নতুন লেখা

ইসলামে যেনার শাস্তি এবং মাদক সেবনের শাস্তি

ইসলামে যেনার শাস্তি এবং মাদক সেবনের শাস্তি

ইসলামে যেনার শাস্তি এবং মাদক সেবনের শাস্তি >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ৪০, অনুচ্ছেদঃ ২৩-৪০=১৮টি

অনুচ্ছেদ—২৩ঃ রজম সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ—২৪ঃ মাইয ইবনি মালিককে রজম করার ঘটনা
অনুচ্ছেদ-২৫ঃ নাবী [সাঃআঃ] জুহাইনাহ গোত্রের যে মহিলাকে পাথর মারার আদেশ দিয়েছিলেন
অনুচ্ছেদ—২৬ঃ দুই ইয়াহুদীকে রজম করার ঘটনা
অনুচ্ছেদ-২৭ঃ যে ব্যাক্তি মাহ্‌রাম নারীর সঙ্গে যেনা করে
অনুচ্ছেদ-২৮ঃ যে ব্যাক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে যেনা করে
অনুচ্ছেদ-২৯ঃ কেউ কওমে লূতের অনুরূপ অপকর্ম করলে
অনুচ্ছেদ-৩০ঃ যে ব্যাক্তি পশুর সঙ্গে সঙ্গম করে
অনুচ্ছেদ-৩১ঃ যদি পুরুষ যেনার কথা স্বীকার করে এবং নারী তা অস্বীকার করে
অনুচ্ছেদ-৩২ঃ যে ব্যাক্তি কোন মহিলার সাথে সঙ্গম ছাড়া অন্য সবকিছু করে এবং কর্তৃপক্ষের নিকট ধরা পড়ার পূর্বেই তাওবাহ করে নেয়
অনুচ্ছেদ-৩৩ঃ অবিবাহিত দাসী যেনা করলে
অনুচ্ছেদ-৩৪ঃ রোগীর উপর হাদ্দ কার্যকর সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩৫ঃ যেনার মিথ্যা অপবাদ দাতার শাস্তি
অনুচ্ছেদ-৩৬ঃ মাদক সেবনের শাস্তি
অনুচ্ছেদ-৩৭ঃ মাদক সেবনের পুনরাবৃত্তি করলে
অনুচ্ছেদ-৩৮ঃ মাসজিদে হাদ্দ কার্যকর করা
অনুচ্ছেদ-৩৯ঃ বিচারকের সুবিবেচনামূলক শাস্তি সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৪০ঃ হাদ্দের ক্ষেত্রে চেহারায় আঘাত না করা

অনুচ্ছেদ২৩ঃ রজম সম্পর্কে

৪৪১৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা অশ্লীল কাজ করে, তবে তোমাদের মধ্যে হইতে চার ব্যক্তিকে তাহাদের উপর সাক্ষী দাঁড় করাও। অতঃপর তারা সাক্ষ্য দিলে তাহাদেরকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখো, যতক্ষণ না মৃত্যু তাহাদের অবসান ঘটায় অথবা আল্লাহ তাহাদের জন্য অন্য কোন পথ বের করেন “[সুরা আন-নিসা ঃ ১৫]। মেয়েদের সম্পর্কে একথা বলে পুরুষদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, অতঃপর উভয়ের সম্পর্কে একত্রে আলোচনা করেছেনঃ “আর তোমাদের মধ্যে দুজন নারী-পুরুষ যদি এ অশ্লীল কাজ করে, তবে তাহাদের শাসন করো। অনন্তর তারা যদি তাওবাহ করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, তবে তাহাদেরকে ছেড়ে দাও “[সুরা্ আন-নিসা ঃ ১৬]। উপরোক্ত আয়াতের নির্দেশ বেত্রাঘাত সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছে। অতএব আল্লাহর বাণীঃ “ব্যভিচারিনী এবং ব্যভিচারী, তাহাদের প্রত্যেককে একশো বেত্রাঘাত করো” [সুরা্ আন-নুর ঃ ২]।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪৪১৪ . মুজাহিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর বাণী, আস-সাবিল অর্থাৎ হাদ্দ। সুফিয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ফাআযুহুমা অর্থ অবিবাহিতের শাস্তি এবং ফাআমসিকূহুন্না ফিল বুয়ূত অর্থ বিবাহিতের শাস্তি। {৪৪১৩}

{৪৪১৩} বায়হাক্বি। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান মাকতু

৪৪১৫. উবাদা্হ ইবনিস সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ সাঃআঃ বলিয়াছেনঃ তোমরা আমার থেকে গ্রহণ করো। আল্লাহ তাহাদের জন্য বিধান দিয়েছেনঃ বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিত নারী অপরাধী প্রমাণিত হলে তাহাদের শাস্তি হলো একশো বেত্রাঘাত ও পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা। আর অবিবাহিত পুরুষ ও অবিবাহিত নারীর শাস্তি হলো একশো বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪১৬. ইয়াহ্‌য়া হইতে বর্ণীতঃ

ইয়াহ্‌য়ার সূত্রে উপরোক্ত হাদিসের সমার্থবোধক হাদিস বর্ণিত। এতে রয়েছেঃ তাহাদের শাস্তি হলো একশো বেত্রাঘাত ও পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪১৭. উবাদাহ সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] এর সূত্রে অনুরুপ হাদিস বর্ণিত। লোকজন সাদ ইবনি উবাদাহ [রাদি.] কে বললো, হে সাবিতের পিতা! হাদ্দ সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হয়েছে। অতএব আপনি যদি আপনার স্ত্রীর সঙ্গে কোন পুরুষ লোককে দেখিতে পান তাহলে আপনি কি করবেন? তিনি বলেন, আমি তরবারির আঘাতে উভয়কে নিস্তব্ধ করে দিতাম। আমি কি যাবো এবং চারজন সাক্ষী একত্র করবো আর এই সুযোগে তারা তাহাদের অপকর্ম সেরে নিবে? অতএব তারা গিয়ে রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট একত্র হয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি সাবিতের পিতাহাকে দেখেননি, তিনি এই এই কথা বলিয়াছেন। রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃতরবারিই যথেষ্ট সাক্ষী। অতঃপর তিনি বলেনঃ না না, আমি আশংকা করি যে, কোনো উন্মত্ত ও আত্নমর্যাদাবোধ সম্পন্ন লোকই এই পদ্ধতি অনুসরণ করিতে পারে। আরেক বর্ণনায় রয়েছেঃ এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর ক্রীতদাসীর সঙ্গে সংগমে লিপ্ত হয়। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আল-ফাদল ইবনি দালহাম হাদিসের হাফিয নন। তিনি ওয়াসিত অঞ্চলের কসাই ছিলেন। {৪৪১৬}

দুর্বলঃ যয়ীফ হা/২৩৪১। {৪৪১৬} আহমাদ।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪১৮. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] তাহাঁর ভাষণে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] কে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন এবং তাহাঁর উপর কিতাব নাযিল করেছেন। আর তিনি তাহাঁর উপর যা নাযিল করেছেন, রজম সংক্রান্ত আয়াত তাহাঁর অন্তর্ভুক্ত। আমরা তা পাঠ করেছি এবং সংরক্ষণ করেছি। রাসুলাল্লাহ [সাঃআঃ] রজম করেছেন আর আমরাও তাহাঁরপরে রজম করেছি। তবে আমার আশংকা হচ্ছে কাল প্রবাহের দীর্ঘতায় কেউ হয়তো বলবে ,আমরা তো আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবে রজমের আয়াত পাইনি। ফলে তারা আল্লাহর নাযিলকৃত একটা ফরয পরিত্যাগ করে পথভ্রষ্ট হইবে। জেনে রাখো বিবাহিত নারী-পুরুষ ব্যভিচারের অপরাধে দায়ী প্রমাণিত হলে অথবা অন্তঃসত্তা হলে অথবা স্বীকারোক্তি করলে তাহাদেরকে রজম করা অবধারিত। আল্লাহর কসম! লোকেরা যদি একথা না বলতো যে, উমার আল্লাহর কিতাবে কিছু বর্ধিত করেছেন। তাহলে আমি অবশ্যই এই আয়াত লিখে দিতাম।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ২৪ঃ মাইয ইবনি মালিককে রজম করার ঘটনা

৪৪১৯. ইয়াযীদ ইবনি সুআইম ইবনি হায্‌যাল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাঈয ইবনি মালিক ইয়াতীম ছিলো। সে আমার পিতার তত্ত্বাবধানে ছিলো। সে এক গোত্রের জনৈক বাঁদীর সঙ্গে সঙ্গম করে। আমার পিতা তাহাকে বলিলেন, তুমি রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] নিকট যাও এবং তাহাকে তোমার কৃতকর্মের ব্যাপারে জানাও। তিনি হয়তো তোমার জন্য ক্ষমা চাইবেন। বস্তুত এর দ্বারা তিনি তার অপরাধ হইতে মুক্তির সন্ধানই চেয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সে তার নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো যেনা করেছি; সুতরাং আমার উপর আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি বাস্তবায়িত করুন। তিনি তার হইতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে পুনরায় বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো যেনা করেছি; আমার উপর আল্লাহর কিতাব বাস্তবায়িত করুন। তিনি তার হইতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে আবারো বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো যেনা করেছি; আমার উপর আল্লাহর কিতাব বাস্তবায়িত করুন। একথা সে চারবার বলার পর নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃতুমি তো চারবার একথা বললে, তা কার সঙ্গে? সে বললো, অমুক নারীর সঙ্গে। তিনি প্রশ্ন করিলেনঃ তুমি কি তার সঙ্গে শুয়েছো? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি আবারো প্রশ্ন করিলেনঃ তুমি কি তার শরীরে শরীর মিশিয়েছো? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় প্রশ্ন করিলেনঃ তুমি কি তার সঙ্গে সঙ্গম করেছো? সে বললো, হ্যাঁ! বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তাহাকে আল-হাররা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হলো। যখন তাহাকে পাথর মারা শুরু হলো, সে আঘাতের চোটে আতংকিত হলো এবং দ্রুত দৌড়াতে লাগলো। আব্দুল্লাহ ইবনি উনাইস [রাদি.] এমতাবস্হায় তার সাক্ষাৎ পেলেন যে, তাহাকে পাথর মারার জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিগণ তাহাকে ধরতে আপরগ হলো। তিনি উটের সামনের পায়ের হাড় তুলে তার দিকে নিক্ষেপ করেন এবং তাতে সে নিহত হয়। অতঃপর তিনি নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে এ ঘটনা ব্যক্ত করেন। তিনি বলিলেনঃ তোমরা তাহাকে ছেড়ে দিলে না কেন? সে হয়ত তাওবাহ করতো। আর আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করিতেন।

সহিহ। এ কথাটি বাদে [আরবী]ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪২০. মুহাম্মাদ ইবনি ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মাঈয ইবনি মালিকের ঘটনা আসিম ইবনি উমার ইবনি ক্বাতাদাহ্‌র নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি আমাকে বলিলেন, আসান ইবনি মুহাম্মাদ ইবনি আলি ইবনি আবু ত্বালিব আমাকে বলিয়াছেন, এরা আসলাম গোত্রের কতক লোক যাদেরকে আমি দোষারোপ করি না এবং যাদের নিকট হইতে তুমি আমার নিকট রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] এর বাণীঃ তোমরা তাহাকে ছেড়ে দিলে না কেনো “বর্ণনা করছো। আমি এ হাদিস হৃদয়ংগম করিতে পারিনি। অতএব আমি জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] এর নিকট এসে বলিলাম, আসলাম গোত্রের কতক লোক বর্ণনা করেছে যে, পাথর নিক্ষেপের মারাত্নক চোট পেয়ে মাঈযের হতবুদ্ধি হয়ে যাওয়ার ঘটনা রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট আলোচনা করাতে তিনি বলেনঃ তোমরা তাহাকে ছেড়ে দিলে না কেনো? অথচ আমি তো এ হাদিস সম্পর্কে জানিনা। জাবির বলিলেন, হে ভাতিজা! এ হাদিস সম্পর্কিত ঘটনা আমি অধিক জ্ঞাত। কেননা আমিও লোকটিকে পাথর মারার জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। আমরা যখন তাহাকে নিয়ে বেরিয়ে গিয়ে পাথর মারা শুরু করলাম তখন পাথর নিক্ষেপের মারাত্নক চোট পেয়ে সে আমাদের নিকট চিৎকার করে বলিতে লাগলো, হে লোক সকল! তোমরা আমাকে রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট ফিরিয়ে নিয়ে চলো। আমার আপনজনেরাই আমাকে হত্যার জন্য দায়ী। তারা আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা আমাকে বলেছে যে রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে হত্যা করবেন না। তথাপি আমরা তাহাকে হত্যা না করে ছাড়িনি। অতঃপর আমরা যখন ফিরে এসে রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসব কথা বলিলাম, তখন তিনি বলিলেনঃতোমরা তাহাকে ছেড়ে দিলে না কেন এবং আমার নিকট নিয়ে এলে না কেন? যাতে রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] তার অনুতাপ কবুল করিতেন। কিন্তু তিনি হাদ্দ পরিত্যাগ করার জন্য একথা বলেননি। বর্ণনাকারী বলেন, এবার আমি এ হাদিসের মর্ম বুঝতে পারলাম।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪৪২১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা মাঈদ ইবনি মালিক নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বললো যে সে যেনা করেছে। একথা শুনে নাবী [সাঃআঃ] তার হইতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে কয়েকবার একথা বললো, আর তিনি প্রতিবার মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি তার গোত্রের লোকদের প্রশ্ন করিলেনঃ সে কি পাগল? তারা বললো, তার তো কোনো সমস্যা নেই। তিনি তাহাকে প্রশ্ন করিলেনঃ তুমি কি তার সঙ্গে এটা করেছো? সে বললো, হ্যাঁ। অতএব তিনি তাহাকে পাথর মেরে হত্যা করার আদেশ দিলেন। অতঃপর তাহাকে নিয়ে যাওয়া হলো এবং পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হলো। আর তিনি [সাঃআঃ] তার জানাযার সলাত পরেননি।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪২২. জাবির ইবনি সামুরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মাঈয ইবনি মালিককে দেখেছি। যখন তাহাকে নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট হাযির করা হয়। সে ছিলো বেঁটে, মাংসল ও বলিষ্ঠ গড়নের লোক। তার দেহে কোনো চাদর ছিলো না। সে নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য দিয়ে বলে যে, সে যেনা করেছে। রাসুলাল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ সম্ভবত তুমি তাহাকে চুমা দিয়েছো। সে বললো, না আল্লাহর কসম! এ দুর্ভাগা নিশ্চয়ই যেনা করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তাহাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হয়। অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] ভাষণ দিতে গিয়ে বলেনঃ জেনে রাখো আমরা যখনই আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে যাই, আর এদিকে যদি তাহাদের কেউ পিছনে গিয়ে পাঠা ছাগলের ন্যায় ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কোনো নারীকে যৎকিঞ্চিৎ বীর্য দান করে। জেনে রাখো, আল্লাহ যদি আমাকে তাহাদের কারো উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দেন, তবে তাহাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে নারীদের থেকে প্রতিহত করবো।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪২৩. সিমাক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনি সামুরাহ [রাদি.] কে উপরোক্ত হাদিস বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি। তবে পূর্বোক্ত বর্ণনাটি পূর্ণাঙ্গ। তিনি বলেন, সে দুবার এ কথা বলেছে। সিমাক বলেন, আমি মাঈদ ইবনি জুরাইরের নিকট এ হাদিস বর্ণনা করলে তিনি বলেন, সে বরং চারবার একথা বলেছে।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪২৪. শুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি সিমাককে কুসবাহ এর অর্থ বলিলাম। তিনি বলিলেন, অল্প দুধ।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪২৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] মাঈয ইবনি মালিককে ডেকে বলিলেনঃতোমার সম্বন্ধে যে সংবাদ আমার কানে পৌঁছেছে তা কি সত্য? সে বললো, আমার সম্বন্ধে আপনার নিকট কিরুপ সংবাদ পৌঁছেছে? তিনি বলিলেনঃতুমি নাকি অমুক গোত্রের জনৈক বাদীর সঙ্গে যেনা করেছো? সে বললো, হ্যাঁ। অতঃপর সে চারবার একথার স্বীকারোক্তি করে। সুতরাং তাহাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করার আদেশ দেন। অতঃপর তাহাকে পাথর মারা হয়।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪২৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা মাঈয ইবনি মালিক নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে যেনা করেছে বলে দুবার সাক্ষ্য দেয়। তিনি তাহাকে তাড়িয়ে দিলে সে আবারো এসে দুবার যেনার স্বীকারোক্তি করে। অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] বলেনঃ তুমি নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য দিয়েছো। তোমরা একে নিয়ে যাও এবং রজম করো।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪২৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] মাঈয ইবনি মালিককে বলিলেনঃ তুমি সম্ভবত চুমু খেয়েছো অথবা হাতে স্পর্শ করেছো অথবা তাকিয়েছো। সে বললো, না। তিনি বলিলেনঃ তবে কি তুমি যেনা করেছো? সে বললো, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, সে একথা বলিতেই তিনি তাহাকে পাথর মেরে হত্যা করার আদেশ দেন। বর্ণনাকারী মূসা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণনা করেননি, বরং এটি ওয়াহ্‌বের বর্ণনা।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪২৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা আসলাম গোত্রীয় এক লোক নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য দেয় যে, সে জনৈকা নারীর সঙ্গে হারাম কাজ করেছে। প্রতিবারই নাবী [সাঃআঃ] তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। পঞ্চমবার সে একথা বললে তিনি তার দিকে ফিরে প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কি তার সঙ্গে যেনা করেছ সে বললো, হ্যাঁ। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তোমার লজ্জাস্থান কি তার লজ্জাস্থানে ঢুকেছে? সে বললো, হাঁ। তিনি বলিলেনঃ যেরূপ সুরমা শলাকা সুরমাদানীতে ঢুকে যায় এবং রশি যেরূপ কূপের মধ্যে ঢুকে পড়ে? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কি জান, যেনা কি? সে বললো, হ্যাঁ, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে বৈধভাবে যে সহবাস করে, আমি ঐ নারীর সঙ্গে অবৈধভাবে তা করেছি। তিনি বলিলেনঃ তোমার একথা বলার উদ্দেশ্য কী? সে বললো, আপনি আমাকে পবিত্র করবেন, এটাই আমার উদ্দেশ্য। অতঃপর তিনি আদেশ দিলেন তাহাকে পাথর মেরে হত্যা করা হলো। অতঃপর আল্লাহর নাবী [সাঃআঃ] শুনতে পান যে, তাহাঁর দুজন সাহাবী একে অপরকে বলছেন লোকটিকে দেখো, আল্লাহ যার অপরাধ গোপন রাখলেন, অথচ নিজেকেই সে রক্ষা করিতে পারলো না, অতঃপর কুকুরের মত তাহাকে পাথর মেরে হত্যা করা হলো। তিনি তাহাদের একথা শুনে চুপ থকলেন এবং কিছু সময় চলার পর একটি গাধার লাশের নিকট এলেন যার পা উপরের দিকে উঠেছিল। তিনি বলিলেনঃ অমুক অমুক কোথায়? তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এখানে। তিনি বলিলেনঃ তোমরা দুজন নেমে গিয়ে এ গাধার গোশত খাও। তারা বললো, হে আল্লাহর নাবী! এটা কি কেউ খেতে পারে? তিনি বলিলেনঃ তোমরা এখন তোমাদের এক ভাইয়ের মর্যাদা নিয়ে যেরূপ মন্তব্য করেছ, তা এর গোশত খাওয়ার চাইতেও গুরুতর। সেই সত্ত্বার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই সে এখন জান্নাতের ঝর্ণাসমূহে আনন্দে ডুব দিচ্ছে। {৪৪২৭}

দুর্বলঃ ইরওয়া হা/২৩৫৪, যঈফাহ হা/২৯৫৭।{৪৪২৭} আবু ইয়ালা, রায়হাক্বী, ইবনি হিব্বান। সানাদে আবদুর রহমান ইবনি সামিত রয়েছে। হাফিয বলেনঃ তিনি মাজহুল [অজ্ঞাত]। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪২৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হুরায়রা [রাদি.] সূত্রে অনূরূপ হাদিস বর্ণিত। এতে আরো রয়েছেঃ হাসান ইবনি আলী বলেন, বর্ণনাকারীগণ বিভিন্ন শব্দে হাদিসটি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। কেউ বলিয়াছেন, লোকজন মাঈযকে গাছের সঙ্গে বেঁধেছিল আবার কেউ বলিয়াছেন, তাহাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। {৪৪২৮}

{৪৪২৮} এর পূর্বের হাদিস দেখুন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪৩০. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যাক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে যেনার কথা স্বীকার করলে তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে আবারো সাক্ষ্য দিলো। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এরূপ সে চারবার নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলো। অতঃপর নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে প্রশ্ন করেনঃ তোমার পাগলামী রোগ আছে নাকি? সে বললো, না। তিনি পুনরায় প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কি বিবাহিত? সে বললো, হাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে পাথর মারার আদেশ দিলেন। ঈদগাহে তাহাকে পাথর মারা হয়। পাথরের আঘাত যখন তাহাকে সন্ত্রস্ত করে তুললো সে পালাতে লাগলো। অতঃপর তাহাকে ধরে এনে পাথর মেরে হত্যা করা হলো। নাবী [সাঃআঃ] তার সম্পর্কে উত্তম কথা বলিলেন, তবে তার জানাযা পড়েননি।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হা দিস

৪৪৩১. আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] মাঈয ইবনি মালিককে পাথর মারার আদেশ করলে আমরা তাহাকে নিয়ে আল-বাকী নামক স্থানে যাই। আল্লাহর কসম! আমরা তাহাকে বাঁধিওনি এবং তার জন্য গর্তও খনন করিনি; কিন্তু তবু সে দাঁড়িয়ে থাকে। আবু কামিল বলিলেন, আবু সাঈদ বলিয়াছেন, অতঃপর আমরা তার শরীরে হাড়, মাটির ঢিলা ও কংকর নিক্ষেপ করিতে লাগলাম। সে দৌড়াতে লাগলো, আমরাও তার পিছনে দৌড়াতে লাগলাম। অবশেষে সে সেই প্রস্তরময় প্রান্তরের এক প্রান্তে গিয়ে আমাদের জন্য দাঁড়িয়ে গেলো। আমরা তাহাকে পাথর নিক্ষেপ করলাম। অবশেষে সে চুপ হয়ে গেলো [মৃত্যবরণ করলো]। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করেননি, তাহাকে গালিও দেননি।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৩২. আবু নাদরাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা এক লোক নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট হাযির হলো। অতঃপর অনুরূপ সমার্থবোধক হাদিস বর্ণনা করেন তবে অপূর্ণাঙ্গভাবে। তিনি বলেন, উপস্থিত জনতা লোকটিকে গালি দিতে শুরু করলে তিনি তাহাদের নিষেধ করিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিতে লাগলে তিনি তাহাদের নিষেধ করে বলিলেনঃ লোকটি গুনাহ করেছে, আল্লাহই তার হিসাব গ্রহনের জন্য যথেষ্ট। {৪৪৩১}

যয়ীফ মুরসালঃ ইরওয়া [৭/২৫৫-২৫৬]। {৪৪৩১} এর পূর্বেরটি দেখুন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল মুরসাল

৪৪৩৩. ইবনি বুরাইদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] মাঈযের মুখের গন্ধ শুঁকলেন, [নেশাগ্রস্ত কিনা জানার জন্য]। {৪৪৩২}

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৩৪. আবদুল্লাহ ইবনি বুরাইদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাহাবীগণ পরস্পর আলোচনা করতাম যে, গামিদ গোত্রের ঐ নারী এবং মাঈয ইবনি মালিক যদি তাহাদের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করতো অথবা তিনি বলেন, তারা স্বীকারোক্তির পর যদি তার পুনরাবৃত্তি না করতো, তবে তিনি [সাঃআঃ] তাহাদের তলব করিতেন না। তিনি তাহাদেরকে পাথর মেরেছেন চারবার স্বীকারোক্তির পর। {৪৪৩৩}

দুর্বলঃ ইরওয়া হা/২৩৫৯। {৪৪৩৩} আবু দাউদ এটি একক ভাবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া নাসায়ীর সুনানুল কুবরা। সনদের বাশীর ইবনি মুহাজির হইতে যদিও মুসলিম বর্ণনা এনেছেন কিন্তু তার সম্পর্কের হাফিয বলেনঃ হাদিস বর্ণনায় শিথিল। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪৩৫, খালিদ ইবনিল লাজলাজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বাজারে বসে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় এক মহিলা একটি শিশুসহ এ পথ দিয়ে যাচ্ছিল। কিছু লোকেরা তার সঙ্গে ভীড় করছিল এবং আমিও তাহাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। সে নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট পৌঁছালে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তোমার সঙ্গের এ শিশুর পিতা কে? সে চুপ থাকলো। তার পাশে দাঁড়ানো এক যুবক বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমিই এ শিশুটির পিতা। তিনি মহিলার দিকে মুখ করে বলিলেনঃ তোমার সঙ্গের এ শিশুটির পিতা কে? যুবকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এর পিতা। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার চারপাশের লোকজনের নিকট তার সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বললো, তাহাকে আমরা ভালো লোক বলেই জানি। অতঃপর নাবী রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকেই প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কি বিবাহিত? সে বললো, হাঁ। অতঃপর তাহাঁর হুকুমে লোকটিকে পাথর মারা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তাহাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম, তার জন্য গর্ত খনন করে তাহাকে তাতে রাখলাম এবং রজম করলাম। ফলে সে মারা গেলো। একজন লোক এসে পাথর নিক্ষেপে নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করিতে লাগলো। আমরা তাহাকে নিয়ে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট হাযির হয়ে বলিলাম, এ লোকটি এসে অপবিত্র ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ সে তো মহান আল্লাহর নিকট মৃগনাভীর চেয়েও অধিক সুগন্ধযুক্ত। পরে দেখা গেল যে, আগন্তুক লোকটি নিহত ব্যক্তির পিতা। অতঃপর আমরা তাহাকে এর গোসল, কাফন ও দাফন করিতে সাহায্য করি। খালিদ বলেন, তার জানাযার সলাত পড়া হয়েছিল কিনা এ সম্পর্কে আমি জানি না।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪৪৩৬. খালিদ ইবনিল লাজলাজ [রাদি.] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

খালিদ ইবনিল লাজলাজ [রাদি.] হইতে তার পিতা থেকে নাবী [সাঃআঃ]-এর উপরোক্ত হাদিসের অংশবিশেষ বর্ণিত। {৪৪৩৫}

{৪৪৩৫} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া নাসায়ীর সুনানুল কুবরা। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪৪৩৭. সাহল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে স্বীকারোক্তি করলো যে, সে এক নারীর সঙ্গে যেনা করেছে। সে তাহাঁর নিকট সেই নারীর নামও বলেছে। অতএব রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সেই নারীর নিকট লোক পাঠিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে তা অস্বীকার করে। অতএব তিনি পুরুষ লোকটির উপর বেত্রাঘাতের হাদ্দ কার্য করেন এবং নারীকে রেহাই দেন।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৩৮. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জনৈক ব্যক্তি এক মহিলার সঙ্গে যেনা করে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর আদেশে তাহাকে বেত্রাঘাত করা হয়। অতঃপর তাঁকে অভিহিত করা হয় যে, সে বিবাহিত; কাজেই তিনি নির্দেশ দিলে তাহাকে পাথর মারা হয়। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, মুহাম্মাদ ইবনি বাক্‌র আল-বুরসানী এ হাদিস ইবনি জুরাইজ হইতে জাবির [রাদি.] সূত্রে মাওকুফভাবে বর্ণনা করেছেন। আবু আসিম এ হাদিস ইবনি জুরাইজ সূত্রে ইবনি ওয়াহরের মতই বর্ণনা করেছেন এবং নাবী [সাঃআঃ]-এর উল্লেখ করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, এক ব্যক্তি যেনা করলো, কিন্তু সে বিবাহিত কিনা তা জানা গেলো না। অতএব তাহাকে বেত্রাঘাত করা হয়। পরে তার বৈবাহিক অবস্থা জানা গেলে তাহাকে রজম করা হয়। {৪৪৩৭}

{৪৪৩৭} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া নাসায়ীর সুনানুল কুবরা, বায়হাক্বী। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪৩৯.জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক লোক জনৈকা স্ত্রীলোকের সঙ্গে ব্যভিচার করে। পুরুষটি বিবাহিত কিনা তা জানা যায়নি। সুতরাং তাহাকে বেত্রাঘাত করা হয়। অতঃপর তার বৈবাহিক অবস্থা জানা গেলে তাহাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হয়। {৪৪৩৮}

{৪৪৩৮} নাসায়ীর সুনানুল কুবরা, রায়হাক্বী। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল মাওকুফ

অনুচ্ছেদ২৫ঃ নাবী [সাঃআঃ] জুহাইনাহ গোত্রের যে মহিলাকে পাথর মারার আদেশ দিয়েছিলেন

৪৪৪০. ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা জুহাইনাহ গোত্রের জনৈকা মহিলা নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বললো, সে যেনা করেছে এবং অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার অভিভাবককে ডেকে এনে বলেনঃ এর সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। আর যখন সে সন্তান প্রসব করিবে, তাহাকে আমার নিকট নিয়ে এসো। অতঃপর সে সন্তান প্রসব করলে অভিভাবক তাহাকে নিয়ে এলো। নাবী [সাঃআঃ]-এর আদেশে তাহাকে কাপড় দিয়ে বেঁধে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হয়। অতঃপর তিনি সাহাবীদের আদেশ দিলেন তার জানাযার সলাত পড়তে। উমার [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার জানাযার সলাত পড়বেন? সে তো যেনা করেছে! তিনি বলিলেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ তাহাঁর কসম! সে এরূপ তাওবাহ করেছে, যা মাদীনাহ্‌বাসীদের সত্তরজনের মধ্যে বন্টন করে দিলেও তাহাদের জন্য তা যথেষ্ট হইবে। তুমি তার চাইতে উত্তম কোন ব্যাক্তিকে পাবে যে তার নিজের সত্ত্বাকে উৎসর্গ করে দিল। আবান সূত্রে বর্ণিত হাদিসে কাপড় দিয়ে বাঁধার কথাটুকু নেই।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৪১.আওযাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তাহাকে তার কাপড় শক্তভাবে পরানো হয়।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৪২. আবদুল্লাহ ইবনি বুরাইদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

গামিদ গোত্রের এক নারী নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললো, আমি ব্যভিচার করেছি, তিনি বলিলেনঃ ফিরে যাও। সে ফিরে চলে গেলো। পরদিন সকালে সে আবার তাহাঁর নিকট এসে বললো, আপনি যেরূপ মাঈয ইবনি মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সম্ভবত আমাকেও সেরূপ ফিরিয়ে দিতে চান। আল্লাহর কসম! আমি নিশ্চয়ই গর্ভবতী। তিনি এবারো তাহাকে ফিরে যেতে বললে সে চলে গেলো। পরদিন সে পুনরায় আসতেই তিনি বলিলেনঃ তুমি ফিরে যাও যতক্ষণ না সন্তান প্রসব করো। সে ফিরে গেলো। যখন সে পুত্র সন্তান প্রসব করলো, সে সেই শিশুটিকে কোলে করে নিয়ে এসে বললো, আমি এই শিশুটিকে প্রসব করেছি। তিনি বলিলেনঃ তুমি ফিরে যাও এবং দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত তাহাকে দুধ পান করাতে থাকো। অবশেষে দুধ ছাড়ানো হলে শিশুটিকে নিয়ে সে হাযির হলো। শিশুটি খাদ্য হাতে নিয়ে খাচ্ছিল। তিনি একজন মুসলিমকে তার ছেলেটিকে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন। অতঃপর তার জন্য গর্ত খনন করিতে আদেশ দিলে তা খনন করা হলো এবং পাথর মেরে হত্যার আদেশ দিলে তাহাকে এভাবে হত্যা করা হলো। তাহাকে পাথর মারার জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিদের মধ্যে খালিদ [রাদি.]-ও ছিলেন। তিনি তাহাকে পাথর মারলে এক ফোটা রক্ত ছিটে এসে তাহাঁর গালে পড়তেই তিনি তাহাকে গালি দেন। নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে বলিলেনঃ হে খালিদ! অনুগ্রহ করো। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তার কসম! সে এরূপ তাওবাহ করেছে যে, কোন যালিম কর আদায়কারীও যদি সেরূপ তাওবাহ করতো, তাহলে অবশ্যই তাহাকে মাফ করা হতো। অতঃপর তাহাঁর আদেশে তার জানাযার সলাত পড়া হয় এবং তাহাকে দাফন করা হয়।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

ইবনি আবু বাক্‌রাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] জনৈকা মহিলাকে রজম করেন। তার জন্য বুক পর্যন্ত গর্ত খনন করা হয়। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এক লোক উসমান সূত্রে বর্ণনা করে এ হাদিস আমাকে বুঝিয়ে দেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, গাস্‌সানী বলিয়াছেন, জুহাইনা গামিদ ও বারিক একই গোত্র। {৪৪৪২}

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৪৪. যাকারিয়া ইবনি সুলাইমান হইতে বর্ণীতঃ

যাকারিয়া ইবনি সুলাইমান সূত্রে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত। তাতে আরো আছেঃ অতঃপর তাহাকে চানাবুটের মত ক্ষুদ্র কংকর নিক্ষেপ করেছেন। তিনি বলেনঃ তার মুখমন্ডল বাদ দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করো। সে যখন মারা গেলো, তাহাকে গর্ত হইতে বের করিলেন এবং তার জানাযা পড়লেন। তার তাওবাহ সম্পর্কে বুরাইদাহ বর্ণিত হাদিসের মতই বলিয়াছেন। {৪৪৪৩}

{৪৪৪৩} সনদ দুর্বল। সানাদে আবু দাউদ এবং আবদুস সামাদ এর মাঝে ইনকিতা হয়েছে [বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে]। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪৪৫. উবাইদুল্লাহ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উতবাহ ইবনি মাসউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হুরায়রা এবং যায়িদ ইবনি খালিদ আল-জুহানী [রাদি.] তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, দুই বিবাদমান ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলো। তাহাদের একজন বললো, হে আল্লাহর রাসূল! কুরআন অনুসারে আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিন। দ্বিতীয়জন বললো, সে ছিল তাহাদের দুজনের মধ্যে অধিক বুদ্ধিমান, হ্যাঁ ঠিক আছে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করে দিন, আর আমাকে কিছু বলার অনুমতি দিন। তিনি বলিলেনঃ বলো। সে বললো, আমার ছেলে এই লোকটির শ্রমিক ছিল। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যেনা করেছে। কতক লোক আমাকে জানিয়েছে, আমার ছেলের দন্ড হলো পাথর নিক্ষেপে হত্যা। সুতরাং আমি তার পক্ষ হইতে একশো বকরী ও আমার একটি দাসী জরিমানা দেই। পুনরায় আমি এ ব্যপারে জ্ঞানীদের প্রশ্ন করলে তারা আমাকে বলেন যে, আমার ছেলের শাস্তি হলো একশো বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন, আর এই লোকটির স্ত্রীর শাস্তি হলো পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা। এ ঘটনা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ জেনে রাখো, যে পবিত্র সত্ত্বার হাতে আমার প্রাণ, তাহাঁর কসম! আমি অবশ্যই তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহর কিতাব মোতাবেক ফায়সালা করবো। তোমার বকরী ও দাসী তুমি ফিরে পাবে। অতঃপর তিনি তার ছেলেকে একশো বেত্রাঘাত করে এবং এক বছরের নির্বাসন দেন এবং উনাইস আল-আসলামীকে আদেশ দেন অপর লোকটির স্ত্রীর নিকট যেতে এবং সে যদি স্বীকারোক্তি করে তাহলে তাহাকে রজম করিতে। অতএব সে স্বীকারোক্তি করলে তিনি তাহাকে রজম করিলেন।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ২৬ঃ দুই ইয়াহুদীকে রজম করার ঘটনা

৪৪৪৬. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা ইয়াহুদীরা নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললো, তাহাদের একজোড়া নারী-পুরুষ যেনা করেছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদের বলেনঃ তাওরাতে তোমরা যেনা সম্বন্ধে কি হুকুম পেয়েছো? তারা বললো, আমরা তো অপমান করি এবং তাহাদেরকে বেত্রাঘাত করা হয়। একথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনি সালাম [রাদি.] বলেন, তোমরা মিথ্যা বলেছো। নিশ্চয়ই তাতে রজম করার হুকুম বিদ্যমান। অতঃপর তারা তাওরাত কিতাব নিয়ে আসে এবং তা খোলে। তাহাদের একজন তার একটি হাত রজমের আয়াতের উপর রেখে দিয়ে এর পূর্বাপর পড়তে থাকে। আবদুল্লাহ ইবনি সালাম [রাদি.] তাহাকে হাত উঠিয়ে নিতে আদেশ দেন। সে হাত উঠিয়ে নিতেই দেখা গেলো যে, তাতে রজমের আয়াত রয়েছে। তারা বললো, হে মুহাম্মাদ! তিনি সত্যিই বলিয়াছেন, নিশ্চয়ই তাতে রজমের আয়াত আছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর আদেশে দুজনকেই রজম করা হলো। আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] বলেন, আমি দেখলাম, পুরুষটি ঐ নারীকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষার জন্য তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৪৭. আল-বারাআ ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা কালিমা মাখা মুখ বিশিষ্ট এক ইয়াহুদীকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাহাকে জনসমক্ষে ঘুরানো হচ্ছিল। তিনি তাহাদের কসম দিয়ে বলেন, তাহাদের কিতাবে যেনাকারীর হাদ্দ কী? বর্ণনাকারী বলেন, তারা তাঁকে তাহাদের মধ্যকার একজনকে দেখিয়ে দিলো। নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে প্রশ্ন করেনঃ তোমাদের কিতাবে যেনাকারীর হাদ্দ ঘটলে তাহাদের শাস্তি হইতে রেহাই দেয়া এবং অন্যদের শাস্তি দেয়া আমরা পছন্দ করলাম না। অতএব আমরা উপরোক্ত শাস্তি বাতিল করে দিয়েছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নির্দেশ দিলে অপরাধীকে রজম করা হয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! তারা তোমার কিতাবের যে অংশের মৃত্যু ঘটিয়েছিল আমিই প্রথম তা পুনর্জীবিত করলাম।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৪৮. আল-বারাআ ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বেত্রাঘাতকৃত জনৈক ইয়াহুদীর মুখমন্ডল কালিমালিপ্ত করে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি তাহাদের ডেকে প্রশ্ন করলেনঃ তোমরা কি যেনাকারীর এরূপ শাস্তির হুকুম পেয়েছ? তারা বললো, হ্যাঁ। অতএব তিনি তাহাদের একজন আলিমকে ডেকে বলিলেনঃ তোমাকে সেই আল্লাহর কসম করে বলছি যিনি মূসা [আ]-এর উপর তাওরাত কিতাব নাযিল করেছেন! তোমাদের কিতাবে যেনাকারীদের এরূপ শাস্তির কথা উল্লেখ পেয়েছ কি? সে বললো, হে আল্লাহ! না। আপনি যদি এ বিষয়ে আমাকে আল্লাহর কসম না দিতেন, তাহলে আমি অবশ্যই আপনাকে বলতাম না। আমরা আমাদের কিতাবে যেনাকারীর শাস্তি রজমের উল্লেখ পেয়েছি। কিন্তু আমাদের অভিজাত সমাজে যেনার বিস্তার ঘটলে আমরা কোন মর্যাদাসম্পন্ন লোককে এ অপরাধে ধরতে পারলেও ছেড়ে দিতাম; তবে দুর্বলদের কাউকে পেলে তার উপর শাস্তি বাস্তবায়িত করতাম। অতঃপর আমরা সকলকে আহবান করে বলিলাম, চলুন, আমরা যেনার শাস্তির ব্যাপারে সকলে ঐকমত্যে পৌঁছে এমন একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হই, যাতে সকল শ্রেণীর লোকদের উপর তা বাস্তবায়িত করা যায়। অতঃপর আমরা এর শাস্তিস্বরূপ মুখমন্ডল কালিমালিপ্ত করে অপমান করা এবং বেত্রাঘাত করাতে একমত হই এবং রজম পরিত্যাগ করি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ হে আল্লাহ! আমিই প্রথম ব্যক্তি যে তোমার নির্দেশকে পুনর্জীবন দান করেছি, তারা একে প্রাণহীন করার পর। অতঃপর তাহাঁর নির্দেশে অপরাধীকে রজম করা হয়। অতঃপর মহান আল্লাহ ইয়াহুদীদের সম্পর্কে এ আয়াতগুলো নাযিল করেনঃ “হে রাসূল! তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়…. তারা বলে, তোমাদেরকে এরূপ বিধান দেয়া হলে তোমরা তা গ্রহণ করো অন্যথায় তোমরা বর্জন করো… আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির {ইয়াহুদীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে}…. আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না তারাই যালিম {ইয়াহুদীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে}…. আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না তারাই পাপাচারী” [সূরাহ আল-মায়িদাঃ ৪১-৪৭]। তিনি বলেন, এ আয়াতগুলো কাফির অবাধ্যদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৪৯. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা একদল ইয়াহুদী এসে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে কুফ্‌ নামক উপত্যকায় যেতে আবেদন জানালো। তিনি তাহাদের এক পাঠাগারে উপস্থিত হলেন। তারা বললো, হে আবুল ক্বাসিম! আমাদের এক ব্যক্তি জনৈকা মহিলার সঙ্গে যেনা করেছে। সুতরাং আপনি এদের সম্পর্কে ফায়সালা দিন। তারা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য একটি বালিশ পেতে দিলো। তিনি তাতে বসে তাহাদের বলিলেনঃ তোমরা একখানি তাওরাত নিয়ে এসো। তাওরাত নিয়ে আসা হলে তিনি তাহাঁর নীচের বিছানো বালিশ টেনে নিয়ে তার উপর তাওরাত রাখলেন এবং বলিলেনঃ আমি তোমার প্রতি এবং তোমায় যিনি নাযিল করেছেন তার প্রতি ঈমান এনেছি। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ তোমাদের মধ্যকার অধিক জ্ঞানী ব্যক্তিকে নিয়ে এসো। অতএব এক যুবককে আনা হলো। অতঃপর তিনি [ইবনি উমার] নাফি হইতে মালিক সূত্রে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ রজম সম্পর্কিত ঘটনা বর্ণনা করেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪৪৫০. মুহাম্মাদ ইবনি মুসলিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি মুযাইনাহ গোত্রের এমন এক ব্যাক্তিকে হাদিস বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি যিনি ছিলেন জ্ঞানপিপাসু ও সংরক্ষণকারী। একদা আমরা সাঈদ ইবনিল মুসাইয়াব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর নিকট ছিলাম। তিনি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা [রাদি.] সূত্রে। এটা মামার বর্ণিত হাদিস এবং এটি সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ। তিনি বলেন, ইয়াহুদীদের মধ্যকার একজোড়া নারী পুরুষ যেনা করলো। তারা পরস্পরকে বললো, চলো আমরা এই নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট যাই। তাঁকে তো সহজতর বিধানসহ পাঠানো হয়েছে। তিনি যদি আমাদের এ ব্যাপারে রজম করার পরিবর্তে লঘু শাস্তির বিধান দেন, তাহলে আমরা তা গ্রহণ করবো এবং আল্লাহর নিকট এর মাধ্যমে বাহানা দাঁড় করাবো এবং বলবো, হে আল্লাহ! এটা তো আপনার এক নাবী প্রদত্ত ফায়সালা। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তারা নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসে। এ সময় তিনি সাহাবীদের সঙ্গে মাসজিদে বসা ছিলেন। তারা বললো, হে আবুল ক্বাসিম! যেনা কারী নারী ও পুরুষের সম্পর্কে আপনার কি অভিমত? তিনি তাহাদের পাঠাগারে আসার পূর্ব পর্যন্ত তাহাদের সঙ্গে কথাও বলেননি। অতঃপর পাঠাগারের দরজায় দাঁড়িয়ে তিনি বলিলেনঃ তোমাদেরকে সেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলেছি যিনি মূসা [আ]-এর প্রতি তাওরাত কিতাব নাযিল করেছেন! বিবাহিত লোক যেনা করলে তার কী হুকুম তাওরাতে পাচ্ছো? তারা বললো, চুন-কালিতে মুখমন্ডল রাঙিয়ে তাজ্‌বীহ করা হয় এবং বেত্রাঘাত করা হয়। তাজ্‌বীহ অর্থ হলো, যেনার অপরাধীদ্বয়কে গাধার পিঠে উঠিয়ে উভয়ের পিঠ পরস্পর মিশিয়ে এলাকা জুড়ে চক্কর দেয়া। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় এক যুবককে চুপ করে থাকতে দেখে নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে কসম দিয়ে অনুরোধ করলে সে বললো, আল্লাহর কসম! আপনি যেহেতু আমাদের কসম দিলেন, আমরা তো তাওরাতে রজমের বিধান পাচ্ছি। অতঃপর নাবী তাহাদের প্রশ্ন করলেনঃ তাহলে তোমরা আল্লাহর বিধানকে এতো হালকা ভাবলে কেন? সে বললো, আমাদের কোন এক রাজার জনৈক নিকটাত্মীয় যেনার অপরাধী সাব্যস্ত হয়; তিনি তাহাকে রজমের অব্যাহতি দিলেন। অতঃপর সাধারণ পরিবারের জনৈক ব্যাক্তি যেনা করার অপরাধে দোষী সব্যস্ত হওয়াতে তিনি তাহাকে রজম করার ইচ্ছা করেন; কিন্তু দোষী লোকটির পক্ষের লোকেরা তাতে বাধা দিলো। তারা বললো, আপনার আত্মীয়টিকে এনে রজম না করা পর্যন্ত আমাদের এ ব্যাক্তিকে রজম করা যাবে না। অতঃপর তারা এ শাস্তির উপর ফায়সালা করে। তখন নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন আমি নিশ্চয়ই তাওরাতে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করবো। অতঃপর তাহাঁর নির্দেশে তাহাদেরকে রজম করা হলো। যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে, নিম্নোক্ত আয়াত ইয়াহুদীদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ “নিশ্চয়ই আমি তাওরাত নাযিল করেছি, যাতে হিদায়াত ও আলো বিদ্যমান ছিলো। আল্লাহর অনুগত নাবীগণ এর মাধ্যমে ইয়াহুদীদেরকে বিধান দিতো” [সুরাহ আল-মায়েদাহঃ ৪৪]। নাবী [সাঃআঃ]-ও অনুগত নাবীদের অন্তর্ভুক্ত। {৪৪৪৯}

দুর্বলঃ ইরওয়া হা/১২৫৩।{৪৪৪৯} এটি গত হয়েছে ৩৬২৪। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪৫১. আয-যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মুযাইনাহ গোত্রের জনৈক ব্যাক্তিকে সাঈদ ইবনিল মুসাইয়াব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে আবু হুরায়রা [রাদি.] বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি। তিনি বলেন, একজোড়া বিবাহিত ইয়াহুদী নারী-পুরুষ যেনা করে। এ সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হিজরাত করে মদিনায় আসেন। যেনার শাস্তির ব্যাপারে তাওরাত কিতাবে রজমের বিধান বিদ্যমান ছিল, কিন্তু ইয়াহূদীরা তা পরিত্যাগ করে তাজবীহ নামক শাস্তি চালু করে। তাজ্‌বীহ হলো, পাকানো রশি দিয়ে একশোবার প্রহার করা এবং মুখমন্ডলে চুন-কালি মেখে গাধার উপর এমনভাবে বসিয়ে দেয়া যে, অপরাধীর মুখ গাধার পেছন দিকে থাকে। এমনিভাবে তাহাকে এলাকা জুড়ে চক্কর দেয়া। অতঃপর তাহাদের আলিমদের একটি দল একত্র হলো এবং অপর একটি দলকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট পাঠিয়ে দিলো এবং তাহাদের বলে দিলো যে, তাঁকে গিয়ে যেনার শাস্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করিবে। এভাবে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এ হাদিসে আরো আছেঃ যারা তাহাঁর ধর্মের অনুসারী নয়, তিনি তাহাদের মাঝেও ফায়সালা করিতেন। অতঃপর এ ব্যাপারে তাঁকে স্বাধীনতা দিয়ে আল্লাহ বলেনঃ “তাঁরা যদি আপনার নিকট আসে, তবে আপনি তাহাদের বিচার মিমাংসা করুন অথবা তাহাদের উপেক্ষা করুন” [সূরা আল-মায়েদাঃ ৪২]। {৪৪৫০}

{৪৪৫০} আবু দাউদ এটি একক ভাবে বর্ণনা করেছেন। এর সানাদে মুহাম্মাদ ইবনি ইসহাক্ব একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এটি আন্‌ আন্‌ শব্দে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া সানাদে নাম উল্লেখহীন জনৈক ব্যাক্তি রয়েছে। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪৫২. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদল ইয়াহুদী তাহাদের মধ্যকার যেনার অপরাধী পুরুষ-নারীকে নিয়ে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট হাযির হলো। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যকার সবচাইতে বিজ্ঞ দুজন লোক নিয়ে এসো। অতএব তারা সূরিয়ার দুই পুত্রকে তাহাঁর নিকট হাযির করলো। তিনি তাহাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে প্রশ্ন করেনঃ তোমরা এদের ব্যাপারে তাওরাতে কিরূপ বিধান দেখিতে পাও? তারা বললো, আমরা তাওরাতে দেখিতে পাই, চারজন সাক্ষী যদি সাক্ষ্য দেয় যে, তারা পুরুষটির গুপ্তাঙ্গ স্ত্রীলোকটির গুপ্তাঙ্গে এরুপভাবে ঢুকানো অবস্থায় দেখেছে, যেরূপ সুরমা শলাকা সুরমাদানীতে ঢুকানো হয়, তাহলে তাহাদের উভয়কে রজম করা হইবে। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তাহলে কোন জিনিসটা তোমাদেরকে তাহাদেরকে রজম করিতে বাধা দিচ্ছে? তারা উভয়ে বললো, আমাদের শাসন ক্ষমতা লোপ পেয়েছে। সুতরাং হত্যা করাকে আমরা অনুমোদন করি না। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সাক্ষীদের নিয়ে আসতে ডাকলেন। তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে এলো। তারা সাক্ষ্য দিলো যে, সুরমা শলাকা যেরূপে সুরমাদানীর ভেতরে ঢুকে যায়, ঠিক সেরূপেই তারা পুরুষটির গুপ্তাঙ্গ স্ত্রীলোকটির গুপ্তাঙ্গের মধ্যে ঢুকানো অবস্থায় দেখেছে। অতঃপর নাবী [সাঃআঃ] তাহাদের রজম করার নির্দেশ দেন।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৫৩. ইবরহীম ও আশ-শাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ]-এর সূত্রে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত। তবে এতে “তিনি সাক্ষীদের হাযির করিতে বলিলেন। অতএব তারা এসে সাক্ষ্য দিলো – এ কথাটির উল্লেখ নেই।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৫৪. আশ-শাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আশ-শাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত। {৪৪৫৩}

আমি এটি সহিহ এবং যঈফেও পাইনি। {৪৪৫৩} এর পূর্বেরটি দেখুন। হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৪৪৫৫. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একজোড়া ইয়াহুদী নারী-পুরুষ যেনা করলে নাবী [সাঃআঃ] তাহাদের রজম করার নির্দেশ দেন। {৪৪৫৪}

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ২৭ঃ যে ব্যাক্তি মাহ্‌রাম নারীর সঙ্গে যেনা করে

৪৪৫৬. আল-বারাআ ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি আমার একটি হারানো উট খোঁজ করিতে বেরিয়েছি, এমন সময় একদল আরোহী অথবা অশ্বারোহী আমার সামনে এসে উপস্থিত হয়। তাহাদের নিকট একটি পতাকা ছিল। এই বেদুঈনরা নাবী [সাঃআঃ]-এর প্রিয়পাত্র হিসেবে আমার চারদিকে ঘুরতে থাকে। যখন তারা একটি গম্বুজ সদৃশ স্থাপনার নিকট এসে এর ভিতর হইতে একটি লোককে বের করে হত্যা করে তখন আমি তাহাদেরকে তার সম্পর্কে বলিলাম। তারা বললো, লোকটি তার পিতার স্ত্রীকে [সৎ মাকে] সঙ্গম করেছিল।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৫৭. ইয়াযীদ ইবনিল বারাআ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সঙ্গে সাক্ষাত করি। তখন তার সঙ্গে একটি ঝান্ডা ছিল। আমি তাহাকে বলি, কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে এক ব্যাক্তির নিকট পাঠিয়েছেন, যে তার পিতার স্ত্রীকে [সৎ মাকে] বিয়ে করেছে। তিনি আমাকে আদেশ দিয়েছেন তাহাকে হত্যা করিতে এবং তার সম্পদ নিয়ে আসতে।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ২৮ঃ যে ব্যাক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে যেনা করে

৪৪৫৮

হাবীব ইবনি সালিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আব্দুর রহমান ইবনি হুনাইন নামে জনৈক ব্যাক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করে। বিষয়টি কুফার গভর্ণর নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.]-এর নিকট পেশ করা হলে তিনি বলেন, আমি অবশ্যই তোমার সম্পর্কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর ফায়সালার মতই ফায়সালা করবো। তোমার স্ত্রী যদি এ বাদীকে তোমার জন্য বৈধ করে দিয়ে থাকে, তবে আমি তোমাকে একশো বেত্রাঘাত করবো, আর যদি তোমার জন্য বৈধ না করে থাকে, তাহলে তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবো। পরে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, তার স্ত্রী বাঁদীকে তার জন্য বৈধ করে দিয়েছে। কাজেই তিনি তাহাকে একশো বেত্রাঘাত করেন। ক্বাতাদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি হাবীব ইবনি সালিমের নিকট চিঠি লিখলে তিনি এ হাদিসটি লিখে পাঠান। {৪৪৫৭}

{৪৪৫৭} তিরমিজি, ইবনি মাজাহ। ঈমাম তিরমিজি বলেনঃ সানাদে উলটপালট হয়েছে। আমি ঈমাম বুখারীকে বলিতে শুনিয়াছি, ক্বাতাদাহ হাদিসটি হাবীব ইবনি সালিম হইতে শুনেননি। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪৫৯. নুমান ইবনি বশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন ব্যাক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করলে, তার স্ত্রী যদি তাহাকে তার জন্য বৈধ করে দিয়ে থাকে তবে একশো বেত্রাঘাত করা হইবে; আর যদি বৈধ করে না দিয়ে থাকে, তবে আমি তাহাকে রজম করবো। {৪৪৫৮}

{৪৪৫৮} এর সানাদে দুর্বল। এর পূর্বের হাদিস দেখুন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪৬০.সালামাহ ইবনিল মুহাব্বিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জনৈক ব্যাক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার ব্যাপারে ফায়সালা দিলেন, সে যদি তার সঙ্গে জোরপূর্বক একাজ করে থাকে, তাহলে দাসী আযাদ এবং তার কর্তব্য হলো, তার মতো একটি দাসী তার মনিবকে [স্ত্রীকে] দেয়া। আর যদি আপসে তা হয়ে থাকে, তাহলে সে তার মালিকানায় চলে যাবে এবং দাসীর মনিবকে তার মত একটি দাসী প্রদান করা স্বামীর কর্তব্য হইবে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইউনুস ইবনি উবাইদ, আমর ইবনি দীনার, মানসূর ইবনি যাযান ও সাল্লাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আল-হাসান সূত্রে এ হাদিস পূর্বোক্ত হাদিসের অর্থানুরূপ বর্ণনা করেন। ইউনূস ও মানসূর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] কাবীসাহ্‌র [রাদি.] উল্লেখ করেননি। {৪৪৫৯}

{৪৪৫৯} নাসায়ী, ইবনি মাজাহ, আহমাদ। এর সানাদে কাবীসাহ বিন হুরাইস রয়েছে। ঈমাম বুখারী বলেনঃ তার হাদিসে আপত্তি আছে। ইবনি কাত্তান বলেনঃ সে মাজহুল। ঈমাম নাসায়ী বলেনঃ তার হাদিস সহিহ নয়। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪৬১. সালাম ইবনিল মুহাব্বিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সালাম ইবনিল মুহাব্বিক [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেন। তবে এ হাদিসে তিনি বলেনঃ দাসী যদি একাজে সম্মতি দিয়ে থাকে, তবে সেও তার মতো আরো একটি দাসী নিজ মাল দ্বারা ক্রয় করে দাসীর মনিবকে প্রদান করিবে। {৪৪৬০}

{৪৪৬০} নাসায়ী, ইবনি মাজাহ, আহমাদ। হাদিসের সানাদে হাসান ও সামাহ বির মুহাব্বাক এর মাঝে ইনকিতা হয়েছে। এছাড়া হাসান একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এটি আন্‌ আন্‌ শব্দে বর্ণনা করেছেন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ২৯ঃ কেউ কওমে লূতের অনুরূপ অপকর্ম করলে

৪৪৬২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা কাউকে যদি লুত গোত্রের মতই কুকর্মে লিপ্ত দেখিতে পাও তাহলে কর্তা ও যার সঙ্গে করা হয়েছে তাহাদের উভয়কে হত্যা করো।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৪৪৬৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, অবিবাহিতদের লাওয়াতাতে [পায়ুকামে] লিপ্ত পাওয়া গেলে রজম করা হইবে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আসিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদিস আমর ইবনি আবু আমরের হাদিসকে দুর্বল প্রমানিত করে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাওকুফ

অনুচ্ছেদ৩০ঃ যে ব্যাক্তি পশুর সঙ্গে সঙ্গম করে

৪৪৬৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন ব্যাক্তি পশুর সঙ্গে সঙ্গম করলে তাহাকে এবং পশুটিকেও তার সঙ্গে হত্যা করো। তিনি [ইকরিমা] বলেন, আমি তাহাকে [ইবনি আব্বাসকে] বলিলাম, পশুটির অন্যায় কি? তিনি বলেন, আমার মতে যে পশুর সঙ্গে সঙ্গম করা হয়েছে নিশ্চয়ই তিনি তার গোশত খাওয়া অপছন্দ করেছেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এটি তেমন শক্তিশালী হাদিস নয়।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৪৪৬৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, পশুর সঙ্গে সঙ্গমকারী হাদ্দের আওতাভুক্ত নয়। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আত্বা-ও এরূপই বলিয়াছেন। হাকাম বলেন, আমি মনে করি তাহাকে বেত্রাঘাত করা উচিত; কিন্তু তা হাদ্দের সীমা [১০০ বেত্রাঘাত] পর্যন্ত পৌছা উচিৎ নয়। হাসান বাসরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সে যেনাকারীর সমতুল্য। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আসিম কর্তৃক বর্ণিত হাদিস আমা ইবনি আবু আমর কর্তৃক বর্ণিত হাদিসকে দুর্বল প্রামাণিত করে।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ৩১ঃ যদি পুরুষ যেনার কথা স্বীকার করে এবং নারী তা অস্বীকার করে

৪৪৬৬. সাহল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে বর্ণনা করেনঃ জনৈক ব্যাক্তি তাহাঁর নিকট এসে স্বীকারোক্তি করলো যে, সে এক স্ত্রীলোকের সঙ্গে যেনা করেছে এবং সে তার নামও বলেছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার নিকট লোক পাঠিয়ে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সে যেনার কথা অস্বীকার করলো। কাজেই তিনি পুরুষটিকে বেত্রাঘাতের শাস্তি দিলেন এবং স্ত্রীলোকটিকে মুক্তি দিলেন।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৬৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

বাক্‌র ইবনি লাইস গোত্রের জনৈক ব্যাক্তি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে চারবার স্বীকারোক্তি করলো যে, সে জনৈকা স্ত্রীলোকের সঙ্গে যেনা করেছে। সে অবিবাহিত ছিল বিধায় তিনি তাহাকে একশো বেত্রাঘাত করেন। এরপর তিনি স্ত্রীলোকটির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষী আনার জন্য তাহাকে আদেশ দেন। স্ত্রীলোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তিনি পুরুষটিকে যেনার মিথ্যা অপবাদ আরোপের অপরাধে আরো আশিটি বেত্রাঘাত করেন। {৪৪৬৬}

মুনকারঃ মিসকাত হা/৩৫৭৮। {৪৪৬৬} নাসায়ীর সুনানুল কুবরা। সানাদে ক্বাসিম ইবনি ফাইয়াদ অজ্ঞাত। যেমন আত-তাক্বরীব গ্রন্থে রয়েছে। হাদিসের তাহকিকঃ মুনকার

অনুচ্ছেদ৩২ঃ যে ব্যাক্তি কোন মহিলার সাথে সঙ্গম ছাড়া অন্য সবকিছু করে এবং কর্তৃপক্ষের নিকট ধরা পড়ার পূর্বেই তাওবাহ করে নেয়

৪৪৬৮. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জনৈক ব্যাক্তি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললো, আমি মাদীনাহ্‌র উপকন্ঠে জনৈকা নারীর সঙ্গে সঙ্গম ছাড়া সবকিছুই করেছি। এখন আমি এখানে উপস্থিত। আপনি যা ইচ্ছা আমাকে শাস্তি দিন। উমার [রাদি.] বলেন, আল্লাহ তোমার এ অপরাধ গোপন রেখেছিলেন, তুমিও যদি তা তোমার নিকট গোপন রাখতে! নাবী [সাঃআঃ] তার কথার কোন উত্তর দেননি। কাজেই লোকটি ফিরে গেলো। নাবী [সাঃআঃ] তার পিছনে একজন লোক পাঠিয়ে তাহাকে ডেকে আনলেন এবং এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ “দিনের দুপ্রান্তে ও রাতের প্রথমাংশে তুমি সালাত ক্বায়িম করো, নিশ্চয় সৎকাজসমূহ গুনাহসমূহকে মুছে দেয়। উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য এটা এক নসীহত” [সূরাহ হূদঃ ১১৪]। উপস্থিত লোকদের মধ্য হইতে এক লোক বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ আয়াত কি শুধু তার জন্য নির্দিষ্ট, নাকি সবার জন্য? তিনি বলিলেনঃ বরং তা সকল মানুষের জন্য। {৪৪৬৭}

{৪৪৬৭} মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ী সুনানুল কুবরা, আহমাদ। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

অনুচ্ছেদ৩৩ঃ অবিবাহিত দাসী যেনা করলে

৪৪৬৯. আবু হুরাইরাহ ও যায়িদ ইবনি খালিদ আল-জুহানী হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে একটি অবিবাহিত দাসী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো যে, সে যেনা করেছে। তিনি বলেনঃ সে যেনা করলে বেত্রাঘাত করো, আবার যেনা করলে আবারো বেত্রাঘাত করো, পুনরায় যেনা করলে আবারো বেত্রাঘাত করো। অতঃপর আবারো যেনা করলে একটি রশির বিনিময়ে হলেও তাহাকে বিক্রি করে দাও। ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি অবহিত নই যে, তিনি তিনবার নাকি চারবার [বিক্রির কথা] বলিয়াছেন।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৭০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কারো দাসী যেনা করলে সে তাহাকে যেন শাস্তি দেয়, তিরস্কার করেই ছেড়ে দিবে না। এরূপ তিনবার করিবে। চতুর্থবার যদি সে যেনা করে, তাহলে তাহাকে বেত্রাঘাত করিবে এবং একটি রশি বা পশমের তৈরী রশির বিনিময়ে হলেও তাহাকে বিক্রি করে দিবে।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৭১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ প্রতিবার তাহাকে আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি প্রদান করিবে, কেবল তিরস্কার করেই ছেড়ে দিবে না। চতুর্থবার যদি সে এরূপ করে, তাহলে তাহাকে আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি দেয়ার পর একটি পশমের রশির বিনিময়ে হলেও বিক্রি করে দাও।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ৩৪ঃ রোগীর উপর হাদ্দ কার্যকর সম্পর্কে

৪৪৭২. আবু উমামাহ ইবনি সাহল ইবনি হুনাইফ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কতক আনসারী সাহাবীর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তাহাদের একজন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাড্ডিসার হয়ে যায়। এমতাবস্থায় তাহাদের কারো এক দাসী তার নিকট এলে সে শিহরিত হয়ে তার সঙ্গে সঙ্গম করে। তার গোত্রের লোকজন তাহাকে দেখিতে এলে, সে তাহাদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করে এবং বলে, তোমরা আমার ব্যাপারে তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট গিয়ে এ বিষয়ে ফাতাওয়া চাইবে যে, আমার নিকট আগত দাসীর সঙ্গে আমি যেনা করেছি। তারা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট গিয়ে এ ঘটনা জানালো এবং বললো, রোগে শুকিয়ে তার মতো হাড্ডিসার হইতে আমরা কোন লোককে দেখিনি। তাহাকে যদি আপনার নিকট বহন করে আনি তবে তার হাড়গোড় আলাদা হয়ে যাবে। তার হাড়ে চামড়া ছাড়া আর কিছুই নেই। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদেরকে আদেশ দিলেনঃ তারা যেন একশো পাতা বিশিষ্ট একটি ডাল নিয়ে তদ্বারা তাহাকে একবার প্রহার করে।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৭. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পরিবারের এক দাসী ব্যভিচার করলো। তখন তিনি আলী [রাদি.]-কে ডেকে বলিলেনঃ হে আলী! তুমি তাহাকে নিয়ে যাও এবং তার উপর হাদ্দ কার্যকর করো। আমি [আলী] তার নিকট গিয়ে দেখি, বিরামহীনভাবে তার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কাজেই আমি তাহাঁর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি বলিলেনঃ হে আলী! তুমি কি কাজ সেরে এসেছ? আমি বলিলাম, আমি তার নিকট গিয়ে দেখি, তার অবিরাম রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তিনি বলিলেনঃ রক্ত বন্ধ হওয়া পর্যন্ত তাহাকে রেখে দাও, অতঃপর তার উপর হাদ্দ কার্যকর করো। আর তোমাদের ডান হাতের মালিকানায় যারা আছে [দাস-দাসী] তাহাদের উপর হদ্দ ক্বায়িম করো। শুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আব্দুল আলা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ প্রসব করার পূর্ব পর্যন্ত তাহাকে প্রহার করো না। তবে প্রথম বর্ণনাটি অধিক সহিহ।

ইসলামে যেনার শাস্তি – হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ৩৫ঃ যেনার মিথ্যা অপবাদ দাতার শাস্তি

৪৪৭৪. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার সমর্থনে যখন আয়াত অবতীর্ণ হলো, নাবী [সাঃআঃ] মিম্বারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি মিম্বার থেকে নেমে এসে দুজন পুরুষ ও একজন নারী সম্পর্কে নির্দেশ দিলে তাহাদের উপর হাদ্দ কার্যকর করা হয়।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪৪৭৫. মুহাম্মাদ ইবনি ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

মুহাম্মাদ ইবনি ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রেও অনুরূপ হাদিস বর্ণিত। তবে তিনি আয়িশাহ [রাদি.]-এর নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলিয়াছেনঃ যারা অশ্লীল কথা রটিয়েছিল, তিনি তাহাদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী সম্পর্কে আদেশ দেন। পুরুষ দুজন হলোঃ হাসসান ইবনি সাবিত ও মিসত্বাহ ইবনি উসাসাহ। নুফাইলী বলেন, তারা বলিতেনঃ মহিলাটি হলো হামনা বিনতু জাহ্‌শ। {৪৪৭৪}

{৪৪৭৪} এর পূর্বেরটি দেখুন। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ৩৬ঃ মাদক সেবনের শাস্তি

৪৪৭৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] মাদক গ্রহণের শাস্তি স্বরূপ হাদ্দ নির্দিষ্ট করেননি। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, জনৈক ব্যাক্তি মদ পান করে মাতাল হয়। এ সময় তাহাকে রাস্তায় দুলতে দেখে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট নিয়ে আসা হয়। সে আব্বাস [রাদি.]-এর ঘর বরাবর এলে জ্ঞান ফিরে পায় এবং আব্বাস [রাদি.]-এর নিকট গিয়ে [শাস্তির ভয়ে] তাহাকে জড়িয়ে ধরে। নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এ ঘটনা বর্ণনা করা হলে তিনি হেসে বলিলেনঃ সে কি তাই করেছে? তিনি তার ব্যাপারে কোন আদেশ দেননি। {৪৪৭৫}

দুর্বলঃ মিশকাত হা/৩৬২২। {৪৪৭৫} আহমাদ। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪৭৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জনৈক মাতাল ব্যাক্তিকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট আনা হলে তিনি বলেনঃ তোমরা একে প্রহার করো। আবু হুরায়রা [রাদি.] বলেন, আমাদের মাঝ হইতে কেউ তাহাকে হাত দিয়ে মেরেছে, কেউবা জুতাপেটা করেছে আর কেউবা কাপড় দিয়ে মেরেছে। অতঃপর সে চলে যাওয়ার সময় উপস্থিত লোকজনের কেউ বললো, আল্লাহ তোমাকে অপদস্থ করেছেন। একথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমরা এভাবে বলো না, তার বিরুদ্ধে শয়তানকে সহযোগিতা করো না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৭৮. ইবনিল হাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনিল হাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে অনুরূপ সমার্থবোধক হাদিস বর্ণিত। তিনি বলেন, তাহাকে প্রহারের পর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সাহাবীদের বলিলেনঃ তোমরা তাহাকে মৌখিক ধমক দিয়ে নসীহত করো। সুতরাং তারা তার নিকট এসে বলিলেন, তুমি আল্লাহকে ভয় করোনি, তুমি আল্লাহকে ভয় করোনি এবং তুমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে লজ্জিত হওনি। অতঃপর তারা তাহাকে ছেড়ে দিলেন। হাদিসের শেষাংশে তিনি বলেনঃ বরং তোমরা বলো, হে আল্লাহ! তাহাকে ক্ষমা করে দাও, হে আল্লাহ! তার উপর করুণা বর্ষণ করো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৭৯. আনাস ইবনি মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] মাদক গ্রহনের অপরাধে [এ ব্যাক্তিকে] খেজুরের ডাল ও জুতা দিয়ে আঘাত করেন। আর আবু বকর [রাদি.] চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। অতঃপর উমার [রাদি.] যখন খলীফা হন, তিনি লোকদের ডেকে বলিলেন, অনেক লোক পানির উৎসসমূহে ও গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। কাজেই এখন আপনারা মাদক গ্রহনের হাদ্দ প্রসঙ্গে কি বলেন? তখন আব্দুর রহমান ইবনি আওফ [রাদি.] বলেন, আমরা হাদ্দের আওতায় লঘু শাস্তি দেয়ার মত দিচ্ছি। সুতরাং তিনি এর শাস্তি হিসেবে আশিটি বেত্রাঘাত নির্ধারিত করেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইবনি আবু আরূবাহ ক্বাতাদাহ্‌র সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নাবী [সাঃআঃ] মদ্যপায়ীদের খেজুরের ডাল ও জুতা দিয়ে চল্লিশ ঘা প্রহার করেছেন। শুবাহ [রাদি.] ক্বাতাদাহ্‌ হইতে আনাস [রাদি.] সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করে বলেন, তিনি দুটি খেজুরের ডাল দিয়ে প্রায় চল্লিশ ঘা প্রহার করেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৮০. হুসাইন ইবনিল মুনযির আর-রাক্বাশী ওরফে আবু সাসান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একদা আমি উসমান ইবনি আফফান [রাদি.]-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন ওয়ালীদ ইবনি উক্ববাহ্‌কে ধরে আনা হলো। হুমরান এবং অপর এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলো। তাহাদের একজন সাক্ষ্য দিলো যে, সে তাহাকে মদ খেতে দেখেছে। অপর ব্যক্তি সাক্ষ্য দিলো যে, সে তাহাকে মদ বমি করে ফেলতে দেখেছে। উসমান [রাদি.] বলিলেন, মদ পান না করলে তা বমি করিতে পারে না। তাই তিনি আলী [রাদি.]-কে তার উপর শাস্তি বাস্তবায়িত করিতে নির্দেশ দিলেন। আলী [রাদি.] হাসান [রাদি.]-কে বলিলেন, তুমি তাহাকে শাস্তি দাও। হাসান [রাদি.] বলিলেন, যিনি খিলাফাতের সুবিধা ভোগ করছেন তিনি ভার বহন করবেন। অতঃপর আলী [রাদি.] আব্দুল্লাহ ইবনি জাফারকে বলিলেন, তুমি তার উপর হাদ্দ কার্যকর করো। অতএব তিনি একটি চাবুক নিয়ে তাহাকে প্রহার করিতে শুরু করিলেন। আর আলী [রাদি.] তা গনণা করিতে থাকলেন। যখন তিনি চল্লিশে পৌঁছলেন, আলী [রাদি.] বলিলেন, থামো, যথেষ্ট হয়েছে। নাবী [সাঃআঃ] চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন। আমি মনে করি, আবু বাক্‌রও চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন, কিন্তু উমার আশিটি বেত্রাঘাত করেছেন। এর প্রতিটিই সুন্নাত। তবে আমি চল্লিশটি পছন্দ করি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৮১. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ও আবু বকর [রাদি.] মদপানের অপরাধে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন, আর উমার [রাদি.] তা আশিতে পূর্ণ করেছেন। এর প্রতিটিই সুন্নাত। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আল-আসমাঈ “এর শীতলতা উপভোগকারী এর উত্তাপ সহ্য করিবে” বাগধারার ব্যাখ্যায় বলেন, যিনি খিলাফাতের সুবিধা ভোগ করেছেন তাহাকেই এর ভার বহন করিতে হইবে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবু সাসান হুসাইন ইবনি মুনযির ছিলেন তার গোত্রের সর্দার।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ৩৭ঃ মাদক সেবনের পুনরাবৃত্তি করলে

৪৪৮২. মুআবিয়াহ ইবনি আবু সুফিয়ান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ লোকেরা মদ পান করলে, তাহাদের বেত্রাঘাত করো। পুনরায় পান করলে বেত্রাঘাত করো। আবারো পান করলে বেত্রাঘাত করো, পুনরায় পান করলে বেত্রাঘাত করো, আবারো পান করলে তাহাদের হত্যা করো।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৪৪৮৩. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন,….উপরের হাদিসের সমার্থবোধক। এতে রয়েছেঃ আমার ধারণা, তিনি পঞ্চমবারে বলিয়াছেনঃ আবারো যদি সে মদ পান করে তবে তাহাকে হত্যা করো। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবু গুতাইফ বর্ণিত হাদিসেরও পঞ্চমবারের কথা উল্লেখ আছে। {৪৪৮২}

{৪৪৮২} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সানাদে হুমাইদ ইয়াযীদ রয়েছে। হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেনঃ মাজহুলুল হাল। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৪৮৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কেউ মাতাল হলে তাহাকে বেত্রাঘাত করো। আবার মাতাল হলে তাহাকে বেত্রাঘাত করো, আবারো মাতাল হলে বেত্রাঘাত করো, চতুর্থবারও যদি এর পুনরাবৃত্তি হয়, তবে হত্যা করো। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, উমার ইবনি আবু সালামাহ্‌ও পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও আবু হুরায়রা্‌ সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ কেউ মদ পান করলে তাহাকে বেত্রাঘাত করো। চতুর্থবারও যদি এরূপ করে তবে তাহাকে হত্যা করো। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, অনুরূপভাবে সুহাইল পর্যায়ক্রমে আবু সালিহ ও আবু হুরায়রা সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ চতুর্থবার যদি তারা মদ পান করে তাহলে তাহাদের হত্যা করো। একইভাবে ইবনি আবু নুআইম ইবনি উমারের সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] এবং আশ-শারীদ [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করছেন। তবে আল-জাদলী মুআবিয়াহ [রাদি.]-এর সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ সে তৃতীয়বার বা চতুর্থবার মদ পান করলে তাহাকে হত্যা করো।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৪৪৮৫. ক্বাবীসাহ ইবনি যুওয়াইব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যাক্তি মদ পান করে তাহাকে বেত্রাঘাত করো। আবারো পান করলে বেত্রাঘাত করো। আবারো করলে তাহাকে বেত্রাঘাত করো। তৃতীয় কিংবা চতুর্থবার যদি সে এরুপ করে তবে তাহাকে হত্যা করো। অতঃপর মদ পানের অপরাধে জনৈক ব্যাক্তিকে ধরে আনা হলে তিনি তাহাকে বেত্রাঘাত করেন। পুনরায় তাহাকে এ অপরাধে নিয়ে আসা হলে তিনি তাহাকে বেত্রাঘাত করেন। অতঃপর একই অপরাধে তাহাকে নিয়ে আসা হলে তিনি বেত্রাঘাত করেন আর হত্যা পরিহার করেন। তা ছিল অবকাশ। সুফিয়ান বলেন, যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] মানসূর ইবনিল মুতামির ও মুখাওয়াল ইবনি রাশিদের উপস্থিতিতে এ হাদিস বর্ণনা করে বলেন, তোমরা দুজন প্রতিনিধি হিসেবে ইরাকবাসীদের নিকট গিয়ে এ হাদিস বর্ণনা করো। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আশ-শারীদ ইবনি সুওয়াইদ, শুরাহ্‌বীল ইবনি আওস, আবদুল্লাহ ইবনি আমর, আবদুল্লাহ ইবনি উমার, আবু গুতাইফ আল-কিন্দী এবং আবু সালামাহ ইবনি আবদুর রহমান [রাদি.] আবু হুরায়রা [রাদি.] সূত্রে এ হাদিস বর্ণনা করেছেন। {৪৪৮৪}

{৪৪৮৪} বায়হাক্বী , হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল মুরসাল

৪৪৮৬. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি কারো উপর হাদ্দ কার্যকর করলে এবং তাতে সে মারা গেলে আমি তার ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করবো না, মদ পানের অপরাধী ব্যতীত। কেননা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ ব্যাপারে কোন নির্দিষ্ট নিয়ম দেননি। এর যা কিছু শাস্তি প্রচলিত আছে তা আমরা নিজেরা নির্ধারণ করেছি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৮৭. আবদুর রহমান ইবনি আযহার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি যেন এখনো দেখছি যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সৈন্যশিবিরের মধ্যে খালিদ ইবনিল ওয়ালীদের শিবির খুঁজছেন। এমতাবস্থায় জনৈক মদ্যপায়ীকে ধরে আনা হলো। তিনি লোকদের বলিলেনঃ তোমরা একে প্রহার করো। অতএব তাহাদের কেউ জুতা দিয়ে, কেউবা লাঠি দিয়ে আর কেউবা মিতাখাহ দিয়ে তাহাকে প্রহার করলো। ইবনি ওয়াহ্‌ব বলেন, মিতাখাহ অর্থ খেজুরের কাঁচা ডাল। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যমীন থেকে কিছু মাটি নিয়ে তার মুখমন্ডলে ছুঁড়ে মারলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৪৪৮৮. আবদুর রহমান ইবনি আযহার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হুনাইনে অবস্থানকালে জনৈক মাতালকে তাহাঁর নিকট আনা হলো। তিনি তার মুখমন্ডলে মাটি ছুঁড়ে মারলেন এবং তাহাকে প্রহার করিতে সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন। তারা তাহাদের জুতা ও হাতে যা ছিল তা দিয়ে তাহাকে প্রহার করিতে লাগলেন, যতক্ষণ না তিনি তাহাদের বলিলেন, থামো। অতঃপর তারা প্রহার বন্ধ করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর [রাদি.] মদ পানের জন্য চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। অতঃপর উমারও তার খিলাফাতের প্রথম পর্যায়ে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে আশিটি বেত্রাঘাত করেন। অতঃপর উসমান [রাদি.] আশি এবং চল্লিশ দু ধরনের শাস্তিই প্রয়োগ করেন। অতঃপর মুআবিয়াহ [রাদি.] মদ পানের শাস্তি আশি বেত্রাঘাত নির্ধারণ করেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৮৯

আবদুর রহমান ইবনি আযহার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মাক্কাহ বিজয়ের দিন সকালবেলা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জনতার ভীড়ের মধ্যে পদব্রজে খালিদ ইবনিল ওয়ালীদের [রাদি.] শিবিরের সন্ধান করিতে দেখি। আমি তখন উঠতি বয়সের যুবক। তাহাঁর নিকট এক মদ্যপায়ীকে উপস্থিত করা হলে তাহাঁর নির্দেশে লোকজন তাহাকে তাহাদের হাতের নিকট সহজলভ্য জিনিস দ্বারা প্রহার করে। তাহাদের কেউ চাবুক দ্বারা, কেউ লাঠি দ্বারা এবং কেউবা নিজেদের জুতা দ্বারা তাহাকে প্রহার করে। আর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার প্রতি ধূলা নিক্ষেপ করেন। আবু বকর [রাদি.]-এর সময় এক মদপায়ীকে উপস্থিত করা হলে তিনি লোকজনকে প্রশ্ন করেন যে, নাবী [সাঃআঃ] উক্ত ব্যাক্তিকে কয়টি বেত্রাঘাত করেছেন? তারা চল্লিশবার বেত্রাঘাতের কথা উল্লেখ করে। অতএব আবু বকর [রাদি.] চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। উমার [রাদি.] খলীফাহ হলে খালিদ ইবনিল ওয়ালীদ [রাদি.] তাহাকে লিখে পাঠান যে, লোকজন মাদক গ্রহণের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করছে এবং হাদ্দ ও শাস্তির ভয়কে পরোয়া করছে না। উমার [রাদি.] বলেন, আপনার নিকট যারা আছে তাহাদের প্রশ্ন করুন। তার সংগে ছিলেন সর্বাগ্রে ইসলাম গ্রহণকারী মুহাজিরগণ। তিনি তাহাদের নিকট প্রশ্ন করলে তারা আশিটি বেত্রাঘাত সম্পর্কে ঐকমত্য হন। বর্ণনাকারী বলেন, আলী [রাদি.] বলিয়াছেন, কোন ব্যাক্তি মাদক গ্রহণ করলে সে মিথ্যা কথা বলে। অতএব আমি মনে করি, তাহাকে মিথ্যা বলার শাস্তির মতই শাস্তি দেয়া উচিৎ।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ৩৮ঃ মাসজিদে হাদ্দ কার্যকর করা

৪৪৯০

হাকীম ইবনি হিযাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাসজিদের ভিতরে কিসাস গ্রহণ করিতে, কবিতা আবৃত্তি করিতে এবং হাদ্দ কার্যকর করিতে নিষেধ করেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ৩৯ঃ বিচারকের সুবিবেচনামূলক শাস্তি সম্পর্কে

৪৪৯১

আবু বুরদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেনঃ আল্লাহর নির্ধারিত হাদ্দ ছাড়া কাউকে দশ বেত্রাঘাতের অধিক শাস্তি দেয়া যাবে না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪৪৯২

আল বুরদাহ আল-আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ …অতঃপর পূর্বোক্ত হাদিসের সমার্থবোধক হাদিস। {৪৪৯১}

আমি এটি সহিহ এবং যঈফেও পাইনি।

{৪৪৯১} এটি পূর্বের হাদিসে গত হয়েছে।

হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

অনুচ্ছেদ৪০ঃ হাদ্দের ক্ষেত্রে চেহারায় আঘাত না করা

৪৪৯৩

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রহার করার সময় যেন মুখমন্ডল থেকে বিরত থাকে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, তীর, লৌহবর্ম ইত্যাদি

ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, তীর, লৌহবর্ম ইত্যাদি ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, …

Leave a Reply

%d bloggers like this: