এবং তারা ভীত-সন্ত্রস্ত। এরপর আমরা গিয়ে দেখলাম যে, মসজিদের মাঝখানে কয়েকজনকে ঘিরে কিছু লোক একত্রিত রয়েছে এবং এঁদের মধ্যে আছেন আলী, যুবায়র, তালহা এবং সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস [রাঃআঃ] আমরা তাঁদের সঙ্গে বসলাম। এমতাবস্থায় উসমান ইবনি আফ্‌ফান [রাঃআঃ] উপস্থিত হলেন এবং তাহাঁর গায়ে একখানা হলুদ রংয়ের চাদর ছিল, যা দিয়ে তিনি তাহাঁর মাথা ঢেকে রেখেছিলেন। এরপর তিনি বললেনঃ এখানে কি আলী [রাঃআঃ] আছেন, এখানে কি তালহা [রাঃআঃ] আছেন, এখানে কি যুবায়র [রাঃআঃ] আছেন, এখানে কি সাদ [রাঃআঃ] আছেন? তারা বললেনঃ হ্যাঁ, [আমরা এখানে উপস্থিত আছি]। উসমান [রাঃআঃ] বললেনঃ আমি তোমাদেরকে ঐ আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, তোমরা কি জান যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ অমুক গোত্রের [উটের] বাথান যে ক্রয় করিবে আল্লাহ্ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি ঐ স্থানটি বিশ হাজার বা পচিঁশ হাজার [দিরহাম] দিয়ে ক্রয় করি। এরপর আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর দরবারে উপস্থিত হইয়া তাঁকে এ খবর দেই। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তা আমাদের মসজিদের জন্য [ওয়াক্‌ফ করে] দিয়ে দাও। এর সওয়াব তুমি পাবে। তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহ সাক্ষী। উসমান [রাঃআঃ] আবার বললেনঃ আমি তোমাদেরকে ঐ আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি- যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই তোমরা কি জান যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ রূমা কূপ যে ক্রয় করিবে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। তখন আমি তা এত এত মূল্যে ক্রয় করি এবং আমি নাবী [সাঃআঃ]- এর নিকট উপস্থিত হইয়া বলিঃ আমি তা এত এত মূল্যে ক্রয় করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি তা মুসলমানদের পানি পান করার জন্য [ওয়াক্‌ফ করে] দিয়ে দাও, আর এর সওয়াব তুমি পাবে। তখন তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহ সাক্ষী! তিনি আবার বললেনঃ আমি তোমাদেরকে ঐ আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি- যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তোমরা কি জান, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লোকদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ যে এদের যুদ্ধের সামান অর্থাৎ অনটনগ্রস্ত [তাবুক] বাহিনীর ব্যবস্থা করে দেবে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। তখন আমি তাহাদের জন্য এমন সামানের ব্যবস্থা করলাম যে, তারা একটি রশি বা লাগামের অভাব অনুভব করিল না। তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহ সাক্ষী! তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ আপনি সাক্ষী থাকুন! আল্লাহ্ আপনি সাক্ষী থাকুন!

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬০৮. ছুমামা ইবনি হায্‌ন কুশায়রী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি উসমান [রাঃআঃ]- এর [অবরুদ্ধ হওয়ার সময় তাহাঁর] বাড়িতে উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি উপর হইতে নিচের দিকে লক্ষ্য করে লোকদের বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ এবং ইসলামের দোহাই দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তোমাদের কি এ কথা জানা আছে যে, যখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মদীনায় আগমন করেন, তখন সেখানে সুপেয় পানি ছিল না- রূমা কূপ ব্যতীত। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ রূমা কূপ কে ক্রয় করিবে এইরূপে যে, তাতে তার বালতি মুসলমানদের বালতিগুলোর সমতুল্য করে দিবে [অর্থাৎ সে মুসলমানদের সাথে নিজেও তা থেকে পানি উঠাবে, অর্থাৎ তা মুসলমানদের জন্য ওয়াক্‌ফ করে দেবে, যে ব্যক্তি এরূপ করিবে,] সে বেহেশতে এর চাইতে উত্তম বিনিময় পাবে। তখন আমি তা আমার নিজের ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে ক্রয় করে তাতে আমার বালতিকে মুসলমানদের বালতির সমতুল্য করে দেই [মুসলমানদের পানি পানের জন্য দান করে দেই]। অথচ তোমরা আজ আমাকে সেই পানি পান করিতে বাধা দিচ্ছ, আর আমি সমুদ্রের [লোনা] পানি পান করছি। তারা বললেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহ্ সাক্ষী! তিনি আবার বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ এবং ইসলামের দোহাই দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি জানো যে, আমি সংকটাপন্ন [তাবুক যুদ্ধের] মুজাহিদদের সামান আমার মাল দ্বারা ক্রয় করে দিয়েছিলাম? তারা বললেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহ্ সাক্ষী! তিনি আবার বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ এবং ইসলামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি জানো যে, মসজিদে স্থান সংকুলান হচ্ছিল না [লোকের অনেক কষ্ট হচ্ছিল]। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ অমুক গোত্রের জমিখন্ড কে ক্রয় করিবে? আর তা মসজিদ সম্প্রসারণে দান করিবে? আল্লাহ্ তাআলা তাকে জান্নাতে এর চাইতে উত্তম বিনিময় দান করবেন। তখন আমি তা নিজের ব্যক্তিগত মাল দ্বারা ক্রয় করি এবং মসজিদের সম্প্রসারণের জন্য দান করি। অথচ এখন তোমরা আমাকে তাতেই দুই রাকআত নামায পড়তে বাধা দিচ্ছ? তারা বললেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহ্ সাক্ষী! তিনি আবার বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ এবং ইসলামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, একদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মক্কার সাবীর পাহাড়ের উপর ছিলেন, তখন তাহাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর, উমার এবং আমি। তখন পাহাড় নড়াচড়া করলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পাহাড়ে পদাঘাত করে বলেনঃ হে সাবীর! থামো, তোমার উপর একজন নাবী, এক সিদ্দীক এবং দুই শহীদ রয়েছেন। তারা বললেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহ্ সাক্ষী! তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহু আকবার। তারা আমার পক্ষে সাক্ষ্য দান করেছেঃ কাবার মালিকের কসম অর্থাৎ আমি শহীদ।

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৩৬০৯. আবু সালামা ইবনি আবদুর রহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

যেদিন লোক উসমান [রাঃআঃ]-কে অবরুদ্ধ করেছিল, সেদিন তিনি তার ঘরের উপর হইতে তাহাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ আল্লাহর নামে কসম দিয়ে আমি ঐ ব্যক্তির নিকট জিজ্ঞসা করছি, যে ব্যক্তি পাহাড়ের দিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শোনে, যখন পাহাড় নড়াচড়া দিয়ে উঠে। তখন তিনি তাহাঁর পা দিয়ে পাহাড়ে আঘাত করে বলেনঃ হে পাহাড় থাম, তোমার উপর একজন নাবী, এক সিদ্দীক এবং দুইজন শহীদ রয়েছেন। তখন আমি তাহাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম। লোকেরা তাহাঁর এ কথার সত্যায়ন করলে তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর কসম দিয়ে ঐ ব্যক্তির নিকট জিজ্ঞাসা করছি, যে ব্যক্তি বায়আতে রিদওয়ানে উপস্থিত ছিল এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনিয়াছিল। বলেছিলেনঃ ইহা আল্লাহর হাত, আর ইহা উসমানের হাত। লোকেরা এ কথার সত্যায়ন করলো। তিনি আবার বললেনঃ আমি আল্লাহর শপথ দিয়ে ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করছি, যে ব্যক্তি সংকটাপন্ন [তাবুক যুদ্ধের] বাহিনী প্রেরণের দিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে বলিতে শোনেঃ এমন কে আছে, যে ব্যক্তি কবূলযোগ্য সম্পদ খরচ করিতে পারে? আমি [তাহাঁর এই ইচ্ছা শ্রবণ করে] অর্ধ বাহিনীর সকল খরচ নিজের মালদ্বারা করে দেই। লোকেরা তা স্বীকার করলো। তিনি আবার বললেনঃ আমি আল্লাহর শপথ দিয়ে ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করছি, যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছেঃ কোন ব্যক্তি এমন আছে, যে ব্যক্তি এই মসজিদ সম্প্রসারণ করিবে, বেহেশতের একখানা ঘরের বিনিময়ে? তখন আমি আমার সম্পদ দিয়ে তা কিনে দেই। লোক এর সত্যায়ন করিল। এরপর তিনি বললেনঃ আমি ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি যে, রূমা কূপ ক্রয়কালে উপস্থিত ছিল। আমি তা নিজের টাকায় ক্রয় করি এবং তা পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেই। উপস্থিত লোকেরা তাহাঁর এ কথারও সত্যায়ন করলো।

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৩৬১০. আবু আবদুর রহমান সালামী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ যখন উসমান [রাঃআঃ] নিজের ঘরে অবরুদ্ধ হলেন এবং লোক তাহাঁর ঘরের চারদিকে একত্রিত হলো, তখন তিনি উপর থেকে তাহাদের দিকে তাকালেন। রাবী পূর্ণ হাদীস পর্যন্ত বর্ণনা করেন।

ওয়াকফের বিধান হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

By ইমাম নাসাঈ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply