আমর ইবনি আবাসাহ্ [রাদি.]-এর ইসলাম গ্রহণ

আমর ইবনি আবাসাহ্ [রাদি.]-এর ইসলাম গ্রহণ

আমর ইবনি আবাসাহ্ [রাদি.]-এর ইসলাম গ্রহণ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২০. অধ্যায়ঃ আমর ইবনি আবাসাহ্ [রাদি.]-এর ইসলাম গ্রহণ

১৮১৫

ইকরামাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

শাদ্দাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি], আবু উমামাহ্ ও ওয়াসিলাহ্ [রাদি.]–এর সাক্ষাৎ লাভ করেছে এবং সিরিয়ায় আনাস [রাদি.]-এর সাহচর্য লাভ করেছে এবং তার উচ্ছসিত প্রশংসা ও গুণগান করেছে। আবু উসামাহ্ [রাদি.] বলেন, আম্‌র ইবনি আবাসাহ্ আস্ সুলামী [রাদি.] বলেছেন, আমি জাহিলী যুগে ধারণা করতাম যে, সব লোকই পথভ্রষ্ট ও তাদের কোন ধর্ম নেই। তারা দেব-দেবীর পূজা করত। এ অবস্হায় আমি শুনতে পেলাম যে, মাক্কায় জনৈক ব্যক্তি বিভিন্ন বিষয় বর্ণনা করিয়াছেন। আমি আমার বাহনে উপবিষ্ট হয়ে তাহাঁর নিকট এসে পৌঁছে দেখলাম যে, তিনি [সাঃআঃ] নিজেকে জনসমাগম থেকে সরিয়ে রাখেন, তাহাঁর সম্প্রদায় তাঁকে অত্যাচার-নির্যাতন করে। আমি কৌশলে মাক্কায় তাহাঁর নিকট প্রবেশ করলাম।

আমি তাঁকে বললাম, আপনি কে? তিনি বলেনঃ আমি একজন নবী : আমি বললাম, নবী কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি বললাম, তিনি আপনাকে কোন্ জিনিস দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি বলেন, তিনি আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতে, মূর্তিসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ করিতে, আল্লাহ এক বলে –ঘোষণা করিতে এবং তাহাঁর সাথে কোন কিছু শারীক না করিতে পাঠিয়েছেন। আমি তাঁকে বললাম, এ ব্যাপারে আপনার সাথে কারা আছে? তিনি বলেনঃ স্বাধীন ও দাসেরা। বর্ণনাকারী বলেন, সেকালে তাহাঁর সাথে ছিলেন তাহাঁর ওপর ঈমান আনয়নকারী আবু বকর [রাদি.], বিলাল [রাদি.] প্রমুখ। আমি বললাম, আমিও আপনার অনুসারী হইতে চাই। তিনি বলেনঃ বর্তমান পরিস্হিতিতে তুমি তাতে সক্ষম হইবে না। তুমি কি আমার অবস্হা এবং [ঈমান আনয়নকারী] অন্যদের অবস্হা দেখছ না? বরং তুমি তোমার পরিবারে ফিরে যাও, যখন তুমি শুনতে পাবে যে, আমি বিজয়ী হয়েছি তখন আমার নিকট এসো। বর্ণনাকারী বলেন, তাই আমি আমার পরিবারে ফিরে এলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাদীনায় আগমন করিলেন, আমি তখন আমার পরিবারের সাথে ছিলাম। তিনি মাদীনায় আসার পর থেকে আমি খবরাখবর নিতে থাকলাম এবং লোকজনের নিকট জিজ্ঞেস করিতে থাকলাম। শেষে আমার নিকট ইয়াস্রিব- এর একদল লোক অর্থাৎ একদল মাদীনাহ্বাসী এলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, যে ব্যক্তি মাদীনায় এসেছেন তিনি কি করেন? তারা বলেন, লোকজন অতি দ্রুত তাহাঁর অনুসারী হচ্ছে, অথচ তাহাঁর জাতি তাঁকে হত্যা করিতে বদ্ধ পরিকর, কিন্তু তারা তাতে সক্ষম হয়নি।

অতএব, আমি মাদীনায় এসে তাহাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল ! আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তুমি তো মাক্কায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম : হ্যাঁ। আমি আরো বললাম, হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন এবং যে সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ তা আমাকে শিক্ষা দিন , আমাকে নামাজ সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বলেনঃ ফজরের নামাজ আদায় কর, অতঃপর সূর্য উদিত হয়ে উপরে না ওঠা পর্যন্ত নামাজ থেকে বিরত থাক। কারণ সূর্য উদিত হওয়ার সময় শাইত্বনের দু শিং–এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং তখন কাফিররা সূর্যকে সাজদাহ্ করে। অতঃপর তীরের ছায়া তার সমান না হওয়া পর্যন্ত তুমি নামাজ আদায় কর, কারণ এ নামাজে মালায়িকাহ্ উপস্হিত হন। অতঃপর নামাজ থেকে বিরত থাক, কারণ তখন জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। অতঃপর সূর্য যখন ঢলে যায় তখন থেকে নামাজ আদায় কর, এবং আসরের নামাজ আদায় করা পর্যন্ত মালাকগণ [ফেরেশতামন্ডলী] উপস্হিত থাকেন। অতঃপর সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত নামাজ থেকে বিরত থাক। কারণ তা শাইত্বনের দু শিং–এর মাঝখান দিয়ে অস্ত যায় এবং তখন কাফিররা সূর্যকে সাজদাহ্ করে।

বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী ! ওযূ সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বলেনঃ তোমাদের যে কোন ব্যক্তির নিকট ওযুর পানি পেশ করা হলে সে যেন কুলি করে, নাকে পানি দিয়ে তা পরিস্কার করে, এতে তার মূখমন্ডলের ও নাক গহবরের সমস্ত পাপ ঝরে যায়। অতঃপর যখন সে আল্লাহর নির্দেশ মতো মূখমন্ডল ধৌত করে, তখন পানির সাথে তার মূখমন্ডল থেকে, এমনকি দাড়ির আশপাশের সমস্ত পাপ ঝরে যায়। অতঃপর তার দু হাত কনুই পর্যন্ত ধোয়ার সাথে সাথে তার আঙ্গুলসমূহ থেকে পানির সাথে গুনাহসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার পদদ্বয় ধৌত করে তখন তার আঙ্গুলসমূহ দিয়ে তার পাপসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যদি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করে, তাহাঁর যথাযোগ্য মর্যাদা বর্ণনা করে এবং আল্লাহর জন্য নিজের অন্তরকে পৃথক করে নেয় তাহলে সে তার জন্মদিনের মতো গুনাহমুক্ত হয়ে যায়।

আম্‌র ইবনি আবাসাহ্ [রাদি.] এ হাদীসে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সহচর আবু উমামাহ্ [রাদি.]-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি তাকে বলেন, হে আম্‌র ইবনি আবাসাহ্! লক্ষ্য করুন আপনি বলেছেন, এক স্হানেই লোকটিকে এত সাওয়াব দেয়া হইবে! আম্‌র [রাদি.] বলেন, হে আবু উমামাহ্ ! আমি বার্ধক্যে পৌছে গেছি, আমার হাড়গোড় দূর্বল হয়ে গেছে এবং আমার মৃত্যু সন্নিকটে। এ অবস্হায় আল্লাহ ও রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর প্রতি মিথ্যারোপে আমার কি ফায়দাহ্। আমি যদি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এ হাদীস একবার, দু বার, তিনবার, এমনকি সাতবার গুণতাম তাহলে কখনো তা বর্ণনা করতম না, কিন্তু এর অধিক সংখ্যক বার তাহাঁর নিকট শুনেছি। [ই.ফা, ১৮০০.ইসলামিক সেন্টার- ১৮০৭]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply