নতুন লেখা

স্বামী ও স্ত্রি মারা গেলে শোক বা ইদ্দত পালনের সঠিক নিয়ম

স্বামী ও স্ত্রি মারা গেলে শোক বা ইদ্দত পালনের সঠিক নিয়ম

স্বামী ও স্ত্রি মারা গেলে শোক বা ইদ্দত পালনের সঠিক নিয়ম >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ২৭,তালাক, হাদিস (৩৫০০-৩৫৬০)

পরিচ্ছেদঃ স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর ইদ্দত
পরিচ্ছেদঃ গর্ভবতী মহিলার স্বামী মারা গেলে তার ইদ্দত
পরিচ্ছেদঃ যে মহিলার স্বামী তার সাথে সহবাসের পূর্বে মারা যায়, তার ইদ্দত
পরিচ্ছেদঃ শোক পালন
পরিচ্ছেদঃ যে আহলে কিতার মহিলার স্বামী মারা গেল, তার শোক মওকূফ হওয়া প্রসংগ
পরিচ্ছেদঃ যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা গেছে, তার হালাল [ইদ্দত শেষ] না হওয়া পর্যন্ত নিজ ঘরে অবস্থান করা
পরিচ্ছেদঃ যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা যায়, সে যেখানে চায়, সেখানে ইদ্দত পালনের অনুমতি
পরিচ্ছেদঃ যাহার স্বামী মারা গিয়েছে সে স্বামীর মৃত্যু সংবাদ প্রাপ্তির দিন হইতে ইদ্দত পালন করিবে
পরিচ্ছেদঃ মুসলমান নারীর স্বামীর শোকপালনে সাজসজ্জা ত্যাগ করা, [ইয়াহুদী-খিস্টানের জন্য নয়]
পরিচ্ছেদঃ শোক পালনকারিণীর রঙ্গিন কাপড় পরিহার করা
পরিচ্ছেদঃ শোক পালনকারিণীর খিযাব ব্যবহার
পরিচ্ছেদঃ শোক পালনকারিণীর জন্য কুলপাতার পানিতে মাথা ধোয়ার অনুমতি
পরিচ্ছেদঃ শোক পালনকারিণীর জন্য সুরমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা
পরিচ্ছেদঃ শোক পালনকারিণীর কুস্‌ত এবং আয্‌ফার ব্যবহার করা
পরিচ্ছেদঃ মীরাছ ফরয হওয়ার কারণে এক বছরের খরচ রহিত
পরিচ্ছেদঃ চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্তা নারীর জন্য ইদ্দতের সময় তার বসত ঘর থেকে বের হওয়ার অনুমতি
পরিচ্ছেদঃ যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা গেছে, দিনের বেলায় তার বের হওয়া
পরিচ্ছেদঃ বাইন তালাকপ্রাপ্তার খোরপোষ
পরিচ্ছেদঃ বাইন তালাকপ্রাপ্তার খোরপোষ
পরিচ্ছেদঃ আক্‌রা১ এর ব্যাখ্যা
পরিচ্ছেদঃ তিন তালাকের পর ফিরিয়ে নেয়ার [রুজ্জু করার] বিধান রহিত হওয়া সম্পর্কে
পরিচ্ছেদঃ রজআত করা
পরিচ্ছেদঃ তালাক

পরিচ্ছেদঃ স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর ইদ্দত

৩৫০০. উম্মু হাবীবা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রসুলুল্লাহ [সাঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ যে স্ত্রীলোক আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাস করে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা তাহাঁর জন্য বৈধ নয়, স্বামী ব্যতীত। [কেননা স্বামীর জন্য] চার মাস দশদিন[শোক পালন করিতে হইবে]।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫০১. হামিদ ইবনি নাফি যয়নব বিন্‌ত উম্মু সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি বললামঃ যয়নব তাহাঁর মাতা উম্মু সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, রসুলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট কেউ এমন এক স্ত্রীলোক সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলো, যাহার স্বামী মারা গেছেন। তারা তাহাঁর চোখের ব্যাপারে শংকিত হইয়া পড়েছিলেন। সে কি সুরমা ব্যবহার করিবে? তিনি বললেনঃ এর আগে জাহিলী যুগে তোমাদের প্রত্যেক স্ত্রীলোক নিজেদের ঘরে বসে থাকতো মোটা ও নিকৃষ্ট বস্ত্র পরিধান করে [যা উটের হাওদার নীচে দেয়া হতো]। [আর সে এই কষ্টের মধ্যে] পূর্ণ এক বছর কাটিয়ে দিত। এরপর বের হত। এখন কি তোমাদের উপর চার মাস দশদিন পালন করা সহনীয় নও [অধিক কঠিন মনে হয়] ?

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫০২. উম্মু হাবীবা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

এক মহিলা নাবী [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হইয়া বললেনঃ আমার কন্যার স্বামী ইন্‌তিকাল করেছে। আর আমি চোখের ব্যাপারে [খারাপ না হইয়া যায়] আমি কি তাহাঁর চোখে সুরমা লাগাতে পারি? রসুলুল্লাহ [সাঃ] বললেনঃ পূর্বে তো প্রত্যেক নারী এক বছর পর্যন্ত বসে থাকতো, আর এই সময় তো [কোন অধিক সময় নয়, মাত্র] চার মাস দশদিন। আর যখন এক বছর পূর্ণ হতো ? তখন ঐ মহিলা বের হইয়া নিজের পেছনের দিকে উটের গোবর ছিটাতো।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫০৩. উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা এবং কিয়ামতে বিশ্বাস স্থাপনকারী কোন নারীর জন্য স্বামী ব্যতীত কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশদিন শোক করিবে।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫০৪. সাফিয়্যা বিন্‌ত আবু উবায়দ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ যে নারী আল্লাহ এবং কিয়ামতে বিশ্বাস করে তার জন্য কোন মৃতের উপর তিন দিনের অধিক শোক বৈধ নয়, স্বামী ব্যতীত। কেননা স্বামীর জন্য সে চার মাস দশদিন শোক পালন করিবে।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫০৫. উম্মে সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ [সাঃ] হইতে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ গর্ভবতী মহিলার স্বামী মারা গেলে তার ইদ্দত

৩৫০৬. মিস্ওয়ার ইব্ন মাখ্রামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

যখন সুবায়আ আসলামী তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েকদিন পরেই সন্তান প্রসব করলো। তখন সে রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হইয়া বিবাহ করার অনুমতি প্রার্থনা করলো। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। পরে সে বিবাহে আবদ্ধ হলো।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫০৭. মিস্ওয়ার ইব্ন মাখরামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃ] সুবায়আ [রাঃআঃ]-কে বিয়ে করার অনুমতি দান করেন যখন সে নিফাস হইতে পাক হইবে।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫০৮. আবু সানাবিল [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ সুবায়আ [রাঃআঃ]-এর স্বামীর মৃত্যুর তেইশ অথবা পঁচিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি সন্তান প্রসব করিলেন। যখন তাঁন নিফাসের সময় অতিবাহিত হলো, তখন তিনি অন্য স্বামী গ্রহন করার প্রস্তুতি গ্রহন করিতে লাগলেন। ফলে লোকেরা সমালোচনা করলো। রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট এর উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ এখন তার বিয়ে করিতে বাধা কোথায়? কারণ তার ইদ্দত পূর্ণ হইয়াছে।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫০৯. আবদু রাব্বিহী ইব্ন সাঈদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি আবু সালামা [রাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ আবু হুরাইরা এবং ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] ঐ স্ত্রীলোকের ব্যাপারে মতবিরোধ করিলেন যাহার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে। তার স্বামীর মৃত্যুর [কিছুদিন] পর সে সন্তান প্রসব করে। আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] বললেনঃ [সেই মহিলা প্রসব করার পর] বিবাহ করিতে পারবে। আর ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] বললেনঃ দুই সময়ের মধ্যে যেটা দীর্ঘ হইবে তা পালন করিবে।১ পরে তারা উম্মু সালামা [রাঃআঃ]-এর নিকট লোক পাঠালে তিনি বললেনঃ সুবায়আ [রাঃআঃ]-এর স্বামী মারা যাওয়ার পনের দিন [অর্ধমাস] পর সে সন্তান প্রসব করে। এরপর দুই ব্যক্তি তার কাছে বিবাহের প্রস্তাব করলে সে একজনের দিকে আকৃষ্ট হল। তার পরিবারের লোকেরা আশংকা করলো যে, হয়তো সে একচ্ছত্র রূপে [বিয়ের] সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে। তারা তাকে বললেনঃ এখনও তো তোমার ইদ্দতও পূর্ণ হয়নি। সুবায়আ [রাঃআঃ] বলেনঃ এরপর আমি রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তুমি বৈধ হইয়া গেছ, কাজেই এখন যাকে ইচ্ছা বিবাহ করিতে পার।

{১} অর্থাৎ স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তান প্রসব করা অথবা চার মাস দশ দিন অতিবাহিত হওয়া- দুয়ের মধ্যে যেটি শেষে হইবে সেটি তার ইদ্দত।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫১০. আবু সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ কেউ আবু হুরাইরা ও ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ]-এর নিকট ঐ মহিলার ব্যাপারে প্রশ্ন করলো, যাহার স্বামী মারা যায় এবং সে তখন গর্ভবতী ছিল। ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] বললেনঃ সে তার দুটি ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘ হয়, সে তা গ্রহন করিবে। আর আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] বললেনঃ যখনই সে প্রসব করেছে তখনই সে হালাল [তার ইদ্দত পূর্ণ] হইয়া গেছে। আবু সালমা [রাঃআঃ] [এই মতবিরোধ শ্রবণ করে] উম্মু সালমা [রাঃআঃ]-এর নিকট গমন করিলেন এবং তার নিকট এই মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি [উম্মে সালমা [রাঃআঃ]] বললেনঃ সুবায়আর স্বামীর মৃত্যুর পর অর্ধ মাস অতীত হলে সে সন্তান প্রসব করিল। এরপর দুই ব্যক্তি তার নিকট বিবাহের পরগাম পাঠায়, তাহাদের একজন ছিল যুবক, আর দ্বিতীয় জন ছিল আধা বয়সী [প্রৌঢ়]। সে যুবকের দিকে আকৃষ্ট হল। তখন প্রৌঢ় ব্যক্তি বললোঃ এখন হালাল হও নি। উম্মু সালামা [রাঃআঃ]বলেনঃ তখন সুবায়আ [রাঃআঃ]-এর পরিবারের লো্ক উপস্থিত ছিল না। মধ্য বয়সের লোকটি মনে করলো, যখন তার আত্নী্য-স্বজন আসবে, তখন হয়তো তারা তাকে অগ্রাধিকার দিবে। পরে সে রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তুমি হালাল হইয়া গেছ, এখন তুমি যাকে ইচ্ছা বিয়ে করিতে পার।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫১১. আবু সালামা ইব্ন আবদুর রহমান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ কেউ ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ]-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলো, যদি কোন স্ত্রীলোক তার স্বামীর মৃত্যুবরণ করার বিশ দিনের মধ্যে সন্তান প্রসব করে, তবে কি তার বিবাহ করা সঠিক হইবে? ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] বললেনঃ না। [বিবাহ করা বৈধ হইবে না], যতক্ষন না সে তার দুই ইদ্দতের মধ্যে দীর্ঘ ইদ্দতটি পূর্ণ করে। আবু সালামা [রাঃআঃ] বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তাআলা তো বলেছেনঃ “যারা গর্ভবতী তাহাদের ইদ্দত হলো তাহাদের সন্তান প্রসব করা।” ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] [আবু সালামা [রাঃআঃ]-কে উত্তরে] বলিলেন, এই আদেশ তালাকপ্রাপ্তা নারীর ব্যাপারে। এরপর আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] বললেনঃ আমি আমার ভাইপো আবু সালামার সাথে আছি। [অর্থাৎ যা সে বলছে তা-ই আমার নিকট উত্তম এবং সহীহ্]। এই কথার পর তিনি তার দাস কুরায়বকে উম্মু সালামা [রাঃআঃ]-এর নিকট পাঠালেন। তিনি বলিলেন, তুমি উম্মু সালামা [রা.]-এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা কর যে, এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর কোন সুন্নত [বিধান] আছে কি না। কুরায়ব [রাঃআঃ] [উম্মু সালামা [রাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হইয়া আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] যা বলেছেন ব্যক্ত করলে] উম্মু সালামা [রাঃআঃ] বললেনঃ হ্যাঁ, [রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর সুন্নত এ ব্যাপারে এই যে,] সুবায়আ আসলামী [রা.] তার স্বামীর মৃত্যুর বিশ দিন পর সন্তান প্রসব করলে রসূলুল্লাহ [সাঃ] তাকে বিবাহ করার অনুমতি দেন। আর আবু সানাবিল তার বিবাহের পয়গামদাতাহাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫১২. সুলায়মান ইব্ন ইয়াসার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা, ইব্ন আব্বাস ও আবু সালামা ইব্ন আবদুর রহমান [রাঃআঃ] নিজেদের মধ্যে ঐ মহিলার ইদ্দত সম্বন্ধে আলোচনা করেন, যাহার স্বামী মারা যাওয়ার সময় [অবিলম্বে] সে সন্তান প্রসব করে। ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] বললেনঃ দুটি ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর, সেটি পালন করিবে। আর আবু সালামা [রাঃআঃ] বললেনঃ সেই মহিলা তার সন্তান প্রসব করার সময়ই হালাল হইয়া যাবে এবং আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] বললেনঃ আমি আমার ভ্রাতুষ্পুত্রের সাথে একমত। এরপর তাঁরা রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর স্ত্রী উম্মু সালামা [রাঃআঃ]-এর নিকট এক ব্যক্তিকে পাঠালে তিনি বললেনঃ সুবায়আ আসলামিয়া [রাঃআঃ] তার স্বামীর মৃত্যুর অল্প কদিন পর সন্তান প্রসব করলো। এ ব্যাপারে সুবায়আ রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট এর সমাধান [ফাতাওয়া] চাইলে তিনি তাকে বিবাহের অনুমতি প্রদান করেন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫১৩. উম্মু সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ সুবায়আ তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েকদিন পর সন্তান প্রসব করলো। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃ] তাকে বিবাহ করার অনুমতি প্রদান করেন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫১৪. সুলায়মান ইব্ন ইয়াসার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] এবং আবু সালামা ইব্ন আবদুর রহমান [রাঃআঃ]-এর মধ্যে ঐ মহিলার ইদ্দতের ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা দেয়, যাহার স্বামীর মৃত্যুর কিছু দিন পর সে সন্তান প্রসব করলো। আবদুল্লাহ ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] বললেনঃ দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর হয়, [ঐ মহিলা সেটি পালন করিবে]। আর আবু সালামা [রাঃআঃ] বলেনঃ যখন সে সন্তান প্রসব করলো, তখন সে হালাল হইয়া গেল [তার ইদ্দত পূর্ণ হলো]। এরপর আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] আসলে তিনি বললেনঃ আমি আমার ভাতিজা অর্থাৎ আবু সালামা ইব্ন আবদুর রহমানের পক্ষ অবলম্বন করছি। এরপর তাঁরা ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ]-এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব [রাঃআঃ]-কে উম্মু সালামা [রাঃআঃ]-এর নিকট এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠান। তিনি [এই ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করে] এসে তাহাদেরকে অবহিত করিলেন যে, উম্মু সালামা [রাঃআঃ] বলেছেনঃ সুবায়আ [রাঃআঃ] তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েকদিন পর সন্তান প্রসব করলো। এরপর সে রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট এর উল্লেখ করলে, তিনি বলিলেন, তুমি হালাল হইয়া গেছ, [অর্থাৎ তোমার ইদ্দত পূর্ণ হইয়া গেছে]।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫১৫. আবু সালামা ইব্ন আবদুর রহমান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

[একদা] আমি, ইব্ন আব্বাস এবং আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] একত্রে [বসা] ছিলাম। ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] বললেনঃ যখন কোন স্ত্রীলোক তার স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তান প্রসব করে, তখন ঐ স্ত্রীলোকের ইদ্দত হইবে, দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর সেটি। আবু সালামা [রাঃআঃ] বলেনঃ আমরা কুরায়ব [রাঃআঃ]-কে উম্মু সালামা [রাঃআঃ]-এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালে, [কুরায়ব] তাহাঁর নিকট থেকে [সংবাদ নিয়ে] আসলো যে, সুবায়আ [রাঃআঃ]-এর স্বামীর মৃত্যু হলে তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েকদিন পর সে সন্তান প্রসব করলো। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃ] তাকে বিবাহ করার অনুমতি প্রদান করেন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫১৬. আবু সালামা ইব্ন আবদুর রহমান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

যয়নাব বিন্ত আবু সালামা তাকে অবহিত করিয়াছেন তার মা, নাবী [সাঃ]-এর স্ত্রী উম্মু সালামা [রাঃআঃ] হইতে, যে বনী আসলাম গোত্রের সুবায়আ [রাঃআঃ] [নাম্নী এক মহিলা] তার স্বামীর কাছে বিবাহে ছিল। তাকে গর্ভবতী অবস্থায় রেখে স্বামী মারা যায়। আবু সানাবিল ইব্ন বাকাক [রাঃআঃ] তার বিবাহের পয়গাম দেন, কিন্তু তিনি তাকে বিবাহ করিতে রাযী হলেন না। পরে তিনি বললেনঃ দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর, সেটি পূর্ণ করার পূর্বে তোমার বিয়ে করা ঠিক হইবে না। সে প্রায় বিশদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলো। এরপর যখন সে সন্তান প্রসব করলো, তখন সে রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তুমি এখন বিয়ে করিতে পার।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫১৭. আবু সালামা ইব্ন আবদুর রহমান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

একদিন আমি এবং আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ]-এর নিকট ছিলাম। এমন সময় এক মহিলা এসে তার স্বামীর অবস্থা বলিল যে, তার স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে, তখন সে গর্ভবতী ছিল। [সে বলিল]ঃ স্বামীর মৃত্যুর দিন থেকে চার মাস পূর্ণ না হইতেই সে সন্তান প্রসব করে। ইব্ন আবাস [রাঃআঃ] বললেনঃ যে ইদ্দত দীর্ঘতর হইবে, [তা-ই তোমার ইদ্দত হইবে]। আবু সালামা [রাঃআঃ] বললেনঃ আমাকে রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর এক সাহাবী অবহিত করিয়াছেন যে, সুবায়আ আসলামী [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া [নিজের অবস্থা বর্ননা করিতে গিয়ে] বললো যে, তার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে, তখন সে গর্ভবতী ছিল। এরপর সে সন্তান প্রসব করেছে, তখন চার মাস অতিবাহিত হয়নি। তাকে রসূলুল্লাহ [সাঃ] বিবাহ করার অনুমতি দান করেন। তখন আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] বলিতে লাগলেনঃ আমি এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫১৮. উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন আবদুল্লাহ হইতে বর্ণিতঃ

আপনি গিয়ে সুবায়আ বিন্ত হারিস আসলামী [রাঃআঃ]-কে তার হাদীস [ঘটনা] জিজ্ঞাসা করুন। যখন সে রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট তার অবস্থার সমাধান চেয়েছিল, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃ] তাকে কি বলেছিলেন। তখন উমার ইব্ন আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ ইব্ন উতবাকে লিখলেন যে, সুবায়আ [রাঃআঃ] তাঁকে অবহিত করিয়াছেন, তিনি সাদ ইব্ন খাওলা [রাঃআঃ]-এর বিবাহধীন ছিলেন, আর তিনি সাদ ছিলেন আমির ইব্ন লুআই গোত্রের লোক। আর তিনি বদরী সাহাবী ছিলেন। তিনি যখন বিদায় হজ্জে ইনতিকাল করেন, তখন তিনি [সুবায়আ [রাঃআঃ]] গর্ভবতী ছিলেন। কিন্তু তার স্বামীর মৃত্যুর [কয়েক দিন] পরই তিনি সন্তান প্রসব করেন। যখন সুবায়আ [রাঃআঃ] নিফাস হইতে পাক হন। তখন তিনি বিবাহ প্রস্তাবকারীদের জন্য সাজসজ্জা করিলেন। আবদুদ্দার গোত্রের আবু সানাবিল ইব্ন বাকাক [রাঃআঃ] তাহাঁর নিকট এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাকে সাজসজ্জা করিতে দেখছি কেন? মনে হয় তুমি বিবাহের ইচ্ছা করছো? আল্লাহর শপথ। তোমার জন্য বিবাহ করা ঠিক হইবে না, চার মাস দশদিন অতিবাহিত হওয়ার আগে। সুবায়আ [রাঃআঃ] বলেনঃ যখন সে একথা বললো, তখন আমি সন্ধ্যায় আমার প্রয়োজনীয় পোষাক পড়ে রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে ফাতাওয়া দিয়ে বললেনঃ আমি যখন বাচ্চা প্রসব করেছি, তখনই আমি হালাল হইয়াছি [আমার ইদ্দত পূর্ণ হইয়াছে]। তিনি আমাকে আমার ইচ্ছা হলে বিবাহ করার নির্দেশ দিলেন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫১৯. যুফার ইব্ন আওস ইব্ন হাদাসান নসরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আবু সানাবিল ইব্ন বাকাক ইব্ন সাব্বাক [রাঃআঃ] সুবায়আ আসলামী [রাঃআঃ]-কে বললেনঃ চার মাস দশদিন, যা দুই ইদ্দতের মধ্যে দীর্ঘতর, তা শেষ হওয়ার পূর্বে তুমি হালাল হইবে না [তোমার বিবাহ করা ঠিক হইবে না]। একথা শুনে তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হইয়া তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিলেন। সুবায়আ [রাঃআঃ] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃ] তাঁকে এই সমাধান দিলেন যে, তার সন্তান প্রসব হলে, সে বিয়ে করিতে পারবে। তাহাঁর স্বামীর মৃত্যুর সময় তিনি নয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তিনি সাদ ইব্ন খাওলার বিবাহধীন ছিলেন। তিনি বিদায় হজ্জে রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর সঙ্গে ছিলেন এবং এ সময় তিনি মারা যান। পরে তার সন্তান প্রসব হওয়ার পর নিজের গোত্রের এক যুবককে তিনি বিয়ে করেন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৩৫২০. উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইব্ন উতবা উমার ইব্ন আবদুল্লাহ ইব্ন আরকাম যুহরীকে সুবায়আ [রাঃআঃ]-এর নিকট যাওয়ার জন্য পত্র লিখলেন যে, আপনি গিয়ে সুবায়আ আসলামী বিন্ত হারিস [রাঃআঃ]-কে জিজ্ঞাসা করবেন, তাহাঁর গর্ভ সম্বন্ধে রসূলুল্লাহ [সাঃ] তাঁকে কী সমাধান দিয়েছিলেন? রাবী বলেনঃ উমার ইব্ন আবদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর নিকট গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ আমি সাদ ইব্ন খাওলার স্ত্রী ছিলাম। তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর সাহাবী ছিলেন এবং তিনি বদরীও ছিলেন। তিনি স্ত্রী রেখে বিদায় হজ্জে ইনতিকাল করেন। স্বামীর মৃত্যুর পরে, চার মাস দশদিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই তিনি [সুবায়আ] সন্তান প্রসব করিলেন। রাবী বলেনঃ তার নিফাস হইতে পাক হওয়ার পর বনী আবদুদ্দার গোত্রের আবু সানাবিল নামক এক ব্যক্তি তাহাঁর নিকট উপস্থিত হইয়া দেখলেন যে, তিনি সাজসজ্জা করছেন। তিনি বললেনঃ মনে হয় তুমি বিবাহের ইচ্ছা রাখ, চার মাস দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই। সুবায়আ [রাঃআঃ] বলেনঃ আমি আবু সানাবিলের নিকট এ কথা শোনার পর রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হইয়া তাহাঁর নিকট আমার অবস্থা ব্যক্ত করলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃ] বললেনঃ তুমি তোমার সন্তান প্রসব করার সাথে সাথেই হালাল হইয়া গিয়েছ [তোমার ইদ্দত পূর্ণ করেছ]।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫২১. মুহাম্মাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

আমি কুফায় আনসারীদের এক বড় মজলিসে বসা ছিলাম, সেখানে আবদুর রহমান ইব্ন আবু লায়লাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সুবায়আ [রাঃআঃ]-এর ব্যাপারে আলোচনা করিলেন। আমি আবদুল্লাহ ইব্ন উতবা ইব্ন মাসউদের বর্ণনার উল্লেখ করলাম, যা ইব্ন আওনের কথার অনুরূপ ছিল, অর্থাৎ সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত [তার ইদ্দত ছিল]। ইব্ন আবু লায়লা বললেনঃ কিন্তু তার চাচা আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ [রাঃআঃ]-এর এ কথার সমর্থক ছিলেন না [যে, গর্ভধারিণীর ইদ্দত প্রসব পর্যন্ত, বরং তিনি দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি অধিক তাকেই ইদ্দত মনে করিতেন।] তখন আমি আমার আওয়াজ উঁচু করে বললামঃ আমি কি এরূপ দুঃসাহস করিতে পারি যে, আবদুল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করবো? অথচ তিনি কুফারই এক প্রান্তে থাকেন। এরপর মালিক [রাহঃ]-এর সাথে আমি সাক্ষাত করলাম। আমি তাহাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করলামঃ আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ [রাঃআঃ] সুবায়আ [রাঃআঃ]-এর ব্যাপারে কিরূপ বলিতেন? তিনি বললেনঃ ইব্ন মাসউদ [রাঃআঃ] বলিতেনঃ তোমরা তার উপর কঠোর বিধান আরোপ করছো? আর তোমরা তাকে [সহজ বিধানের] সুবিধা দিতেছ না? অথচ ছোট সূরা নিসা, [এবং সূরা তালাকে গর্ভ প্রসবকে স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত সাব্যস্ত করা হইয়াছে।] [যা হলো সূরা তালাক, তা] বড় সূরা অর্থাৎ সূরা বাকারার পর নাযিল হয়।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫২২. আলকামা ইব্ন কায়স [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

ইব্ন মাসউদ [রাঃআঃ] বলেনঃ যদি কেউ ইচ্ছা করে, আমি তার সাথে এ ব্যাপারে মুবাহালা [মিথ্যাবাদীর প্রতি লানত হওয়ার- করিতে পারি যে, {আর-বী} [অর্থঃ আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত]- এ আয়াতটি যে স্ত্রীর স্বামী মারা গেছে তার ইদ্দত সম্পর্কে। এ আয়াতঃ তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাহাদের স্ত্রীগণ চারমাস দশদিন অপেক্ষায় [ইদ্দতে] থাকিবে- এরপর নাযিল হয়। [সূরা বাকারাঃআঃ ৩৪] যে গর্ভবতী স্ত্রীর স্বামী মারা যায়, তার সন্তান ভূমিষ্ট হলে সে হালাল হইয়া যাবে [তার ইদ্দত শেষ হইয়া যাবে]।

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مِسْكِينِ بْنِ نُمَيْلَةَ يَمَامِيٌّ، قَالَ: أَنْبَأَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ح وأَخْبَرَنِي مَيْمُونُ بْنُ الْعَبَّاسِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الْحَكَمِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ شَبْرَمَةَ الْكُوفِيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ: ” مَنْ شَاءَ لَاعَنْتُهُ مَا أُنْزِلَتْ {وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} [الطلاق: 4] إِلَّا بَعْدَ آيَةِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا، إِذَا وَضَعَتِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا فَقَدْ حَلَّتْ ” وَاللَّفْظُ لِمَيْمُونٍ

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫২৩. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

ছোট সূরা নিসা, অর্থাৎ সূরায়ে তালাক সূরা বাকারার পর নাযিল হয়।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

পরিচ্ছেদঃ যে মহিলার স্বামী তার সাথে সহবাসের পূর্বে মারা যায়, তার ইদ্দত

৩৫২৪. ইব্ন মাসউদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

[একদা] তাহাঁর কাছে কেউ জিজ্ঞাসা করলো যে, এক ব্যক্তি এক নারীকে বিবাহ করলো, আর বিবাহের সময় তার জন্য কোন মোহর নির্ধারণ করলো না, এবং তার সাথে সহবাস করার পূর্বেই সে মারা গেল। ইব্ন মাসউদ [রাঃআঃ] বললেনঃ ঐ মহিলা তার বংশের অন্যান্য মহিলার ন্যায় মোহর [মোহর-মীছাল] পাবে, কমও নয় এবং বেশিও নয়। আর তাকে ইদ্দত পালন করিতে হইবে এবং সে স্বামীর মীরাছের অংশ পাবে। এ কথা শুনে মাকিল ইব্ন সিনান আশ্জাঈ [রাঃআঃ] বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃ] আমাদের সম্প্রদায়ের এক মহিলা [বিরওয়া বিন্ত ওয়াশিক]-এর সম্পর্কে এরূপই ফয়সালা করেছিলেন, যেরূপ আপনি সিদ্ধান্ত দিলেন। একথা শুনে মাসউদ [রাঃআঃ] আনন্দিত হলেন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ শোক পালন

৩৫২৫. আয়েশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃ] বলেছেনঃ নিজের স্বামী ব্যতীত কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক কোন মহিলার জন্য শোক করা বৈধ নয়।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫২৬. আয়েশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃ] বলেছেনঃ যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, তার জন্য তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ হইবে না [অন্য কারো জন্য] নিজের স্বামী ব্যতীত।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ যে আহলে কিতার মহিলার স্বামী মারা গেল, তার শোক মওকূফ হওয়া প্রসংগ

৩৫২৭. উম্মু হাবীবা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-কে এই মিম্বরে বলিতে শুনেছিঃ যে মহিলা আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ নয়। কিন্তু সে তার স্বামীর জন্য – চার মাস দশ দিন [শোক পালন করিবে]।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা গেছে, তার হালাল [ইদ্দত শেষ] না হওয়া পর্যন্ত নিজ ঘরে অবস্থান করা

৩৫২৮. ফারিআ বিন্‌ত মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তার স্বামী তার গোলামদের তালাশে বের হলে, তারা তাকে হত্যা করলো। শুবা এবং ইবনি জুরাইজ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেনঃ তার [মহিলার] ঘর ছিল জনবসতি হইতে দূরে। পরে সে তার ভাইকে সাথে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হল এবং লোকেরা তাহাঁর কাছে অবস্থা বর্ণনা করলো। তিনি তাকে [অন্য ঘরে বাস করার] অনুমতি দিলেন। যখন সে প্রত্যাবর্তন করছিল, তিনি তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি নিজের ঘরেই থাক, যতক্ষণ না [ইদ্দতের] বিধান পূর্ণ হয়।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫২৯. ফুরায়আ বিন্‌ত মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তার স্বামী অনারব গোলামদেরকে তার কাজের শ্রমিকরূপে নিয়োগ করেছিলেন। তারা তাকে হত্যা করলে তিনি এই সংবাদ রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট পৌঁছিয়ে বলিলেন, আমি তার কোন ঘরে অবস্থান করছি না [আমার স্বামীর কোন ঘরও নেই] এবং তিনি খোরপোষের কোন ব্যবস্থাও করে যাননি। আমি, আমার পরিবারের লোকের নিকট গিয়ে আমার ইয়াতীম সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ করিতে পারি? তিনি তাকে বললেনঃ তুমি এরুপ করিতে পার। এরপর তিনি বললেনঃ কী বলেছিলে? তখন সে যা বলেছিল, তা আবার বললো। তিনি বললেনঃ ইদ্দত ঐ স্থানেই পালন কর, যেখানে [তোমার স্বামীর মৃত্যুর] সংবাদ তোমার কাছে পৌঁছেছে।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৩০. ফুরায়আ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তার স্বামী তার গোলামদের তালাশে বের হইয়া কাদুমের প্রান্তে নিহত হলেন। তিনি বলেনঃ আমি নাবী [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত আমার পরিবারের লোকদের নিকট স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করলাম। এবং সে তাহাঁর নিজের কিছু অবস্থা বর্ণনা করিল। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। যখন আমি রওনা হলাম, তখন তিনি আমাকে ডেকে বললেনঃ ইদ্দত পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তোমার স্বামীর ঘরেই থাক।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা যায়, সে যেখানে চায়, সেখানে ইদ্দত পালনের অনুমতি

৩৫৩১. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

[যে আয়াতে বলা হইয়াছে “স্ত্রী তার স্বামীর ঘরে ইদ্দত পূর্ণ করিবে”] এই আয়াত এখন মানসূখ বা রহিত হইয়া গেছে। এখন তার জন্য যেখানে ইচ্ছা সেখানে থেকে ইদ্দত পূর্ণ করার ইখ্‌তিয়ার আছে। মহান মহিয়ান আল্লাহর কালামঃ {আর-বি} [আয়াত] তা রহিত করেছে।

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، قَالَ عَطَاءٌ: عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ: «نَسَخَتْ هَذِهِ الْآيَةُ عِدَّتَهَا فِي أَهْلِهَا فَتَعْتَدُّ حَيْثُ شَاءَتْ»، وَهُوَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: {غَيْرَ إِخْرَاجٍ} [البقرة: 240]

{১} চার মাস দশ দিনের হুকুম নাযিল হওয়ার পর। চার মাস দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মহিলা যেখানে ইচ্ছা সেখানে থাকতে পারবে। তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ যাহার স্বামী মারা গিয়েছে সে স্বামীর মৃত্যু সংবাদ প্রাপ্তির দিন হইতে ইদ্দত পালন করিবে

৩৫৩২.m আবু সাইদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমার স্বামী কাদুম নামক স্থানে ইন্‌তিকাল করেন। আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হইয়া বললামঃ আমার ঘর লোকালয় হইতে বহু দূরে অবস্থিত। তিনি আমাকে আমার পরিবারের কাছে থাকার অনুমতি দান করিলেন। এরপর ডেকে বললেনঃ নিজের [স্বামীর] ঘরেই চার মাস দশ দিন অতিবাহিত কর, তাহলে ইদ্দত পূর্ণ হইবে।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ মুসলমান নারীর স্বামীর শোকপালনে সাজসজ্জা ত্যাগ করা, [ইয়াহুদী-খিস্টানের জন্য নয়]

৩৫৩৩. যয়নাব বিন্‌ত আবু সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবা [রাঃআঃ] –এর নিকট উপস্থিত হলাম, যখন তাহাঁর পিতা আবু সুফিয়ান [রাঃআঃ] ইবনি হারব ইন্‌তিকাল করেন। এ সময় উম্মু হাবীবা [রাঃআঃ] সুগন্ধি আনান। তিনি তা বাঁদীর গায়ে লাগান, পরে নিজে তা নিজের চেহারায় মাখলেন এবং বললেনঃ আল্লাহর শপথ! এখন আমার সুগন্ধি লাগাবার কোন প্রয়োজন ছিল না; কিন্তু রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ যে নারী আল্লাহ এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা জাইয নয়। কিন্তু সে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন [শোক পালন করিবে]।

এরপর আমি যয়নাব বিন্‌ত জাহশ [রাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হলাম, যখন তাহাঁর ভাই ইন্‌তিকাল করেছিল। তিনি সুগন্ধি আনিয়ে তা লাগিয়ে বললেনঃ আল্লাহর শপথ! এখন আমার সুগন্ধির প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-কে মিম্বরে [দাঁড়িয়ে] বলিতে শুনেছিঃ যে নারী আল্লাহ এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা জাইয হয়। কিন্তু সে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন [শোক পালন করিবে]। যয়নাব [রাঃআঃ] বলেনঃ আমি উম্মু সালামা [রাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ এক মহিলা রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হইয়া বলিতে লাগলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আমার কন্যার স্বামী মারা গেছে এবং তার চোখে ব্যথা, যদি আপনি অনুমতি দেন তবে আমি তার চোখে সুরমা লাগাতে পারি। তিনি বললেনঃ [সুরমা লাগাবে] না। এখন তো শুধু চার মাস দশদিন [শোক করিতে হয়,] অথচ জাহিলী যুগে এরূপ নারী এক বছর পর গোবর ছুঁড়ে মারত। হুমায়দ ইবনি নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি যয়নাব [রাঃআঃ] কে জিজ্ঞাসা করলামঃ গোবর ছুঁড়ে মারার অর্থ কী? যয়নাব [রাঃআঃ] বর্ণনা করিলেন, জাহিলী যুগে যে নারীর স্বামীর মৃত্যু হতো, সে নারী একটি ঝুপড়ি ঘরে প্রবেশ করতো। আর সে নিকৃষ্ট কাপড় পরিধান করতো, এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে সে কোন প্রকার সুগন্ধি লাগাতো না। এক বছর পর গাধা, বকরী অথবা কোন পাখি তার কাছে আনা হতো। পরে সে তা তার লজ্জা স্থানে মর্দন করতো, ফলে ঐ প্রাণী মারা যেত। তারপর সে বের হত। এরপর তাকে উটের গোবর দেয়া হতো এবং সে তা ছুঁড়ে মারত। পরে সুগন্ধি মাখতো, অথবা মনে যা চাইতো, তা করতো।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ শোক পালনকারিণীর রঙ্গিন কাপড় পরিহার করা

৩৫৩৪. উম্মু আতিয়্যা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃ] বলেছেনঃ কোন নারী কারো জন্য তিন দিনের অধিককাল শোক করিবে না। তবে স্বামী ব্যতীত। কেননা, সে তার জন্য চার মাস দশ দিন শোক করিবে। আর সে [শোক পালনকারিণী] কোন রঙ্গিন কাপড় পরিধান করিবে না, আর ঐ কাপড় তো নয় যাহার সুতা রঙ করিয়ে বানানো হয় এবং সুরমা লাগাবে না, আর মাথায় চিরুনী করিবে না এবং সুগন্ধি লাগাবে না। কিন্তু যখন সে হায়েয হইতে পাক হইবে, তখন কিছু কুস্‌ত এবং আয্‌ফার১ ব্যবহার করিতে পারে।

{১} কুস্‌ত ও আয্‌ফার সুগন্ধি জাতীয় জিনিস।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৩৫. মুহাম্মাদ ইবনি ইসমাঈল ইবনি ইবরাহীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা যায়, সে কুসুক রঙের কাপড় এবং লাল মাটিদ্বারা রঙ করা কাপড় পরিধান করিবে না এবং খেযাব, সুরমা [ইত্যাদি]ও লাগাবে না।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ শোক পালনকারিণীর খিযাব ব্যবহার

৩৫৩৬. উম্মু আতিয়্যা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ যে নারী আল্লাহ ও কিয়ামতের দিনে ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ হইবে না, স্বামী ব্যতীত। আর সে সুরমা ব্যবহার করিবে না, খিযাব লাগাবে না এবং রঙ করা কাপড় পরিধান করিবে না।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ শোক পালনকারিণীর জন্য কুলপাতার পানিতে মাথা ধোয়ার অনুমতি

৩৫৩৭. উম্মু হাকীম বিন্‌ত আসীদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

যখন তাহাঁর স্বামী মারা যায়, তখন তাহাঁর চোখে ব্যথা ছিল। তখন তিনি ইছমিদ সুরমা লাগান। পরে তিনি তার মুক্ত করা এক দাসীকে উম্মু সালামা [রাঃআঃ]-এর নিকট প্রেরণ করেন। সে তার নিকট ইছমিদ সুরমা ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। উম্মু সালামা [রাঃআঃ] বললেনঃ কোন সুরমা ব্যবহার করিবে না। হ্যাঁ যদি কঠিন প্রয়োজন হয়। কেননা, আবু সালামা [রাঃআঃ]-এর ইন্‌তিকাল হলে রসূলুল্লাহ্ [সাঃ] আমার নিকট ঐ সময় আসেন। আমি তখন আমার চোখে ইলুয়া [কাল মসৃণ গাম] লাগিয়ে ছিলাম। তিনি বললেনঃ হে উম্মু সালামা ! এটা কী? আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌ ! ইয়া ইলুয়া। এতে সুগন্ধি নেই। তিনি বললেনঃ হে উম্মু সালামা ! [তা চেহারা সুন্দর ও আকর্ষণীয়] করে দেয়। এটা আর লাগাবে না, তবে রাতে [লাগাবে]। আর সুগন্ধি বস্তু দ্বারা মাথা ধোবে না, মেহেদী দ্বারাও না। কেননা, মেহেদীও খেযাব [মধ্যে রঙ রয়েছে]। [উম্মু সালামা বলেন,] আমি বললাম, ইয়া রসূলুল্লাহ ! আমি কি দিয়ে মাথা ধোব? তিনি বললেনঃ কুলপাতা দিয়ে তোমার মাথা ঢেকে দেবে।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ জইফ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ শোক পালনকারিণীর জন্য সুরমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা

৩৫৩৮. উম্মু সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ এক মহিলা রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হইয়া বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আমার কন্যার চোখে ব্যথা, আমি কি তার চোখে সুরমা লাগিয়ে দেব? তার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছিল এবং সে ইদ্দত পালন করছিল। তিনি বললেনঃ শোন ! চার মাস দশদিন [পূর্ণ হওয়ার পর লাগাবে]। ঐ মহিলা আবার বললেনঃ আমি তার চোখ নষ্ট হইয়া যাওয়ার আশংকা করছি। তিনি বললেনঃ চার মাস দশদিন পূর্ণ হওয়ার পূর্বে নয়। তিনি বললেনঃ জাহিলী যুগে তোমাদের প্রত্যেক নারী স্বামীর জন্য এক বছর পর্যন্ত শোক করতো। [এক বছর] পর তারা গোবর নিক্ষেপ করতো।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৩৯. যয়নাব বিন্‌ত আবু সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

এক মহিলা নাবী [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হইয়া তাঁকে তার কন্যার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলো, যাহার স্বামী মারা গিয়েছিল, এবং সে [চোখের] অসুখে আক্রান্ত ছিল। তিনি বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেক নারী জাহিলী যুগে এক বছর শোক পালন করিতে, এবং সাল পূর্ণ হলে গোবর নিক্ষেপ করত। এখন তো মাত্র চার মাস দশ দিন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৪০. উম্মু সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ কুরায়স-এর এক নারী রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হইয়া বললো যে, আমার কন্যার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে, আমার আশংকা হয় তার চোখ নষ্ট হইয়া যেতে পারে। [উম্মু সালামা [রাঃআঃ] বলেনঃ ] তার ইছা ছিল, তিনি তাকে সুরমা লাগাবার অনুমতি দেবেন। কিন্তু [নাবী [সাঃ]] তিনি বললেনঃ [তোমাদের পূর্বে অর্থাৎ জাহিলী যুগে] তোমাদের প্রত্যেক নারী বছর পূর্ন হলে গোবর নিক্ষেপ করত। আর এখন তো মাত্র চার মাস দশদিন। হুমায়দ ইবনি নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি যয়নাব [রাঃআঃ]-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ এক বছর পূর্তি কী? তিনি বললেনঃ জাহিলী যুগে যখন কোন নারীর স্বামীর মৃত্যু হতো, তখন সে তার অতি নিকৃষ্ট ঘরে আশ্রয় নিত। যখন এক বছর পূর্ণ হতো, তখন সে নিজের পেছনে গোবর ছুঁড়ে দিয়ে সেখান থেকে বের হইয়া আসতো।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৪১. যয়নাব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

জনৈক মহিলা উম্মু সালামা [রাঃআঃ] এবং উম্মু হাবীবা [রাঃআঃ]-এর নিকট স্বামীর মৃত্যু হলে নারীর ইদ্দতের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলো, সে সুরমা লাগাবে কি? তারা বললেনঃ এক নারী নাবী [সাঃ]-এর নিকট এসে তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকে জাহিলী যুগে যখন স্বামী মারা যেত, তখন এক বছর ইদ্দত পালন করতো, এরপর পেছনে গোবর ছুঁড়ে দিয়ে বের হতো। আর এখন তো চার মাস দশ দিনেই তার ইদ্দত শেষ হইয়া যায়।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ শোক পালনকারিণীর কুস্‌ত এবং আয্‌ফার ব্যবহার করা

৩৫৪২. উম্মু আতিয়্যা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃ] থেকে বর্ণিত যে, যে নারীর স্বামী মারা গেছে ঐ নারীকে তার [হায়েয থেকে] পবিত্র হওয়ার সময়ে কুস্‌ত এবং আয্‌ফার লাগানোর অনুমতি দান করেন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ মীরাছ ফরয হওয়ার কারণে এক বছরের খরচ রহিত

৩৫৪৩. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ [আর-বি] অর্থাৎঃ তোমাদের মধ্যে যাদের মৃত্যু আসন্ন এবং যাদের স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা যেন তাহাদের স্ত্রীদেরকে ঘর থেকে বের না করে তাহাদের এক বছরের ভরণ পোষণের ওসীয়ত করে – এই আয়াতটি মীরাছের আয়াত দ্বারা রহিত হইয়া গেছে। যে আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্ত্রীদের জন্য মীরাছের ১/৪ বা ১/৮ অংশ নির্ধারিত করা হইয়াছে। আর এক বছর ইদ্দতের আদেশ চার মাস দশ দিনের ইদ্দতের আদেশ দ্বারা রহিত হইয়া গেছে।

أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى السِّجْزِيُّ خَيَّاطُ السُّنَّةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ النَّحْوِيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لِأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ} [البقرة: 240] «نُسِخَ ذَلِكَ بِآيَةِ الْمِيرَاثِ مِمَّا فُرِضَ لَهَا مِنَ الرُّبُعِ وَالثُّمُنِ، وَنَسَخَ أَجَلَ الْحَوْلِ، أَنْ جُعِلَ أَجَلُهَا أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا»

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৩৫৪৪. ইকরামা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

মহান মহিয়ান আল্লাহর বাণীঃ [আর-বি] সম্পর্কে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আয়াতটি [আর-বি] আয়াত দ্বারা রহিত হইয়া গেছে।

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لِأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ} [البقرة: 240]، قَالَ: ” نَسَخَتْهَا: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا} [البقرة: 234] “

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহীহ

পরিচ্ছেদঃ চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্তা নারীর জন্য ইদ্দতের সময় তার বসত ঘর থেকে বের হওয়ার অনুমতি

৩৫৪৫. আবদুর রহমান ইবনি আসিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

ফাতিমা বিন্‌ত কায়স [রাঃআঃ] তাকে অবহিত করিয়াছেন, তিনি মাখযূম গোত্রের এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিলেন, যিনি তাঁকে তিন তালাক দেন এবং কোন যুদ্ধে গমন করেন। আর তিনি নিজের উকীলদের নিকট বলে যানঃ তুমি তাঁকে কিছু খরচ দিয়ে দিও। [সেই উকীল তাঁকে কিছু দিল।] কিন্তু তিনি বলেন, ফাতিমা [রাঃআঃ] তা কম মনে করে ফিরিয়ে দিলেন এবং তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর কোন স্ত্রীর নিকট গমন করেন। এমন সময় রসূলুল্লাহ [সাঃ] ঘরে প্রবেশ করেন, তখন তিনি ঐ ঘরে ছিলেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রসূলুল্লাহ্ ! এ [আমি] ফাতিমা বিন্‌ত কায়স। তাকে অমুক ব্যক্তি তালাক দিয়েছে। আর অমুকের মারফত তার খরচ পাঠিয়েছে। সে তা সামান্য মনে করে তা ফিরিয়ে দিয়েছে। সে [স্বামী] বলেঃ এতটুকু দেয়াও তার ইহ্‌সান। তিনি [সাঃ] বললেনঃ সে ব্যক্তি ঠিকই বলেছে। নাবী [সাঃ] বলেছেন, এখন তুমি উম্মু কুলসুমের কাছে গিয়ে তোমার ইদ্দত পূর্ণ কর। এরপর তিনি আবার বললেনঃ উম্মু কুলসুমের ঘরে মেহমানদের যাতায়াত অধিক হয়। অতএব তুমি এখন আবদুল্লাহ্‌ ইবনি উম্মু মাকতুমের কাছে গিয়ে থাক। কেননা, সে অন্ধ। তিনি [ফাতিমা [রাঃআঃ] আবদুল্লাহ্‌ [রাঃআঃ]-এর নিকট চলে গেলেন এবং সেখানে তার ইদ্দত পূর্ণ করিলেন। তার ইদ্দতের সময় পূর্ণ হলে আবু জাহ্‌ম এবং মুআবিয়া ইবনি আবু সুফিয়ান বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হইয়া উক্ত দুই ব্যক্তি সম্বন্ধে পরামর্শ করিলেন। তিনি বললেনঃ আমি তো তোমার জন্য জাহান্নামের লাঠির ভয় করি, আর মুআবিয়া তো অভাবী লোক। ফাতিমা [রাঃআঃ] বলেনঃ এরপরে আমি উসামা ইবনি যায়দ [রাঃআঃ]-কে বিবাহ করলাম।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ অন্যান্য

৩৫৪৬. আবু সালাম ইবনি আবদুর রহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি তাকে [আবু সালামা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে] অবহিত করিয়াছেন যে, তিনি আবু আমর ইবনি হাফ্‌স [রাঃআঃ]-এর কাছে বিবাহাধীনে ছিলেন। তিনি তাকে তিন তালাকের শেষটি পর্যন্ত দিলেন। ফাতিমা [রাঃআঃ] বলেনঃ এরপর তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর কাছে উপস্থিত হইয়া নিজের ঘর হইতে বের হওয়ার ব্যাপারে ফাতাওয়া চাইলেন। তিনি [রসূলুল্লাহ [সাঃ] তাকে তার ঘর থেকে ইবনি উম্মু মাকতুম [রাঃআঃ]-এর ঘরে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। রাবী বলেনঃ মারওয়ান তালাকপ্রাপ্তার ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে ফাতিমাকে বিশ্বাস করিতে অস্বীকৃতি প্রদান করেন। আর উরওয়া [রাঃআঃ] বলেন, আয়েশা [রাঃআঃ]-ও ফাতিমা [রাঃআঃ]-এর কথা প্রত্যাখ্যান করেন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৪৭. হিশাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

ফাতিমা বিন্‌ত কায়স [রাঃআঃ] বলেনঃ আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছে; এখন আমার ভয় হয়, আমার নিকট অতর্কীতে কেউ [কোন চোর] ঢুকে পড়তে পারে। তখন তিনি তাকে সেখান থেকে অন্যত্র যাওয়ার অনুমতি দিলেন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৪৮. শাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি ফাতিমা বিন্‌ত কায়স নিকট গেলাম এবং তাহাঁর নিকট তার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-এর ফয়সালার কথা জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ তাহাঁর স্বামী তাকে চূড়ান্ত [তিন] তালাক দেন। তিনি রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-এর নিকট তার বাসস্থান ও খোরপোশের ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলাম। তিনি [ফাতিমা [রাঃআঃ]] বলেনঃ তিনি আমার জন্য বাসস্থান ও খরচাদি দেওয়ার কথা বলিলেন না। আর তিনি আমাকে ইবনি উম্মু মাকতূমের ঘরে ইদ্দত পালন করার আদেশ দেন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৪৯. শাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমাকে আমার স্বামী তালাক দিল, আমি স্থানান্তরের [তার ঘর থেকে চলে যাওয়ার] ইচ্ছায় রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার চাচাত ভাই আমর ইবনি উম্মু মাকতুমের ঘরে গিয়ে সেখানে তোমার ইদ্দত পালন কর। একথা শুনে আসওয়াদ তাঁকে পাথর ছুড়ে মেরে বললেনঃ আপনার কপাল মন্দ! আপনি এরুপ কথা কেন ফাতাওয়া দিয়েছেন? উমার [রাঃআঃ] [তা ফাতিমা [রাঃআঃ]-কে বলেছিলেন, যদি তুমি দুইজন সাক্ষী আনো, যারা এই সাক্ষ্য দিবে যে, আমরা তা রসূলুল্লাহ্ [সাঃ] হইতে শুনিয়াছি; [তাহলে আমি তোমার কথা গ্রহণ করবো]। তা-না হলে আমরা একজন মহিলার কথায় আল্লাহর কিতাব ছাড়তে পারি না, আল্লাহর কিতাবে নির্দেশ আছেঃ “ঐ মহিলাদেরকে তাহাদের ঘর থেকে বের করো না, আর তারাও যেন বের না হয়; যদি না তারা প্রকাশ্য অশ্লীলতার কাজে লিপ্ত হয়।”

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা গেছে, দিনের বেলায় তার বের হওয়া

৩৫৫০. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ তাহাঁর খালাকে তালাক দেওয়ার পর তিনি তার খেজুর বাগানে যেতে চাইলেন। [পথে] এক ব্যক্তির সাথে তাহাঁর সাক্ষাৎ হলে সে তাকে সেখানে যেতে নিষেধ করলো। তিনি রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-এর নিকট গেলে, তিনি বললেনঃ তুমি গিয়ে তোমার খেজুর কেটে নিয়ে এসো। হয়তো তুমি সাদকা করিবে এবং [মানুষের উপকারের জন্য] কল্যাণের কাজে করিবে।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ বাইন তালাকপ্রাপ্তার খোরপোষ

৩৫৫১. আবু বকর ইবনি হাফ্‌স [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি এবং আবু সালামা ফাতিমা বিন্‌ত কায়স [রাঃআঃ]-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেনঃ আমার স্বামী আমাকে তালাক দেয়, কিন্তু আমার জন্য থাকার ঘর ও খোরপোষের ব্যবস্থা করেনি। তিনি বলেনঃ সে তার এক চাচাতো ভাইয়ের নিকট আমার জন্য দশ কাফীয১ রাখলো এর পাঁচ কাফীয ছিল যব, আর পাঁচ কাফীয ছিল খেজুর। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হইয়া তা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেনঃ সে সত্যই বলেছে। তিনি আমাকে আদেশ করিলেন, আমি যেন অমুকের ঘরে আমার ইদ্দত পালন করি। তাহাঁর স্বামী তাঁকে বাইন তালাক দিয়েছিল।

{১} কাফীয একটি পরিমাপ পাত্র। তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ বাইন তালাকপ্রাপ্তা গর্ভবতী মহিলার খোরপোষ,

৩৫৫২. উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন উতবা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্‌ ইবনি আমর ইবনি উসমান সাঈদ ইবনি যায়দ এর কন্যাকে চূড়ান্ত [বাইন বা তিন] তালাক দিল। সেই কন্যার নাম ছিল হামনা বিন্‌ত কায়স। তিনি তাকে এমন তালাক দিলেন, যা দ্বারা সম্পর্ক একেবারে বিচ্ছিন্ন হইয়া যায়, অর্থাৎ তিন তালাক। তার খালা ফাতিমা বিন্‌ত কায়স [রাঃআঃ] তাকে বললেনঃ তুমি আবদুল্লাহ্‌ ইবনি আমর-এর ঘর থেকে চলে যাও। মারওয়ান একথা শুনে আবদুল্লাহ্‌ ইবনি আমর ইবনি উসমানের স্ত্রীকে নির্দেশ দিলেনঃ তোমার ইদ্দত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তুমি নিজের ঘরে অবস্থান কর। আবদুল্লাহ্‌ ইবনি আমর-এর স্ত্রী মারওয়ানের কাছে লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, আমাকে আমার খালা ফাতিমা [রাঃআঃ] ঘর হইতে চলে যাওয়ার আদেশ করিয়াছেন। আর তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃ] তাঁকে ঐ সময় ঘর হইতে বের হইয়া যাওয়ার আদেশ করেন, যখন তাকে [তার স্বামী] আবু আমর ইবনি হাফস তালাক দিয়েছিলেন। মারওয়ান যখন এ ঘটনা জানিতে পারলেন, তখন তিনি কাবীসা ইবনি যুআয়বকে ফাতিমা [রাঃআঃ]-এর নিকট পাঠালেন। এ ব্যাপারে তিনি তাকে [ফাতিমাকে] জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ আমার স্বামী আবু আমর আলী [রাঃআঃ]-এর সাথে চলে যান, যখন রসূলুল্লাহ [সাঃ] তাঁকে ইয়ামানের শাসক নিযুক্ত করেন। [সেখানে গিয়ে] আমার স্বামী এক তালাক দিয়ে পাঠান, আর তা ছিল তার অবশিষ্ট [শেষ] তালাক। তখন হারিস ইবনি হিশাম [রাঃআঃ] এবং আইয়্যাশ ইবনি আবু রবীআ [রাঃআঃ] –কে বলে পাঠান আমাকে খোরপোষ দেয়ার জন্য। আমি আমার খরচ চাওয়ার জন্য তাহাদের নিকট লোক পাঠালাম, যা আমার স্বামী আমাকে দিতে বলেছিল। তারা বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমাদের নিকট তার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তবে যদি সে গর্ভবতী হয়, [তা হলে তার জন্য খোরপোষ ছিল]। আর আমরা যতক্ষণ না বলি, সে যেন আমাদের ঘরে না থাকে। ফাতিমা [রাঃআঃ] বলেনঃ তখন আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে এ ঘটনা জানালাম। তিনি তাহাদের সত্যায়ন করিলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌ ! আমি এখন কোথায় যাব? তিনি বললেনঃ ইবনি উম্মু মাকতুমের নিকট চলে যাও, ইনি সে অন্ধ লোক, যাহার জন্য আল্লাহ তাআলা তাহাঁর কিতাবে তাকে [রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-কে] মৃদু ভর্ৎসনা করেছিলেন। আমি তাহাঁর নিকট চলে গেলাম। আমি তাহাঁর নিকট অপ্রয়োজনীয় কাপড় ফেলে দিতাম। এরপর রসূলুল্লাহ্ [সাঃ] উসামা ইবনি যায়দ [রাঃআঃ]-এর সাথে [তার বক্তব্য মতে] তাকে বিবাহ দেন।

{১} [আর-বি] শব্দটি [আর-বি] এর বহুবচন। অর্থ – হায়েয। কেউ কেউ এর অর্থ নেন- হায়েয থেকে পবিত্র থাকাকালীন সময়। তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ আক্‌রা১ এর ব্যাখ্যা

৩৫৫৩. ফাতিমা বিন্‌ত আবু হুবায়শ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ্ [সাঃ]-এর নিকট গিয়ে [সর্বদা] রক্ত নির্গমনের কথা ব্যক্ত করিলেন। তিনি তাকে বললেনঃ এই রক্ত কোন শিরা [জনিত ব্যাধি] হইতে প্রবাহিত হয় [অর্থাৎ জরায়ু হইতে আসে না]। যখন তোমার হায়েয আরম্ভ হয়, তখন তুমি এর প্রতি লক্ষ্য রাখ। তখন নামাজ আদায় করিবে না। হায়েযের সময় চলে গেলে তুমি পাক হইবে। তিনি বললেনঃ উভয় হায়েযের মধ্যবর্তী সময় নামাজ আদায় করিবে।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ তিন তালাকের পর ফিরিয়ে নেয়ার [রুজ্জু করার] বিধান রহিত হওয়া সম্পর্কে

৩৫৫৪. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

[আর-বি] এ আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত যে, আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা ভুলিয়ে দিলে, তা হইতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আনি। ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] এরপর অন্য একটি আয়াত বর্ণনা করেনঃ [আর-বি] যখন আমি এক আয়াতের বদলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি, আল্লাহ যা নাযিল করেন, তা তিনি-ই ভাল জানেন, [তখন তারা বলেঃ তুমি তো কেবল মিথ্যা উদ্ভাবনকারী।] আল্লাহর বাণীঃ [আর-বি] আল্লাহর যা ইচ্ছা তা নিশ্চিহ্ন করেন এবং যা ইচ্ছা তা প্রতিষ্ঠিত রাখেন, আর তাহাঁরই নিকট আছে কিতাবের মূল। এরপর ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] বলেনঃ সর্বপ্রথম কুরআনে যা রহিত হইয়াছিল, তা ছিল কেবলা। ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] আরো বলেনঃ [আর-বি] আল্লাহর বাণীঃ মহিলারা তিন হায়েয পর্যন্ত অপেক্ষা করিবে, আর তাহাদের জন্য বৈধ হইবে না, আল্লাহ তাআলা তাহাদের গর্ভে যা সৃষ্টি করিয়াছেন তা গোপন রাখা। যদি তারা আল্লাহ এবং কিয়ামতের দিনের উপর ঈমান রাখে। আর তাহাদের স্বামীগণ এই অবস্থায় তাহাদের ফিরিয়ে রাখার অধিক হকদার। যদি তারা অপেক্ষা করার ইচ্ছা রাখে। তিনি এই আয়াত বর্ণনা কর্তে গিয়ে বলেন, এই অবস্থা এইরুপ ছিল, যখন কোন লোক তার স্ত্রীকে তালাক দিত, তবে সে-ই তার রজআত করার [স্ত্রী রুপে ফিরিয়ে নেয়ার] অধিকারী ছিল, যদিও সে তাকে তিন তালাক দিত। আল্লাহ তাআলা তা রহিত করে বলেনঃ তালাক দুবার। এরপর স্ত্রীকে হয় বিধিমত রেখে দেবে, অথবা সদয়ভাবে মুক্ত করে দেবে।

حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ النَّحْوِيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ: {مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا} [البقرة: 106] وَقَالَ: {وَإِذَا بَدَّلْنَا آيَةً مَكَانَ آيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ} [النحل: 101] الْآيَةَ، وَقَالَ: {يَمْحُو اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْكِتَابِ} [الرعد: 39] «فَأَوَّلُ مَا نُسِخَ مِنَ الْقُرْآنِ الْقِبْلَةُ»، وَقَالَ: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ} [البقرة: 228]- إِلَى قَوْلِهِ – {إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا} [البقرة: 228] «وَذَلِكَ بِأَنَّ الرَّجُلَ كَانَ إِذَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فَهُوَ أَحَقُّ بِرَجْعَتِهَا وَإِنْ طَلَّقَهَا ثَلَاثًا فَنَسَخَ ذَلِكَ»، وَقَالَ: {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ} [البقرة: 229]

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহীহ

পরিচ্ছেদঃ রজআত করা

৩৫৫৫. ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি আমার স্ত্রীকে তার হায়েয অবস্থায় তালাক দেই। এরপর উমার [রাঃআঃ] নাবী [সাঃ]-এর নিকট এসে এই ঘটনা জানালে তিনি বললেনঃ সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়। তারপর যখন সে পাক হইবে, তখন ইচ্ছা হলে [তাকে রাখবে, অথবা] তালাক দেবে। ইবনি উমরের শাগরিদ বলেন, আমি বললামঃ এই তালাকও আপনি হিসাব করিয়াছেন? তিনি বললেনঃ তবে কী, তুমি বল তো যদি কোন ব্যক্তি অপারগ হয় – কিংবা নির্বুদ্ধিতার কাজ করে [অজ্ঞতার কারণে তালাক দিয়ে বসে – তা তো হিসাবে ধরা হইবে]।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ তালাক

৩৫৫৬. ইবনি উমার হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ তিনি তাহাঁর স্ত্রীকে তার হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়ে দিলেন। ঊমর [রাঃআঃ] রাসুলুল্লাহ [সঃ] এর নিকট এই ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ তাকে বলে দাও, অন্য হায়েয না আসা পর্যন্ত সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর যখন সে পাক হইবে তখন ইচ্ছা করলে সে তাকে তালাক দিবে, বা তাকে রেখে দিবে। কেননা, এই তালাকি হইবে সে তালাক, মহান মহিয়ান আল্লাহ তাকে যাহার আদেশ করিয়াছেন। আল্লাহতাআলা বলেছেনঃ তাহাদের তালাক দেবে ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৫৭. নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ ইবনি উমার [রাঃআঃ]-এর নিকট যখন ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হতো, যে তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়েছে। তিনি বলিতেনঃ সে যদি এক অথবা দুই তালাক দেয় তবে রাসুলুল্লাহ [সঃ] বলেনঃ সে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেবে। এরপর অন্য হায়েযের পরে পাক পর্যন্ত তাকে রাখবে। [সে পাক হলে] পরে তাকে সহবাসের পূর্বে তালাক দেবে; আর যদি সে তিন তালাক একত্রে দিয়ে থাকে, তবে আল্লাহতাআলা তোমাকে তোমার স্ত্রীকে দেয়ার ব্যপারে যে আদেশ করিয়াছেন, তুমি তা লংঘন করলে এবং তোমার স্ত্রী তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন [বাইন] হইয়া যাবে।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৫৮. ইবনি উমার[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি তাহাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেন। এরপর রাসুলুল্লাহ [সঃ] তাঁকে নির্দেশ তিনি তাকে ফিরিয়ে নেন।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৫৯. ইবন্ তাউস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি শুনেছেন, আবদুল্লাহ ইবন্ উমার [রাঃআঃ] কে ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলো , যে তাহাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়েছিল। তিনি বলেনঃ তুমি কি আবদুল্লাহ ইবন্ উমার [রাঃআঃ]-কে চিন? সে বলিল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তিনি তাহাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেন। পরে উমার [রাঃআঃ] রাসুলুল্লাহ [সাঃ] –এর নিকট এসে এ সংবাদ দিলে তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে আদেশ করেন, পাক হওয়া পর্যন্ত। রাবী বলেনঃ এর অধিক বর্ণনা করিতে আমি তাঁকে শুনিনি।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৬০. ইবন্ আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ [সঃ] হাফসা [রাঃআঃ] –কে তালাক দেন, পরে তিনি তাঁকে ফিরিয়ে নেন। আল্লাহ সম্যক অবগত।

তালাক সম্পর্কে হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

কসম ও মানত

পর্বঃ ৩৫, কসম ও মান্নাত, হাদীস (৩৭৬১ – ৩৮৫৬) কসম করা ও যে সব নামের …

Leave a Reply

%d bloggers like this: