অপর ব্যক্তির উপর ঋণ ন্যস্ত করা ও কোন বস্তুর যামীন হওয়া

অপর ব্যক্তির উপর ঋণ ন্যস্ত করা ও কোন বস্তুর যামীন হওয়া

অপর ব্যক্তির উপর ঋণ ন্যস্ত করা ও কোন বস্তুর যামীন হওয়া >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৮ঃ অপর ব্যক্তির উপর ঋণ ন্যস্ত করা ও কোন বস্তুর যামীন হওয়া

পরিচ্ছেদ ০১. হাওলার [অপর ব্যক্তির উপর কর্জ ন্যস্ত করা] বৈধতা এবং তা গ্রহণ করা
পরিচ্ছেদ ০২. মৃত ব্যক্তির কর্জের জিম্মা নেওয়া জায়েয এবং তা পরিশোধ না করা পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি [শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না]
পরিচ্ছেদ ০৩. দরিদ্র মৃত ব্যক্তির ঋণের জিম্মা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের নেওয়া জায়েয
পরিচ্ছেদ ০৪. হাদ্দের ক্ষেত্রে জিম্মা নেওয়ার বিধান

পরিচ্ছেদ ০১. হাওলার [অপর ব্যক্তির উপর কর্জ ন্যস্ত করা] বৈধতা এবং তা গ্রহণ করা

৮৭৬ -আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম । যখন তোমাদের কাউকে [তার জন্যে] কোন ধনী ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয়, তখন সে যেন তা মেনে নেয় । আহমাদের অন্য বর্ণনায় আছেঃ হাওয়ালা করলে তা মেনে নেবে।” {৯৪১}

{৯৪১} বুখারি ২২৮৮, ২৪০০, মুসলিম ১৫৬৪, ১৩০৮, নাসায়ী ৪৬৮৮, ৪৬৯১, আবু দাউদ ৩৩৪৫, ইবনু মাযাহ ২৪৫৩, আহমাদ ৭২৯২, মুওয়াত্তা মালেক ১৩৭৯, দা ২৫৮৬।
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০২. মৃত ব্যক্তির কর্জের জিম্মা নেওয়া জায়েয এবং তা পরিশোধ না করা পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি [শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না]

৮৭৭ -জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, আমাদের কোন একজন সাহাবী ব্যক্তি ইনতিকাল করায় আমরা তার গোসল দিলাম, খুশবু লাগালাম, কাফন পরালাম । তারপর তার লাশ নবী [সাঃআঃ] -এর নিকটে হাজির করলাম । আমরা বললাম, তার জানাযা পড়ান । তিনি দু-এক পা এগিয়ে আসলেন, অতঃপর বলিলেন, তার কি কোন ঋণ রহিয়াছে? আমরা বললাম, দুটি দীনার [ঋণ আছে] । এ কথা শুনে নবী [সাঃআঃ] ফিরে গেলেন । আর কাতাদাহ দীনার [স্বর্ণমুদ্রা] দু`টির ঋণ পরিশোধের জিম্মা নিলেন । তারপর আমরা নবী [সাঃআঃ] -এর নিকটে এলাম, আবু কাতাদাহ বলিলেন, আমার জিন্মায় ঐ দীনার দুটি রইলো । তৎপর নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে ঋণ দাতার হক এবারে সাব্যস্ত হল এবং মৃতব্যক্তি ঋণ থেকে মুক্ত হল তো? আবু কাতাদাহ উত্তরে বলিলেন, জি-হাঁ । তারপর নবী [সাঃআঃ] মৃত সাহাবীর জানাযার সলাত আদায় করিলেনম । ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ্‌ বলেছেন। [৯৪২]

{৯৪২} মুসলিম ৪৬৭. আবু দাউদ ২৯৫৪, ২৯৫৬, ৩৩৪৩, নাসায়ী ১৫৭৮, ১৯৬২, ইবনু মাজহ ২৪১৬, আহমাদ ১৩৭৪৪, ১৩৯২৪, ইবনু হিব্বান ৩০৬৪ ।
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস,

পরিচ্ছেদ ০৩. দরিদ্র মৃত ব্যক্তির ঋণের জিম্মা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের নেওয়া জায়েয

৮৭৮ -আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] -এর নিকট যখন কোন ঋণী ব্যক্তির জানাযা উপস্থিত করা হত তখন তিনি জিজ্ঞেস করিতেন, সে তার ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত মাল রেখে গেছে কি? যদি তাকে বলা হত যে, সে তার ঋণ পরিশোধের মতো মাল রেখে গেছে তখন তার জানাযার সলাত আদায় করিতেন । নতুবা বলিতেন, তোমরা তোমাদের সাথীর জানায আদায় করে নাও । পরবর্তীতে যখন আল্লাহ তার বিজয়ের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন, তখন তিনি বলিলেন, আমি মুমিনদের জন্য তাহাদের নিজের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী । তাই কোন মু`মিন ঋণ রেখে মারা গেলে সে ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার । আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায়, সে সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের জন্য । {৯৪৩}
বুখারির অন্য এক বর্ণনায় আছে- “যে মরে যাবে আর ঋণ পরিশোধের মত কিছু রেখে না যায়।” {৯৪৪}

{৯৪৩} বুখারি এবং মুসলিমের বর্ণনায় আরো রহিয়াছে, নবী [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি মাল রেখে গেল, তা তার ওয়ারিশদের । {৯৪৪} বুখারি ৪৭৬, ২১৩৮, ২২৬৩, আবু দাউদ ৪০৮৩, আহমাদ ২৫০৯৮। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৪. হাদ্দের ক্ষেত্রে জিম্মা নেওয়ার বিধান

৮৭৯ -আইব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি তাহাঁর পিতা হইতে, তিনি তার দাদা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, হদ্‌-এর ব্যাপারে কোন জিম্মাদারী নেই । -বাইহাকি দুর্বল সানাদে । {৯৪৫}

{৯৪৫} হাদিসটি মুনকার, তাওযিহুল আহকাম ৪/৫৩০ পৃঃ -হাদিসের তাহকিকঃ মুনকার

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply