উমরার নিয়ম – রমাদান, যিলকদ, রজব মাসের উমরা

উমরার নিয়ম – রমাদান, যিলকদ, রজব মাসের উমরা

উমরার নিয়ম – রমাদান, যিলকদ, রজব মাসের উমরা >> সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ২৫, অধ্যায়ঃ (৪৪-৫০)=৭টি

১৯/৪৪. অধ্যায়ঃ উমরার বর্ণনা
১৯/৪৫. অধ্যায় ঃ রমাদান মাসের উমরা
১৯/৪৬. অধ্যায়ঃ যিলকদ মাসের উমরা
১৯/৪৭. অধ্যায়ঃ রজব মাসের উমরা
১৯/৪৮. অধ্যায়ঃ তানঈম নামক স্থান থেকে উমরা করা
১৯/৪৯. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধে
১৯/৫০. অধ্যায়ঃ নবী [সাঃআঃ] কতটি উমরা করিয়াছেন?

১৯/৪৪. অধ্যায়ঃ উমরার বর্ণনা

২৯৮৯. তালহাহ বিন উবায়দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেনঃ হাজ্জ হলো জিহাদ এবং উমরা হলো নফল। {২৯৮৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{২৯৮৯} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ২০০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-খুশানী সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি কখনো কখনো হাদিস বর্ণনায় কিছু ভুল করেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। সুলায়মান বিন আবদুর রহমান আদ-দিমাশকী বলেন, তিনি সিকাহ। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১২৮৩, ৬/৩৩৯ নং পৃষ্ঠা] ২. উমার বিন কায়স সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী তাহাকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করিয়াছেন। আবুল কাসিম আল-বাগাবী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু বাকর আল-বাযযাহার বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল, তিনি মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু যুরআহ আদ-দিমাশকী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪২৯৭, ২১/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা] ৩. তালহাহ বিন ইয়াহইয়া বিন তালহাহ বিন উবায়দুল্লাহ সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, কোন সমস্যা নেই। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সালিহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৯৮৪, ১৩/৪৪১ নং পৃষ্ঠা]হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৯৯০ আবদুল্লাহ বিন আবু আওফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর সাথে ছিলাম। তিনি উমরা করা কালে [বাইতুল্লাহ] তাওয়াফ করেন, আমরাও তাহাঁর সাথে তাওয়াফ করি, তিনি সলাত আদায় করেন এবং আমরাও তাহাঁর সাথে সলাত আদায় করি। আমরা তাহাঁকে মক্কাবাসীদের থেকে আড়াল করে রাখতাম যাতে কেউ তাহাঁর কোনরূপ ক্ষতি করার সুযোগ না পায়। {২৯৯০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।. {২৯৯০} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৬০০, ১৭৯২, ৪১৮৮, ৪২৫৫, আবু দাউদ ১৯০২, আহমাদ ১৮৬২৮, ১৮৬৫০, ১৮৯১৭, দারেমী ১৯২২, সহীহ আবু দাউদ ১৬৬০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।উমরার নিয়ম – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৪৫. অধ্যায় ঃ রমাদান মাসের উমরা

২৯৯১. ওয়াহব বিন খানবাশ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ রামাদান মাসের উমরা [সওয়াবের ক্ষেত্রে ] হাজ্জের সমতূল্য। {২৯৯১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৯৯১} আহমাদ ১৭১৪৬, ১৭২০৮, ইরওয়া ৮৬৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি জাবির [বিন ইয়াযীদ] সম্পর্কে শুবাহ ইবনিল হাজ্জাজ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সত্যবাদী। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যা কথা বলেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আল-জাওযুজানী তাহাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৮৭৯, ৪/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু জাবির এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৭০ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে ১৮ টি খুবই দুর্বল, ৫৩ টি দুর্বল, ৪৯ টি হাসান, ১৫০তি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ১৭৮২, ১৮৬২, মুসলিম ১২৫৮, তিরমিজি ৯৩৯, আবু দাউদ ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯০, দারেমী ১৮৫৯, ১৮৬০, আহমাদ ৭৭৭, ২০২৬, ২৮০৪, ১৪৩৮১, ১৭১৪৬, ২৬৫৬৪, মুজামুল আওসাত ৩৭০, ৩৯৪৪, ৪৪২৮। উমরার নিয়ম – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৯৯২. হারিম বিন খানবাশ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ রামাদান মাসের উমরা হাজ্জের সমতূল্য। {২৯৯২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৯৯২} আহমাদ ১৭১৪৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি দাউদ বিন ইয়াযীদ আয-যাআফিরী সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি সিকাহ নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়, তাহার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৭৯১, ৮/৪৬৭ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু দাউদ বিন ইয়াযীদ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৭০ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে ১৮ টি খুবই দুর্বল, ৫৩ টি দুর্বল, ৪৯ টি হাসান, ১৫০ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ১৭৮২, ১৮৬২, মুসলিম ১২৫৮, তিরমিজি ৯৩৯, আবু দাউদ ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯০, দারেমী ১৮৫৯, ১৮৬০, আহমাদ ৭৭৭, ২০২৬, ২৮০৪, ১৪৩৮১, ১৭১৪৬, ২৬৫৬৪, মুজামুল আওসাত ৩৭০, ৩৯৪৪, ৪৪২৮। উমরার নিয়ম – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৯৯৩. আবু মাকিল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ রামাদান মাসের একটি উমরা একটি হাজ্জের সমতূল্য। {২৯৯৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।২৯৯৩} আহমাদ ২৬৫৬৫, সহীহ আবু দাউদ ১৭৩৫, ১৭৩৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. জুবারাহ ইবনিল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ [আল্লাহ্‌ চায়তো] তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতাহারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তাহার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৮৯১, ৪/৪৮৯ নং পৃষ্ঠা] ২. ইবরাহীম বিন উসমান সম্পর্কে আবু বিশর আদ-দাওলাবী বলেন, তিনি মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল, তিনি তাহার হাদিস বর্জন করিয়াছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু আলী আল-হাফিয আন-নায়সাবুরী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২১২, ২/১৪৭ নং পৃষ্ঠা] উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু জুবারাহ ইবনিল মুগাল্লিস ও ইবরাহীম বিন উসমান এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৭০ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ১৮ টি খুবই দুর্বল, ৫৩ টি দুর্বল, ৪৯ টি হাসান, ১৫০ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ১৭৮২, ১৮৬২, মুসলিম ১২৫৮, তিরমিজি ৯৩৯, আবু দাউদ ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯০, দারেমী ১৮৫৯, ১৮৬০, মুয়াত্তা মালিক ৭৭৭, আহমাদ ২০২৬, ২৮০৪, ১৪৩৮১, ১৪৮৪৬, ১৫৯৭১, ১৭১৪৮, সহীহ ইবনি খুযাইমাহ ২২২৫, ২৮৭৮, ২৮৮০, সহীহ ইবনি ইব্বান ৩৬৯৯, ৩৭০০, মুজামুল আওসাত ৩৭০, ৩৯৪৪, ৪৪২৮, ৮১৫৬। উমরার নিয়ম – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৯৯৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ রমদানের একটি উমরা একটি হাজের সমতুল্য। {২৯৯৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৯৯৪} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৭৮২, ১৮৬৩, মুসলিম ১২৫৬, আবু দাউদ ১২৫৬, ১৯৯০, আহমাদ ২০২৬, দারেমী ১৮৫৯, ইরওয়া ১৫৮৭, আত-তালীকুর রাগীব ৪/১১৪, সহীহ আবু দাউদ ১৭৩৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি হাজ্জাজ বিন আরতা সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বকর আল বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়, অন্যত্র তিনি তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। মুহাম্মাদ বিন সাদ তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি দুর্বল তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১১১২, ৫/৪২০ নং পৃষ্ঠা] উমরার নিয়ম – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৯৯৫. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ রমদান মাসের উমরা হাজ্জের সমতূল্য। {২৯৯৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৯৯৫} আহমাদ ১৪৩৮১, ১৪৮৪৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উমরার নিয়ম – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৪৬. অধ্যায়ঃ যিলকদ মাসের উমরা

২৯৯৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কেবল যিলকাদ মাসেই উমরা করিয়াছেন। {২৯৯৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৯৯৬} তিরমিজি ৮১৬, আহমাদ ২২১২, সহীহ আবু দাউদ ১৭৩৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইবনি আবু লায়লা সম্পর্কে ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি সিকাহ। শুবাহ ইবনিল হাজ্জাজ বলেন, আমি তাহার চেয়ে দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন আর কাউকে দেখিনি। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তিনি জইফ বা দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তাহার স্মৃতিশক্তি খুবই দুর্বল। ইবনি মাঈন বলেন, সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪০৬, ২৫/৬২২ নং পৃষ্ঠা] উমরার নিয়ম – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৯৯৭. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যিলকাদ মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে উমরা করেননি। {২৯৯৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৯৯৭} আহমাদ ২৫৩৮২, সহীহ আবু দাউদ ১৭৩৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উমরার নিয়ম – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৪৭. অধ্যায়ঃ রজব মাসের উমরা

২৯৯৮. উরওয়াহ হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি উমার [রাদি.] এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলো যে, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন মাসে উমরা করিয়াছেন? তিনি বলেন, রজব মাসে। তখন আয়েশা [রাদি.] বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কখনও রজব মাসে উমরা করেননি। আর তিনি যখনই উমরা করিয়াছেন, বিন উমার [রাদি.] তাহাঁর সাথে ছিলেন [কিন্তু তিনি ভুলবশত রজব মাসে বলেছেন]। {২৯৯৮}

{২৯৯৮} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৭৭৬, মুসলিম ১২৫৫, তিরমিজি ৯৩৬, ৯৩৭, আবু দাউদ ১৯৯২, আহমাদ ৫৩৬০, ৫৩৯৩, ৬০৯১, ৬২৫৯, ৬৩৯৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উমরার নিয়ম – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৪৮. অধ্যায়ঃ তানঈম নামক স্থান থেকে উমরা করা

২৯৯৯. আবদুর রহমান বিন আবু বাকর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] তাহাকে নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন আয়েশা [রাদি.] -কে নিজের জন্তুযানে করে নিয়ে যান এবং তানঈম নামক স্থান থেকে তাহার উমরা করার ব্যবস্থা করেন। {২৯৯৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। {২৯৯৯} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৭৮৪, ২৯৮৫, মুসলিম ১২১২, তিরমিজি ৯৩৪, আবু দাউদ ২৯৯৫, আহমাদ ১৭০৭, ১৭১১, দারেমী ১৮৬২, ১৭৬৩, ইরওয়া ১০৯০, সহীহ আবু দাউদ ১৭৪১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উমরার নিয়ম – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০০০. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জিলহজ্জ মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার কাছাকাছি সময়ে আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে বিদায় হজ্জে রওয়ানা হলাম। তখন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধতে চায় সে তা করিতে পারে। আমি যদি সাথে কোরবানির পশু না আনতাম তবে অবশ্যই উমরার ইহরাম বাঁধতাম। আয়েশা [রাদি.] বলেন, কাফেলার কতক উমরার উদ্দেশ্যে এবং কতক হজ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলো। যারা উমরার নিয়াতে ইহরাম বাঁধে আমি তাহাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তিনি আরো বলেন, আমরা রওয়ানা হয়ে মক্কায় পৌছলাম। আরাফাত দিবস নিকটবর্তী হলে আমি হায়েজগ্রস্থ হলাম এবং তখনও উমরার ইহরাম খুলিনি। এ ব্যাপারে আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট অভিযোগ করিলে তিনি বলেনঃ তুমি উমরা ত্যাগ করো, মাথার চুলের বাঁধন খুলে ফেলো, তাতে চিরুনী করো এবং হজ্জের ইহরাম বাঁধো। আয়েশা [রাদি.] বলেন, আমি তাই করলাম। যখন হাসবার রাত [যিলহজ্জ মাসের ১২ তম রাত] এলো এবং আল্লাহ তায়ালা আমাদের হজ্জ পূর্ণ করিলেন তখন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার সাথে [আমার ভাই] আবদুর রহমান বিন আবু বাকর [রাদি.] কে পাঠালেন। তিনি আমাকে তাহাঁর উটের পিঠে পেছন দিকে তুলে নিয়ে তানঈম রওনা হলেন। সেখানে আমি উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলাম। এভাবে আল্লাহ তায়ালা আমাদের হজ্জ ও উমরা পূর্ণ করে দিলেন এবং এজন্য আমাদের উপর না কোরবানী, না সদাকা, আর না রোযা বাধ্যতামূলক হয়েছিল। {৩০০০} তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০০০} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৯৪, ৩০৫, ৩১৬, ৩১৭, ৩১৯, ১৫১৮, ১৫৫৬, ১৫৬০, ১৫৬১, ১৫৬২, ১৬৩৮, ১৬৪৩, ১৬৫০, ১৭০৯, ১৭২০, ১৭৬২, ১৭৮৩, ১৭৮৬, ১৭৮৭, ১৭৮৮, ২৩১৭, ২৯৫২, ২৯৮৪, ৪৩৯৫, ৪৪০৮, ৫৫৪৮, ৫৫৫৯, ৭২২৯, ১২১১, ১২১২, ১২২৮, ১২৭৭, তিরমিজি ৯৩৪, ৯৪৫, ২৯৬৫, নাসারী ২৪২, ২৯০, ২৪৮, ২৬৫০, ২৭১৭, ২৭১৮, ২৮৪১, ২৭৬৩, ২৭৬৪, ২৮০৩, ২৮০৪, ২৯৯০, ২৯৯১, আবু দাঊদ ৭৫০, ১৭৭৮, ১৭৭৯, ১৭৮১, ১৭৮২, ২৩৫৫৬, ২৩৫৭৩, ২৩৫৮৯, ২৪০৪৪, ২৪৩৫৫, ২৪৩৮৫, ২৪৭৭৯, ২৪৭৮৮, ২৪৯১৩, ২৫০৫০, ২৫৩১০, ২৫৫৩৪, ২৫৫৫৪, ২৭৬৫৪, ২৫৮১২, মুওয়াত্তা মালিক ৭৪৬, ৮৯৬, ৯৪০, ৯৪১, দারেমী ১৪৬, ১৯০৪। সহীহ আবু দাঊদ ১৫৫৯। উমরার নিয়ম – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৪৯. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধে

৩০০১. উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, যে ব্যক্তি বায়তুল মাকদিস থেকে উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধে, তাহাকে ক্ষমা করা হয়। {৩০০১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল। {৩০০১} আবু দাউদ ১৭৪১, মিশকাত ৩৫৩২, যইফাহ ২১১, আত-তালীকুর রাগীব ২/১১৯, ১২০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনিল মাদানী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তাহারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি আমার নিকট হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা] ২. উম্মু হাকীম বিনতু উমায়্যাহ সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাকবুলাহ। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ। তিনি সানাদ ও মাতানে ইদতিরাব করিতেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭৮২০, ৩৫/১৫৭ নং পৃষ্ঠা] হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩০০২ উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, কোন ব্যক্তি বায়তুল মাকদিস থেকে উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলে তাতে তাহার পূর্বেকার সমস্ত গুনাহর কাফফারা হয়ে যায়। উম্মু সালামাহ [রাদি.] বলেন, অতএব আমি বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে উমরার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। {৩০০২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{৩০০২} আবু দাউদ ১৭৪১, মিশকাত ৩৫৩২, যইফাহ ২১১, আত-তালীকুর রাগীব ২/১১৯, ১২০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. মুহাম্মাদ ইবনিল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ঈমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনি হিব্বান তাহাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা] ২. মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনিল মাদানী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তাহারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি আমার নিকট হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা] ৩. ইয়াহইয়া বিন আবু সুফইয়ান সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি শায়খ হিসেবে প্রসিদ্ধ নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান তাহার সিকাহ গ্রন্থে তাহার নাম উল্লেখ করিয়াছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত। ঈমাম যাহাবী তাহাকে সিকাহ বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৮৩৭, ৩১/৩৫৯ নং পৃষ্ঠা] হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৯/৫০. অধ্যায়ঃ নবী [সাঃআঃ] কতটি উমরা করিয়াছেন?

৩০০৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] চারবার উমরা করিয়াছেনঃ হুদায়বিয়ার উমরা, পরবর্তী বছরের কাযা উমরা, তৃতীয়টি জিরানা থেকে এবং চতুর্থটি তাহার বিদায় হজ্জের সাথে উমরা। {৩০০৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০০৩} তিরমিজি ৮১৬, আহমাদ ১৯৯৩, ২২১২, ২৯৪৯, দারেমী ২৮৫৮, সহীহ আবু দাউদ ১৭৩৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উমরার নিয়ম – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

By ইমাম ইবনে মাজাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply