নতুন লেখা

অধ্যায়ঃ আসরের নামাজ আগে আগে আদায় করা মুস্তাহাব

অধ্যায়ঃ আসরের নামাজ আগে আগে আদায় করা মুস্তাহাব

অধ্যায়ঃ আসরের নামাজ আগে আগে আদায় করা মুস্তাহাব >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩৪. অধ্যায়ঃ আসরের নামাজ আগে আগে আদায় করা মুস্তাহাব

১২৯৫

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে সময় নামাজ আদায় করিতেন সূর্য তখনও আকাশের অনেক উপরে অবস্থান করত এবং তখনও তার তেজ বিদ্যমান থাকত। [অর্থাৎ-তেজ কমে বর্ণ পরিবর্তন হত না] নামাজ শেষে যার দরকার পড়ত সে মাদীনার আওয়ালী বা শহরতলীর দিকে চলে যেত এবং সেখানে পৌছার পরেও সূর্য আকাশের বেশ উপরে থাকত।{১}

তবে বর্ণনাকারী কুতায়বাহ্ তার বর্ণনায় “তারা আওয়ালী বা শহরতলীর দিকে চলে যেত” কথাটা উল্লেখ করেননি। [ই.ফা.১২৮২, ইসলামিক সেন্টার-১২৯৫]

{১} আওয়ালী মাদীনাহ্ নগরীর চতুস্পার্শ্বস্থ গ্রামসমূহ যেগুলো মাদীনার ২/৩ মাইল থেকে ৮ মাইল পর্যন্ত সীমানায় অবস্থিত। [শারহে মুসলিম- ১ম খন্ড ২২৫ পৃষ্ঠা] }

১২৯৬

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসরের নামাজ আদায় করিতেন যখন ছায়া প্রতিটি বস্তুর সমান হত। [ই.ফা.১২৮৩, ইসলামিক সেন্টার-১২৯৫]

১২৯৭

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা এমন সময় আসরের নামাজ আদায় করতাম যে নামাজের পর আমাদের মধ্যে থেকে কেউ চাইলে [মাদীনার শহরতলীর] কুবা নামক স্থানে যেয়ে পৌছত। অথচ সূর্য তখনও অনেক উপরে অবস্থান করত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ১২৯৬]

১২৯৮

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর সাথে এমন সময় আসরের নামাজ আদায় করতাম যে তারপর লোকজন বানী আমর ইকনু আওফ গোত্রের এলাকায় গিয়ে দেখিতে পেত যে, তারা তখন মাত্র আসরের নামাজ আদায় করছে। [ই.ফা.১২৮৫, ইসলামিক সেন্টার-১২৯৭]

১২৯৯

আলা ইবনি আবদুর রহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তিনি একদিন আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] – এর বসরাস্থ বাড়ীতে গেলেন। আর বাড়ীটি মসজিদের পাশেই অবস্থিত ছিল। তিনি [আলা ইবনি আবদুর রহমান] তখন সবেমাত্র যুহরের নামাজ আদায় করছেন। আলা ইবনি আবদুর রহমান বলেনঃ আমরা তাহাঁর [আনাস ইবনি মালিকের] কাছে গেলে তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি আসরের নামাজ আদায় করেছ? আমরা জবাবে তাঁকে বললাম, আমরা এইমাত্র যুহরের নামাজ আদায় করে আসলাম। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ যাও আসরের নামাজ আদায় করে আসো। এরপর আমরা গিয়ে আসরের নামাজ আদায় করে তার কাছে ফিরে আসলে তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ ঐ নামাজ হলো মুনাফিকের নামাজ যে বসে বসে সূর্যের প্রতি তাকাতে থাকে আর যখন তা অস্তপ্রায় হয়ে যায় তখন উঠে গিয়ে চারবার ঠোকর মেরে আসে।এভাবে সে আল্লাহকে কমই স্মরণ করিতে পারে। [ই.ফা.১২৮৬, ইসলামিক সেন্টার-১২৯৮]

১৩০০

আবু উসামাহ্ ইবনি সাহর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা একদিন উমর ইবনি আবদুল আযীয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর সাথে যুহরের নামাজ আদায় করলাম এবং সেখান থেকে আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] – এর কাছে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখিতে পেলাম তিনি আসরের নামাজ আদায় করছেন। নামাজ শেষে আমি জিজ্ঞেস করলামঃ চাচাজান, এখন আপনি কোন ওয়াক্তের নামাজ আদায় করিলেন? তিনি বললেনঃ আসর , আর এটিই হচ্ছে রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নামাজ যা আমরা তার সাথে আদায় করতাম। [ই.ফা.১২৮৭, ইসলামিক সেন্টার-১৩৯৯]

১৩০১

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের সাথে আসরের নামাজ আদায় করিলেন। নামাজ শেষে বানী সালামাহ্ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি তার কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] ! আমরা আমাদের একটা উট যবেহ করিতে চাই। আমরা চাই আপনিও সেখানে উপস্থিত থাকুন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আচ্ছা, ঠিক আছে। এরপর তিনি রওয়ানা হলে আমরাও তাহাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা গিয়ে দেখলাম উটটি তখনও যবেহ করা হয়নি। উটটি যবেহ করিতে প্রস্তুত করা হলো এবং তার কিছু গোশত রান্না করা হলো। সূর্যাস্তের পূর্বেই আমরা তা খেলাম। [ই.ফা.১২৮৮, ইসলামিক সেন্টার-১৩০০]

১৩০২

রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে এমন সময় আসরের নামাজ আদায় করতাম যে নামাজের পর উট যাবাহ করা হত। {১} তা দশ ভাগে বিভক্ত করা হত। এরপর তা রান্না করে সূর্যাস্তের পূর্বেই সু-সিদ্ধ গোশত খেতাম। [ই.ফা.১২৮৯, ইসলামিক সেন্টার-১৩০১]

{১} উটকে যাবাহ করা হয় না বরং নাহর করা হয়। সামনের বাম দিকে বেঁধে দাঁড়ানো অবস্থায় কন্ঠনালীর প্রথমে দুদিকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে, তারপর রক্ত ঝরে নিজে নিজেই পড়ে যায়।

১৩০৩

আওযাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তিনি বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর যুগে আমরা আসরের নামাজের পর উট যবেহ করতাম। কিন্তু তিনি বলেননি যে, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে [আসরের] নামাজ আদায় করতাম। [ই.ফা.১২৯০, ইসলামিক সেন্টার-১৩০২]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: