বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াত পাঠ করার উপর উৎসাহ দান

বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াত পাঠ করার উপর উৎসাহ দান

বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াত পাঠ করার উপর উৎসাহ দান >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ১৮৩: বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াত পাঠ করার উপর উৎসাহ দান

1/1016 عَن أَبي سَعِيدٍ رَافِعِ بن الْمُعَلَّى رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «أَلاَ أُعَلِّمُكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ فِي القُرْآن قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ ؟» فَأخَذَ بِيَدِي، فَلَمَّا أَرَدْنَا أَنْ نَخْرُجَ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إنَّكَ قُلْتَ: لأُعَلِّمَنَّكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ فِي القُرْآنِ ؟ قَالَ: «اَلْحَمْدُ للهِ رَبِّ العَالَمِينَ، هِيَ السَّبْعُ المَثَانِي وَالقُرْآنُ العَظِيمُ الَّذِيْ أُوتِيتُهُ». رواه البخاري

১/১০১৬। আবূ সাঈদ রাফে’ ইবনি মুআল্লা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ আমাকে বলিলেন, “মসজিদ থেকে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কি কুরআনের সবচেয়ে বড় [মাহাত্ম্যপূর্ণ] সূরা শিখিয়ে দেব না?” এই সাথে তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর যখন আমরা বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, তখন আমি নিবেদন করলাম, ‘ইয়া রসুলুল্লাহ ! আপনি যে আমাকে বলিলেন, তোমাকে অবশ্যই কুরআনের সবচেয়ে বড় [মাহাত্ম্যপূর্ণ] সূরা শিখিয়ে দেব?’ সুতরাং তিনি বলিলেন, “[তা হচ্ছে] ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ [সূরা ফাতেহা]। এটি হচ্ছে ‘সাবউ মাসানী’ [অর্থাৎ নামাযে বারংবার পঠিতব্য সপ্ত আয়াত] এবং মহা কুরআন; যা আমাকে দান করা হয়েছে।” [বুখারী] [1]

2/1017 وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِِيِّ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ فِي: – قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ -: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ القُرْآنِ» .

وفي روايةٍ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ ِلأَصْحَابِهِ: «أَيَعْجِزُ أحَدُكُمْ أنْ يَقْرَأَ بِثُلُثِ القُرْآنِ فِي لَيْلَةٍ؟»، فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ، وَقَالُوا: أَيُّنَا يُطِيقُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ فَقَالَ: «قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ اللهُ الصَّمَد: ثُلُثُ الْقُرْآنِ». رواه البخاري

২/১০১৭। আবূ সাঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ [সূরা] ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল।”

অপর এক বর্ণনায় আছে, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ সাহাবীগণকে বলিলেন, ‘তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অপারগ?’ প্রস্তাবটি তাঁদের পক্ষে ভারী মনে হল। তাই তাঁরা বলে উঠলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ কাজ আমাদের মধ্যে কে করিতে পারবে?’ [অর্থাৎ কেউ পারবে না।] তিনি বলিলেন, “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস স্বামাদ’ [সূরা ইখলাস] কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল।” [অর্থাৎ এই সূরা পড়লে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়ার সমান নেকী অর্জিত হয়] [বুখারী] [2]

3/1018 وَعَنْه: أَنَّ رَجُلاً سَمِعَ رَجُلاً يَقْرَأُ: «قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ» يُرَدِّدُهَا، فَلَمَّا أصْبَحَ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم  فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ وَكَانَ الرَّجُلُ يَتَقَالُّهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ القُرْآنِ». رواه البخاري

৩/১০১৮। উক্ত সাহাবী রাঃআঃ আরও বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কোন লোককে সূরাটি বারবার পড়তে শুনল। অতঃপর সে সকালে রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর নিকট এসে তা ব্যক্ত করিল। সে সূরাটিকে নগণ্য মনে করছিল। রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলিলেন, “সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এই সূরা [ইখলাস] কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।” [বুখারী] [3]

4/1019 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ فِي: ﴿ قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ﴾ «إنَّهَا تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ». رواه مسلم

৪/১০১৯। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ [সূরা] ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য।” [মুসলিম] [4]

5/1020 وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه : أَنَّ رَجُلاً قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي أُحِبُّ هَذِهِ السُّورَةَ: ﴿ قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ﴾ قَالَ: «إنَّ حُبَّهَا أدْخَلَكَ الجَنَّةَ». رواه الترمذي، وقال: [[حديث حسن]] . ورواه البخاري في صَحِيحِهِ تعليقاً.

৫/১০২০। আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নিবেদন করিল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি এই [সূরা] ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ ভালবাসি।’ তিনি বলিলেন, “এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।” [তিরমিযী হাসান সূত্রে, বুখারী বিচ্ছিন্ন সনদে] [5]

6/1021 وَعَنْ عُقبَةَ بنِ عَامِرٍ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَلَمْ تَرَ آيَاتٍ أُنْزِلَتْ هَذِهِ اللَّيْلَةَ لَمْ يُرَ مِثْلُهُنَّ قَطُّ ؟  قُلْ أَعْوذُ بِرَبِّ الفَلَقِ  وَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ». رواه مسلم

৬/১০২১। উক্ববাহ ইবন আমের রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ একদা বলিলেন, “তুমি কি দেখনি, আজ রাত্রে আমার উপর কতকগুলি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে; যার অনুরূপ আর কিছু দেখা যায়নি? [আর তা হল,] ‘ক্বুল আঊযু বিরাব্বিল ফালাক্ব’ ও ‘ক্বুল আঊযু বিরাব্বিন নাস।” [মুসলিম ৮১৪ নং, তিরমিযী] [6]

7/1022 وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم  يَتَعَوَّذُ مِنَ الجَانِّ، وَعَيْنِ الإِنْسَانِ، حَتَّى نَزَلَتْ المُعَوِّذَتَانِ، فَلَمَّا نَزَلَتَا، أَخَذَ بِهِمَا وَتَرَكَ مَا سِوَاهُمَا. رواه الترمذي، وقال: [[حديث حسن]]

৭/১০২২। আবূ সাঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ  [সূরা ফালাক্ব ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে] জিন ও বদ নজর থেকে [আল্লাহর] আশ্রয় প্রার্থনা করিতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু’টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু’টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করিতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করিলেন।’ [তিরমিযী হাসান][7]

8/1023 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مِنَ القُرْآنِ سُورَةٌ ثَلاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتَّى غُفِرَ لَهُ، وَهِيَ: تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ المُلْكُ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال:[[حديث حسن]]

৮/১০২৩। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “কুরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন আছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করিবে এবং সব শেষে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হইবে, সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মুলক’ [সূরা মুলক]।”[আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান][8]

9/1024 وَعَنْ أَبي مَسعُودٍ البَدْرِيِّ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ قَرَأَ بِالآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ البَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ». متفقٌ عَلَيْهِ.

৯/১০২৪। আবূ মাসঊদ বদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাক্বারার শেষ আয়াত দু’টি পাঠ করিবে, তার জন্য সে দু’টি যথেষ্ট হইবে।” [বুখারী, মুসলিম] [9] 

বলা হয়েছে যে, সে রাতে অপ্রীতিকর জিনিসের মোকাবেলায় যথেষ্ট হইবে। অথবা তাহাজ্জুদের নামায থেকে যথেষ্ট হইবে।

10/1025 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم  قَالَ: «لاَ تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ، إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ البَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ البَقرَةِ». رواه مسلم

১০/১০২৫। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “তোমরা নিজেদের ঘর-বাড়িগুলোকে কবরে পরিণত করো না। যে বাড়িতে সূরা বাকারাহ পাঠ করা হয়, নিশ্চয় সে বাড়ি থেকে শয়তান পলায়ন করে।” [মুসলিম] [10]

[অর্থাৎ সুন্নত ও নফল নামায তথা পবিত্র কুরআন পড়া ত্যাগ করে ঘরকে কবর বানিয়ে দিয়ো না। যেহেতু কবরে এ সব বৈধ নয়।]

11/1026 وَعَنْ أُبَيِّ بنِ كَعبٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «يَا أَبَا الْمُنْذِرِ، أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ الله مَعَكَ أعْظَمُ ؟» قُلْتُ: اللهُ لاَ إلَهَ إِلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ  فَضَرَبَ فِي صَدْرِي، وَقَالَ: «لِيَهْنِكَ العِلْمُ أَبَا الْمُنْذِرِ» . رواه مسلم

১১/১০২৬। উবাই ইবনি কা‘ব রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলিলেন, “হে আবূ মুনযির! তুমি কি জান, মহান আল্লাহর গ্রন্থ [আল-কুরআন]এর ভিতর তোমার যা মুখস্থ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় [মর্যাদাপূর্ণ] আয়াত কোনটি?” আমি বললাম, ‘সেটা হচ্ছে আয়াতুল কুরসি।’ সুতরাং তিনি আমার বুকে চাপড় মেরে বলিলেন, “আবুল মুনযির! তোমার জ্ঞান তোমাকে ধন্য করুক।” [মুসলিম] [11]

[অর্থাৎ তুমি, নিজ জ্ঞানের বরকতে উক্ত আয়াতটির সন্ধান পেয়েছ, সে জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।]

12/1027 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: وَكَّلَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم  بِحِفْظِ زَكَاةِ رَمَضَانَ، فَأتَانِي آتٍ فَجَعَلَ يَحْثُو مِنَ الطَّعَام، فَأَخَذْتُهُ فَقُلْتُ: لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: إنِّي مُحْتَاجٌ، وَعَليَّ عِيَالٌ، وَبِي حَاجَةٌ شَدِيدَةٌ، فَخَلَّيْتُ عَنْهُ، فَأصْبَحْتُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «يَا أَبَا هُرَيرَةَ، مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ البَارِحَةَ ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، شَكَا حَاجَةً وَعِيَالاً، فَرحِمْتُهُ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ . فَقَالَ: «أمَا إنَّهُ قَدْ كَذَبَكَ وَسَيَعُودُ» فَعَرَفْتُ أنَّهُ سَيَعُودُ، لِقَولِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم  فَرَصَدْتُهُ، فَجَاءَ يَحْثُو مِنَ الطَّعَامِ، فَقُلْتُ: لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: دَعْنِي فَإنِّي مُحْتَاجٌ، وَعَلَيَّ عِيَالٌ لاَ أَعُودُ، فَرحِمْتُهُ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ، فَأَصْبَحْتُ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «يَا أَبَا هُرَيرَةَ، مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ البَارِحَةَ ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، شَكَا حَاجَةً وَعِيَالاً، فَرحِمْتُهُ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ . فَقَالَ: «إنَّهُ قَدْ كَذَبَكَ وَسَيَعُودُ» فَرَصَدْتُهُ الثَّالثَة، فَجَاءَ يَحْثُو مِنَ الطَّعَامِ فَأَخَذْتُهُ، فَقُلتُ: لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَهَذَا آخِرُ ثَلاَثِ مَرَّاتٍ أَنَّكَ تَزْعُمُ أنَّكَ لاَ تَعُودُ ! فَقَالَ: دَعْنِي فَإنِّي أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ يَنْفَعُكَ اللهُ بِهَا، قُلْتُ: مَا هُنَّ ؟ قَالَ: إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ آيَةَ الكُرْسِيِّ، فَإِنَّهُ لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنَ الله حَافِظٌ، وَلاَ يَقْرَبُكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ، فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ، فَأَصْبَحْتُ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ البَارِحَةَ ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، زَعَمَ أَنَّهُ يُعَلِّمُنِي كَلِمَاتٍ يَنْفَعُنِي اللهُ بِهَا، فَخَلَّيْتُ سَبيلَهُ، قَالَ: «مَا هِيَ ؟» قُلْتُ: قَالَ لِي: إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ آيَة الكُرْسِيِّ مِنْ أَوَّلِهَا حَتَّى تَخْتِمَ الآيَةَ: – اللهُ لاَ إلَهَ إِلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ – وَقَالَ لِي: لاَ يَزَالُ عَلَيْكَ مِنَ اللهِ حَافِظٌ، وَلَنْ يَقْرَبَكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : «أمَا إنَّهُ قَدْ صَدَقَكَ وَهُوَ كَذُوْبٌ، تَعْلَمُ مَنْ تُخَاطِبُ مُنْذُ ثَلاَثٍ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ ؟» قُلْتُ: لاَ . قَالَ: «ذَاكَ شَيْطَانٌ». رواه البخاري

১২/১০২৭। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, [একবার] রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ আমাকে রমযানের যাকাত [ফিতরার মাল-ধন] দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেন। বস্তুতঃ [আমি পাহারা দিচ্ছিলাম ইত্যবসরে] একজন আগমনকারী এসে আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরলাম এবং বললাম, ‘তোকে অবশ্যই রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর কাছে পেশ করব।’ সে আবেদন করিল, ‘আমি একজন সত্যিকারের অভাবী। পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমার উপর, আমার দারুণ অভাব।’ কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে [রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর নিকট হাযির হলাম।] রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলিলেন, “হে আবূ হুরায়রা! গত রাতে তোমার বন্দী কি আচরণ করেছে?” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে তার অভাব ও [অসহায়] পরিবার-সন্তানের অভিযোগ জানাল। সুতরাং তার প্রতি আমার দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।’ তিনি বলিলেন, “সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে।”

আমি রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর অনুরূপ উক্তি শুনে সুনিশ্চিত হলাম যে, সে আবার আসবে। কাজেই আমি তার প্রতীক্ষায় থাকলাম। সে [পূর্ববৎ] এসে আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে বললাম, ‘অবশ্যই তোকে রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর দরবারে পেশ করব।’ সে বলিল, ‘আমি অভাবী, পরিবারের দায়িত্ব আমার উপর, [আমাকে ছেড়ে দাও] আমি আর আসব না।’ সুতরাং আমার মনে দয়া হল। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে উঠে [যখন রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর কাছে গেলাম তখন] রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ আমাকে বলিলেন, “আবূ হুরায়রা! গত রাত্রে তোমার বন্দী কিরূপ আচরণ করেছে?” আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তার অভাব ও অসহায় সন্তান-পরিবারের অভিযোগ জানাল। সুতরাং আমার মনে দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।’ তিনি বলিলেন, “সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে।”

সুতরাং তৃতীয়বার তার প্রতীক্ষায় রইলাম। সে [এসে] আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে বললাম, “এবারে তোকে নবী সাঃআঃ-এর দরবারে হাযির করবই। এটা তিনবারের মধ্যে শেষবার। ‘ফিরে আসবো না’ বলে তুই আবার ফিরে এসেছিস।” সে বলিল, ‘তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে এমন কতকগুলি শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন।’ আমি বললাম, ‘সেগুলি কি?’ সে বলিল, ‘যখন তুমি [ঘুমাবার জন্য] বিছানায় যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি পাঠ করে [ঘুমবে]। তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হইবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না।’

সুতরাং আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। আবার সকালে [রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ এর কাছে গেলাম।] তিনি আমাকে বলিলেন, “তোমার বন্দী কি আচরণ করেছে?” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে বলিল, “আমি তোমাকে এমন কতিপয় শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ আমার কল্যাণ করবেন।” বিধায় আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।’ তিনি বলিলেন, “সে শব্দগুলি কি?” আমি বললাম, ‘সে আমাকে বলিল, “যখন তুমি বিছানায় [শোয়ার জন্য] যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম’ পড়ে নেবে।” সে আমাকে আরও বলিল, “তার কারণে আল্লাহর তরফ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকিবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসবে না।” [এ কথা শুনে]  তিনি বলিলেন, “শোনো! সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী; কিন্তু তোমাকে সত্য কথা বলেছে। হে আবূ হুরায়রা! তুমি জান, তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?” আমি বললাম, ‘জী না।’ তিনি বলিলেন, “সে শয়তান ছিল।” [বুখারী]  [12]

13/1028 وَعَنْ أَبي الدَّردَاءِ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الكَهْفِ، عُصِمَ مِنَ الدَّجَّالِ» . وفي رواية: «مِنْ آخِرِ سُورَةِ الكَهْفِ» رواهما مسلم

১৩/১০২৮। আবূ দরদা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্থ করিবে, সে দাজ্জালের [ফিতনা] থেকে পরিত্রাণ পাবে।” অন্য বর্ণনায় ‘কাহাফ সূরার শেষ দিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে। [মুসলিম] [13]

14/1029 وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: بَيْنَمَا جِبْرِيلُ عليه السلام  قَاعِدٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم  سَمِعَ نَقِيضاً مِنْ فَوقِهِ، فَرَفَعَ رَأسَهُ، فَقَالَ: هَذَا بَابٌ مِنَ السَّمَاءِ فُتِحَ اليَوْمَ وَلَمْ يُفْتَحْ قَطُّ إِلاَّ اليَوْمَ، فنَزلَ منهُ مَلَكٌ، فَقَالَ: هَذَا مَلَكٌ نَزَلَ إِلَى الأَرْضِ لَمْ يَنْزِلْ قَطّ إِلاَّ اليَومَ فَسَلَّمَ وَقَالَ: أَبْشِرْ بِنُورَيْنِ أُوتِيتَهُمَا لَمْ يُؤتَهُمَا نَبِيٌّ قَبْلَكَ: فَاتِحَةُ الكِتَابِ، وَخَواتِيمُ سُورَةِ البَقَرَةِ، لَنْ تَقْرَأَ بِحَرْفٍ مِنْهَا إِلاَّ أُعْطِيتَه. رواه مسلم ১৪/১০২৯। আব্দুল্লাহ ইবনি আব্বাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা জিবরীল عليه السلام নবী সাঃআঃ-এর নিকট বসে ছিলেন। এমন সময় উপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি [জিবরীল] মাথা তুলে বলিলেন, ‘এটি আসমানের একটি দরজা, যা আজ খোলা হল। ইতোপূর্বে এটা কখনও খোলা হয়নি। ওদিক দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হল। এই ফেরেশতা যে দুনিয়াতে অবতরণ করেছে, ইতোপূর্বে কখনও অবতরণ করেনি।’ সুতরাং তিনি এসে নবী সাঃআঃ-কে সালাম জানিয়ে বলিলেন, “আপনি দু’টি জ্যোতির সুসংবাদ নিন। যা আপনার আগে কোন নবীকে দেওয়া হয়নি। [সে দু’টি হচ্ছে] সূরা ফাতেহা ও সূরা বাক্বারার শেষ আয়াতসমূহ। ওর মধ্য হইতে যে বর্ণটিই পাঠ করবেন, তাই আপনাকে দেওয়া হইবে।” [মুসলিম] [14]


[1] সহীহুল বুখারী ৪৪৭৪, ৪৬৪৭, ৪৭০৩, ৫০০৬, নাসায়ী ৯১৩, আবূ দাউদ ১৪৫৮, ইবনু মাজাহ ৩৭৮৫, আহমাদ ১৫৩০৩, ১৭৩৯৫, দারেমী ১৪৯২, ৩৭১

[2] সহীহুল বুখারী ৫০১৫, ৫০১৪, ৫৫৪৩, ৭৩৭৫, নাসায়ী ৯৯৫, আবূ দাউদ ১৪৬১, আহমাদ ১০৬৬৯, ১০৭৩১, ১০৭৯৭, ১০৯১৩, ১০৯৯৯, মুওয়াত্তা মালিক ৪৭৭, ৪৮৩

[3] সহীহুল বুখারী ৫০১৫, ৫০১৪, ৫৫৪৩, ৭৩৭৫, নাসায়ী ৯৯৫, আবূ দাউদ ১৪৬১, আহমাদ ১০৬৬৯, ১০৭৩১, ১০৭৯৭, ১০৯১৩, ১০৯৯৯, মুওয়াত্তা মালিক ৪৭৭, ৪৮৩

[4] মুসলিম ৮১২, তিরমিযী ২৮৯৯, ২৯০০, ইবনু মাজাহ ৩৭৮৭, আহমাদ ৯২৫১, দারেমী ৩৪৩২

[5] সহীহুল বুখারী ৭৭৪ নং হাদীসের পরবর্তী বাব। তিরমিযী ২৯০১, আহমাদ ১২০২৪, ১২১০৩, দারেমী ৩৪৩৫

[6] মুসলিম ৮১৪, তিরমিযী ২৯০২, নাসায়ী ৯৫৩, ৯৫৪, ৫৪৩০, ৫৪৩১, ৫৪৩৩, ৫৪৩৮, ৫৪৩৯, ৫৪৪০, আবূ দাউদ ১৪৬২, আহমাদ ১৬৮৪৫, ১৬৮৭১, ১৬৮৮৩, ১৬৮৯০, দারেমী ৩৪৩৯, ৩৪৪০, ৩৪৪১

[7] তিরমিযী ২০৫৮, নাসায়ী ৫৪৯৪, ইবনু মাজাহ ৩৫১১

[8] আবূ দাউদ ১৪০০, ২৮৯১, ইবনু মাজাহ ৩৭৮৬

[9] সহীহুল বুখারী ৪০০৮, ৫০১০, ৫০৪০, ৫০৫১, ৮০৭, তিরমিযী ২৮৮১, আবূ দাউদ ১৩৯৭, ইবনু মাজাহ ১৩৬৮, ১৩৬৯, আহমাদ ১৬৬২০, ১৬৬৪২, ১৬৬৫১, দারেমী ১৪৮৭. ৩৩৮৮

[10] মুসলিম ৭৮০, তিরমিযী ২৮৭৭, আবূ দাউদ ২০৪২, আহমাদ ৭৭৬২, ৮২৩৮, ৮৫৮৬, ৮৬৯৮, ৮৮০৯

[11] মুসলিম ৮১০, আবূ দাউদ ১৪৬০, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৭

[12] সহীহুল বুখারী ২৩১১ নং হাদীসের পরবর্তী বাব।

[13] আমি (আলবানী) বলছিঃ দ্বিতীয় বর্ণনাটি শায আর প্রথম বর্ণনাটি নিরাপদ (সহীহ্) যেমনটি আমি “সিলসিলাহ্ সহীহাহ্” গ্রন্থে (নং ৫৮২) তাহকীক্ব করেছি। এর সাক্ষ্য দিচ্ছে নাওয়াস ইবনু সাম‘আনের আগত হাদীসটি। যেটিকে (১৮১৭) নম্বরে লেখক উল্লেখ করেছেন। কারণ এতে বলা হয়েছে যে, তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি দাজ্জালকে পেয়ে বসবে সে যেন তার বিপক্ষে সূরা কাহাফের প্রথম অংশ পাঠ করে। মুসলিম ৮০৯, তিরমিযী ২৮৮৬, আবূ দাউদ ৪৩২৩, আহমাদ ২১২০০, ২৬৯৭০, ২৬৯৯২

[14] মুসলিম ৮০৬

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply