ইমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের …

ইমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের …

ইমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের … >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২২. অধ্যায়ঃ ইমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের সম্ভাবনাও না থাকে, তবে এ পরিস্থিতিতে অন্য কাউকে ইমাম করে নামাজ আদায় করে নেয়া

৮৩৫

সাহল ইবনি সাদ আস্ সাইদী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বনী আমর ইবনি আওফ গোত্রের মধ্যে [তাদের অভ্যন্ত্ররীণ ঝগড়া] মীমাংসা করে দেয়ার জন্য চলে গেলেন। নামাজের সময় হয়ে আসলো। মুয়াযযিন এসে আবু বাক্‌র [রাদি. ] -কে বলিল, আপনি কি লোকদের নামাজ আদায় করিয়ে দিবেন? তাহলে আমি ইকামাত দেই। তিনি বলিলেন হ্যাঁ। রাবী বলেন, আবু বকর [রাদি.] নামাজ আরম্ভ করিলেন। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এসে গেলেন। তখন লোকেরা নামাজ আদায় করছিল। তিনি পিছন দিক থেকে কাতারে শামিল হয়ে গেলেন। লোকেরা হাততালি দিয়ে সংকেত দিল। কিন্তু আবু বাকর [রাদি.] নামাজ রত অবস্থায় এদিকে ভ্রুক্ষেপ করিলেন না। অতঃপর লোকেরা যখন বেশি তালি বাজাতে লাগলো, তিনি এদিকে ফিরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে দেখিতে পেলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে ইশারা করে বললেনঃ নিজের জায়গায় স্থির থাকো। আবু বাকর [রাদি.] তাহাঁর দুহাত উপরে তুলে মহান আল্লাহর প্রশংসা করে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর এ নির্দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিলেন। অতঃপর আবু বকর [রাদি.] পিছনে সরে এসে লাইনে শামিল হয়ে গেলেন এবং নবী [সাঃআঃ] সামনে অগ্রসর হয়ে নামাজ আদায় করালেন। নামাজ সমাপ্ত করে তিনি বলিলেন, হে আবু বাক্‌র! আমার নির্দেশের পরও নিজ স্থানে স্থির থাকতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? আবু বকর [রাদি.] বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর উপস্থিতিতে আবু কুহাফার পুত্রের জন্য সলাতে ঈমামতি করা কক্ষনো মানায় না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমি তোমাদের বেশি তালি বাজাতে দেখলাম কেন? তোমাদের কারো সলাতে কোন কিছু ঘটলে সে সুবহানাল্লাহ বলবে। সে যখন সুবহানাল্লাহ বলিল তখনই ইমামের কিছু আকষর্ণ করা হলো।মহিলারাই কেবল তাসফীহ [হাততালি] দিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩১, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪৪]

৮৩৬

সাহল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে মালিক-এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রের শেষের বর্ণনাটুকু হচ্ছেঃ আবু বকর [রাদি.] উভয় হাত উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশংসা করিলেন, অতঃপর উল্টো হয়ে পিছে চলে আসলেন এবং লাইনে শামিল হলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩২, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪৫]

৮৩৭

সাহ্‌ল ইবনি সাদ আস্‌ সাইদী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেন, আল্লাহর নবী [সাঃআঃ] বনী আম্‌র ইবনি আওফ গোত্রের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মীমাংসা করিতে গেলেন। … পরবর্তী বর্ণনা উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরও আছেঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পিছনের লাইন ভেঙ্গে সামনের লাইনে আসলেন। আর আবু বকর [রাদি.] উল্টো পিঠে পিছনে চলে আসলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩৩, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪৬]

৮৩৮

মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে তাবূকের যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। মুগীরাহ্‌ [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফাজরের নামাজের আগে পায়খানায় গেলেন এবং আমি তার সাথে পানির পাত্র নিয়ে গেলাম, তিনি যখন পায়খানা থেকে ফিরে আমার কাছে আসলেন, আমি তাহাঁর উভয় হাতে পাত্র থেকে পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি তাহাঁর উভয় হাত তিনবার ধুলেন। অতঃপর তিনি মুখমণ্ডল ধুলেন। অতঃপর জুব্বার হাতা উপরের দিকে উঠিয়ে তার মধ্য থেকে হাত বের করিতে চাইলেন। কিন্তু জুব্বার হাতা অপ্রশস্ত থাকায় তা সম্ভব হলো না। তিনি নিজের উভয় হাত জুব্বার ভিতরে টেনে নিয়ে তা জুব্বার নীচের দিক দিয়ে বাইরে বের করিলেন। অতঃপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুলেন। অতঃপর মোজার উপর মাসাহ করিলেন। অতঃপর তিনি রওনা হলেন।

মুগীরাহ [রাদি.] বলেন, আমিও তার সাথে সাথে অগ্রসর হলাম। আমরা পৌছে দেখলাম, লোকেরা আবদুর রহমান ইবনি আওফকে সামনে দিয়ে [তাকে ইমাম  বানিয়ে ] নামাজ আদায় করছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক রাকআত পেলেন। তা তিনি তাদের সাথে জামআতে আদায় করিলেন। আবদুর রহ্‌মান ইবনি আওফ [রাদি.] সালাম ফিরানোর পর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর অবশিষ্ট নামাজ পূর্ণ করার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। এতে মুসলিমরা ভয় পেয়ে গেলেন। তারা অত্যাধিক পরিমাণে তাসবীহ্‌ পাঠ করিতে লাগলেন। নবী [সাঃআঃ] সালাম শেষ করে তাদের দিকে মুখ করে বললেনঃ তোমরা সঠিক কাজ করেছ। তিনি খুশীর সাথে বললেনঃ তোমরা নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩৪, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪৭]

৮৩৯

হামযাহ্‌ ইবনি মুগীরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আব্বাদ [রাদি.] -এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। মুগীরাহ্‌ [রাদি.] বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবনি আওফকে পিছনে সরিয়ে আনার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তাকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দাও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩৫, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪৮]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply