নতুন লেখা

ইসলামী দণ্ড বিধান প্রয়োগ না করার জন্য সুপারিশ করা হারাম

ইসলামী দণ্ড বিধান প্রয়োগ না করার জন্য সুপারিশ করা হারাম

ইসলামী দণ্ড বিধান প্রয়োগ না করার জন্য সুপারিশ করা হারাম >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ৩৫০ : ইসলামী দণ্ড বিধান প্রয়োগ না করার জন্য

সুপারিশ করা হারাম

মহান আল্লাহ বলেছেন,

﴿ ٱلزَّانِيَةُ وَٱلزَّانِي فَٱجۡلِدُواْ كُلَّ وَٰحِدٖ مِّنۡهُمَا مِاْئَةَ جَلۡدَةٖۖ وَلَا تَأۡخُذۡكُم بِهِمَا رَأۡفَةٞ فِي دِينِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۖ ٢ ﴾ [النور : ٢] 

অর্থাৎ ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, এদের প্রত্যেককে একশো করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান প্রয়োগ করার সময় তাহাদের প্রতি কোন দয়া যেন তোমাদেরকে অভিভূত না করে; যদি [সত্যিকারে] তোমরা আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামতের দিনের প্রতি ঈমান এনে থাক। [সূরা নূর ২ আয়াত]  

1/1779 وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أَنَّ قُرَيْشاً أَهَمَّهُمْ شَأْنُ المَرْأَةِ المَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ، فَقَالُوا : مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟ فَقَالُوا: وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلاَّ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، حِبُّ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم . فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللهِ تَعَالَى؟!» ثُمَّ قَامَ فاخْتَطَبَ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيِهمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ، أَقَامُوا عَلَيْهِ الحَدَّ، وَأَيْمُ اللهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا». متفق عَلَيْهِ.

وفي روايةٍ : فَتَلوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللهِ!؟» فَقَالَ أُسَامَةُ: اسْتَغْفِرْ لِي يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَ: ثُمَّ أَمَرَ بِتِلْكَ المَرْأَةِ فَقُطِعَتْ يَدُهَا .

১/১৭৭৯। হাদিসের রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিত যে, চুরির অপরাধে অপরাধিনী মাখযূম গোত্রের একজন মহিলার ব্যাপার কুরাইশ বংশের লোকদের খুব দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। সাহাবীগণ বলিলেন, ‘ওর ব্যাপারে আল্লাহর রসূল সাঃআঃ-এর সঙ্গে কে কথা বলিতে পারবে?’ তাঁরা বলিলেন, ‘রসূল সাঃআঃ-এর প্রিয় পাত্র উসামা ইবনি যায়েদ ছাড়া কেউ এ সাহস পাবে না।’ সুতরাং উসামা রসূল সাঃআঃ-এর সঙ্গে কথা বলিলেন। তিনি বলে উঠলেন, ‘‘তুমি আল্লাহর এক দণ্ডবিধান [প্রয়োগ না করার] ব্যাপারে সুপারিশ করছ?’’ পরক্ষণেই তিনি দাঁড়িয়ে খুৎবাহ দিলেন এবং বলিলেন, ‘‘[হে লোক সকল!] নিশ্চয় তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের লোকেরা এ জন্য ধ্বংস হয়েছিল যে, যখন তাহাদের কোন সম্মানিত ব্যক্তি চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাহাদের কোন দুর্বল লোক চুরি করত, তখন তার উপর শরীয়তের শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তাহলে অবশ্যই আমি তার হাতও কেটে দিতাম।’’ [বুখারী ও মুসলিম] [1]

অন্য এক বর্ণনায় আছে, [উসামার সুপারিশে] আল্লাহর রসূল সাঃআঃ-এর চেহারা রঙিন [লাল] হয়ে গেল। তিনি বলিলেন, ‘‘তুমি কি আল্লাহর এক দণ্ডবিধান [কায়েম না করার] ব্যাপারে সুপারিশ করছ?!’’ উসামা বলিলেন, ‘আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন, হে আল্লাহর রসূল!’ বর্ণনাকারী বলেন, ‘অতঃপর নবী সাঃআঃ আদেশ দিলে ঐ মহিলার হাত কেটে দেওয়া হল।’


[1] সহীহুল বুখারী ২৬৪৮, ৩৪৭৫, ৩৭৩৩, ৪৩০৪, ৬৭৮৭, ৬৭৮৮, ৬৮০০, মুসলিম ১৬৮৮, তিরমিযী ১৪৩০, নাসায়ী ৪৮৯৫, ৪৮৯৭-৪৯০৩, আবূ দাউদ ৪৩৭৩, ইবনু মাজাহ ২৫৪৭, আহমাদ ২২৯৬৮, ২৪৭৬৯, দারেমী ২৩০২

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

ইলম (জ্ঞান ও শিক্ষা) বিষয়ক অধ্যায়

পরিচ্ছেদ – ২৪১ঃ ইল্মের ফযীলত পরিচ্ছেদ – ২৪২ঃ মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজেব

Leave a Reply

%d bloggers like this: