নতুন লেখা

ঋণের কিছু অংশ ছেড়ে দেয়া মুস্তাহাব

ঋণের কিছু অংশ ছেড়ে দেয়া মুস্তাহাব

ঋণের কিছু অংশ ছেড়ে দেয়া মুস্তাহাব >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪. অধ্যায়ঃ ঋণের কিছু অংশ ছেড়ে দেয়া মুস্তাহাব

৩৮৭৩

আবু সাঈদ খুদ্‌রী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সময়ে এক ব্যক্তির ক্রয় করা ফল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক ঋণী হয়ে পড়ে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা তাকে সাহায্য কর। লোকজন তাকে সাহায্য করিল, কিন্তু প্রাপ্ত ঋণ পরিশোধের পরিমাণ হলো না। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার পাওনাদারদের বলিলেন, যা তোমরা পেয়েছ তা গ্রহণ কর; এর অতিরিক্ত আর পাবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৮৩৭, ইসলামিক সেন্টার-৩৮৩৬]

৩৮৭৪

বুকায়র ইবনিল আশাজ্জ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

বুকায়র ইবনিল আশাজ্জ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উক্ত সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৮৩৮, ইসলামিক সেন্টার-৩৮৩৭]

৩৮৭৫

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদা দরজার নিকটে দুব্যক্তির উচ্চ কণ্ঠে ঝগড়া শুনতে পান। তাদের একজন অন্যজনের নিকট কোন এক বিষয়ে অব্যাহতি দেয়ার ও সদয় হওয়ার আবেদন করছে। আর অপরজন বলছে যে, আল্লাহ্‌র শপথ! আমি তা করিতে পারব না। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বের হয়ে তাদের দুজনের কাছে গেলেন এবং বলিলেন, পুণ্যের কাজ না করার জন্যে আল্লাহ্‌র নামে শপথকারী কোথায়? একজন বলিল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি। এরপর তিনি বলিলেন, সে যেটি চায় করিতে পারে।{১৭} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৮৩৯, ইসলামিক সেন্টার-৩৮৩৮]

{১৭} সে যেটি চায় করিতে পারে-এর অর্থ হলো সাওয়াবের কাজে কোন জোর নেই। তবে হাদীসের মর্মবাণী হলো, ভাল কাজ না করার শপথ অপছন্দনীয়, তবে কেউ এরূপ শপথ করে বসলে উত্তম হলো, শপথ [কসম] ভেঙ্গে ফেলা এবং কাফফারা আদায় করে দেয়া। [সহীহ মুসলিম- মুখতাসার শারহে, আল্লামা ওয়াহীদুজ্জামান, ৪ র্থ খণ্ড, ১৮৮ পৃঃ]

৩৮৭৬

আবদুল্লাহ ইবনি কাব ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর আমলে একদা মাসজিদের মধ্যে ইবনি আবু হাদরাদ নামীয় এক ব্যক্তির নিকট স্বীয় প্রাপ্য ঋণের তাগাদা করেন। উভয়ের আওয়াজ উচ্চ হইতে থাকে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সে আওয়াজ ঘর থেকে শুনতে পান এবং ঘরের পর্দা উঠিয়ে বাইরে তাদের নিকট চলে আসেন। তিনি কাবকে ডেকে বলিলেন, হে কাব! তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি উপস্থিত আছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হাতের ইশারায় তাকে তার প্রাপ্য ঋণের অর্ধভাগ ক্ষমা করে দিতে বলিলেন। কাব [রাদি.] বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি তাই করলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [ঋণ গ্রহীতাকে] বলিলেন, যাও অবশিষ্ট [বাকী অর্ধেক] পরিশোধ করো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৮৪০, ইসলামিক সেন্টার-৩৮৩৯]

৩৮৭৭

কাব ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি একদিন আলী ইবনি আবু হাদরাদের নিকটে তার প্রাপ্য ঋণের তাগাদা করেন। এরপর তিনি ইবনি ওয়াহ্‌বের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৮৪১, ইসলামিক সেন্টার-৩৮৪০]

৩৮৭৮

কাব ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আবদুল্লাহ ইবনি আবু হাদরাদ আসলামীর নিকট কিছু মাল পাওনা ছিলেন। তিনি তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং শক্ত তাগাদা দেন। উভয়ে পরস্পর কথাবার্তা বলেন এবং এক পর্যায়ে শোরগোল সৃষ্টি হয়। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উভয়ের কাছে এলেন এবং কাবকে ডেকে হাতের ইশারায় বলিলেন , অর্ধেক। সুতরাং কাব [রাদি.] ঋণের অর্ধেক গ্রহণ করেন এবং অর্ধেক পরিত্যাগ করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৮৪১, ইসলামিক সেন্টার-৩৮৪০]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: