উসমান ইবনি আফ্‌ফান [রাদি.]-এর ফযিলত

উসমান ইবনি আফ্‌ফান [রাদি.]-এর ফযিলত.

উসমান ইবনি আফ্‌ফান [রাদি.]-এর ফযিলত >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩. অধ্যায়ঃ উসমান ইবনি আফ্‌ফান [রাদি.]-এর ফযিলত

৬১০৩. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমার ঘরে শুয়ে ছিলেন, তাহাঁর উরু কিংবা পায়ের নলা উন্মুক্ত ছিল। আবু বকর [রাদি.] এসে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থাতেই কথোপকথন করিলেন। তারপর উমর [রাদি.] অনুমতি চাইলে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থায়ই কথাবার্তা বলিলেন। উসমান [রাদি.] অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] উঠে বসলেন এবং তাহাঁর কাপড় ঠিক করিলেন। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ বলেন, এ বিষয়টি একই দিনে ঘটেছে বলে আমি দাবী করি না। অতঃপর উসমান [রাদি.] এসে কথা বলে চলে যাওয়ার পর আয়িশাহ্ [রাদি.] বলিলেন, আবু বকর [রাদি.] আসলেন, আপনি তাকে কোন গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করিলেন না, উমর [রাদি.] আসলেন আপনি তাকেও কোন গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করিলেন না। উসমান [রাদি.] প্রবেশ করিতেই আপনি উঠে বসলেন এবং জামা ঠিক করে নিলেন। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেনঃআমি কি সে লোককে লজ্জা করবো না, ফেরেশ্তারা পর্যন্ত যাঁকে দেখলে লজ্জা পান।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯২, ইসলামিক সেন্টার- ৬০৩২]

৬১০৪. আয়িশাহ্ ও উসমান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু বকর [রাদি.] রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তখন নিজের বিছানায় আয়িশার চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে ছিলেন। তিনি আবু বকরকে অনুমতি দিলেন। আর তিনি এ অবস্থায়ই রইলেন, আবু বকর [রাদি.] তাহাঁর প্রয়োজন শেষে চলে গেলেন। তারপর উমর [রাদি.] অনুমতি চাইলে তঁকে অনুমতি দিলেন এবং রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] এ অবস্থায়ই রইলেন। উমর [রাদি.] তাহাঁর কাজ সেরে চলে গেলেন। উসমান [রাদি.] বলেন, তারপর আমি অনুমতি চাইলাম, তিনি উঠে বসে পড়লেন এবং আয়িশাহ্কে বলিলেন, ভালো মতো তোমার শরীরের কাপড় ঠিক করে নাও। আমি আমার কাজ শেষ করে চলে এলে আয়িশাহ্ [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! কি ব্যাপার, আবু বকর ও উমর [রাদি.] আসলে আপনাকে এমন ব্যস্ত হইতে দেখলাম না, যেমন উসমান আসতেই আপনি ব্যতিব্যস্ত হলেন। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেনঃউসমান [রাদি.] বড়ই লাজুক পুরুষ। তাই আমি ভাবলাম, এ অবস্থায় তাঁকে আসতে বললে হয়ত সে তাহাঁর প্রয়োজন আমার নিকট উত্থাপন করিতে পারবে না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬০৩৩]

৬১০৫.উসমান ও আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু বকর সিদ্দীক [রাদি.] রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, অবশিষ্টাংশ যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে উকায়ল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬০৩৪]

৬১০৬. আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একবার রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] মাদীনার একটি বাগিচায় হেলান দিয়ে বসাবস্থায় একটি লাকড়ি কাদা মাটিতে গাঢ়তে চেষ্টা করছিলেন। এমনি মুহূর্তে কেউ দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেনঃখুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখি তিনি আবু বকর [রাদি.। আমি দরজা খুললাম এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তারপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেনঃখুলে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখলাম তিনি উমর [রাদি.]। দরজা খুলে দিলাম এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তারপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তখন রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] সোজা হয়ে বসে পড়লেন এবং বললেনঃদরজা খুলে দাও এবং তাঁকে আসন্ন বিপদসহ জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি গিয়ে দেখি তিনি উসমান ইবনি আফ্ফান [রাদি.]। আমি দরজা উন্মুক্ত করে তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম এবং রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] যা বলেছেন তার বর্ণনা দিলাম। উসমান [রাদি.] বললেনঃহে আল্লাহ! আমাকে ধৈর্য দান করো। আল্লাহর নিকট আমি সাহায্য কামনা করছি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬০৩৫]

৬১০৭. আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] একটি বাগিচায় গেলেন এবং আমাকে দরজায় পাহারা দিতে বলিলেন, তারপর উসমান ইবনি আফ্ফান [রাদি.] বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস রিওয়ায়াত করেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬০৩৬]

৬১০৮. আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তাহাঁর গৃহ থেকে ওযূ সেরে বেরিয়ে বলেন, আজকের দিন আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে থাকবো। তিনি মসজিদে আসলেন এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলেন। লোকেরা বলিল, তিনি এ দিকে গিয়েছেন। আবু মূসা [রাদি.] লোকদের নিকট প্রশ্ন করে তাহাঁর পদাংক অনুসরণ করে বিরি আরীসে গিয়ে পৌঁছলেন। আবু মূসা [রাদি.] বলেন, আমি চৌকাঠে বসলাম। এর দরজাটি ছিল খেজুরের ডালে। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তাহাঁর কাজ শেষ করে অযূ করলে আমি তাহাঁর নিকট গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আরীস কূপের কিনারার মাঝখানে উপবিষ্ট হলেন। তাহাঁর পা দুটো হাঁটু পর্যন্ত উন্মুক্ত করে কুপের ভেতর ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিয়ে চৌকাঠের কাছে গিয়ে বসে পড়লাম আর বললাম, অবশ্যিই আমি আজ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর পাহারাদার হবো। আবু বকর [রাদি.] এসে দরজায় ধাক্কা দিলে আমি বললাম, কে? বলিলেন, আবু বকর। আমি বললাম, দাঁড়ান। এরপর রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর নিকট গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আবু বকর [রাদি.] এসেছেন এবং অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেনঃতাঁকে আসার অনুমতি এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি এগিয়ে গিয়ে আবু বকরকে বললাম, প্রবেশ করুন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। আবু বকর [রাদি.] প্রবেশ করে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর ডান পাশে কূপে পা লটকিয়ে বসলেন আর পা দুটো হাঁটু পর্যন্ত উম্মুক্ত করিলেন। যেমনটি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] করিয়াছেন। এরপর আমি প্রত্যাবর্তন শেষে বসে পড়লাম। আমি আমার ভাইকে রেখে এসেছিলাম, তিনি ওযূ করছিলেন। তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবেন। আমি মনে করলাম, আল্লাহ তাআলা যদি তাহাঁর মঙ্গল চান তাহলে তাঁকে এখনই এনে দেবেন। এমন সময় এক লোক দরজা নাড়ল। বললাম, কে? উত্তর দিলো, উমর [রাদি.] ইবনিল খাত্তাব। বললাম, দাঁড়ান! পরে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে তাঁকে সালাম দিয়ে বললাম, উমর [রাদি.] এসেছেন, তিনি প্রবেশের অনুমতি চান। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেনঃঅনুমতি দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। উমারের নিকট এসে বললাম, আসুন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আপনাকে জান্নাতের সুখবর দিচ্ছেন। উমর [রাদি.] প্রবেশ করে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর বামপাশে কূপে পা ঝুলিয়ে বসলেন। আমি ফিরে এসে বসে পড়লাম, বললাম, আল্লাহ যদি আমার ভাইয়ের ভাল চান তাহলে তাঁকে এনে দেবেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে দরজা নাড়ল। আমি বললাম, কে? বলিল, উসমান ইবনি আফ্ফান। বললাম, দাঁড়ান! আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে সংবাদ দিলাম। তিনি বললেনঃতাঁকে প্রবেশ করিতে দাও এবং আগত বিপদের সঙ্গে জান্নাতের সুখবর দাও। আমি এসে বললাম, প্রবেশ করুন। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আপনাকে একটি আগত বিপদের সঙ্গে জান্নাতের সুখবর দিচ্ছেন। উসমান [রাদি.] প্রবেশ করে দেখলেন কূপের একপাশ ভরাট হয়ে আছে। তিনি তাঁদের মুখোমুখি হয়ে কূপের অন্য পাশে বসলেন।

শারীক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সাঈদ ইবনি ইবনি মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি এ বৈঠকের বিশ্লেষণ করলাম যে, এ হচ্ছে তাদের কবরের অবস্থান।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬০৩৭]

৬১০৯. আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর সন্ধানে বের হয়ে দেখলাম তিনি বাগিচার দিকে গিয়েছেন। আমি একটি বাগিচায় গিয়ে দেখি তিনি কুয়ার চাকের উপর পা দুটো ঝুলিয়ে বসে আছেন, তাহাঁর পা দুটো হাঁটু পর্যন্ত উন্মুক্ত। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বোল্লিখিত হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করিলেন। এখানে সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর কথা আমি বিশ্লেষণ করলাম যে, তাদের কবরও এভাবে কথাটি উল্লেখ নেই

। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬০৩৮]

৬১১০. আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তাহাঁর কোন প্রয়োজনে মদীনার এক বাগিচায় গেলেন। আমি তাহাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করলাম। তারপর সুলাইমান ইবনি বিলাল-এর হাদীসের অবিকলভাবে তিনি [রাবী] এ হাদীস রিওয়ায়াত করেন। এ হাদিসে এও বর্ণনা রয়েছে যে, ইবনি মুসাইয়্যিব [রাদি.] বলেন, আমি এর বিশ্লেষণ করলাম যে, তা হচ্ছে কবরের নিদর্শন। সকলে একত্রে আর পৃথকভাবে আছেন উসমান [রাদি.]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬০৩৯]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply