ওমরাহ হজ এর নিয়ম। যমযমের পানি বহন করা প্রসঙ্গে

ওমরাহ হজ এর নিয়ম। যমযমের পানি বহন করা প্রসঙ্গে

ওমরাহ হজ । >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৭ঃ হজ্জ, অনুচ্ছেদঃ (৮৭-১১৬)=৩০টি

৮৭. অনুচ্ছেদঃ [অন্যের পক্ষ হইতে উমরা আদায় করা]
৮৮. অনুচ্ছেদঃ উমরা ওয়াজিব কি না ?
৮৯. অনুচ্ছেদঃ [উমরা আদায় ওয়াজিব কি না]
৯০. অনুচ্ছেদঃ উমরার ফযিলত
৯১. অনুচ্ছেদঃ তানঈম হইতে উমরাহ করা
৯২. অনুচ্ছেদঃ জিরানা হইতে উমরা করা
৯৩. অনুচ্ছেদঃ রজব মাসের উমরাহ
৯৪. অনুচ্ছেদঃ যুলকাদা মাসের উমরাহ
৯৫. অনুচ্ছেদঃ রমযান মাসের উমরা
৯৬. অনুচ্ছেদঃ হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর কোন ব্যক্তির শরীরের কোন অঙ্গ ভেঙ্গে গেলে বা সে খোঁড়া হয়ে গেলে
৯৭. অনুচ্ছেদঃ হজ্জের মধ্যে শর্ত আরোপ করা
৯৮. অনুচ্ছেদঃ [যারা হজ্জের মধ্যে শর্তারোপ করা বৈধ মনে করেন না]
৯৯. অনুচ্ছেদঃ কোন মহিলার তাওয়াফে যিয়ারাত শেষে মাসিক ঋতু হলে
১০০. অনুচ্ছেদঃ হজ্জের কোন কোন অনুষ্ঠান ঋতুবতী মহিলা পালন করিবে?
১০১. অনুচ্ছেদঃ হজ্জ বা উমরা পালনকারীর শেষ আমল যেন বাইতুল্লায় সম্পর্কযুক্ত হয়
১০২. অনুচ্ছেদঃ হজ্জ ও উমরার জন্য কিরান হজ্জকারী এক তাওয়াফই করিবে
১০৩. অনুচ্ছেদঃ মুহাজিরগণ মিনা হইতে ফেরার পর মক্কাতে তিন দিন থাকিবে
১০৪. অনুচ্ছেদঃ হজ্জ ও উমরা শেষে ফেরার সময় যা বলবে
১০৫. অনুচ্ছেদঃ ইহরামরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে
১০৬. অনুচ্ছেদঃ ইহরামধারী ব্যক্তির চক্ষু উঠলে তাতে ঘৃতকুমারীর রস দেওয়া
১০৭. অনুচ্ছেদঃ ইহরামে থাকাবস্থায় মাথা মুণ্ডন করলে কী করিতে হইবে?
১০৮. অনুচ্ছেদঃ রাখালদের জন্য একদিন কংকর মেরে অপরদিনে তা বাদ দেওয়ার সুযোগ আছে
১১০. অনুচ্ছেদঃ হজ্জের বড় [মহিমান্বিত] দিন প্রসঙ্গে
১১১. অনুচ্ছেদঃ দুই রুকন [হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী] স্পর্শ করা
১১২. অনুচ্ছেদঃ তাওয়াফকালে কথাবার্তা বলা
১১৩. অনুচ্ছেদঃ হাজরে আসওয়াদ প্রসঙ্গে
১১৪. অনুচ্ছেদঃ [ইহ্‌রাম অবস্থায় তৈল ব্যবহার করা]
১১৫. অনুচ্ছেদঃ [যমযমের পানি বহন করা প্রসঙ্গে]
১১৬. অনুচ্ছেদঃ [৮ই জিলহজ্জ মিনায় জুহরের নামাজ পড়া প্রসঙ্গে]

৮৭. অনুচ্ছেদঃ [অন্যের পক্ষ হইতে উমরা আদায় করা]

৯৩০. আবু রাযীন আল-উকাইলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]! আমার পিতা খুবই বৃদ্ধ। তিনি হজ্জ, উমরা, এমনকি সফর করিতেও সক্ষম নন। তিনি বললেনঃ তোমার পিতার পক্ষে তুমি হজ্জ ও উমরা আদায় কর।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৯০৬]। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস হইতেই জানা যায় যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] অন্যের পক্ষ হইতে উমরা করার অনুমতি দিয়েছেন। আবু রাযীন আল-উকাইলী [রাদি.]-এর নাম লাকীত, পিতা আমির। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৮৮. অনুচ্ছেদঃ উমরা ওয়াজিব কি না ?

৯৩১. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] -কে প্রশ্ন করা হলো উমরা করা কি ওয়াজিব? তিনি বললেনঃ না, তবে তোমরা উমরা করলে তা অতিশয় ভাল।

সনদ দুর্বল। আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহিহ। কোন কোন আলিমের মতে উমরা ওয়াজিব নয়। এ কথাও বলা হত যে, হাজ্জ হলো দুটি। কুরবানীর দিন হলো বড় হাজ্জ এবং উমরা হলো ছোট হাজ্জ। ঈমাম শাফি বলেন, উমরা হলো সুন্নাত [প্রতিষ্ঠিত ইবাদাত]। আমার জানামতে তা ছেড়ে দেয়ার সুযোগ কেউ দেননি। এতি নফল হওয়া প্রসঙ্গেও কোন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে এটি নফল বলে যে হাদীস বর্ণিত আছে তা যঈফ, তা দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা জেনেছি যে, ইবনি আব্বাস [রাদি.] উমরা পালন ওয়াজিব মনে করিতেন। আবু ঈসা বলেন, এর পুরোটাই ঈমাম শাফির বক্তব্য। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৮৯. অনুচ্ছেদঃ [উমরা আদায় ওয়াজিব কি না]

৯৩২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কিয়ামাত পর্যন্ত হজ্জের মধ্যে উমরাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।

-সহীহ, সহীহ আবু দাউদ [১৫৭১], মুসলিম। সুরাকা ইবনি জুশুম ও জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি আব্বাসের হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এই হাদীসের তাৎপর্য হল, হজ্জের মাসসমূহে উমরা করায় কোন সমস্যা নেই। অনুরূপ ব্যাখ্যাই করিয়াছেন ঈমাম শাফি, আহমাদ ও ইসহাক। এই হাদীসের তাৎপর্য হল, হজ্জের মাসসমূহে জাহিলী যুগের লোকেরা উমরা আদায় করত না। ইসলামের আবির্ভাবের পর এই বিষয়ে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] অনুমতি দেন এবং বলেন, কিয়ামাত পর্যন্ত উমরাও হজ্জের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে অর্থাৎ হজ্জের মাসসমূহে উমরা করাতে কোন সমস্যা নেই। হজ্জের মাস হলঃ শাওয়াল, যুলকাদা ও যুলহিজ্জার প্রথম দশদিন। হজ্জের মাসগুলি ব্যতীত অন্য মাসে হজ্জের ইহরাম বাধা উচিত নয়। আর হারাম মাসগুলো হলোঃ রজব, যুলকাদা, যুলহিজ্জা ও মুহাররাম। অনুরূপ মত ব্যক্ত করিয়াছেন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একাধিক সাহাবী ও অপরাপর অনেক আলিম। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯০. অনুচ্ছেদঃ উমরার ফযিলত

৯৩৩. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এক উমরা অপর উমরা পর্যন্ত সংঘটিত গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ। ক্ববূল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নেই।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৮৮৮], বুখারী, মুসলিম। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯১. অনুচ্ছেদঃ তানঈম হইতে উমরাহ করা

৯৩৪. আবদুর রাহমান ইবনি আবু বাকর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে নির্দেশ দিলেন তিনি যেন আইশা [রাদি.]-কে তানঈম হইতে [ইহরাম করে] উমরা করান।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৯৯৯], বুখারী, মুসলিম। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯২. অনুচ্ছেদঃ জিরানা হইতে উমরা করা

৯৩৫. মুহাররিশ আল-কাবী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উমরার উদ্দেশ্যে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাতে [ইহরাম বেঁধে] জিরানা হইতে বের হন এবং রাতেই মক্কায় যান। উমরা পালন করে তিনি ঐ রাতেই ফিরে আসেন। জিরানাতেই তার ভোর হয়। মনে হল তিনি যেন এখানেই রাতযাপন করিয়াছেন। পরের দিন তিনি সূর্য ঢলে পড়ার পর বাতনে সারিফের উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হন এবং মুযদালিফার পথে সেখানে পৌছে যান। এই কারণে তাহাঁর এই উমরার খবর মানুষের নিকট অজ্ঞাত থেকে যায়।

-সহীহ, সহীহ আবু দাউদ [১৭৪২]। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এই হাদীস ছাড়া মুহারিশ আল-কাবী [রাদি.]-এর সূত্রে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর আর কোন হাদীস বর্ণিত আছে কি-না তা আমাদের জানা নেই। বলা হয়ে থাকে যে, “জা-আ মাআত তারিক” অর্থাৎ মাও সূলের পথে আগমন করেন। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৩. অনুচ্ছেদঃ রজব মাসের উমরাহ

৯৩৬. উরওয়া [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি উমার [রাদি.]-কে প্রশ্ন করা হল, কোন মাসে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] উমরা করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, রজব মাসে। উরওয়া বলেন, তখন আইশা [রাদি.] বলিলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এমন কোন উমরা করেননি যাতে তিনি অর্থাৎ ইবনি উমার [রাদি.] তাহাঁর সাথে ছিলেন না। কিন্তু রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তো কখনও রজব মাসে উমরা করেননি।

-সহীহ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[২৯৯৭, ২৯৯৮], বুখারী, মুসলিম। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা গারীব বলেছেন। মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে আমি বলিতে শুনিয়াছি, উরওয়া ইবনিয যুবাইর [রঃ] হইতে হাবীব ইবনি আবী সাবিত কখনও কিছু শুনেননি। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৩৭. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] সর্বমোট চারবার উমরা করিয়াছেন, এর মধ্যে একটি করিয়াছেন রজব মাসে।

-সহীহ, [হাদীসটি পূর্বের হাদীসের সংক্ষিপ্তরূপ, তাতে আইশা [রাদি.] রজব মাসের উমরাহকে অস্বীকার করিয়াছেন।] এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৪. অনুচ্ছেদঃ যুলকাদা মাসের উমরাহ

৯৩৮. বারাআ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যুলকাদা মাসে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] উমরাহ করিয়াছেন।

-সহীহ, বুখারী। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৫. অনুচ্ছেদঃ রমযান মাসের উমরা

৯৩৯. উম্মু মাকিল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ রমযান মাসের উমরা হজ্জের সমতুল্য।

-সহীহ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[২৯৯৩]। ইবনি আব্বাস, জাবির, আবু হুরাইরা, আনাস ও ওয়াহব ইবনি খানবাশ [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ওয়াহব ইবনি খানবাশকে হারিম ইবনি খানবাশও বলা হয়। [রাবী] বায়ান ও জাবির বলেছেন শাবী হইতে, তিনি ওয়াহব ইবনি খানবাশ হইতে। আর দাউদ আল আওদী বলেছেন শাবী হইতে, তিনি হারিম ইবনি খানবাশ হইতে। তার নাম ওয়াহব এটিই অধিক সহীহ। উন্মু মাকিলের হাদীসটি এই সূত্রে হাসান গারীব। আহমাদ ও ইসহাক [রঃ] বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে সঠিকভাবে বর্ণিত আছে যে, রমযান মাসের উমরা হজ্জের সমতুল্য। ইসহাক বলেন, এ হাদীসের তাৎপর্য সূরা ইখলাস প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত হাদীসটির তাৎপর্যের অনুরূপ। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক “কুল হুআল্লাহু আহাদ সূরা তিলাওয়াত করিল সে যেন কুরআন মাজীদের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করিল”। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৬. অনুচ্ছেদঃ হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর কোন ব্যক্তির শরীরের কোন অঙ্গ ভেঙ্গে গেলে বা সে খোঁড়া হয়ে গেলে

৯৪০. হাজ্জাজ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কারো দেহের কোন অঙ্গ ভেঙ্গে গেলে বা সে খোঁড়া হয়ে গেলে হালাল [ইহরামমুক্ত] হয়ে যাবে এবং তাকে আরেকবার হজ্জ আদায় করিতে হইবে। ইকরামা বলেন, আমি এই হাদীস প্রসঙ্গে আবু হুরাইরা ও ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে প্রশ্ন করলে তারা উভয়ে বলেন, হাজ্জাজ সত্য বলেছেন।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩০৭৭]। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। হাজ্জাজ আস-সাওওয়াফ হইতেও একাধিক বর্ণনাকারী এই হাদীসের মতই রিওয়ায়াত করিয়াছেন। এই হাদীস মামার ও মুআবিয়া ইবনি সাল্লাম বর্ণনা করিয়াছেন ইয়াহইয়া ইবনি আবী কাসীর হইতে, তিনি ইকরামা হইতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনি রাফি হইতে, তিনি হাজ্জাজ ইবনি আমর হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে। কিন্তু হাজ্জাজ আস-সাওওয়াফ তার সনদে আবদুল্লাহ ইবনি রাফি-এর উল্লেখ করেননি। হাদীস বিশেষজ্ঞগণের মতে হাজ্জাজ একজন [হাদীসের] হাফিজ ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী। মুহাম্মদ আল-বুখারীকে আমি বলিতে শুনিয়াছি, মামার ও মুআবিয়া ইবনি সাল্লামের রিওয়ায়াতটি এই হাদীসের ক্ষেত্রে বেশি সহীহ। উপরোক্ত হাদীসের মতই অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত আছে। সূত্রটি এই আবদু ইবনি হুমাইদ আবদুর রাজ্জাক হইতে, তিনি মামার হইতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনি কাসীর হইতে, তিনি ইকরিমা হইতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনি রাফি হইতে, তিনি হাজ্জাজ ইবনি আমর হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৭. অনুচ্ছেদঃ হজ্জের মধ্যে শর্ত আরোপ করা

৯৪১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যুবাআ বিনতুয যুবাইর [রাদি.] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে এসে বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হজ্জ আদায় করিতে চাচ্ছি। আমি কি কোন শর্ত আরোপ করিতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। যুবাআ বলিলেন, আমি কিভাবে বলব। তিনি বললেনঃ তুমি বলবে, আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ। আমি উপস্থিত। হে আল্লাহ! তুমি যেখানে আমাকে বাধাগ্রস্ত করে দিবে সেখানেই আমি ইহরামমুক্ত হব।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৯৩৮], মুসলিম। জাবির, আসমা বিনতু আবু বাকর ও আইশা [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করিয়াছেন। তাহাদের মতে হজ্জের ক্ষেত্রে এইরূপ শর্তারোপ করা যায়। তারা বলেন, যদি কোন ইহরামধারী এইরূপ শর্ত করার পর বাঁধার সম্মুখীন হয় অথবা অপারগ হয়ে পড়ে তাহলে সেলোক ইহরামমুক্ত হয়ে যেতে পারবে। এই মত দিয়েছেন ঈমাম শাফি, আহমাদ ও ইসহাক। হজ্জের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করা আরেক দল আলিমের মতে সঠিক নয়। তারা বলেন, কোন লোক শর্তারোপ করলেও ইহরামমুক্ত হইতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে তাকে কোন শর্তারোপ না করা ব্যক্তির মতই গণ্য করা হইবে।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৮. অনুচ্ছেদঃ [যারা হজ্জের মধ্যে শর্তারোপ করা বৈধ মনে করেন না]

৯৪২. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি হজ্জে কোন রকম শর্তারোপ করা প্রত্যাখ্যান করিতেন এবং বলিতেন, তোমাদের জন্য কি তোমাদের নাবীর সুন্নাতই যথেষ্ট নয়?

-সহীহ [১৮১০], বুখারী। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।ইবনি উমারের কথার তাৎপর্য হল, যখন কোন ব্যক্তি হজ্জের জন্য ইহরাম বাধবে অতঃপর কাবা পর্যন্ত পৌছতে বাধা গ্রস্থ হয় তাহলে সে হজ্জের নিয়্যাত ভঙ্গ করিবে। তিনি বলেনঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরকমই করিয়াছেন যখন তাঁকে কাফিরগণ বাধা দিয়েছিল।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৯. অনুচ্ছেদঃ কোন মহিলার তাওয়াফে যিয়ারাত শেষে মাসিক ঋতু হলে

৯৪৩. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট আমি বললামঃ মিনায় অবস্থানের দিনগুলিতে সাফিয়্যা বিনতু হুওয়াই [রাদি.] হায়েযগ্রস্তা হয়ে পড়েছেন। তিনি বললেনঃ সে আমাদের প্রতিবন্ধক হইবে নাকি? লোকেরা বলিল, তিনি তাওয়াফে যিয়ারাত করিয়াছেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তাহলে কোন সমস্যা নেই।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩০৭২,৩০৭৩], বুখারী, মুসলিম। ইবনি উমার ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা [রাদি.] বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মত দিয়েছেন। তাওয়াফে যিয়ারাত সম্পন্ন করার পর কোন মহিলা হায়েযগ্রস্তা হলে সে [মিনা হইতে] চলে আসতে পারে। এতে তার উপর অন্য কিছু বর্তাবে না। এই অভিমত সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক [রঃ]-এর। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৪৪. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে লোক বাইতুল্লাহর হজ্জ করে তার শেষ কাজ যেন বাইতুল্লাহর তাওয়াফ হয়। তবে ঋতুবতী মহিলা এর ব্যতিক্রম। কারণ, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদের জন্য [চলে আসার] অনুমতি দিয়েছেন।

-সহীহ, বুখারী [১৭৬১], অনুমতির বাক্য সহ ইরওয়া [৪/২৮৯]। ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করিয়াছেন। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০০. অনুচ্ছেদঃ হজ্জের কোন কোন অনুষ্ঠান ঋতুবতী মহিলা পালন করিবে?

৯৪৫. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি হায়েযগ্রস্তা হয়ে পড়লে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের বাকী সব অনুষ্ঠান পালন করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিলেন।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৯৬৩], বুখারী, মুসলিম। ৯৪৫/২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে এই হাদীস মারফূরূপে বর্ণনা করিয়াছেন। হায়েযগ্রস্তা ও নিফাসগ্রস্তা মহিলারা গোসল করে ইহরাম বাধবে এবং হজ্জের সকল অনুষ্ঠান পালন করিবে, কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ করিবে না। -সহীহ, সহীহ আবু দাউদ [১৫৩১, ১৮১৮]।

আবু ঈসা বলেন, এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করিয়াছেন। তাহাদের মতে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের বাকী সকল অনুষ্ঠান ঋতুবতী মহিলা পালন করিবে। এই হাদীসটি আইশা [রাদি.] হইতে আরও কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত আছে।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০১. অনুচ্ছেদঃ হজ্জ বা উমরা পালনকারীর শেষ আমল যেন বাইতুল্লায় সম্পর্কযুক্ত হয়

৯৪৬. হারিস ইবনি আব্দুল্লাহ্‌ ইবনি আওস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, আমি নাবী [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি এই ঘরের হাজ্জ বা উমরা করিবে তার শেষ কাজ যেন বাইতুল্লায় সম্পর্কযুক্ত হয়।

এই বর্ণনাটি মুনকার, তবে “উমরা করিবে” এই শব্দ ব্যতীত হাদীসের অর্থ সহীহ, সহীহ আবু দাঊদ [১৭৪৯], যঈফা [৪৫৮৫] উমার [রাদি.] তখন তাকে [হারিস ইবনি আব্দুল্লাহ্‌ কে] বলেন, তোমর শরম হওয়া উচিত। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে তুমি এই বিষয়টি শুনেছ অথচ আজো আমাদেরকে তা জানাওনি। এই অনুচ্ছেদে ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, হারিস ইবনি আব্দুল্লাহ ইবনি আওস [রাদি.] বর্ণিত হাদীসটি গারীব। হাজ্জাজ ইবনি আরতাহ হইতেও একাধিক রাবী একইরকম বর্ণনা করিয়াছেন। এই সনদের কোন কোন অংশে হাজ্জাজের উল্টো বর্ণনা করা হয়েছে।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১০২. অনুচ্ছেদঃ হজ্জ ও উমরার জন্য কিরান হজ্জকারী এক তাওয়াফই করিবে

৯৪৭. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একসাথে হজ্জ ও উমরা আদায় করিয়াছেন [কিরান হজ্জ করিয়াছেন] এবং হজ্জ ও উমরার জন্য একটি মাত্র তাওয়াফই করিয়াছেন।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৯৭১, ২৯৭৪]। ইবনি উমার ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করিয়াছেন। তারা বলেন, কিরান হজ্জ পালনকারী একটি তাওয়াফই করিবে। এই অভিমত ঈমাম শাফি, আহমাদ ও ইসহাক [রঃ]-এর। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর অপর কিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ বলেন, কিরান হজ্জ পালনকারী দুটি তাওয়াফ ও দুটি সাঈ করিবে [একটি হজ্জের জন্য ও একটি উমরার জন্য]। এই অভিমত ঈমাম সাওরী ও কুফাবাসী আলিমদের। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৪৮. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ হজ্জ ও উমরার ইহরাম যে লোক একত্রে বাঁধবে এই দুইটির ক্ষেত্রে সে লোকের জন্য এক তাওয়াফ ও এক সাঈ যথেষ্ট হইবে এবং সে একই সাথে উভয়টি হইতে ইহরামমুক্ত হয়ে যাবে।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৯৭৫]। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। কেননা, দারাওয়ারদী এককভাবে এই শব্দে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। একাধিক রাবী উবাইদুল্লাহ ইবনি উমার [রঃ] হইতে এটি বর্ণনা করিয়াছেন, কিন্তু এটিকে তারা মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেননি এবং এটাই অনেক বেশি সহীহ। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৩. অনুচ্ছেদঃ মুহাজিরগণ মিনা হইতে ফেরার পর মক্কাতে তিন দিন থাকিবে

৯৪৯. মারফূভাবে আলী ইবনিল হাযরামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মারফূভাবে আলী ইবনিল হাযরামী [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, মুহাজিরগণ হজ্জের সকল অনুষ্ঠান পালনের পর মক্কাতে তিন দিন থাকতে পারেন।

-সহীহ ইবনি মা-জাহ [১০৭৩], বুখারী, মুসলিম। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এটি এই সনদে মারফূ হিসেবে অন্যভাবেও বর্ণিত আছে। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৪. অনুচ্ছেদঃ হজ্জ ও উমরা শেষে ফেরার সময় যা বলবে

৯৫০. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিহাদ, হজ্জ বা উমরা আদায়ের পর ফেরার সময় যখনই কোন টিলা বা উঁচু জায়গায় উঠতেন তখন তিনবার “আল্লাহু আকবার” বলিতেন, তারপর পাঠ করিতেনঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَائِحُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ

“আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাহাঁর কোন শারীক নেই, রাজত্ব তাহাঁরই, সকল প্রশংসা তাহাঁরই জন্য, তিনি সকল বিষয়ের উপর শক্তিশালী। তাহাঁর নিকটেই আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী, তাহাঁরই ইবাদতকারী, তাহাঁর পথে ভ্ৰমণকারী, আমরা আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী। আল্লাহ্ তার প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত করিয়াছেন, তার বান্দাহকে সাহায্য করিয়াছেন এবং সম্মিলিত বাহিনীকে একাই পরাস্ত করিয়াছেন।

-সহীহ, সহীহ আবু দাউদ [২৪৭৫], বুখারী, মুসলিম। বারাআ, আনাস ও জাবির [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৫. অনুচ্ছেদঃ ইহরামরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে

৯৫১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে ছিলাম। তিনি দেখিতে পেলেন এক লোক তার উটের পিঠ হইতে পড়ে গিয়ে ঘাড় ভেঙ্গে মারা গেছে। সে লোক ইহরাম পরিহিত অবস্থায় ছিল। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ বরই পাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে তাকে গোসল করাও এবং তাকে তার [ইহরামের] দুই কাপড়েই কাফন পরাও, কিন্তু তার মাথা ঢেকে দিও না। কিয়ামাতের দিন অবশ্যই তাকে ইহরাম অথবা তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হইবে।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩০৮৪], বুখারী, মুসলিম। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। কিছু সংখ্যক আলিমগণ এই হাদীসানুযায়ী আমল করিয়াছেন। এই কথা বলেছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। আর কিছু সংখ্যক আলিমগণ বলেন, ইহরামধারী লোক মারা গেলে তার ইহরাম শেষ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় যে লোকের ইহরাম নেই সে লোকের ক্ষেত্রে যেই বিধান এই লোকের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হইবে। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৬. অনুচ্ছেদঃ ইহরামধারী ব্যক্তির চক্ষু উঠলে তাতে ঘৃতকুমারীর রস দেওয়া

৯৫২. নুবাইহ ইবনি ওয়াহব [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

উমার ইবনি উবাইদুল্লাহ ইবনি মামার-এর চক্ষুরোগ হয়। তিনি ইহরামধারী ছিলেন। তিনি আবান ইবনি উসমানকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, চোখে ঘৃতকুমারীর রস দাও। কারণ, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে উসমান ইবনি আফফান [রাদি.]-কে বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি, তিনি বলেছেনঃ চোখে ঘৃতকুমারীর রস দাও।

-সহীহ, সহীহ আবু দাউদ [১৬১২], মুসলিম। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুসারে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করিয়াছেন। তারা বলেন, ঔষধে সুগন্ধি না থাকলে তা ব্যবহার করিতে ইহরামধারী ব্যক্তির কোন সমস্যা নেই। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৭. অনুচ্ছেদঃ ইহরামে থাকাবস্থায় মাথা মুণ্ডন করলে কী করিতে হইবে?

৯৫৩. কাব ইবনি উজরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হুদাইবিয়াতে তিনি ইহরাম অবস্থায় থাকাকালে এবং মক্কায় আসার পূর্বে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় তিনি হাড়ির নীচে [চুলায়] আগুন জ্বালাচ্ছিলেন, আর তার চেহারায় উকুন গড়িয়ে পড়ছিল। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বললেনঃ তোমাকে কি তোমার এই পোকাগুলো কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তাহলে মাথা মুণ্ডন কর এবং এক ফারাক” খাদ্যদ্রব্য ছয়জন মিসকীনকে দান কর [তিন সা”-তে এক ফারাক] অথবা তিনদিন রোযা রাখ অথবা একটি পশু কুরবানী কর। ইবনি আবী নাজীহ-এর বর্ণনায় আছেঃ অথবা একটি বকরী যবাহ কর।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩০৭৯, ৩০৮০], নাসা-ঈ। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করিয়াছেন। যদি কোন মুহরিম লোক মাথা মুণ্ডন করে বা যে ধরণের পোশাক ইহরামে পরা উচিত নয় কোন লোক যদি সেই ধরণের পোশাক পরে বা সুগন্ধি ব্যবহার করে তাহলে এই হাদীসে বর্ণিত নিয়মে তার উপর কাফফারা প্রদান করা অপরিহার্য হইবে। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৮. অনুচ্ছেদঃ রাখালদের জন্য একদিন কংকর মেরে অপরদিনে তা বাদ দেওয়ার সুযোগ আছে

৯৫৪. আবুল বাদাহ ইবনি আদী [রাদি.] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাখালদেরকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদিন [জামরাতুল আকাবায়] কংকর মারতে এবং আরেকদিন তা বাদ দিতে অনুমতি দিয়েছেন।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩০৩৬]। আবু ঈসা বলেন, ইবনি উআইনা এরকমই বর্ণনা করিয়াছেন। আর মালিক ইবনি আনাস আবদুল্লাহ ইবনি আবু বাকর হইতে, তিনি তার পিতা হইতে, তিনি আবুল বাদাহ ইবনি আসিম ইবনি আদী [রাদি.] হইতে, তিনি তার পিতা হইতে এটিকে বর্ণনা করিয়াছেন। মালিক [রঃ]-এর এই বর্ণনাটি অনেক বেশি সহীহ। একদল আলিম এই হাদীসের ভিত্তিতে রাখালদের জন্য একদিন জামরায় কংকর মারার এবং অন্যদিন তা বাদ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এই মত ঈমাম শাফি [রঃ]-এর। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৫৫. আসিম ইবনি আদী [রাদি.] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] উটের রাখালদের [মিনায়] রাত্রি যাপন না করার এবং কুরবানীর দিন কংকর মেরে পরবর্তী দুইদিনের কংকর কোন একদিন একত্রে মারার অনুমতি দিয়েছেন। মালিক বলেন, আমার মনে হয় আবদুল্লাহ ইবনি আবী বাকর তার বর্ণনায় বলেছেন, দুই দিনের কংকর প্রথম দিন একত্রে এবং মিনা হইতে যাত্রার শেষদিন কংকর মারবে।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩০৩৭]। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটি ইবনি উআইনা হইতে আবদুল্লাহ ইবনি আবু বাকরের সূত্রে বর্ণিত হাদীস অপেক্ষা অনেক বেশি সহীহ। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৫৬. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আলী [রাদি.] ইয়ামান হইতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে এলে তিনি তাকে বললেনঃ তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? আলী [রাদি.] বলিলেন, যে নিয়্যাতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইহরাম বেঁধেছেন আমিও সেই ইহরাম বেঁধেছি। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমার সাথে হাদী [কুরবানীর পশু] না থাকলে আমি [উমরা করে] হালাল [ইহরামমুক্ত] হয়ে যেতাম।

-সহীহ, ইরওয়া, আল-হাজ্জুল কাবীর [১০০৬], বুখারী, মুসলিম। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা উপরোক্ত সনদে হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১০. অনুচ্ছেদঃ হজ্জের বড় [মহিমান্বিত] দিন প্রসঙ্গে

৯৫৭. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি হজ্জের বড় [মহান] দিন প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ তা হচ্ছে কুরবানীর দিন।

-সহীহ, ইরওয়া, সহীহ আবু দাউদ [১৭০০, ১৭০১]। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯৫৮. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

৯৫৮. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হজ্জের বড় দিন হলো কুরবানীর দিন।

-সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আবু ঈসা বলেন, এটি আলী [রাদি.] মারফূভাবে বর্ণনা করেননি। প্রথমোক্ত হাদীস হইতে এই হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনি ইসহাকের মারফূহিসেবে বর্ণিত হাদীস অপেক্ষা ইবনি উআইনার মাওকূফহিসেবে বর্ণিত হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ। আবু ঈসা বলেন, আবু ইসহাক-হারিস হইতে, তিনি আলী [রাদি.]-এর সূত্রে এই হাদীসটিকে হাদীসের একাধিক হাফিয বর্ণনাকারী মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করিয়াছেন। শুবা আবু ইসহাক হইতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনি মুররা হইতে, তিনি আল-হারিস হইতে, তিনি আলী [রাদি.] হইতে মাওকূফ রূপে বর্ণনা করিয়াছেন। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১১. অনুচ্ছেদঃ দুই রুকন [হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী] স্পর্শ করা

৯৫৯. উমাইর [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

ভীড় ঠেলে হলেও ইবনি উমার [রাদি.] হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর নিকটে যেতেন [তা ম্পর্শ করার জন্য]। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর অন্য কোন সাহাবীকে আমি এরূপ করিতে দেখিনাই। আমি বললাম, হে আবু আবদুর রাহমান! আপনি ভীড় ঠেলে হলেও এই দুই রুকনে গিয়ে পৌছেন, কিন্তু আমি তো ভীড় ঠেলে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর অন্যকোন সাহাবীকে সেখানে যেতে দেখিনি। তিনি বলিলেন, আমি এরূপ কেন করব না? রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে আমি বলিতে শুনেছিঃ এই দুইটি রুকন স্পর্শ করলে গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়।

-সহীহ, তালিকুল রাগীব [২/১২০]। আমি তাকে আরো বলিতে শুনেছিঃ সঠিকভাবে যদি কোন লোক বাইতুল্লাহ সাতবার তাওয়াফ করে তাহলে তার একটি ক্রীতদাস আযাদ করার সমান সাওয়াব হয়। -সহীহ ইবনি মা-জাহ [২৯৫৬] তাকে আমি আরো বলিতে শুনেছিঃ যখনই কোন ব্যক্তি তাওয়াফ করিতে গিয়ে এক পা রাখে এবং অপর পা তোলে আল্লাহ তখন তার একটি করে গুনাহ মাফ করে দেন এবং একটি করে-সাওয়াব লিখে দেন। -সহীহ, তালীকুর রাগীব [২/১২০], মিশকাত [২৫৮০]। আবু ঈসা বলেন, একইরকম হাদীস ইবনি উমার [রাদি.] হইতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত.আছে। কিন্তু সেই সনদে উমাইরের উল্লেখ নেই। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১২. অনুচ্ছেদঃ তাওয়াফকালে কথাবার্তা বলা

৯৬০. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বাইতুল্লাহর চারদিকে তাওয়াফ করা নামাজ আদায়ের অনুরূপ। তবে তোমরা এতে [তাওয়াফকালে] কথা বলিতে পার। সুতরাং তাওয়াফকালে যে ব্যক্তি কথা বলে সে যেন ভাল কথা বলে।

-সহীহ, ইরওয়া [১২১], মিশকাত [২৫৭৬], তালীকুর রাগীব [২/১২১], তালীক আলা ইবনি খুযাইমাহ [২৭৩৯]। আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর সূত্রে ইবনি তাউস প্রমুখ হইতে মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত আছে। এটি আতা ইবনিস সাইব ছাড়া অন্যকোন সূত্রে মারফূভাবে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম আমল করার কথা বলেছেন। তারা বলেন, বিশেষ কোন প্রয়োজনীয় কথা, আল্লাহর যিকির ও ইলম প্রসঙ্গিয় আলোচনা ব্যতীত তাওয়াফের সময় অন্য কোন কথা না বলা মুস্তাহাব। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১৩. অনুচ্ছেদঃ হাজরে আসওয়াদ প্রসঙ্গে

৯৬১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হাজরে আসওয়াদ প্রসঙ্গে বলেছেনঃ আল্লাহর শপথ। এই পাথরকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামাতের দিন এমন অবস্থায় উঠাবেন যে, এর দুটি চোখ থাকিবে যা দিয়ে সে দেখবে এবং একটি জিহবা থাকিবে যা দিয়ে সে কথা বলবে। যেলোক সত্য হৃদয়ে একে স্পর্শ করিবে তার সম্বন্ধে এই পাথর আল্লাহ্ তাআলার নিকটে সাক্ষ্য দিবে।

-সহীহ, মিশকাত [২৫৭৮], তালীকুর রাগীব [২/১২২], তালীক আলা ইবনি খুযাইমা [২৭৩৫]। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১৪. অনুচ্ছেদঃ [ইহ্‌রাম অবস্থায় তৈল ব্যবহার করা]

৯৬২. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইহ্‌রাম অবস্থায় সুগন্ধিহীন তেল ব্যবহার করিতেন।

সনদ দুর্বল। আবু ঈসা বলেন, মুত্তাকাত অর্থ সুগন্ধযুক্ত। তিনি আরও বলেন, এই হাদীসটি গারীব। ফারকাদ আস-সাবাখী হইতে সাঈদ ইবনি জুবাইর-এর সূত্রেই শুধু মাত্র আমরা এই হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি সাঈদ [রঃ] ফারকাদ আস-সাবাখীর সমালোচনা করিয়াছেন। কিন্তু তার বরাতে লোকেরা হাদীস বর্ণনা করেছে। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১১৫. অনুচ্ছেদঃ [যমযমের পানি বহন করা প্রসঙ্গে]

৯৬৩. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি যমযমের পানি সাথে করে নিয়ে আসতেন, আর বলিতেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তা বহন করে আনতেন।

-সহীহ, সহীহাহ [৮৮৩]। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গরীব বলেছেন। আমরা এই হাদীস প্রসঙ্গে শুধু উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১৬. অনুচ্ছেদঃ [৮ই জিলহজ্জ মিনায় জুহরের নামাজ পড়া প্রসঙ্গে]

৯৬৪. আবদুল আযীয ইবনি রুফাই [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আনাস [রাদি.]-কে বললাম, ইয়াওমুত-তারবিয়ায় [৮ই যুলহিজ্জায়] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোথায় যুহরের নামাজ আদায় করিয়াছেন? আপনি এই প্রসঙ্গে যা জানেন তা আমাকে বলুন। তিনি বলিলেন, মিনায়। আমি বললাম, তিনি ইয়াওমুন নাফরে [১৩ই যুলহিজ্জায়] আসরের নামাজ কোথায় আদায় করিয়াছেন? তিনি বলেন, আবতাহ [বাতহা] নামক জায়গায়। এরপর তিনি বলিলেন, তোমার আমীরগণ যা করিবে তুমিও সেইভাবে কর [যেখানে তারা নামাজ আদায় করে সেখানে তুমিও আদায় কর]।

-সহীহ, সহীহ আবু দাউদ [১৬৭০] বুখারী, মুসলিম। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। কিন্তু সুফিয়ান সাওরীর সূত্রে ইসহাক ইবনি ইউসুফ আল-আযরাকের বর্ণনাটি গারীব। ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply