নতুন লেখা

ইসতিসকার নামাজ । বৃষ্টি প্রার্থনা ও সূর্যগ্রহণের নামাজ

ইসতিসকার নামাজ – সালাতুল ইসতিসকার (বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ)

ইসতিসকার নামাজ । বৃষ্টি প্রার্থনা ও সূর্যগ্রহণের নামাজ , এই অধ্যায়ে মোট হাদীস ৩৭ টি (১১৬১ – ১১৯৭)>>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ৩, অনুচ্ছেদঃ ২৫৮-২৬৯=১২টি, হাদীসঃ (১১৬১-১১৯৭)=৩৭টি

অনুচ্ছেদ-২৫৮ ইসতিসকার নামাজ ও তার বর্ণনা
অনুচ্ছেদ-২৫৯ ইসতিসকার নামাজ কখন চাদর উল্টিয়ে পরিধান করিবে?
অনুচ্ছেদ- ২৬০ ইসতিসকার নামাজে দুহাত উত্তোলন সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২৬১ সূর্যগ্রহণের নামাজ
অনুচ্ছেদ- ২৬২ যিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের নামাজে রুকূ হইবে চারটি
অনুচ্ছেদ- ২৬৩ সূর্যগ্রহণের নামাজের ক্বিরআত
অনুচ্ছেদ- ২৬৪ সূর্যগ্রহণের নামাজের জন্য আহবান করা
অনুচ্ছেদ-২৬৫ সূর্যগ্রহণের সময় সদাক্বাহ করার নির্দেশ
অনুচ্ছেদ-২৬৬ সূর্যগ্রহণের সময় গোলাম আযাদ করা
অনুচ্ছেদ- ২৬৭ যিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় দু রাকআত নামাজ আদায় করিবে
অনুচ্ছেদ- ২৬৮ দুর্যোগকালে নামাজ আদায়
অনুচ্ছেদ- ২৬৯ বিপদের আলামাত দেখে সাজদাহ্‌ করা

অনুচ্ছেদ-২৫৮ ইসতিসকার নামাজ ও তার বর্ণনা

১১৬১ :আব্বাদ ইবনি তামীম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে তার চাচার সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ / ইসতিসকার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে লোকদের নিয়ে বের হলেন এবং তাহাঁদেরকে নিয়ে ক্বিবলামুখী হয়ে দু রাকআত নামাজ আদায় করেন। উভয় রাকআতে স্বরবে ক্বিরআত পাঠ করেন, অতঃপর স্বীয় চাদর উল্টিয়ে নিয়ে দুহাত উঠিয়ে বৃষ্টির জন্য দুআ করেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৬২: ইবনি শিহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাকেআব্বাদ ইবনি তামীম আল-মাযিনী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) জানালেন, তিনি তার চাচাকে– যিনি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর অন্যতম সহাবী ছিলেন- বলিতে শুনেছেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ইসতিসকা নামাজের জন্য বের হলেন এবং লোকদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে মহা মহীয়ান আল্লাহর কাছে দুআ করেন।

বর্ণনাকারী সুলায়মান ইবনি দাউদ বলেন, তিনি ক্বিবলাহমুখী হয়ে স্বীয় চাদর উল্টিয়ে নিয়ে দু রাকআত ইসতিসকার নামাজ আদায় করেন। ইবনি আবু যিবের বর্ণনায় রহিয়াছে, তিনি উভয় রাকআতে ক্বিরাআত পাঠ করেন। ইবনিস সারাহ্‌র বর্ণনায় রহিয়াছে, তিনি ক্বিরাআতে উচ্চস্বরে পাঠ করিয়াছেন।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম। তবে মুসলিমে ক্বিরাআত ও উচ্চস্বরে পাঠের কথা নেই। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৬৩: মুহাম্মাদ ইবনি মুসলিম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে নিজস্ব সানাদ হইতে বর্ণিতঃ

তবে তার বর্ণনায় নামাজ আদায়ের কথা উল্লেখ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, “তিনি (সাঃআঃ) স্বীয় চাদর উল্টিয়ে নেন। তিনি ডান স্কন্ধের উপরে রাখা চাদরের ডান পার্শ্বকে বাম কাঁধের উপর এবং বাম কাঁধের উপরে রাখা চাদরের বাম পার্শ্বকে ডান কাঁধের উপর রাখলেন। তারপর মহা মহীয়ান আল্লাহর কাছে দুআ করিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৬৪: আবদুল্লা ইবনি যায়িদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বৃষ্টির জন্য দুআ করেন। তখন তাহাঁর শরীরে কালো বর্ণের একটি চাদর জড়ানো ছিল। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) চাদরের নীচের অংশকে উল্টিয়ে উপরে উঠানোর সময় ভারী বোধ করায় তিনি তা কাঁধের উপরে রেখেই উল্টিয়ে নেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৫৯ ইসতিসকার নামাজ কখন চাদর উল্টিয়ে পরিধান করিবে?

১১৬৫: আব্বাদ ইবনি তামীম (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লা ইবনি যায়িদ (রাঃআঃ) তাঁকে বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ইসতিসকার নামাজ আদায়ের উদ্দেশে ঈদগাহে যান এবং যখন দুআর ইচ্ছে করেন তখন ক্বিবলাহমুখী হয়ে স্বীয় চাদরখানা উল্টিয়ে নেন।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৬৬ : আবদুল্লা ইবনি যায়িদ আল-মাযিনী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লা ইবনি যায়িদ আল-মাযিনী (রাঃআঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ঈদগাহে গিয়ে ইসতিসকার নামাজ আদায় করিলেন। তিনি ক্বিবলাহমুখী হওয়ার সময় স্বীয় চাদরখানা উল্টিয়ে নিলেন।

সহীহঃ মুসলিম। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৬৭ : হিশাম ইবনি ইস্‌হাক ইবনি আবদুল্লা ইবনি কিনানাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, রসূলুল্লাহর সাঃআঃ ইসতিকার নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে আল-ওয়ালীদ ইবনিউতবাহ আমাকে ইবনিআব্বাসের নিকট পাঠালেন।উসমান ইবনিউক্ববাহ বলেন, ওয়ালীদ ইবনিউতবাহ তখন মাদীনাহ্‌র গভর্ণর ছিলেন। ইবনি আব্বাস (রাঃআঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাঃআঃ পুরাতন বেশভূষায় ভয় ও বিনয়ী অবস্থায় বের হয়ে ঈদগাহে গেলেন। অতঃপর তিনি মিম্বারে উঠেন এবং প্রচলিত নিয়মে খুত্ববাহ না দিয়ে তিনি সারাক্ষণ কাকুতি-মিনতি, দুআ ও তাকবীর পাঠেরত ছিলেন। অতঃপর তিনি ঈদের নামাজের মত দু রাকআত ইসতিসকার নামাজ আদায় করেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ- ২৬০ ইসতিসকার নামাজে দুহাত উত্তোলন সম্পর্কে

১১৬৮ : বনী আবুল লাহ্‌মের মুক্তদাস উমাইর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী সাঃআঃ-কেআযযাওরার নিকটবর্তীআহ্‌জারুয্‌ যায়িত নামক স্থানে ইসতিসকার নামাজ আদায় করতে দেখেছেন। তিনি বৃষ্টি বর্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে হাত দুটিকে চেহারার সম্মুখে মাথার উপরিভাগ পর্যন্ত উঠিয়ে দুআ করিয়াছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৬৯ : জাবির ইবনিআবদুল্লা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা নাবী সাঃআঃ এর কাছে কতিপয় লোক (বৃষ্টি না হওয়ায়) ক্রন্দনরত অবস্থায় এলে তিনি দুআ করলেনঃ

اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا مَرِيئًا مَرِيعاً نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلاً غَيْرَ آجِلٍ

আল্লাহুম্মাস কিনা গইসান মুগিসান মারিয়ান নাফিয়ান গইরা দারিন আজিলান গয়রা আজিলিন

হে আল্লাহ! আমাদেরকে বিলম্বে নয় বরং তাড়াতাড়ি ক্ষতিমুক্ত-কল্যাণময়, তৃপ্তিদায়ক, সজীবতা দানকারী, মুষল ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তাহাঁদের উপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায় (এবং বৃষ্টি হয়)।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৭০ : আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী সাঃআঃ ইসতিসকার ছাড়া অন্য কোন দুআতে দু হাত উঠাননি। তিনি হাত দুটিকে এতটুকু উঠাতেন যে, তাহাঁর বগলদ্বয়ের সাদা অংশ দেখা যেত।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৭১ : আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী সাঃআঃ বৃষ্টির জন্য এরূপে দুআ করিয়াছেন। অর্থাৎ তিনি দু হাত প্রশস্ত করে দু হাতের তালুকে যমীনের দিকে রেখেছেন। এমনকি আমি তাহাঁর বগলের সাদা অংশ দেখেছি।

সহীহঃ মুসলিম সংক্ষেপে। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৭২ : মুহাম্মাদ ইবনি ইবরাহীম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এ হাদিস আমাকে এমন এক ব্যক্তি অবহিত করিয়াছেন, যিনি নাবী সাঃআঃ-কেআহ্‌জারুয্‌ যায়িত নামক স্থানের সন্নিকটে দু হাত প্রশস্ত করে দুআ করতে দেখেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৭৩ : আয়িশাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর কাছে লোকজন অনাবৃষ্টির অভিযোগ পেশ করলে তিনি একটি মিম্বার স্থাপনের নির্দেশ দিলেন। সেটি তাহাঁর ঈদগাহে রাখা হলো এবং তিনি লোকদেরকে ওয়াদা দিলেন যে, তিনি তাহাঁদেরকে নিয়ে একদিন সেখানে যাবেন।আয়িশাহ (রাঃআঃ) বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাঃআঃ সূর্য উদিত হওয়ার পর বের হয়ে মিম্বারের উপর বসে তাকবীর বলে মহা মহীয়ান আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং বলেনঃ তোমরা তোমাদের অনাবৃষ্টির অভিযোগ করেছ। অথচ মহান আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করিয়াছেন তোমরা তাকে ডাকো, তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিতে ওয়াদাবদ্ধ। অতঃপর তিনি বলেনঃ

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ * مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ

আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ -লামি-ন। আররহমা-নির রাহি-ম। মা-লিকি ইয়াওমিদ্দি-ন।

সকল প্রশংসা বিশ্ব জগতের রব আল্লাহর জন্য, যিনি দয়ালু ও অতিশয় মেহেরবান, শেষ বিচারের দিনের মালিক।

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ اللَّهُمَّ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ لَنَا قُوَّةً وَبَلاَغًا إِلَى حِينٍ

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ইয়াফ‘আলু মা-ইউরীদ, আল্লা-হুম্মা আনতাল্লা-হু লা-ইলাহা ইল্লা-আনতাল গনিয়্যু ওয়া নাহনুল ফুকারা-উ, আনযিল আলাইনাল গয়সা ওয়াজ‘আল মা-আনযালতা লানা-ক্যুওয়াতান ওয়া বালাগান ইলা-হীন।

আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই করেন। হে আল্লাহ! আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নাই, আপনি সম্পদশালী আর আমরা ফকীর ও মুখাপেক্ষী। কাজেই আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষণ করুন এবং আপনি যা কিছু বর্ষণ করবেন, তদ্‌দ্বারা আমাদের জন্য প্রবল শক্তি ও প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌছার ব্যবস্থা করে দিন। অতঃপর তিনি দু হাত এতোটা উঁচু করিলেন যে, তাহাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা গেলো। অতঃপর হাত উঠানো অবস্থায়ই তিনি লোকদের দিকে স্বীয় পিঠ ঘুরিয়ে দিয়ে চাদরটি উল্টিয়ে নিলেন। এরপর তিনি লোকজনের দিকে ফিরে মিম্বার হইতে নেমে দু রাকাআত নামাজ/ ইসতিসকার নামাজ আদায় করিলেন। এ সময় মহান আল্লাহ এক খণ্ড মেঘের আবির্ভাব ঘটালেন, যার মধ্যে গর্জন ও বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বৃষ্টিপাত হলো। এমনকি তিনি মসজিদ পর্যন্ত আসতে না আসতেই পথপঘাট পানিতে প্লাবিত হয়ে গেলো। যখন লোকজনকে বাড়ি-ঘরের দিকে দৌড়াতে দেখলেন, তখন নাবী সাঃআঃ এমনভাবে হাসলেন যে, তার সামনের পাটির দাঁত দেখা গেলো। অতঃপর তিনি বলিলেন,

 أَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ وَأَنِّي عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ

আশহাদু আন্নাল্লাহা আলা কুল্লি সায়্যিন কাদির ওয়া আন্নি আব্দুল্লাহি ওয়া রসুলুহু

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চই আল্লাহ সকল বস্তুর উপর ক্ষমতবান এবং আমি আল্লাহর বান্দা ও তাহাঁর রসূল। ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এ হাদিসটি গরীব। তথাপি হাদিসটির সানাদ ভাল।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১১৭৪ : আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর জীবদ্দশায় একবার মাদীনাহ্‌বাসী দুর্ভিক্ষে পতিত হয়। ঐ সময়ের জুমুআহর দিন তিনি আমাদের উদ্দেশে খুত্ববাহ দানকালে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রসূল! (অনাবৃষ্টির কারণে) উট-বকরি ইত্যাদি প্রায় ধ্বংসের মুখে। সুতরাং আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণের দুআ করুন। অতঃপর তিনি হাত প্রসারিত করে দুআ করিলেন। আনাস (রাঃআঃ) বলেন, তিনি দুআ করার পূর্বে পর্যন্ত আকাশ মেঘমুক্ত স্বচ্ছ কাঁচের ন্যায় পরিস্কার ছিল, (দুআ করার পর) হঠাৎ বায়ু প্রবাহিত হয়ে এক খণ্ড মেঘ প্রস্তুত হলো, অতঃপর বিভিন্ন খণ্ড একত্র হয়ে আকাশে অঝোর ধারায় বৃষ্টি বর্ষিত হলো। এমনকি আমরা বৃষ্টিতে ভিজে বাড়িঘরে ফিরে এলাম এবং একটানা পরবর্তী জুমুআহ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হইতে থাকলো। এ জুমুআহইতে ঐ লোক অথবা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রসূল! (অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে) ঘর-বাড়ি ধসে যাচ্ছে, কাজেই বৃষ্টি বন্ধের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। তার কথায় রসূলুল্লাহ সাঃআঃ মুচকি হেসে দুআ করিলেন,

حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا

হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা

(হে আল্লাহ!) আমাদের আশেপাশে বৃষ্টি দাও, আমাদের উপরে নয়। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মেঘের দিকে তাকিয়ে দেখিতে পেলাম, তা মদীনাহ্‌র আশেপাশে উঁচু উঁচু সুদৃশ্য চূড়ার মত বিক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

সহীহঃ বোখারি। মুসলিম সংক্ষেপে। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৭৫ : আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাঃআঃ তাহাঁর দু হাত স্বীয় চেহারা বরাবর উঠিয়ে দুআ করলেনঃ

اللَّهُمَّ اسْقِنَا

আল্লাহুম্মাসক্বিনা

হে আল্লাহ! আমাদেরকে বৃষ্টি দাও। অতঃপর পূর্বের হাদিসের অনুরূপ।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম সংক্ষেপে। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৭৬ : আমর ইবনি শুআইব (রাঃআঃ) তার পিতা হইতে তার দাদার সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বৃষ্টির জন্য দুআ করার সময় বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ وَبَهَائِمَكَ وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ وَأَحْىِ بَلَدَكَ الْمَيِّتَ

আল্লা-হুম্মাসক্বি ইবা-দাকা ওয়া বাহা-ইমাকা ওয়ানশুর রহমাতাকা ওয়া আহয়ি বালাদাকাল মায়্যিতা

হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাদের ও প্রাণীদেরকে পানি দান করুন, আপনার রহমাত বিস্তৃত করুন এবং আপনার মৃত শহরকে (শুস্ক ভূমিকে) জীবিত করুন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৬১ সূর্যগ্রহণের নামাজ

১১৭৭ : আয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা নাবী (সাঃআঃ) এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে নাবী (সাঃআঃ) লোকদের নিয়ে নামাজে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর রুকু করে আবার দাঁড়ালেন। আবার রুকু করিলেন এবং আবার দাঁড়ালেন। অতঃপর রুকু করিলেন। এভাবে দু রাকআত নামাজ/ ইসতিসকার নামাজ আদায় করিলেন এবং প্রত্যেক রাকআতে তিনটি করে রুকু করার পর সাজদাহ্ করিলেন। নামাজে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কতিপয় লোক অজ্ঞান হয়ে যায় এবং তাহাঁদের উপর পানি ঢালা হয়। তিনি (সাঃআঃ) রুকু করার সময় আল্লাহু আকবার; আর রুকু হইতে মাথা উঠানোর সময় সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলেছেন এবং তাহাঁর নামাজ অবস্থায়ই সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। অতঃপর তিনি বললেনঃ সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ কারোর জন্ম বা মৃত্যুর কারণে হয় না, বরং তা মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দুটি নিদর্শন। তিনি এর দ্বারা স্বীয় বান্দাদেরকে ভয় দেখিয়ে থাকেন। সুতরাং কখনো গ্রহণ হলে তোমরা নামাজ আদায়ে মনোনিবেশ করিবে।

সহীহঃ মুসলিম। কিন্তু (তিন রাকআত) কথাটি শায। মাহফূয হচ্ছেঃ (দুই রাকআত)। যেমন বোখারি ও মুসলিমে রহিয়াছে। এছাড়া সামনে ১১৮০ নং এ আসছে। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ- ২৬২ যিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের নামাজে রুকূ হইবে চারটি

১১৭৮ : জাবির ইবনিআব্দুল্লাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর যুগে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর পুত্র ইবরাহীমের মৃত্যুর দিনে সূর্যগ্রহণ হলে লোকজন মন্তব্য করলো, ইবরাহিমের মৃত্যুর কারনেই গ্রহণ লেগেছে। অতঃপর তিনি লোকদেরকে নিয়ে চার সাজদাহ্‌ ও ছয় রুকূসহ নামাজ আদায় করেন। তিনি (সাঃআঃ) তাকবীর বলে নামাজ আরম্ভ করে দীর্ঘক্ষণ ক্বিরাআত পড়েন। অতঃপর দাড়ানোর অনুরূপ সময় রুকূতে অতিবাহিত করেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে প্রথমবারের চেয়ে কিছুটা কম সময় ক্বিরআত পড়েন। অতঃপর দাড়ানোর অনুরূপ সময় রুকুতে অতিবাহিত করেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে তৃতীয়বারের ক্বিরাআত পড়েন যা ছিল দ্বিতীয়বারের চেয়ে কিছুটা কম। অতঃপর তিনি রুকুতে গিয়ে দাড়ানোর অনুরূপ সময় অতিবাহিত করে মাথা উঠান, অতঃপর সাজদাহ্‌ করেন। তিনি দুটি সাজদাহ্‌ করার পর দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দাড়ান এবং এ রাকআতেও তিনি সাজদাহ্‌র পূর্বে তিনটি রুকু করেন। তাহাঁর দ্বিতীয় রাকআতে দাড়ানোর সময়ও দীর্ঘ ছিল, তবে তা প্রথম রাকআতের প্রত্যেকটি ক্বিয়ামের চেয়ে কম সময় ছিল এবং রুকুতে অবস্থানের সময় ছিল দাড়ানোর সমপরিমাণ। অতঃপর তিনি নামাজের মধ্যেই পেছনের দিকে সরে আসেন, ফলে মুসল্লীদের কাতারগুলোও তাহাঁর সাথে সাথে সরে গেল। অতঃপর তিনি আবার সস্থানে আসলে সবগুলো কাতার সম্মুখে অগ্রসর হয়। এভাবে তিনি নামাজ সমাপ্ত করিলেন এবং এ সময়ের মধ্যে সূর্যও গ্রহণমুক্ত হয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেনঃ হে লোকেরা! নিশ্চয় সূর্য ও চন্দ্র মহাপরাক্রমশালী মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দুটি নিদর্শন। কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে এ দুটির গ্রহণ হয় না। অতএব তোমরা গ্রহণ হইতে দেখলে তা গ্রাসমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করিবে। হাদিসের অবশিষ্ট অংশ ও এভাবে বর্ণিত হয়েছে।

সহিহঃ মুসলিম। কিন্তু (ছয় রাকআত) কথাটি শায। মাহফুজ হচ্ছে (চার রাকআত। যেমন সামনে আসছে। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৭৯ : জাবির (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর যুগে প্রচন্ড গরমের দিনে সূর্যগ্রহণ হলে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে নামাজ আদায় করেন। তিনি এত দীর্ঘ সময় নামাজে দাড়িয়ে থাকলেন যে, লোকজন বেহুশ হয়ে পড়ছিল। তিনি দীর্ঘক্ষণ রুকূ করিলেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। অতঃপর দুটি সাজদাহ্ করিলেন। অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকআতেও প্রায় প্রথম রাকআতের অনুরূপ করিলেন। এতে পুরো নামাজ চার রুকু ও চার সাজদাহ্‌ বিশিষ্ট হলো। এরপর বর্নণাকারী পুরো হাদিস বর্ণনা করেন।

সহিহঃ মুসলিম। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৮০ : নাবী (সাঃআঃ) এর স্ত্রীআয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হলে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মাসজিদের দিকে বের হন। তিনি আল্লাহু আকবার বলে নামাজ আরম্ভ করেন এবং লোকজন তাহাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যান। অতঃপর তিনি লম্বা ক্বিরাআত পাঠ করেন, তারপর তাকবীর বলে রুকুতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ তাতে অতিবাহিত করেন। এরপর মাথা তুলে

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

“সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্‌ রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্‌দ”

বলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যান। অতঃপর আবার লম্বা ক্বিরাআত পড়েন, তবে তা প্রথমবারের চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর তাকবীর বলে দীর্ঘক্ষণ রুকু করেন, তবে তা প্রথমবারের চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

“সামিআল্লাহু লিমান হামিদা্‌হ্‌ ,রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ ”

বলেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরূপ করেন। এভাবে তিনি পুরো নামাজ চার রুকু ও চার সাজদাহ্‌ সহকারে আদায় করেন। নামাজ শেষে প্রত্যাবর্তনের পূর্বেই সূর্য গ্রাসমুক্ত হয়ে যায়।

সহিহঃ বোখারি ও মুসলিম। ইসতিসকার নামাজ  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৮১ : কাসীর ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

আব্দুল্লাহ ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হাদিস বর্ণনা করতেন যে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সূর্যগ্রহণ এর সময় নামাজ আদায় করিয়াছেন। অতঃপর অবশিষ্ট বর্ণনা উরওয়াহ হইতেআয়েশা (রাঃআঃ) থেকে রসূলুল্লাহর (সাঃআঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ। তিনি বলেন, তিনি দু রাকআত নামাজ/ ইসতিসকার নামাজ আদায় করিয়াছেন এবং প্রতি রাকআতে দুটি করে রুকূ করিয়াছেন।

সহিহঃ বুখারি ও মুসলিম। ইসতিসকার নামাজ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৮২ : উবাই ইবনি কাব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি সাহাবীদেরকে নিয়ে নামাজ আদায় করেন। তিনি নামাজে দীর্ঘ সূরাহ তিলাওয়াত করেন। তিনি প্রথম রাকআতে পাচটি রুকূ ও দুটি সাজদাহ্‌ করেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সূরাহ তিলাওয়াত করেন। তাতেও পাঁচটি রুকূ ও দুটি সাজদাহ্‌ করেন। অতঃপর ক্বিবলামুখী হয়ে বসে দুআ করতে থাকেন। এমতাবস্থায় সূর্য গ্রাসমুক্ত হয়ে যায়। {১১৮২}

{১১৮২} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আহমাদ(৫/১৩৪), তাবরীযী একে মিশকাত (হাদীসঃ ১৪২৯) গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছেন। এর সানাদ দুর্বল। সানাদে আবু জাফার রাযী দুর্বল স্মরণশক্তি মন্দ। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১১৮৩ : উবাই ইবনি কাব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে নাবী (সাঃআঃ) নামাজ আদায় করেন। তিনি তাতে ক্বিরাআত পড়ে রুকূ করেন, অতঃপর ক্বিরাআত পড়ে রুকূ করেন, পুনরায় ক্বিরাআত পড়ে রুকূ করেন, আবার ক্বিরাআত পড়ে রুকূ করেন, অতঃপর সাজদাহ্‌ করেন এবং দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরূপ করেন। (অর্থাৎ প্রতি রাকআতে চারটি রুকূ)। {১১৮৩}

{১১৮৩} নাসায়ী (অধ্যায়ঃ সূর্যগ্রহণ, অনুঃ সূর্যগ্রহণের নামাজের নিয়ম, হাঃ ১৪৬৭) ত্বাউস হইতে ইবনি আব্বাস  সূত্রে। ইসতিসকার নামাজ  হাদিসের তাহকিকঃ মুনকার

১১৮৪ : সামুরাহ ইবনি জুনদুব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ও এক আনসারী যুবক তীর চালনা করছিলাম। এমন সময় সূর্য যখন লোকদের নজরে আনুমানিক দুই বা তিন তীর পরিমাণ উপরে উঠেছিল তখন তা কালজিরা বা কালো ফলের মত হয়ে যায়। তখন আমাদের একজন তার সাথীকে বলিল, চলো মসজিদে যাই। আল্লাহর শপথ, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর উম্মাতের উপর এ সূর্যের কারণে নিশ্চয়ই নতুন কিছু ঘটতে যাচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা গিয়ে দেখি, তিনি বেরিয়ে এসে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে নামাজ আরম্ভ করিয়াছেন। তিনি আমাদেরকে নিয়ে নামাজে এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, ইতিপূর্বে কখনো তিনি এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াননি। তবে (নিঃশব্দে ক্বিরাআত পড়ায়) আমরা নামাজের মধ্যে তাহাঁর কোন শব্দ শুনতে পাইনি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি আমাদেরকে নিয়ে রুকূ করিলেন এবং এত লম্বা রুকূ করিলেন যে, ইতিপূর্বে কখনো এত দীর্ঘ রুকূ করেননি। এতেও আমরা তাহাঁর (তাসবীহ পাঠের) শব্দ শুনতে পাইনি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি এত দীর্ঘ সাজদাহ্‌ করিলেন যে, ইতিপূর্বে নামাজে কখনো এরূপ দীর্ঘ সাজদাহ্‌ করেননি। এতেও আমরা তাহাঁর কোনও শব্দ শুনতে পাইনি। অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতেও অনূরুপ করিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি দ্বিতীয় রাকআতে বসা অবস্থায় থাকতেই সূর্য গ্রাসমুক্ত হয়ে যায়। অতঃপর তিনি সালাম ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করে সাক্ষ্য দেন যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দেন যে, তিনি তাহাঁর বান্দাহ্‌ ও রসূল। অতঃপর আহমাদ ইবনি ইউনূস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার বর্ণনায় নাবী (সাঃআঃ) এর ভাষণের বর্ণনা দেন। {১১৮৪}

{১১৮৪} এর সানাদ দুর্বল। এটি বর্ণনা করিয়াছেন বোখারি আফআলুলইবাদ গ্রন্থে এবং নাসায়ী (অধ্যায়ঃ সূর্য গ্রহণ, অনুঃ ১৫, হাঃ ১৪৮৩), তিরমীযী (অধ্যায়ঃ নামাজ, অনুঃ সূর্যগ্রহণ এর নামাজে ক্বিরআত, হাঃ ৫৬২, ঈমাম তিরমীযী বলেন, সামুরাহর হাদিসটি হাসান সহিহ), ইবনি মাজাহ (অধ্যায়ঃ নামাজ ক্বায়িম, অনুঃ সূর্যগ্রহণ এর নামাজ সম্পর্কে), আহমাদ (৫/১৬), এর সানাদ দুর্বল। সানাদে সারাবাহ ইবনি আব্বাদ সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাক্ববূল। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১১৮৫: ক্বাবীসাহ আল-হিলালী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি (সাঃআঃ) স্বীয় কাপড় হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে খুব ভয়ের সাথে বের হলেন। তখন আমি তার সাথে মদিনায় ছিলাম। তিনি দু রাকআত নামাজ আদায় করালেন এবং এতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তাহাঁর নামাজ শেষ হলে সূর্য গ্রাসমুক্ত হয়ে যায়। এরপর তিনি বলেন, নিশ্চয় এগুলো হচ্ছে নিদর্শন, মহান আল্লাহ এর মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শন করেন। সুতরাং যখন তোমরা এরূপ দেখবে, তখন এর পূর্বে তোমাদের আদায়কৃত (ফাজরের) ফারয নামাজের ন্যায় নামাজ আদায় করিবে। {১১৮৫}

{১১৮৫} নাসায়ী (অধ্যায়ঃ সূর্য গ্রহণ, হাঃ ১৪৮৫) আবু ক্বিলাবাহ হইতে কুবাইসাহ সূত্রে। আহমাদ (১৪০২)। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১১৮৬ : হিলাল ইবনিআমির (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

ক্বাবীসাহ আল-হিলালী (রাঃআঃ) তাকে বলেছেন, একদা সূর্যগ্রহণ হয়। অতঃপর মূসা বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ। তিনি বলেন, গ্রহণের কারণে সূর্য এমনভাবে আচ্ছন্ন হয়েছিল যে, তারকারাজি পর্যন্ত দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। {১১৮৬}

{১১৮৬} এর পূর্বেরটি দেখুন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ- ২৬৩ সূর্যগ্রহণের নামাজের ক্বিরআত

১১৮৭ : আয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহর (সাঃআঃ) যুগে সূর্যগ্রহণ হওয়ায় রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বেরিয়ে এসে লোকদেরকে নিয়ে নামাজ আদায় করিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে এত দীর্ঘক্ষণ ক্বিরআত পাঠ করেন যে, আমি অনুমান করে দেখেছি যে, তিনি সূরাহ বাক্বারাহ তিলাওয়াত করিয়াছেন। অতঃপর বর্ণনাকারী হাদিসের বাকী অংশ বর্ণনা করেন। এরপর তিনি দুটি সাজদাহ্ করিয়াছেন। তারপর দাঁড়িয়ে এত দীর্ঘ ক্বিরাআত পাঠ করেন যে, আমি অনুমান করেছি যে, তিনি সূরাহ আলে-ইমরান তিলাওয়াত করিয়াছেন।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৮৮ : আয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) (সূর্যগ্রহণের নামাজে) স্বরবে অত্যাধিক দীর্ঘ ক্বিরাআত পাঠ করিয়াছেন।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৮৯ : ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা সূর্যগ্রহন হলে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামাজ এবং তাহাঁর সাথের লোকেরা নামাজ আদায় করেন। তিনি (নামাজে) সূরাহ আল-বাক্বারাহ পড়ার সমপরিমাণ সময় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন, তারপর রুকূ করেন। এরপর বর্ণনাকারী হাদিসের বাকী অংশটি বর্ণনা করেন।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ- ২৬৪ সূর্যগ্রহণের নামাজের জন্য আহবান করা

১১৯০ : আয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ হলে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এক ব্যক্তিকে ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ করেন যে, নামাজের জামাআত অনুষ্ঠিত হইতে যাচ্ছে (কাজেই তোমরা একত্রিত হও)।

সহীহঃ মুসলিম। বোখারি তালীক্বভাবে। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৬৫ সূর্যগ্রহণের সময় সদাক্বাহ করার নির্দেশ

১১৯১ : আয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ কারো মৃত্যু এবং জন্মের কারণে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা (সংঘটিত হইতে) দেখবে তখন মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট দুআ করিবে, তাকবীর বলবে এবং সদাক্বাহ করিবে।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম .হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৬৬ সূর্যগ্রহণের সময় গোলাম আযাদ করা

১১৯২ : আসমা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) সূর্যগ্রহণের নামাজের সময় গোলাম আযাদ করার আদেশ দিতেন।

সহীহঃ বোখারি। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ- ২৬৭ যিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় দু রাকআত নামাজ আদায় করিবে

১১৯৩ : নুমান ইবনি বাশীর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার নাবী (সাঃআঃ) এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি দু দু রাকআত নামাজ আদায় করেন এবং সূর্য গ্রহণমুক্ত হয়েছে কিনা তা জিজ্ঞেস করেতে থাকেন।

{১১৯৩} নাসায়ী (অধ্যায়ঃ সূর্যগ্রহণ, হাঃ ১৪৮৪), ইবনি মাজাহ (অধ্যায়ঃ নামাজ ক্বায়িম, অনুঃ সূর্যগ্রহনের নামাজ সম্পর্কে, হাঃ ১২৬২), আহমাদ (৪/২৬৯), ইবনি খুযাইমাহ (হাঃ ১৪০৪)। এর সানাদ দুর্বল। হাদিসের তাহকিকঃ মুনকার

১১৯৪ : আবদুল্লা ইবনি আমর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামাজে দাঁড়ান। তিনি এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, রুকূতেই যাচ্ছেন না। অতঃপর রুকূ করিলেন এবং এত দীর্ঘক্ষণ রুকূ করিলেন যে, মাথা উঠাবেন বলে মনে হলো না, অবশ্য পরে উঠালেন এবং এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, সাজদাহ্‌ করার সম্ভাবনাই থাকলো না। অতঃপর সাজদাহ্‌ করিলেন এবং এত দীর্ঘক্ষণ সাজদাহ্‌ করিলেন যে, মাথা উঠানোর সম্ভাবনাই থাকলো না। অবশ্য পরে মাথা ঊঠালেন এবং প্রথম সাজদাহ্‌র পর এত দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেন যে, দ্বিতীয় সাজদাহ্‌ করবেন বলে সম্ভাবনা দেখা গেলো না। অতঃপর সাজদাহ্‌য় গিয়ে এত দীর্ঘক্ষণ সাজদাহ্‌ করিলেন যে, মাথা উঠাবেন বলে মনে হলো না, অতঃপর উঠালেন এবং দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরূপ করিলেন। পরে তিনি সর্বশেষ সাজদাহ্‌র মধ্যে উহঃ উহঃ শব্দ করিলেন এবং বললেনঃ হে আমার প্রভু! আপনি কি আমাকে এ প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আমার বর্তমানে আপনি তাহাঁদেরকে শাস্তি দিবেন না? আপনি কি আমার সাথে ওয়াদা করেননি যে, তারা ক্ষমা চাইতে থাকলে আপনি তাহাঁদেরকে শাস্তি দিবেন না? এ বলে তিনি নামাজ হইতে অবসর হলে সূর্যও গ্রাসমুক্ত হয়ে যায়। আর এভাবেই হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

সহীহঃ কিন্তু দুই রুকূ উল্লেখসহ। যেমনটি বোখারি ও মুসলিমে আছে। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৯৫ : আবদুর রহমান ইবনি সামুরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর জীবদ্দশায় একটি জায়গাতে আমি তীর চালনা শিখছিলাম। এমন সময় সূর্যগ্রহণ হলে আমি তীরগুলো ফেলে দিয়ে বলি, আজ সূর্যগ্রহণের দরুন রসূলুল্লাহর (সাঃআঃ) জন্য কি ঘটে, তা অবশ্যই স্বচক্ষে দেখবো। আমি তাহাঁর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি দুহাত উঠিয়ে তাসবীহ, তাহমীদ, কালিমাহ ও দুআ পাঠরত আছেন। অবশেষে সূর্য গ্রাসমুক্ত হয়ে গেল। তিনি দুটি সূরার দ্বারা দু রাকআত নামাজ আদায় করিলেন।

সহীহঃ মুসলিম সংক্ষেপে। সূর্যগ্রহণের নামাজ বিষয়ক (১১৭৭-১১৯৫ নং) হাদিসসমূহ হইতে শিক্ষাঃ ১। সূর্যগ্রহণের সময় নামাজ আদায় করা সুন্নাত। ২। এ নামাজ হইবে দু রাকআত। এ দু রাকআত নামাজে চারটি রুকু দিতে হয়। এ সম্পর্কিত হাদিসই সর্বাধিক বিশুদ্ধ। ৩। নামাজের ক্বিরাআত হইবে দীর্ঘ। ৪। নামাজের শেষে খুত্ববাহ দিতে হয়। ৫। গ্রহণ লাগলে দান-খয়রাত করা, দাস মুক্ত করা, তাকবীর বলা ও দুআ করা উত্তম। ৬। এ নামাজের জন্য লোকদেরকে আহবান করা সুন্নাত। ৭। সূর্যগ্রহণ মহান আল্লাহর নিদর্শন বিশেষ। এর সাথে কারো জন্ম বা মৃত্যুর কোন সম্পর্ক নয়। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ- ২৬৮ দুর্যোগকালে নামাজ আদায়

১১৯৬ : উবায়দুল্লাহ ইবনিন নাদর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন, একদা আনাস ইবনি মালিক (রাঃআঃ) এর সময় একবার (আকাশ) অন্ধকারাচ্ছন্ন হলে আমি আনাস (রাঃআঃ) এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবু হাম্‌যাহ! রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর যুগে আপনারা কখনো এরূপ বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলেন কি? তিনি বলিলেন, “আল্লাহ পানাহ! তখন একটু জোরে বাতাস প্রবাহিত হলেই আমরা ক্বিয়ামাত হবার আশংকায় দ্রুত দৌড়িয়ে মাসজিদে যেতাম। {১১৯৬}

{১১৯৬} এর সানাদ দুর্বল। আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। এছাড়াও বায়হাক্বী (৩/৩৪২)। ইসতিসকার নামাজ  হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ- ২৬৯ বিপদের আলামাত দেখে সাজদাহ্‌ করা

১১৯৭ : ইকরিমাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) কে নাবী (সাঃআঃ) এর কোন এক স্ত্রীর ইন্তেকালের সংবাদ দেয়া হলে তিনি সাজদাহ্‌য় লুটে পড়লেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, এ সময় সাজদাহ্‌ করার কারণ কি? তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যখন তোমরা কোন নিদর্শন দেখবে, তখন সাজদাহ্‌ করিবে। নাবী (সাঃআঃ) এর স্ত্রীর ইন্তিকালের চেয়ে বড় নিদর্শন (বিপদ) আর কি হইতে পারে! {১১৯৭}

ইসতিসকার নামাজ  হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, তীর, লৌহবর্ম ইত্যাদি

ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, তীর, লৌহবর্ম ইত্যাদি ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, …

Leave a Reply

%d bloggers like this: