ইলম সম্পর্কে হাদিস [জ্ঞান ও শিক্ষা] বিষয়ক অধ্যায়

ইলম সম্পর্কে হাদিস [জ্ঞান ও শিক্ষা] বিষয়ক অধ্যায়

ইলম সম্পর্কে হাদিস [জ্ঞান ও শিক্ষা] বিষয়ক অধ্যায় , এই পর্বের হাদীস =৮ টি (১৭০৫-১৭১২) >> আল লুলু ওয়াল মারজান এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্ব-৪৭ঃ ইলম [জ্ঞান ও শিক্ষা] বিষয়ক অধ্যায়

৪৭/১. কুরআনের মুতাশাবিহ বাণী অনুসন্ধান করা নিষেধ এবং যারা তা করে তাহাদের প্রতি সতর্কতা এবং কুরআনে ইখতিলাফ করা নিষেধ।
৪৭/২. খুবই ঝগড়াটে প্রসঙ্গে।
৪৭/৩. ইয়াহূদী-খৃষ্টানদের রীতি-প্রথার অনুসরণ করা।
৪৭/৫. শেষ যামানায় ইল উঠে যাওয়া ও বিলুপ্ত হওয়া এবং মূর্খতা ও ফিতনা প্রকাশ পাওয়া।

৪৭/১. কুরআনের মুতাশাবিহ বাণী অনুসন্ধান করা নিষেধ এবং যারা তা করে তাহাদের প্রতি সতর্কতা এবং কুরআনে ইখতিলাফ করা নিষেধ।

১৭০৫। আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আয়াতটি ………

هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فيَتَّبِعُون مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ

“তিনিই তোমার প্রতি এ কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন। এগুলো কিতাবের মূল অংশ; আর অন্যগুলো রূপক; যাদের অন্তরে সত্য-লঙ্ঘন প্রবণতা রয়েছে শুধু তারাই ফিতনা এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশে যা রূপক তার অনুসরণ করে। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তাঁরা বলেনঃ

arbi আমরা এতে ঈমান এনেছি, এসবই আমাদের প্রভুর তরফ থেকে এসেছে। জ্ঞানবানরা ব্যতীত কেউ নাসীহাত গ্রহণ করে না” [সূরাহ আলু ইমরান ৩/৭]। নাবী [সাঃআঃ] পাঠ করলেনঃ আয়েশা [রাদি.] বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঘোষণা করিয়াছেন যে, যারা মুতাশাবাহাত আয়াতের পেছনে ছুটে তাহাদের যখন তুমি দেখবে তখন মনে করিবে যে, তাহাদের কথাই আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন। সুতরাং তাহাদের ব্যাপারে সাবধান থাকিবে।

[বোখারী পর্ব ৬৫ অধ্যায় ১ হাদীস নং ৪৫৪৭; মুসলিম ৪৭ অধ্যায় ১, হাঃ ২৬৬৫] ইলম সম্পর্কে হাদিস -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭০৬. জুনদাব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইবাদাত মনের চাহিদার অনুকুল হয় তিলাওয়াত করিতে থাক এবং তাতে মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটলে পড়া ত্যাগ কর।

[বোখারী পর্ব ৬৬ অধ্যায় ৩৭ হাদীস নং ৫০৬১; মুসলিম ৪৭ অধ্যায় ১ হাঃ ২৬৬৭] ইলম সম্পর্কে হাদিস -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭/২. খুবই ঝগড়াটে প্রসঙ্গে।

১৭০৭. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, আল্লাহর নিকট সেই লোক সবচেয়ে বেশী ঘৃণিত, যে অতি ঝগড়াটে।

[বোখারী পর্ব ৪৬ অধ্যায় ১৫ হাদীস নং ২৪৫৭; মুসলিম ৪৭ অধ্যায় ২ হাঃ ২৬৬৮] ইলম সম্পর্কে হাদিস -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭/৩. ইয়াহূদী-খৃষ্টানদের রীতি-প্রথার অনুসরণ করা।

১৭০৮. আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ নিশ্চয় তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের আচার-আচরণকে বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে অনুকরণ করিবে। এমনকি তারা যদি যব-এর গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তোমরাও এতে তাহাদের অনুকরণ করিবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল ! এরা কি ইয়াহূদী ও নাসারা? তিনি বললেনঃ আর কারা?

[বোখারী পর্ব ৯৬ অধ্যায় ১৪ হাদীস নং ৭৩২০; মুসলিম ৪৭ অধ্যায় ৩, হাঃ ২৬৬৯] এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭/৫. শেষ যামানায় ইল উঠে যাওয়া ও বিলুপ্ত হওয়া এবং মূর্খতা ও ফিতনা প্রকাশ পাওয়া।

১৭০৯. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বলেছেন যে, কিয়ামাতের কিছু আলামত হলঃ ইলম হ্রাস পাবে, অজ্ঞতা প্রসারতা লাভ করিবে, মদপানের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং যেনা ব্যভিচার বিস্তার লাভ করিবে।

[বোখারী পর্ব ৩ অধ্যায় ২১ হাদীস নং ৮০; মুসলিম ৪৭ অধ্যায় ৪ হাঃ ২৬৭১] ইলম সম্পর্কে হাদিস -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭১০. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অবশ্যই ক্বিয়ামাতের পূর্বে এমন একটি সময় আসবে যখন সর্বত্র মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে এবং তাতে ইল্-ম উঠিয়ে নেয়া হইবে। সে সময় হারজ্ ব্যাপকতর হইবে। আর হারজ্ হল [মানুষ] হত্যা।

[বোখারী পর্ব ৯২ অধ্যায় ৫ হাদীস নং ৭০৬২-৭০৬৩; মুসলিম ৪৭ অধ্যায় ৪ হাঃ ২৬৭২] এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭১১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সময় নিকটবর্তী হইতে থাকিবে, আর আমাল হ্রাস পেতে থাকিবে, কার্পণ্য ছড়িয়ে দেয়া হইবে, ফিতনার বিকাশ ঘটবে এবং হারজ ব্যাপকতর হইবে। সহাবা-ই-কিরাম জিজ্ঞেস করিলেন, সেটা কী? নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন হত্যা, হত্যা

[বোখারী পর্ব ৯২ অধ্যায় ৫ হাদীস নং ৭০৬১; মুসলিম ৪৭ অধ্যায় ৪ হাঃ ১৫৭] ইলম সম্পর্কে হাদিস -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭১২. আবদুল্লাহ ইবনি আমর ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, আল্লাহ তাহাঁর বান্দাদের অন্তর থেকে ইলম উঠিয়ে নেন না, কিন্তু দ্বীনের আলিমদের উঠিয়ে নেয়ার ভয় করি। যখন কোন আলিম অবশিষ্ট থাকিবে না তখন লোকেরা মুর্খদেরকেই নেতা বানিয়ে নিবে। তাহাদের জিজ্ঞেস করা হলে না জানলেও ফাতাওয়া প্রদান করিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হইবে, এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করিবে।

[বোখারী পর্ব ৩ অধ্যায় ৩৪ হাদীস নং ১০০; মুসলিম ৪৭ অধ্যায় ৪, হাঃ ২৬৭৩] ইলম সম্পর্কে হাদিস -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

By লুলু ওয়াল মারজান

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply