ইহরাম বাঁধার সময় কুরবানীর পশুর কুঁজের কিছু অংশ ফেঁড়ে দেয়া

ইহরাম বাঁধার সময় কুরবানীর পশুর কুঁজের কিছু অংশ ফেঁড়ে দেয়া

ইহরাম বাঁধার সময় কুরবানীর পশুর কুঁজের কিছু অংশ ফেঁড়ে দেয়া >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩২. অধ্যায়ঃ ইহরাম বাঁধার সময় কুরবানীর পশুর কুঁজের কিছু অংশ ফেঁড়ে দেয়া এবং গলায় মালা পরানো

২৯০৬

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে যুহরের নামাজ আদায় করিলেন। অতঃপর নিজের [কুরবানীর] উষ্ট্রী নিয়ে আসতে বলিলেন এবং কুঁজের ডান দিক দিয়ে ফেড়ে দিলেন। ফলে রক্ত প্রবাহিত হল। অতঃপর তিনি এর গলায় দুটি পাদুকার মালা পরিয়ে দিলেন। এরপর নিজের বাহনে আরোহণ করিলেন। অতঃপর তা যখন তাঁকে নিয়ে আল বায়দায় পৌঁছল, তখন তিনি হজ্জের তালবিয়াহ পাঠ করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৮২, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৮১]

২৯০৭

ক্বাতাদাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে শুবাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, অবশ্য তিনি এখানে বলেছেন, যখন নবী [সাঃআঃ] যুল হুলায়ফাহ্‌ এলেন”- তবে “যুহরের নামাজ আদায় করিয়াছেন” এ কথা উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৮২]

২৯০৮

ক্বাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু হাস্সান আরাজ [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি, আল হুযায়ম গোত্রের এক ব্যক্তি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে বলিল, আপনি এ কী ফাতাওয়া দিচ্ছেন যা নিয়ে লোকেরা জটিলতায় পড়েছে? [তা এই] যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ করিবে, সে ইহরামমুক্ত হইতে পারবে। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, এটা তোমাদের নবী [সাঃআঃ]-এর সুন্নাত, তা তোমাদের মনঃপুত হোক বা না হোক। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৮৩]

২৯০৯

আবু হাস্সান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে বলা হল, এ ব্যাপারটি লোকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ করে, সে হালাল হয়ে যায় এবং তার ইহরাম উমরায় পরিণত হয় [যদিও হজ্জের ইহরাম হয়ে থাকে]। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, এটা তোমাদের নবী [সাঃআঃ]-এর সুন্নাত যদিও তোমাদের নাক ধূলিমলিন হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৮৪]

২৯১০

আত্বা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিতেন, যে ব্যক্তি [মাক্কায় পৌঁছে] বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ করিল, সে ইহরামমুক্ত হয়ে গেল- সে হজ্জ পালনকারী হোক অথবা অন্য কিছু [উমরাহ্‌] পালনকারী। আমি [ইবনি জুরায়জ] আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কিসের ভিত্তিতে এ কথা বলেন? তিনি বলিলেন, আল্লাহর কালামের ভিত্তিতে :

‏ ثُمَّ مَحِلُّهَا إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيقِ

“অতঃপর এগুলো কুরবানীর স্থান মর্যাদাবান ঘরের নিকট” – [সুরা হজ্জ ২২ : ৩৩]। আমি বললাম, তা তো আরাফাহ্‌ থেকে ফেরার পর। তিনি বলিলেন, ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিতেন, [কুরবানীর স্থান সম্মানিত ঘরের নিকট] তা আরাফায় উকূফের পর হোক অথবা পূর্বে। তিনি নবী [সাঃআঃ]-এর কার্যক্রম থেকে প্রমাণ গ্রহণ করিয়াছেন। নবী [সাঃআঃ] স্বয়ং বিদায় হজ্জের সময়ে ইহরাম খোলার নির্দেশ দেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৮৮৫]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply