রোমীয়, তুর্ক, মুশরিক, ইহুদি ও খৃষ্টানদের সাথে যুদ্ধ

রোমীয়, তুর্ক, মুশরিক, ইহুদি ও খৃষ্টানদের সাথে যুদ্ধ

রোমীয়, তুর্ক, মুশরিক, ইহুদি ও খৃষ্টানদের সাথে যুদ্ধ >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৫৬, জিহাদ, অধ্যায়ঃ (৯৩-১০২)=১০টি

৫৬/৯৩. অধ্যায়ঃ রোমীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে।
৫৬/৯৪. অধ্যায়ঃ ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
৫৬/৯৫. অধ্যায়ঃ তুর্কদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
৫৬/৯৬. অধ্যায়ঃ যারা পশমের জুতা পরিধান করিবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
৫৬/৯৭. অধ্যায়ঃ পরাজয়ের সময় সঙ্গীদের সারিবদ্ধ করা, নিজের সওয়ারী থেকে নামা ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা।
৫৬/৯৮. অধ্যায়ঃ মুশরিকদের পরাজিত ও প্রকম্পিত করার দুআ।
৫৬/৯৯. অধ্যায়ঃ কোন মুসলিম কি আহলে কিতাবকে দ্বীনের পথ দেখাবে কিংবা তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিবে?
৫৬/১০০. অধ্যায়ঃ মুশরিকদের হিদায়াত ও মন আকর্ষণের জন্য দুআ।
৫৬/১০১. অধ্যায়ঃ ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের প্রতি ইসলামের দাওয়াত এবং কোন অবস্থায় তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা যায়?
৫৬/১০২. অধ্যায়ঃ ইসলাম ও নবুওয়াতের দিকে নাবী (সাঃআঃ)-এর আহ্বান আর মানুষ যেন আল্লাহ ব্যতীত তাদের পরস্পরকে রব হিসেবে গ্রহণ না করে।

৫৬/৯৩. অধ্যায়ঃ রোমীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে।

২৯২৪

উমাইর ইবনু আসওয়াদ আনসী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি উবাদা ইবনু সামিত (রাদি.)-এর নিকট আসলেন। তখন উবাদা (রাদি.) হিমস উপকূলে তাহাঁর একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন উম্মু হারাম। উমাইর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, উম্মু হারাম (রাদি.) আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনেছেন যে, আমার উম্মাতের মধ্যে প্রথম যে দলটি নৌ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিবে তারা যেন জান্নাত অবধারিত করে ফেলল। উম্মু হারাম (রাদি.) বলেন, আমি কি তাদের মধ্যে হবো? তিনি বলিলেন, তুমি তাদের মধ্যে হইবে। উম্মু হারাম (রাদি.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! অতঃপর নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, আমার উম্মাতের প্রথম যে দলটি কায়সার-এর রাজধানী আক্রমণ করিবে তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)! আমি কি তাদের মধ্যে হবো? নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, না।

৫৬/৯৪. অধ্যায়ঃ ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

২৯২৫

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমরা ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবে। এমনকি তাদের কেউ যদি পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকে তাহলে পাথরও বলবে, হে আল্লাহর বান্দা, আমার পেছনে ইয়াহূদী আছে, তাকে হত্যা কর।

২৯২৬

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হইবে না যে পর্যন্ত না তোমরা ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবে। এমনকি কোন ইয়াহূদী পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকলে, পাথর বলবে, হে মুসলিম, আমার পেছনে ইয়াহূদী আছে, তাকে হত্যা কর।

৫৬/৯৫. অধ্যায়ঃ তুর্কদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

২৯২৭

আমর ইবনু তাগলিব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, কিয়ামতের আলামতসমূহের একটি এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবে, যারা পশমের জুতা পরিধান করিবে। কিয়ামতের আর একটি আলামত এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করিবে, যাদের মুখমণ্ডল হইবে চওড়া, তাদের মুখমণ্ডল যেন পিটানো চামড়ার ঢাল।

২৯২৮

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হইবে না, যতদিন তোমরা এমন তুর্ক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করিবে, যাদের চোখ ছোট, চেহারা লাল, নাক চেপ্‌টা এবং মুখমণ্ডল পেটানো চামড়ার ঢালের মত। আর ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হইবে না, যতদিন না তোমরা এমন এক জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করিবে, যাদের জুতা হইবে পশমের।

৫৬/৯৬. অধ্যায়ঃ যারা পশমের জুতা পরিধান করিবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

২৯২৯

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হইবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করিবে যাদের জুতা হইবে পশমের। আর কিয়ামত সংঘটিত হইবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করিবে, যাদের মুখমণ্ডল হইবে পিটানো চামড়ার ঢালের মত। সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আরাজ সূত্রে আবু হুরাইরা (রাদি.) থেকে আবুযযিনাদ এই রেওয়ায়তে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; তাদের চোখ হইবে ছোট, নাক হইবে চেপ্টা, তাদের চেহারা যেন পিটানো চামড়ার ঢাল।

৫৬/৯৭. অধ্যায়ঃ পরাজয়ের সময় সঙ্গীদের সারিবদ্ধ করা, নিজের সওয়ারী থেকে নামা ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা।

২৯৩০

বারা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তাকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করিল, হে আবু উমারা! হুনায়নের দিন আপনারা কি পলায়ন করেছিলেন? তিনি বলিলেন, না, আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) পলায়ন করেননি। বরং তাহাঁর কিছু সংখ্যক নওজোয়ান সাহাবী হাতিয়ার ছাড়াই অগ্রসর হয়ে গিয়েছিলেন। তারা বনূ হাওয়াযিন ও বনূ নাসর গোত্রের সুদক্ষ তীরন্দাজদের সম্মুখীন হন। তাদের কোন তীরই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। তারা এদের প্রতি এমনভাবে তীর বর্ষণ করিল যে, তাদের কোন তীরই ব্যর্থ হয়নি। সেখান থেকে তারা নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন। নাবী (সাঃআঃ) তখন তাহাঁর সাদা খচ্ছরটির পিঠে ছিলেন এবং তাহাঁর চাচাতো ভাই আবু সুফিয়ান ইবনু হারিস ইবনু আবদুল মুত্তালিব তাহাঁর লাগাম ধরে ছিলেন। তখন তিনি নামেন এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি নাবী, এ কথা মিথ্যা নয়। আমি আবদুল মুত্তালিবের পুত্র। অতঃপর তিনি সাহাবীদের সারিবদ্ধ করেন।

৫৬/৯৮. অধ্যায়ঃ মুশরিকদের পরাজিত ও প্রকম্পিত করার দুআ।

২৯৩১

আলী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধের দিন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) দুআ করেন, আল্লাহ তাদের (মুশরিকদের) ঘর ও কবর আগুনে পূর্ণ করুন। কেননা তারা মধ্যম সালাত (তথা আসরের সালাত) থেকে আমাদেরকে ব্যস্ত করে রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়।

২৯৩২

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) কুনূতে নাযিলায় এই দুআ করিতেন, হে আল্লাহ! আপনি সালামা ইবনু হিশামকে নাজাত দিন। হে আল্লাহ! ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালীদকে নাজাত দিন। হে আল্লাহ! আয়্যাশ ইবনু আবী বারীআ-কে নাজাত দিন। হে আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদের নাজাত দিন। হে আল্লাহ! মুযার গোত্রকে সমূলে উৎপাটিত করুন। হে আল্লাহ! কাফিরদের উপর ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ নাযিল করুন।

২৯৩৩

আবদুল্লাহ ইবনু আওফা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আহযাবের দিনে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) এই বলে মুশরিকদের বিরুদ্ধে দুআ করেছিলেন যে, হে কিতাব নাযিলকারী, সত্বর হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ! হে আল্লাহ! তাদের সকল দলকে পরাজিত করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের পর্যুদস্ত ও প্রকম্পিত করুন।

২৯৩৪

আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) কাবার ছায়ায় সালাত আদায় করছিলেন। তখন আবু জাহল ও কুরায়েশদের কিছু ব্যক্তি পরামর্শ করে। সেই সময় মক্কার বাইরে একটি উট যবহ হয়েছিল। কুরায়শরা একজন পাঠিয়ে সেখান থেকে এর ভুঁড়ি নিয়ে এলো এবং তারা নাবী (সাঃআঃ)-এর পিঠে ঢেলে দিল। অতঃপর ফাতিমা (রাদি.) এসে এটি তাহাঁর থেকে সরিয়ে দিলেন। এই সময় নাবী (সাঃআঃ) তাদের বিরুদ্ধে দুআ করেন, হে আল্লাহ! আপনি কুরায়শদের ধ্বংস করুন। হে আল্লাহ! আপনি কুরায়শদের ধ্বংস করুন। হে আল্লাহ! আপনি কুরায়শদের ধ্বংস করুন। অর্থাৎ আবু জাহল, ইবনু হিশাম, উতবা ইবনু রবীআহ, শায়বা ইবনু রবীআহ, ওয়ালীদ ইবনু উতবাহ, উবাই ইবনু খালফ এবং উকবা ইবনু আবী মুআইত। আবদুল্লাহ (রাদি.) বলেন, অতঃপর আমি তাদের সকলকে বদরের একটি পরিত্যক্ত কূয়ায় নিহত দেখেছি। আবু ইসহাক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি সপ্তম ব্যক্তির নাম ভুলে গিয়েছি। আবু আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, ইউসুফ ইবনু “ইসহাক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আবু ইসহাক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সূত্রে উমাইয়া ইবনু খালফ বলেছেন। শুবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, উমাইয়া অথবা উবাই। তবে সঠিক হলো উমাইয়াহ।

২৯৩৫

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

একদা কয়েকজন ইয়াহূদী আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর নিকট আসল এবং বলিল, তোমার মরণ হোক। আয়েশা (রাদি.) তাদের অভিশাপ দিলেন। তাতে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন, তোমার কী হলো? আয়েশা (রাদি.) বলিলেন, তারা কী বলেছে, আপনি কি তা শুনেননি? আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, আমি বলেছি তোমাদের উপর তা কি তুমি শোননি?

৫৬/৯৯. অধ্যায়ঃ কোন মুসলিম কি আহলে কিতাবকে দ্বীনের পথ দেখাবে কিংবা তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিবে?

২৯৩৬

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) কায়সারের নিকট চিঠি লিখেছিলেন এবং এতে বলেছিলেন, যদি তুমি মুখ ফিরিয়ে রাখ তাহলে প্রজাদের পাপের বোঝা তোমার উপরেই চাপানো হইবে।

৫৬/১০০. অধ্যায়ঃ মুশরিকদের হিদায়াত ও মন আকর্ষণের জন্য দুআ।

২৯৩৭

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তুফাইল ইবনু আমর দাওসী ও তাহাঁর সঙ্গীরা নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট এসে বলিল, হে আল্লাহর রাসুল! দাওস গোত্রের লোকেরা (ইসলাম গ্রহণে) অবাধ্যতা করেছে ও অস্বীকার করেছে। আপনি তাদের বিরুদ্ধে দুআ করুন। অতঃপর বলা হলো, দাওস গোত্র ধ্বংস হোক। তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, হে আল্লাহ! আপনি দাওস গোত্রকে হিদায়াত করুন এবং তাদেরকে ইসলামে নিয়ে আসুন।

৫৬/১০১. অধ্যায়ঃ ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের প্রতি ইসলামের দাওয়াত এবং কোন অবস্থায় তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা যায়?

নাবী (সাঃআঃ) কায়সার ও কিস্‌রা-এর নিকট যা লিখেছিলেন এবং যুদ্ধের পূর্বে ইসলামের দাওয়াত দেয়া।

২৯৩৮

আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন নাবী (সাঃআঃ) রোম-সম্রাটের প্রতি লেখার ইচ্ছা করেন তখন তাকে বলা হলো যে, তারা সীল মোহরকৃত পত্র ব্যতীত পাঠ করে না। অতঃপর তিনি রূপার একটি মোহর প্রস্তুত করেন। আমি এখনো যেন তাহাঁর হাতে এর শুভ্রতা দেখছি। তিনি তাতে অংকিত করেছিলেন, “মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ”।

২৯৩৯

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাহাঁর পত্রসহ কিস্‌রার নিকট দূত পাঠালেন এবং দূতকে নির্দেশ দেন যে, তা যেন বাহরাইনের শাসনকর্তার কাছে দেয়া হয়। পরে বাহরায়নের শাসনকর্তা তা কিসরার নিকট পৌঁছিয়ে দেন। কিস্‌রা যখন তা পড়ল তা ছিঁড়ে টুকরো করে ফেলল। আমার মনে হয়, সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন যে, নাবী (সাঃআঃ) তাদের ব্যাপারে দুআ করেন, যেন তাদেরকে একেবারে ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হয়।

৫৬/১০২. অধ্যায়ঃ ইসলাম ও নবুওয়াতের দিকে নাবী (সাঃআঃ)-এর আহ্বান আর মানুষ যেন আল্লাহ ব্যতীত তাদের পরস্পরকে রব হিসেবে গ্রহণ না করে।

আল্লাহ তাআলার বানীঃ “আল্লাহ কোন লোককে কিতাব, হিকমাত ও নাবুওয়াত দান করবেন তারপর সে লোকদের বলবেঃ তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে আমার বান্দা হয়ে যাও এমন কথা শোভা পায় না? বরং সে বলবেঃ তোমরা আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও, এজন্য যে, তোমরা শিখাও কিতাব এবং নিজেরাও পাঠ কর।” (আল ইমরান ৭৯)

২৯৪০

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) কায়সারকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিঠি লেখেন এবং দেহইয়া কালবী (রাদি.)-এর মারফত সে চিঠি পাঠান এবং তাকে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) নির্দেশ দেন যেন তা বুসরার গভর্নরের নিকট দেয়া হয়, জাতে তিনি তা কায়সারের নিকট পৌঁছিয়ে দেন। আল্লাহ যখন পারস্যের সৈন্য বাহিনীকে কায়সারের এলাকা থেকে হটিয়ে দেন, তখন আল্লাহর অনুগ্রহের এই শুকরিয়া হিসেবে কায়সার হিমস থেকে পায়ে হেঁটে বায়তুল মুকাদ্দাস সফর করেন। এ সময় তাহাঁর নিকট আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর চিঠি এসে পৌঁছলে তা পাঠ করে তিনি বলিলেন যে, তাহাঁর গোত্রের কাউকে খোঁজ কর যাতে আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিতে পারি।

২৯৪১

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু সুফিয়ান (রাদি.) আমাকে জানিয়াছেন যে, সে সময় আবু সুফিয়ান (রাদি.) কুরাইশদের কিছু লোকের সঙ্গে বাণিজ্য উপলক্ষে সিরিয়ায় ছিলেন। এ সময়টি ছিল আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) ও কাফির কুরাইশদের মধ্যে সন্ধির যুগ। আবু সুফিয়ান (রাদি.) বর্ণনা করেন যে, কায়সারের সেই দূতের সঙ্গে সিরিয়ার কোন স্থানে আমাদের দেখা হলে সে আমাকে আমার সঙ্গী-সাথীসহ বায়তুল মুকাদ্দাসে নিয়ে গেল। অতঃপর আমাদের কায়সারের দরবারে হাজির করা হল। তখন কায়সার মুকুট পরিহিত অবস্থায় রাজ সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন। রোমের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাহাঁর পার্শ্বে ছিলেন। অতঃপর তিনি তাহাঁর দোভাষীকে বলিলেন, তাদের জিজ্ঞেস কর, যিনি নিজেকে নাবী বলে দাবী করেন, এদের মধ্যে তাহাঁর নিকটাত্মীয় কে?

আবু সুফিয়ান (রাদি.) বলিলেন, আমি বললাম, বংশের দিক দিয়ে আমি তাহাঁর সর্বাধিক নিকটতম। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তোমার ও তাহাঁর মধ্যে কি ধরনের আত্মীয়তা রয়েছে? আমি বললাম, তিনি আমার চাচাতো ভাই। সে সময় উক্ত কাফেলায় আমি ব্যতীত আবদ মানাফ গোত্রের আর কেউ ছিল না। কায়সার বলিলেন, তাকে আমার নিকট নিয়ে এস। অতঃপর বাদশাহর নির্দেশে আমার সকল সঙ্গীকে আমার পেছনে কাঁধের নিকট সমবেত করা হল। অতঃপর কায়সার তর্জমাকারীকে বলিলেন, লোকটির সাথীদের জানিয়ে দাও, আমি তার নিকট সেই ব্যক্তিটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিতে চাই, যিনি নাবী বলে দাবী করেন। যদি সে মিথ্যা বলে, তবে তোমরা তার প্রতিবাদ করিবে।

আবু সুফিয়ান (রাদি.) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি যদি এ ব্যাপারে লজ্জাবোধ না করতাম যে, আমার সাথীরা আমাকে মিথ্যাচারী বলে প্রচার করিবে, তাহলে তাহাঁর প্রশ্নের জবাবে নাবী সম্পর্কে কিছু (মিথ্যা) কথা বলতাম। কিন্তু আমি লজ্জাবোধ করলাম যে, আমার সঙ্গীরা আমি মিথ্যা বলেছি বলে প্রচার করিবে। ফলে আমি সত্যই বললাম।

অতঃপর তিনি তাহাঁর দোভাষীকে বলিলেন, জিজ্ঞেস করো, তোমাদের মধ্যে নাবীর বংশ মর্যাদা কিরূপ? আমি বললাম, আমাদের মধ্যে তিনি উচ্চ বংশীয়। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তাহাঁর বংশের অন্য কোন ব্যক্তি কি ইতোপূর্বে এরূপ দাবী করেছে? জবাব দিলাম, না। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তাহাঁর এ নবুওয়াতের আগে কোন সময় কি তাঁকে মিথ্যার অভিযোগে তোমরা অভিযুক্ত করেছ? আমি বললাম, না। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তাহাঁর পূর্ব পুরুষদের কেউ কি বাদশাহ ছিল? আমি বললাম, না। তিনি বলিলেন, সবলেরা তাহাঁর অনুসারী হচ্ছে, না দুর্বল (শ্রেণীর) লোকেরা? আমি বললাম, বরং দুর্বলরাই। তিনি বলিলেন, এদের সংখ্যা কি বৃদ্ধি পাচ্ছে না কমছে? আমি বললাম, বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলিলেন, তাহাঁর দীনে প্রবেশ করার পর কেউ কি সে দ্বীনের প্রতি অপছন্দ করে তা পরিত্যাগ করেছে? আমি বললাম, না। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তিনি কি কখনো চুক্তি ভঙ্গ করিয়াছেন? আমি বললাম, না। তবে আমরা বর্তমানে তাহাঁর সঙ্গে একটি চুক্তির মেয়াদে আছি এবং আশঙ্কা করছি যে, তিনি তা ভঙ্গ করিতে পারেন। আবু সুফিয়ান (রাদি.) বলেন, আমার বক্তব্যে এই কথা ব্যতীত এমন কোন কথা লুকানো সম্ভব হয়নি যাতে রাসুল (সাঃআঃ)-কে খাট করা হয় আর আমার প্রতি অপপ্রচারের আশঙ্কা না হয়। কায়সার জিজ্ঞেস করিলেন, তোমরা কি তাহাঁর বিরুদ্ধে এবং তিনি কি তোমাদের বিরুদ্ধে কখনো যুদ্ধ করিয়াছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, তাহাঁর ও তোমাদের মধ্যে যুদ্ধে ফলাফল কী? আমি বললাম, যুদ্ধ কূয়ার বালতির মত। কখনো তিনি আমাদের উপর বিজয়ী হন, কখনো আমরা তাহাঁর উপর বিজয়ী হই। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তিনি কী বিষয়ে আদেশ করেন? আমি বললাম, তিনি আমাদের আদেশ করেন, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করিতে এবং তাহাঁর সঙ্গে কিছুই শরীক না করিতে। আমাদের পিতৃ পুরুষেরা যে সবের ইবাদত করত তিনি সে সবের ইবাদত করিতে আমাদের নিষেধ করেন। আর তিনি আমাদের আদেশ করেন সালাত আদায় করিতে; সদকা দিতে, পূত পবিত্র থাকতে, চুক্তি পালন করিতে এবং আমানত আদায় করিতে।

আমি তাকে এসব জানালে তিনি দোভাষীকে আদেশ দিলেন, তাকে বলো আমি তোমাদের মধ্যে তাহাঁর বংশ মর্যাদা সম্পর্কে জানতে চাইলে তুমি বলেছ যে, তিনি উচ্চ বংশীয়। সেরূপই রাসুলগণ তাঁদের কাওমের উচ্চ বংশেই প্রেরিত হন। আমি তোমাদের নিকট জানতে চেয়েছিলাম যে, তোমাদের কেউ কি এর আগে এ ধরনের দাবী করেছে? তুমি বললে, না। তোমাদের মধ্যে ইতোপূর্বে যদি কোন ব্যক্তি এরূপ কথা বলিতে থাকতো, তাহলে আমি বলতাম, ব্যক্তিটি পূর্ব কথিত একটি কথারই অনুসরণ করেছে। আমি জানতে চেয়েছি, তাহাঁর এ (নবুওয়্যাত) দাবীর পূর্বে কি তোমরা তাঁকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলে? তুমি বলেছ, না। এতে আমি বুজতে পেরেছি যে, যে ব্যক্তি মানুষের ব্যাপারে মিথ্যা বলেননি, তিনি আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা বলবেন, এমন হইতে পারেনা। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তাহাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ কি বাদশাহ ছিলেন? তুমি বলেছ, না। আমি বলছি, যদি তাহাঁর পিতৃ পুরুষদের কেউ বাদশাহ থাকতো, তাহলে আমি বলতাম, সে পিতৃ পুরুষদের রাজত্ব উদ্ধার করিতে ইচ্ছুক। আমি তোমার নিকট জানতে চেয়েছি যে, প্রভাবশালী লোকেরাই তাহাঁর অনুসরণ করছে, না দুর্বল (শ্রেণীর) লোকেরা? তুমি বলেছ, দুর্বলরাই। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের (দুর্বল) লোকেরাই রাসুলগণের অনুসারী হয়ে থাকে। আমি তোমার নিকট জানতে চেয়েছি, তাদের সংখ্যা বাড়ছে না কমছে? তুমি বলেছ, বাড়ছে। ঈমান এভাবেই (বাড়তে বাড়তে) পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তাহাঁর দ্বীন গ্রহণ করার পর কেউ কি অসন্তুষ্ট হয়ে তা পরিত্যাগ করেছে? তুমি বলেছ, না। ঈমান এরূপই হয়ে থাকে, যখন তা হৃদয়ের গভীরে পৌঁছে, তখন কেউ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয় না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি যে, তিনি কি চুক্তিভঙ্গ করেন? তুমি বলেছ, না। ঠিকই, রাসুলগন কখনো চুক্তিভঙ্গ করেন না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তোমরা কি কখনো তাহাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করেছ এবং তিনি কি কখনো তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিয়াছেন? তুমি বলেছ, করিয়াছেন। তোমাদের ও তাহাঁর মধ্যকার লড়াই কূপের বালতির মতো। কখনো তোমরা তাহাঁর উপর জয়ী হয়েছ, আমার কখনো তিনি তোমাদের উপর জয়ী হয়েছেন। এভাবেই রাসুলগন পরীক্ষিত হন এবং পরিণাম তাঁদেরই অনুকূল হয়। আমি আরো জিজ্ঞেস করেছি, তিনি তোমাদের কী কী বিষয়ে আদেশ করে থাকেন? তুমি বলেছ, তিনি তোমাদের আদেশ করেন যেন তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাহাঁর সঙ্গে কিছুই শরীক না কর। আর তিনি তোমাদের পিতৃপুরুষেরা যে সবের ইবাদত করত তা থেকে নিষেধ করেন আর তোমাদের নির্দেশ দেন, সালাত আদায় করিতে, সদকা দিতে, পূত পবিত্র থাকতে, চুক্তি পালন করিতে, আমানাত আদায় করিতে। এসব নাবীগনের গুনাবলী। আমি জানতাম, তাহাঁর আগমন ঘটবে। কিন্তু তিনি তোমাদের মধ্যে আসবেন, সে ধারণা আমার ছিল না। তুমি যা যা বললে, তা যদি সত্য হয়, তবে অচিরেই তিনি আমার এই পায়ের নীচের জায়গার মালিক হয়ে যাবেন। আমি যদি আশা করিতে পারতাম যে, তাহাঁর নিকট পৌঁছতে পারবো, তবে কষ্ট করে তাহাঁর সাক্ষাতের চেষ্টা করতাম। যদি আমি তাহাঁর নিকট থাকতাম, তবে তাহাঁর দুটি পা ধুয়ে দিতাম।

আবু সুফিয়ান (রাদি.) বলেন, তার পর তিনি তাহাঁর পত্রখানি চেয়ে নিলেন। তা পাঠ করে শুনানো হলো। তাতে ছিলঃ

বিস্‌মিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আল্লাহর বান্দা ও তাহাঁর রাসুল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোমের সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি……যারা হিদায়াতের অনুসরণ করে তাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। আপনি ইসলাম গ্রহণ করলে আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুন প্রতিফল দান করবেন। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেন তাহলে রোমের সমস্ত প্রজার পাপ আপনার উপর বর্তাবে। “হে কিতাবীগন! এসো একটি কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই, যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো ইবাদত না করি, কোন কিছুকে তাহাঁর শরীক না করি এবং আমাদের কেউ যেন আল্লাহ ব্যতীত কাউকে রব হিসেবে গ্রহণ না করে। আর যদি তারা মুখ ঘুরিয়ে নেয়, তবে বলঃ তোমরা সাক্ষী থাক, আমরা মুসলিম।” (সুরা আল ইমরানঃ ৬৪)

আবু সুফিয়ান (রাদি.) বলেন, তার কথা শেষ হলে তার পার্শ্বের রোমের পদস্থ ব্যক্তিরা চিৎকার করিতে লাগল এবং হৈ চৈ করিতে লাগল। তারা কী বলছিল তা আমি বুঝতে পারিনি এবং নির্দেশক্রমে আমাদের বের করে দেয়া হলো। আমি সঙ্গীদের নিয়ে বেরিয়ে এসে তাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে, তাদের বললাম, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সাঃআঃ)-এর ব্যাপার তো বিরাট আকার ধারণ করেছে। এই যে রোমের বাদশাহ তাঁকে ভয় করছে। আবু সুফিয়ান (রাদি.) বলিলেন, আল্লাহর কসম! অতঃপর থেকে আমি অপমানবোধ করিতে লাগলাম এবং এ ব্যাপারে আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মিল যে, মুহাম্মাদের দাওয়াত অচিরেই বিজয় লাভ করিবে, এমনকি শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা আমার অন্তরে ইসলাম প্রবেশ করিয়ে দিলেন যদিও আমি অপছন্দ করছিলাম।

২৯৪২

সাহল ইবনু সাআদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি খায়বারের যুদ্ধের সময় নাবী (সাঃআঃ) কে বলিতে শুনেছেন, আমি এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দিব যার হাতে বিজয় আসবে। অতঃপর কাকে পতাকা দেয়া হইবে, সেজন্য সকলেই আশা করিতে লাগলেন। পরদিন সকালে প্রত্যেকেই এ আশায় অপেক্ষা করিতে লাগলেন যে, হয়ত তাকে পতাকা দেয়া হইবে। কিন্তু নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, আলী কোথায়? তাঁকে জানানো হলো যে, তিনি চক্ষুরোগে আক্রান্ত। তখন তিনি আলীকে ডেকে আনতে বলিলেন। তাকে ডেকে আনা হল। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাহাঁর মুখের লালা তাহাঁর উভয় চোখে লাগিয়ে দিলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি এমনভাবে সুস্থ হয়ে গেলেন যে, তাহাঁর যেন কোন অসুখই ছিল না। তখন আলী (রাদি.) বলিলেন, আমি তাদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যাব, যতক্ষণ না তারা আমাদের মত হয়ে যায়। নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, তুমি সোজা এগিয়ে যাও। তুমি তাদের প্রান্তরে উপস্থিত হলে প্রথমে তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানাও এবং তাদের কর্তব্য সম্পর্কে তাদের অবহিত কর। আল্লাহর কসম, যদি একটি ব্যক্তিও তোমার দ্বারা হিদায়াত লাভ করে, তবে তা তোমার জন্য লাল রংয়ের উটের চেয়েও উত্তম।

২৯৪৩

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) কোন কাওমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গেলে সকাল না হওয়া পর্যন্ত আক্রমন করিতেন না। আজান শুনলে আক্রমণ থেকে বিরত থাকতেন। আযান না শুনলে সকাল হবার সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণ করিতেন। আমরা খায়বারে রাত্রিকালে অবতরণ করলাম।

২৯৪৪

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) যখন আমাদেরকে নিয়ে কোন যুদ্ধে যেতেন …………

২৯৪৫

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) খায়বারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে রাতে সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি জিহাদের উদ্দেশে রাত্রিকালে কোন জনপদে গেলে সকাল না হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর আক্রমণ করেন না। যখন সকাল হলো ইয়াহূদীরা কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে বের হল তখন নাবী (সাঃআঃ)-কে দেখিতে পেয়ে বলে উঠল, মুহাম্মাদ, আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ তাহাঁর পুরো সেনাবাহিনী নিয়ে উপস্থিত। নাবী (সাঃআঃ) তখন আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করেন এবং বলিলেন, খায়বার ধ্বংস হল, নিশ্চয়ই আমরা যখন কোন জনপদের আঙ্গিনায় উপস্থিত হই, তখন সতর্ককৃত লোকদের সকাল কত মন্দ!

২৯৪৬

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, আমাকে ততক্ষন পর্যন্ত লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ করার আদেশ দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলে আর যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে সে তার জান ও মাল আমার হাত থেকে বাঁচিয়ে নিল। অবশ্য ইসলামের কর্তব্যাদি আলাদা, আর তাহাঁর হিসাব আল্লাহর উপর ন্যস্ত।

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply