নামাজের মধ্যে ঝুঁকে পড়ার সময় এবং সোজা হয়ে উঠার সময় আল্ল-হু আকবার বলিতে হইবে, কিন্তু রুকূ থেকে উঠার সময় “সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলিতে হইবে

নামাজের মধ্যে ঝুঁকে পড়ার সময় এবং সোজা হয়ে উঠার সময় আল্ল-হু আকবার বলিতে হইবে, কিন্তু রুকূ থেকে উঠার সময় “সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলিতে হইবে >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১০. অধ্যায়ঃ নামাজের মধ্যে ঝুঁকে পড়ার সময় এবং সোজা হয়ে উঠার সময় আল্ল-হু আকবার বলিতে হইবে, কিন্তু রুকূ থেকে উঠার সময় “সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলিতে হইবে

৭৫৩

আবু সালামাহ্‌ ইবনি আবদুর রহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হুরায়রা্[রাদি.] তাদের নামাজ আদায় করে দেখাতেন। তিনি প্রতিবার ঝুঁকে পড়ার সময় এবং সোজা হওয়ার সময় আল্ল-হু আকবার বলিতেন। তিনি নামাজ শেষে বলিতেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের চেয়ে অধিক পরিমাণে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নামাজ আদায় করিতে পারি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৫১, ইসলামিক সেন্টার-৭৬৪]

৭৫৪

আবু বাক্‌র ইবনি আবদুর রহমান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আবু হুরায়রা্[রাদি.]-কে বলিতে শুনেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সলাতে দাঁড়াতেন আল্ল-হু আকবার বলে নামাজ শুরু করিতেন। তিনি তাকবীর বলে রুকূতে যেতেন। তিনি রুকূ থেকে পিঠ সোজা করে দাঁড়ানোর সময়

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ [যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করেন আল্লাহ তার কথা শুনে থাকেন]

বলিতেন। অতঃপর দাঁড়ানো অবস্থায়

رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ [হে আল্লাহ! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা] বলিতেন।

তিনি তাকবীর সাজদাহ থেকে মাথা তোলার সময়ও তাকবীর বলিতেন। প্রত্যেক রাকআতে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত তিনি এরূপই করিতেন। দ্বিতীয় রাকআতের বসার পর ওঠার সময়ও তিনি তাকবীর বলিতেন।

অতঃপর আবু হুরায়রা্[রাদি.] বলিলেন, আমি তোমাদের সবার তুলনায় অধিক পরিমাণে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর অনুরূপ নামাজ আদায় করিতে পারি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৫২, ইসলামিক সেন্টার-৭৬৫]

৭৫৫

আবু হুরাইরাহ্[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন নামাজের জন্য দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলে নামাজ শুরু করিতেন। …… উপরের [ইবনি খুরায়য-এর] হাদীসের অনুরূপ। কিন্তু এ বর্ণনায় আবু হুরাইরার কথা, “আমি তোমাদের সবার তুলনায় অধিক পরিমাণে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর অনুরূপ নামাজ আদায় করিতে পারি”- কথাটুকু উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৫৩, ইসলামিক সেন্টার-৭৬৬]

৭৫৬

আবু সালামাহ্‌ ইবনি আবদুর রহমান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মারওয়ান যখন আবু হুরায়রা্[রাদি.]-কে মাদীনায় খলীফা নিযুক্ত করিলেন- তিনি যখন ফরয সলাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলে শুরু করিতেন। উপরের হাদীসের অনুরূপ। উক্ত হাদীসেই রয়েছে, তিনি নামাজ শেষে সালাম ফিরিয়ে মাসজিদে উপস্থিত লোকেদের দিকে মুখ করে বসলেন। তিনি বললেনঃ সে সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের চেয়ে রসূলুল্ললাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ নামাজ আদায় করিতে পারি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৫৪, ইসলামিক সেন্টার-৭৬৭]

৭৫৭

আবু সালামাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হুরায়রা্[রাদি.] নামাজের মধ্যে যখনই ঝুঁকতেন অথবা উঠতেন তাকবীর বলিতেন। আমরা বললাম, হে আবু হুরায়রা! এটা কিসের তাকবীর? তিনি বলিলেন, এটা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজের তাকবীর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৫৫, ইসলামিক সেন্টার-৭৬৮]

৭৫৮

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি প্রতিবার উঠা-বসায় তাকবীর বলিতেন। তিনি বলিতেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এমনই করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৫৬, ইসলামিক সেন্টার-৭৬৯]

৭৫৯

মুতার্‌রিফ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি এবং ইমরান ইবনি হুসায়ন [রাদি.] আলী [রাদি.]-এর পিছনে নামাজ আদায় করেছি। তিনি যখন সিজদায় যেতেন আল্ল-হু আকবার বলিতেন, যখন সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখনও আল্ল-হু আকবার বলিতেন এবং দুই রাকআত পূর্ণ করে [তাশাহুদ পড়ার পর] উঠার সময়ও আল্ল-হু আকবার বলিতেন। আমরা যখন নামাজ শেষ করলাম, ইমরান [রাদি.] আমার হাত ধরে বলিলেন, তিনি [আলী] আমাদেরকে মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর অনুরূপ নামাজ আদায় করালেন। অথবা [রাবীর সন্দেহ] তিনি বলিলেন, তিনি [আলী] আমাদেরকে মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৫৭, ইসলামিক সেন্টার-৭৭০]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply