ইমানের দূর্বলতা র দরুণ যার ব্যাপারে ধর্মত্যাগের সন্দেহ হয়

ইমানের দূর্বলতা র দরুণ যার ব্যাপারে ধর্মত্যাগের সন্দেহ হয়

ইমানের দূর্বলতা র দরুণ যার ব্যাপারে ধর্মত্যাগের সন্দেহ হয় >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৬৮. অধ্যায়ঃ ইমানের দূর্বলতা র দরুণ যার ব্যাপারে ধর্মত্যাগের সন্দেহ হয়, তার হৃদয় জয়ের জন্য বিশেষ সৌজন্য প্রদর্শন এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে নিশ্চিত মুমিন বলে ঘোষণা দেয়া থেকে বিরত থাকা

২৭২

সাদ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] একবার কিছু মাল বণ্টন করছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! অমুককে কিছু দিন, কেননা সে নিশ্চয়ই একজন মুমিন ব্যক্তি। নবি [সাঃআ:] বলিলেন, বরং বল যে, সে একজন মুসলিম। সাহাবী বলিলেন, আমি কথাটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করেছি, তিনিও তিনবারই আমাকে ঐ একই উত্তর দিয়েছেন। এরপর রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলিলেন, অপরজন আমার নিকট অধিক প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও আমি কাউকে এ কারণে দিয়ে থাকি যে, আল্লাহ তাআলা যেন তাকে উল্টো করে জাহান্নামে না ফেলেন। [ই.ফা. ২৭৬; ই.সে. ২৮৬]

২৭৩

সাদ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] কিছু লোককে কিছু মাল দিলেন। তখন সাদ [রাঃআ:] তাহাদের মধ্যে বসেছিলেন। সাদ [রাঃআ:] বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] তাহাদের মধ্যে এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না, অথচ আমার দৃষ্টিতে সে ছিল পাওয়ার বেশি উপযুক্ত। তাই আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! অমুককে না দেয়ার কারণ কি? আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমি তাকে তো মুমিন বলে জানি। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলিলেন, বরং বল সে মুসলিম। আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। তার সম্পর্কে আমি যা জানি তা আমার নিকট প্রবল হয়ে উঠল, তাই আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! অমুককে না দেয়ার কারণ কি? আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে অবশ্যই মুমিন বলে ধারণা করি! রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলিলেন, বরং বল সে মুসলিম। আমি কিছুক্ষণ চুপ রইলাম। পুনরায় তার সম্পর্কে আমি যা জানি তা প্রবল হয়ে উঠল, তাই আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! অমুককে না দেয়ার কারণ কি? আল্লাহর কসম, আমি তো তাকে অবশ্যই মুমিন বলে জানি! রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলিলেন, বরং বল সে মুসলিম। অন্যজন আমার নিকট অধিক প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও আমি কাউকে এ আশঙ্কায় কিছু দান করে থাকি যে, আল্লাহ তাআলা যেন তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ না করেন। {৫৭} [ই.ফা. ২৭৭; ই.সে. ২৮৭]

{৫৭} ইমাম নাবাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন : এ হাদীস হতে প্রমাণিত হয় যে, [১] হাকিম বা শাসকের নিকট বৈধ কাজের একাধিকবার অনুরোধ করা জায়িয। [২] যুক্তিসঙ্গত কাজ হলে অধম উত্তমকে দিক-নির্দেশনা দিতে পারে। আর উত্তমের জন্য আবশ্যকও নয় যে, তা মেনে নিবেন। বরং তাকে যে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করিতে হইবে। যুক্তিসঙ্গত না হলে প্রত্যাখ্যান করিতে পারেন। [৩] কাউকেও নিশ্চিতভাবে মুমিন বলা সঠিক নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়া যায়। [৪] ইমাম নিজের ইচ্ছানুযায়ী প্রয়োজনীয় কাজে পর্যায়ক্রমে মাল খরচ করিতে পারেন। [৫] শারঈ দলীল ছাড়া কাউকেও জান্নাতে যাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়া সঠিক হইবে না। শারঈ দলীল যেমন- ১০ জন সহাবা ও অন্যান্য ব্যক্তিগণ যার উপর আহলে সুন্নাতের ইজমা আছে। [সংক্ষিপ্ত নাবাবী]

২৭৪

সাদ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] কয়েকজন লোককে কিছু দিলেন। তখন আমি তাহাদের মধ্যে বসা ছিলাম। এভাবে বর্ণনাকারী পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি এতটুকু বর্ণনা করিয়াছেন যে, আমি রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর নিকট গেলাম এবং চুপে চুপে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! অমুককে না দেয়ার কারণ কি? [ই.ফা. ২৭৮, ই.সে ২৮৮]

২৭৫

ইসমাঈল ইবনি মুহাম্মাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনি সাদকে এ হাদীস বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি। তবে তিনি তাহাঁর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেন যে, সাদ [রাঃআ:] বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] আমার ঘাড় ও বাহুর মাঝখানে সজোরে হাত রেখে বলিলেন, হে সাদ! তুমি কি এজন্য বিতর্ক করিতে চাও? আমি কাউকে দান করি। [ই.ফা. ২৭৯; ই.সে. ২৮৯]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply