নতুন লেখা

আল্লাহ তায়ালার রহমত এর ব্যাপকতা

আল্লাহ তায়ালার রহমত এর ব্যাপকতা

আল্লাহ তায়ালার রহমত এর ব্যাপকতা >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ১০, অধ্যায়ঃ ২

  • অধ্যায়ঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ

২৩২৩। আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন সত্তরবারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই ও তাওবাহ্ করি।

[বোখারী]{১} ,{১} সহীহ : বোখারী ৬৩০৭, তিরমিজি ৩২৫৯, মুজামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ৮৭৭০, শুআবুল ঈমান ৬৩০, ইবনি হিব্বান ৯২৫, সহীহ আল জামি ৭০৯১। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩২৪। আগার আল মুযানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার অন্তরে মরিচা পড়ে, আর [ওই মরিচা পরিষ্কার করার জন্য] আমি দিনে একশবার করে ইস্তিগফার করি।

[মুসলিম]{১},{১} সহীহ : মুসলিম ২৭০২, মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৮৮৩, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৮৮১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩৩৩৪১, শুআবুল ঈমান ৬৩১, সহীহ আল জামি ২৪১৫। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩২৫। {আগার আল মুযানী [রাদি.]] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে মানবমন্ডলী! আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ করো। আর আমিও প্রতিদিন একশবার করে আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ করি।

[মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : মুসলিম ২৭০২, সহীহাহ্ ১৪৫২। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩২৬. আবু যার গিফারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার নাম করে যেসব হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন তার একটি হলো তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন যে, আল্লাহ তাবারক ওয়াতাআলা বলেনঃ হে আমার বান্দাগণ! আমি আমার ওপর যুলম করাকে হারাম করে দিয়েছি। [যুলম করা আমার জন্য যা, তোমাদের জন্যও তা] তাই আমি তোমাদের জন্যও যুলম করা হারাম করে দিয়েছি। অতঃপর [পরস্পরের প্রতি] যুলম করো না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই পথভ্রষ্ট। কিন্তু আমি যাকে পথ দেখাই [সে-ই পথের সন্ধান পায়]। সুতরাং তোমরা আমার নিকট পথের সন্ধান কামনা কর, তাহলে আমি তোমাদেরকে পথের সন্ধান দেবো। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই ক্ষুধার্ত। কিন্তু আমি যাকে খাবার দেই [সে খাবার পায়]। তাই তোমরা আমার কাছে খাবার চাও। আমি তোমাদেরকে খাবার দেবো। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই উলঙ্গ। কিন্তু আমি যাকে পোশাক পরাই [সে পোশাক পরে]। তাই তোমরা আমার নিকট পোশাক চাও। আমি তোমাদেরকে [পোশাক] পরাব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা রাতদিন গুনাহ [অপরাধ] করে থাকো। আর আমি তোমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দেই। সুতরাং তোমরা আমার নিকট ক্ষমা চাও, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবো।

হে আমার বান্দাগণ! তোমরা ক্ষতিসাধন করার সাধ্য রাখো না যে, আমার ক্ষতি করিবে। এভাবে তোমরা আমার কোন উপকার করারও শক্তি রাখো না যে, আমার কোন উপকার করিবে। তাই হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন্ তোমাদের মধ্যে হইতে সর্বাপেক্ষা পরহেযগার ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর নিয়ে পরহেযগার হয়ে যায়। তাও আমার সাম্রাজ্যের কিছুমাত্র বৃদ্ধি করিতে পারবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন্ তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অত্যাচারী-অনাচারী ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর নিয়েও অত্যাচার-অনাচার করে তাদের এ কাজও আমার সাম্রাজ্যের কিছুমাত্র ক্ষতি বৃদ্ধি করিতে পারবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন্ একই মাঠে দাঁড়িয়ে একসাথে আমার কাছে প্রার্থনা করে। আর আমি তোমাদের প্রত্যেককে তাদের চাওয়া জিনিস দান করি তাহলে আমার কাছে যা আছে, তার কিছুই কমাতে পারবে না। শুধু এতখানি ছাড়া যতটি একটি সূঁই যখন সমুদ্রে ডুবিয়ে আবার উঠিয়ে নেয়া হলে যতটুকু সমুদ্রের পানি কমায়। হে আমার বান্দাগণ! এখন বাকী রইল তোমাদের [কৃতকর্মের] আমাল, যা আমি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করব। অতঃপর এর প্রতিদান আমি পরিপূর্ণভাবে দেবো। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন ভাল [ফল] লাভ করে, সে যেন আল্লাহর শুকর আদায় করে। আর যে মন্দ [ফল] লাভ করে, সে যেন নিজেকে ছাড়া অন্যকে দোষারোপ না করে [কেননা তা তারই কৃতকর্মের ফল]।

[মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : মুসলিম ২৫৭৭, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯৫৫৭, সহীহ আত তারগীব ১৬২৫, সহীহ আল জামি ৪৩৪৫। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩২৭. আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলের মধ্যে জনৈক ব্যক্তি নিরানব্বই জন মানুষ হত্যা করেছিল। তারপর সে শারঈ বিধান জানার জন্য একজন আল্লাহভীরুর কাছে জিজ্ঞেস করিল, এ ধরনের মানুষের জন্য তাওবার কোন অবকাশ আছে কিনা? তিনি বললেন, নেই। তারপর সে তাকেও [আলিমকেও] হত্যা করিল। এভাবে সে লোকদেরকে অনবরত জিজ্ঞেস করিতে থাকল। এক ব্যক্তি শুনে বলিল, অমুক গ্রামে গিয়ে অমুককে জিজ্ঞেস করো। এমন সময়েই সে মৃত্যুমুখে পতিত হলো এবং মৃত্যুর সময় সে ওই গ্রামের দিকে নিজের সিনাকে বাড়িয়ে দিলো। তারপর রহমাতের মালাক [ফেরেশতা] ও আযাবের মালাক পরস্পর ঝগড়া করিতে লাগল, কারা তার রূহ নিয়ে যাবে। এমন সময় আল্লাহ তাআলা ওই গ্রামকে বললেন, তুমি মৃত ব্যক্তির কাছে আসো। আর নিজ গ্রামকে বললেন, তুমি দূরে সরে যাও। অতঃপর আল্লাহ মালায়িকাহকে [ফেরেশতাদের] বললেন, তোমরা উভয় দিকের পথের দূরত্ব পরিমাপ করে দেখো। মাপের পর মৃতকে এ গ্রামের দিকে এক বিঘত নিকটে পাওয়া গেল। সুতরাং তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো।

[বোখারী, মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : বোখারী ৩৪৭০, মুসলিম ২৭৬৬, ইবনি মাজাহ ২৬২২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৫৮৩৬, শুআবুল ঈমান ৬৬৬৩, ইবনি হিববান ৬১৫, সহীহাহ্ ২৬৪০, সহীহ আত তারগীব ৩১৫১, সহীহ আল জামি ২০৭৬। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩২৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা গুনাহ না করিতে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে সরিয়ে এমন জাতিকে সৃষ্টি করিতেন যারা গুনাহ করত ও আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা চাইত। আর আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন।

[মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : মুসলিম ২৭৪৯, শুআবুল ঈমান ৬৭০০, সহীহাহ্ ১৯৫০, সহীহ আত তারগীব ৩১৪৯। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩২৯. আবু মূসা আল আশ্আরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা রাতে নিজের হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে দিনের বেলায় গুনাহকারীর তাওবাহ্ করিতে পারেন। আবার দিনের বেলায় তিনি তার হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে রাতের বেলায় গুনাহকারীর তাওবাহ্ করিতে পারেন। এভাবে তিনি হাত প্রসারিত করিতে থাকিবেন যতদিন না সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হবে।

[মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : মুসলিম ২৭৫৯, সহীহাহ্ ৩৫১৩, সহীহ আত তারগীব ৩১৩৫, সহীহ আল জামি ১৮৭১। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৩০. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন গুনাহ করার পর তা স্বীকার করে [অনুতপ্ত হয়] আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।

[বোখারী, মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : বোখারী ২৬৬১, মুসলিম ২৭৭০, ইবনি আবী শায়বাহ্ ৯৭৪৮, ইবনি হিববান ৪২১২, শুআবুল ঈমান ৬৬২৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৫৫৭, মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৪৪। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৩১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক হইতে সূর্য উদয়ের [কিয়ামাতের] আগে তাওবাহ্ করিবে আল্লাহ তাআলা তার তাওবাহ্ কবূল করিবেন।

[মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : মুসলিম ২৭০৩, ইবনি হিববান ৬২৯, সহীহ আত তারগীব ৩১৩৬, সহীহ আল জামি ৬১৩৩। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৩২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা তার বান্দার তাওবাহ্ করায় অত্যন্ত আনন্দিত হন যখন সে তাহাঁর কাছে তাওবাহ্ করে। তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তির খুশীর চেয়ে অধিক খুশী হন, যে ব্যক্তির আরোহণের বাহন মরুভূমিতে তার কাছ থেকে ছুটে পালায়, আর এ বাহনের উপর আছে তার খাবার ও পানীয়। এ কারণে সে হতাশ-নিরাশ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় আরোহণের বাহন সম্পর্কে একেবারেই নিরাশ হয়ে একটি গাছের কাছে এসে সে এর ছায়ায় শুয়ে পড়ে। এমন সময় সে হঠাৎ দেখে, বাহন তার কাছে এসে দাঁড়ানো। সে বাহনের লাগাম ধরে আর আনন্দে আবেগআপ্লুত হয়ে বলে উঠে, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু। সে আনন্দের আতিশয্যে এ ভুল করে।

[মুসলিম]{১},{১} সহীহ : মুসলিম ২৭৪৭, সহীহ আত তারগীব ৩১৪৩, সহীহ আল জামি ৫০৩০। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৩৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দা গুনাহ করে বলে, হে আমার রব! আমি গুনাহ করে ফেলেছি। তুমি আমার এ গুনাহ ক্ষমা করে দাও। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, [হে আমার মালায়িকাহ্ [ফেরেশতা]!] আমার বান্দা কি জানে, তার একজন রব আছেন? যে রব গুনাহ মাফ করেন অথবা [এর জন্য] তাকে শাস্তি দেন? [তোমরা সাক্ষী থেক] আমি তাকে মাফ করে দিলাম। অতঃপর যতদিন আল্লাহ চাইলেন, সে গুনাহ না করে থাকল। তারপর আবার সে গুনাহ করিল ও বলিল, হে রব! আমি আবার গুনাহ করে ফেলেছি। আমার এ গুনাহ মাফ করো। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে, তার একজন রব আছেন, যে রব গুনাহ মাফ করেন অথবা এর জন্য শাস্তি দেন। আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম। অতঃপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন, সে কোন গুনাহ না করে থাকল। তারপর সে আবারও গুনাহ করিল এবং বলিল, হে রব! আমি আবার গুনাহ করেছি। তুমি আমার এ গুনাহ ক্ষমা করো। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে, তার একজন রব আছেন, যে রব গুনাহ মাফ করেন অথবা অপরাধের জন্য শাস্তি দেন? আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করলাম। সে যা চায় করুক।

[বোখারী, মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : বোখারী ৭৫০৭, মুসলিম ২৭৫৮, আহমাদ ৭৯৪৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৭৬৪, শুআবুল ঈমান ৬৬৮৫, সহীহ আত তারগীব ৩১৪০, ইবনি হিববান ৬২২। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৩৪. জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জনৈক ব্যক্তি বলিল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তাআলা অমুক ব্যক্তিকে ক্ষমা করিবেন না। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, এমন কে আছে যে আমাকে কসম দিতে পারে যে, [আমার নামে শপথ করিতে পারে] আমি অমুককে ক্ষমা করব না। যাও, আমি তাকে মাফ করে দিলাম এবং তোমার আমাল নষ্ট করে দিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এ বাক্য অথবা অনুরূপ বাক্য বলেছেন।

[মুসলিম]{১},{১} সহীহ : মুসলিম ২৬২১, মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৬৭৯, শুআবুল ঈমান ৬২৬১, ইবনি হিববান ৫৭১১, সহীহাহ্ ২০১৪, সহীহ আত তারগীব ২৯৬১, সহীহ আল জামি ২০৭৫। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৩৫. শাদ্দাদ ইবনি আওস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাইয়্যিদুল ইসতিগফার এভাবে পড়বে,

 اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعَتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْ لِىْ فَإِنَّه لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ

আল্ল-হুম্মা আনতা রব্বী, লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা খলাকতানী, ওয়া আনা- আবদুকা, ওয়া আনা- আলা- আহদিকা, ওয়া ওয়াদিকা মাস্‌তাত্বতু, আঊযুবিকা মিন শার্‌রি মা- সনাতু, আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিযাম্‌বী ফাগফিরলী, ফাইন্নাহূ লা- ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা- আনতা

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রভু, তুমি ছাড়া কোন মাবূদ নেই; তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা, আমি আমার সাধ্যানুযায়ী তোমার চুক্তি ও অঙ্গীকারের উপর প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি আমার কৃতকর্মের মন্দ পরিণাম হইতে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমি স্বীকার করি, আমার প্রতি তোমার দানকে এবং স্বীকার করি আমার গুনাহকে। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই।]।

অতঃপর তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, যে ব্যক্তি এ সাইয়্যিদুল ইসতিগফারের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে দিনে পড়বে আর সন্ধ্যার আগে মৃত্যুবরণ করিবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে এ দুআ রাতে পড়বে আর সকাল হবার আগে মৃত্যুবরণ করিবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

[বোখারী]{১}, {১} সহীহ : বোখারী ৬৩০৬, ৬৩২৩, তিরমিজি ৩৩৯৩, নাসায়ী ৫৫২২, আহমাদ ১৭১১১, মুজামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ১০১৪, মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৭১৭২, শুআবুল ঈমান ৬৫৮, ইবনি হিব্বান ৯৩৩, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৬২০/৪৮৪, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ২১, সহীহ আত তারগীব ৬৫০, সহীহ আল জামি ৩৬৭৪। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২৩৩৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন,

আর-বি

হে আদম সন্তান! তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে ডাকবে ও আমার নিকট ক্ষমার আশা পোষণ করিবে, তোমার অবস্থা যা-ই হোক না কেন, আমি কারো পরোয়া করি না, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশ পর্যন্তও পৌঁছে, আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব, আমি কারো পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবীসম গুনাহ নিয়েও আমার সাথে সাক্ষাৎ করো এবং আমার সাথে কাউকে শারীক না করে সাক্ষাৎ করো, আমি পৃথিবীসম ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে উপস্থিত হব।

[তিরমিজি]{১}, {১} সহীহ : তিরমিজি ৩৫৪০, সহীহাহ্ ১২৭, সহীহ আত তারগীব ৩৩৮২, সহীহ আল জামি ৪৩৩৮। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৩৭. আহমাদ ও দারিমী আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ঈমাম তিরমিজি [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, হাদিসটি হাসান গরীব।{১}

{১} হাসান : আহমাদ ২১৪৭২, দারিমী ২৮৩০, শারহুস্ সুন্নাহ ১২৯২। তবে আহমাদণ্ডএর সানাদটি দুর্বল। কারণ এর সানাদে শাহর ইবনি হাওসাব একজন দুর্বল। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

২৩৩৮. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, যে জানে আমি গুনাহ মাফ করে দেয়ার মালিক। আমি তাকে মাফ করে দেবো এবং আমি কারো পরোয়া করি না যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমার সাথে কাউকে শারীক না করিবে।

[শারহুস্ সুন্নাহ]{১}, {১} হাসান : মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১১৬১৫, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬৭৬, শারহুস্ সুন্নাহ ৪১৯১, সহীহ আল জামি ৪৩৩০। তবে হাকিম-এর সানাদটি দুর্বল যেমনটি ঈমাম যাহাবী [রহ্ঃ] বলেছেন। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

২৩৩৯. {আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.]] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সবসময় ক্ষমা চায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা হইতে বের হয়ে আসার পথ খুলে দেন এবং প্রত্যেক দুশ্চিন্তা হইতে মুক্ত করেন। আর তাকে এমন রিযক দান করেন, যা সে কক্ষনো ভাবতেও পারেনি

। [আহমদ, আবু দাউদ, ইবনি মাজাহ]{১}, {১} জইফ : আবু দাউদ ১৫১৮, ইবনি মাজাহ ৩৮১৯, রিয়াযুস্ সলিহীন ১৮৮২, জইফ আত তারগীব ১১৪৫, জইফ আল জামি ৫৮২৯, আহমাদ ২২৩৪, মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০৬৬৫, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬৭৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৪২১, যঈফাহ্ ৭০৫। কারণ এর সানাদে হাকাম একজন মাজহূল রাবী।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৩৪০. আবু বাকর সিদ্দীক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে সত্তরবার করে একই গুনাহ করার পরও আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইবে, [ক্ষমা চাওয়ার কারণে] সে যেন প্রকৃতপক্ষে গুনাহ বার বার করেনি।

[তিরমিজি ও আবু দাউদ]{১},{১} জইফ : আবু দাউদ ১৫১৪, তিরমিজি ৩৫৫৯, আদ্ দাওয়াতুল কাবীর ১৬৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৭৬৫, যঈফাহ্ ৪৪৭৪, জইফ আল জামি ৫০০৪। কারণ এর সানাদে মাওলা একজন অপরিচিত রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৩৪১. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী। আর উত্তম পাপী হলো সে ব্যক্তি যে [গুনাহ করে] তাওবাহ্ করে।

[তিরমিজি, ইবনি মাজাহ, দারিমী]{১}, {১} হাসান : তিরমিজি ২৪৯৯, ইবনি মাজাহ ৪২৫১, দারিমী ২৭৬৯, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬১৭, সহীহ আল জামি ৪৫১৫, শুআবুল ঈমান ৬৭২৫। তবে হাকিম এবং শুআবুল ঈমান-এর সানাদটি দুর্বল। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

২৩৪২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিন বান্দা যখন গুনাহ করে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। এরপর সে ব্যক্তি তাওবাহ্ করিল ও ক্ষমা চাইল, তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে গেল [কালিমুক্ত হলো], আর যদি গুনাহ বেশি হয় তাহলে কালো দাগও বেশি হয়। অবশেষে তা তার অন্তরকে ঢেকে ফেলে। এটা সেই মরিচা যার ব্যাপারে কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

كَلَّا بَلْ رَانَ عَلٰى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُوْنَ

এটা কক্ষনো নয়, বরং তাদের অন্তরের উপর [গুনাহের] মরিচা লেগে গেছে, যা তারা প্রতিনিয়ত উপার্জন করেছে- [সূরা আল মুতাফফিফীন ৮৩ : ১৪]। [আহমদ, তিরমিজি, ইবনি মাজাহ; ঈমাম তিরমিজি বলেন, হাদিসটি হাসান সহীহ]{১}

{১} হাসান : তিরমিজি ৩৩৩৪, ইবনি মাজাহ ৪২৪৪, আহমাদ ৭৯৫২, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৩৯০৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৭৬৩, শুআবুল ঈমান ৬৮০৮, সহীহ আত তারগীব ৩১৪১। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

২৩৪৩. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দার প্রাণ [রূহ] ওষ্ঠাগত না হওয়া পর্যন্ত অবশ্যই আল্লাহ তার তাওবাহ্ কবূল করেন। [তিরমিজি, ইবনি মাজাহ]{১}

{১} হাসান : তিরমিজি ৩৫৩৭, ইবনি মাজাহ ৪২৫৩, আহমাদ ৬১৬০, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬৫৯, শুআবুল ঈমান ৬৬৬১, ইবনি হিববান ৬২৮, সহীহ আত তারগীব ৩১৪৩, সহীহ আল জামি ১৯০৩। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

২৩৪৪. আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শয়তান [আল্লাহ তাআলার কাছে] বলিল, হে মহান প্রতিপালক, তোমার ইজ্জতের কসম! আমি তোমার বান্দাদেরকে প্রতিনিয়ত গুমরাহ করিতে থাকব, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহে রূহ থাকিবে। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, আমার ইজ্জত, আমার মর্যাদা ও আমার সুউচ্চ অবস্থানের কসম! আমার বান্দা আমার কাছে যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে থাকিবে, আমি সর্বদা তাদেরকে ক্ষমা করিতে থাকব। [আহমদ]{১}

{১} হাসান লিগয়রিহী : আহমাদ ১১২৩৭, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬৭২, সহীহাহ্ ১০৪, সহীহ আত তারগীব ১৬১৭, সহীহ আল জামি ১৬৫০। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান লিগাইরিহি

২৩৪৫. সফ্ওয়ান ইবনি আসসাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা তাওবাহ্ কবূলের জন্য পশ্চিম দিকে একটি দরজা খুলে রেখেছেন, যার প্রশস্ততা সত্তর বছরের পথ। সূর্য পশ্চিম দিকে উদয় না হওয়া পর্যন্ত এ দরজা বন্ধ করা হবে না। আর এটাই হলো আল্লাহ তাআলার এ বাণীর ব্যাখ্যাঃ

يَوْمَ يَأْتِىْ بَعْضُ اٰيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ اٰمَنَتْ مِنْ قَبْلُ

যেদিন [কিয়ামাতের পূর্বে] তোমার রবের কোন বিশেষ নিদর্শন এসে পৌঁছবে, সেদিন এ ঈমান তার কোন কাজে আসবে না। কেননা এ নিদর্শন আসার আগে ঈমান আনেনি- [সূরা আল আন্আম ৬ : ১৫৮]।

[তিরমিজি, ইবনি মাজাহ]{১}, {১} হাসান : তিরমিজি ৩৫৩৬, সহীহ আত তারগীব ৩১৩৭, সহীহ আল জামি ৪১৯১, আহমাদ ১৮১০০, মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৭৩৮৩। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

২৩৪৬. মুআবিয়াহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হিজরতের ধারাবাহিকতা বন্ধ হবে না ততকক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ তাওবার দরজা বন্ধ না হয়। আর তাওবার দরজা বন্ধ হবে না, সূর্য পশ্চিমাকাশে উদয় না হওয়া পর্যন্ত।

[আহমদ, আবু দাউদ ও দারিমী]{১}, {১} সহীহ : আবু দাউদ ২৪৭৯, আহমাদ ১৬৯০৬, দারিমী ২৫৫৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৭৭৭৮, ইরওয়া ১২০৮, সহীহ আল জামি ৭৪৬৯। তবে আহমাদণ্ডএর সানাদটি দুর্বল। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৪৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলের মধ্যে দু ব্যক্তি পরস্পর বন্ধু ছিল। তাদের একজন ছিল বড় আবিদ আর অন্যজন ছিল গুনাহগার। আবিদ তাকে বলত, তুমি যেসব [গুনাহের] কাজে লিপ্ত আছো তা হইতে বিরত থাক। গুনাহগার বলত, আমাকে আমার রবের কাছে ছেড়ে দাও। পরিশেষে একদিন আবিদ গুনাহগার ব্যক্তিকে এমন একটি বড় গুনাহের কাজে লিপ্ত পেলো, যা তার কাছে খুবই গুরুতর বলে মনে হল এবং বলিল, বিরত থাকো। সে বলিল, আমাকে আমার রবের কাছে ছেড়ে দাও। তোমাকে কী আমার জন্য পাহারাদার করে পাঠানো হয়েছে? আবিদ ব্যক্তি বলিল, আল্লাহর কসম! তোমাকে কক্ষনো আল্লাহ ক্ষমা করিবেন না এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের কাছে একজন মালাক [ফেরেশতা] পাঠালেন। সে তাদের উভয়ের রূহ কবয করিল। তারা উভয়েই আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হলো। তখন গুনাহগার ব্যক্তিকে আল্লাহ বললেন, আমার রহমাতের মাধ্যমে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। আর আবিদ ব্যক্তিকে বললেন, তুমি কি আমাকে আমার বান্দার প্রতি রহম করিতে বাধা দিতে পারো? সে বলিল, না, হে রব। তখন আল্লাহ বললেন, একে জাহান্নামে প্রবেশ করাও।

[আহমাদ]{১}, {১} সহীহ : আবু দাউদ ৪৯০১, আহমাদ ৮২৯২, শুআবুল ঈমান ৬২৬২, ইবনি হিববান ৫৭১২, সহীহ আল জামি ৪৪৫৫। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৪৮. আসমা বিনতু ইয়াযীদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরআন মাজীদের এ আয়াত পড়তে শুনিয়াছি,

يَاعِبَادِىَ الَّذِىْ أَسْرَفُوْا عَلَى انْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَّحْمَةِ اللّٰهِ إِنَّ اللّٰهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًا

ইয়া- ইবা-দিয়াল্লাযী আসরফূ আলা- আনফুসিহিম লা- তাকনাত্বূ মির্ রহমাতিল্লা-হি, ইন্নাল্ল-হা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা জামীআ– [অর্থাৎ- হে বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হইতে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ তাআলা সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন- সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩।]

তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, আর এ ব্যাপারে আল্লাহ কারো পরোয়া করেন না। [আহমদ, তিরমিজি; ঈমাম তিরমিজি বলেন, হাদিসটি হাসান গারীব; আর শারহুস্ সুন্নাহ্য় রয়েছে يَقْرَأ [পড়েছেন] এর পরিবর্তে يَقُولُ [বলেছেন]। {১}

{১} সানাদ দুর্বল : তিরমিজি ৩২৩৭, আহমাদ ২৭৫৬৯, মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৪১১, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২৯৮২, শারহুস্ সুন্নাহ ৪১৮৭। কারণ এর সানাদে শাহর ইবনি হাওসাব দুর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৩৪৯. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আল্লাহর কালামের এ বাণী, ইল্লাল্লামামা অর্থাৎ- সগীরাহ্ গুনাহ ছাড়া। এক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! যদি তুমি ক্ষমা করো, ক্ষমা করো বড় গুনাহ। কেননা এমন কোন বান্দা আছে কি, যে সগীরাহ্ গুনাহ করেনি। [তিরমিজি; তিনি বলেছেন, হাদিসটি হাসান সহীহ গরীব]{১}

{১} সহীহ : তিরমিজি ৩২৮৪, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৮০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৭৪৬, সহীহ আল জামি ১৭১৭। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৫০. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের সকলেই পথহারা, কিন্তু তারা ছাড়া যাদেরকে আমি পথ দেখিয়েছি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে পথের সন্ধান চাও, আমি তোমাদেরকে পথ দেখাব। তোমাদের সকলেই অভাবগ্রস্ত, তারা ছাড়া যাদেরকে আমি অভাবমুক্ত করেছি। অতএব তোমরা আমার কাছে চাও আমি তোমাদেরকে রিযক দান করব। তোমাদের সকলেই পাপী, তারা ছাড়া যাদেরকে আমি নিরাপদে রেখেছি। অতঃপর তোমাদের যে বিশ্বাস স্থাপন করে, আমি ক্ষমা করে দেয়ার শক্তি রাখি, সে যেন আমার কাছে ক্ষমা চায় আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো, আর [এ ব্যাপারে] আমি কারো পরোয়া করি না। যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত, তোমাদের জীবিত ও মৃত তোমাদের কাঁচা ও শুকনো [শিশু ও বৃদ্ধ] সকলেই আমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর হয়ে যায়, তথাপিও তা আমার সাম্রাজ্যের একটি মাছির পালক পরিমাণও বাড়াতে পারবে না।

আর যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ, জীবিত ও মৃত, কাঁচা ও শুকনো সকলেই আমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতভাগ্য ব্যক্তির অন্তরের মতো এক অন্তর হয়ে যায়, তাও আমার সাম্রাজ্যের একটি মাছির পালক পরিমাণও কমাতে পারবে না। তোমাদের প্রথম ও শেষ, জীবিত ও মৃত, কাঁচা ও শুকনো সকলেই যদি এক প্রান্তসীমায় জমা হয়, এরপর তোমাদের প্রত্যেকে তার ইচ্ছানুযায়ী আমার কাছে চায় [প্রার্থনা করে]। আর আমি তোমাদের প্রত্যেক প্রার্থনাকারীকে [প্রত্যাশা অনুযায়ী] দান করি, তা আমার সাম্রাজ্যে কিছুমাত্র কমাতে পারবে না। যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রের কাছে গিয়ে যদি ওতে একটি সুঁই ডুবিয়ে ওঠায়। এটা এ কারণে যে, আমি বড় দাতা, প্রশস্ত দাতা; আমি যা ইচ্ছা তাই করি। আমার দান হলো, আমার কালাম মাত্র। আমার শাস্তি হলো, আমার হুকুম মাত্র। আর আমি কোন কিছু করিতে চাইলে শুধু বলি, হয়ে যাও, তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়।

[আহমদ, তিরমিজি ও ইবনি মাজাহ]{১}, {১} সানাদ দুর্বল : তিরমিজি ২৪৯৫, ইবনি মাজাহ ৪২৫৭, জইফ আল জামি ৬৪৩৭, জইফ আত তারগীব ১০০০। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৩৫১. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে বর্ণনা করেন যে, একদিন তিনি [আল্লাহ তাআলার] এ আয়াত পড়লেন, হুওয়া আহলুত্ তাকওয়া- ওয়া আহলুল মাগফিরহ্ [অর্থাৎ- আল্লাহ হলেন ভয়ের অধিকারী ও মাগফিরাত করার মালিক]। তখন তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, তোমাদের রব বলেন, আমি লোকের ভয় করার অধিকারী। তাই যে আমাকে ভয় করিল, আমি তাকে মাফ করারও অধিকারী।

[তিরমিজি, ইবনি মাজাহ ও দারিমী]{১}, {১} জইফ : তিরমিজি ৩২২৮, ইবনি মাজাহ ৪২৯৯, আহমাদ ১২৪৪২, দারিমী ২৭৬৬, জইফ আল জামি ৪০৬১। কারণ এর সানাদে সুহায়ল ইবনি আবী হাযম একজন দুর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৩৫২. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা একই মাজলিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইসতিগফার একশবার গণনা করতাম। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিতেন,

رَبِّ اغْفِرْ لِىْ وَتُبْ عَلَىَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

রব্বিগফিরলী ওয়াতুব্ আলাইয়্যা ইন্‌নাকা আন্‌তাত্ তাও্ওয়া-বুল গফূর [অর্থাৎ- হে রব! তুমি আমাকে ক্ষমা করো। আমার তাওবাহ্ কবূল করো। কেননা তুমি তাওবাহ্ কবূলকারী ও ক্ষমাকারী।]।

[আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ ও ইবনি মাজাহ]{১}, {১} সহীহ : আবু দাউদ ১৫১৬, তিরমিজি ৩৪৩৪, ইবনি মাজাহ ৩৮১৪, আহমাদ ৪৭২৬, ইবনি হিববান ৯২৭, সহীহাহ্ ৫৫৬, সহীহ আল জামি ৩৪৮৬। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৫৩. বিলাল ইবনি ইয়াসার ইবনি যায়দ হইতে বর্ণীতঃ

বলেন, আমার পিতা আমার দাদার মাধ্যমে বলেন, আমার দাদা যায়দ বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনেছেন। যে ব্যক্তি বলিল,

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ الَّذِىْ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ غُفِرَ لَه وَإِنْ كَانَ قَدْ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ

আস্‌তাগফিরুল্ল-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি

[অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাহাঁর কাছে তাওবাহ্ করি।]।

আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করিবেন, যদিও সে যুদ্ধের ময়দান হইতে পালিয়ে যেয়ে থাকে।

[তিরমিজি, আবু দাউদ। তবে আবু দাউদ বলেন, বর্ণনাকারীর নাম হলো হিলাল ইবনি ইয়াসার। তিরমিজি বলেন, হাদিসটি গরীব]{১}, {১} সহীহ লিগয়রিহী : আবু দাউদ ১৫১৭, তিরমিজি ৩৫৭৭, রিয়াযুস্ সলিহীন ১৮৮৩, সহীহ আত তারগীব ১৬২২। এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ লিগাইরিহি

অধ্যায়ঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৩৫৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তাহাঁর কোন নেক বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন। এ অবস্থা দেখে সে [নেক বান্দা] বলবে, হে আমার রব! আমার এ মর্যাদা কিভাবে বৃদ্ধি হলো? তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্য মাগফিরাত কামনা করার কারণে।

[আহমাদ]{১}, {১} সহীহ : ইবনি মাজাহ ৩৬৬০, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯৭৪০, আহমাদ ১০৬১০, সহীহাহ্ ১৫৯৮, সহীহ আল জামি ১৬১৭। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৫৫. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি হলো পানিতে পড়া ব্যক্তির মতো সাহায্যপ্রার্থী। সে তার পিতা-মাতা, ভাই-বন্ধুর দুআ পৌঁছার প্রতীক্ষায় থাকে। তার কাছে যখন দুআ পৌঁছে, তখন তার কাছে সারা দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল জিনিসের চেয়ে এ দুআ বেশি প্রিয় হয়। আর আল্লাহ তাআলা দুনিয়াবাসীদের দুআয় কবরবাসীদেরকে পাহাড় পরিমাণ রহমত পৌঁছান এবং মৃত ব্যক্তিদের জন্য জীবিতদের পক্ষ থেকে হাদিয়্যাহ্ [উপহার] হলো তাদের জন্য ক্ষমা চাওয়া।

[বায়হাক্বী- শুআবুল ঈমান]{১},{১} মুনকার : শুআবুল ঈমান ৭৫২৭, যঈফাহ্ ৭৯৯। কারণ এর সানাদে ইবনি আবী আইয়্যাশ একজন মাজহূল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ মুনকার

২৩৫৬. আবদুল্লাহ ইবনি বুসর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৌভাগ্যবান হবে সে, যার আমালনামায় ইস্তিগফার বা ক্ষমা চাওয়া বেশি পাওয়া যাবে। [ইবনি মাজাহ। আর ঈমাম নাসায়ী তাহাঁর আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ্ একদিন ও একরাতের আমাল {কাজ] কিতাবে বর্ণনা করিয়াছেন।]{১}

{১} সহীহ : ইবনি মাজাহ ৩৮১৮, শুআবুল ঈমান ৬৩৮, সহীহ আত তারগীব ১৬১৮, সহীহ আল জামি ৩৯৩০। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৫৭. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিতেন, হে আল্লাহ! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো যারা ভাল কাজ করে খুশী হয় ও মন্দ কাজ করে ক্ষমা চায়

। [ইবনি মাজাহ, বায়হাক্বী- দাওয়াতুল কাবীর]{১},{১} জইফ : ইবনি মাজাহ ৩৮২০, আহমাদ ২৪৯৮০, আদ্ দাওয়াতুল কাবীর ২১১, শুআবুল ঈমান ৬৫৯৬, জইফ আল জামি ১১৬৮। কারণ এর সানাদে আলী ইবনি যায়দ একজন দুর্বল রাবী।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৩৫৮. হারিস ইবনি সুওয়াইদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

বলেন, আবদুল্লাহ ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.] আমাকে দুটো কথা বলেছেন- একটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে, আর অপরটি তাহাঁর নিজের পক্ষ থেকে। তিনি বলেছেন, মুমিন নিজের গুনাহকে মনে করে সে যেন কোন পাহাড়ের নীচে বসে আছে, যা তার উপর ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করে। অপরদিকে গুনাহগার ব্যক্তি নিজের গুনাহকে দেখে একটি মাছির মতো, যা তার নাকের উপর বসল, আর তা সে হাত দিয়ে নাড়িয়ে তাড়িয়ে দিলো।

এরপর তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি, আল্লাহ তাহাঁর মুমিন বান্দার তাওবায় সে লোকের চেয়ে বেশি আনন্দিত হন, যে লোক কোন ধ্বংসকারী মরুভূমিতে পৌঁছেছে, আর তার সাথে তার বাহন রয়েছে, যার উপর তার খাদ্য ও পানীয় রয়েছে। সেখানে সে জমিনে মাথা রাখল ও কিছুক্ষণ ঘুমাল। অতঃপর জেগে দেখল তার বাহন পালিয়ে গেছে। সে তা খুঁজতে শুরু করিল। অবশেষে গরম ও তৃষ্ণা এবং অপরাপর দুঃখ-বেদনা যা আল্লাহর মর্জি তাকে দুর্বল করে ফেলল। তখন সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিল, আমি যেখানে ছিলাম সেখানে গিয়ে [আমৃত্যু] শুয়ে থাকব। সুতরাং সে সেখানে গিয়ে নিজের বাহুর উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়ল, যাতে সে মৃত্যুবরণ করে।

হঠাৎ এক সময় জেগে দেখে তার বাহন তার কাছে, বাহনের উপর তার খাদ্য-সামগ্রীও আছে। তখন সে তার বাহন ও খাদ্য-সামগ্রী ফেরত পাওয়ার আকস্মিকতায় যেরূপ খুশী হয়, আল্লাহ তাহাঁর মুমিন বান্দার তাওবায় এর চেয়েও বেশি খুশী হয়। [ঈমাম মুসলিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে শুধু মারফূ অংশ এবং ঈমাম বোখারী ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.] থেকে মাওকূফ ও মারফূ উভয় অংশ বর্ণনা করিয়াছেন]{১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬৩০৮, মুসলিম ২৭৪৪, সহীহ আত তারগীব ৩১৫৫। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৩৫৯. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ওই মুমিন বান্দাকে ভালবাসেন, যে গুনাহ করে তাওবাহ্ করে।{১}

{১} মাওযূ [জাল] : আহমাদ ৬০৫, শুআবুল ঈমান ৬৭২০, যঈফাহ্ ৯৬, জইফ আল জামি ১৭০৫। কারণ এর সানাদে আবু আবদুল্লাহ মাসলামাহ্ আর রাযী এর সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। এই হাদিসটির তাহকীকঃ জাল হাদিস

২৩৬০. সাওবান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি,

يَا عِبَادِىَ الَّذِينَ أَسْرَفُوْا عَلٰى أنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا

ইয়া- ইবা-দিয়াল্লাযীনা আসরফূ আলা- আনফুসিহিম, লা- তাকনাত্বূ …... [অর্থাৎ- হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমাত হইতে নিরাশ হয়ো না- [সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩]। এ আয়াতের পরিবর্তে সারা দুনিয়া হাসিল হওয়াকেও আমি পছন্দ করি না। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। অতঃপর তিনবার করে বললেন, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে তার ব্যাপারেও।{১}

{১} জইফ : আহমাদ ২২৩৬২, যঈফাহ্ ৪৪০৯, জইফ আল জামি ৪৯৮০, শুআবুল ঈমান ৬৭৩৫, মুজামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ১৮৯০। কারণ এর সানাদে আবু আবদুর রহমান আল জাবালানী একজন মাজহূলুল হাল রাবী এবং ইবনি লাহ্ইআহ্ একজন দুর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৩৬১. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা তার বান্দাকে ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত [আল্লাহ ও তার বান্দার মধ্যে] পর্দা না পড়ে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহর রসূল! পর্দা কী? তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, কোন ব্যক্তির মুশরিক হয়ে মৃত্যুবরণ করা।

উপরোক্ত তিনটি হাদিসই বর্ণনা করিয়াছেন ঈমাম আহমদ, আর শেষ হাদিসটি ঈমাম বায়হাক্বী বর্ণনা করিয়াছেন কিতাবিল বাসি ওয়ান্ নুশূর-এ।{১}

{১} জইফ : আহমাদ ২১৫২২, ইবনি হিববান ৬২৭, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬৬০। কারণ এর সানাদে উমার ইবনি নুআয়ম এবং তার উস্তায উমামাহ্ ইবনি সালমান উভয়েই মাজহূল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৩৬২. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কাউকেও আল্লাহর সমতুল্য মনে না করে মৃত্যুবরণ করিবে, তার পাহাড় পরিমাণ গুনাহ থাকলেও আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন। [বায়হাক্বী কিতাবিল বাসি ওয়ান্ নুশূর-এ হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন]{১}

{১} বায়হাক্বী : আল বাসি ওয়ান্ নুশূর ৩১ এই হাদিসটির তাহকীকঃ নির্ণীত নয়

২৩৬৩. আবদুল্লাহ ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুনাহ হইতে তাওবাহকারী ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই। [ইবনি মাজাহ।]

আর বায়হাক্বী শুআবুল ঈমান-এ বলেন, নাহরানী এটা একাই বর্ণনা করিয়াছেন, যদিও তিনি মাজহূল ব্যক্তি। আর শারহুস্ সুন্নাহ্য় ঈমাম বাগাবী এটাকে মাওকূফ {আবদুল্লাহ-এর কথা] হিসেবে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি {আবদুল্লাহ] বলেছেন, অনুশোচনাই হলো তাওবাহ্, আর তাওবাহকারী হলো ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই।]{১}

{১} হাসান লিগয়রিহী : ইবনি মাজাহ ৪২৫০, মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০২৮১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৫৬১, সহীহ আত তারগীব ৩১৪৫, সহীহ আল জামি ৩০০৮, শারহুস্ সুন্নাহ ১৩০৭। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান লিগাইরিহি

২৩৬৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা মাখলূকাত [সৃষ্টিজগত] সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিলে একটি কিতাব লিখলেন, যা আরশের উপর সংরক্ষিত আছে। এতে আছে, আমার রহমত আমার রাগকে প্রশমিত করেছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, আমার রাগের উপর [রহমত] জয়ী হয়েছে

। [বোখারী, মুসলিম]{১},{১} সহীহ : বোখারী ৭৪২২, মুসলিম ২৭৫১, আহমাদ ৭৫০০, শারহুস্ সুন্নাহ ৪১৭৮। আল্লাহ তায়ালার রহমত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

হজ্জ পর্ব

হজ্জ পর্ব হজ্জ পর্ব >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন পর্ব-১১ হজ্জ পর্বঅধ্যায়বিষয়হাদিস সংখ্যা১১১-১৫হজ্জ পর্ব(২৫০৫-২৭৫৮)=২৫৪১১০হজ্জ ১১১ইহরাম ও …

Leave a Reply

%d bloggers like this: