ফাজরের সলাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাত পাঠ ..

ফাজরের সলাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাত পাঠ

ফাজরের সলাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাত পাঠ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩৩.অধ্যায়ঃ ফাজরের সলাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাত পাঠ এবং জিনদের সামনে কিরাআত পড়া

৮৯২

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিনদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেননি এবং তিনি তাদের দেখেননি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর একদল সহাবাকে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। এ সময় আকাশমণ্ডলী থেকে তথ্য সংগ্রহকারী শাইতানদের জন্য আকাশমণ্ডলীর সংবাদ শোনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এবং তাদের উপর উল্কা [জ্বলন্ত আগুনের টুকরা] নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। শয়তানেরা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসলে তারা জিজ্ঞেস করিল, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বলিল, ঊর্ধ্বলোকের তথ্য ও আমাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের উপর উল্কা নিক্ষেপ করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের লোকেরা বলিল, এর কারণ হচ্ছে- নিশ্চয়ই নতুন কিছু ঘটছে। পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী বিচরণ করে দেখো তোমাদের মাঝে ও আসমানের খবরাদির মাঝে কোন জিনিস প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দলে দলে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী ঘুরে এর কারণ উদঘাটন করার জন্য বেরিয়ে পড়ল। এদের মধ্যে একদল তিহামাহ্ প্রদেশের পথ ধরে উকায বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলো। এ সময় নবী [সাঃআঃ] নাখলাহ্ নামক স্থানে তাহাঁর সহাবাদের নিয়ে ফাজরের নামাজ আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন পড়া শুনতে পেল, খুব মনোযোগ দিয়ে শুনল। অতঃপর তারা বলিল, আমাদের ও আসমানের খবরাদির মাঝেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার এটাই একমাত্র কারণ। তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলিল, 

إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا * يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا

হে আমাদের জাতির লোকেরা! “ আমরা এক অতীব আশ্চর্যজনক পাঠ [কুরআন] শুনেছি। তা কল্যাণের পথের দিকে হিদায়াত দান করে। এজন্য আমরা এর উপর ঈমান এনেছি। আমরা আর কখনো আমাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শারীক করব না”- [সূরাহ জিন ৭২ : ১-২]। এ ঘটনার পর আল্লাহ তাআলা তাহাঁর নবী মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] -এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করে বললেনঃ “ বলো আমাকে ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে [কুরআন] শুনেছে …..”- [সূরাহ জিন্ ৭২:১] নাযিল করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ৯০১]

৮৯৩

আমির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আলকামাকে প্রশ্ন করলাম, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে ইবনি মাসউদ [রাদি.] কি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে ছিলেন? রাবী বলেন, আলকামাহ [রাদি.] বলিলেন, আমি ইবনি মাসউদ [রাদি.] -কে জিজ্ঞেস করলাম, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে আপনাদের মধ্যে কেউ কি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে ছিলেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ না, তবে আমরা এক রাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে ছিলাম। আমরা তাঁকে হারিয়ে ফেললাম। আমরা পাহাড়ের উপত্যকায় ও গিরিপথে তাঁকে খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। আমরা মনে করলাম, হয় জিনেরা তাঁকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে অথবা কেউ তাঁকে গোপনে মেরে ফেলেছে। রাবী {ইবনি মাসউদ [রাদি.] } বলেন, এ রাতটি আমাদের জন্য এতই দুর্ভাগ্যজনক ছিল যে, মনে হয় কোন জাতির উপর এমন রাত আসেনি। যখন ভোর হলো, আমরা তাঁকে হেরা পর্বতের দিক থেকে আসতে দেখলাম। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] ! আমরা আপনাকে হারিয়ে ফেললাম এবং অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আপনার কোন সন্ধান পেলাম না। তাই সারারাত আমরা চরম দুশ্চিন্তায় কাটিয়েছি।মনে হয় এরূপ দুর্ভাগ্যজনক রাত কোন জাতির উপর আসেনি। তিনি বলেনঃ জিনদের পক্ষ থেকে এক আহ্বানকারী আমাকে নিতে আসে। আমি তার সাথে গেলাম এবং তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনালাম। রাবী [ইবনি মাসউদ [রাদি.] ] বলেন, তিনি আমাদেরকে সাথে করে নিয়ে গিয়ে তাদের বিভিন্ন নিদর্শন ও আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তাহাঁর কাছে খাদ্যের জন্য প্রার্থনা করিল। তিনি বলিলেন, যে জন্তু আল্লাহর নামে যবেহ করা হয়েছে তার হাড় তোমাদের খাদ্য। তোমাদের হাতের স্পর্শে তা পুনরায় গোশতে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। উটের বিষ্ঠা তোমাদের পশুর খাদ্য।

অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [আমাদের] বললেনঃ এ দুটো জিনিস দিয়ে শৌচকার্য করো না। কেননা এ দুটো তোমাদের ভাইদের [জিনদের] খাদ্য। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ৯০২]

৮৯৪

দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে-“ তাদের আগুনের চিহ্ন” পর্যন্ত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৯০, ইসলামিক সেন্টার- ৯০৩]

৮৯৫

শাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এরা তাহাঁর কাছে খাদ্যের জন্য আবেদন করে। এরা জাযীরাতুল আরবের জ্বিন ছিল। শাবীর এই বর্ণনা পর্যন্ত হাদীস শেষ হয়েছে। আবদুল্লাহর হাদীস থেকে এ সূত্রে বর্ণনা কিছুটা ব্যাপক। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৯০, ইসলামিক সেন্টার- ৯০৩]

৮৯৬

আবদুল্লাহ [রাদি.] কর্তৃক নবী [সাঃআঃ] থেকে এ সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

“ তাদের আগুনের চিহ্ন” বক্তব্য পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে এবং এর পরের অংশ উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৯১, ইসলামিক সেন্টার- ৯০৪]

৮৯৭

আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জিন্‌দের সাথে সাক্ষাতের রাতে আমি নবী [সাঃআঃ] -এর সাথে ছিলাম না। আফসোস! আমি যদি তাহাঁর সাথে থাকতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৯২, ইসলামিক সেন্টার-৯০৪]

৮৯৮

মান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার পিতার কাছে শুনেছি। তিনি বলেন আমি মাসরূককে জিজ্ঞেস করলাম, জিনের রাত, কে নবী [সাঃআঃ] -কে জানিয়ে দিল যে, তারা এসে তাহাঁর কুরআন পাঠ শুনছে? মাসরূক বলেছেন, আমাকে তোমার পিতা অর্থাৎ- ইবনে মাসঊদ বলেছেন যে, গাছই তাদের সম্পর্কে নবী [সাঃআঃ] -কে জানিয়ে দিয়েছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৯৩, ইসলামিক সেন্টার-৯০৫]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply