আবুল কাসিম উপনাম নিষিদ্ধ এবং পছন্দনীয় নামসমুহের বিবরণ

আবুল কাসিম উপনাম নিষিদ্ধ এবং পছন্দনীয় নামসমুহের বিবরণ

আবুল কাসিম উপনাম নিষিদ্ধ এবং পছন্দনীয় নামসমুহের বিবরণ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১. অধ্যায়ঃ আবুল কাসিম উপনাম নিষিদ্ধ এবং পছন্দনীয় নামসমুহের বিবরণ

৫৪৭৯

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বাকী নামক স্থানে এক লোক আর এক লোককে ডাক দিল- হে আবুল কাসিম! তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার দিকে দৃষ্টি দিলেন। সে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে উদ্দেশ্য করিনি; আমি তো অমুককে ডেকেছি। সে সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমার নামে তোমরা নাম রাখো; কিন্তু আমার উপনামে তোমরা নামকরণ করো না।{১} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪০১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪২৩]

{১} কুন্ইয়াত- অমুকের বাপ বা অমুকের পুত্র বলে নামকরণ করা।

৫৪৮০

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলার নিকটে তোমাদের নামগুলোর মধ্যে সর্বাধিক পছন্দনীয় নাম আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪০২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪২৪]

৫৪৮১

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাদের মাঝে এক লোকের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নিল। সে তার নাম রাখল মুহাম্মাদ। সে সময় তার সম্প্রদায়ের লোকেরা তাকে বলিল, আমরা তোমাকে ছাড়ব না রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নামে নাম রাখা হলে। এরপর সে তার সন্তানটিকে পিঠে বয়ে নিয়ে চলল এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছে আমি তার নাম রাখলাম মুহাম্মাদ। এতে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাকে বলছে, আমরা তোমাকে ছাড়ব না রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নামে নাম রাখা হলে। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমার নামে তোমরা নাম রাখো, কিন্তু আমার উপনাম অনুসারে উপনাম রেখো না। কারণ, আমি একমাত্র [আরবি] [বণ্টনকারী]; [আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ] তোমাদের মধ্যে বণ্টন করে থাকি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪০৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪২৫]

৫৪৮২

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলিলেন, আমাদের মাঝে একজন লোকের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিলো। সে তার নাম দিল মুহাম্মাদ। আমরা বললাম, তোমাকে আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নামের দ্বারা তোমার কুন্ইয়াত রাখতে দিব না, যতক্ষণ তুমি তাহাঁর অনুমতি না নিবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সে তাহাঁর নিকট গিয়ে বলিল যে, আমার একটি ছেলে জন্ম নিয়েছে। আমি রসূলুল্লাহর নামে তার নাম রেখেছি। ওদিকে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা সে নাম দিয়ে আমার উপনাম বলিতে অস্বীকৃতি জানায়। [তারা বলিল] যতক্ষণ তুমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর অনুমতি গ্রহণ না করো। এরপর তিনি বললেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখো, আমার উপনামে নাম রেখো না। কারণ, আমাকে কাসিম [বণ্টনকারী] হিসেবে পাঠানো হয়েছে; আমি তোমাদের মাঝে বণ্টন করার দায়িত্ব পালন করি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪০৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪২৬]

৫৪৮৩

হুসায়ন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

হুসায়ন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস রিওয়ায়াত করিয়াছেন। “কেননা একমাত্র আমাকে বণ্টনাকারীরূপে পাঠানো হয়েছে; “তোমাদের মধ্যে বণ্টন করার দায়িত্ব পালন করি”- উক্তিটুকু বর্ণনা করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪০৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪২৭]

৫৪৮৪

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমার নামে তোমরা নাম রাখো এবং আমার উপনাম অনুসারে উপনাম রেখো না। কারণ, আমিই হলাম আবুল কাসিম। তোমাদের মধ্যে ভাগাভাগি করে থাকি। রাবী আবু বকর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর বর্ণনায় … স্থানে … রয়েছে। {১} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪০৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪২৮]

{১} শব্দদ্বয় সমার্থক যার অর্থ। উপনাম গ্রহণ করো না।

৫৪৮৫

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উপরোক্ত সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। একমাত্র আমাকে কাসিম [বণ্টনাকারী] রূপে সৃষ্টি করা হয়েছে; তোমাদের মধ্যে আমি বণ্টন করে থাকি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪০৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪২৯]

৫৪৮৬

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক আনসারী লোকের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিলে সে তার নাম মুহাম্মাদ রাখা ইচ্ছা করিল। তখন সে নবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলো, তিনি বললেনঃ আনসারীরা ভাল কর্ম করেছে। আমার নামে তোমরা নাম রাখো, তবে আমার উপনামে উপনাম রেখো না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪০৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৩০]

৫৪৮৭

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু বাক্‌র ইবনি আবু শাইবাহ্‌, মুহাম্মাদ ইবনিল মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবনি আম্‌র ইবনি জাবালাহ্‌ ইবনিল মুসান্না ও বিশর্‌ ইবনি খালিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি], ইস্‌হাক ইবনি ইব্‌রাহীম হান্‌যালী ও ইস্‌হাক ইবনি মানসূর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] … জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে ইতোপূর্বে আমরা যাঁদের হাদীস বর্ণনা করেছি তাঁদের হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করিয়াছেন। শুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর সানাদে বর্ণিত হাদীসে নায্‌র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেন যে, এতে হুসায়ন ও সুলাইমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আরো কিছু বর্ধিত বলেছেন। হুসায়ন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি তো বণ্টনকারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি; আমি তোমাদের মধ্যে বণ্টন করে থাকি। আর সুলাইমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেন, একমাত্র আমিই বণ্টনকারী, তোমাদের মধ্যে বণ্টন করে থাকি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪০৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৩১]

৫৪৮৮

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে এক লোকের পুত্র জন্ম নিলে সে তার নাম রাখল কাসিম। আমরা বললাম, আমরা তোমাকে আবুল কাসিম [কাসিমের বাপ] উপনামে ডাকব না এবং তোমার চোখ শীতল করব না। সে তারপর নবী [সাঃআঃ] এর সম্মুখে এসে ঐ ব্যাপারটি বলিল। তিনি বলিললেন তোমার সন্তানের নাম রাখো আবদুর রহমান। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪১০, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৩২]

৫৪৮৯

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জাবির [রাদি.] হইতে ইবনি উয়াইনাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তিনি “তোমার চোখ শীতল করব না” এ উক্তি বর্ণনা করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪১১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৩৩]

৫৪৯০

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবুল কাসিম [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমার আমার নামে নাম রাখো এবং আমার উপনাম হিসেবে উপনাম রেখো না। আম্‌র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার বর্ণনাতে বলেছেন, আবু হুরায়রা্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণিত এবং তিনি এই উক্তিটি করেননি বলিতে শুনেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪১২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৩৪]

৫৪৯১

আল মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি যে সময় নাজরান গমন করলাম, তখন সেখানকার ব্যক্তিরা আমাকে জিজ্ঞেস করিল, আপনারা পড়েন [আরবি] [হে হারূনের বোন] অথচ মূসা [আঃ] ছিলেন ঈসা [আঃ] এর এত দিন আগে? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট আমি যখন ফিরে আসলাম তখন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলিলেন, তারা [ইয়াহূদী-খ্রিষ্টানরা] তাদের পূর্ববর্তী নবী সালিহ্‌গণের নামে [বাচ্চাদের] নাম রাখতো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪১৩, ইসলামিক সেন্টার-৫৪৩৫]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply