সালম [অগ্রিম] ক্রয় বিক্রয়, ঋণ ও বন্ধক

সালম [অগ্রিম] ক্রয় বিক্রয়, ঋণ ও বন্ধক

 সালম [অগ্রিম] ক্রয় বিক্রয়, ঋণ ও বন্ধক >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৫ঃ সালম [অগ্রিম] ক্রয় বিক্রয়, ঋণ ও বন্ধক

পরিচ্ছেদ ০১. অগ্রিম বেচা কেনার বৈধতা এবং এ শর্তসমূহের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ০২. মানুষের সম্পদ নষ্ট করা অথবা ফেরত দেয়ার উদ্দেশ্যে গ্রহণকারীর প্রতিদান
পরিচ্ছেদ ০৩. পণ্য বিক্রয় করার বিধান
পরিচ্ছেদ ০৪. বন্ধক রাখা জিনিসের বন্ধক গ্রহীতার উপকার নেয়ার বিধান
পরিচ্ছেদ ০৫. বন্ধকদাতা কর্জ আদায়ে অপারগতার কারণে বন্ধকগ্রহীতা বন্ধক রাখা জিনিসের হকদার হইবে না
পরিচ্ছেদ ০৬. কর্জ করা এবং তা পরিশোধের সময় অতিরিক্ত দেওয়া জায়েয
পরিচ্ছেদ ০৭. ঋণে লাভ বা উপস্বত্ত লাভের বিধান

পরিচ্ছেদ ০১. অগ্রিম বেচা কেনার বৈধতা এবং এ শর্তসমূহের বর্ণনা

৮৫৪ -ইবনু `আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] যখন মাদীনায় আগমন করেন তখন লোকেরা এক বা দু` বছরের বাকীতে খেজুর সলম [অগ্রিম বিক্রি পদ্ধতিতে] বেচা-কেনা করত। এতে তিনি বলিলেন, যে ব্যক্তি খেজুরে সলম করিতে চায় সে যেন নির্দিষ্ট মাপে এবং নির্দিষ্ট ওজনে সলম করে। বুখারিতে `ফলের` স্থলে `যে কোন বস্তুর` কথা উল্লেখের রয়েছে। {৯১২}

{৯১২} বুখারি ২২৩৯, ২২৪১, ২২৫৩, মুসলিম ১৬০৪, তিরমিজি ১৩১১, ৪৬১৬, আবূ দাঊদ ৩৪৬৩, ইবনু মাযাহ ২২৮০, আহমাদ ১৮৭১, ১৯৩৮, ২৫৪৪, দারেমী ২৫৮৩। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৫৫ -আবদুর রহমান বিন আব্‌যা ও `আবদুল্লাহ বিন আবী আওফা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁরা বলেছেন, আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] -এর সঙ্গে [জিহাদে] আমরা মালে গনীমত লাভ করতাম, আমাদের কাছে সিরিয়া হইতে কৃষকগণ আসলে আমরা তাহাদের সঙ্গে গম, যব ও যায়তুনে সলম করতাম।

অন্য একটি বর্ণনায় আছে- এবং তেলে-নির্দিষ্ট মেয়াদে। তিনি {মুহাম্মাদ ইবনু আবূ মুজালিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]} বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাহাদের নিকট সে সময় ফসল মওজুদ থাকত, কি থাকত না? তাঁরা উভয়ে বলিলেন, আমরা এ বিষয়ে তাহাদেরকে জিজ্ঞেস করিনি। {৯১৩}

{৯১৩} বুখারি ২২৫৪, ২২৫৫, নাসায়ী ৪৬১৪, ৪৬১৫, আবূ দাঊদ ৩৪৬৪, ৩৪৬৬, ইবনু মাযাহ ২২৮২, আহমাদ ১৮৬৩৩, ১৮৯০৬। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০২. মানুষের সম্পদ নষ্ট করা অথবা ফেরত দেয়ার উদ্দেশ্যে গ্রহণকারীর প্রতিদান

৮৫৬ -আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের মাল [ধার] নেয় পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা`আলা তা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে তা নেয় বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা`আলা তাকে ধ্বংস করেন। {৯১৪}

{৯১৪} বুখারি ২৩৮৭, ইবনু মাযাহ ১৪১১, আহমাদ ৮৫১৬, ৫১৩৫। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৩. পণ্য বিক্রয় করার বিধান

৮৫৭ -আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! অমুক [ইয়াহূদী] লোকের কাপড় সিরিয়া থেকে এসেছে, আপনি যদি তার নিকট লোক পাঠান তাহলে দু`খানা কাপড় বাকীতে এ কথার উপর আনবেন যে, পরে সক্ষম হলে তার দাম দিয়ে দিবেন। ফলে তিনি তার কাছে লোক পাঠালেন কিন্তু সে তা দিলনা। -এ হাদীসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য [সিকা]। {৯১৫}

{৯১৫} তিরমিজি ১২১৩, নাসায়ী ৪৬২৮, হাকিম ২য় খণ্ড ২৩-২৪ পৃষ্ঠা। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৪. বন্ধক রাখা জিনিসের বন্ধক গ্রহীতার উপকার নেয়ার বিধান

৮৫৮ -আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, বাহনের পশু বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে তাতে আরোহণ করা যাবে। তদ্রূপ দুধেল প্রাণী বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে দুধ পান করা যাবে। [মোট কথা] আরোহণকারী এবং দুধ পানকারীকেই খরচ বহন করিতে হইবে। {৯১৬}

{৯১৬} বুখারি ২৫১১, ২৫১২, তিরমিজি ১২৫৪, আবূ দাউদ ৩৫২৬, ইবনু মাযাহ ২৪৪০, আহমাদ ৭০৮৫, ৯৭৬০। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৫. বন্ধকদাতা কর্জ আদায়ে অপারগতার কারণে বন্ধকগ্রহীতা বন্ধক রাখা জিনিসের হকদার হইবে না

৮৫৯ -আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন- বন্ধক রাখা বস্তু থেকে তার মালিককে বঞ্চিত করা যাবে না। যা লাভ হইবে তা তার এবং লোকসানও তাকেই নিতে হইবে। -হাদীসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য কিন্তু আবূ দাউদ ও অন্য মুহাদ্দিসের নিকটে এটা মুরসাল হাদিস বলে সংরক্ষিত। {৯১৭}

{৯১৭} হাকিম ২য় খণ্ড ৫১ পৃষ্ঠা, মারাসীল আবূ দাউদ ১৮৭ ইবনু হাজার আসকালানী আত্-তালখীসুল হাবীর ৩/১০০০ গ্রন্থে বলেনঃ বলা হয়ে থাকে যে, [আরবী] কথাটি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের নিজের কথা। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৪০৬ গ্রন্থে মুরসাল বলেছেন, তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ২৮১৮ গ্রন্থে মুনকার জঈফ মন্তব্য করেন, আত তালীকাতুর রযীয়াহ ২/৪৮১ গ্রন্থে বলেন, সনদটি সহিহ মুসলিমের শর্তভিত্তিক। ইমাম দারাকুতনী তাহাঁর সুনান ২/৬১৬ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আবূ আসমাহ ও বাশার রহিয়াছে দু`জনই দুর্বল রাবী। মুহাম্মদ বিন আমর হইতে বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়। ইমাম যাহাবী তানকীহুত তাহকীক ২/১০৭ গ্রন্থে বলেন [আরবী] এর সনদে আবদুল্লাহ বিন নাসর আল উসাম নির্ভরযোগ্য নয়। হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ০৬. কর্জ করা এবং তা পরিশোধের সময় অতিরিক্ত দেওয়া জায়েয

৮৬০ -আবূ রাফি` [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] এক ব্যক্তির নিকট থেকে একটা অল্প বয়সের উট {৯১৮} ধার নিয়েছিলেন। তারপর তাহাঁর নিকটে যাকাতের উট এসে গেলে তিনি আবূ রাফে`কে ঐরুপ অল্প বয়সের একটি [বাকারাহ্] উট দিয়ে দিতে আদেশ দিলেন। আবূ রাফে` বলিলেন, আমি সপ্তম বছরে পদার্পণকারী রাবায়ী উত্তম উট ব্যতীত পাচ্ছি না। {৯১৯} নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, তাকে ভাল উটই দিয়ে দাও। কারণ লোকেদের মধ্যে অবশ্য ঐ ব্যক্তি উত্তম যিনি ঋণ পরিশোধে উত্তম। [মুসলিম] {৯২০}

{৯১৮} অল্প বয়সের উটকে [আরবী] বাকর বলা হয়। {৯১৯} মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, [আরবী] আর [আরবী] বলা হয় ঐ উটকে যার বয়স ছয় বছর পূর্ণ হয়ে সাত বছরে পড়েছে। [আরবী] বলা হয় ভালো উটকে। {৯২০} মুসলিম ১৬০০, তিরমিজি ১৩১৮, নাসায়ী ৪৬১৭, আবূ দাউদ ৩৩৪৬, ইবনু মাযাহ ২২৮৫, আহমাদ ২৬৬৪০, মুওয়াত্তা মালেক ১৩৮৪, দারেমী ২৫৬৫। মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় রহিয়াছে, নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে সেই ব্যক্তি যিনি কর্জ পরিশোধে উত্তম। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৭. ঋণে লাভ বা উপস্বত্ত লাভের বিধান

৮৬১ -আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, লাভ বা উপস্বত্ত লাভের এরূপ সমস্ত ঋণই সুদে গণ্য হইবে। হাদিসটিকে হারিস বিন আবূ উসামাহ বর্ণনা করিয়াছেন; এর সানাদ সাকিত বা অগ্রহণযোগ্য বা বাতিল। {৯২১}

{৯২১} ইমাম শওকানী আল ফাতহুর রব্বানী ৭/৩৬৬৬, নাইলুল আওত্বার ৫/৩৫১ ইমাম সনআনী সুবুলুস সালাম ৩/৮২, ইবনু হাজার আসকালানী আত্-তালখীসুল হাবীর ৩/৯৯৭ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে সাওয়ার বিন মাসআব [আল হামদানী] মাতরূক। ইমাম সুয়ূত্বী আল জামেউস সগীর ৬৩৩৬ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। বিন বায মাজমু ফাতাওয়া ১৯/২৯৪ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন, তবে মাজমু ফাতাওয়া ২৫/২৫৬ গ্রন্থে বলেন, এটি দুর্বল তবে অর্থগত দিক থেকে সহিহ। সালেহ আল উসাইমীন বুলুগুল মারামের শরাহ ৪/১০২, গ্রন্থে বলেন, `এটি বিশুদ্ধ নয়` শারহুল মুমতি ৯/১০৬ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৩৯৮, যঈফুল জামে ৪২৪৪ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। তবে ইরওয়াউল গালীল ১৩৯৭ গ্রন্থে ইবনু আব্বাস হইতে বর্ণিত হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৮৬২ -ফুযালাহ বিন `উবাইদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

বাইহাকিতে দুর্বল সূত্রে এই হাদিসটির একটি শাহিদ [সমর্থক হাদিস] রহিয়াছে। {৯২২}

{৯২২} জঈফ। বাইহাকি ৫ম খণ্ড ৩৫০ পৃষ্ঠা। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৮৬৩ -আবদুল্লাহ বিন সালাম [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

বুখারিতে একটা মাওকূফ হাদিস রহিয়াছে। {৯২৩}

{৯২৩} বুখারি ৩৮১৪, ৭৩৪২।

আবূ বুরদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি মদীনাহ্‌য় গেলাম; আবদুল্লাহ ইব্‌নু সালামের সাথে আমার দেখা হল। তিনি আমাকে বলিলেন, তুমি আমাদের এখানে আসবে না? তোমাকে আমি খেজুর ও ছাতু খেতে দেব এবং একটি ঘরে থাকতে দেব। অতঃপর তিনি বলিলেন, তুমি এমন স্থানে [ইরাকে] বসবাস কর, যেখানে সুদের কারবার খুব ব্যাপক। যখন কোন মানুষের নিকট তোমার কোন প্রাপ্য থাকে আর সেই মানুষটি যদি তোমাকে কিছু ঘাস, খড় অথবা খড়ের ন্যায় সামান্য কিছুও হাদীয়া পেশ করে তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করো না, যেহেতু তা সুদের অন্তর্ভুক্ত।

হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply