ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা

ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা

ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা  >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪৬. অধ্যায়ঃ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে

২৩২৬

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হুনায়নের দিনে আল্লাহ তাআলা তাহাঁর রাসূলকে বিনা যুদ্ধে হাওয়াযিন গোত্রের ধন-সম্পদ থেকে যা [গনীমাত হিসাবে] দান করেছিলেন এ থেকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কুরাইশদের কয়েকজন লোককে একশ উট প্রদান করিলেন। আনসারদের মধ্যে কয়েক ব্যক্তি বলিল, “আল্লাহ্‌ তাহাঁর রাসূল কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন। অথচ তাদের তরবারি থেকে এখনও তাদের রক্ত ঝরছে। ”

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] বলেন, এ খবর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে পৌঁছলে তিনি আনসারদেরকে ডেকে পাঠালেন। তিনি একটি চামড়ার তাঁবুতে তাদের একত্রিত করিলেন। তারা জড়ো হলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এসে বলিলেন, তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে যে কথা পৌঁছেছে তাহাঁর মানে কি? আনসারদের মধ্যে থেকে বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ তারা তো কিছুই বলেনি। তবে আমাদের মধ্যে যারা কম বয়সী তারা বলেছেন – আল্লাহ্‌ তাআলা তাহাঁর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন। অথচ এখনো আমাদের তরবারি থেকে তাদের রক্ত টপকে পড়ছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, “আমি এমন লোকদের দিয়ে থাকি যারা সেদিনও কাফির ছিল যাতে তাদের মন সন্তুষ্ট [ও ইসলামের দিকে আকৃষ্ট] থাকে। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তারা [গনীমাতের] মাল নিয়ে তাদের ঘরে চলে যাবে আর তোমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে নিয়ে ঘরে যাবে?” আল্লাহ্‌র শপথ! ওরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে তার চেয়ে উত্তম হচ্ছে তোমরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে। সাহাবীগণ বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা যা নিচ্ছি তাই উত্তম এবং আমরা সন্তুষ্ট আছি। পুনরায় তিনি বলিলেন, ভবিষ্যতেও এভাবে তোমাদের উপর অন্যদের [দানের ব্যাপারে] প্রাধান্য দেয়া হইবে। তখন তোমরা আল্লাহ্‌ ও তাহাঁর রাসূলের সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করিবে এবং হাওযে কাওসারের কাছে থাকিবে। তারা বলিলেন, এখন থেকে আমরা ধৈর্য ধারণ করব। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০৫]

২৩২৭

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] থেকে এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

হাওয়াযিন গোত্র থেকে বিনা যুদ্ধে সম্পদ লাভ ও বণ্টন সম্পর্কিত উপরের হাদিসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে আরও আছেঃ আনাস [রাদি.] বলেছেন, আমরা ধৈর্য ধারণ করিতে পারিনি এবং আমাদের কিছু লোক শব্দটি উল্লেখ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০৬]

২৩২৮

আনাস ইবনি মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে আনাস [রাদি.] বলেছেন যে, তারা বলিলেন, “আমরা ধৈর্য ধারণ করব।” যেমন যুহরী ইউনুসের রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০৭]

২৩২৯

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আনসারদের এক স্থানে সমবেত করে বললেনঃ তোমরা অর্থাৎ আনসারগণ ছাড়া অন্য কেউ এখানে আছে কি? তারা [আনসারগণ] বলিলেন, না। তবে আমাদের এ ভাগ্নে এখানে উপস্থিত আছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, বোনের ছেলে বা ভাগ্নে [মাতুল] গোত্রের অন্তর্ভূক্ত। অতঃপর তিনি বললেনঃ কুরায়শরা কেবলমাত্র জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগ করেছে এবং সবেমাত্র বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাই আমি চাচ্ছি। তোমরা কি সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ দুনিয়া নিয়ে ফিরে যাক, আর তোমরা আল্লাহর রসূলকে নিয়ে ঘরে প্রত্যাবর্তন কর? তোমাদের সাথে আমার ভালবাসা ও হৃদ্যতার স্বরূপ এই যে, দুনিয়ার সব লোক যদি উপত্যকার দিকে ছুটে আর আনসারগণ যদি কোন গিরিপথে যায় তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথেই যাবো [তাদের সাথেই থাকব]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০৮]

২৩৩০

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাক্কাহ্ বিজয়ের পরে গনীমাতের মাল কুরায়শদের মধ্যে বন্টন করা হলে আনসারগন বলিলেন, এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের কথা যে, আমাদের তরবারি দিয়ে এখনো তাদের রক্ত ঝরছে আর আমাদের গনীমাত তারাই লুটে নিচ্ছে। এ কথা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে পৌঁছলে তিনি তাদেরকে সমবেত করে বলিলেন, এ কেমন কথা যা তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে? তারা বলিলেন, হ্যাঁ; এ ধরনের কথা হয়েছে। তারা কখনো মিথ্যা বলেন না। তিনি বলিলেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরুক আর তোমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? অন্যান্য লোকেরা যদি কোন উপত্যকা বা গিরিপথে চলে এবং আনসারগণ যদি অপর কোন উপত্যকা বা গিরিপথ ধরে চলে তাহলে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথেই চলব [আমি আনসারদের সাথেই থাকব]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০৯]

২৩৩১

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে হাওয়াযিন, গাত্বফান ও অন্যান্য গোত্রের লোকেরা তাদের সন্তান-সন্ততি ও গবাদি পশু নিয়ে এবং নবী [সাঃআঃ] দশ হাজারের এক বিরাট বাহিনী এবং মাক্কার তুলাক্বাদের নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। তুমুল যুদ্ধের মুখে এরা সবাই পিছে হটে গেল এবং [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] একা যুদ্ধ ক্ষেত্রে রয়ে গেলেন। সেদিন তিনি দুটি ডাক দিলেন কিন্তু এর মাঝখানে কোন কথা বলেননি। প্রথমে তিনি ডান দিকে ফিরে ডাক দিয়ে বললেনঃ “হে আনসার সম্প্রদায়”! তারা তাকে সাড়া দিয়ে বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি- আপনি এ সুসংবাদ গ্রহণ করুন। অতঃপর তিনি বাম দিকে ফিরে পুনরায় ডেকে বললেনঃ হে আনসার সম্প্রদায়! তারা ডাকে সাড়া দিয়ে বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় তিনি [সাঃআঃ] সাদা বর্ণের একটি খচ্চরের পিঠে উপবিষ্ট ছিলেন। অতঃপর তিনি নীচে নেমে এসে বলিলেন, “আমি আল্লাহর বান্দা ও তাহাঁর রসূল! মুশরিকরা পরাজিত হলো, গনীমাতের অনেক মাল রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হস্তগত হলো। তিনি এসব মাল মুহাজির ও তুলাক্বাদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন। তিনি আনসারদের এ থেকে কিছুই দিলেন না। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে আনসারগণ বলিলেন, “বিপদের সময় আমাদের ডাকা হয়, আর গনীমাত বন্টনের সময় মজা লুটে অন্যরা। তাঁদের এ উক্তি তাহাঁর কানে গিয়ে পৌঁছল। তিনি তাদেরকে একটি তাঁবুর নীচে একত্র করে বলিলেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমাদের পক্ষ থেকে কী কথা আমার কাছে পৌঁছেছে? তাঁরা সবাই নীরব হয়ে গেলেন। তিনি বলেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি এতে খুশী নও যে, অন্যান্য লোক দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরবে আর তোমরা মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-কে সঙ্গে নিয়ে ফিরবে? তারা [উত্তরে] বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এতে খুশী আছি। রাবী বলেন, অতঃপর নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, “যদি অন্য লোকেরা এক গিরিপথের দিকে যায় আর আনসারগণ অন্য গিরিপথে চলে তাহলে আমি আনসারদের পথই আনুসরণ করব। বর্ণনাকারী হিশাম বলেন, “আমি আনসারকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবু হামযাহ্! আপনি কি তখন উপস্থিত ছিলেন! তিনি বলিলেন, আমি তাঁকে ছেড়ে কোথায় যাব?” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১০]

২৩৩২

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা মাক্কাহ্ বিজয় করার পর হুনায়নের যুদ্ধ করলাম। আমি দেখেছি এ যুদ্ধে মুশরিকরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্তভাবে কাতারবন্দী হয়েছিল। এদের প্রথম সারিতে অশ্বারোহীগণ, তারপর পদাতিকগণ, এদের পিছনে স্ত্রী লোকেরা যথাক্রমে বকরী অন্যান্য গবাদি পশুগুলো সারিবদ্ধ হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সংখ্যায় অনেক লোক ছিলাম। আমাদের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার পৌঁছে ছিল। আমাদের একদিকে খালিদ ইবনি ওয়ালীদ [রাদি.] আমাদের অশ্বারোহী বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে আমাদের ঘোড়া পিছু হটতে লাগলো। এমনকি আমরা টিকে থাকতে পারছিলাম না। বেদুঈনরা পালাতে শুরু করিল। আমার জানা মতে আরো কিছু লোক পালিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রথম মুহাজিরদের ধমক দিয়ে ডাকলেন, হে মুহাজিরগণ! হে মুহাজিরগণ! অতঃপর আনসারদের ধমক দিয়ে বলিলেন, হে আনসারগণ! হে আনসারগণ! আনসার [রাদি.] বলেন, এ হাদীস আমার নিকট লোক বর্ণনা করিয়াছেন অথবা তিনি বলেছেন, আমার চাচা বর্ণনা করিয়াছেন। রাবী বলেন, আমরা তাহাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সামনে অগ্রসর হলেন। আনসার [রাদি.] আরো বলেন, আল্লাহর শপথ! আমাদের পৌঁছার পূর্বেই আল্লাহ তাআলা তাদের পরাজিত করবেন এবং আমরা তাদের সকল প্রকার মাল হস্তগত করলাম। তারপর আমরা ত্বায়িফে গেলাম। ত্বায়িফের অধিবাসীদের চল্লিশ দিন যাবৎ অবরোধ করে রাখলাম, অতঃপর আমরা মাক্কায় ফিরে আসলাম এবং অভিযান সমাপ্ত করলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রত্যেক ব্যক্তিকে একশটি করে উট দিলেন ও অতঃপর হাদীসের বাকী অংশ ক্বাতাদাহ্, আবু তাইয়্যাহ ও হিমাম ইবনি যায়দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১০, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১১]

২৩৩৩

রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবু সুফ্ইয়ান ইবনি হার্ব, সফ্ওয়ান ইবনি উমাইয়্যাহ্, উয়াইনাহ্ ইবনি হিস্ন ও আক্বরা ইবনি হাবিসকে একশটি করে উট দিলেন এবং আব্বাস ইবনি মিরদাসকে এদের চেয়ে কিছু কম দিলেন। তখন মিরদাস এ কবিতা পাঠ করলেনঃ

আপনি কি আমার ও আমার উবায়দ নামক ঘোড়াটির অংশ

উয়াইনাহ্ ও আক্বরা-কে প্রদত্ত অংশের মাঝামাঝি নির্ধারণ করিয়াছেন?

বস্তুতঃ উয়াইনাহ্ এবং আক্বরা উভয়ই সমাজ ও সমাবেশে মিরদাসের চেয়ে

অধিক অগ্রসর হইতে বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করিতে পারে না।

আর প্রতিযোগিতায় আমি তাদের দুজনের তুলনায় পিছিয়ে নেই।

আজ যে অনগ্রসর ও হীন বলে গণ্য হইবে সে আর উর্ধ্বে উঠতে সক্ষম হইবে না।

বর্ণনাকারী বলেন, এ কবিতা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার উটের সংখ্যাও একশ পূর্ণ করে দিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১১, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১২]

২৩৩৪

উমর ইবনি সাঈদ ইবনি মাসরূক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] হুনায়ন যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমাতের মাল বন্টন করিলেন এবং আবু সুফ্‌ইয়ানকে একশ উট দিলেন। ….. অবশিষ্ট অংশ উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছে- তিনি আলক্বামাহ্‌ ইবনি উলাসাকেও একশ উট দিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১২, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১৩]

২৩৩৫

উমর ইবনি সাঈদ থেকে এ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে আলক্বামাহ্ ইবনি উসালাহ্ এবং সফ্ওয়ান ইবনি উমাইয়্যার নাম উল্লেখ নেই। তাছাড়া হাদীসে কবিতারও উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১৪]

২৩৩৬

আবদুল্লাহ ইবনি যায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হুনায়নের যুদ্ধে জয়লাভ করার পর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গনীমাতের মাল মুয়াল্লাফাতুল কুলূব-দের মধ্যে বন্টন করিলেন। অতঃপর তিনি জানতে পারলেন যে, অন্যান্য লোকেরা যেভাবে গনীমাতের মাল পেয়েছে আনসারগণও অনুরূপ পেতে চায়। তাই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দাঁড়িয়ে তাদের উদ্দেশ্যে খুতবাহ্ দান করিলেন। খুতবার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেনঃ “হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের পথভ্রষ্ট, দারিদ্র্য ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন পাইনি?” তারপর আমার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তোমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন, দারিদ্র্যের অভিশাপ হইতে মুক্ত করে ধনী করিয়াছেন। আর তাঁরা বলিতেন, আল্লাহ ও তাহাঁর রসূল অত্যন্ত আমানাতদার। অতঃপর তিনি বলিলেন, তোমরা আমার কথা জবাব দিচ্ছ না কেন? তখন তাঁরা বলিলেন, অত্যন্ত আমানাতদার। [অর্থাৎ তিনি যা করিয়াছেন ঠিক করিয়াছেন এবং এতে আমরা রাযী আছি]। অতঃপর তিনি বলিলেন, যদি তোমরা এভাবে এভাবে বলিতে চাও আর বাস্তবে কাজ এরূপ ও এরূপ হয়। আম্‌র [রাদি.] বলেন, এই বলে তিনি কতগুলো জিনিসের কথা উল্লেখ করিলেন যা আমি মনে রাখতে পারিনি। অতঃপর তিনি বলিলেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা ছাগল ও উট নিয়ে ঘরে ফিরে যাক আর তোমরা রসূলুল্লাহ [সা]-কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? তিনি আরো বললেনঃ আনসারগণ হচ্ছে আচ্ছাদন [শরীরের সাথে লেগে থাকা আবরণ] আর অন্য লোকেরা আমাদের থেকে দূরের। যদি হিজরাত না হতো তাহলে আমি আনসারদের মাঠ ও গিরিপথেই যাব। আমার পরে তোমাদেরকে [দেয়ার ব্যাপারে] পিছনে ফেলে রাখা হইবে। তখন তোমরা আমার সাথে হাওজের কাছে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১৫]

২৩৩৭

আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন হুনায়ুনের যুদ্ধ সংঘটিত হলো রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গনীমাতের মাল দেয়ার ব্যাপারে কতক লোককে প্রাধান্য দিলেন অর্থাৎ কতক লোককে বেশী দিলেন। সুতরাং তিনি আক্বরা ইবনি হাবিসকে একশ উট দিলেন, উয়াইনাকেও অনুরূপ সংখ্যক উট দান করিলেন এবং আরবের নেতৃস্থানীয় কিছু লোককেও অগ্রাধিকার দিলেন। এক ব্যক্তি বলিল, আল্লাহর শপথ! এ বন্টন ইনসাফ ভিত্তিক হয়নি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি এ কথা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে পৌঁছাব। রাবী বলেন, আমি তাহাঁর কাছে গিয়ে লোকটির উক্তি তাঁকে শুনালাম। ফলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মুখমন্ডল রক্তিম বর্ণ ধারন করিল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ এবং তাহাঁর রসূলই যদি সুবিচার না করেন তাহলে কে আর ইনসাফ করিবে? তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তাআলা মূসা [আঃ]-কে রহমাত করুন, তাঁকে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করিয়াছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ থেকে আর কখনও এ ধরনের কোন ব্যাপার তাঁকে জানাব না। [কেননা এতে তাহাঁর কষ্ট হয়]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১৬]

২৩৩৮

আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গনীমাতের কিছু মাল বন্টন করিলেন। এক ব্যক্তি বলিল, এ বন্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ]-এর কাছে গিয়ে এ কথা তাঁকে চুপে চুপে অবহিত করলাম, এতে তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিলাম এ ধরনের কথা তাঁকে আর কখনও বলব না। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি বললেনঃ মূসা [আঃ]-কে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং তিনি ধৈর্য ধারণ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১৭]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply