ঈমামতির জন্য বেশী যোগ্য কে ?

ঈমামতির জন্য বেশী যোগ্য কে ?

ঈমামতির জন্য বেশী যোগ্য কে ? >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৫৩. অধ্যায়ঃ ঈমামতির জন্য বেশী যোগ্য কে ?

১৪১৫

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তিনজন লোক একত্রিত হলে তাদের একজনকে তাদের ঈমাম বা নেতা হইতে হইবে। আর তাদের মধ্যে ঈমামত বা নেতৃত্বের সবচাইতে বেশী হাক্বদ্বার সেই ব্যক্তি যে সবচেয়ে বেশী কুরআন মাজীদ অধ্যয়ন করেছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪০১, ইসলামিক সেন্টার- ১৪১৩]

১৪১৬

ক্বাতাদাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪০২, ইসলামিক সেন্টার- ১৪১৪]

১৪১৭

আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা, ১৪০৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৪১৫]

১৪১৮

আবু মাসঊদ আল আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদিন আমাদেরকে বললেনঃ যে স‍র্বাপেক্ষা বেশী কুরাআনের পাঠক ও কুরআনী জ্ঞানের অধিকারী সে-ই ক্বওমের [লোকজনের] ইমামাত করিবে। সবাই যদি কুরানের জ্ঞানের সমপর্যায়ের হয় সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সুন্নাত সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত হইবে সে-ই ইমামাত করিবে। সুন্নাহর জ্ঞানেরও সবাই সমান হলে হিজরাতে যে অগ্রগামী সে ইমামাত করিবে। কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির নিজস্ব প্রভাবাধীন এলাকায় ইমামাত করিবে না কিংবা তার অনুমতি ছাড়া তার বাড়ীতে তার বিছানায় বসবে না। বর্ণনাকারী আশাজ্জ তার বর্ণনায় [ইসলাম] শব্দের স্হানে [বয়স] শব্দ উল্লেখ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪০৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৪১৬]

১৪১৯

আবু কুরায়ব, ইসহাক্ব, আশাজ্জ, ইবনি আবু উমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] … তারা সকলে আমাশ [রাদি.] -এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদীসের অনূরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা, ১৪০৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৪১৭]

১৪২০

আবু মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে বললেনঃ আল্লাহর কিতাব কুরআন মাজীদের জ্ঞান যে সবচেয়ে বেশী এবং যে কুরআন তিলাওয়াতও সুন্দরভাবে করিতে পারে সে-ই নামাজের জামাআতে ইমামাত করিবে। সুন্দর ক্বিরাআতের ব্যাপারে সবাই যদি সমকক্ষ হয় তাহলে তাদের মধ্যে যে হিজরাতে অগ্রগামী সে ইমামাত করিবে। হিজরাতের ব্যাপারেও সবাই যদি সমকক্ষ হয় তাহলে তাদের মধ্যে যে বয়সে প্রবীণ সেই ইমামাত করিবে। কোন ব্যক্তি যেন কারো নিজের বাড়ীতে [বাড়ীর কর্তাকে বাদ দিয়ে] কিংবা কারো ক্ষমতাসীন এলাকায় নিজে ইমামাত না করে। আর কেউ যেন কারো বাড়ীতে গিয়ে অনুমতি ছাড়া তার বিছানায় না বসে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪০৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৪১৮]

১৪২১

মালিক ইবনি হুওয়াইরিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা প্রায় এ বয়সের কিছু যুবক রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর কাছে এসে বিশরাত [অর্থাৎ-বিশদিন] অবস্হান করলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও নম্র হৃদয়। তিনি বুঝতে পারলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারের লোকজনের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েছি। তাই নিজ পরিবারে আমরা কাকে কাকে রেখে গিয়েছি এ বিষয়ে তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলে আমরা তাঁকে সে বিষয়ে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেনঃ ঠিক আছে, তোমরা নিজ পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে অবস্হান করে তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষাদান করো। আর এ বিষয়ে তাদেরকে বিভিন্ন কাজ করিতে আদেশ করো। আর নামাজের সময় হলে তোমাদের কেউ আযান দিবে। তবে বয়সে যে সবার বড় সে ইমামাত করিবে। {১} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪০৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৪১৯]

{১}এক্ষেত্রে বয়সে বড় হওয়াকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে কারণ তাদের হিজরাত, ইসলাম গ্রহণ, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম] –এর সাহচর্য এবং বিশদিন অবস্হান – এ সকল বৈশিষ্ঠ্যে তারা সমান ছিল একমাত্র বয়স ব্যতীত।

১৪২২

আইয়ূব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে বর্ণিত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪০৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৪২০]

১৪২৩

মালিক ইবনিল হুওয়াইরিস আবু সুলাইমান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার সমবয়সী একদল যুবকের সাথে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর কাছে আসলাম। এতটুকু বর্ণনা করার পর তারা সবাই ইবনি উলাইয়্যাহ্ বর্ণিত হাদীসের অনূরূপ হাদীস বর্ণনা করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪০৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৪২০]

১৪২৪

মালিক ইবনি হুওয়াইরিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি এবং আমার এক বন্ধু নবী [সাঃআঃ] -এর কাছে গেলাম। যখন আমরা তাহাঁর নিকট থেকে ফিরতে চাইলাম তখন তিনি আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃনামাজের সময় হলে আযান দিবে এবং তারপর ইক্বামত দিবে [অর্থাৎ-নামাজ আদায় করিবে]। তবে তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় হইবে সেই যেন ইমামাত করে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪০৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৪২১]

১৪২৫

খালিদ আল হায্‍যা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তবে হাফ্‌সা ইবনি গিয়াস এতটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেন যে, হায্‍যা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেন, তারা উভয়ে [মালিক ইবনিল হুওয়াইরিস এবং তার বন্ধু] ক্বিরাআতের ব্যাপারে সমকক্ষ ছিলেন | [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪১০, ইসলামিক সেন্টার- ১৪২১]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply