ঋতুবতী মহিলাদের জন্যে তার স্বামীর মাথা ধুয়ে দেয়া ….

ঋতুবতী মহিলাদের জন্যে তার স্বামীর মাথা ধুয়ে দেয়া

ঋতুবতী মহিলাদের জন্যে তার স্বামীর মাথা ধুয়ে দেয়া >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩. অধ্যায়ঃ ঋতুবতী মহিলা দের জন্যে তার স্বামীর মাথা ধুয়ে দেয়া, তার চুল আঁচড়িয়ে দেয়া জায়িয; তার উচ্ছিষ্ট পবিত্র; তার কোলে মাথা রেখে হেলান দেয়া ও সেখানে কুরআন পাঠ করা জায়িয

৫৭১

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলূল্লাহ্ [সাঃআঃ] যখন ইতিকাফ করিতেন তখন আমার দিকে তাহাঁর মাথা ঝুঁকিয়ে দিতেন। আমি তা আঁচড়ে দিতাম। [ইতিকাফ কালে] তিনি ঘরে প্রবেশ করিতেন না প্রাকৃতিক প্রয়োজন [যেমন প্রস্রাব পায়খানা] ছাড়া। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯১]

৫৭২

নবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী আয়েশাহ[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [ইতিকাফের সময়] আমি যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ঘরে প্রবেশ করতাম। ঘরে কোন রোগী থাকে তাহলেও তাকে কোন কথা জিজ্ঞেস না করেই চলে যেতাম। ইতিকাফের সময় রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] মাসজিদ থেকে আমার দিকে মাথা এগিয়ে দিতেন, আর আমি তাহাঁর চুল আঁচড়ে দিতাম। ইতিকাফ থাকাবস্থায় তিনি [প্রাকৃতিক] কোন প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করিতেন না।

ইবনি রুমহ্ বলেছেন: যখন তাঁরা ইতিকাফের অবস্থায় থাকতেন, প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করিতেন না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯২]

৫৭৩

নবী [সাঃআঃ] এর সহধর্মিণী আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] ইতিকাফে থাকাবস্থায় [অধিকাংশ সময়] মাসজিদ থেকে তাহাঁর মাথা আমার দিকে বের করে দিতেন। আমি ঋতুবতী অবস্থায় তা ধুয়ে দিতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯৩]

৫৭৪

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমার দিকে তাহাঁর মাথা এগিয়ে দিতেন। আমার হুজরায় থেকে ঋতুবতী অবস্থায় আমি তাহাঁর মাথা আঁচড়ে দিতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯৪]

৫৭৫

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] এর মাথা ধুয়ে দিতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯৫]

৫৭৬

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেন, “মাসজিদ থেকে আমার জায়নামাযটি [হাত বাড়িয়ে] নিয়ে এসো”। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমি তো ঋতুবতী। তিনি বললেনঃ তোমার হায়িয তো তোমার হাতে নয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯৬]

৫৭৭

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] মাসজিদ থেকে জায়নামায [হাত বাড়িয়ে] তুলে নিয়ে আসতে আমাকে নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম যে, আমি তো ঋতুবতী। তিনি বলিলেন, তুমি তো আমার কাছে নিয়ে এসো। কারণ হায়িয তোমার হাতে নেই [লেগে যায়নি]। ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯৭]

৫৭৮

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] ইতিকাফরত অবস্থায় মাসজিদ থেকে বলিলেন, হে আয়েশাহ! আমাকে কাপড়টা এগিয়ে দাও। তিনি [আয়েশাহ [রাদি.]} বলেন, আমি যে ঋতুবতী! জবাবে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলিলেন, ঋতু তো তোমার হাতে লাগে নাই। তারপর আমি তা এনে দিলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯৮]

৫৭৯

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় পানি পান করতাম এবং পরে নবী [সাঃআঃ] কে অবশিষ্টটুকু প্রদান করলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পান করতাম তিনিও পাত্রের সে স্থানে মুখ লাগিয়ে পান করিতেন। আবার আমি ঋতুবতী অবস্থায় হাড় খেয়ে তা নবী [সাঃআঃ] কে দিলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়েছিলাম তিনি সেখানে মুখ লাগিয়ে খেতেন। তবে যুহায়র কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে “পান করার” উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩, ইসলামিক সেন্টার-৫৯৯]

৫৮০

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [অধিকাংশ সময়] রসূলূল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমার হায়িয অবস্থায় আমার কোলে মাথা রেখে কুরআন পাঠ করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬০০]

৫৮১

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ইয়াহূদীগণ তাদের মহিলাদের হায়িজ হলে তার সাথে এক সঙ্গে খাবার খেত না এবং এক ঘরে বাস করত না। সাহাবায়ে কিরাম এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] কে জিজ্ঞেস করিলেন। তখন আল্লাহ্ তাআলা এ আয়াত নাযিল করিলেন, “তারা তোমার কাছে হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও যে, তা হলো নাপাক। সুতরাং হায়িয অবস্থায় তোমরা মহিলাদের থেকে পৃথক থাক….”[সূরাহ আল বাকারাহ্ ২ : ২২২]। এরপর রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা [সে সময় তাদের সাথে] শুধু সহবাস ছাড়া অন্যান্য সব কাজ কর। এ খবর ইয়াহূদীদের কাছে পৌছলে তারা বলিল, এ লোকটি সব কাজেই কেবল আমাদের বিরোধিতা করিতে চায়। অতঃপর উসায়দ ইবনি হুযায়র [রাদি.] ও আব্বাস ইবনি বিশর [রাদি.] এসে বলিলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ্! ইয়াহূদীরা এমন এমন বলছে। আমরা কি তাদের সাথে [হায়িয অবস্থায়] সহবাস করব না? রসুলূল্লাহ্ [সাঃআঃ] এর চেহারা মুবারক বিবর্ণ হয়ে গেল। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি তাদের উপর ভীষণ রাগান্বিত হয়েছেন। তারা [উভয়ে] বেরিয়ে গেল। ইতোমধ্যেই রসূলূল্লাহ্ [সাঃআঃ] এর কাছে দুধ হাদিয়া এলো। তিনি তাদেরকে ডেকে আনার জন্যে লোক পাঠালেন। [তারা এলে] তিনি তাদেরকে দুধ পান করালেন। তখন তারা বুঝল যে, তিনি তাদের উপর রাগ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬০১]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply