ঈমামত – ইমামতি করার নিয়ম । জামাতে নামাজ পড়ার হুকুম

ঈমামত – ইমামতি করার নিয়ম

ঈমামত – ইমামতি করার নিয়ম । জামাতে নামাজ পড়ার হুকুম >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ১০, ঈমামত, হাদীস (৭৭৭ – ৮৭৫)

পরিচ্ছেদঃ ঈমামত ও জামাআতঃ আলিম এবং মর্যাদাবানদের ঈমামতি
পরিচ্ছেদঃ অত্যাচারী শাসকদের সাথে নামাজ আদায় করা
পরিচ্ছেদঃ কে ঈমাম হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি
পরিচ্ছেদঃ বয়োজ্যেষ্ঠকে ঈমাম মনোনীত করা
পরিচ্ছেদঃ একদল লোকের এমন স্থানে একত্র হওয়া যেখানে সকলেই সমান
পরিচ্ছেদঃ যদি দলে শাসক উপস্থিত থাকেন
পরিচ্ছেদঃ প্রজার ঈমামতির সময় শাসক আসলে
পরিচ্ছেদঃ অধীনস্তের পেছনে শাসকের নামাজ আদায় করা
পরিচ্ছেদঃ যিয়ারতকারীর ঈমামতি
পরিচ্ছেদঃ অন্ধের ঈমামতি
পরিচ্ছেদঃ বালেগ হওয়ার পূর্বে ঈমামতি
পরিচ্ছেদঃ ঈমামকে দেখলে দাঁড়ানো
পরিচ্ছেদঃ ইকামতের পর ইমামের কোন প্রয়োজন দেখা দিলে
পরিচ্ছেদঃ মুসাল্লায় দাঁড়ানোর পর ইমামের স্মরণ হলো, তিনি পবিত্র নন
পরিচ্ছেদঃ ঈমাম অনুপস্থিত থাকলে স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করা
পরিচ্ছেদঃ ইমামের অনুসরণ করা
পরিচ্ছেদঃ যে ইমামের অনুসরণ করেছে তার অনুসরণ করা
পরিচ্ছেদঃ তিনজন মুসল্লী হলে ইমামের স্থান এবং এ ব্যাপারে মতভেদ
পরিচ্ছেদঃ তিনজন পুরুষ ও একজন মহিলা হলে
পরিচ্ছেদঃ দুজন পুরুষ ও দুজন মহিলা হলে
পরিচ্ছেদঃ ইমামের সাথে শিশু এবং নারী থাকলে ইমামের স্থান
পরিচ্ছেদঃ মুকতাদী শিশু হলে ইমামের স্থান
পরিচ্ছেদঃ ইমামের কাছে কে দাঁড়াবে এবং তার কাছে কে দাঁড়াবে
পরিচ্ছেদঃ ইমামের বের হওয়ার পূর্বেই কাতার ঠিক করা
পরিচ্ছেদঃ ঈমাম কিরূপ কাতার সোজা করবেন
পরিচ্ছেদঃ ঈমাম কাতার ঠিক করিতে কি বলবেন
পরিচ্ছেদঃ সোজা হয়ে দাঁড়াও কতবার বলবেন
পরিচ্ছেদঃ কাতার ঠিক করিতে ইমামের উৎসাহ দান
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় কাতারের উপর প্রথম কাতারের ফযীলত
পরিচ্ছেদঃ শেষের কাতার
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি কাতার মিলায়
পরিচ্ছেদঃ নারীর উত্তম কাতার ও পুরুষের নিকৃষ্ট কাতার প্রসঙ্গ
পরিচ্ছেদঃ স্তম্ভসমূহের মধ্যে নামাজ
পরিচ্ছেদঃ কাতারের মধ্যে যে স্থান মুস্তাহাব
পরিচ্ছেদঃ ঈমাম কর্তৃক নামাজ সহজ করা
পরিচ্ছেদঃ ইমামের জন্য লম্বা করার অনুমতি
পরিচ্ছেদঃ ইমামের জন্য নামাজে যা বৈধ
পরিচ্ছেদঃ ঈমাম থেকে অগ্রগামী হওয়া
পরিচ্ছেদঃ মুসল্লী কর্তৃক ইমামের নামাজ থেকে বের হয়ে মসজিদের কোন প্রান্তে পৃথক নামাজ আদায় করা
পরিচ্ছেদঃ বসে নামাজ আদায়কারী ইমামের পেছনে ইকতিদা করা
পরিচ্ছেদঃ ঈমাম ও মুকতাদীর নিয়্যতের ভিন্নতা
পরিচ্ছেদঃ জামাআতের ফযীলত
পরিচ্ছেদঃ তিনজনের জামাত
পরিচ্ছেদঃ তিনজনের একজন পুরুষ, একজন বালক এবং একজন মহিলার জামাত
পরিচ্ছেদঃ দুইজনের জামাত
পরিচ্ছেদঃ নফল নামাজের জামাত
পরিচ্ছেদঃ কাযা নামাজের জামাত
পরিচ্ছেদঃ জামাত পরিত্যাগ করার পরিণতি সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি
পরিচ্ছেদঃ জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পরিণতি সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি
পরিচ্ছেদঃ নামাজের আযান দিলে তার হিফাযত করা
পরিচ্ছেদঃ জামাত ত্যাগের ওযর
পরিচ্ছেদঃ জামাআতে প্রাপ্তির সীমা
পরিচ্ছেদঃ একাকী নামাজ আদায় করে পরে জামাআতে আদায় করা
পরিচ্ছেদঃ একাকী ফজরের নামাজ আদায় করলে পুনরায় জামাআতে আদায় করা
পরিচ্ছেদঃ সময় চলে গেলে জামাআতে পুনঃ নামাজ আদায় করা
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে ইমামের সঙ্গে জামাআতে নামাজ আদায় করলে
পরিচ্ছেদঃ নামাজের জন্য দৌড়ানো
পরিচ্ছেদঃ নামাজের জন্য না দৌড়ে দ্রুত গমন করা
পরিচ্ছেদঃ আগেভাগে নামাজে উপস্থিত হওয়া
পরিচ্ছেদঃ ইকামতের সময় যে নামাজ মাকরূহ
পরিচ্ছেদঃ যে ফজরের দুই রাকআত আদায় করছে অথচ ঈমাম নামাজে
পরিচ্ছেদঃ কাতারের পেছনে একাকী নামাজ আদায়কারী
পরিচ্ছেদঃ কাতারের বাইরে রুকূ করা
পরিচ্ছেদঃ যোহরের পর নামাজ
পরিচ্ছেদঃ আসরের নামাজের পূর্বে নামাজ

পরিচ্ছেদঃ ঈমামত ও জামাআতঃ আলিম এবং মর্যাদাবানদের ঈমামতি

৭৭৭. আবদুল্লাহ্‌ ইবনি মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন ইন্তিকাল করিলেন, আনসার সম্প্রদায় বলিলেন, আমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হইবে আর তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হইবে। তাঁদের নিকট উমর [রাঃআঃ] এসে বললেনঃ তোমরা কি জান না যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবু বকর [রাঃআঃ]-কে আদেশ করেছিলেন, লোকের ঈমাম হয়ে নামাজ আদায় করিতে? অতএব তোমাদের মধ্যে কার মন খুশি হইবে আবু বকরের অগ্রগামী হইতে? তাঁরা বলিলেন, নাউযূ বিল্লাহ ! আমরা আবু বকরের অগ্রবর্তী হইতে চাই না।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদঃ অত্যাচারী শাসকদের সাথে নামাজ আদায় করা

৭৭৮. আবুল আলিয়া বাররা {১} [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ যিয়াদ বিলম্বে নামাজ আদায় করিল। তারপর ইবনি সামিত [রাঃআঃ] আমার নিকট আসলে আমি তাহাঁর জন্য একখানা কুরসী পেতে দিলাম। তিনি তার উপর উপবেশন করিলেন। আমি তাহাঁর নিকট যিয়াদের কান্ড বর্ণনা করলাম, তিনি তাহাঁর ওষ্ঠদ্বয় কামড়ে ধরলেন এবং আমার উরুদেশ চেপে ধরলেন এবং বললেনঃ আমি আবু যর [রাঃআঃ]-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেমন তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তিনিও আমার উরুদেশে হাত মেরেছিলেন যেমন আমি হাত মেরেছি তোমর উরুর উপর এবং বলেছিলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেমন তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তারপর তিনি আমার উরুতে হাত মারলেন, যেমন আমি তোমার উরুতে হাত মেরেছি। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছিলেনঃ নামাজ যথাসময়ে আদায় করিবে। যদি তাহাদের সাথে নামাজ পাও, তবে আদায় করে নিবে কিন্তু একথা বলো না যে, আমি নামাজ আদায় করে ফেলেছি, এখন আর আদায় করবো না।

{১} আবুল আলিয়া বাররা [রহঃ]-এর নাম যিয়াদ ইবনি ফায়রূয।ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৭৭৯আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ হয়ত তোমরা এমন লোকের সাক্ষাত পাবে যারা অসময়ে নামাজ আদায় করিবে। যদি তোমরা তাহাদের পাও, তাহলে সময়মত নামাজ আদায় করিবে এবং তাহাদের সাথে নামাজ আদায় করিবে এবং তা নফল ধরে নেবে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

পরিচ্ছেদঃ কে ঈমাম হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি

৭৮০. আবু মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দলের ঈমামতি করিবে ঐ ব্যক্তি যে তাহাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অধিক ভাল পাঠ করে। যদি তারা সকলেই কিরাআতে সমপর্যায়ভুক্ত হয়, তাহলে তাহাদের মধ্যে যে পূর্বে হিজরত করেছে। যদি তারা সকলেই হিজরতে সমপর্যায়ের হয়, তবে তাহাদের মধ্যে যে সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। যদি তারা সুন্নাহইতেও সমপর্যায়ের হয়, তাহলে যার বয়স অধিক, সে ব্যক্তি। আর তুমি কোন ব্যক্তির কর্তৃত্বের স্থানে ঈমামতি করিবে না। আর তুমি তার আসনে উপবেশন করিবে না, হ্যাঁ, যদি তিনি তোমাকে অনুমতি দেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ বয়োজ্যেষ্ঠকে ঈমাম মনোনীত করা

৭৮১. মালিক ইবনি হুয়াইরিস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ এক সময় আমি এবং আমার এক চাচাত ভাই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এলাম। অন্য এক সময় বলেছেন, আমি এবং আমার এক সাথী রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এলে তিনি বললেনঃ যখন তোমরা সফর করিবে, তখন তোমরা আযান দিবে এবং ইকামত বলবে, আর তোমাদের ঈমামতি করিবে, তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড়।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ একদল লোকের এমন স্থানে একত্র হওয়া যেখানে সকলেই সমান

৭৮২. আবু সাঈদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ যখন তিন ব্যক্তি একত্র হইবে তখন তাহাদের একজন ঈমামতি করিবে আর তাহাদের মধ্যে ঈমামতের অধিক হকদার সেই, যে বেশী কুরআন জানে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যদি দলে শাসক উপস্থিত থাকেন

৭৮৩. আবু মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির কর্তৃত্বের স্থানে অন্য কেউ তার ঈমাম হইবে না। অথবা তার বসার স্থানেও বসা যাবে না। হ্যাঁ, তার অনুমতি পেলে ভিন্ন কথা।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ প্রজার ঈমামতির সময় শাসক আসলে

৭৮৪. সাহল ইবনি সাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, বনূ আমর ইবনি আউফ-এর মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিয়েছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিছু লোকসহ তাহাদের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য বের হলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সেখানে কাজে আটকা পড়লেন। ইত্যবসরে আসরের সময় হলো। বিলাল [রাঃআঃ] আবু বকর [রাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললেনঃ হে আবু বকর [রাঃআঃ]! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তো আটকা পড়েছেন, আর এদিকে নামাজের সময় হয়েছে। আপনি কি লোকদের ঈমাম হইবেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, যদি তুমি ইচ্ছা কর! তখন বিলাল [রাঃআঃ] ইকামত বলিলেন আর আবু বকর [রাঃআঃ] সম্মুখে অগ্রসর হলেন। তিনি লোকদের নিয়ে নামাজের তাকবীর বলিলেন। এদিকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হেঁটে এসে কাতারে দাঁড়ালেন। আর লোক [রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর উপস্থিতির কথা জানানোর জন্য] হাত তালি দিতে লাগলেন। আবু বকর [রাঃআঃ] নামাজের মধ্যে এদিকে লক্ষ্য করছিলেন না। যখন লোক এরূপ বারবার করিতে লাগলেন তখন তিনি লক্ষ্য করে দেখলেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উপস্থিত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে ইঙ্গিতে নামাজ আদায় করিতে আদেশ করিলেন। আবু বকর [রাঃআঃ] তাহাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশংসা করিলেন এবং পেছনে সরে আসলেন এবং নামাজের কাতারে দাঁড়িয়ে গেলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সম্মুখে অগ্রসর হয়ে লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করিলেন। তিনি নামাজ শেষ করে লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের কি হলো যে, নামাজে কোন সমস্যা দেখা দিলে তোমরা হাত তালি দিতে আরম্ভ কর? হাত তালী দেওয়া তো নারীদের জন্য। নামাজে কারো কোন সমস্যা দেখা দিলে সে যেন সুবহানাল্লাহ বলে। কেননা সুবহানাল্লাহ বলিতে শুনলে সকলেই তার দিকে লক্ষ্য করিবে। [তারপর তিনি বললেনঃ] হে আবু বকর! আমি যখন তোমার প্রতি ইঙ্গিত করলাম তখন নামাজ আদায় করা থেকে তোমাকে কোন্‌ বস্তু বিরত রাখলো? আবু বকর [রাঃআঃ] বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সামনে আবু কুহাফার পুত্রের ঈমামতি করা শোভা পায় না।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ অধীনস্তের পেছনে শাসকের নামাজ আদায় করা

৭৮৫. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সর্বশেষ যে নামাজ লোকের সাথে জামাআতে আদায় করেন তা ছিল আবু বকর [রাঃআঃ]-এর পেছনে। তিনি এক কাপড়ে নামাজ আদায় করেছিলেন এবং বিপরীত দিক হইতে কাঁধের ওপর কাপড় পরে বুকের ওপর এর দুপ্রান্তে গিঁট দিয়ে নিয়েছিলেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৭৮৬আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আবু বকর [রাঃআঃ] লোকের ঈমাম হয়ে নামাজ আদায় করিলেন আর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ছিলেন তাহাঁর পেছনের কাতারে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যিয়ারতকারীর ঈমামতি

৭৮৭. মালিক ইবনি হুয়ায়রিস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যখন তোমাদের কেউ কোন দলের সাক্ষাতের জন্য যায়, তখন সে যেন তাহাদের ঈমামতি না করে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ অন্ধের ঈমামতি

৭৮৮. মাহমূদ ইবনি রবী [রহঃ] হইতে বর্ণীত

ইতবান ইবনি মালিক [রাঃআঃ] তাহাঁর দলের লোকের ঈমামতি করিতেন আর তিনি ছিলেন অন্ধ। তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বললেনঃ অনেক সময় অন্ধকার, বৃষ্টি এবং বন্যা হয়, আর আমি একজন অন্ধ ব্যক্তি। অতএব ইয়া রসূলুল্লাহ ! আপনি আমার বাড়িতে একস্থানে একবার নামাজ আদায় করুন। আমি ঐ স্থানটি নামাজের জন্য নির্ধারণ করে নেব। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর বাড়িতে আগমন করে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আমার কোথায় নামাজ আদায় করাকে তুমি পছন্দ কর? তখন তিনি তাহাঁর ঘরের একটা জায়গা দেখিয়ে দিলেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সেখানে নামাজ আদায় করিলেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ বালেগ হওয়ার পূর্বে ঈমামতি

৭৮৯. আমর ইবনি সালামা জিরমী [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমাদের নিকট আরোহী যাত্রীগণ আসতেন, আমরা তাঁদের নিকট কুরআন শিক্ষা করতাম। আমার পিতা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যে কুরআন বেশী জানে, সেই ঈমামত করিবে। আমার পিতা এসে বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে বেশী কুরআন জানে, সেই ঈমামত করিবে। তারা দেখলেন, আমি কুরআন অধিক জানি, তখন আমিই তাহাদের ঈমামত করতাম আর তখন আমি ছিলাম আট বছরের বালক।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ঈমামকে দেখলে দাঁড়ানো

৭৯০. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন যখন নামাজের আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইকামতের পর ইমামের কোন প্রয়োজন দেখা দিলে

৭৯১. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ নামাজের ইকামত বলা হলো আর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক ব্যক্তির সাথে একান্তে কথা বলেছিলেন। তারপর তিনি নামাজে দাঁড়ালেন না, যতক্ষণ না লোকেরা ঘুমিয়ে পড়ল। {১}

{১} বিশেষ জরুরী কাজের জন্য রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরূপ করেছিলেন কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে এরূপ করা যে জায়েয, তা বুঝানোর জন্য তিনি এরূপ করেছিলেন।ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মুসাল্লায় দাঁড়ানোর পর ইমামের স্মরণ হলো, তিনি পবিত্র নন

৭৯২. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ নামাজের ইকামত বলা হলো, লোক তাহাদের কাতার ঠিক করিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বের হলেন, যখন তিনি তাহাঁর মুসাল্লায় দাঁড়ালেন, তখন তাহাঁর স্মরণ হলো, তিনি গোসল করেন নি। তখন তিনি লোকদের বলিলেন, তোমরা তোমাদের জায়গায় থাক। তারপর তিনি ঘরে গেলেন। পরে বের হলেন, তখন তাহাঁর মাথা থেকে পানি বেয়ে পড়ছিল। তিনি গোসল করিলেন, তখন আমরা কাতারে ছিলাম।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ঈমাম অনুপস্থিত থাকলে স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করা

৭৯৩. সাহল ইবনি সাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে, বনূ আমর ইবনি আউফ-এর মধ্যে মারামারি হচ্ছিল। এ সংবাদ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট পৌঁছলো। তিনি যোহরের নামাজ আদায় করে তাহাদের মধ্যে আপস করে দেবার জন্য তাহাদের নিকট গেলেন। তিনি বিলাল [রাঃআঃ]-কে বলিলেন, বিলাল ! যদি আসরের নামাজের সময় হয় আর আমি আসতে না পারি তবে আবু বকর [রাঃআঃ]-কে বলবে সে যেন লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করে। যখন নামাজের সময় উপস্থিত হলো তখন বিলাল [রাঃআঃ] আযান দিলেন। তারপর ইকামত বলিলেন এবং আবু বকর [রাঃআঃ]-কে বলিলেন, সামনে যান। তখন আবু বকর [রাঃআঃ] সামনে গিয়ে নামাজ আরম্ভ করিলেন। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আগমন করিলেন এবং লোকদের কাতারের মধ্য দিয়ে এসে আবু বকরের পেছনে দাঁড়ালেন। লোকজন হাততালি দিয়ে ইংগিত করিলেন। আর আবু বকর [রাঃআঃ] নামাজে দাঁড়ালে কোনদিকে লক্ষ্য করিতেন না। যখন তিনি দেখলেন তাহাদের হাততালি বন্ধ হচ্ছে না, তখন তিনি লক্ষ্য করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর নিজ হাত দ্বারা ইঙ্গিত করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতের জন্য তিনি আল্লাহর শোকর আদায় করিলেন। তারপর আবু বকর [রাঃআঃ] পেছনে সরে আসলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তা দেখে সম্মুখে অগ্রসর হলেন এবং লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করিলেন। যখন নামাজ শেষ করিলেন তখন তিনি বললেনঃ হে আবু বকর ! আমি যখন তোমাকে ইঙ্গিত করলাম, তখন তুমি পিছে সরে আসা থেকে কেন বিরত থাকলে না ? তিনি বললেনঃ আবু কুহাফার পুত্রের জন্য রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর ঈমামত করা শোভা পায় না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লোকদের বললেনঃ যখন তোমাদের কোন সমস্যা দেখা দেয়, তখন পুরুষরা সুবহানাল্লাহ বলবে আর মহিলারা হাততালি দিবে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইমামের অনুসরণ করা

৭৯৪. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

[একদা] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঘোড়া থেকে ডানদিকে পড়ে গেলেন। লোক তাঁকে দেখিতে [তাহাঁর ঘরে] প্রবেশ করিল। ইতিমধ্যে নামাজের সময় উপস্থিত হল। তিনি নামাজ শেষ করে বললেনঃ ঈমাম বানানো হয় তার অনুসরণ করার জন্য। যখন তিনি রুকূ করেন, তখন তোমরাও রুকূ করিবে। আর যখন মাথা উঠান, তোমরাও মাথা উঠাবে আর যখন সিজদা করেন, তোমরাও সিজদা করিবে। আর যখন ঈমাম সামিআল্লাহু লিমান হামিদা বলেন, তখন তোমরা বলবে রাব্বানা লাকাল্‌ হাম্‌দ।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যে ইমামের অনুসরণ করেছে তার অনুসরণ করা

৭৯৫. আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সাহাবীদের মধ্যে পেছনে থাকার প্রবণতা লক্ষ্য করিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা সামনে এগিয়ে আস এবং আমার সাথে ইকতিদা কর। আর তোমাদের পরবর্তীগণ তোমাদের ইকতিদা করিবে। কোন সম্প্রদায় সর্বদা পেছনে থাকলে, পরিশেষে আল্লাহ তাআলা তাহাদেরকে পিছিয়েই রাখেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৭৯৬. আবু নাযরা [রহঃ] হইতে বর্ণীত

অনুরূপ হাদিস বর্ণিত রয়েছে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৭৯৭. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

[সাঃআঃ] আবু বকর [রাঃআঃ]-কে লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করিতে আদেশ করিলেন। তিনি বলেনঃ তখন নাবী [সাঃআঃ] ছিলেন আবু বকর [রাঃআঃ]-এর সামনে। তিনি বসে নামাজ আদায় করিলেন। আর আবু বকর [রাঃআঃ] লোকদের ঈমাম হয়ে নামাজ আদায় করিলেন। লোকজন ছিল আবু বকর [রাঃআঃ]-এর পেছনে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৭৯৮. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের ঈমাম হয়ে যোহরের নামাজ আদায় করিলেন তখন আবু বকর [রাঃআঃ] ছিলেন তাহাঁর পেছনে। যখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকবীর বলিতেন তখন আবু বকর [রাঃআঃ]-ও আমাদেরকে শোনাবার জন্য তাকবীর বলিতেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ তিনজন মুসল্লী হলে ইমামের স্থান এবং এ ব্যাপারে মতভেদ

৭৯৯. আলকামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তারা বলেনঃ আমরা দ্বিপ্রহরে আবদুল্লাহ [রাঃআঃ]-এর নিকট গেলাম। তিনি বলিলেন, অচিরেই এমন নেতা আবির্ভূত হইবে যারা যথাসময়ে নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকিবে। অতএব তোমরা যথাসময়ে নামাজ আদায় করিবে। তারপর তিনি আমার এবং তাহাঁর [আলকামা] মধ্যে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিলেন এবং বললেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এরূপ করিতে দেখেছি। {১}

{১} সম্ভবত রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] স্থান সংকীর্ণ হওয়ার কারণে কোন কোন সময় এরূপ করেছিলেন কিংবা এই হাদিস পরবর্তীতে রহিত হয়ে গেছে।ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮০০. বুরায়দা ইবনি সুফিয়ান ইবনি ফরওয়াতুল আসলামী হইতে বর্ণীত

যার নাম ছিল মাসঊদ। তিনি বলেনঃ আমার নিকট রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এবং আবু বকর [রাঃআঃ] আগমন করিলেন। আবু বকর [রাঃআঃ] আমাকে বলিলেন, হে মাসঊদ ! আবু তামীমের নিকট যাও অর্থাৎ তাহাঁর মনিব-এর নিকট এবং তাকে বল, সে যেন আমাদের জন্য উটের সওয়ারীর ব্যবস্থা করে, আমাদের জন্য কিছু সামান ও একজন পথপ্রদর্শক পাঠায় যে আমাদের পথ দেখাবে। আমি আমার মালিকের নিকট গিয়ে এ সংবাদ দিলাম। তিনি আমার সাথে একটি উট ও এক মশক দুধ পাঠিয়ে দিলেন। আমি তাঁদের নিরিবিলি স্থানে নিয়ে গেলাম, এমতাবস্থায় নামাজের সময় হলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজে দাঁড়ালেন আর আবু বকর [রাঃআঃ] তাহাঁর ডানদিকে দাঁড়ালেন। আমি ইসলাম সম্বন্ধে জানতাম। আমিও তাঁদের সঙ্গে নামাজে শরীক হলাম। অতএব আমি তাঁদের পেছনে দাঁড়ালাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবু বকর [রাঃআঃ]–এর বক্ষে হাত রেখে তাঁকে পেছনে সরিয়ে দিলেন। আমরা তখন তাহাঁর পেছনে দাঁড়ালাম।

আবু আবদুর রাহমান বলেনঃ এই বুরায়দা হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদঃ তিনজন পুরুষ ও একজন মহিলা হলে

৮০১. আনাস ইবনি মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তাহাঁর দাদী মুলায়কা [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর জন্য খানা তৈরি করে তাঁকে দাওয়াত করিলেন। তিনি তা খেলেন। তারপর বললেনঃ তোমরা ওঠ। আমি তোমাদের নিয়ে নামাজ আদায় করব। আনাস [রাঃআঃ] বলেন, অতএব আমি আমাদের একখানা চাটাই ছিল তা আনতে গেলাম। যা বহুল ব্যবহারে কাল হয়ে গিয়েছিল। আমি তাতে পানি ছিটালাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজে দাঁড়ালেন। আমি এবং ইয়াতীম তাহাঁর পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম আর বৃদ্ধা আমাদের পেছনে। তিনি আমাদের নিয়ে দুই রাকআত নামাজ আদায় করে [ঘরে] ফিরে গেলেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ দুজন পুরুষ ও দুজন মহিলা হলে

৮০২. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিকট আসলেন আর তখন আমি, আমার মা, ইয়াতীম এবং আমার খালা উম্মে হারাম ব্যতীত আর কেউ ছিল না। তিনি বললেনঃ তোমরা দাঁড়াও, আমি তোমাদের নিয়ে নামাজ আদায় করব। আনাস [রাঃআঃ] বলেনঃ তখন [পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্য হইতে কোন] নামাজের সময় ছিল না। তিনি বলেনঃ তিনি আমাদের নিয়ে নামাজ আদায় করিলেন [অর্থাৎ বরকতের জন্য নফল নামাজ আদায় করিলেন]।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮০৩. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ], তাহাঁর মা এবং খালা এক জায়গায় ছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ আদায় করিলেন। আনাস [রাঃআঃ]-কে তাহাঁর ডানদিকে রাখলেন। তাহাঁর মা ও খালাকে উভয়ের পেছনে দাঁড় করালেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইমামের সাথে শিশু এবং নারী থাকলে ইমামের স্থান

৮০৪. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছি। তখন আয়িশাহ [রাঃআঃ] আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আমাদের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। আর আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পাশে দাঁড়িয়ে তাহাঁর সাথে নামাজ আদায় করি।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮০৫. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে এবং আমার পরিবারের এক মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করেন। তিনি আমাকে দাঁড় করালেন তাহাঁর ডানদিকে আর মহিলা ছিলেন আমাদের পেছনে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মুকতাদী শিশু হলে ইমামের স্থান

৮০৬. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি আমার খালা মায়মূনা [রাঃআঃ]-এর নিকট রাত যাপন করলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাতের নামাজ আদায় করিতে উঠলেন। আমি তাহাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে এই বলিলেন- আমার মাথা ধরে আমাকে তাহাঁর ডানদিকে দাঁড় করালেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইমামের কাছে কে দাঁড়াবে এবং তার কাছে কে দাঁড়াবে

৮০৭. আবু মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজে আমাদের স্কন্ধ স্পর্শ করে বলিতেনঃ তোমরা কাতারে এলোমেলো হয়ে দাঁড়াবে না। তাহলে তোমাদের অন্তর এলোমেলো হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান, তারা আমার কাছে দাঁড়াবে। তারপর যারা তাহাদের কাছাকাছি এবং তারপর যারা তাহাদের কাছাকাছি। আবু মাসঊদ বলেনঃ আজকাল তোমাদের মধ্যে প্রচণ্ড মতবিরোধ। আবু আবদুর রহমান বলেনঃ আবু মামারের নাম আবদুল্লাহ ইবনি সাখবারাহ।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮০৮. কায়স ইবনি আব্বাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি এক সময় মসজিদে প্রথম কাতারে ছিলাম, হঠাৎ এক ব্যক্তি আমার পেছন থেকে আমাকে টেনে পেছনে হটিয়ে আমার স্থানে দাঁড়ালেন। আল্লাহর শপথ! আমি আমার নামাজই ভুলে যেতে লাগলাম। যখন সে ব্যক্তি নামাজ সম্পন্ন করিল, দেখা গেল তিনি ছিলেন উবাই ইবনি কাব [রাঃআঃ]। তিনি আমাকে বললেনঃ হে যুবক! আল্লাহ যেন তোমাকে চিন্তিত না করেন, এটা আমাদের ওপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর নির্দেশ, যেন আমরা তাহাঁর কাছে দাঁড়াই। তারপর তিনি কিবলার দিকে মুখ করে তিনবার বলিলেন, কাবার প্রভুর কসম! আহলে উকাদ ধ্বংস হয়েছে। তারপর বলিলেন, আল্লাহর কসম! আমি তাহাদের জন্য আক্ষেপ করি না, কিন্তু আমি আক্ষেপ করি ঐ সকল লোকের জন্য, যারা পথভ্রষ্ট করেছে। আমি বললাম, হে আবু ইয়াকূব! আহলে উকাদ-এর অর্থ কি? তিনি বলিলেন, প্রশাসকগণ।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইমামের বের হওয়ার পূর্বেই কাতার ঠিক করা

৮০৯. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নামাজের ইকামত বলা হলে আমরা দাঁড়ালাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিকট বের হয়ে আসার পূর্বেই কাতার ঠিক করা হলো। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিকট এসে মুসাল্লায় দাঁড়ালেন। তাকবীর বলার পূর্বে আমাদের দিকে ফিরে বলিলেন, তোমাদের নিজ নিজ স্থানে স্থির থাক। আমরা তাহাঁর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম। তিনি গোসল করে আমাদের নিকট আসলেন তখন তাহাঁর মাথা থেকে পানি ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ছিল। তখন তিনি তাকবীর বলিলেন এবং নামাজ আদায় করিলেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ঈমাম কিরূপ কাতার সোজা করবেন

৮১০. নুমান ইবনি বশীর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কাতার সোজা করিতেন যেমন তীর সোজা করা হয়। [একদা] তিনি দেখলেন এক ব্যক্তির বুক কাতারের বাইরে চলে গেছে, তখন আমি তাঁকে বলিতে শুনেছিঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর, তা না হলে আল্লাহ তাআলা তোমাদের চেহারা পরিবর্তন করে দেবেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৮১১. বারা ইবনি আযিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কাতারের একদিক থেকে অন্যদিকে প্রবেশ করে আমাদের কাঁধ ও বুক স্পর্শ করে বলিতেনঃ তোমারা কাতারে এলোমেলো হয়ে দাঁড়াবে না। তাহলে তোমাদের অন্তরে অনৈক্য সৃষ্টি হইবে। তিনি বলিতেনঃ আল্লাহ প্রথম কাতারের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাহাঁর ফেরেশতাগণও প্রথম কাতারের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ঈমাম কাতার ঠিক করিতে কি বলবেন

৮১২. আবু মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কাঁধ স্পর্শ করে বলিতেনঃ তোমারা সোজা হয়ে দাঁড়াও, বিচ্ছিন্ন হয়ো না, তাহলে তোমাদের অন্তরে অনৈক্য সৃষ্টি হইবে। আর তোমাদের মধ্যে জ্ঞানীগণ আমার সাথে মিলিত হয়ে দাঁড়াবে, তারপর যারা তাঁদের নিকটবর্তী, তারপর যারা তাঁদের নিকটবর্তী [এভাবে দাঁড়াবে]।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ সোজা হয়ে দাঁড়াও কতবার বলবেন

৮১৩. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলিতেনঃ তোমরা বরাবর হয়ে দাঁড়াও, বরাবর হয়ে দাঁড়াও, বরাবর হয়ে দাঁড়াও। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাহাঁর শপথ। আমি তোমাদের দেখছি আমার পেছন থেকে যেভাবে আমি তোমাদের দেখছি আমার সম্মুখ থেকে। {১}

{১} রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] অলৌকিকভাবে পেছনের সারির লোকদের অবস্থা দেখিতে পেতেন।ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ কাতার ঠিক করিতে ইমামের উৎসাহ দান

৮১৪. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ [একদা] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজে দাঁড়ালেন, তখন তাকবীর বলার পূর্বে আমাদের দিকে মুখ করে বলিলেন, তোমরা তোমাদের কাতার ঠিক কর এবং পরস্পর মিশে দাঁড়াও। আমি তোমাদেরকে আমার পেছন থেকেও দেখে থাকি।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮১৫. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা কাতারে পরস্পর মিশে দাঁড়াও। কাতারসমূহকে পরস্পর নিকটবর্তী রাখ এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও। যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তাহাঁর শপথ! আমি শয়তানকে দেখছি ছোট ছোট বকরীর মত কাতারের মধ্যে প্রবেশ করছে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮১৬. জাবির ইবনি সামুরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিকট বের হয়ে বললেনঃ তোমরা কি কাতার সোজা করিবে না যেরূপ ফেরেশতাগণ তাঁদের প্রভুর সামনে কাতার সোজা করে দাঁড়ান। তাঁরা বলিলেন, ফেরেশতাগণ তাঁদের রবের সামনে কিভাবে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ান ? তিনি বললেনঃ তারা প্রথম কাতার পূর্ণ করেন এবং কাতারে মিশে দাঁড়ান।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় কাতারের উপর প্রথম কাতারের ফযীলত

৮১৭. ইরবায ইবনি সারিয়া [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি প্রথম কাতারের জন্য তিনবার [রহমত ও মাগফিরাতের] দোয়া করিতেন, তারপর দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ শেষের কাতার

৮১৮. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রথম কাতার পূর্ণ কর, তারপর পরবর্তী কাতার। যদি খালি থাকে, তবে তা থাকিবে শেষ কাতারে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি কাতার মিলায়

৮১৯. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কাতার মিলায়, আল্লাহ তাআলা তাকে মিলিয়ে দেন, আর যে ব্যক্তি তাকে পৃথক করে, আল্লাহ তাআলা তাকে পৃথক করে দেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নারীর উত্তম কাতার ও পুরুষের নিকৃষ্ট কাতার প্রসঙ্গ

৮২০. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পুরুষদের কাতারের মধ্যে উত্তম হলো প্রথম কাতার এবং নিকৃষ্ট কাতার হলো শেষ কাতার। আর নারীদের কাতারের মধ্যে উত্তম হলো শেষের কাতার এবং নিকৃষ্ট হলো প্রথম কাতার।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ স্তম্ভসমূহের মধ্যে নামাজ

৮২১. আবদুল হামীদ ইবনি মাহমূদ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমরা আনাস [রাঃআঃ]-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা আমীরদের মধ্য থেকে এক আমীরের সঙ্গে নামাজ আদায় করছিলাম। তারা আমাদের পেছনে হটিয়ে দিল। তারপর আমরা দুই স্তম্ভের মধ্যে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলাম। আনাস [রাঃআঃ] পিছিয়ে যেতে থাকলেন এবং বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সময়ে আমরা এটা [দুই স্তম্ভের মধ্যে দাঁড়ানো] পরিহার করতাম।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ কাতারের মধ্যে যে স্থান মুস্তাহাব

৮২২. বারা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমরা যখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পেছনে নামাজ আদায় করতাম। তখন আমি তাহাঁর ডানদিকে থাকতে পছন্দ করতাম।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ঈমাম কর্তৃক নামাজ সহজ করা

৮২৩. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করিবে, তখন সে যেন সংক্ষিপ্ত করে। কেননা তাহাদের মধ্যে রোগগ্রস্ত, দূর্বল এবং বৃদ্ধ লোক থাকে। আর যখন কেউ একা একা নামাজ আদায় করে, তখন সে যত ইচ্ছা নামাজ দীর্ঘ করিতে পারে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮২৪. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] পূর্ণ আহকাম-আরকানসহ জামাআতের নামাজ সকলের চেয়ে সহজে আদায় করিতেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮২৫. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি নামাজে দাঁড়ালে শিশুর ক্রন্দন শুনতে পাই। তখন আমি নামাজ সংক্ষেপ করি, পাছে তার মাকে কষ্ট দিয়ে ফেলি।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইমামের জন্য লম্বা করার অনুমতি

৮২৬. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে নামাজ সহজ করিতে বলিতেন, আর তিনি আমাদের ঈমামতি করিতেন, সূরা সাফ্‌ফাত দিয়ে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইমামের জন্য নামাজে যা বৈধ

৮২৭. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেখেছি, তিনি লোকের ঈমামতি করছেন। আর তখন তিনি উমামা বিনত আবুল আসকে তাহাঁর কাঁধে উঠিয়ে রাখছেন। যখন তিনি রুকূ করছেন, তাকে রেখে দিচ্ছেন, আর যখন সিজদা থেকে উঠছেন, তাকে পুনরায় তুলে নিচ্ছেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ঈমাম থেকে অগ্রগামী হওয়া

৮২৮. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ মুহাম্মদ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের আগে মাথা উঠায়, সে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ তাআলা তার মাথাকে গাধার মাথায় পরিবর্তিত করে দিবেন ?

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮২৯. আবদুল্লাহ ইবনি ইয়াযীদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ বাবা [রাঃআঃ] বর্ণনা করিয়াছেন, আর তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন না, তাঁরা যখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে নামাজ আদায় করিতেন তখন তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন আর তাঁরা দাঁড়িয়ে যেতেন। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে সিজদা করিতে দেখে তাঁরা সিজদা করিতেন।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৩০. হিত্তান ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আবু মূসা [রাঃআঃ] আমাদের নিয়ে নামাজ আদায় করিলেন। তিনি বৈঠকে থাকাকালে এক ব্যক্তি প্রবেশ করে বলিল, “নামায নেকী এবং যাকাত-এর সাথে মিলিত হয়েছে,” আবু মূসা [রাঃআঃ] যখন সালাম ফিরালেন তখন তিনি লোকের দিকে ফিরে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে একথা বলেছে ? তখন লোক চুপ হয়ে গেল আর তিনি বললেনঃ হে হিত্তান! তুমি এটা বলে থাকিবে। তিনি বললেনঃ না, আমি ভয় করছিলাম, আপনি এর জন্য আমাকে দোষারোপ করবেন। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নামাজ ও তার নিয়ম-কানুন শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ ঈমাম এজন্য যে, তার ইকতেদা করা হইবে। যখন তিনি তাকবীর বলেন, তোমরাও তাকবীর বলবে, আর যখন তিনি

غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

গয়রিল মাগযূবি ‘আলায়হিম ওয়ালায যোল্লীন

বলেন, তখন তোমরা

آمِينَ

আ-মীন

বলবে। তাহলে আল্লাহ তোমাদের দোয়া কবূল করবেন। আর যখন তিনি রুকূ করেন, তখন তোমরাও রুকূ করিবে। আর যখন তিনি মাথা উঠিয়ে

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ

বলেন, তখন তোমরা বলবে

 رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

রব্বানা- লাকাল হামদ

আল্লাহ তোমাদের কথা শুনবেন। আর যখন ঈমাম সিজদা করেন, তোমরাও সিজদা করিবে, যখন সিজদা থেকে মাথা উঠাবেন, তোমরাও মাথা উঠাবে। কেননা ঈমাম তোমাদের পূর্বে সিজদা করবেন এবং তোমাদের পূর্বে মাথা উঠাবেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এটা তার সমান হয়ে যাবে।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মুসল্লী কর্তৃক ইমামের নামাজ থেকে বের হয়ে মসজিদের কোন প্রান্তে পৃথক নামাজ আদায় করা

৮৩১. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ নামাজের ইকামত বলার পরে এক আনসারী ব্যক্তি আগমন করিল। সে মসজিদে প্রবেশ করে মুআয [রাঃআঃ]-এর পেছনে নামাজে দাঁড়াল। তিনি কিরাআত লম্বা করিলেন। লোকটি নামাজ থেকে বের হয়ে মসজিদের এক কোণে নামাজ আদায় করে চলে গেল। মুআয [রাঃআঃ] যখন নামাজ শেষ করিলেন, তাঁকে বলা হল, অমুক ব্যক্তি এরূপ এরূপ করেছে। মুআয [রাঃআঃ] বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এ ব্যাপারে অবশ্যই অবহিত করব। মুআয [রাঃআঃ] নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হয়ে ঘটনা ব্যক্ত করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লোকটির নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি যা করেছ তা করিতে তোমাকে কিসে বাধ্য করেছে? সে ব্যক্তি বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আমি দিনের বেলায় আমার উটের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এরপর আমি আসলাম এবং পূর্বেই নামাজের ইকামত বলা হয়েছিল। আমি মসজিদে প্রবেশ করে তাহাঁর সঙ্গে নামাজে শরীক হলাম। কিন্তু তিনি নামাজে অমুক অমুক সূরা আরম্ভ করে নামাজ লম্বা করে দিলেন। এজন্য আমি নামাজ থেকে বের হয়ে মসজিদের এক কোণে নামাজ আদায় করি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হে মুআয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হইবে? হে মুআয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হইবে? হে মুআয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হইবে?

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ বসে নামাজ আদায়কারী ইমামের পেছনে ইকতিদা করা

৮৩২. আনাস ইবনি মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক ঘোড়ায় আরোহণ করিলেন এবং তা থেকে পড়ে তাহাঁর ডান পাঁজরে আঘাত পেলেন। এরপর এক ওয়াক্ত নামাজ বসে আদায় করিলেন, আমরাও তাহাঁর পেছনে বসে নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষ করে তিনি বললেনঃ ঈমাম নিযুক্ত হয় তার অনুসরণ করার জন্য। ঈমাম যখন দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিবে। যখন ঈমাম

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামি আল্ল-হু লিমান হামিদাহ

বলেন, তখন তোমরা বলবে

رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

রব্বানা- লাকাল হামদ

আর যখন ঈমাম বসে নামাজ আদায় করেন, তখন তোমরা সকলেই বসে নামাজ আদায় করিবে। {১}

{১} পরবর্তী হাদিস দ্বারা এ হাদিসের হুকুম রহিত হয়ে গেছে।ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৩৩. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর রোগ যখন বেড়ে গেল, তখন বিলাল [রাঃআঃ] তাঁকে নামাজের খবর দিতে আসলেন। তিনি বললেনঃ আবু বকর [রাঃআঃ]-কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করে। আয়িশাহ [রাঃআঃ] বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আবু বকর একজন কোমল-হৃদয় লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের কিরআত শোনাতে পারবেন না। অতএব যদি আপনি উমর [রাঃআঃ]-কে আদেশ করিতেন তবে ভাল হত। তিনি বললেনঃ আবু বকর [রাঃআঃ]-কে বল, যেন লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করে। তারপর আমি হাফসা [রাঃআঃ]-কে আমার কথা বলার জন্য বললাম। তিনিও তাঁকে তা বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা [পীড়াপীড়ি করার ব্যাপারে] ঐ সকল নারীর ন্যায় যারা ইউসুফ [আঃ]-এর ব্যাপারে জড়িত ছিল। আবু বকর [রাঃআঃ]-কে বল, লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করিতে। তিনি {আয়িশাহ [রাঃআঃ]} বলেনঃ তাঁকে অনুরোধ করা হলে যখন তিনি নামাজ আরম্ভ করিলেন, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিছুটা স্বস্তিবোধ করিলেন, তিনি দাঁড়িয়ে দুজন লোকের সহায়তায় চললেন আর তাহাঁর পদ্বদয় মাটিতে হেঁচড়াচ্ছিল। যখন তিনি মসজিদে প্রবেশ করিলেন, আবু বকর [রাঃআঃ] তাহাঁর আগমন অনুভব করে পেছনে হটতে চাইলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে ইঙ্গিতে নিজ অবস্থায় থাকতে বলিলেন। আয়িশাহ [রাঃআঃ] বলেনঃ তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এসে আবু বকর [রাঃআঃ]-এর বামদিকে দাঁড়ালেন এবং লোকদের সাথে বসে নামাজ আদায় করিলেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করছিলেন বসে, আবু বকর [রাঃআঃ] ছিলেন দাঁড়ানো। আবু বকর [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর ইকতিদা করছিলেন আর অন্যান্য লোক ইকতিদা করছিল আবু বকর [রাঃআঃ]-এর নামাজের। {১}

{১} আবু বকর [রাঃআঃ] লোকদের রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর তাকবীর শোনাতেন।ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৩৪. উবায়দুল্লাহ্‌ ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি আয়িশাহ [রাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আপনি কি আমাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর রোগ সম্বন্ধে অবহিত করবেন না? তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর রোগ যখন বেড়ে গেল তখন তিনি বলিলেন, লোকেরা কি নামাজ আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম; না, আপনার অপেক্ষা করছে ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! তিনি বলিলেন, আমার জন্য পাত্রে কিছু পানি রাখ। আমরা তা করলে তিনি গোসল করিলেন এবং মসজিদে যাওয়ার ইচ্ছা করিলেন। ইত্যবসরে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। তারপর কিছুটা সুস্থ হয়ে বলিলেন, লোকগণ কি নামাজ আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বলিলেন, আমার জন্য পাত্রে কিছু পানি রাখ। আমরা যখন পানি রাখলাম তিনি গোসল করিলেন। তারপর দাঁড়াবার ইচ্ছা করলে আবার তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। এরপর তৃতীয়বারও তিনি ঐরূপ বলিলেন। আয়িশাহ [রাঃআঃ] বলেনঃ তখন লোকেরা মসজিদে ইশার নামাজের জন্য রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর অপেক্ষায় অবস্থান করছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবু বকর [রাঃআঃ]-এর নিকট লোক পাঠিয়ে লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করিতে বলিলেন। সেই লোক এসে তাঁকে সংবাদ দিল যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আপনাকে লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করিতে বলেছেন। আবু বকর [রাঃআঃ] ছিলেন কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি উমর [রাঃআঃ]-কে বলিলেন, হে উমর! লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করুন। তিনি বলিলেন, এ কাজের জন্য আপনিই উপযুক্ত। তারপর আবু বকর [রাঃআঃ] এই কয়দিন লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিছুটা সুস্থতা অনুভব করিলেন এবং তিনি দুজন লোকের সাহায্য নিয়ে যোহরের নামাজের জন্য আসলেন। তাঁদের একজন ছিলেন আব্বাস [রাঃআঃ]। যখন আবু বকর [রাঃআঃ] তাঁকে দেখলেন তখন তিনি পিছে হটতে চাইলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে ইঙ্গিতে পিছু হটতে নিষেধ করিলেন এবং ঐ দুই ব্যক্তিকে আদেশ করলে তাঁরা তাঁকে আবু বকরের পাশে বসিয়ে দিলেন। তখন আবু বকর [রাঃআঃ] দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছিলেন আর লোকগণ আবু বকরের ইকতিদা করছিলেন। আর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বসে নামাজ আদায় করছিলেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ তারপর আমি ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ]-এর নিকট গিয়ে বললাম, আয়িশাহ [রাঃআঃ] আমাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর রোগ সম্বন্ধে যা বলেছেন, তা কি আপনার নিকট বর্ণনা করব? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। আমি তাহাঁর নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি তার কোন কিছুই অস্বীকার করিলেন না। কিন্তু তিনি বলিলেন, তিনি তোমার নিকট ঐ ব্যক্তির নাম বলেছেন কি, যিনি আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন? আমি বললাম, না। ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] বলিলেন, তিনি ছিলেন আলী [রাঃআঃ]।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ঈমাম ও মুকতাদীর নিয়্যতের ভিন্নতা

৮৩৫. আমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, মুআয [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে নামাজ আদায় করে স্বীয় গোত্রের নিকট ফিরে যেতেন এবং তাহাদের ঈমাম হয়ে নামাজ আদায় করিতেন। {১} একদা নাবী [সাঃআঃ]-এর সাথে তিনি বিলম্বে নামাজ আদায় করিলেন। তারপর নিজ গোত্রের নিকট ফিরে তাহাদের ঈমামতি করেন এবং তিনি তাতে সূরা বাকারা পাঠ করেন। গোত্রের এক ব্যক্তি এরূপ কিরাআত শুনে নামাজ থেকে সরে পড়ল এবং একা নামাজ আদায় করে বেরিয়ে পড়ল। তখন লোকগণ তাকে বলিলেন, হে অমুক! তুমি কি মুনাফিক হয়ে গেছ? সে বলিল, আল্লাহ্‌র শপথ! আমি মুনাফিক হইনি। আমি নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট গিয়ে তাঁকে বলব। তারপর সে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট গিয়ে বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! মুআয আপনার সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। তারপর আমাদের নিকট এসে আমাদের ঈমামতি করেন। গত রাতে আপনি নামাজ দেরি করে আদায় করেন। তিনি আপনার সঙ্গে নামাজ আদায় করার পর আমাদের ঈমামতি করিতে যান এবং তিনি সূরা বাকারা শুরু করে দেন। আমি তা শুনে পেছনে হটে যাই এবং একা নামাজ আদায় করি। আমরা উটের রাখাল, আমরা নিজ হাতে কাজ করি। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে মুআয ! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হইবে ? তুমি অমুক অমুক সূরা পাঠ করিবে।

{১} ইসলামের প্রাথমিক যুগে এ ধরনের এক ওয়াক্তে ফরয নামাজ ফরয হিসেবে দুবার আদায় করা বৈধ ছিল।। পরবর্তীতে তা রহিত হয়ে যায়।ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৩৬. আবু বাকরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। একবার তিনি ভয়কালীন নামাজ আদায় করিলেন। তিনি প্রথমে তাহাঁর পেছনের লোকদের নিয়ে দুই রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। আর যারা পরে আসল তাহাদের নিয়ে দুই রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। ফলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজ চার রাকআত হল আর অন্যদের হলো দুই দুই রাকআত।

ইমামতি করার নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ জামাআতের ফযীলত

৮৩৭. ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জামাআতের নামাজ একাকী নামাজ অপেক্ষা সাতাশ গুণ মর্যাদাপূর্ণ।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৩৮. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জামাআতের নামাজ তোমাদের একাকী নামাজ থেকে পঁচিশ গুণ উত্তম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৩৯. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জামাআতের নামাজ একাকী নামাজ অপেক্ষা পঁচিশ গুণ মর্যাদাশালী।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ তিনজনের জামাত

৮৪০. আবু সাঈদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যখন তিনজন লোক হইবে তখন তাহাদের একজন ঈমামতি করিবে, আর তাহাদের মধ্যে ঈমামতের সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত ব্যক্তি যে অধিক কিরাআত জানে [আল্লাহর কিতাব সম্বন্ধে অধিক জ্ঞানসম্পন্ন]।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ তিনজনের একজন পুরুষ, একজন বালক এবং একজন মহিলার জামাত

৮৪১. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর পাশে নামাজ আদায় করেছি। তখন আয়িশাহ [রাঃআঃ] আমাদের পেছনে থেকে আমাদের সাথে নামাজ আদায় করছিলেন। আর আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর পাশে থেকে তাহাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করছিলাম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ দুইজনের জামাত

৮৪২. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে নামাজ আদায় করি। আমি তাহাঁর বাম পাশে দাঁড়ালে তিনি আমাকে তাহাঁর বাম হাতে ধরে তাহাঁর ডান পাশে দাঁড় করান।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৪৩. উবাই ইবনি কাব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ একদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফজরের নামাজ আদায় করিলেন। পরে তিনি বললেনঃ অমুক কি নামাজে উপস্থিত হয়েছে ? উপস্থিত মুসল্লীগণ বলিলেন, না। তিনি বললেনঃ অমুক ব্যক্তি ? তাঁরা বলিলেন, না। তিনি বলিলেন, এ দুটি নামাজ [ইশা ও ফজর] মুনাফিকদের উপর অত্যন্ত কঠিন। তাতে কি মর্যাদা রয়েছে তারা যদি তা জানতো তাহলে নিশ্চয়ই তারা তাতে উপস্থিত হতো হামাগুড়ি দিয়ে হলেও। আর প্রথম সারি হলো ফেরেশতাহাদের সারির ন্যায়। যদি তোমরা তার মর্যাদা জানতে তাহলে তোমরা তাতে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করিতে। একজন লোকের সাথে নামাজ আদায় করা একাকী নামাজ আদায় করা থেকে উত্তম। আর দুইজন লোকের সাথে কোন ব্যক্তির নামাজ আদায় করা এক ব্যক্তির সাথে নামাজ আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর যতই বৃদ্ধি পাবে ততই আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় হইবে।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নফল নামাজের জামাত

৮৪৪. ইত্‌বান ইবনি মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কওমের মসজিদ এবং আমার মধ্যে পানির স্রোত বাধা সৃষ্টি করে। অতএব আমার মনের বাসনা, আপনি আমার বাড়ি এসে আমার ঘরের এক স্থানে নামাজ আদায় করেন এবং আমি সে স্থানটিকে মসজিদ বানিয়ে নিই। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমি তাই করব, তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এসে বললেনঃ কোথায় নামাজ আদায় করা তুমি পছন্দ কর ? আমি ঘরের এক কোণের দিকে ইঙ্গিত করলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সেখানে দাঁড়ালেন, আমরা তাহাঁর পেছনে কাতার বেঁধে দাঁড়ালাম। তিনি আমাদের নিয়ে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ কাযা নামাজের জামাত

৮৪৫. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজে দাঁড়িয়ে তাক্‌বীর বলার পূর্বে আমাদের দিকে মুখ করে বললেনঃ তোমরা কাতার সোজা কর এবং পরস্পর মিলে দাঁড়াও। কেননা আমি তোমাদের আমার পিঠের পেছন দিক থেকে দেখে থাকি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৪৬. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ছিলাম, হঠাৎ দলের একজন বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! যদি আরও বিলম্ব করে নামাজ আদায় করিতেন। তিনি বললেনঃ আমি ভয় করি তোমরা নামাজ ছেড়ে শুয়ে পড়বে। বিলাল [রাঃআঃ] বললেনঃ আমি আপনাদের দেখাশুনা করব। তারপর সকলেই শুয়ে পড়লেন এবং নিদ্রা গেলেন। বিলাল [রাঃআঃ] তাহাঁর সওয়ারীর সাথে হেলান দিয়ে পিঠ লাগিয়ে রইলেন। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জাগ্রত হয়ে দেখলেন সূর্য উদিত হচ্ছে। তিনি বললেনঃ হে বিলাল ! তুমি যা বলেছিলে তা কোথায় ? তিনি বলিলেন আমাকে এত গভীর নিদ্রা আর কখনো পায়নি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আল্লাহ্‌ তাআলা যখন ইচ্ছা করিলেন তখন তোমাদের রূহ কব্‌য করে নিলেন আর যখন ইচ্ছা, ফিরিয়ে দিলেন। হে বিলাল ! উঠ লোকদের নামাজের আহবান কর। তারপর বিলাল [রাঃআঃ] উঠে আযান দিলেন, এরপর সকলে উযূ করিলেন অর্থাৎ যখন সূর্য বেশ উপরে উঠলো। পরে তিনি দাঁড়িয়ে লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ জামাত পরিত্যাগ করার পরিণতি সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি

৮৪৭. মাদান ইবনি আবু তালহা ইয়ামুরী [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আবুদ্-দারদা [রাঃআঃ] আমাকে বললেনঃ তোমার বাড়ি কোথায় ? আমি বললামঃ আমার বাড়ি হিমসের নিকটবর্তী এক গ্রামে। তখন আবুদ্-দারদা বললেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, কোন গ্রামে অথবা অনাবাদী স্থানে তিনজন লোক থাকাবস্থায় সেখানে নামাজ প্রতিষ্ঠিত না হলে তাহাদের উপর শয়তানের আধিপত্য বিস্তার লাভ করে। অতএব তোমরা জামাতকে অত্যাবশ্যকীয়রূপে গ্রহণ করিবে। কেননা ব্যাঘ্র বিচ্ছিন্ন ছাগলকে খেয়ে ফেলে। সায়িব [রহঃ] বলেনঃ জামাত অর্থ নামাজের জামাত।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদঃ জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পরিণতি সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি

৮৪৮. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাহাঁর শপথ করে বলছি, আমি ইচ্ছা করেছি যে, আমি কিছু জ্বালানি কাঠ আনতে আদেশ করব, তা সংগ্রহ হলে নামাজের আদেশ করব। তারপর তার জন্য আযান দেয়া হইবে। পরে এক ব্যক্তিকে আদেশ করব সে লোকের ঈমামতি করিবে। আর আমি লোকদের পেছন থেকে তাহাদের ঘর জ্বালিয়ে দেব [যারা জামাআতে আসে না]। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাহাঁর শপথ! যদি তাহাদের কেউ জানত যে, একখানা মাংসল হাড় অথবা দুই টুকরা বকরীর সুন্দর খুর পাবে, তাহলে তারা ইশার নামাজে অবশ্যই উপস্থিত হতো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজের আযান দিলে তার হিফাযত করা

৮৪৯. আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলিতেন, যে ব্যক্তি কাল আল্লাহ্‌ তাআলার সঙ্গে একজন মুসলমান হিসাবে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে, সে যেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হিফাযত করে, সেখানে তার আযান দেয়া হয়। আল্লাহ্‌ তাআলা তাহাঁর নাবী [সাঃআঃ]-কে হিদায়াতের নিয়মাবলী বর্ণনা করিয়াছেন, আর ঐগুলো হিদায়াতের নিয়মের অন্তর্গত। আর আমি ধারণা করি, তোমাদের ঘরে প্রত্যেকের একটা নামাজের স্থান রয়েছে। অতএব যদি তোমরা তোমাদের ঘরে নামাজ আদায় কর আর তোমাদের মসজিদ পরিত্যাগ কর, তাহলে তোমরা তোমাদের নাবী [সাঃআঃ]-এর তরীকা পরিত্যাগ করলে। আর যদি তোমরা তোমাদের নাবী [সাঃআঃ]-এর তরীকাই পরিত্যাগ করলে তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হলে। আর যে মুসলিমই উত্তমরূপে উযূ করে, তারপর সে নামাজের জন্য পায়ে হেঁটে যায়, আল্লাহ্‌ তাআলা তার প্রতি পদক্ষেপে একটি পুণ্য লেখেন, অথবা তার জন্য তার মর্যাদার একটি ধাপ উন্নত করে দেন। অথবা তদ্‌দ্বারা তার একটি পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেন। আমি সেই সময়টা যেন দেখিতে পাচ্ছি যখন আমরা [মসজিদে যাওয়ার সময়] কাছাকাছি পা ফেলে চলতাম [যাতে অধিক নেকী পাওয়া যায়] আর তা থেকে বিরত থাকত না কেউ ঐ মুনাফিক ব্যতীত যার নিফাক প্রকাশ্য। পক্ষান্তরে আমি দেখেছি, এক ব্যক্তি দুই ব্যক্তির সাহায্যে চলতে থাকত। অবশেষে তাকে কাতারে দাঁড় করান হতো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৫০. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ একজন অন্ধ লোক রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বলিলেন, আমার এমন কোন পথপ্রদর্শক নেই, যে আমাকে নামাজে নিয়ে যাবে। সে ব্যক্তি তাহাঁর নিকট নিজ ঘরে নামাজ আদায় করার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। যখন ঐ ব্যক্তি চলে যাচ্ছিলেন তখন তাঁকে ডেকে বললেনঃ তুমি কি নামাজের আযান শুনতে পাও ? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে তার উত্তর দাও [অর্থাৎ আযানের উত্তর দাও এবং জামাআতে উপস্থিত হও]।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৫১. ইবনি উম্মে মাকতূম [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মদীনায় বহু সরীসৃপ জন্তু এবং হিংস্র প্রাণী রয়েছে। তিনি বললেনঃ তুমি কি “নামাজের দিকে আস, কল্যাণের দিকে আস” এ আওয়াজ শুনতে পাও ? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তাহলে তুমি আসবে। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ জামাত ত্যাগের ওযর

৮৫২. উরওয়া [রহঃ] হইতে বর্ণীত

আবদুল্লাহ ইবনি আরকাম [রাঃআঃ] তাহাঁর সাথীদের ঈমামতি করিতেন। একদিন নামাজের সময় হলে তিনি তাহাঁর প্রয়োজনে চলে গেলেন। তারপর ফিরে এসে বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ যখন তোমাদের কারও পায়খানার প্রয়োজন হয়, তখন সে যেন নামাজের পূর্বেই তা সেরে নেয়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৫৩. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যখন রাতের খানা উপস্থিত আর নামাজ আরম্ভ হয়, তখন প্রথমে আহার করে নেবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৫৪. আবুল মলীহ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে হুনায়নে ছিলাম, এমন সময়ে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ আরম্ভ হল। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মুয়ায্‌যিন ঘোষণা দিলেন, আপনারা নিজ নিজ বাসস্থানে নামাজ আদায় করুন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ জামাআতে প্রাপ্তির সীমা

৮৫৫. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ করিল তৎপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে দেখল লোক নামাজ শেষ করেছে, আল্লাহ্‌ তাআলা তার জন্য নামাজে উপস্থিত ব্যক্তিদের সমান সওয়াব লিখে দেবেন এবং তাহাদের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হইবে না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৫৬. উসমান ইবনি আফ্‌ফান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি নামাজের জন্য উযূ করিল পূর্ণরূপে, তারপর ফরয নামাজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো এবং তা আদায় করিল লোকের সাথে। অথবা তিনি বলেছেন জামাআতে অথবা বলেছেন মসজিদে, আল্লাহ তাআলা তাহাঁর পাপসমূহ মার্জনা করে দিবেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ একাকী নামাজ আদায় করে পরে জামাআতে আদায় করা

৮৫৭. মিহজান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি এক সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে এক মজলিসে ছিলেন। তখন নামাজের আযান হলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দাঁড়ালেন, তারপর নামাজ আদায় করে এসে দেখলেন মিহজান [রাঃআঃ] সেই মজলিসেই রয়েছেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে বললেনঃ তোমাকে নামাজ আদায় করা থেকে কোন্‌ জিনিস বাধা দিল? তুমি কি মুসলমান নও? তিনি বললেনঃ, হ্যাঁ। কিন্তু আমি আমার ঘরে নামাজ আদায় করে ফেলেছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে বললেনঃ যখন আসবে, তখন লোকের সাথে নামাজ আদায় করে নেবে, যদিও পূর্বে নামাজ আদায় করে থাক।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ একাকী ফজরের নামাজ আদায় করলে পুনরায় জামাআতে আদায় করা

৮৫৮. ইয়াযীদ ইবনি আসওয়াদ আমিরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি মসজিদে খায়ফে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। যখন তিনি নামাজ শেষ করিলেন, লোকজনের শেষ প্রান্তে দুইজন লোক দেখলেন, যারা তাহাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করেনি। তিনি বললেনঃ ঐ দুই ব্যক্তিকে আমার নিকট নিয়ে এস। তাহাদেরকে আনা হলো। ভয়ে তারা কাঁপছিল। তিনি বললেনঃ কি কারণে তোমরা আমাদের সাথে নামাজ আদায় করলে না? তারা বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আমরা আমাদের ঘরে নামাজ আদায় করেছি। তিনি বললেনঃ আর এরূপ করিবে না। যখন তোমরা তোমাদের ঘরে নামাজ আদায় করে জামাআতের মসজিদে আগমন করিবে, তখন তাহাদের সাথে নামাজ আদায় করিবে আর তা তোমাদের জন্য নফল [বলে গণ্য] হইবে। {১}

{১} একবার ফরয নামাজ আদায়ের পর দ্বিতীয়বার সেই নামাজ আদায় করলে তা নফল নামাজ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ সময় চলে গেলে জামাআতে পুনঃ নামাজ আদায় করা

৮৫৯. আবু যর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার উরুদেশে হাত রেখে বললেনঃ যদি তুমি এমন লোকের মধ্যে বেঁচে থাক যারা সঠিক সময় থেকে নামাজকে পিছিয়ে দেবে, তখন তুমি কি করিবে? তিনি বলিলেন, আপনি যা আদেশ করবেন। তিনি বললেনঃ তুমি সময়মত নামাজ আদায় করে নেবে। তারপর তোমার প্রয়োজনে যাবে। যদি নামাজ আরম্ভ হয় আর তুমি মসজিদে থাক, তাহলে নামাজ আদায় করিবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মসজিদে ইমামের সঙ্গে জামাআতে নামাজ আদায় করলে

৮৬০. মায়মূনা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি ইবনি উমর [রাঃআঃ]-কে বালাত নামক স্থানে উপবিষ্ট দেখলাম আর লোক তখন নামাজ আদায় করছিল। আমি বললাম, হে আবু আবদূর রহমান! আপনার কি হয়েছে, নামাজ আদায় করছেন না কেন? তিনি বললেনঃ আমি নামাজ আদায় করে ফেলেছি। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, একদিনে এক নামাজ দুবার আদায় করা যাবে না। {১}

{১} ফরয হিসেবে একদিনে এক ওয়াক্ত নামাজ দুবার আদায় বৈধ নয়।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

পরিচ্ছেদঃ নামাজের জন্য দৌড়ানো

৮৬১. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যখন তোমরা নামাজে আগমন করিবে তখন তোমরা দৌড়ে আসবে না, বরং হেঁটে আসবে। তোমাদের কর্তব্য স্বস্তিতে আসা। তারপর যা পাবে তা আদায় করিবে আর যা ছুটে যাবে তা পরে আদায় করে নেবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজের জন্য না দৌড়ে দ্রুত গমন করা

৮৬২. আবু রাফি [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসরের নামাজ আদায় করে বনূ আবদুল আশহালের নিকট যেতেন এবং তাহাদের সাথে কিছু কথাবার্তা বলিতেন। তারপর মাগরিবের নামাজের জন্য তাড়াতাড়ি চলে আসতেন। আবু রাফি বলেনঃ একবার রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাগরিব নামাজের জন্য তাড়াতাড়ি আসছিলেন। আমরা বাকী নামক স্থান দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তিনি বলিলেন, “তোমার জন্য আফসোস, তোমার জন্য আফসোস।” তিনি বলেনঃ এটা আমার কাছে কঠিন মনে হল। অতএব আমি পেছনে রয়ে গেলাম, আর আমি মনে করলাম, তিনি আমাকেই উদ্দেশ্য করিয়াছেন। তিনি বললেনঃ তোমার কি হলো, চলো। আমি বললাম, আমি কি কোন ঘটনা ঘটিয়েছি? তিনি বললেনঃ তা কি? আমি বললাম, আপনি বলিলেন তোমার জন্য আফসোস। তিনি বললেনঃ না, [আমি যাকে লক্ষ্য করে আফসোস বলেছি] সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যাকে আমি অমুক গোত্রের নিকট যাকাত উসুলকারী করে পাঠিয়েছিলাম। সে একখানা চাদর আত্মসাৎ করেছিল। এখন তাকে ঐরূপ আগুনের একখানা চাদর পরিয়ে দেয়া হয়েছে।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৮৬৩. আবু রাফি [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

অনুরূপ হাদিস বর্ণিত আছে।

হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ আগেভাগে নামাজে উপস্থিত হওয়া

৮৬৪. যুহরী [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আবু সালামা ইবনি আবদুর রহমান এবং আবু আবদুল্লাহ আগার্‌র আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] তাঁদের কাছে বর্ণনা করিয়াছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সর্বাগ্রে নামাজে যে ব্যক্তি উপস্থিত হয় সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি উট কুরবানী করে, তারপর যে ব্যক্তি আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি গাভী কুরবানী করে। এরপর যে ব্যক্তি আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি দুম্বা কুরবানী করে। পরে যে ব্যক্তি আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মুরগী আল্লাহর রাস্তায় দান করে। তারপর যে ব্যক্তি আগমন করে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি ডিম আল্লাহ্‌র রাস্তায় দান করে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইকামতের সময় যে নামাজ মাকরূহ

৮৬৫. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যখন ইকামত বলা হয় তখন ফরয নামাজ ব্যতীত আর কোন নামাজ নেই।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৬৬. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন ইকামত বলা হয় তখন ফরয নামাজ ব্যতীত আর কোন নামাজ নেই। {১}

{১} ফজরের দু রাকআত সুন্নত নামাজ আদায় করার অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া এ নামাজ আদায় করার যথেষ্ট তাকিদও রয়েছে। তাই এ সুন্নাত নামাজ আদায় করে যদি ফজরের ফরয নামাজের এক রাকআত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে মসজিদের দরজার কাছে কিংবা খুঁটির পেছনে এ নামাজ আদায় করে জামাআতে শরীক হওয়ার বিধান রয়েছে। -অনুবাদক।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৬৭. ইবনি বুহায়না [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ ফজর নামাজের ইকামত বলা হলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক ব্যক্তিকে দেখলেন সে নামাজ আদায় করছে আর মুয়ায্‌যিন ইকামত বলছে। তিনি তখন বললেনঃ তুমি কি ফজরের নামাজ চার রাকআত আদায় করছো?

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যে ফজরের দুই রাকআত আদায় করছে অথচ ঈমাম নামাজে

৮৬৮. আবদুল্লাহ ইবনি সারজিস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি আগমন করিল রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তখন ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। সে ব্যক্তি দুই রাকআত নামাজ আদায় করে নামাজে শরীক হলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর নামাজ শেষ করে বললেনঃ হে অমুক! তোমার নামাজ কোন্‌টি, তুমি যে নামাজ আমাদের সাথে আদায় করেছ সেটি, না যে নামাজ একা আদায় করেছ?

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ কাতারের পেছনে একাকী নামাজ আদায়কারী

৮৬৯. ইসহাক ইবনি আবদুল্লাহ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি আনাস [রাঃআঃ]–কে বলিতে শুনিয়াছি যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের ঘরে আসলেন। আমি এবং আমাদের এক ইয়াতীম তাহাঁর পেছনে নামাজ আদায় করলাম। আর উম্মে সুলায়ম আমাদের পেছনে নামাজ আদায় করিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৭০. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ অতি সুন্দরী এক মহিলা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর পেছনে নামাজ আদায় করছিল। তিনি বলেনঃ তখন গোত্রের মধ্য থেকে কেউ কেউ প্রথম কাতারে এগিয়ে গেল, যেন তাকে দেখিতে না পায়। আর তাহাদের কেউ কেউ পেছনে রয়ে গেল। যখন রুকূ করিল তখন তারা বগলের নিচ দিয়ে তাকাচ্ছিল, তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ

وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ} [الحجر: 24]

অর্থঃ “তোমাদের মধ্যে যারা আগে অগ্রসর হয়ে গেছে, তাহাদেরকেও আমি জানি আর যারা পেছনে রয়ে গেছে, তাহাদেরকেও জানি।” [১৫:২৪]

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ কাতারের বাইরে রুকূ করা

৮৭১. হাসান [রহঃ] হইতে বর্ণীত

আবু বাকরা [রাঃআঃ] তাহাঁর নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি এমন সময় মসজিদে প্রবেশ করিলেন যখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রুকূতে চলে গেছেন। তিনি [তাড়াতাড়ি] কাতারের বাইরেই রুকূ করে ফেললেন। পরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে বললেনঃ আল্লাহ্‌ তোমার আগ্রহ বাড়িয়ে দিন কিন্তু আর কখনও এরূপ করিবে না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮৭২. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ একদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ আদায় করিলেন। নামাজ শেষে বললেনঃ হে অমুক ব্যক্তি, তুমি তোমার নামাজ ঠিকমত আদায় কর না। তুমি কি মুসল্লীদেরকে দেখ না তারা কিরূপে তাহাদের নামাজ আদায় করে? আমি [তোমাদেরকে] পেছনে থেকে দেখি যেরূপ তোমাদেরকে সামনে দিয়ে দেখি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যোহরের পর নামাজ

৮৭৩. ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যোহরের পূর্বে দুই রাকআত নামাজ আদায় করিতেন আর তার পরেও দুই রাকআত। আর তিনি মাগরিবের পরও নিজ গৃহে দুই রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। তিনি ইশার পরেও দুই রাকআত আদায় করিতেন। আর তিনি জুমআর পর কোন নামাজ আদায় করিতেন না [ঘরে] না ফেরা পর্যন্ত। তারপর তিনি দুই রাকআত নামাজ আদায় করিতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ আসরের নামাজের পূর্বে নামাজ

৮৭৪. আসিম ইবনি যামরাহ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি আলী [রাঃআঃ]–কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কার ক্ষমতা আছে? আমি বললাম, আমি তার ক্ষমতা না রাখলেও শুনতে বাসনা রাখি। তিনি বললেনঃ যখন সূর্য আসরের সময় আপন অবস্থায় এখানে থাকত তখন তিনি দুই রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। আর যিকরের সময় যখন তা আপন অবস্থায় এখানে উপস্থিত হতো, তখন তিনি চার রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। আর তিনি যোহরের পূর্বে চার রাকআত এবং তারপর দুই রাকআত আদায় করিতেন। প্রতি দুই রাকআত সালাম এর মাধ্যমে পৃথক করিতেন, তাহাঁর এই সালাম ছিল নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ, নাবীগণ আর তাঁদের অনুগামী মুসলমান এবং মুমিনদের প্রতি।

হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৮৭৫. আসিম ইবনি যামরা [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি আলী ইবনি আবু তালিব [রাঃআঃ]-কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর দিনের ফরযের পূর্বের নামাজ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলিলেন, কে এর সামর্থ্য রাখে? তারপর তিনি তা আমাদের অবহিত করিলেন। বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সূর্য উপরে উঠতো তখন দুই রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। আর দুপুরের পূর্বে চার রাকআত আদায় করে তার শেষে সালাম করিতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

By ইমাম নাসাঈ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply