নবী [সাঃআঃ]-এর উমরার সংখ্যা ও সময়

নবী [সাঃআঃ]-এর উমরার সংখ্যা ও সময়

নবী [সাঃআঃ]-এর উমরার সংখ্যা ও সময় >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩৫. অধ্যায়ঃ নবী [সাঃআঃ]-এর উমরার সংখ্যা ও সময়

২৯২৩

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] চারবার উমরাহ্ করিয়াছেন এবং হজ্জের সাথের উমরাহ্ ব্যতীত সকল উমরাহ্ই যুল ক্বাদায় করেন। [১] হুদায়বিয়াহ্ থেকে বা হুদায়বিয়ার সময়ের উমরাহ্ যুল ক্বাদাহ্ মাসে, [২] পরবর্তী বছরের উমরাহ্ যুল ক্বাদাহ্ মাসে, [৩] জিরানাহ্ থেকে কৃত উমরাহ, যেখানে হুনায়নের গনীমাতের সম্পদ বণ্টন করা হয়েছিল, সে উমরাহ্ যুল ক্বাদাহ্ মাসে এবং [৪] আর একটি উমরাহ্ যা হজ্জের সাথে করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৯৯. ইসলামিক সেন্টার- ২৮৯৮]

২৯২৪

ক্বাতাদাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আনাস [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কতবার হজ্জ করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, একবার এবং উমরাহ্‌ করিয়াছেন চারবার।… অবশিষ্ট বর্ণনা হাদ্দাদের হাদীসের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৯০০, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৯৯]

২৯২৫

আবু ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি যায়দ ইবনি আরক্বাম [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে থেকে কয়বার যুদ্ধ করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, সতেরবার। রাবী বলেন, যায়দ ইবনি আরক্বাম [রাদি.] আমাকে আরও বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঊনিশবার যুদ্ধ করিয়াছেন এবং তিনি হিজরাত করার পরে একবার হজ্জ করিয়াছেন, তা হল বিদায় হজ্জ। আবু ইসহাক্ব আরও বলেন, তিনি মাক্কাহ্ থেকেও একবার হজ্জ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৯০১, ইসলামিক সেন্টার- ২৯০০]

২৯২৬

উরওয়াহ্‌ ইবনি যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি ও ইবনি উমর [রাদি.] আয়িশা [রাদি.]-এর ঘরে ঠেস দিয়ে বসেছিলাম এবং আমরা মিসওয়াক দিয়ে তার দাঁত মাজার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবু আবদুর রহমান [ইবনি উমর]! নবী [সাঃআঃ] কি রজব মাসে উমরাহ্‌ করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। আমি [উরওয়াহ্‌] বললাম, হে আম্মা! আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন আবু আবদুর রহমান কী বলছেন? তিনি বলিলেন, সে কী বলছে? আমি বললাম, তিনি বলছেন, নবী [সাঃআঃ] রজব মাসে উমরাহ্‌ করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, আল্লাহ তাআলা আবু আবদুর রহমানকে ক্ষমা করুন। আমার জীবনের শপথ, তিনি রজব মাসে কখনও উমরাহ্‌ করেননি। আর তিনি যখনই উমরাহ্‌ করিয়াছেন, অবশ্যই আবু আবদুর রহমান তাহাঁর সঙ্গে ছিল।

রাবী বলেন, ইবনি উমর [রাদি.] কথাগুলো শুনছিলেন, কিন্তু তিনি হ্যাঁ-ও বলেননি এবং না-ও বলেননি, বরং নীরব ছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৯০২, ইসলামিক সেন্টার- ২৯০১]

২৯২৭

মুজাহিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ও উরওয়াহ্ ইবনি যুবায়র মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] আয়িশার হুজরায় বসা ছিলেন এবং লোকেরা মসজিদে চাশ্‌তের নামাজ আদায় করছিল। আমরা এদের নামাজ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, তা বিদআত। তাকে উরওয়াহ্ বলিলেন, হে আবু আবদুর রহমান! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কতবার উমরাহ্ করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, চারটি উমরাহ্, এর একটি রজব মাসে। আমরা তার কথা অসত্য মনে করা ও তা রদ করা অপছন্দ করলাম। আমরা হুজরাহ থেকে আয়িশা [রাদি.]-এর মিসওয়াক করার শব্দ শুনতে পেলাম। উরওয়াহ্ বলিলেন, হে উম্মুল মুমিনীন! আবু আবদুর রহমান কী বলেছেন তা কি আপনি শুনছেন না? তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, সে কী বলে? উরওয়াহ্ বলিলেন, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] চারবার উমরাহ্ করিয়াছেন, এর একটি ছিল রজব মাসে। আয়িশা [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহ তাআলা আবু আবদুর রহমানকে রহম করুন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখনই উমরাহ্ করিয়াছেন, সে তার সাথেই ছিল। তিনি কখনও রজব মাসে উমরাহ্ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৯০৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৯০২]

By najmulislam

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply