ইমামতির মাসআলা বর্ণনা

ইমামতির মাসআলা বর্ণনা

ইমামতির মাসআলা বর্ণনা >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৪, অধ্যায়ঃ ২৬

  • অধ্যায়ঃ ২৬. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ২৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ২৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ২৬. . প্রথম অনুচ্ছেদ

১১১৭. আবু মাস্ঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : জাতির ঈমামতি এমন লোক করিবেন, যিনি আল্লাহর কিতাব সবচেয়ে উত্তম পড়তে পারেন। উপস্থিতদের মাঝে যদি সকলেই উত্তম ক্বারী হন তাহলে ঈমামতি করিবেন ঐ লোক যিনি সুন্নাতের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী জানেন। যদি সুন্নাতের ব্যাপারে সকলে সমপর্যায়ের জ্ঞানী হন তবে যে সবার আগে হিজরত করিয়াছেন। হিজরত করায়ও যদি সবাই এক সমান হন। তাহলে ইমামাত করিবেন যিনি বয়সে সকলের চেয়ে বড়। আর কোন লোক অন্য লোকের ক্ষমতাসীন এলাকায় গিয়ে ঈমামতি করিবে না এবং কেউ কোন বাড়ী গিয়ে যেন অনুমতি ছাড়া বাড়ীওয়ালার আসনে না বসে। [মুসলিম; তাহাঁর অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, আর কোন লোক অন্য লোকের গৃহে গিয়ে {অনুমতি ব্যতীত] ঈমামতি করিবে না।”]{১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৬৭৩, আবু দাউদ ৫৮২, আত তিরমিজি ২৩৫, নাসায়ী ৭৮০, ইবনি মাজাহ ৯৮০, আহমাদ ১৭০৬৩, সহীহ আল জামি ৩১০৪। ইমামতির মাসআলা-এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১১৮. আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : তোমরা যখন তিনজন হবে; সলাত আদায় করার জন্যে একজনকে ঈমাম বানাবে এবং ঈমামতির জন্যে সবচেয়ে উপযুক্ত যে কুরআন সবচেয়ে ভাল পড়তে পারেন। ] {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৬৭৬। ইমামতির মাসআলা-এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ২৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১১১৯. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : তোমদের যে লোক সবচেয়ে উত্তম তাহাঁরই আযান দেয়া উচিত। আর তোমাদের যে ব্যক্তি সবচেয়ে ভাল ক্বারী তাকেই তোমাদের ঈমামতি করা উচিত। {১}

{১} জইফ : আবু দাউদ ৫৯০, ইবনি মাজাহ ৭২৬, বায়হাক্বী ১৯৯৮, জইফ আল জামি ৪৮৬৬। কারণ এর সানাদে হুসায়ন বিন ঈসা আল হানাফী সর্বসম্মতক্রমে একজন দুর্বল রাবী। ঈমাম বোখারী [রাহিমাহুল্লাহ] তাকে মুনকারুল হাদিস বলেছেন। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১১২০. আবু আত্বিয়্যাহ্ আল উক্বায়লী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মালিক ইবনি হুওয়াইরিস [সহাবী] আমাদের মাসজিদে আগমন করিতেন। আমাদেরকে হাদিস বর্ণনা করে শুনাতেন। একদা তিনি এভাবে আমাদের মাঝে আছেন সলাতের সময় হয়ে গেল। আবু আত্বিয়্যাহ বলেন, আমরা মালিক-এর নিকট আবেদন করলাম, সামনে বেড়ে আমাদের সলাতের ঈমামতি করার জন্যে। মালিক বললেন, তোমরা তোমাদের কাউকে সামনে বাড়িয়ে দাও। সে-ই তোমাদের সলাত আদায় করাবে। আর আমি কেন সলাত আদায় করাব না। কারণ তোমাদেরকে বলছি, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে লোক কোন জাতির সঙ্গে দেখা সাক্ষাত করিতে যায় সে যেন তাদের ঈমামতি না করে। বরং তাদের মধ্যে কেউ ঈমামতি করিবে। [আবু দাউদ, তিরমিজি; নাসায়ীও এ হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু তিনি নবী [সাঃআঃ]…… শব্দগুলো পর্যন্ত উল্লেখ করিয়াছেন] {১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ৫৯৬, আত তিরমিজি ৩৫৬, আহমাদ ২০৫৩২, ইবনি খুযায়মাহ্ ১৫২০, বায়হাক্বী ৫৩২৪, সহীহ আল জামি ৬২৭১, নাসায়ী ৭৮৬। ইমামতির মাসআলা-এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১২১. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ.

তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদা আবদুল্লাহ ইবনি মাক্‌তুমকে সলাত আদায়ের জন্যে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে দিলেন। অথচ তিনি ছিলেন জন্মান্ধ।{১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ৫৯৫, সুনানুস্ সুগরা লিল বায়হাক্বী ৫০৭। ইমামতির মাসআলা-এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১২২. আবু উমামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেন : তিন লোকের সলাত কান হইতে উপরের দিকে উঠে না [অর্থাৎ কবূল হয় না]। প্রথম হলো কোন মালিক-এর নিকট থেকে পলায়ন করা গোলাম যতক্ষণ তার মালিক-এর নিকট ফিরে না আসে। দ্বিতীয় ঐ মহিলা, যে তার স্বামীকে অসন্তুষ্ট রেখে রাত কাটাল। তৃতীয় হলো ঐ ঈমাম, যাকে তার জাতি অপছন্দ করে। [তিরমিজি; তিনি বলেছেন, এ হাদিসটি গরীব] {১}

{১} সহীহ : আত তিরমিজি ৩৬০, সহীহ আত তারগীব ৪৮৭, সহীহ আল জামি ৩০৫৭। ইমামতির মাসআলা-এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১২৩. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : তিন লোকের সলাত কবূল হয় না। ঐ লোক যে কোন জাতির ঈমাম অথচ সে জাতি তার ওপর অসন্তুষ্ট। দ্বিতীয় ঐ লোক যে সলাতে বিলম্ব করে উত্তম সময় চলে যাওয়ার পর আসে। আদায় করে আসা মর্ম হলো সলাতের মুস্তাহাব সময় চলে যাওয়ার শেষে আসে। তৃতীয় ঐ লোক যে স্বাধীন লোককে দাস বা দাসীতে পরিণত করে মনে করে। [আবু দাউদ, ইবনি মাজাহ] {১}

{১} শেষের অংশটুকু জইফ : আবু দাউদ ৫৯৩, জইফ আত তারগীব ১১৯২। কারণ হাদিসের সানাদে আবদুর রহমান বিন যিয়াদ আল ইফারিক্বী দুর্বল রাবী এবং ইমরান বিন আব্দ আল মুআফিরী মাজহূল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ অন্যান্য

১১২৪. সালামাহ্ বিনতুল হুর্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : ক্বিয়ামাতের নিদর্শনসমূহের একটি নিদর্শন হলো মাসজিদে হাযির সলাত আদায়কারীরা একে অন্যকে ঠেলিবে। তাদের সলাত আদায় করিয়ে দিতে পারবে এমন যোগ্য ঈমাম তারা পাবে না। {১}

{১} জইফ : আবু দাউদ ৫৮১, আহমাদ ২৭১৩৮, ইবনি মাজাহ ৯৮২, জইফ আল জামি ১৯৮৭, আস্ সুনান আল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৩৪৭। কারণ হাদিসের সানাদ বানী ফাযারাহ্ গোত্রের আযাদকৃত দাসী ত্বলহাহ্ [রাদি.] এবং আক্বীলাহ্ উভয়ে মাজহূল রাবী যেমনটি ঈমাম ওয়াক্বী ইবনুল বাররাহ্ হইতে ইবনি হাজার বর্ণনা করিয়াছেন।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১১২৫. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : তোমাদের ওপর প্রত্যেক নেতার সঙ্গে চাই সে সৎ আমালদার হোক কি বদকার, জিহাদ করা ফার্‌য। যদি সে কাবীরাহ্ গুনাহও করে। প্রত্যেক মুসলিমের পেছনে সলাত আদায় করা তোমাদের জন্যে আবশ্যক। [সে সলাত আদায়কারী] সৎ আমালদার হোক কি বদকার। যদি সে কাবীরাহ্ গুনাহও করে থাকে। সলাতে জানাযাও প্রত্যেক মুসলিমদের ওপর ফার্‌য। চাই সে সৎ কর্মশীল হোক কি বদকার। সে গুনাহ কাবীরাহ্ করে থাকলেও। ] {১}

{১} জইফ : আবু দাউদ ২৫৩৩, আস্ সুনান আল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৩০০, শুআবুল ঈমান ৮৮০৫, জইফ আল জামি ২৬৭৩। কারণ হাদিসের সানাদে আলা বিন হারিস গোলযোগপূর্ণ বারী এবং মাকহূল আবু হুরাইরাহ [রাদি.]-কে পাননি। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

অধ্যায়ঃ ২৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১১২৬. আমর ইবনি সালামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা মানুষ চলাচলের পথে একটি কুয়ার পাড়ে বসবাস করতাম। এটা মানুষের চলাচলের স্থান। যে কাফিলা আমাদের নিকট দিয়ে ভ্রমণ করে আমরা তাদের প্রশ্ন করতাম, মানুষের কি হলো। এ লোকটির [রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর] কি হলো? আর এ লোকটির বৈশিষ্ট্য কি? এসব লোক আমাদেরকে বলত, তিনি নিজেকে রসূল হিসেবে দাবী করেন। আল্লাহ তাঁকে সত্য নবী করে পাঠিয়েছেন। [কাফিলার লোক তাদের কুরআনের আয়াত পড়ে শুনাত] বলত এসব তাহাঁর কাছে ওয়াহী হিসেবে আসে। বস্তুত: কাফিলার নিকট আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যেসব গুনাগুনের কথা ও কুরআনের যেসব আয়াত পড়ে শুনাত এগুলোকে এমনভাবে মুখস্থ রাখতাম যা আমার সিনায় গেঁথে থাকত। আরাববাসী ইসলাম গ্রহণের সম্পর্কে মাক্কাহ বিজয় হওয়ার অপেক্ষা করছিল। অর্থাৎ তারা বলত, মাক্কাহ বিজয় হয়ে গেলে আমরা ইসলাম গ্রহণ করব। আর এ কথাও বলত এ রসূলকে তাদের জাতির ওপর ছেড়ে দাও। যদি সে জাতির ওপর বিজয় লাভ করে [মাক্কাহ বিজয় করে নেয়] তাহলে মনে করিবে সে সত্য নবী। মাক্কাহ বিজয় হলে গেলে লোকেরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করিবে। আমার পিতা জাতির প্রথম লোক যিনি প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছেন। তিনি [ইসলাম গ্রহণ করে] ফিরে আসার পর জাতির নিকট বলিতে লাগলেন। আল্লাহর কসম! আমি সত্য নবীর নিকট থেকে এসেছি। তিনি বলেছেন, অমুক সময়ে এভাবে সলাত আদায় করিবে। অমুক সময়ে এ রকম সলাত আদায় করিবে। সলাতের সময় হলে তোমাদের একজন আযান দেবে। আর তোমাদের যে বেশী ভাল কুরআন পড়তে জানে সে ঈমামতি করিবে। বস্তুত: যখন সলাতের সময় হলো [জামাআতের প্রস্তুত হলো] মানুষেরা কাকে ঈমাম বানাবে পরস্পরের প্রতি দেখিতে লাগল। কিন্তু আমার চেয়ে ভাল কুরআন পড়ুয়া কাউকে পায়নি। লোকেরা আমাকে আগে বাড়িয়ে দিলো। এ সময় আমার বয়স ছিয় ছয় কি সাত বছর। আমার পরনে ছিল শুধু একটি চাদর। আমি যখন সেজদায় যেতাম; চাদরটি আমার শরীর হইতে সরে যেত। আমাদের জাতির একজন মহিলা [এ অবস্থা দেখে] বলিল, আমাদের সামনে হইতে তোমরা তোমাদের ইমামের লজ্জাস্থান ঢেকে দিচ্ছো না কেন? জাতির লোকেরা যখন কাপড় খরিদ করিল এবং আমার জন্য জামা বানিয়ে দিলো। এ জামার জন্যে আমার মন এমন খুশি হলো যা আর কখনও হয়নি। ] {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৪৩০২। ইমামতির মাসআলা-এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১২৭. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মদীনায় প্রথম গমনকারী মুজাহিরগণ যখন আসলেন, আবু হুযায়ফার আযাদ গোলাম সালিম তাদের সলাতের ঈমামতি করিতেন। মুক্তাদীদের মাঝে উমার [রাদি.] আবু সালামাহ ইবনি আবদুল আসাদও শামিল থাকতেন। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬৯২। ইমামতির মাসআলা-এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১২৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন: তিন ব্যক্তি এমন আছেন যাদের সলাত মাথার উপরে এক বিঘত পরিমাণও উঠে না। এক ব্যক্তি যে জাতির ঈমাম, অথচ জাতি তাকে অপছন্দ করে। দ্বিতীয় মহিলা, যে এ অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে যে তার স্বামী তার ওপর অসন্তুষ্ট। তৃতীয় দু ভাই, যাদের পরস্পরের ওপর পরস্পর অসন্তুষ্ট।হ] {১}

{১} জইফ أَخَوَانِ مُتَصَارِمَانِ এ শব্দে, আর হাসান العبد الاۤبق এ শব্দে; ইবনি মাজাহ ৯৭১। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply