হজ্জের মাসসমূহে উমরাহ্‌ পালন করা জায়িয

হজ্জের মাসসমূহে উমরাহ্‌ পালন করা জায়িয

হজ্জের মাসসমূহে উমরাহ্‌ পালন করা জায়িয >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩১. অধ্যায়ঃ হজ্জের মাসসমূহে উমরাহ্‌ পালন করা জায়িয

২৮৯৯

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ জাহিলী যুগে লোকেরা হজ্জের মাসসমূহে উমরাহ্ পালন করাকে পৃথিবীর বুকে সর্বাপেক্ষা বড় অপরাধ মনে করত এবং মুহার্রম মাসকে সফর মাস হিসেবে গণনা করত। তারা বলত, যখন উটের পিঠ ভালো হয়ে যাবে, হাজীদের পদচিহ্ন লুপ্ত হয়ে যাবে এবং সফর মাস অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন যে ব্যক্তি উমরাহ্ করিতে চায়, তার জন্য তা করা জায়িয হইবে। নবী [সাঃআঃ] ও তাহাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বেঁধে যিলহজ্জের চার তারিখে মাক্কায় পৌঁছলে তিনি তাদের হজ্জের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশ তাদের কাছে গুরুতর কাজ বলে মনে হল। অতএব তারা বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! কিরূপে ইহরামমুক্ত হব? তিনি বলিলেন, সম্পূর্ণরূপে ইহরামমুক্ত হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৭৪]

২৯০০

আবুল আলিয়াহ্ আল বার্রা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছেন : রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। তিনি যিলহজ্জ মাসের ৪ তারিখের পর [মক্কা] পৌঁছলেন এবং ফজরের নামাজ আদায় করিলেন। নামাজ শেষে তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করিতে চায়, সে তা করিতে পারে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৭৫]

২৯০১

শুবাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাওহ্ ও ইয়াহ্ইয়া ইবনি কাসীর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর বর্ণনায় নাস্র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর অনুরূপ কথা আছে : “রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন।” আবু শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর বর্ণনায় আছে : “আমরা হজ্জের ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে রওনা হলাম।” তাদের সকলের বর্ণনায় আছে : “রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আল বাত্বহা নামক স্থানে ফজরের নামাজ আদায় করিলেন।” কিন্তু আল জাহযামী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর বর্ণনায় এ কথার উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৭৬]

২৯০২

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] ও তাহাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বেঁধে [যিলহজ্জ মাসের প্রথম] দশ দিনের চারদিন অতিবাহিত হওয়ার পর মাক্কায় উপনীত হন। তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিলেন, তারা যেন এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৭৭]

২৯০৩

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যি তুওয়া নামক স্থানে ফজরের নামাজ আদায় করিলেন। যিলহজ্জ মাসের চারদিন অতিক্রান্ত হবার পর [মাক্কায়] পৌঁছলেন এবং তাহাঁর সাহাবীগণের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন নিজেদের ইহরামকে উমরায় পরিণত করে- কিন্তু যার সাথে কুরবানীর পশু আছে, সে ব্যতীত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৭৮]

২৯০৪

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এই সে উমরাহ্ যা থেকে আমরা ফায়দাহ উঠিয়েছি। অতএব যার সাথে কুরবানীর পশু নেই- সে যেন সম্পূর্ণরূপে ইহরাম খুলে ফেলে। কেননা উমরাকে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত হজ্জের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৮০, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৭৯]

২৯০৫

আবু জামরাহ্‌ আয্‌ যুবাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি তামাত্তু হজ্জ করলাম। কতিপয় লোক আমাকে তা করিতে নিষেধ করিল। আমি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে তা করার নির্দেশ দিলেন। এরপর আমি বায়তুল্লাহ্‌তে আসলাম এবং ঘুমালাম।

স্বপ্নে আমার কাছে এক ব্যক্তি এসে বলিল, উমরা কবূল হয়েছে এবং হজ্জও কবূল হয়েছে। আমি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে এ স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি বলিলেন,

 اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার! এতো আবুল ক্বাসিম রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সুন্নাত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৮১, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৮০]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply