সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত

সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত

সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত  >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ২২২: সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন খাদ্য দ্বারা ইফতার করিবে ও তার পরের দো‘আ

1/1241 عَن سَهلِ بنِ سَعدٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الفِطْرَ». متفقٌ عَلَيْهِ

১/১২৪১। সাহাল ইবনি সায়াদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসূল সাঃআঃ বলেছেন, “যতদিন পর্যন্ত মুসলমানেরা শীঘ্র ইফতার করিবে ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকিবে।” [বুখারী ও মুসলিম][1]

2/1242 وَعَنْ أَبي عطِيَّةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَ قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ عَلَى عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، فَقَالَ لَهَا مَسْرُوق: رَجُلاَنِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ، كِلاَهُمَا لاَ يَألُو عَنِ الخَيْرِ ؛ أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ المَغْرِبَ وَالإِفْطَارَ، وَالآخَرُ يُؤَخِّرُ المَغْرِبَ وَالإِفْطَارَ ؟ فَقَالَتْ: مَنْ يُعَجِّلُ المَغْرِبَ وَالإِفْطَارَ ؟ قَالَ: عَبْدُ اللهِ – يعني: ابن مسعود – فَقَالَتْ: هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم  يَصْنَعُ . رواه مسلم

২/১২৪২। আবূ আত্বিয়্যাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক হাদিসের রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট উপস্থিত হলাম। মাসরুক তাঁকে বলিলেন, ‘মুহাম্মদ সাঃআঃ-এর সহচরদের মধ্যে দু’জন সহচর কল্যাণের ব্যাপারে আদৌ ত্রুটি করেন না। তাঁদের একজন মাগরিব ও ইফতার সত্বর সম্পাদন করেন এবং অপরজন মাগরিব ও ইফতার দেরীতে সম্পাদন করেন।’ এ কথা শুনে হাদিসের রাদিয়াল্লাহু আনহা  জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘কে মাগরিব ও ইফতার সত্বর করেন?’ তিনি বলিলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনি মাসঊদ রাঃআঃ।’ তিনি বলিলেন, ‘আল্লাহর রসূল সাঃআঃ এরূপই করিতেন।’ [মুসলিম][2]

3/1243 وَعَنْ أَبي هُريرَةَ رضي الله عنهقالَ: قالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قال اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: { أَحَبُّ عِبَادِي إِليَّ أَعْجَلُهُمْ فِطْراً } رواه الترمذي وقالَ: حَديثٌ حسنٌ .

৩/১২৪৩। আবূ হুরায়রাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন: সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে যারা দ্রুত ইফতার করে তারাই আমার নিকট বেশি পছন্দনীয়। হাদিসটি দুর্বল [তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন][3]

4/1244 وَعَنْ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم:  «إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ مِنْ هَاهُنَا، وَأَدْبَرَ النَّهَارُ مِنْ هَاهُنَا، وَغَرَبَتِ الشَّمْسُ، فَقَدْ أَفْطَر الصَّائِمُ». متفقٌ عَلَيْهِ

৪/১২৪৪। উমার ইবনি খাত্তাব রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যখন রাত্রি এ [পূর্ব] দিক থেকে আগমন করিবে এবং দিন এ [পশ্চিম] দিক থেকে প্রস্থান করিবে এবং সূর্য ডুবে যাবে, তখন অবশ্যই রোজাদার ইফতার করিবে।” [বুখারী ও মুসলিম][4] 

5/1245 وَعَنْ أَبي إِبرَاهِيمَ عَبدِ اللهِ بنِ أَبي أَوفَى رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ صَائِمٌ، فَلَمَّا غَرَبَتِ الشَّمْسُ، قَالَ لِبَعْضِ القَوْمِ: «يَا فُلاَنُ انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا»، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، لَوْ أَمْسَيْتَ ؟ قَالَ: «انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا»  قَالَ: إِنَّ عَلَيْكَ نَهَاراً، قَالَ: «انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا»  قَالَ: فَنَزَلَ فَجَدَحَ لَهُمْ فَشَرِبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ قَالَ:«إِذَا رَأَيْتُمُ اللَّيْلَ قَدْ أَقْبَلَ مِنْ هَاهُنَا، فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ»  وَأشَارَ بِيَدِهِ قِبَلَ المَشْرِقِ . متفقٌ عَلَيْهِ

৫/১২৪৫। আবূ ইব্রাহীম আব্দুল্লাহ ইবনি আবূ আওফা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, [একবার] আমরা রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর সাহচর্যে পথ চলছিলাম, তখন তিনি রোজাদার ছিলেন। অতঃপর যখন সূর্য অস্ত গেল, তখন তিনি সফররত সঙ্গীদের একজনকে বলিলেন, “হে অমুক! বাহন থেকে নেমে আমাদের জন্য ছাতু ঘুলে দাও।” সে বলিল, ‘হে আল্লাহর রসূল! যদি আর একটু সন্ধ্যা করিতেন [তাহলে ভাল হত।]’ তিনি বলিলেন, “তুমি বাহন থেকে নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু ঘুলে দাও।” সে বলিল, ‘এখনো দিন হয়ে আছে।’ তিনি আবার বলিলেন, “তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু ঘুলে দাও।” বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং সে নেমে তাঁদের জন্য ছাতু ঘুলে দিল। রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ পান করিলেন এবং বলিলেন, “যখন তোমরা প্রত্যক্ষ করিবে যে, রাত্রি এ [পূর্ব] দিক থেকে এসে পড়েছে, তখন অবশ্যই রোজাদার ইফতার করিবে।” আর সেই সাথে তিনি পূর্বদিকে ইঙ্গিত করিলেন। [বুখারী ও মুসলিম][5]

6/1246 وَعَنْ سَلْمَانَ بنِ عَامِرِ الضَّبِّيِّ الصَّحَابيِّرضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ، فَلْيُفْطِرْ عَلىٰ تَمْرٍ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ، فَلْيُفْطِرْ عَلىٰ مَاءٍ فَإِنَّهُ طَهُوْرٌ» .

৬/১২৪৬। সালমান ইবনু আমির আয-যাববী রাঃআঃ বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন: তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যখন ইফতার করে তখন তার উচিত খুরমা-খেজুর দিয়ে ইফতার করা। তবে সে যদি খুরমা-খেজুর না পায় তাহলে পানি দিয়ে যেন ইফতার করে, কেননা পানি হচ্ছে পাক-পবিত্র। [তিরমিযি] হাদিসটি দুর্বল। দেখুন: দয়ীফ আবূ দাউদ, তিরমিযী]

7/1247 وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُفْطِرُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّي عَلَى رُطَبَاتٍ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ رُطَبَاتٌ فَتُمَيْرَاتٌ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تُمَيْرَاتٌ حَسَا حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال:حديث حسن

৭/১২৪৭। আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ নামায পড়ার আগে কতিপয় টাটকা পাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করিতেন। যদি টাটকা পাকা খেজুর না পেতেন, তাহলে শুকনো কয়েকটি খেজুর যোগে ইফতার করিতেন। যদি শুকনো খেজুরও না হত, তাহলে কয়েক ঢোক পানি পান করিতেন।’ [আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান][6]

ইমাম নাওয়াবী শিরোনামায় দুর কথা উল্লেখ করিয়াছেন, কিন্তু তার হাদিসটি উল্লেখ করেননি। হাদিসটি নিম্নরূপ:-

عَنِ ابنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَفْطَرَ قَال: «ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ». رواه أبو داود

ইবনি উমার রাঃআঃ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাঃআঃ যখন ইফতার করিতেন, তখন এই দো‘আ বলিতেন,

“যাহাবায যামা-উ অবতাল্লাতিল উরুক্বু অষাবাতাল আজরু ইন শা-আল্লাহ।”

অর্থাৎ পিপাসা দূরীভূত হল, শিরা-উপশিরা সতেজ হল এবং ইন শাআল্লাহ সওয়াব সাব্যস্ত হল। [আবূ দাউদ]


[1] সহীহুল বুখারী ১৯৫৭, ১০৯৮, তিরমিযী ৬৯৯, ইবনু মাজাহ ১৬৯৭, আহমাদ ২২২৯৮, ২২৩২১, ২২৩৩৯, ২২৩৫২, ২২৩৬৩, মুওয়াত্তা মালিক ৬৩৮, দারেমী ১৬৯৯

[2] মুসলিম ১০৯৯, তিরমিযী ৭০২, নাসায়ী ২১৫৮, ২১৫৯-২১৬১, আবূ দাউদ ২৩৫৪, আহমাদ ২৩৬৯২, ২৪৮৭১

[3] আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাসান আখ্যা দেয়ার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ এ সনদটির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে কুর্রা ইবনু আব্দির রহমান। আর তিনি হচ্ছেন দুর্বল তার মন্দ হেফযের কারণে। তার সম্পর্কে আমি “ইরওয়াউল গালীল” গ্রন্থে দ্বিতীয় নম্বর হাদীসে আলেমদের উক্তিগুলো উল্লেখপূর্বক বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ইবনু মা‘ঈন বলেনঃ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল। আবূ যুর‘য়াহ্ বলেনঃ তিনি যেসব হাদীস বর্ণনা করেছেন সেগুলো মুনকার। আবূ হাতিম ও নাসাঈ বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন।

[4] সহীহুল বুখারী ১৯৫৪, মুসলিম ১১০০, তিরমিযী ৬৯৮, আবূ দাউদ ২৩৫১, আহমাদ ১৯৩, ২২২, ৩৪০, ৩৮৫, দারেমী ১৭০০

[5] সহীহুল বুখারী ১৯৪১, ১৯৫৫, ১৯৫৬, ১৯৫৮, ৫২৯৮, মুসলিম ১১০১, আবূ দাউদ ২৩৫২, আহমাদ ১৮৯০৫, ১৮৯২১

[6] আবূ দাউদ ২৩৫৬, তিরমিযী ৬৯৪, আহমাদ ১২২৬৫

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply