ইবনি সাইয়্যাদ – এর বর্ণনা

ইবনি সাইয়্যাদ – এর বর্ণনা

ইবনি সাইয়্যাদ – এর বর্ণনা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৯. অধ্যায়ঃ ইবনি সাইয়্যাদ – এর বর্ণনা

৭২৩৪. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ [সা]এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় আমরা কতক বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তাদের মাঝে ইবনি সাইয়্যাদও ছিল। বালকেরা পালিয়ে গেল কিন্ত ইবনি সাইয়্যাদ বসে রইল। তার এরূপ আচরণ দেখে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিছুটা অপছন্দ করিলেন। তারপর নবী [সাঃআঃ] তাকে বললেনঃ তোমার উভয় হাত ভূলুন্ঠিত হোক। তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রসূল? সে বলিল, না। বরং আপনি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রসূল। এ কথা শুনে উমর ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]! আমাকে সুযোগ দিন, আমি তাকে নিঃশেষ করে দেই। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি যা মনে করছ, যদি সে তাই [দাজ্জাল] হয়, তবে তো তুমি তাকে হত্যা করিতে সক্ষম হইবে না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৮০, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৩৪]

৭২৩৫. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা নবী [সাঃআঃ] এর সাথে হাঁটছিলাম। নবী [সা] ইবনি সাইয়্যাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বলিলেন, তোমার বিষয়ে আমি একটি কথা লুক্কায়িত রখেছি। ইবনি সাইয়্যাদ বলিল, আপনার হৃদয়ে আরবি [ধুয়া] শব্দটি লুক্কায়িত রয়েছে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, চলে যা অভিশপ্ত, তুই তোর পরিমন্ডল অতিক্রম করিতে পারবি না। তখন উমর [রাদি.]বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ছেড়ে দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেব। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাকে ছাড়ো, যার সম্বন্ধে তুমি আশঙ্কা করছ সে যদি ঐ লোকই হয়ে থাকে তবে তুমি তাকে হত্যা করিতে সক্ষম হইবে না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৮১, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৩৫]

৭২৩৬. আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন মাদীনার কোন পথে ইবনি সাইয়্যাদ-এর সঙ্গে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ], আবু বাক্‌র ও উমর [রাদি.]-এর সাক্ষাৎ হয়। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইবনি সাইয়্যাদকে বললেনঃ তুমি কি এ সাক্ষ্য দাও, আমি আল্লাহর রসূল? উত্তরে সে বলিল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রসূল? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমি তো আল্লাহর প্রতি, তাহাঁর ফেরেশ্‌তাগণের প্রতি ও তাহাঁর কিতাবসমূহের উপর ঈমান এনেছি। তারপর তিনি বলিলেন, তুমি কি দেখছ? সে বলিল, আমি সমুদ্রের উপর আর্‌শ দেখিতে পাচ্ছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন তুমি তো সমুদ্রে ইবলীসের আরশ দেখিতে পাচ্ছ। তুমি আর কি দেখিতে পাচ্ছ? সে বলিল, আমি কিছু সংখ্যক সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদীকে অথবা কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী ও একজন সত্যবাদীকে দেখিতে পাচ্ছি। রসূলুল্লাহ [সা]বললেনঃ একে ছেড়ে দাও। সে বিষয়ে নিজেই সন্দেহ পোষণ করছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৮২, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৩৬]

৭২৩৭. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা নবী [সাঃআঃ] ইবনি সাইয়্যাদকে দেখলেন। এমন সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সঙ্গে আবু বাক্‌র ও উমর [রাদি.]-ও ছিলেন এবং কিছু বালকের সাথে ইবনি সাইয়্যাদ ছিল। তারপর তিনি জুরাইরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৩৭]

৭২৩৮. আবু সাঈদ আল খুদ্‌রী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন মক্কা যাওয়ার পথে ইবনি সাইয়্যাদ মক্কা পর্যন্ত আমার সফর সঙ্গী ছিল। পথে সে আমাকে বলিল, এমন কতিপয় লোকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটেছে যারা ধারণা করে যে, আমিই দাজ্জাল। আপনি কি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেননি যে, দাজ্জালের কোন সন্তান হইবে না? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, শুনেছি। তখন সে বলিল, আমার তো সন্তানাদি রয়েছে। আপনি কি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেননি যে, দাজ্জাল মক্কা ও মাদীনাতে ঢুকতে পারবে না? আমি বললাম, হ্যাঁ, শুনেছি। সে বলিল, মনে রাখুন, আমি তো মাদীনায় জন্মগ্রহণ করেছি এবং এখন মক্কা যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। আবু সাঈদ আল খুদরী বলেন, অতঃপর এসব কথা বলার পর পরিশেষে সে বলিল, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই জানি দাজ্জালের জন্মস্থান, বাসস্থান এবং তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে। আবু সাঈদ আল খুদ্‌রী [রাদি.] বলেন, [এ কথা বলে] সে আমাকে দ্বিধা ও সংশয়ে ফেলে দিল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৩৮]

৭২৩৯. আবু সাঈদ আল খুদ্‌রী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন ইবনি সাইয়্যাদ আমার সঙ্গে কিছু কথা বলেছে যাতে আমার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে গেছে। তা হচ্ছে ইবনি সাইয়্যাদ-এর এ বক্তব্যঃ আমি মানুষকে এ বলে ওযর পেশ করছি। হে মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর সংগী-সাথীগণ! আমার ব্যপারে তোমাদের কি হয়েছে? আল্লাহর নবী [সাঃআঃ] কি এ কথা বলেননি যে, দাজ্জাল ইয়াহুদী হইবে? কিন্তু আমি তো মুসলিম। তিনি বলেছেনঃ দাজ্জালের কোন সন্তান হইবে না অথচ আমার তো সন্তানাদি রয়েছে। তিনি তো এ-ও বলেছেন যে, আল্লাহ তালা দাজ্জালের উপর মক্কা প্রবেশ নিষিদ্ধ করিয়াছেন। অথচ আমি হাজ্জও করেছি।

আবু সাঈদ [রাদি.] বলেন, সে অনর্গল এমনভাবে বলে যেতে লাগল, যার ফলে আমি তাকে সত্যবাদী মনে করার কাছাকাছি পৌছে গেলাম। অতঃপর সে বলিল, আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমি জানি, দাজ্জালের অবস্থান সম্পর্কে। আমি তার পিতামাতাকেও চিনি। লোকেরা ইবনি সাইয়্যাদ কে জিজ্ঞাসা করিল, তুমি যদি দাজ্জাল হও, তাতে কি তুমি আনন্দিত হইবে? উত্তরে সে বলিল, যদি আমাকে দাজ্জালরূপে সাব্যস্ত করা হয়, তবে আমি তাতে নারায হব না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৩৯]

৭২৪০. আবু সাঈদ আল খুদ্‌রী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একবার আমরা হাজ্জ বা উমরার উদ্দেশে রওয়ানা হলাম। আমাদের সঙ্গে ইবনি সায়িদ ছিল। তারপর কোন এক মঞ্জিলে আমরা অবতরণ করলাম। লোকেরা এদিক-সেদিক ছড়িয়ে পড়ল। কেবল আমি এবং সে থেকে গেলাম। লোকেরা ইবনি সাইয়্যাদ-এর ব্যপারে যে কথা কথোপকথন করছে, এ কারণে আমি তার প্রতি অত্যধিক ভীত ও ঘাবড়িয়ে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, ইবনি সাইয়্যাদ তার দ্রব্য-সামগ্রী আমার সাথে এনে রাখল। আমি বললাম, গরম খুব বেশী মনে হচ্ছে। তুমি যদি তোমার দ্রব্য-সামগ্রী ঐ গাছের নীচে রাখতে তবে ভালো হতো। এ কথা শুনে সে তা-ই করিল। তারপর আমাদের জন্য কতগুলো বকরী নিয়ে আসা হলো। এ দেখে ইবনি সাইয়্যাদ সেখানে গেল এবং এক পাত্র দুধ নিয়ে এলো। এরপর সে আমাকে বলিল, হে আবু সাঈদ। তুমি দুধ পান করে নাও। আমি বললাম, গরম খুব বেশী। দুধও গরম। আবু সাঈদ আল খুদ্‌রী [রাদি.] বলেন, তার হাতে দুধ পান করা বা তার হাত হইতে দুধ গ্রহণ করা আমি পছন্দ করিনি। এ দেখে ইবনূ সাইয়্যাদ বলিল, হে আবু সাঈদ! লোকেরা আমার ব্যাপারে যে সব কথাবার্তা বলছে, এখন আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি একটি রশি নিয়ে সেটা গাছে লটকিয়ে ফাঁসি দিয়ে মরে যাই এবং তাত্থেকে পরিত্রাণ লাভ করি। তারপর সে বলিল, হে আবু সাঈদ! তোমাদের আনসার সম্প্রদায়ের চেয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হাদীস আর কারো কাছে অজানা নেই? তুমি কি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর হাদীস সম্বন্ধে সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত নও? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি বলেননি যে, সে ব্যক্তি [দাজ্জাল] কাফির হইবে? অথচ আমি মুসলিম। তিনি কি বলেননি যে , দাজ্জাল নিঃসন্তান? আর তার কোন সন্তান হইবে না? অথচ মাদীনায় আমি আমার সন্তান রেখে এসেছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি বলেননি যে, দাজ্জাল মক্কা-মাদীনাহ্‌ প্রবেশ করিতে পারবে না? অথচ আমি মাদীনাহ্‌ থেকে এসেছি এবং মক্কা যাবার ইচ্ছা করছি।

আবু সাঈদ আল খুদ্‌রী [রাদি.]বলেন, তার কথায় আমি তাকে বিশ্বাস করার কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিলাম। অতঃপর ইবনূ সাইয়্যাদ বললঃ আল্লাহর শপথ! আমি তাকে [দাজ্জালকে] চিনি, তার জন্মস্থান চিনি এবং এখন সে কোথায় অবস্থান করছে, তাও আমি জানি।

এ কথা শুনে আমি বললাম, তোমার সারাটা দিন ধ্বংস হোক, অকল্যাণকর হোক।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৪০]

৭২৪১. আবু সাঈদ[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইবনি সায়িদকে প্রশ্ন করিয়াছেন, জান্নাতের মাটি কিরূপ হইবে? সে বলিল, হে আবুল কাসিম! জান্নাতের মাটি ময়দার মতো সাদা এবং খাঁটি মিশ্‌কের ন্যায় সুগন্ধিযুক্ত হইবে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হ্যাঁ, তুমি সত্য বলেছ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৪১]

৭২৪২. আবু সাঈদ আল খুদ্‌রী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু বাক্‌র ইবনি আবু শাইবাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]… আবু সাঈদ আল খুদ্‌রী [রাদি.] হইতে বর্ণীত। তিনি বলেন, জান্নাতের মাটি কেমন হইবে– এ সম্বন্ধে ইবনি সাইয়্যাদকে নবী [সাঃআঃ] প্রশ্ন করলে সে বলিল, জান্নাতের মাটি ময়দার ন্যায় শুভ্র এবং খাঁটি মিশ্‌কের ন্যায় সুগন্ধিযুক্ত হইবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৪২]

৭২৪৩. মুহাম্মাদ ইবনিল মুনকাদির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনি আবদুল্লাহকে আল্লাহর নামে কসম করে এ কথা বলিতে শুনেছি যে, ইবনি সাইয়্যাদই হলো প্রকৃতপক্ষে দাজ্জাল। আমি বললাম, আপনি আল্লাহর নামে কসম করে এ কথা বলছেন? তিনি বলিলেন,আমি উমর [রাদি.]-কে নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এ সম্পর্কে কসম খেতে শুনেছি। অথচ নবী [সা] তার এ কথাকে অগ্রাহ্য করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৪৩]

৭২৪৪ আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদিন উমর ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] একদল মানুষসহ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর সঙ্গে ইবনি সাইয়্যাদের কাছে গেলেন। তাকে বানী মাগালার কিল্লার কাছে একদল বালকের সাথে ক্রিড়ারত অবস্থায় পেলেন। তখন ইবনি সাইয়্যাদ বয়োঃপ্রাপ্ত হবার কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিল। সে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর আগমন টের পাওয়ার আগেই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিজ হাত দ্বারা তার পিঠে আঘাত করে বলিলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রসূল? এ কথা শুনে ইবনি সাইয়্যাদ তাহাঁর প্রতি তাকাল এবং বলিল যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের [নিরক্ষরদের] রসূল। অতঃপর ইবনি সাইয়্যাদ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করিল যে, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রসূল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার কোন প্রত্যুত্তর দেননি। অধিকন্ত তিনি বললেনঃ আমি ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি ও তাহাঁর রসূলদের প্রতি। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বললেনঃ তুমি কি দেখিতে পাচ্ছ? ইবনি সাইয়্যাদ বলিল, আমার নিকট একজন সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদী লোক আসে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বলিলেন, তোমার বিষয়টি এলোমেলো হয়ে গেছে। তোমাকে জিজ্ঞেস করার জন্য একটি কথা আমি মনে মনে লুক্কায়িত রেখেছি। শুনামাত্রই ইবনি সাইয়্যাদ বলিল, তা হচ্ছে [আরবি] [ধুয়া]। তৎপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ দূর হয়ে যা। তুই তোর সীমানা অতিক্রম করিতে পারবি না। তারপর উমর ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ছেড়ে দিন। আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রসূলুল্লাহ [সা] বললেনঃ যদি সে প্রকৃতপক্ষেই দাজ্জাল হয়, তবে তো তাকে হত্যা করিতে পারবে না। আর যদি সে দাজ্জাল না হয় তবে তাকে হত্যা করাতে কোন কল্যাণ নেই।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- নেই, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৪৪]

৭২৪৫. সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.]- কে বলিতে শুনেছি, অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এবং উবাই ইবনি কাব আনসারী [রাদি.] সে বাগিচার দিকে চললেন, যেখানে ইবনি সাইয়্যাদ বসবাস করত। বাগিচার মধ্যে এসে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গাছের আড়ালে লুকাতে চেষ্টা করছিলেন, যাতে ইবনি সাইয়্যাদ তাঁকে দেখার আগেই তিনি তার কথা শুনে নেন। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে দেখলেন যে, সে তার বিছানায় একটি মখমলের চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে এবং তার গুনগুন আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। এদিকে ইবনি সাইয়্যাদের মা রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ]-কে দেখল যে, তিনি গাছের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করছেন। সে হঠাৎ ইবনি সাইয়্যাদকে বলে উঠল, হে সাফ! এটা ইবনি সাইয়্যাদ-এর নাম। মুহাম্মাদ এসে গেছে। এ কথা শুনতেই ইবনি সাইয়্যাদ বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে গেল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তার মা তাকে সতর্ক না করলে সে রহস্য উদঘাটিত হতো।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৯০, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৪৪]

৭২৪৬. সালিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাযি:] বলেছেন, এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুসলিমদের উদ্দেশে একটি বক্তৃতা দিলেন। তাতে তিনি আল্লাহ তাআলার যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণগান করে দাজ্জালের কথা বর্ণনা করে বললেনঃ আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনার ব্যাপারে সাবধান করছি, যেমন প্রত্যেক নবী তাহাঁর সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে সাবধান করিয়াছেন, এমনকি নূহ [আঃ]-ও তাহাঁর সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে সাবধান করিয়াছেন। তবে এ সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে এমন একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলে দিচ্ছি, যা কোন নবী তাহাঁর সম্প্রদায়কে বলেননি। তা হলো এই যে, তোমরা জেনে রাখো, দাজ্জাল কানা হইবে। আল্লাহ তাআলা কানা নন।

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমাকে উমর ইবনি সাবিত আল আনসারী জানিয়েছেন, জনৈক সহাবা আমাকে অবহিত করিয়াছেন যেদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লোকেদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সাবধান করিয়াছেন সেদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ কথা বলেছেন, তার চক্ষুদ্বয়ের মধ্যস্থলে কাফির লেখা থাকিবে। যে ব্যক্তি তার কার্যক্রম পছন্দ করিবে না সে তা পাঠ করিতে পারবে কিংবা প্রত্যক মুমিন মাত্রই তা পাঠ করিতে সক্ষম হইবে। তিনি এ-ও বলেছেন যে, তোমরা জেনে রাখো যে, তোমাদের কোন লোক মৃত্যুর আগে তার রবকে কক্ষনো দেখিতে পারবে না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৯০, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৪৪]

৭২৪৭. সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রাযি:] হইতে বর্ণীতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাযি:] বলেছেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদল সহাবার সাথে রওনা হলেন। তাঁদের মধ্যে উমর ইবনিল খাত্তাব [রাযি:]-ও ছিলেন। ইবনি সাইয়্যাদ বয়োঃপ্রাপ্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌছেছে। তিনি তাকে বানী মুআবিয়্যার কিল্লার কাছে অন্যান্য বালকদের সঙ্গে খেলাধুলা অবস্থায় দেখিতে পেলেন। অতঃপর তিনি উমর ইবনি সাবিত-এর হাদীসের শেষ পর্যন্ত ইউনুস-এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে ইয়াকূব-এর এ হাদীসের মধ্যে এ কথা বর্ধিত বর্ণিত রয়েছে যে, আমার পিতা [আরবী] এর ব্যাখ্যায় বলেছেন আরবী অর্থাৎ তার মা যদি তাকে ঐ অবস্থায় ছেড়ে দিতো তবে তার ব্যাপারটি উম্মোচন হয়ে যেত।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৯১, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৪৫]

৭২৪৮. ইবনি উমর [রাযি:] হইতে বর্ণীতঃ

একদা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদল সহাবাদের নিয়ে ইবনি সাইয়্যাদ-এর কাছে গেলেন। এদের মাঝে উমর ইবনিল খাত্তাব [রাযি:]-ও ছিলেন। এমন সময় সে বানী মাগালার দুর্গের পাশে একদল বালকের সঙ্গে ক্রীড়ারত অবস্থায় ছিল। তখন সে বালক ছিল। বর্ণনাকারী এ হাদীসটি ইউনুস এবং মালিক এর অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন। তবে আব্দ ইবনি হুমায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইবনি উমর–এর হাদীস তথা উবাই ইবনি কাবের সঙ্গে নবী [সাঃআঃ]-এর বাগানের দিকে রওয়ানার হাদীসটি উল্লেখ করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৯২, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৪৬]

৭২৪৯. নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাদীনার কোন এক রাস্তায় ইবনি উমর [রাযি:] ইবনি সাইয়্যাদ-এর সাথে দেখা হলে তিনি তাকে এমন কতিপয় কথা বলেন, যার ফলে সে ক্রোধান্বিত হয়ে গেল। সে ক্রোধে এমন ফুলল যে, সমস্ত রাস্তা জুড়ে ফেলল। অতঃপর ইবনি উমর [রাযি:] হাফসাহ্ [রাযি:]-এর কাছে গেলেন। তিনি আগেই এ ঘটনার ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত ছিলেন। তিনি বলিলেন, আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি ইবনি সাইয়্যাদ সম্পর্কে কি ইচ্ছা পোষণ করছেন? আপনি কি জানেন না যে, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দাজ্জাল সর্বপ্রথম ক্রোধের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৯৩, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৪৭]

৭২৫০ নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি উমর [রাযি:] বলেন, ইবনি সাইয়্যাদ-এর সঙ্গে আমার দুবার দেখা হয়েছে। একবার দেখার পর আমি জনৈক লোককে প্রশ্ন করলাম, আপনি বলেন যে, ইবনি সাইয়্যাদই দাজ্জাল? উত্তরে সে বলিল, আল্লাহর শপথ, কখনো না। আমি বললাম, তাহলে তো তুমি আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছো। আল্লাহর শপথ! তোমাদের এক লোক তো আমাকে এ মর্মে খবর দিয়েছে যে, সে মৃত্যুবরণ করিবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের চাইতে সর্বাধিক বিত্তশালী এবং সন্তান-সন্ততি সম্পন্ন না হইবে। আজ তো অনুরুপই হয়েছে বলে সে মন্তব্য করছে। তারপর ইবনি সাইয়্যাদ আমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করিল। এরপর আমি তার থেকে সরে পড়লাম। ইবনি সাইয়্যাদ-এর সাথে আরেকবার আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তখন তার চোখ ফোলা অবস্থায় ছিল। আমি তাকে বললাম, তোমার চোখের এ কি অবস্থা, আমি কি দেখিতে পাচ্ছি? সে বলিল, আমি জানি না। আমি বললাম, তোমার মাথায় চোখ অথচ তুমি জান না! তারপর সে বলিল, আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমার এ লাঠিতেও তিনি চোখ সৃষ্টি করে দিতে পারেন। এরপর সে গাধার চেয়েও বিকট শব্দে চিৎকার করিল যা আমি ইতোপূর্বে শুনিনি। আমার কোন সাথী ধারণা করছে যে, আমি তাকে আমার সাথে থাকা লাঠি দ্বারা সজোরে আঘাত করেছি যাতে লাঠি ভেঙ্গে গেছে। আল্লাহর শপথ, অথচ এ সম্পর্কে আমি একেবারে অজ্ঞাত ছিলাম।

নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, তারপর আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাযি:] উম্মুল মুমিনীন হাফসাহ্ [রাযি:]-এর নিকট এলেন এবং তার কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করিলেন। এ কথা শুনে তিনি বলিলেন, ইবনি সাইয়্যাদ–এর নিকট আপনার কি প্রয়োজন ছিল? আপনি কি জানেন না যে, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কারো প্রতি ভীষণ রাগই সর্বপ্রথম দাজ্জালকে মানুষের সম্মুখে প্রকাশ ঘটবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ৭১৪৮]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply