এ উম্মাতের এক অংশ অন্য অংশ দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া

এ উম্মাতের এক অংশ অন্য অংশ দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া

এ উম্মাতের এক অংশ অন্য অংশ দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৫. অধ্যায়ঃ এ উম্মাতের এক অংশ অন্য অংশ দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া

৭১৫০. সাওবান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা গোটা পৃথিবীকে সংকুচিত করে আমার সম্মুখে রেখে দিলেন। অতঃপর আমি এর পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেছি। পৃথিবীর যে অংশটুকু গুটিয়ে আমার সম্মুখে রাখা হয়েছিল সে পর্যন্ত আমার উম্মাতের কর্তৃত্ব পৌঁছবে। আমাকে লাল [স্বর্ণ] ও সাদা [রৌপ্য] দুপ্রকারের গুপ্তধন দেয়া হয়েছে। আমি আমার উম্মাতের জন্য আমার রবের কাছে এ দুআ করেছি, যেন তিনি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন এবং যেন তিনি তাদের উপর নিজেদের ছাড়া এমন কোন শত্রুকে চাপিয়ে না দেন যারা তাদের দলকে ভেঙ্গে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিবে। এ কথা শুনে আমার পালনকর্তা বলিলেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যা সিদ্ধান্ত করি তা কখনো পরিবর্তন হয় না, আমি তোমার দুআ কবূল করেছি। আমি তোমার উম্মাতকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস করব না এবং তাদের উপর তাদের নিজেদের ছাড়া অন্য এমন কোন শত্রুকে চাপিয়ে দেব না যারা তাদের সমষ্টিকে বিক্ষিপ্ত ও ধ্বংস করিতে সক্ষম হইবে। যদিও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত হইতে লোক একত্রিত হয়ে প্রচেষ্টা করে না কেন। তবে মুসলিমগণ নিজের মধ্যে পরস্পর একে অপরকে হত্যা করিবে এবং একে অপরকে বন্দী করিবে। {১৩}

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ৭০৫১]{১৩} উম্মাতে মুহাম্মাদের মধ্যে পূর্বের ধ্বংসপ্রাপ্ত উম্মাতসমূহের ধ্বংস হবার সমস্ত কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও এ উম্মাতকে ধ্বংস না করার কারণ নবী [সা]-এর উক্ত দুআ এবং মহান আল্লাহ কর্তৃক সে দুআ কবূলের ঘোষণা।

৭১৫১. সাওবান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পৃথিবীকে গুটিয়ে আল্লাহ তাআলা আমার সম্মুখে উপস্থিত করিলেন। আমি এর পূর্বপ্রান্ত হইতে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত দেখে নিলাম, আল্লাহ তাআলা আমাকে লাল [স্বর্ণ] ও সাদা [রৌপ্য] দুটি ধন-ভাণ্ডার দান করিয়াছেন। অতঃপর কাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আইয়ূব-এর সূত্রে আবু কিলাবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৫, ইসলামিক সেন্টার- ৭০৫২]

৭১৫২. সাদ [রাদি.] তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদা আলিয়াহ্ হইতে এসে বানূ মুআবিয়ায় অবস্থিত মাসজিদের সন্নিকটে গেলেন। অতঃপর তিনি উক্ত মাসজিদে প্রবেশ করে দুরাকআত নামাজ আদায় করিলেন। আমরাও তাহাঁর সাথে নামাজ আদায় করলাম। এ সময় তিনি তাহাঁর প্রতিপালকের নিকট দীর্ঘ সময় দুআ করিলেন এবং দুআ শেষে আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন। তারপর তিনি বলিলেন, আমি আমার প্রতিপালকের কাছে তিনটি বিষয় প্রার্থনা করেছি। তন্মধ্যে তিনি আমাকে দুটি প্রদান করিয়াছেন এবং একটি প্রদান করেননি। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করেছিলাম, যেন তিনি আমার উম্মাতকে দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দুআ কবূল করিয়াছেন। তাহাঁর নিকট এ-ও প্রার্থনা করেছিলাম যে, তিনি যেন আমার উম্মাতকে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দুআও কবূল করিয়াছেন। আমি তাহাঁর নিকট এ মর্মেও দুআ করেছিলাম যে, যেন মুসলিমরা পরস্পর একে অপরের বিপক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে। তিনি আমার এ দুআ কবূল করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৬, ইসলামিক সেন্টার- ৭০৫৩]

৭১৫৩. আমির ইবনি সাদ [রাদি.] তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি সহাবাদের একটি দলের মাঝে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে কোথাও থেকে আসলেন। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বানূ মুআবিয়ায় অবস্থিত মাসজিদের কাছে গেলেন। অতঃপর তিনি ইবনি নুমায়র-এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৭, ইসলামিক সেন্টার- ৭০৫৪]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply