আল্লাহর হক, ভরসা, তাকদীর, রিয়া, কসম ও গালি দেয়া

অধ্যায় ৩৩ তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর উপর ভরসা
অধ্যায় ৩৪ অধ্যায়
অধ্যায় ৩৫ তাকদীরের {ফায়সালার} উপর ধৈর্য ধারণ করা ঈমানের অঙ্গ
অধ্যায় ৩৬ রিয়া [প্রদর্শনেচ্ছা] প্রসংগে শরিয়তের বিধান
অধ্যায় ৩৭ নিছক পার্থিব স্বার্থে কোন কাজ করা শিরক
অধ্যায় ৩৮ যে ব্যাক্তি আল্লাহর হালালকৃত জিনিস হারাম এবং হারামকৃত জিনিসকে হালাল করার ব্যাপারে {অন্ধভাবে}, আলেম, বজুর্গ ও নেতাদের আনুগত্য করলো, সে মূলত তাদেরকে রব হিসেবে গ্রহণ করলো
অধ্যায় ৩৯ অধ্যায়
অধ্যায় ৪০ আল্লাহর ‘আসমা ও সিফাত’ {নাম ও গুণাবলী} অস্বীকারকারীর পরিণাম
অধ্যায় ৪১ আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করার পরিণাম
অধ্যায় ৪২ আল্ল¬াহ তাআলার সাথে কাউকে শরিক না করা
অধ্যায় ৪৩ আল্লাহর নামে কসম করে সন্তুষ্ট না থাকার পরিণাম
অধ্যায় ৪৪ ‘আল্ল¬াহ এবং আপনি যা চেয়েছেন’ বলা
অধ্যায় ৪৫ যে ব্যক্তি যমানাকে গালি দেয় সে আল্লাহকে কষ্ট দেয়

৩৩ তম অধ্যায়ঃ তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর উপর ভরসা

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাকো, তাহলে একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা করো।” [মায়েদা : ২৩]
২। আল্লাহ তাআলা আরো এরশাদ করিয়াছেন,
“একমাত্র তারাই মোমিন যাদের সামনে আল্লাহর কথা স্মরণ করা হলে তাদের অন্তরে ভয়ের সঞ্চার হয়।” [আনফাল . ২]
“ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্য আল্লাহ তাআলাই যথেষ্ট।” [সুরা তালাক . ৩]
৪। ইবনে আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,
حسبنا الله ونعم الوكيل এ কথা ইবরাহীম [আঃ] তখন বলেছিলেন, যখন তাঁহাকে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো। আর মুহাম্মদ [সাঃআঃ] একথা বলেছিলেন তখন, যখন তাঁহাকে বলা হলো,
“লোকেরা আপনাদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বাহিনী জড়ো করেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করুন। তখন তাঁদের ঈমান আরো বৃদ্ধি গেলো”। [আল-ইমরান: ১৭৩]।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .
১। আল্লাহর উপর ভরসা ফরজ।
২। আল্লাহর উপর ভরসা করা ঈমানের শর্ত।
৩। সুরা আনফালের ২নং আয়াতের ব্যাখ্যা।
৪। আয়াতটির তাফসির, শেষাংশেই রয়েছে।
৫। সুরা তালাকের ৩ নং আয়াতের তাফসির।
৬। حسبنا لله نعم الوكيل কথাটি ইবরাহীম [আঃ] ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম বিপদের সময় বলার কারণে এর গুরুত্ব ও মর্যাদা।

৩৪ তম অধ্যায় .

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“তারা কি আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত {নির্ভয়} হয়ে গেছে? বস্তুতঃ আল্ল¬াহর পাকড়াও থেকে বাঁচার ব্যাপারে একমাত্র
হতভাগ্য ক্ষতিগ্রস্ত ছাড়া অন্য কেউ ভয়-হীন হতে পারে না।” [আরাফঃ ৯৯]।
২। আল্লাহ তাআলা আরো এরশাদ করিয়াছেন,
“একমাত্র পথভ্রষ্ট লোকেরা ছাড়া স্বীয় রবের রহমত থেকে আর কে নিরাশ হতে পারে? [সুরা হিজর : ৫৬]
৩। ইবনে আব্বাস [রাদি.] থেকে বর্নিত আছে যে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল¬ামকে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাবে বলিয়াছেন, ‘কবীরা গুনাহ হচ্ছে .
“আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা, আল্ল¬াহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া এবং আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা।”
৪। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ [রাদি.] বলিয়াছেন,
“সবচেয় বড় গুনাহ হচ্ছে : আল্লাহর শাস্তি হতে নিজেকে নিরাপদ মনে করা, আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হওয়া এবং আল্লাহর করুণা থেকে নিজেকে বঞ্চিত মনে করা।”
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .
১। সুরা আ’রাফের ৯৯নং আয়াতের তাফসির।
২। সুরা হিজরের ৫৬ নং আয়াতের তাফসির।
৩। আল্ল¬াহর পাকড়াও থেকে ভয়হীন ব্যক্তির জন্য কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন।

৩৫ তম অধ্যায়ঃ তাকদীরের {ফায়সালার} উপর ধৈর্য ধারণ করা ঈমানের অঙ্গ

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ঈমান আনে, তার অন্তরকে তিনি হেদায়াত দান করেন।” [তাগাবুনঃ ১১]
২। আলকামা [রাদি.] বলিয়াছেন, ঐ ব্যক্তিই মোমিন, যে ব্যক্তি বিপদ আসলে মনে করে তা আল্ল¬াহর পক্ষ থেকে এসেছে। এর ফলে সে বিপদগ্রস্থ হয়েও সন্তুষ্ট থাকে এবং বিপদকে খুব সহজেই স্বীকার করে নেয়।
৩। সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা [রাদি.] থেকে বর্নিত আছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম এরশাদ করিয়াছেন,
“মানুষের মধ্যে এমন দু’টি {খারাপ} স্বভাব রয়েছে যার দ্বারা তাদের কুফরী প্রকাশ পায়। একটি হচ্ছে, বংশ উলে¬খ করে খোটা দেয়া, আর একটি হচ্ছে মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা।”
৪। ইমাম বুখারি ও মুসলিম ইবনে মাসউদ [রাদি.] হতে মারফু হাদীসে বর্ণনা করেন,
“আল্লাহ তাআলা যখন তাঁহার কোন বান্দার মঙ্গল করতে চান, তখন তাড়াতাড়িকরে দুনিয়াতেই তার {অপরাধের} শাস্তি দিয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে তিনি যখন তাঁহার কোন বান্দার অমঙ্গল করতে চান, তখন দুনিয়াতে তার পাপের শাস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকনে, যেন কেয়ামতের দিন তাকে পুরো শাস্তি দিতে পারেন।
৫। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম এরশাদ করিয়াছেন,
“পরীক্ষা যত কঠিন হয়, পুরস্কার তত বড় হয।” আল্লাহ তাআলা যখন কোন জাতিকে ভালবাসেন, তখন সে জাতিকে তিনি পরীক্ষা করেন। এতে যে ব্যক্তি সন্তুষ্টি থাকে, তার উপর আল্লাহ ও সন্তুষ্ট থাকেন। আর যে ব্যক্তি অসন্তুষ্ট হয়, তার প্রতি আল্লাহও অসন্তুষ্ট থাকেন। [তিরমিজি]
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .
১। সুরা তাগাবুন এর ১১ নং আয়াতের তাফসির।
২। বিপদে ধৈর্য ধারণ ও আল্ল¬াহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের অঙ্গ।
৩। কারো বংশের প্রতি অপবাদ দেয়া বা দুর্নাম করা কুফরীর শামিল।
৪। যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে, গাল- চাপড়ায়, জামার আস্তিন ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহেলী যুগের কোন রীতি নীতির প্রতি আহবান জানায়, তার প্রতি কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন।
৫। বান্দার মঙ্গলের প্রতি আল্লাহর ইচ্ছার নিদর্শন।
৬। বান্দার প্রতি আল্ল¬াহর অমঙ্গলেচ্ছার নিদর্শন।
৭। বান্দার প্রতি আল্ল¬াহর ভালবাসার নিদর্শন।
৮। আল্লাহর প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া হারাম।
৯। বিপদে আল্ল¬াহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার সওয়াব।

৩৬ তম অধ্যায়ঃ রিয়া [প্রদর্শনেচ্ছা] প্রসংগে শরিয়তের বিধান

আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“{ হে মুহাম্মদ}, আপনি বলে দিন, আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার নিকট এ মর্মে অহী পাঠানো হয় যে, তোমাদের ইলাহই একক ইলাহ।” [কাহাফ: ১১০]
২। আবু হুরায়রা [রাদি.] থেকে ‘মারফু’ হাদীসে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আমি অংশীদারদের শিরক [অর্থাৎ অংশিদারিত্ব] থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। যে ব্যক্তি কোন কাজ করে ঐ কাজে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করে, আমি {ঐ} ব্যক্তিকে এবং শিরককে {অংশীদারকে ও অংশিদারিত্বকে} প্রত্যাখ্যান কির।” [মুসলিম]
৩। আবু সাঈদ [রাদি.] থেকে অন্য এক ‘মারফু’ হাদীসে বর্ণিত আছে,
“আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ে সংবাদ দেব না? যে বিষয়টি আমার কাছে ‘মসীহ দাজ্জালের’ চেয়েও ভয়ঙ্কর?” সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হাঁ। তিনি বললেন, ‘তা হচ্ছে ‘শিরকে খফী’ বা গুপ্ত শিরক। । {আর এর উদাহরণ হচ্ছে} একজন মানুষ দাঁড়িয়ে শুধু এ জন্যই তার নামাজকে খুব সুন্দরভাবে আদায় করে যে, কোন মানুষ তার নামাজ দেখছে {বলে সে মনে করছে}। [আহমাদ]
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .
১। সুরা কাহাফের ১১০ নং আয়াতের তাফসির।
২। নেক আমল প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে মারাত্মক ত্র“টি হচ্ছে উক্ত নেক কাজ করতে গিয়ে আল্লাহ ছাড়ও অন্যকে খুশী করার নিয়ত।
৩। এর {অর্থাৎ শিরক মিশ্রিত নেক আমল প্রত্যাখ্যাত হওয়ার} অনিবার্য কারণ হচ্ছে, আল্লাহর কারো মুখাপেক্ষী না হওয়া। {এ জন্য গাইরুল¬াহ মিশ্রিত কোন আমল তাঁহার প্রয়োজন নেই।}
৪। আরো একটি কারণ হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার সাথে যাদেরকে শরিক করা হয়, তাদের সকলের চেয়ে আল্লাহ বহুগুণে উত্তম।
৫। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম এর অন্তরে রিয়ার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের উপর ভয় ও আশংকা।
৬। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম রিয়ার ব্যাখ্যা এভাবে দিয়াছেন যে, একজন মানুষ মূলত নামাজ আদায় করবে আল্ল¬াহরই জন্যে। তবে নামাজকে সুন্দরভাবে আদায় করবে শুধু এজন্য যে, সে মনে করে কোন মানুষ তার নামাজ দেখছে।

৩৭ তম অধ্যায়ঃ নিছক পার্থিব স্বার্থে কোন কাজ করা শিরক

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“যারা শুধু দুনিয়ার জীবন এবং এর চাকচিক্য কামনা করে, আমি তাদের সব কাজের প্রতিদান দুনিয়াতেই দিয়ে থাকি।” [হুদ : ১৫-১৬]
২। আবু হুরায়রা [রাদি.] থেকে সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে রসুল [সাঃআঃ] এরশাদ করিয়াছেন,
“দীনার ও দেরহাম অর্থাৎ টাকা-পয়সার পূজারীরা ধ্বংস হোক। রেশম পূজারী {পোষাক- বিলাসী} ধ্বংস হোক। তাকে দিতে পারলেই খুশী হয়, না দিতে পারলে রাগান্বিত হয়। সে ধ্বংস হোক, তার আরো খারাপ হোক, কাঁটা-ফুটলে সে তা খুলতে সক্ষম না হয় {অর্থাৎ সে বিপদ থেকে উদ্ধার না পাক।} সে বান্দা সৌভাগ্যের অধিকারী যে আল্লাহর রাস্তায় তার ঘোড়ার লাগাম ধরে রেখেছে, মাথার চুলগুলোকে এলো-মেলো করেছে আর পদযুগলকে করেছে ধূলিমলিন। তাকে পাহারার দায়িত্ব দিলে সে পাহারাতেই লেগে থাকে। সেনাদলের শেষ ভাগে তাকে নিয়োজিত করলে সে শেষ ভাগেই লেগে থাকে। সে অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেয়া হয় না। তার ব্যাপারে সুপারিশ করলে তার সুপারিশ গৃহীত হয় না।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়ঃ
১। আখেরাতের আমল দ্বারা মানুষের দুনিয়া হাসিলের ইচ্ছা।
২। সুরা হুদের ১৫ ও ১৬ নং আয়াতের তাফসির।
৩। একজন মুসিলমকে দিনার- দেরহাম ও পোষাকের বিলাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা।
৪। উপরোক্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যা হচ্ছে, বান্দাহকে দিতে পারলেই খুশী হয়, না দিতে পারলে অসন্তুষ্ট হয়। এ ধরনের লোক দুনিয়াদার।
৫। দুনিয়াদারকে আল্ল¬াহর নবি এ বদদোয়া করিয়াছেন, “সে ধ্বংস হোক, সে অপমানিত হোক বা অপদস্ত হোক।”
৬। দুনিয়াদারকে এ বলেও বদদোয়া করিয়াছেন, “তার গায়ে কাঁটা ফুটুক এবং তা সে খুলতে না পারুক।”
৭। হাদীসে বর্ণিত গুণাবলীতে গুণান্বিত মুজাহিদের প্রশংসা করা হয়েছে। সে সৌভাগ্যের অধিকারী বলে জানান হয়েছে।

৩৮ তম অধ্যায়ঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহর হালালকৃত জিনিস হারাম এবং হারামকৃত জিনিসকে হালাল করার ব্যাপারে {অন্ধভাবে}, আলেম, বজুর্গ ও নেতাদের আনুগত্য করলো, সে মূলত তাদেরকে রব
হিসেবে গ্রহণ করলো

১। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস [রাদি.] বলেন,
“তোমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হওয়ার সময় প্রায় ঘনিয়ে এসেছে। কারণ, আমি বলছি, “রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বলিয়াছেন।” অথচ তোমরা বলছো, “আবুবকর এবং ওমর [রাদি.] বলিয়াছেন।”
২। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল [রাদি.] বলিয়াছেন, “ঐ সব লোকদের ব্যাপারে আমার কাছে খুবই অবাক লাগে, যারা হাদিসের সনদ ও ‘সিহহাত’ {বিশুদ্ধতা} অর্থাৎ হাদিসের পরস্পরা ও সহীহ হওয়ার বিষয়টি জানার পরও সুফইয়ান সওরীর মতামতকে গ্রহণ করে। অথচ আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“যারা তাঁহার নির্দেশের বিরোধিতা করে, তাদের এ ভয় করা উচিৎ যে, তাদের উপর কোন কঠিন পরীক্ষা কিংবা কোন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এসে পড়ে।” [নূর . ৮৩]
তুমি কি জানো ফিতনা কি? ফিতনা হচ্ছে শিরক। সম্ভবত তাঁহার কোন কথা অন্তরে বক্রতার সৃষ্টি করলে এর ফলে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।
৩। আদী বিন হাতেম [রাদি.] হতে বর্ণিত আছে, তিনি রসুল
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ [التوبة: ৩১]
“তারা {ইয়াহুদী ও খৃষ্টান জাতির লোকেরা} আল্লাহর পরিবর্তে তাদের ধর্মীয় নেতা ও পুরোহিতদেরকে রব হিসেবে বরণ করে নিয়েছিল।” [তাওবা . ৩১] তখন আমি নবীজিকে বললাম, ‘আমরাতো তাদের ইবাদত করি না।’ তিন বললেন, ‘আচ্ছা আল্লাহর হালাল ঘোষিত জিনিসকে তারা হারাম বললে, তোমরা কি তা হারাম হিসেবে গ্রহণ করো না? আবার আল্লাহর হারাম ঘোষিত জিনিসকে তারা হালাল বললেন, তোমরা কি তা হালাল হিসেবে গ্রহণ করো না? তখন আমি বললাম, হ্যা, তিনি তখন বললেন, ‘এটাই তাদের ইবাদত [করার মধ্যে গণ্য।]’ [আহমাদ ও তিরমিজী]
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়
১। সুরা নূরের ৬৩ নং আয়াতের তাফসির।
২। সুরা তাওবার ৩১ নং আয়াতের তাফসির।
৩। আদী বিন হাতেম ইবাদতের যে অর্থ অস্বীকার করিয়াছেন, সে ব্যাপারে সতর্কীকরণ।
৪। ইবনে আব্বাস [রাদি.] কর্তৃক আবু বকর এবং ওমর [রাদি.] এর দৃষ্টান্ত আর ইমাম আহমাদ [রাদি.] কর্তৃক সুফইয়ান সওরীর দৃষ্টান্ত পেশ করা।
৫। অবস্থার পরিবর্তন মানুষকে এমন {গোমরাহীর} পর্যায়ে উপনীত করে, যার ফলে পন্ডিত ও পীর বুজুর্গের পূজা করাটাই তাদের কাছে সর্বোত্তম ইবাদতে পরিণত হয়। আর এরই নাম দেয়া হয় “বেলায়াত।” ‘আহবার’ তথা পন্ডিত ব্যক্তিদের ইবাদত হচ্ছে, তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। অতঃপর অবস্থার পরিবর্তন সাধিত হয়ে এমন পর্যায়ে এসে উপনীত হইয়াছেযে, যে ব্যক্তি গাইরুল¬াহর ইবাদত করলো, সে সালেহ বা পূণ্যবান হিসেবে গণ্য হচ্ছে। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় অর্থে যে ইবাদত করলো অর্থাৎ আল্লাহর জন্য ইবাদত করলো, সেই জাহেল বা মূর্খ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

৩৯ তম অধ্যায় .

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“আপনি কি তাদেরকে দেখেননি যারা আপনার উপর যে কিতাব নাযিল হইয়াছেএবং আপনার পূর্বে যা নাযিল হইয়াছেতার প্রতি ঈমান এনেছে বলে দাবী করে? তারা বিচার ফয়সালার জন্য তাগুত {খোদাদ্রোহী শক্তি} এর কাছে যায়, অথচ তা অস্বীকার করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হইয়াছেআর শয়তান তাদেরকে চরম গোমরাহীতে নিমজ্জিত করতে চায়।” [নিসা . ৬০]
“তাদেরকে যখন বলা হয়, তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরাইতে শান্তিকামী।” [বাকারা . ১১]
৩। আল্লাহ তাআলা অন্যত্র এরশাদ করিয়াছেন,
“পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তোমর বিপর্যয় সৃষ্টি করো না।” [আ’রাফ . ৫৬]
৪। আল্লাহ তাআলা আরো এরশাদ করিয়াছেন,
“তারা কি বর্বর যুগের আইন চায়?” [মায়েদা . ৫০]
৫। আব্দুল¬াহ বিন ওমর হইতে বর্ণিত আছে, ‘রসুল সাল্ল¬াল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম এরশাদ করিয়াছেন,
“তোমাদের কেউ ঈমানাদর হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমার আনীত আদর্শের অধীন হয়।” [ইমাম নববী হাদীসটিকে সহী বলিয়াছেন]
৬। ইমাম শা’বী [রহ:] বলিয়াছেন, একজন মুনাফিক এবং একজন ইহুদীর মধ্যে [একটি ব্যাপারে] ঝগড়া ছিলো। ইহুদী বললো, ‘আমরা এর বিচার- ফয়সালার জন্য মুহাম্মদ [সাঃআঃ] এর কাছে যাবো, কেননা মুহাম্মদ [সাঃআঃ] ঘুষ গ্রহণ করেন না, এটা তার জানা ছিলো। আর মুনাফিক বললো, ‘ফায়সালার জন্য আমরা ইহুদী বিচারকের কাছে যাবো, কেননা ইয়াহুদীরা ঘুষ খায়, এ কথা তার জানা ছিলো। পরিশেষে তারা উভয়েই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, তারা এর বিচার ও ফয়সালার জন্য জোহাইনা গোত্রের এক গণকের কাছে যাবে। তখন এ আয়াত নাযিল হয় .
আরেকটি বর্ণনা মতে জানা যায়, ঝগড়া- বিবাদে লিপ্ত দু’জন লোকের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। তাদের একজন বলেছিলো, মীমাংসার জন্য আমরা নবি [সাঃআঃ] এর কাছে যাবো, অপরজন বলেছিলো, কা’ব বিন আশরাফের কাছে যাবো।’ পরিশেষে তারা উভয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ওমর রাদি. এর কাছে সোপর্দ করলো। তারপর তাদের একজন ঘটনাটি তাঁহার কাছে উলে¬খ করলো। সে ব্যক্তি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম এর বিচার ফয়সালার ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে পারলো না, তাকে লক্ষ্য করে ওমর রাদি. বললেন, ঘটনাটি কি সত্যিই এরকম? সে বললো, হ্যা, তখন তিনি তরবারির আঘাতে তাকে হত্যা করে ফেললেন।”
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়.
১। সুরা নিসার ৬০ নং আয়াতের তাফসির এবং তাগুতের মর্মার্থ বুঝার ক্ষেত্রে সহযোগিতা।
২। সুরা বাকারার ১১ নং আয়াতের ব্যাখ্যা।
৩। সুরা আরাফের ৫৬ নং আয়াতের তাফসির।
৪। সুরা মায়েদার أفحلكم الجاهلية يبغون এর তাফসির।
৫। এ অধ্যায়ের প্রথম আয়াত
নাযিল হওয়ার সম্পর্কে শা’বী রহ. এর বক্তব্য।
৬। সত্যিকারের ঈমান এবং মিথ্যা ঈমানের ব্যাখ্যা।
৭। মুনাফিকের সাথে ওমর রাদি. এর ব্যবহার সংক্রান্ত ঘটনা।
৮। প্রবৃত্তি যতক্ষণ পর্যন্ত রসুল স. এর আনীত আদর্শের অনুগত হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত কারো ঈমান পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার বিষয়।

৪০ তম অধ্যায়ঃ আল্লাহর ‘আসমা ও সিফাত’ {নাম ও গুণাবলী} অস্বীকারকারীর পরিণাম

১। আল্ল¬াহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“এবং তারা রহমান {আল্লাহর গুণবাচক নাম} কে অস্বীকার করে।” [রা’দ: ৩০]
২। সহীহ বুখারীতে বর্ণিত একটি হাদীসে আলী রাদি. বলেন,
“লোকদেরকে এমন কথা বলো, যা দ্বারা তারা {আল্ল¬াহ ও রসুল সম্পর্কে সঠিক কথা জানতে পারে। তোমরা কি চাও যে, আল্ল¬াহ এবং তাঁহার রসুলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক?”
৩। ইবনে আব্বাস রাদি. হইতে বর্ণিত আছে, আল্ল¬াহর গুণাবলী সম্পর্কে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম থেকে একটি হাদীস শুনে এক ব্যক্তি আল্ল¬াহর গুণকে অস্বীকার করার জন্য একদম ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলো তখন
তিনি বললেন, এরা এ উভয়ের মধ্যে পার্থক্য কি করে করলো? তারা মুহকামের {বা সুস্পষ্ট} আয়াত ও হাদিসের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখালো, আর মুতাশাবাহ {অস্পষ্ট আয়াত ও হাদিসের ক্ষেত্রে } ধ্বংসাত্মক পথ অবলম্বন করলো?”
কুরাইশরা যখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম এর কাছে {আল্ল¬াহর গুণবাচক নাম} ‘রাহমানের} উল্যে¬খ করতে শুনতে পেলো, তখন তারা ‘রাহমান’ গুণটিকে অস্বীকার করলো এ প্রসঙ্গেই وهم يكفرون بالرحمن আয়াতটি নাযিল হয়েছে।
এ অধ্যায় থেকেনিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .
১্ আল্ল¬াহর কোন নাম ও গুণ অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে ঈমান না থাকা।
২। সুরা রাদের وهم يكفرون بالرحمن এর তাফসির।
৩। যে কথা শ্রোতার বোধগম্য নয়, তা পরিহার করা।
৪। অস্বীকারকারীর অনিচ্ছা সত্তেও যেসব কথা আল্ল¬াহ ও তাঁহার রসুলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার দিকে নিয়ে যায়, এর কারণ কি? তার উল্লেখ।
৫। ইবনে আব্বাস [রাদি.] এর বক্তব্য হচ্ছে, আল্ল¬াহর নাম ও গুণাবলীর কোন একটি অস্বীকারকারীর ধ্বংস অনিবার্য।

৪১ তম অধ্যায়ঃ আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করার পরিণাম

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন
“তারা আল্ল¬াহর নেয়ামত চিনে, অতঃপর তা অস্বীকার করে।” [নাহল : ৮৩]
এর মর্মার্থ বুঝাতে মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, কোন মানুষের এ কথা বলা ‘এ সম্পদ আমার, যা আমার পূর্ব পুরুষ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।’ আ’উন ইবনে আবদিল্ল¬াহ বলেন, ‘এর অর্থ হচ্ছে, কোন ব্যক্তির এ কথা বলা, ‘অমুক ব্যক্তি না হলে এমনটি হতোনা।’ ইবনে কুতাইবা এর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘মুশরিকরা বলে, “এটা হইয়াছেআমাদের ইলাহদের সুপারিশের বদৌলতে।”
আবু আব্বাস যায়েদ ইবনে খালেদের হাদীসে- যাতে একথা আছে, ‘আল্ল¬াহ তাআলা বলেন,
“আমার কোন বান্দার ভোরে নিদ্রা ভঙ্গ হয় মোমিন অবস্থায়, আবার কারো ভোর হয় কাফির অবস্থায়”Ñ উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের অনেক বক্তব্য কুরআন ও সুন্নায় উলে¬খ করা হয়েছে। যে ব্যক্তি নেয়ামত দানের বিষয়টি গাইরুল¬াহর সাথে সম্পৃক্ত করে এবং আল্ল¬াহর সাথে কাউকে শরিক করে, আল্ল¬াহ তার নিন্দা করেন।
উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কোন সালাফে- সালেহীন বলেন, বিষয়টি মুশরিকদের এ কথার মতোই, ‘অঘটন থেকে বাঁচার কারণ হচ্ছে অনুকুল বাতাস, আর মাঝির বিচক্ষণতা’ এ ধরনের আরো অনেক কথা রয়েছে যা সাধারণ মানুষেরমুখে বহুল প্রচলিত।
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায় ঃ
১। নেয়ামত সংক্রান্ত জ্ঞান এবং তা অস্বীকার করার ব্যাখ্যা।
২। জেনে- শুনে আল্ল¬াহর নেয়ামত অস্বীকারের বিষয়টি মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত।
৩। মানুষের মুখে বহুল পরিচলিত এসব কথা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করারই শামিল।
৪। অন্তরে দুটি বিপরীতধর্মী বিষয়ের সমাবেশ।

৪২ তম অধ্যায়ঃ আল্ল¬াহ তাআলার সাথে কাউকে শরিক না করা

১। আল্ল¬াহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“অতএব জেনে শুনে তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করো না।”
২। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রাদি. বলেন أنداد {আন্দাদ} হচ্ছে এমন শিরক যা অন্ধকার রাত্রে নির্মল কাল পাথরের উপর পিপিলিকার পদচারণার চেয়েও সুক্ষ্ম। এর উদাহরণ হচ্ছে, তোমার এ কথা বলা, ‘আল্লাহর কসম এবং হে অমুক, তোমার জীবনের কসম, আমার জীবনের কসম।’ ‘যদি ছোট্ট কুকুরটি না থাকতো, তাহলে অবশ্যই আমাদের ঘরে চোর প্রবেশ করতো।’ ‘হাঁসটি যদি ঘরে না থাকতো, তাহলে অবশ্যই চোর আসতো।’ কোন ব্যক্তি তার সাথীকে এ কথা বলা,
‘আল্ল¬াহ তাআলা এবং তুমি যা ইচ্ছা করেছো।’ কোন ব্যক্তির এ কথা বলা, ‘আল্ল¬াহ এবং অমুক ব্যক্তি যদি না থাকে, তাহলে অমুক ব্যক্তিকে এ কাজে রেখো না।’ এগুলো সবই শিরক। [ইবনে আবি হাতেম]
৩। ইবনে ওমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম এরশাদ করিয়াছেন,
“যে ব্যক্তি গাইরুল¬াহর নামে শপথ করলো, সে কুফরী অথবা শিরক করলো।” [তিরমিজি]
৪। ইবনে মাসউদ রাদি. বলিয়াছেন,
“ আল্ল¬াহর নামে মিথ্যা কসম করা আমার কাছে গাইরুল¬াহর নামে সত্য কসম করার চেয়ে বেশী পছন্দনীয়। হুযাইফা [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম এরশাদ করিয়াছেন,
‘আল্ল¬াহ এবং অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছেন’ এ কথা তোমরা বলো না। বরং এ কথা বলো, ‘আল্ল¬াহ যা চেয়েছেন অতঃপর অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছে’ [আবু দাউদ]
ইবরাহীম নখয়ী থেকে এ কথা বর্নিত আছে যে, أعوذبالله وبك অর্থাৎ ‘আমি আল্ল¬াহ এবং আপনার কাছে আশ্রয় চাই’ এ কথা বলা তিনি অপছন্দ করতেন। আর أعوذ بالله ثم بك অর্থাৎ ‘আমি আল্ল¬াহর কাছে আশ্রয় চাই অতঃপর আপনার কাছে আশ্রয় চাই।’ এ কথা বলা তিনি জায়েম মনে করতেন। তিনি আরো বলেন, لولا الله ثم فلان ‘যদি আল্ল¬াহ অতঃপর অমুক না হয়’ একথা বলে, কিন্তু لولا الله وفلان অর্থাৎ ‘যদি আল্ল¬াহ এবং অমুক না হয়’ এ কথা বলো না।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .
১। আল্ল¬াহর সাথে শরিক করা সংক্রান্ত সুরা বাকারার উল্লেখিত আয়াতের তাফসির।
২। শিরকে আকবার অর্থাৎ বড় শিরকের ব্যাপারে নাযিলকৃত আয়াতকে সাহাবায়ে কেরাম ছোট শিরকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে তাফসির করিয়াছেন।
৩। গাইরুল¬াহর নামে কসম করা শিরক।
৪। গাইরুল¬াহর নামে সত্য কসম করা, আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করার চেয়েও জঘন্য গুনাহ।
৫। বাক্যস্থিত و এবং ثم এর মধ্যে পার্থক্য।

৪৩ তম অধ্যায়ঃ আল্লাহর নামে কসম করে সন্তুষ্ট না থাকার পরিণাম

১। ইবনে ওমর রাদি. থেকে বর্নিত আছে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম এরশাদ করিয়াছেন,
“তোমরা তোমাদের বাপ- দাদার নামে কসম করো না, যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে, তার উচিৎ কসমকে বাস্তবায়িত করা। আর যে ব্যক্তির উদ্দেশ্যে আল্ল¬াহর নামে কসম করা হলো, তার উচিৎ উক্ত কসমে সন্তুষ্ট থাকা। আল্ল¬াহর কসমে যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হলো না, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কল্যাণের কোন আশা নেই।” [ইবনে মাজা]
১। বাপ-দাদার নামে কসম করার উপর নিষেধাজ্ঞা।
২। যার জন্য আল্ল¬াহর নামে কসম করা হলো, তার প্রতি {কসমের বিষয়ে} সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ।
৩। আল্ল¬াহর নামে কসম করার পর, যে উহাতে সন্তুষ্ট থাকে না, তার প্রতি ভয় প্রদর্শন ও হুশিয়ারি উচ্চারণ।

৪৪ তম অধ্যায়ঃ ‘আল্ল¬াহ এবং আপনি যা চেয়েছেন’ বলা

১- কুতাইলা হতে বর্ণিত আছে, একজন ইহুদী রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম এর কাছে এসে বললো, ‘আপনারাও আল্ল¬াহর সাথে শিরক করে থাকেন।’ কারণ আপনারা বলে থাকেন, ماشاءالله وشئت আল্ল¬াহ এবং আপনি যা চেয়েছেন। আপনারা আরো বলে থাকেন والكعبة অর্থাৎ কাবার কসম। এরপর রসুল সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বললেন, মুসলমানদের মধ্যে যারা কসম বা হলফ করতে চায়, তারা যেন বলে ورب الكعبة ‘কাবার রবের কসম আর যেন ماشاء الله ثم شئت আল্ল¬াহ যা চেয়েছেন অতঃপর আপনি যা চেয়েছেন’ একথা বলে। [নাসায়ী]
২। ইবনে আব্বাস রাদি. হতে আরো একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রসুল সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম এর উদ্দেশ্যে বললো, ماشاء الله وشئت {আপনি এবং আল্ল¬াহ যা ইচ্ছা করিয়াছেন} তখন রসুল সাল্ল¬াল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম বললেন, أجعلتنى لله ندا “তুমি কি আল্লাহর সাথে আমাকে শরিক করে ফেলেছো?” আসলে আল্ল¬াহ যা ইচ্ছা করিয়াছেন, তা একক ভাবেই করিয়াছেন।
৩। আয়েশা রাদি. এর মায়ের দিক দিয়ে ভাই, তোফায়েল হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, আমি কয়েকজন ইয়াহুদীর কাছে এসেছি। আমি তাদেরকে বললাম,
তোমরা অবশ্যই একটা ভাল জাতি, যদি তোমরা ওযাইরকে আল্ল¬াহর পুত্র না বলতে। তারা বললো, ‘তোমরাও অবশ্যই একটি ভাল জাতি যদি তোমরা ماشاء الله وشاء محمد {আল্ল¬াহ যা ইচ্ছা করিয়াছেন এবং মুহাম্মদ যা ইচ্ছা করিয়াছেন} এ কথা না বলতে! অতঃপর নাসারাদের কিছু লোকের কাছে আমি গেলাম এবং বললাম, ‘ঈসা আ. আল্ল¬াহর পুত্র’ এ কথা না বললে তোমরা একটি উত্তম জাতি হতে। তারা বললো, ‘তোমরাও ভাল জাতি হতে, যদি তোমরা এ কথা না বলতে, ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করিয়াছেন এবং মুহাম্মদ যা ইচ্ছা করিয়াছেন।’ সকালে এ [স্বপ্নের] খবর যাকে পেলাম তাকে দিলাম। তারপর রসুল সাল্ল¬াল্লা¬হু আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম এর কাছে এলাম এবং তাকে আমার স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি বললেন, ‘এ স্বপ্নের কথা কি আর কাউকে বলেছো?” বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি আল্ল¬াহর প্রশংসা করলেন এবং গুণ বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, “তোফায়েল একটা স্বপ্ন দেখেছে, যার খবর তোমাদের মধ্যে যাকে বলার বলেছে। তোমরা এমন কথাই বলেছো, যা বলতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আর আমিও তোমাদেরকে এভাবে বলতে নিষেধ করছি। অতএব তোমরা ماشاء الله وشاء محمد অর্থাৎ ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করিয়াছেন এবং মুহাম্মদ স. যা ইচ্ছা করিয়াছেন’ একথা বলো না বরং তোমরা বলো, ماشاء الله وحده অর্থাৎ ‘একক আল্লাহ যা ইচ্ছা করিয়াছেন।”
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায় .
১। ছোট শিরক সম্পর্কে ইহুদীরাও অবগত আছে।
২। কুপ্রবৃত্তি সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি থাকা।
৩। রসুল সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম এর উক্তি أجعلتنى لله ندا ‘তুমি কি আমাকে আল্ল¬াহর শরিক বানিয়েছো?’ {অর্থাৎ ماشاء الله وشئت এ কথা বললেই যদি শিরক হয়} তাহলে সে ব্যক্তি অবস্থা কি দাঁড়ায়, যে ব্যক্তি বলে, يا أكرم الخلق ما لي من ألوذبه سواك হে সৃষ্টির সেরা, আপনি ছাড়া আমার আশ্রয়দাতা কেউ নেই এবং { এ কবিতাংশের} পরবর্তী দুটি লাইন। {অর্থাৎ উপরোক্ত কথা বললে অবশ্যই বড় ধরনের শিরকী গুনাহ হবে।}
৪। নবি সাল্ল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম এর বাণী يمتعنى كذا وكذا দ্বারা বুঝা যায় যে, এটা শিরকে আকবার {বড় শিরক} এর অন্তর্ভূক্ত নয়।
৫। নেক স্বপ্ন অহীর শ্রেণীর্ভূক্ত।
৬। স্বপ্ন শরিয়তের কোন কোন বিধান জারির কারণ হতে পারে।

৪৫ তম অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি যমানাকে গালি দেয় সে আল্লাহকে কষ্ট দেয়

১। আল্ল¬াহ তাআলা এরশাদ করিয়াছেন,
“অবিশ্বাসীরা বলে, ‘শুধু দুনিয়ার জীবনই আমাদের জীবন। আমরা এখানেই মরি ও বাঁচি। যমানা ব্যতীত অন্য কিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করতে পারে না।” [জাসিয়া : ২৪]
২। সহীহ হাদীসে আবু হুরায়রা রাদি. হইতে বর্ণিত আছে, রসুল সাল্ল¬াল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বলিয়াছেন, আল্ল¬াহ তাআলা এরশাদ করেন,
لا تسبوا الدهر فإن الله هو الدهر
“তোমরা যমানাকে গালি দিওনা। কারণ, আল্ল¬াহই হচ্ছেন যমানা।”
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়.
১। কাল বা যমানাকে গালি দেয়া নিষেধ।
২। যমানাকে গালি দেয়া আল্ল¬াহকে কষ্ট দেয়ারই নামান্তর।
৩। فإن الله هو الدهر ‘আল্ল¬াহই হচ্ছেন যমানা’ রসুল সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর বাণীর মধ্যে গভীর চিন্তার বিষয় নিহিত আছে।
৪। বান্দার অন্তরে আল্ল¬াহকে গালি দেয়ার ইচ্ছা না থাকলেও অসাবধনতা বশতঃ মনের অগোচরে তাঁহাকে গালি দিয়ে ফেলতে পারে।

Leave a Reply