বুখারি শরীফ ডাউনলোড। অধ্যায় – ঈমান বিশ্বাস

বুখারি শরীফ ডাউনলোড। অধ্যায় – ঈমান বিশ্বাস >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ১ – ঈমান (বিশ্বাস), অধ্যায়ঃ (১-৪২)=৪২টি

অধ্যায়ঃ ২/১. নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীঃ ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত।
অধ্যায়ঃ ২/২ঃ অধ্যায়ঃ তোমাদের দুয়া অর্থাৎ তোমাদের ঈমান
অধ্যায়ঃ ২/৩. ঈমানের বিষয়সমূহ
অধ্যায়ঃ ২/৪. সে-ই মুসলিম, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।
অধ্যায়ঃ ২/৫. ইসলামে কোন্‌ জিনিসটি উত্তম?
অধ্যায়ঃ ২/৬. খাদ্য খাওয়ানো ইসলামের অন্তর্ভুক্ত।
অধ্যায়ঃ ২/৭. নিজের জন্য যা পছন্দ করা হয় সেটা স্বীয় ভাইদের জন্যও পছন্দ করা ঈমানের অংশ।
অধ্যায়ঃ ২/৮. আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
অধ্যায়ঃ ২/৮. আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
অধ্যায়ঃ ২/৯. ঈমানের সুস্বাদ।
অধ্যায়ঃ ২/১০. আনসারকে ভালোবাসা ঈমানের আলামত।
অধ্যায়ঃ ২/১১
অধ্যায়ঃ ২/১২. ফিতনা হতে পালায়ন দ্বীনের অংশ
অধ্যায়ঃ ২/১৩. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বানীঃ “আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহ্‌ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। আর আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস অন্তরের কাজ।“
অধ্যায়ঃ ২/১৪ কুফরীতে প্রত্যাবর্তন করাকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার ন্যায় অপছন্দ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
অধ্যায়ঃ ২/১৫. আমালের দিক দিয়ে ঈমানদারদের শ্রেষ্টত্বের স্তরসমূহ।
অধ্যায়ঃ ২/১৫. আমালের দিক দিয়ে ঈমানদারদের শ্রেষ্টত্বের স্তরসমূহ।
অধ্যায়ঃ ২/১৬. লজ্জা ঈমানের অঙ্গ
অধ্যায়ঃ ২/১৭. “অতঃপর যদি তাঁরা তাওবাহ করে, সালাত কায়িম করে এবং যাকাত দেয় তবে তাঁদের পথ ছেড়ে দাও।” (আত-তাওবাহ ৯/৫)
অধ্যায়ঃ ২/১৮. যে বলে ঈমানই হচ্ছে আমাল।
অধ্যায়ঃ ২/১৯. ইসলাম গ্রহণ যদি বিশুদ্ধ না হয় বরং বাহ্যিক আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য বা হত্যার আশংকায় হয়, তবে তাহাঁর ইসলাম গ্রহণ।
অধ্যায়ঃ ২/২০. সালামের প্রচলন করা ইসলামের শামিল।
অধ্যায়ঃ ২/২১. স্বামীর প্রতি নাশুকরি। আর এক কুফর অন্য কুফর থেকে ছোট।
অধ্যায়ঃ ২/২২. পাপ কাজ জাহিলী যুগের অভ্যাস। আর শির্‌ক ব্যতীত অন্য কোন গুনাহ্‌তে লিপ্ত হওয়াতে ঐ পাপীকে কাফির বলা যাবে না।
অধ্যায়ঃ ২/২৩. যুল্‌মের প্রকারসমূহ।
অধ্যায়ঃ ২/২৪. মুনাফিকের চিহ্ন
অধ্যায়ঃ ২/২৪. মুনাফিকের চিহ্ন
অধ্যায়ঃ ২/২৫. লাইলাতুল ক্বাদর ইবাদতে রাত্রিজাগরণ ঈমানের শামিল।
অধ্যায়ঃ ২/২৬. জিহাদ ঈমানের শামিল
অধ্যায়ঃ ২/২৭. রামাদানের রাত্রিতে নফল ইবাদাত ইমানের অঙ্গ
অধ্যায়ঃ ২/২৮ সওয়াবের আকাঙ্খা233য় রামাদানের সিয়াম পালন ঈমানের অঙ্গ।
অধ্যায়ঃ ২/২৯ দ্বীন হচ্ছে সরল।
অধ্যায়ঃ ২/৩০ সালাত ঈমানের শামিল।
অধ্যায়ঃ ২/৩১ সুন্দরভাবে ইসলাম গ্রহণ ।
অধ্যায়ঃ ২/৩১ সুন্দরভাবে ইসলাম গ্রহণ ।
অধ্যায়ঃ ২/৩২ আল্লাহ্ তাআলার কাছে সবচেয়ে অধিক পছন্দনীয় আমল সেটাই যা নিয়মিত করা হয় ।
অধ্যায়ঃ ২/৩৩ ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস।
অধ্যায়ঃ ২/৩৩ ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস।
অধ্যায়ঃ ২/৩৪ যাকাত ইসলামের অঙ্গ
অধ্যায়ঃ ২/৩৫ জানাযাহ্র পিছে পিছে যাওয়া ঈমানের অন্তর্ভুক্ত
অধ্যায়ঃ ২/৩৬ অজান্তে মুমিনের আমল বিনষ্ট হবার ভয়।
অধ্যায়ঃ ২/৩৬ অজান্তে মুমিনের আমল বিনষ্ট হবার ভয়।
অধ্যায়ঃ ২/৩৭ জিবরীল (আঃ)কর্তৃক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ঈমান, ইসলাম, ইহসান ও কিয়ামতের জ্ঞান সম্পর্কে প্রশ্ন।
অধ্যায়ঃ ২/৩৮
অধ্যায়ঃ ২/৩৯ দ্বীন রক্ষাকারীর মর্যাদা
অধ্যায়ঃ ২/৪০ গনীমতের এক পঞ্চমাংশ আদায় করা ঈমানের শামিল।
অধ্যায়ঃ ২/৪১ আমালসমূহ সংকল্প ও পুন্যের আকাঙ্খা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যক্তির প্রাপ্য তাহাঁর সংকল্প অনুযায়ী।
অধ্যায়ঃ ২/৪১ আমালসমূহ সংকল্প ও পুন্যের আকাঙ্খা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যক্তির প্রাপ্য তাহাঁর সংকল্প অনুযায়ী।
অধ্যায়ঃ ২/৪১ আমালসমূহ সংকল্প ও পুন্যের আকাঙ্খা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যক্তির প্রাপ্য তাহাঁর সংকল্প অনুযায়ী।
অধ্যায়ঃ ২/৪২ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ “দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা করা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য, তাহাঁর রসূলের জন্য, মুসলিম নেতৃবৃন্দের জন্য এবং সমগ্র মুসলিমের জন্য”।
অধ্যায়ঃ ২/৪২ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ “দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা করা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য, তাহাঁর রসূলের জন্য, মুসলিম নেতৃবৃন্দের জন্য এবং সমগ্র মুসলিমের জন্য”।

২/১.  নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীঃ ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটিঃ মুখে স্বীকার এবং কাজে পরিণত করাই হচ্ছে ঈমান এবং তা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়।* আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ যাতে তারা তাহাদের ঈমানের সঙ্গে ঈমান মজবুত করে নেয়- (সূরাহ্ ফাত্হ ৪৮/৪)। আমরা তাহাদের সৎ পথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম- (সূরাহ্ কাহাফ ১৮/১৩)। এবং যারা সৎপথে চলে আল্লাহ্ তাহাদের অধিক হিদায়াত দান করেন- (সূরাহ্ মারইয়াম ১৯/৭৬)। এবং যারা সৎপথ অবলম্বন করে আল্লাহ্ তাহাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দেন এবং তাহাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দেন- (সূরাহ্ মুহাম্মাদ ৪৭/১৭)। যাতে মুমিনদের ঈমান বেড়ে যায়- (সূরাহ্ মুদ্দাসসির ৭৪/৩১)। আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেন, এটা তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বাড়িয়ে দিল? যারা মুমিন এ তো তাহাদের ঈমান বাড়িয়ে দেয়- (সূরাহ্ আত্-তাওবাহ ৯/১২৪)। এবং তাহাঁর বাণী, সুতরাং তোমরা তাহাদের ভয় কর; একথা তাহাদের ঈমানের দৃঢ়তা বাড়িয়ে দিল- (সূরাহ্ আলে-ইমরান ৩/১৭৩)। এতে তাহাদের ঈমান ও আনুগত্য আরও বৃদ্ধি পেল- (সূরাহ্ আহযাব ৩৩/২২)।

আর আল্লাহর জন্য ভালবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা ঈমানের অংশ। উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) আদী ইবনু আদী (রহঃ)-এর নিকট এক পত্রে লিখেছিলেন, ঈমানের কতকগুলো ফার্য (ফরয), কতকগুলো হুকুম-আহকাম, বিধি-নিষেধ এবং সুন্নাত রয়েছে। যে এগুলো পরিপূর্ণরূপে আদায় করে তার ঈমান পূর্ণ হয়। আর যে এগুলো পূর্ণভাবে আদায় করে না, তার ঈমান পূর্ণ হয় না। আমি যদি বেঁচে থাকি তবে অচিরেই এগুলো তোমাদের নিকট ব্যক্ত করব, যাতে তোমরা তার উপর আমল করিতে পার। আর যদি আমার মৃত্যু হয় তাহলে জেনে রাখ, তোমাদের সাহচর্যে থাকার জন্য আমি আকাঙ্ক্ষিত নই।

ইবরাহীম (আ.) বলেন, তবে এ তো কেবল চিত্ত প্রশান্তির জন্য- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/২৬)। মুআয (রাঃ) বলেন, এসো আমাদের সঙ্গে বস, কিছুক্ষণ ঈমানের আলোচনা করি। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, ইয়াকীন হল পূর্ণ ঈমান। ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, বান্দা প্রকৃত তাকওয়ায় পৌঁছতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে, মনে যে বিষয় সন্দেহের সৃষ্টি করে, তা পরিত্যাগ না করে। মুজাহিদ (রাঃ) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি আপনাকে এবং নূহকে একই ধর্মের আদেশ করেছি- (সূরাহ্ শূরা ৪২/১৩)। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, অর্থাৎ পথ ও পন্থা- (সূরাহ্ আল-মায়িদাহ ৫/৪৮)।

২/২ঃ অধ্যায়ঃ তোমাদের দুয়া অর্থাৎ তোমাদের ঈমান


এ মর্মে আল্লাহ তাআলার বাণীঃ বলে দিন, আমার প্রতিপালক তোমাদের একটুও পরোয়া করবেন না যদি তোমরা ইবাদাত না কর- (সূরাহ্ আল-ফুরক্বান ২৫/৭৭)। অভিধানে দুআর অর্থ করা হয়েছেঃ ঈমান।

৮. ইবন উমার (রাঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি। ১. আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। ২. সালাত কায়িম করা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. হাজ্জ সম্পাদন করা এবং ৫. রমাযানের সিয়ামব্রত পালন করা। (৪৫১৪; মুসলিম ১/৫ হাঃ ১৬, আহমাদ ৬০২২, ৬৩০৯) (আঃপ্রঃ ৭, ইঃফাঃ ৭)

* কোন কোন ফকীহদের নিকট ঈমান বাড়েও না কমেও না। বরং সমান থাকে। তাহাদের নিকট একজন নবীর ঈমান ও ইবলিসের ঈমান এক সমান। তাহাদের এই আকীদাহ কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী। এটা মুরজিআহ সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত আকীদাহর অন্তর্ভুক্ত।

অধ্যায়ঃ ২/৩. ঈমানের বিষয়সমূহ

আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ কোন পুণ্য নেই পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে; কিন্তু পুণ্য আছে কেউ ঈমান আনলে আল্লাহর উপর, আখিরাতের উপর, ফেরেশতাহাদের উপর, সকল কিতাবের উপর, আর সকল নাবী-রাসূলদের উপর, এবং অর্থ দান করলে আল্লাহ প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাস মুক্তির জন্য, সালাত কায়িম করলে, যাকাত দিলে, কৃত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলে আর অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধ বিভ্রাটে ধৈর্যধারণ করলে। এরাই হল প্রকৃত সত্যপরায়ণ, আর এরাই মুত্তাকী- (আল-বাক্বারাহ ২/১৭৭)। অবশ্যই সফলতা লাভ করেছে মুমিনগণ- (সূরাহ্ মুমিনূন ২৩/১)।

৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা। (মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৫, আহমাদ ৯৩৭২) (আঃপ্রঃ ৮, ইঃফাঃ ৮)

 অধ্যায়ঃ ২/৪. সে-ই মুসলিম, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।

১০. আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সে-ই মুসলিম, যার জিহবা ও হাত হতে সকল মুসলিম নিরাপদ এবং সে-ই প্রকৃত মুহাজির, আল্লাহ যা নিষেধ করিয়াছেন তা যে ত্যাগ করে। (৬৪৮৪; মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪০, আহমাদ ৬৭৬৫) (আঃপ্রঃ ৯, ইঃফাঃ ৯)

অধ্যায়ঃ ২/৫. ইসলামে কোন্‌ জিনিসটি উত্তম?

১১. আবূ মূসা (রাঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারা (সহাবাগণ) জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামে কোন্ জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহবা ও হাত হতে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে। (মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪২, আহমাদ ৬৭৬৫) (আঃপ্রঃ ১০, ইঃফাঃ ১০)

অধ্যায়ঃ ২/৬. খাদ্য খাওয়ানো ইসলামের অন্তর্ভুক্ত।

১২. আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করিল, ইসলামের কোন্ জিনিসটি উত্তম? তিনি বলিলেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও চেনা অচেনা সকলকে সালাম দিবে। (২৮, ৬২৩৬; মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪২, আহমাদ ৬৭৬৫) (আঃপ্রঃ ১১, ইঃফাঃ ১১)

অধ্যায়ঃ ২/৭. নিজের জন্য যা পছন্দ করা হয় সেটা স্বীয় ভাইদের জন্যও পছন্দ করা ঈমানের অংশ।

১৩. আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করিবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে। (মুসলিম ১/১৭ হাঃ ৪৫, আহমাদ ১২৮০১, ১৩৮৭৫) (আঃপ্রঃ ১২, ইঃফাঃ ১২)

অধ্যায়ঃ ২/৮. আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

১৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই আল্লাহর শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানাদির চেয়ে অধিক ভালবাসার পাত্র হই। (আঃপ্রঃ ১৩, ইঃফাঃ ১৩)

অধ্যায়ঃ ২/৮. আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

১৫. আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান ও সব মানুষের অপেক্ষা অধিক প্রিয়পাত্র হই। (মুসলিম ১/১৬ হাঃ ৪৪, আহমাদ ১২৮১৪) (আঃপ্রঃ ১৪, ইঃফাঃ ১৪)

অধ্যায়ঃ ২/৯. ঈমানের সুস্বাদ।

১৬. আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে আছে, সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করিতে পারেঃ ১। আল্লাহ্ ও তাহাঁর রাসূল তার নিকট অন্য সকল কিছু হতে অধিক প্রিয় হওয়া; ২। কাউকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালবাসা; ৩। কুফরীতে প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার মত অপছন্দ করা। (২১, ৬০৪১, ৬৯৪১; মুসলিম ১/১৫ হাঃ ৪৩, আহমাদ ১২০০২) (আঃপ্রঃ ১৫, ইঃফাঃ ১৫)

অধ্যায়ঃ ২/১০. আনসারকে ভালোবাসা ঈমানের আলামত।

১৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ঈমানের আলামত হল আনসারকে ভালবাসা এবং মুনাফিকীর চিহ্ন হল আনসারের প্রতি শত্রুতা পোষণ করা। (৩৭৮৪; মুসলিম ১/৩৩ হাঃ ৭৪, আহমাদ ১৩৬০৮) (আঃপ্রঃ ১৬, ইঃফাঃ ১৬)

অধ্যায়ঃ ২/১১

১৮. উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃআঃ) যিনি বাদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও লায়লাতুল আকাবার একজন নকীব উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃআঃ) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পাশে একজন সহাবীর উপস্থিতিতে তিনি বলেনঃ তোমরা আমার নিকট এই মর্মে বায়আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করিবে না, চুরি করিবে না, ব্যভিচার করিবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করিবে না, কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করিবে না এবং সৎকাজে নাফরমানী করিবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূর্ণ করিবে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট রয়েছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হলো এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হইবে তার জন্য কাফ্ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মার্জনা করবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি প্রদান করবেন। আমরা এর উপর বায়আত গ্রহণ করলাম।

(৩৮৯২, ৩৮৯৩, ৩৯৯৯, ৪৮৯৪, ৬৭৮৪, ৬৮০১, ৬৮৭৩, ৭০৫৫, ৭১৯৯, ৭২১৩, ৭৪৬৮; মুসলিম ২৯/১০ হাঃ ১৭০৯, আহমাদ ২২৭৪১) (আঃপ্রঃ ১৭, ইঃফাঃ ১৭)

অধ্যায়ঃ ২/১২. ফিতনা হতে পালায়ন দ্বীনের অংশ

১৯. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেদিন দূরে নয়, যেদিন মুসলিমের উত্তম সম্পদ হইবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় অথবা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। ফিতনা হতে সে তার ধর্ম সহকারে পলায়ন করিবে। (৩৩০০, ৩৬০০, ৬৪৯৫, ৭০৮৮) (১৮, ইঃফাঃ ১৮)

অধ্যায়ঃ ২/১৩. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বানীঃ “আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহ্‌ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। আর আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস অন্তরের কাজ।“

لِقَوْلِ اللهِ تَعَالَى )وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ(

যেমন আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ কিন্তু তিনি তোমাদের অন্তরের সংকল্পের জন্য পাকড়াও করবেন। (সূরাহ্ বাক্বারাহ ২/২২৫)

২০. আয়িশাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহাবীদের যখন কোন কাজের নির্দেশ দিতেন, তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল্! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ্ তাআলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তা শুনে তিনি রাগ করিলেন, এমনকি তাহাঁর চেহারায় রাগের চিহ্ন ফুটে উঠল। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের চেয়ে আমিই আল্লাহ্কে অধিক ভয় করি ও বেশী জানি। (আঃপ্রঃ ১৯, ইঃফাঃ ১৯)

অধ্যায়ঃ ২/১৪ কুফরীতে প্রত্যাবর্তন করাকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার ন্যায় অপছন্দ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

২১. আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান, সে ঈমানের স্বাদ পায়- (১) যার নিকট আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূল অন্য সকল বস্তু হতে অধিক প্রিয়; (২) যে একমাত্র আল্লাহরই জন্য কোন বান্দাকে ভালবাসে এবং (৩) আল্লাহ্ তাআলা কুফর হতে মুক্তি প্রদানের পর যে কুফর-এ প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার মতোই অপছন্দ করে। (১৬) (আঃপ্রঃ ২০, ইঃফাঃ ২০)

অধ্যায়ঃ ২/১৫. আমালের দিক দিয়ে ঈমানদারদের শ্রেষ্টত্বের স্তরসমূহ।

২২. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বেহেশতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করিবে। অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা মালাকদের বলবেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান আছে, তাকে জাহান্নাম হতে বের করে আনো। তারপর তাহাদের জাহান্নাম হতে এমন অবস্থায় বের করা হইবে যে, তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। অতঃপর তাহাদের বৃষ্টিতে বা হায়াতের (বর্ণনাকারী মালিক (রহঃ) শব্দ দুটির কোনটি এ সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করিয়াছেন) নদীতে নিক্ষেপ করা হইবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন নদীর তীরে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখিতে পাও না সেগুলো কেমন হলুদ বর্ণের হয় ও ঘন হয়ে গজায়? উহাইব (রহঃ) বলেন, আমর (রহঃ) আমাদের নিকট الْحَيَا এর স্থলে لْحَيَاةِ এবং خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ এর স্থলে خَرْدَلٍ مِنْ خَيْرٍ বর্ণনা করিয়াছেন। (৪৫৮১, ৪৯১৯,৬৫৬০,৬৫৭৪,৭৪৩৮,৭৪৩৯; মুসলিম ১/৮২ হাঃ ১৮৪) (আঃপ্রঃ ২১, ইঃফাঃ ২১)

অধ্যায়ঃ ২/১৫. আমালের দিক দিয়ে ঈমানদারদের শ্রেষ্টত্বের স্তরসমূহ।

২৩. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃআঃ)-কে বলিতে শুনেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার আমি নিদ্রাবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম যে, লোকদেরকে আমার সামনে আনা হচ্ছে। আর তাহাদের পরণে রয়েছে জামা। কারো জামা বুক পর্যন্ত আর কারো জামা এর নীচ পর্যন্ত। আর উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃআঃ)-কে আমার সামনে আনা হল এমন অবস্থায় যে, তিনি তাহাঁর জামা (অধিক লম্বা হওয়ায়) টেনে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সহাবীগণ আরয করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী তাবীর করিয়াছেন? তিনি বললেনঃ (এ জামা অর্থ) দ্বীন। (৩৬৯১, ৭০০৮, ৭০০৯; মুসলিম ৪৪/২ হাঃ ২৩৯০, আহমাদ ১১৮১৪) (আঃপ্রঃ ২২, ইঃফাঃ ২২)

অধ্যায়ঃ ২/১৬. লজ্জা ঈমানের অঙ্গ

২৪. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি তাহাঁর ভাইকে তখন (অধিক) লজ্জা ত্যাগের জন্য নাসীহাত করছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ওকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। (৬১১৮; মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৬, আহমাদ ৪৫৫৪) (আঃপ্রঃ ২৩, ইঃফাঃ ২৩)

অধ্যায়ঃ ২/১৭. “অতঃপর যদি তাঁরা তাওবাহ করে, সালাত কায়িম করে এবং যাকাত দেয় তবে তাঁদের পথ ছেড়ে দাও।” (আত-তাওবাহ ৯/৫)

২৫. ইবনু উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য নির্দেশিত হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, আর সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে। তারা যদি এগুলো করে, তবে আমার পক্ষ হতে তাহাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করলো; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাহাদের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর অর্পিত। (মুসলিম ১/৮ হাঃ ২২) (আঃপ্রঃ ২৪, ইঃফাঃ ২৪)

অধ্যায়ঃ ২/১৮. যে বলে ঈমানই হচ্ছে আমাল।

আল্লাহ্ তাআলার এ বাণীর পরিপ্রেক্ষিতঃ এটাই জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ। (সূরাহ্ যুখরুফ ৪৩/৭২)

সুতরাং শপথ আপনার প্রতিপালকের আমি তাহাদের সকলকে জিজ্ঞেস করবই সে বিষয়ে, যা তারা করে- (সূরাহ্ হিজ্র ১৫/৯০)। আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আলিমদের এক দল বলেন, لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ   এর স্বীকারোক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হইবে। আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ এরূপ সাফল্যের জন্য আমলকারীদের উচিত আমাল করা। (সূরাহ্ সাফ্ফাত ৩৭/৬১)

২৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন্ আমলটি উত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাহাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা।* জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। প্রশ্ন করা হল, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেনঃ মাকবূল হাজ্জ সম্পাদন করা। (১৫১৯; মুসলিম ১/৩৬ হাঃ ৮৩) (আঃপ্রঃ ২৫, .ফা. ২৫)

* মুরজিআহদের নিকট শুধু অন্তরে বিশ্বাসের নাম ঈমান। মুখে স্বীকার করা রুকন বা শর্ত নয় এবং আমল ঈমানের হাকীকাতের বাইরে। ঈমান আনার পর গুনাহর কাজ ক্ষতিকর নয় এমনকি কবীরা গুনাহ করলেও নয়। (মিরআত ৩৬ পৃষ্ঠা)।

অধ্যায়ঃ ২/১৯. ইসলাম গ্রহণ যদি বিশুদ্ধ না হয় বরং বাহ্যিক আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য বা হত্যার আশংকায় হয়, তবে তাহাঁর ইসলাম গ্রহণ।

মহান আল্লাহর এ বাণী অনুযায়ী হবেঃ আরব মরুবাসীরা বলে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম; আপনি বলে দিন, তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং তোমরা বল, আমরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুসলিম হয়েছি। (সূরাহ্ হুজরাত ৪৯/১৪)

আর ইসলাম গ্রহণ খাঁটি হলে তা হইবে আল্লাহ্ তাআলার এ বাণী অনুযায়ীঃ নিশ্চয়ই ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন- (সূরাহ্ আলে ইমরান ৩/১৯)। আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন অন্বেষণ করিবে তবে তা গৃহীত হইবে না। (সূরাহ্ আলে ইমরান ৩/৮৫)

২৭. সাদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোককে কিছু দান করিলেন। সাদ (রাঃআঃ) সেখানে বসেছিলেন। সাদ (রাঃআঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদের এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না। সে ব্যক্তি আমার নিকট তাহাদের চেয়ে অধিক পছন্দের ছিল। তাই আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মুমিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না, মুসলিম। তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। অতঃপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দান থেকে বাদ রাখলেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মুমিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না, মুসলিম? তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আবার বললাম, আপনি অমুককে দান হতে বাদ রাখলেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মুমিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না, মুসলিম? তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় সেই একই জবাব দিলেন। তারপর বললেনঃ সাদ! আমি কখনো ব্যক্তি বিশেষকে দান করি, অথচ অন্যলোক আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয়। তা এ আশঙ্কায় যে (সে ঈমান থেকে ফিরে যেতে পারে পরিণামে), আল্লাহ্ তাআলা তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবেন।

এ হাদিস ইউনুস, সালিহ, মামার এবং যুহরী (রহঃ)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণনা করিয়াছেন। (১৪৭৮; মুসলিম ১/৬৮ হাঃ ১৫০) (আঃপ্রঃ ২৬, ইঃফাঃ ২৬)

অধ্যায়ঃ ২/২০. সালামের প্রচলন করা ইসলামের শামিল।

আম্মার (রাঃআঃ) বলেন, তিনটি গুণ যে আয়ত্ত করে, সে (পূর্ণ) ঈমান লাভ করেঃ (১) নিজ থেকে ইনসাফ করা, (২) বিশ্বে সালামের প্রচলন, এবং (৩) অভাবী অবস্থাতেও দান খয়রাত করা।

২৮. আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করিল, ইসলামের কোন্ কাজ সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেনঃ তুমি লোকদের খাদ্য খাওয়াবে এবং চেনা অচেনা সকলকে সালাম দিবে। (১২) (আঃপ্রঃ ২৭, ইঃফাঃ ২৭)

অধ্যায়ঃ ২/২১. স্বামীর প্রতি নাশুকরি। আর এক কুফর অন্য কুফর থেকে ছোট।

এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃআঃ)-এর সূত্রে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

২৯. ইবনু আববাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়। (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের বেশির ভাগই নারীজাতি; (কারণ) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞেস করা হল, তারা কি আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করে? তিনি বললেনঃ তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং অকৃতজ্ঞ হয়। তুমি যদি দীর্ঘদিন তাহাদের কারো প্রতি ইহসান করিতে থাক, অতঃপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখিতে পেলেই বলে ফেলে, আমি কক্ষণো তোমার নিকট হতে ভালো ব্যবহার পাইনি। (৪৩১,৭৪৮,১০৫২,৩২০২,৫১৯৭; মুসলিম ৮/১ হাঃ ৮৮৪, আহমাদ ৩০৬৪) (আঃপ্রঃ ২৮,ইঃফাঃ ২৮)

অধ্যায়ঃ ২/২২. পাপ কাজ জাহিলী যুগের অভ্যাস। আর শির্‌ক ব্যতীত অন্য কোন গুনাহ্‌তে লিপ্ত হওয়াতে ঐ পাপীকে কাফির বলা যাবে না।

যেহেতু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবূ যার (রাঃআঃ)-কে লক্ষ্য করে) বলেছেনঃ তুমি এমন ব্যক্তি, তোমার মধ্যে জাহিলী যুগের অভ্যাস রয়েছে। আর আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ্ তাহাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন করার গুনাহ ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। (সূরাহ্ আন-নিসা ৪/৪৮)

৩০. মারূর (রহঃ) হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি একবার রাবাযা নামক স্থানে আবূ যর (রাঃআঃ)-এর সঙ্গে দেখা করলাম। তখন তাহাঁর পরনে ছিল এক জোড়া কাপড় (লুঙ্গি ও চাদর) আর তাহাঁর ভৃত্যের পরনেও ছিল ঠিক একই ধরনের এক জোড়া কাপড়। আমি তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ একবার আমি জনৈক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং আমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলিলেন, আবূ যার! তুমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তুমি তো এমন ব্যক্তি, তোমার মধ্যে এখনো অন্ধকার যুগের স্বভাব বিদ্যমান। জেনে রেখো, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ্ তাআলা তাহাদের তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। তাই যার ভাই তার অধীনে থাকিবে, সে যেন তাকে নিজে যা খায় তাকে তা-ই খাওয়ায় এবং নিজে যা পরিধান করে, তাকেও তা-ই পরায়। তাহাদের উপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না, যা তাহাদের জন্য অধিক কষ্টদায়ক। যদি এমন কষ্টকর কাজ করিতে দাও, তাহলে তোমরাও তাহাদের সে কাজে সহযোগিতা করিবে। (২৫৪৫, ৬০৫০; মুসলিম ২৭/১০ হাঃ ১৬৬১, আহমাদ ২১৪৮৮) (আঃপ্রঃ ৩০, ইঃফাঃ ৩০)

অধ্যায়ঃ “মুমিনদের দুদল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে তোমরা তাঁদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে।” (হুজরাত ৪৯/৯)

(সংঘর্ষের পাপে লিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও) তাহাদের তিনি মুমিন বলে আখ্যায়িত করিয়াছেন।

৩১. আহনাফ ইবনু কায়স (রহঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (সিফফীনের যুদ্ধে) এ ব্যক্তিকে (আলী (রাঃআঃ)-কে) সাহায্য করিতে যাচিছলাম। আবূ বাকরাহ্ (রাঃআঃ)-এর সঙ্গে আমার দেখা হলে তিনি বললেনঃ তুমি কোথায় যাচ্ছ? আমি বললাম, আমি এ ব্যক্তিকে সাহায্য করিতে যাচ্ছি। তিনি বললেনঃ ফিরে যাও। কারণ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলিতে শুনিয়াছি যে, দুজন মুসলমান তাহাদের তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হলে হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ে জাহান্নামে যাবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল্! এ হত্যাকারী (তো অপরাধী), কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী অপরাধ? তিনি বলিলেন, (নিশ্চয়ই) সেও তার সাথীকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব ছিল। (৬৮৭৫, ৭০৮৩; মুসলিম ৫২/৪ হাঃ ২৮৮৮, আহমাদ ২০৪৪৬) (আঃপ্রঃ ২৯, ইঃফাঃ ২৯)

অধ্যায়ঃ ২/২৩. যুল্‌মের প্রকারসমূহ।

৩২. আবদুল্লাহ্ (ইবনু মাসঊদ) (রাঃআঃ) বর্ণনা করেনঃ যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে শিরকের সাথে মিশ্রিত করেনি- (সূরাহ্ আন্আম ৬/৮২)। এ আয়াত নাযিল হলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহাবীগণ বলিলেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে যুলুম করেনি? তখন আল্লাহ্ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ নিশ্চয়ই শির্ক হচ্ছে অধিকতর যুলুম- (সূরাহ্ লুকমান ৩১/১৩)। (৩৩৬০ ৩৪২৮, ৩৪২৯, ৪৬২৯, ৪৭৭৬, ৬৯১৮, ৬৯৩৭; মুসলিম ১/৫৬ হাঃ ১২৬, আহমাদ ৪০৩১) (আঃপ্রঃ ৩১, ইঃফাঃ ৩১)

অধ্যায়ঃ ২/২৪. মুনাফিকের চিহ্ন

৩৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটিঃ ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে; ২. যখন অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করে এবং ৩. আমানত রাখা হলে খিয়ানাত করে। (২৬৮২,২৭৪৯,৬০৯৫; মুসলিম ১/২৫ হাঃ ৫৯, আহমাদ ৯১৬২) (আঃপ্রঃ ৩২, ইঃফাঃ ৩২)

অধ্যায়ঃ ২/২৪. মুনাফিকের চিহ্ন

৩৪. আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকিবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩. অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে; এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীলভাবে গালাগালি দেয়। শুবা আমাশ (রহঃ) থেকে হাদিস বর্ণনায় সুফইয়ান (রহঃ)-এর অনুসরণ করিয়াছেন। (২৪৫৯,৩১৭৮; মুসলিম ১/২৫ হাঃ ৫৮, আহমাদ ৬৭৮২) (আঃপ্রঃ ৩৩, ইঃফাঃ ৩৩)

অধ্যায়ঃ ২/২৫. লাইলাতুল ক্বাদর ইবাদতে রাত্রিজাগরণ ঈমানের শামিল।

৩৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকির আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত্রি জাগবে, তার পূর্বের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হইবে। (৩৭, ৩৮, ১৯০১, ২০০৮, ২০০৯, ২০১৪; মুসলিম ২/২৫ হাঃ ৭৬০) (আঃপ্রঃ ৩৪, ইঃফাঃ ৩৪)

অধ্যায়ঃ ২/২৬. জিহাদ ঈমানের শামিল

৩৬. আবূ যুরআহ ইবনু আমর ইবনু জারীর (রহঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃআঃ)-কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বের হয়, যদি সে শুধু আল্লাহর উপর ঈমান এবং তাহাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমানের কারণে বের হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ্ তাআলা ঘোষণা দেন যে, আমি তাকে তার পুণ্য বা গানীমাত (ও বাহন) সহ ঘরে ফিরিয়ে আনব কিংবা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব।

আর আমার উম্মতের উপর কষ্টদায়ক হইবে বলে যদি মনে না করতাম তবে কোন সেনাদলের সঙ্গে না গিয়ে বসে থাকতাম না। আমি অবশ্যই এটা ভালবাসি যে, আল্লাহর রাস্তায় নিহত হই, পুনরায় জীবিত হই, পুনরায় নিহত হই, পুনরায় জীবিত হই, পুনরায় নিহত হই। (২৭৮৭, ২৭৯৭, ২৯৭২, ৩১২৩, ৭২২৬, ৭২২৭, ৭৪৫৭, ৭৪৬৩; মুসলিম ৩৩/২৮ হাঃ ১৮৭৬, আহমাদ ৯১৯৮, ৯৪৮১, ৯৪৮৪) (আঃপ্রঃ ৩৫, ইঃফাঃ ৩৫)

অধ্যায়ঃ ২/২৭. রামাদানের রাত্রিতে নফল ইবাদাত ইমানের অঙ্গ

৩৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রমাযানের রাতে ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (৩৫) (আঃপ্রঃ ৩৬, ইঃফাঃ ৩৬)

অধ্যায়ঃ ২/২৮ সওয়াবের আকাঙ্খায় রামাদানের সিয়াম পালন ঈমানের অঙ্গ।

৩৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রমাযানের সিয়াম ব্রত পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (৩৫) (আঃপ্রঃ ৩৭, ইঃফাঃ ৩৭)

অধ্যায়ঃ ২/২৯ দ্বীন হচ্ছে সরল।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীঃ আল্লাহর নিকট নিষ্ঠা ও উদারতার দ্বীনই হচ্ছে অধিক পছন্দনীয়।

৩৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। দ্বীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দ্বীন তার উপর জয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং (মধ্যপন্থার) নিকটে থাক, আশান্বিত থাক এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদাত সহযোগে) সাহায্য চাও। (৫৬৭৩, ৬৪৬৩, ৭২৩৫) (আঃপ্রঃ ৩৮, ইঃফাঃ ৩৮)

অধ্যায়ঃ ২/৩০ সালাত ঈমানের শামিল।

আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ এরূপ নন যে তোমাদের ঈমান ব্যর্থ করবেন- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১৪৩)। অর্থাৎ বায়তুল্লাহর নিকট (বায়তুল মুকাদ্দাসমুখী হয়ে) আদায়কৃত তোমাদের সালাতকে তিনি নষ্ট করবেন না।

৪০. বারাআ (ইবনু আযিব) (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় হিজরত করে সর্বপ্রথম আনসারদের মধ্যে তাহাঁর নানাদের গোত্র (আবূ ইসহাক (রহঃ) বলেন) বা মামাদের গোত্রে এসে ওঠেন। তিনি ষোল-সতের মাস বাইতুল মাকদিসের দিকে ফিরে সালাত আদায় করেন। কিন্তু তাহাঁর পছন্দ ছিল যে, তাহাঁর কিবলা বাইতুল্লাহর দিকে হোক। আর তিনি (বাইতুল্লাহর দিকে) প্রথম যে সালাত আদায় করেন, তা ছিল আসরের সালাত এবং তাহাঁর সঙ্গে একদল লোক সে সালাত আদায় করেন। তাহাঁর সঙ্গে যাঁরা সালাত আদায় করেছিলেন তাঁদের একজন লোক বের হয়ে এক মসজিদে মুসল্লীদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁরা তখন রুকূ অবস্থায় ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ আমি আল্লাহ্কে সাক্ষী রেখে বলছি যে, এইমাত্র আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে মক্কার দিকে ফিরে সালাত আদায় করে এসেছি। তখন তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন সে অবস্থায়ই বাইতুল্লাহর দিকে ঘুরে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বায়তুল মাকদিস-এর দিকে সালাত আদায় করিতেন তখন ইয়াহুদীদের ও আহলি-কিতাবদের নিকট এটা খুব ভাল লাগত; কিন্তু তিনি যখন বাযতুল্লাহর দিকে তাহাঁর মুখ ফিরালেন তখন তারা এটা খুব অপছন্দ করিল। যুহায়র (রহঃ) বলেন, আবূ ইসহাক (রহঃ) বারাআ (রাঃআঃ) থেকে আমার নিকট যে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন, তাতে এ কথাও রয়েছে যে, কিবলা পরিবর্তনের পূর্বে বেশ কিছু লোক মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং শাহাদাত বরণ করেছিলেন, তাঁদের ব্যাপারে আমরা কী বলব, সেটা আমাদের জানা ছিল না। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেনঃ (وَمَا كَانَ اللهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ)  আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের সালাতকে বিনষ্ট করবেন না। (৩৯৯, ৪৪৭৬, ৪৪৯২, ৭২৫২; মুসলিম ৫/২ হাঃ ৫২৫, আহমাদ ১৮৫৬৪, ১৮৭৩২) (আঃপ্রঃ ৩৯, ইঃফাঃ ৩৯)

অধ্যায়ঃ ২/৩১ সুন্দরভাবে ইসলাম গ্রহণ ।

৪১. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃআঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলিতে শুনেছেন, বান্দা যখন ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার ইসলাম উত্তম হয়, আল্লাহ্ তাআলা তার পূর্বের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। অতঃপর শুরু হয় প্রতিফল; একটি পুণ্যের বিনিময়ে দশ হতে সাতশ গুণ পর্যন্ত; আর একটি পাপ কাজের বিনিময়ে ঠিক ততটুকু মন্দ প্রতিফল। অবশ্য আল্লাহ্ যদি ক্ষমা করে দেন তবে তা অন্য ব্যাপার। (আঃপ্রঃ অনুচ্ছেদ পৃঃ ৪৯, ইঃফাঃ পরিচ্ছেদ ৩১)

অধ্যায়ঃ ২/৩১ সুন্দরভাবে ইসলাম গ্রহণ ।

৪২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উত্তমরূপে ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে তখন সে যে আমালে সালেহ করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে সাতশ গুণ পর্যন্ত (পুণ্য) লেখা হয়। আর সে যে পাপ কাজ করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে তার জন্য ঠিক ততটুকুই পাপ লেখা হয়। (মুসলিম ১/৫৯ হাঃ ১২৯, আহমাদ ৮২২৪) (আঃপ্রঃ ৪০, ইঃফাঃ ৪০)

অধ্যায়ঃ ২/৩২ আল্লাহ্ তাআলার কাছে সবচেয়ে অধিক পছন্দনীয় আমল সেটাই যা নিয়মিত করা হয় ।

৪৩. আয়িশাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাহাঁর নিকট আসেন, তাহাঁর নিকট তখন এক মহিলা ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম র্ জিজ্ঞেস করলেনঃ ইনি কে? আয়িশাহ (রাঃআঃ) উত্তর দিলেন, অমুক মহিলা, এ বলে তিনি তাহাঁর সালাতের উল্লেখ করিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ থাম, তোমরা যতটুকু সামর্থ্য রাখ, ততটুকুই তোমাদের করা উচিত। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ্ তাআলা ততক্ষণ পর্যন্ত (সওয়াব দিতে) বিরত হন না, যতক্ষণ না তোমরা নিজেরা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়। আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় আমল সেটাই, যা আমলকারী নিয়মিত করে থাকে। (১১৫১; মুসলিম ২/৩১ হাঃ ৭৮৫, আহমাদ ২৪৯৯) (আঃপ্রঃ ৪১, ইঃফাঃ ৪১)

অধ্যায়ঃ ২/৩৩ ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস।

আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ আমি তাহাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম- (সূরাহ্ কাহাফ ১৮/১৩)। যাতে মুমিনদের ঈমান আরো বেড়ে যায়- (সূরাহ্ মুদ্দাস্সির ৭৪/৩১)। তিনি আরও ইরশাদ করেন, আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম- (সূরাহ্ আল-মায়িদাহ্ ৫/৩)। পূর্ণ জিনিস থেকে কিছু বাদ দেয়া হলে তা অপূর্ণ হয়।

৪৪. আনাস (রাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণও পুণ্য বিদ্যমান থাকিবে, তাকে জাহান্নাম হতে বের করা হইবে এবং যে লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ বলবে আর তার অন্তরে একটি গম পরিমাণও পুণ্য বিদ্যমান থাকিবে তাকে জাহান্নাম হতে বের করা হইবে এবং যে লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও নেকী থাকিবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হইবে।

আবূ আবদুল্লাহ বলেন, আবান (রহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন, আনাস (রাঃআঃ) হতে এবং তিনি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে নেকী -এর স্থলে ঈমান শব্দটি রিওয়ায়াত করিয়াছেন। (৪৪৭৬, ৬৫৬৫, ৭৪১০, ৭৪৪০, ৭৫০৯, ৭৫১০, ৭৫১৬; মুসলিম ১/৮৪ হাঃ ১৯৩, আহমাদ ১২১৫৪) (আঃপ্রঃ ৪২, ইঃফাঃ ৪২)

অধ্যায়ঃ ২/৩৩ ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস।

৪৫. উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। জনৈক ইয়াহূদী তাঁকে বলিলঃ হে আমীরুল মুমিনীন! আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, তা যদি আমাদের ইয়াহুদী জাতির উপর অবতীর্ণ হত, তবে অবশ্যই আমরা সে দিনকে খুশীর দিন হিসেবে পালন করতাম। তিনি বলিলেন, কোন্ আয়াত? সে বলিলঃ আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম- (সূরাহ্ মায়িদাহ্ ৫/৩)। উমার (রাঃআঃ) বলিলেন, এটি যে দিনে এবং যে স্থানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমরা জানি; তিনি সেদিন আরাফায় দাঁড়িয়েছিলেন আর সেটা ছিল জুমুআহর দিন। (৪৪০৭, ৪৬০৬, ৭২৬৮; মুসলিম ৪৩/১ হাঃ ৩০১৭) (আঃপ্রঃ ৪৩, ইঃফাঃ ৪৩)

অধ্যায়ঃ ২/৩৪ যাকাত ইসলামের অঙ্গ

আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাহাঁরই ইবাদত করিতে এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করিতে, যাকাত আদায় করিতে। আর এটি-ই সঠিক দ্বীন। (সূরাহ্ বাইয়িনাহ্ ৯৮/৫)

৪৬. ত্বলহাহ ইবনু উবাইদুল্লাহ্ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক নাজ্দবাসী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলো। তার মাথার চুল ছিল এলোমেলো। আমরা তার কথার মৃদু আওয়ায শুনতে পাচ্ছিলাম, কিন্তু সে কী বলছিল, আমরা তা বুঝতে পারছিলাম না। এভাবে সে নিকটে এসে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করিতে লাগল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। সে বলিল, আমার উপর এ ছাড়া আরো সালাত আছে? তিনি বললেনঃ না, তবে নফল আদায় করিতে পার। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আর রমাযানের সওম। সে বলিল, আমার উপর এছাড়া আরো সওম আছে? তিনি বললেনঃ না, তবে নফল আদায় করিতে পার। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট যাকাতের কথা বলিলেন। সে বলিল, আমার উপর এছাড়া আরো আছে? তিনি বললেনঃ না; তবে নফল হিসেবে দিতে পার। বর্ণনাকারী বলেন, সে ব্যক্তি এই বলে চলে গেলেন; আল্লাহর শপথ আমি এর চেয়ে অধিকও করব না এবং কমও করব না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে কৃতকার্য হইবে যদি সত্য বলে থাকে। (১৮৯১, ২৬৭৮, ৬৯৫৬; মুসলিম ১/২ হাঃ ১১, আহমাদ ১৩৯০) (আঃপ্রঃ ৪৪, ইঃফাঃ ৪৪)

অধ্যায়ঃ ২/৩৫ জানাযাহ্র পিছে পিছে যাওয়া ঈমানের অন্তর্ভুক্ত

৪৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও পুণ্যের আশায় কোন মুসলমানের জানাযার অনুগমন করে এবং তার সালাত-ই-জানাযা আদায় ও দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সঙ্গে থাকে, সে দুই কীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে। প্রতিটি কীরাত হল উহুদ পর্বতের মতো। আর যে ব্যক্তি শুধু তার জানাযা আদায় করে, তারপর দাফন সম্পন্ন হবার পূর্বেই চলে আসে, সে এক কীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে। উসমান আল-মুয়ায্যিন (রহঃ)….আবূ হুরাইরাহ (রাঃআঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। (১৩২৩, ১৩২৫) (আঃপ্রঃ ৪৫, ইঃফাঃ ৪৫)

অধ্যায়ঃ ২/৩৬ অজান্তে মুমিনের আমল বিনষ্ট হবার ভয়।

ইবরাহীম তায়মীয়ূ (রহঃ) বলেনঃ আমার আমলের সাথে যখন আমার কথা তুলনা করি, তখন আশঙ্কা হয়, আমি না মিথ্যাবাদী হই। ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রহঃ) বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এমন ত্রিশজন সহাবীকে পেয়েছি, যাঁরা সকলেই নিজেদের সম্পর্কে নিফাকের ভয় করিতেন। তাঁরা কেউ এ কথা বলিতেন না যে, তিনি জিবরীল (আ) ও মীকাঈল (আ)-এর তুল্য ঈমানের অধিকারী। হাসান (বসরী) (রহঃ) হইতে বর্ণিত। নিফাকের ভয় মুমিনই করে থাকে। আর কেবল মুনাফিকই তা থেকে নিশ্চিত থাকে। তওবা না করে পরস্পর লড়াই করা ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক থাকা। কারণ আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ এবং তারা (মুত্তাকীরা) যা করে ফেলে, জেনে শুনে তার পুনরাবৃত্তি করে না। (সূরাহ্ আলে ইমরান ৩/১৩৫)

৪৮. যুবায়দ (রহঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ ওয়াইল (রহঃ)-কে মুরজিআ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বলিলেন, আবদুল্লাহ (ইবন মাসঊদ) আমার নিকট বলেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী। (৬০৪৪,৭০৭৬; মুসলিম ১/২৮, হাঃ ৬৪, আহমাদ ৩৬৪৭) (আঃপ্রঃ ৪৬, ইঃফাঃ ৪৬)

 পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন / গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ) / অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب

অধ্যায়ঃ ২/৩৬ অজান্তে মুমিনের আমল বিনষ্ট হবার ভয়।

৪৯. উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃআঃ) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লায়লাতুল কদ্র সম্পর্কে জানানোর জন্য বের হলেন। তখন দুজন মুসলমান বিবাদ করছিল। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের লাইলাতুল ক্বাদর সম্পর্কে জানানোর জন্য বেরিয়েছিলাম; কিন্তু তখন অমুক অমুক বিবাদে লিপ্ত থাকায় তা (লাইলাতুল ক্বাদরের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কিত জ্ঞান) উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। আর হয়তো বা এটাই তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক হইবে। তোমরা তা অনুসন্ধান কর (রমাযানের) ২৭, ২৯ ও ২৫ তম রাতে। (২০২৩, ৬০৪৯) (আঃপ্রঃ ৪৭, ইঃফাঃ ৪৭)

অধ্যায়ঃ ২/৩৭ জিবরীল (আঃ)কর্তৃক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ঈমান, ইসলাম, ইহসান ও কিয়ামতের জ্ঞান সম্পর্কে প্রশ্ন।

জিবরীল (আ.) কর্তৃক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ঈমান, ইসলাম, ইহসান ও কিয়ামতের জ্ঞান সম্পর্কে প্রশ্ন আর তাঁকে দেয়া আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উত্তর। তারপর তিনি বললেনঃ জিবরীল (আ.) তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। তিনি এসব বিষয়কে দ্বীন বলে আখ্যায়িত করিয়াছেন। ঈমান সম্পর্কে আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দলকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিবরণ দিয়েছেন এবং আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম গ্রহণ করিতে চাইলে তা কখনো কবূল করা হইবে না। (সূরাহ্ আলু ইমরান৩/ ৮৫)

৫০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনসমক্ষে উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় তাহাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করিলেন ঈমান কী? তিনি বললেনঃ ঈমান হল, আপনি বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহর প্রতি, তাহাঁর মালাকগণের প্রতি, (ক্বিয়ামাতের দিন) তাহাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি এবং তাহাঁর রাসূলগণের প্রতি। আপনি আরো বিশ্বাস রাখবেন পুনরুত্থানের প্রতি। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, ইসলাম কী? তিনি বললেনঃ ইসলাম হল, আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এবং তাহাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন করবেন না, সালাত প্রতিষ্ঠা করবেন, ফরজ যাকাত আদায় করবেন এবং রমাযান-এর সিয়ামব্রত পালন করবেন। ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করিলেন, ইহসান কী? তিনি বললেনঃ আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখিতে না পান তবে (মনে করবেন) তিনি আপনাকে দেখছেন। ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করিলেন, কিয়ামত কবে? তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত নন। তবে আমি আপনাকে ক্বিয়ামাতের আলামতসমূহ বলে দিচ্ছিঃ বাঁদী যখন তার প্রভুকে প্রসব করিবে এবং উটের নগণ্য রাখালেরা যখন বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করিবে। (ক্বিয়ামাতের জ্ঞান) সেই পাঁচটি জিনিসের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ জানে না। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেনঃ কিয়ামাতের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই নিকট……। (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১/৩৪)

এরপর ঐ ব্যক্তি চলে গেলে তিনি বললেনঃ তোমরা তাকে ফিরিয়ে আন। তারা কিছুই দেখিতে পেল না। তখন তিনি বলিলেন, ইনি জিবরীল (আ)। লোকদেরকে তাহাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।

আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসব বিষয়কে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন। (৪৭৭৭; মুসলিম ১/১ হাঃ ৯) (আঃপ্রঃ ৪৮, ইঃফাঃ ৪৮)

অধ্যায়ঃ ২/৩৮

৫১. আবদুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ সুফইয়ান ইবনু হারব আমার নিকট বর্ণনা করেন, হিরাক্লিয়াস তাঁকে বলেছিল, আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তারা (ঈমানদারগণ) সংখ্যায় বাড়ছে না কমছে? তুমি উত্তর দিয়েছিলে, তারা সংখ্যায় বাড়ছে। প্রকৃতপক্ষে ঈমানের ব্যাপার এরূপই থাকে যতক্ষণ না তা পূর্ণতা লাভ করে। আর আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেউ তাহাঁর দ্বীন গ্রহণ করার পর তা অপছন্দ করে মুরতাদ হয়ে যায় কি-না? তুমি জবাব দিয়েছ, না। প্রকৃত ঈমান এরূপই, ঈমানের স্বাদ অন্তরের সাথে মিশে গেলে কেউ তা অপছন্দ করে না। (৭) (আঃপ্রঃ ৪৯, ইঃফাঃ ৪৯)

অধ্যায়ঃ ২/৩৯ দ্বীন রক্ষাকারীর মর্যাদা

৫২. নুমান ইবনু বশীর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলিতে শুনিয়াছি যে, হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়- যা অনেকেই জানে না। যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয়সমূহ হতে বেঁচে থাকিবে, সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করিতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তার উদাহরণ সে রাখালের ন্যায়, যে তার পশু বাদশাহ্ সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে চরায়, অচিরেই সেগুলোর সেখানে ঢুকে পড়ার আশংকা রয়েছে। জেনে রাখ যে, প্রত্যেক বাদশাহরই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। আরো জেনে রাখ যে, আল্লাহর যমীনে তাহাঁর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাহাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ। জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরো আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সে গোশতের টুকরোটি হল অন্তর। (২০৫১; মুসলিম ২২/২০ হাঃ ১৫৯৯, আহমাদ ১৮৩৯৬, ১৮৪০২) (আঃপ্রঃ ৫০,ইঃফাঃ ৫০)

অধ্যায়ঃ ২/৪০ গনীমতের এক পঞ্চমাংশ আদায় করা ঈমানের শামিল।

৫৩. আবূ জামরাহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আববাস (রাঃআঃ)-এর সাথে বসতাম। তিনি আমাকে তাহাঁর আসনে বসাতেন। একবার তিনি বললেনঃ তুমি আমার কাছে থেকে যাও, আমি তোমাকে আমার ধন-সম্পদ হতে কিয়দংশ প্রদান করব। আমি তাহাঁর সাথে দুমাস থাকলাম। অতঃপর একদা তিনি বলিলেন, আবদুল কায়েস-এর একটি প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আগমন করলে তিনি বললেনঃ তোমরা কোন্ গোত্রের? কিংবা বলিলেন, কোন্ প্রতিনিধিদলের? তারা বলিল, রাবীআ গোত্রের। তিনি বললেনঃ স্বাগতম সে গোত্র বা সে প্রতিনিধি দলের প্রতি, যারা অপদস্থ ও লজ্জিত না হয়েই আগমন করেছে। তারা বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! শাহরুল হারাম ব্যতীত অন্য কোন সময় আমরা আপনার নিকট আগমন করিতে পারি না। আমাদের এবং আপনার মধ্যে মুযার গোত্রীয় কাফিরদের বসবাস। তাই আমাদের কিছু স্পষ্ট নির্দেশ দিন, যাতে করে আমরা যাদের পিছনে ছেড়ে এসেছি তাহাদের অবগত করিতে পারি এবং যাতে করে আমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারি। তারা পানীয় সম্বন্ধেও জিজ্ঞেস করিল।

তখন তিনি তাহাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ এবং চারটি বিষয় হতে নিষেধ করিলেন। তাহাদেরকে এক আল্লাহ্তে বিশ্বাস স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে বললেনঃ

এক আল্লাহর প্রতি কীভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা হয় তা কি তোমরা অবগত আছ? তাঁরা বলিল, আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেনঃ তা হচ্ছে এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত আদায় করা, রমাযানের সিয়ামব্রত পালন করা; আর তোমরা গানীমাতের সম্পদ হতে এক-পঞ্চমাংশ আদায় করিবে। তিনি তাহাদেরকে চারটি বিষয় হতে বিরত থাকতে বলিলেন। আর তা হচ্ছেঃ সবুজ কলস, শুকনো কদুর খোল, খেজুর বৃক্ষের গুড়ি হতে তৈরী বাসন এবং আলকাতরা দ্বারা রাঙানো পাত্র। রাবী বলেন, বর্ণনাকারী (মুযাফ্ফাত-এর স্থলে) কখনও আন্নাক্বীর উল্লেখ করিয়াছেন (দুটি শব্দের অর্থ একইরূপ)। তিনি আরো বলেন, তোমরা এ বিষয়গুলো ভালো করে জেনে নাও এবং অন্যদেরও এগুলো অবগত কর।

(৮৭, ৫২৩, ১৩৯৮, ৩০৯৫, ৩৫১০, ৪৩৬৮, ৪২৬৯, ৬১৭৬, ৭২৬৬, ৭৫৫৬; মুসলিম ১/৬ হাঃ ১৭) (আঃপ্রঃ ৫১, ইঃফাঃ ৫১)

অধ্যায়ঃ ২/৪১ আমালসমূহ সংকল্প ও পুন্যের আকাঙ্খা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যক্তির প্রাপ্য তাহাঁর সংকল্প অনুযায়ী।

কাজেই ঈমান, উযূ, সালাত, যাকাত, হাজ্জ, সিয়াম এবং অন্যান্য বিধানসমূহ সবই এর শামিল।

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ বলুন প্রত্যেকেই আপন স্বভাব অনুসারে কর্ম সম্পাদন করে থাকে। (সূরাহ্ আল-ইসরা ১৭/৮৪)

অর্থাৎ সংকল্প অনুসারে। মানুষ তার পরিবারবর্গের জন্য পুণ্যের আশায় যা ব্যয় করে, তা সদাক্বাহ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (এখন মক্কা হতে হিজরাত নেই) তবে কেবল জিহাদ ও নিয়্যাত অবশিষ্ট রয়েছে।

৫৪. উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কর্মসমূহ সংকল্পের সাথে সম্পৃক্ত এবং প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য তার সংকল্প অনুযায়ী। কাজেই যার হিজরাত হইবে আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের উদ্দেশে, তার হিজরাত আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের উদ্দেশে হয়েছে বলেই ধরা হইবে। আর যার হিজরাত হয় দুনিয়া অর্জনের জন্য বা কোন নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশে, তার হিজরাত সে উদ্দেশেই হইবে যে উদ্দেশে সে হিজরাত করেছে।
(১; মুসলিম ৩৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) (আঃপ্রঃ ৫২, ইঃফাঃ ৫২)

অধ্যায়ঃ ২/৪১ আমালসমূহ সংকল্প ও পুন্যের আকাঙ্খা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যক্তির প্রাপ্য তাহাঁর সংকল্প অনুযায়ী।

৫৫. আবূ মাসঊদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ স্বীয় পরিবার-পরিজনের জন্য পুণ্যের আশায় যখন ব্যয় করে তখন সেটা তার জন্য সদাকাহ হয়ে যায়। (৪০০৬, ৫৩৫১) (আঃপ্রঃ ৫৩, ইঃফাঃ ৫৩)

অধ্যায়ঃ ২/৪১ আমালসমূহ সংকল্প ও পুন্যের আকাঙ্খা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যক্তির প্রাপ্য তাহাঁর সংকল্প অনুযায়ী।

৫৬. সাআদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশে যা-ই ব্যয় কর না কেন, তোমাকে তার প্রতিদান নিশ্চিতরূপে প্রদান করা হইবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যা তুলে দাও, তারও। (১২৯৫, ২৭৪২, ২৭৪৪, ৩৯৩৬, ৪৪০৯, ৫৩৫৪, ৫৬৫৯, ৫৬৬৮, ৬৩৭৩, ৬৭৩৩; মুসলিম ২৫/১ হাঃ ১৬২৮, আহমাদ ১৫৪৬) (আঃপ্রঃ ৫৪, ইঃফাঃ ৫৪)

অধ্যায়ঃ ২/৪২ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ “দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা করা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য, তাহাঁর রসূলের জন্য, মুসলিম নেতৃবৃন্দের জন্য এবং সমগ্র মুসলিমের জন্য”।

আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ যদি আল্লাহ্ ও তাহাঁর রাসূলের প্রতি আস্থা রাখে। (সূরাহ্ আত্-তাওবাহ্ ৯/৯১)

৫৭. জারীর ইবনু আবদুল্লাহ্ আল-বাজালী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি সালাত কায়িম করার, যাকাত প্রদান করার এবং সমস্ত মুসলিমের মঙ্গল কামনা করার। (৫২৪, ১৪০১, ২১৫৭, ২৭১৪, ২৭১৫, ৭২০৪; মুসলিম ১/২৩ হাঃ ৫৬, আহমাদ ৩২৮১) (আঃপ্রঃ ৫৫, ইঃফাঃ ৫৫)

অধ্যায়ঃ ২/৪২ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ “দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা করা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য, তাহাঁর রসূলের জন্য, মুসলিম নেতৃবৃন্দের জন্য এবং সমগ্র মুসলিমের জন্য”।

৫৮. যিয়াদ ইবনু ইলাকা (রহঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃআঃ) যেদিন ইন্তিকাল করেন সেদিন আমি জারীর ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃআঃ)-এর নিকটে শুনিয়াছি, তিনি (মিম্বারে) দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও সানা বর্ণনা করে বলিলেন, তোমরা এক আল্লাহ্কে ভয় কর যাঁর কোন অংশীদার নেই এবং নতুন কোন নেতার আগমন না হওয়া পর্যন্ত শৃঙ্খলা বজায় রাখ, অতি সত্বর তোমাদের নেতা আগমন করবেন। অতঃপর জারীর (রাঃআঃ) বলিলেন, তোমাদের নেতার জন্য ক্ষমা চাও; কেননা, তিনি ক্ষমা করা পছন্দ করেন। অতঃপর বলিলেন, একদা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে এসে আরয করলাম, আমি আপনার নিকট ইসলামের বায়আত নিতে চাই। তিনি (অন্যান্য বিষয়ের সাথে) আমার উপর শর্ত দিয়ে বললেনঃ আর সকল মুসলমানের মঙ্গল কামনা করিবে। অতঃপর আমি তাহাঁর নিকট এ শর্তের উপর বায়আত নিলাম। এ মসজিদের প্রতিপালকের শপথ! আমি তোমাদের মঙ্গলকামনাকারী। অতঃপর তিনি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিলেন এবং (মিম্বার হতে) নেমে গেলেন। (৫৭) (আঃপ্রঃ ৫৬, ইঃফাঃ ৫৬)

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply