আল্লাহর যিকর ও দুআ বুলগুল মারাম হাদীস থেকে সংকলিত

আল্লাহর যিকর ও দুআ বুলগুল মারাম হাদীস থেকে সংকলিত

আল্লাহর যিকর ও দুআ >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় -৬ঃ আল্লাহর যিকর ও দুআ

১৫৩৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ বলেনঃ আমি আমার বান্দার সাথে থাকি যতক্ষণ বান্দা আমাকে স্মরণ করে ও আমার যিকরে তার দুটো ঠোঁট নড়তে থাকে। {১৬৪৬}

{১৬৪৬} ইবনি মাজাহ ৩৭৯২, আহম্মদ ১০৫৮৫। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৩৯. মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন আদম সন্তান আল্লাহর যিকর থেকে এমন কোন বড় আমল করেনি যা আল্লাহর আযাব থেকে অধিক ত্রাণকারী। {১৬৪৭}

{১৬৪৭} শাইখ বিন বায বুলুগুল মারামের হাশিয়ায় ৮১৯ বলেন, এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। কিন্তু ঈমাম সুয়ূত্বী স্বীয় গ্রন্থ আল-জামেউস সগীর হাদিস নং ৭৯৪৭ গ্রন্থে একে সহিহ বলেছেন। অনুরূপ মুহাম্মাদ জারুল্লাহ আস সাঈদীও এর সকল রিজালবিদকে সহিহ বলেছেন। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫৪০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন মানবমন্ডলী কোন মাজলিসে বসে তাতে আল্লাহর যিকর করলে আল্লাহর ফেরেশতাগণ তাহাদেরকে ছেয়ে ফেলেন ও আল্লাহর রাহমাত তাহাদেরকে ঢেকে ফেলে, আর আল্লাহ তাহাঁর নিকটতম ফেরেশতাহাদের মধ্যে তাহাদের সুখ্যাতি বর্ণনা করেন। {১৬৪৮}

{১৬৪৮} মুসলিম ২৬৯৯, ২৭০০, তিরমি্যী ১৪২৫, ১৯৩০, ২৬৪৬, আবু দাউদ ১৪৫৫, ৪৯৪৬, ইবনি মাজাহ ২২৫, আহম্মদ ৭৩৭৯, ৭৮৮২, ১০১১৮, ১০৩৯৮, দারিমী ৩৪৪। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে মানব দল কোন বৈঠকে বসে কিন্তু তাতে আল্লাহর যিকর করে না আর নাবীর উপর দরূদও পাঠ করে না, এদের জন্য ক্বিয়ামাতের দিন আফসোস ও মনোবেদনা রয়েছে। {১৬৪৯}

{১৬৪৯} তিরমিজি ৩৩৮০, আহম্মদ ৯৩০০, ৯৪৭২, ৯৫৩৩, ৯৮৮৪, ৯৯৮৪, ৯৯০৭, ১০০৫০। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫৪২. আবু আইয়ূব আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ.

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ১০ বার এ দুআটি পাঠ করিবে- উচ্চারণঃ

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، عَشْرَ مَرَّاتٍ، كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ أَرْبَعَةَ أَنْفُسٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া-লাহুল হামদু বি-ইয়াদিহিল খাইরু ইউহয়ী ওয়া-ইউমীতু ওয়া-হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।

[অর্থ] আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন উপাস্য নেই। তিনি এক তাহাঁর কোন শরীক নেই, তাহাঁর জন্যেই রাজত্ব ও তাহাঁর জন্য প্রশংসা, তাহাঁর হাতেই কল্যাণ, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, তিনি সমস্ত জিনিসের উপর ক্ষমতাবান- সে ইসমাঈল [আঃ]-এর বংশের চারজন লোকের দাসত্ব মুক্তির সমপরিমাণ পুণ্য অর্জন করিবে। {১৬৫০}

{১৬৫০} বোখারী ৬৪০৪, তিরমিজি ৩৫৫৩, আহম্মদ ২৩০০৫, ২৩০০৭, ২৩০৩৪, ২৩০৭১। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক প্রতিদিন একশবার

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ

বলবে তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হইবে তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও। {১৬৫১}

{১৬৫১} বোখারী ৩২৯৩, ৬৫০৫, তিরমিজি ৩৪৬৬, ৩৪৬৮, আবু দাউদ ৫০৫১, ইবনি মাজাহ ৩৭৯৮, ৩৮১১, আহম্মদ ৭৯৪৮, ৮৫০২, মালেক ৪৮৬। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪৪. হারিসের কন্যা জুওয়াইরিয়াহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেন, আমি তোমার দুআ পাঠের চারটি শব্দযুক্ত যে দুআটি তিনবার বলেছি তা তোমার আজকের এ পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ দুআ পাঠের পর থেকে বেশি ওজনের হইবে, যদি তা ওজন করা হয়। [দুআটি হচ্ছে]

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ

সুবহানাল্লাহি ওয়া-বিহামদিহী আদাদা খালক্বিহী, ওয়ারিযা নাফসিহী ওয়াযিনাতা আরশিহী ওয়া-মিদাদা কালিমাতিহী।

[অর্থঃ আমি আল্লাহর সৃষ্টিসম, তাহাঁর সন্তুষ্টিসম, তাহাঁর আরশের ওজ়নসম, তাহাঁর অসীম কালিমা [মহত্ব]-সম প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা ঘোষণা করছি।] {১৬৫২}

{১৬৫২} মুসলিম ২৭২৬, তিরমিজি ৩৫৫৫, নাসাঈ ১৩৫২, ইবনি মাজাহ ৩৮০৮, আহম্মদ ২৬২১৮, ২৬৮৭৫। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪৫. আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ স্থায়ী সৎকাজ বা যে সৎকাজের পুণ্য স্থায়ী হইবে, সে দুআটি হচ্ছে এই

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়া-সুবহানাল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্‌।

[অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, আল্লাহর জন্যই পবিত্রতা, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা, পাপ কাজ হতে দূরে থাকার ও পুণ্য কাজ সম্পাদন করার ক্ষমতা আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কারো নেই]। {১৬৫৩}

{১৬৫৩} শাইখ সুমাইর আয যুহাইরী হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ তুহফা ৩য় খন্ড ৩৬২ পৃষ্ঠা। ইবহু হিব্বান ৮৪০, হাকিম ১ম খন্ড ৫১২ পৃষ্ঠা। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫৪৬. সামুরা ইবনি জুন্দুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহর নিকটে অধিক প্রিয় হচ্ছে চারটি কালিমা সম্বলিত এ দুআটি। এর মধ্যে যে কোন একটি দ্বারা তুমি আরম্ভ করিবে তাতে তোমার কিছু আসে যায় না।

سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি, ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়া-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।

অর্থঃ আল্লাহ পবিত্র, আল্লাহর জন্য যাবতীয় প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। {১৬৫৪}

{১৬৫৪} মুসলিম ২১৩৭। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪৭. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ হে আব্দুল্লাহ ইবনি কাইস। আমি কি তোমাকে এমন একটি কথার সন্ধান দেব না যে কথাটি জানাতের রত্ন ভাণ্ডার? তাথেকে একটি রত্নভাণ্ডার হলো

لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ।

নাসাঈতে আরো আছে, লা মালাযায়া মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি- আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল নেই। {১৬৫৫}

{১৬৫৫} বোখারী ২৯৯২, ৪২০৫,৬৩৮৪, ৬৪০৯, মুসলিম ২৭০৪, ২৭০০, তিরমিজি ৩৩৩৪, ৩৪৬১, আর দাউদ ১৫২৬, ইবনি মাজাহ ৩৮২৪ আহম্মদ ১৯০২৬। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪৮. নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] ঃ বলেন দুআটাই ইবাদাত। {১৬৫৬}

{১৬৫৬} আর দাউদ ১৪৭৯, তিরমিজি ৩৩৭২, ইবনি মাজাহ ৩৮২৮. আহম্মদ ১৭৮৮৮, ১৭৯১৯। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪৯.আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এরূপ শব্দেও বর্ণিত হয়েছে, দুআ ইবাদাতের মগজ [মূল বস্তু]। {১৬৫৭}

{১৬৫৭} তিরমিজি ৩২৭১, ইবনি মাজাহ ৪২১৯। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তার তুহফাতুল আহওয়াযী [৮/৩৭৪] গ্রন্থে বলেন, মুহাদিসগণের নিকট ইবনি লাহিয়া দুর্বল, বরং দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে মুদাল্লিসও বটে। এবং দুর্বল রাবীর থেকে হাদিস বর্ণনা করে বর্ণনাকারীর দোষ ক্রটি গোপন করত। শাইখ আলবানী তার আহকামুল জানায়িয [২৪৭] গ্রন্থে উক্ত রাবীকে স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে দুর্বল বললেও অর্থের দিক দিয়ে হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। এছাড়া যঈফুল জামে [৩০০৩], জঈফ তিরমিজি [৩৩৭১], জঈফ তারগীব [১০১৬] গ্রন্থসমূহে হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ [২১৭২] গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন।

আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫৫০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

[অর্থাৎ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ দুআর থেকে আল্লাহর কাছে আর কোন বস্তু [ইবাদত] অধিক মযাদাসম্পন্ন নয়।” {১৬৫৮}

{১৬৫৮} তিরমিজি ৩৩৭০, ইবনি মাজাহ ৩৮২৯।নুমান [রাদি.] বর্ণিত হাদিসটি সহিহ এবং আনাসা [রাদি.] হতে বর্ণিত হাদিসটি জঈফ; তাওযিহুল আহকাম ৭/৫৪৬। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১৫৫১. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেন আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী দুআ [প্রার্থনা] আল্লাহর দরবার হতে ফিরিয়ে দেয়া হয় না।{১৬৫৯}

{১৬৫৯} নাসায়ী আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলা ১৬৮ পৃষ্ঠা, ইবনিহিব্বান ১৬৯৬। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫২. সালমান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক চিরঞ্জীব, দানশীল। তার কোন বান্দা নিজের দু হাত তুলে তার নিকট দুআ করলে তিনি তার শূন্যহাত বা তাকে নিরাশ করে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।” {১৬৬০}

{১৬৬০} আর দাউদ ১৪৮৮, তিরমিজি ৩৫৫৬, ইবনি মাজাহ ৩৮৬৫, আহম্মদ ২৩২০২। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫৩. উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] যখন দুআ করার জন্য দুহাত উঠাতেন তখন তাহাঁর মুখমণ্ডলে হাত ফেরানোর আগে তা নামাতেন না।” {১৬৬১}

{১৬৬১} তিরমিজি ৩৩৮৬। বিন বায তার হাশিয়া বুলুগুল মারাম [৮২৬] গ্রন্থে বলেন, এর সনদে হাম্মাদ ইবনি ঈসা আল জুহানী আল ওয়াসিত্বকে অধিকাংশ মুহাদিস দুর্বল বলেছেন। ঈমাম যাহাবী তার সিয়ারু আলামুন নুবালা [১৬৬৭] গ্রন্থে উক্ত রাবীকে দুর্বল বলেছেন। ঈমাম নববী তার আল খুলাসা [১/৪৬২] গ্রন্থেও একে দুর্বল বলেছেন।

আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫৫৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হাদিসটি আবু দাউদে রহিয়াছে। ঐগুলোর সনদের সমষ্টির অবস্থা দেখে বলা যায় হাদিসটি হাসান। {১৬৬২}

{১৬৬২} পূর্বের হাদিসের ন্যায় এটিও মুনকার। ইলাল আবু হাতিম ২য় খণ্ড ৩৫১ পৃষ্ঠা। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১৫৫৫. ইবনি মাসউদ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমার উপর অধিক দরূদ পাঠকারী কিয়ামাতের দিনে আমার বেশি সান্নিধ্য অর্জনকারী হইবে। {১৬৬৩}

{১৬৬৩} তিরমিজি ৪৮৪ । ইবনি আদী তার আলকামিল ফিয যু”আফা [৩/৪৬৫] গ্রন্থে বলেন, আমার নিকট খালিদ ইবনি মুখাল্লাদ এর মধ্যে আল্লাহ চাহেত কোন সমস্যা নেই। ইবনিল কীসরানী তার দার্থীরাতুল হুফফায [১/৫৪০] গ্রন্থে বলেন, মূসা ইবনি ইয়াকুব হাদিসের ক্ষেত্রে শক্তিশালী রাবী নন। আল মুনফিরও আত তারগীব ওয়াত তারহীব [২/৪০২] গ্রন্থে উক্ত রাবীর দিকেই ইঙ্গিত করিয়াছেন। শাইখ আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ [৮৮৩], যঈফুল জামে [১৮২১] গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। তবে সহিহ তারগীব [১৬৬৮] গ্রন্থে হাদিসটিকে হাসান লিগাইরিহী পর্যায়ে উল্লেখ করিয়াছেন। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫৫৬. শাদাদ ইবনি আউস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হলো বান্দার এ দুআ পড়া-

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي، وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي; فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

আল্লা-হুম্মা আন্তা রাব্বী লা ইলা-হা ইল্লা খালাকৃতানী, আ আন আন্দ্রকা অ আনা আল আহদিকা অ অদিকা মাসতাত্ম”, আউয়ুবিকা মিন শারি মা স্বানাতু, আবৃউ লাকা বিনিমাতিক আলাইয়্যা অ আবৃউ বিযামবী ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা য়্যাগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনৃত।

“হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা, তুমি ব্যতীত আর কোন ক্ষমাকারী নেই। {১৬৬৪}

{১৬৬৪} বোখারী ৬৩০৬, ৬৩২৩, তিরমিজি ৩৩৯৩, নাসায়ী ৫৫২২, আহম্মদ ১৬৬৬২, ১৬৬৮১। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫৭. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সন্ধ্যায় ও সকালে উপনীত হয়ে নিম্নোক্ত দোয়া পড়তেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي دِينِي، وَدُنْيَايَ، وَأَهْلِي، وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي، وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي

“আল্লা-হুম্মা ইনী আস্আলুকাল আফওয়া অল আ-ফিয়াত ফী দ্বনী অ দুনয়্যা-য়্যা অ আহলী অ মা-লী, আল্লা-হুম্মাসতুর আওরা-তী অ আ-মিন রাওআ-তী, অহফাযনী মিম বাইনি ইয়াদাইয়্যা অমিন খালফী অঅাই ইয়ামীনী অআন শিমা-লী অমিন ফাউকী, অআউযু বিআযমাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহতী।

“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের স্বস্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আমার দীন, আমার দুনিয়া, আমার পরিবার ও আমার সম্পদের স্বস্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমার লজ্জাস্থানকে গোপন রাখো, আমার ভয়কে শান্তিতে পরিণত করো এবং আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে ও আমার উপরের দিক থেকে আমাকে হেফাজত করো। আমি তোমার নিকট আমার নিচের দিক দিয়ে আমাকে ধ্বসিয়ে দেয়া থেকে আশ্ৰয় প্রার্থনা করি। {১৬৬৫}

{১৬৬৫} ইবনি মাজাহ ৩৮৭১, নাসায়ী ৫৫২৯, ৫৫৩০। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫৮. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفَجْأَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيعِ سَخَطِكَ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন যাওয়ালি নিমাতিক, ওয়া তাহাওউলি আফিয়াতিক, ওয়া ফাজয়াতি নিকুমতিক, ও জামিঈ সাখাতিক।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার দানের অবসান হতে, তোমার দয়া সুখের রদবদল থেকে এবং হঠাৎ করে তোমার শাস্তি হতে আর তোমার অসন্তুষ্টি ও ক্রোধ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” {১৬৬৬}

{১৬৬৬} মুসলিম ২৭৩৯, আর দাউদ ১৫৪৫। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫৯. আব্দুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [রঃ] এ দুআ বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الْعَدُوِّ، وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ

আল্লা-হুম্মা ইনী আউযু বিকা মিন গালাবাতিদ দাইনি অগালাবাতিল আদুউবি অশামা-তাতিল আদা-।

অর্থঃ- হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট ঋণ ও শত্রুর কবল এবং দুশমন-হাসি থেকে রক্ষা চাচ্ছি। {১৬৬৭}

{১৬৬৭} নাসায়ী ৫৪৭৫, আহম্মদ ৬৫৮১। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৬০. বুরাইদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] এক ব্যক্তিকে বলিতে শুনলেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، الْأَحَدُ الصَّمَدُ، الَّذِي لَمْ يَلِدْ، وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিআন্নী আশ্‌হাদু আন্নাকা আনতাল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা আনতাল আহাদুস সামাদুল্লাযী লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইয়ূলাদ ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ

“হে আল্লাহ! অবশ্য আমি তোমার কাছে এ বলে প্রার্থনা করছি যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয় তুমিই একমাত্র আল্লাহ, তুমি একক সত্তা, স্বয়ংসম্পূর্ণ, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি এবং তার সমকক্ষ কেউ নেই ”

তখন রসূলুল্লাহ [রঃ] বলিলেন ? নিশ্চয় এ ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তার মহান নামের উসীলায় প্রার্থনা করেছে, যার উসীলায় প্রার্থনা করলে তিনি অবশ্যই দান করেন এবং যার উসীলায় দুআ করলে তিনি অবশ্যই কবুল করেন। {১৬৬৮}

{১৬৬৮} আর দাউদ ১৪৯৩, তিরমিজি ৩৪৭৫।আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৬১.আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা ভোরে উপনীত হয়ে বলবে,

اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوتُ، وَإِلَيْكَ النُّشُورُ

(আল্লা-হুম্মা বিকা আসবাহ্‌না ওয়াবিকা আমসাইনা ওয়াবিকা নাহ্‌ইয়া, ওয়াবিকা নামূতু ওয়া ইলাইকান নুশূর)

“হে আল্লাহ! তোমার হুকুমেই আমারা প্রভাতে উপনীত হই এবং তোমার হুকুমেই আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হই, তোমার হুকুমেই আমরা জীবন ধারণ করি এবং তোমার হুকুমেই আমরা মৃত্যুবরণ করি ”।

আর তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েও অনুরূপ বলবে, তবে এর সাথে এও বলবে-

وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ

ওয়াবিকাল মাসীর

তোমার নিকটই আমাদের প্রত্যাবর্তন ” {১৬৬৯}

{১৬৬৯} আর দাউদ ৫০৬৮, ইবনি মাজাহ ৩৮৬৮, আহম্মদ ৮৪৩৫, ১০৩৮৪ ।আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৬২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] অধিকাংশ সময়ই এ দুআ পড়তেনঃ

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

রব্বনা- আ-তিনা- ফিদ্দুন্ইয়া- হাসানান ওয়াফিল আ-খিরতি হাসানাতান ওয়াকিনা- আযা-বান্ না-র

হে আমাদের রব্ব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দাও এবং আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে রক্ষা কর। {১৬৭০}

{১৬৭০} বোখারী ৬৩৮৯, মুসলিম ২৬৮৮, তিরমিজি ৩৮৮৭, আর দাউদ ১৫১৯, আহম্মদ ১১৫৭০, ১১৬৩৮। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৬৩.. আবু মূসা আল-আশয়ারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] ঃ এরূপ দুআ করিতেনঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي، وَجَهْلِي، وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي جِدِّي، وَهَزْلِي، وَخَطَئِي، وَعَمْدِي، وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ، وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ، وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَالْمُؤَخِّرُ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

আল্লা-হুম্মাগ ফিরলি খতিইয়াতি ওয়া জাহলি ওয়া ইসরাফি ফি আমরি ,ওয়া মা আন্তা আ,লামু বিহি মিন্নি, আল্লাহুম্মাগ ফিরলি জিদ্দি ওয়া হজলি ওয়া খতিইয়া, ওয়া আমদি ওয়া ওয়া কুল্লু জালিকা ইনদিয়, আল্লাহুম্মাগ ফিরলি মা কদ্দামতু ওয়া মা আক্ষারতু ওয়া মা আসরারতু, ওয়া মা আ,লানতু, ওয়া মা আন্তাল আ,ল্মু বিহি মিন্নি আন্তাল মুকাদ্দিমু ওয়া মুয়াক্ষেরু, ওয়া আন্তা আলা কুল্লি সাইইন কদির

হে আল্লাহ। আপনি ক্ষমা করে দিন আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার কাজের সকল বাড়াবাড়ি এবং আমার যেসব গুনাহ আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটি, আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ ও আমার অজ্ঞতা এবং আমার উপহাসমূলক গুনাহ আর এ রকম গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন যেসব গুনাহ আমি আগে করেছি এবং পরের গুনাহ যা হইবে। যে গুনাহ আমি গোপনে করেছি আর যে গুনাহ প্রকাশ্যে করেছি। আর যেগুলো আপনি আমার চেয়ে বেশি জ্ঞাত আছেন ঐসবই আপনি ক্ষমা করে দিন। আপনিই অগ্রবর্তী করেন, আপনিই পশ্চাদবর্তী করেন এবং আপনিই সব বিষয়োপরি সর্বশক্তিমান।” {১৬৭১}

{১৬৭১} বোখারী ৬৩৯৮, ৬৩৯৯, মুসলিম ২৭১৯, আহম্মদ ১৯২৩৯। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৬৪ .আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ দুআ বলিতেন

اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي، وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي، وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِي الَّتِي إِلَيْهَا مَعَادِي، وَاجْعَلْ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ، وَاجْعَلْ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ

আল্ল-হুম্মা আস্লিহ্লী দীনিয়াল্লিযী হুওয়া ইস্মাতু আমরী ওয়া আস্লিহ্লী দুন্ইয়াল্লাতী ফীহা মাআ-শী ওয়া আস্লিহ্লী আ-খিরতিল্লাতী ফীহা মাআ-দী ওয়াজ আলিল হায়া-তা যিয়া-দাতান্ লী ফী কুল্লি খইরিন্ ওয়াজ আলিল মাওতা রা-হাতান্ মিন্ কুল্লি শার্রিন্

হে আল্লাহ আমার দ্বীন যা সকল ব্যাপারে আমার জন্য রক্ষা কবজ সে দ্বীনকে আমার জন্য দুরন্ত করে দাও, আমার পার্থিব বিষয় যা আমার জীবিকার আধার সে বিষয়টিকেও ঠিক করে দাও । আমার আখিরাত [পাকালের জীবন] যা আমার জন্য সর্বশেষ অবস্থানক্ষেত্র তা দুরন্ত [সহজ] করে দাও। প্রত্যেক কল্যাণময় ব্যাপারে আমার জীবনে আধিক্য দান কর আর মৃত্যুকে যাবতীয় অকল্যাণ হতে আমার জন্য স্বস্তিতে পরিণত কর। {১৬৭২}

{১৬৭২} মুসলিম ২৭২০। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৬৫. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] এ দুআটি পড়তেন

اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَارْزُقْنِي عِلْمًا يَنْفَعُنِي

আল্লাহুম্মান ফা’নি বিমা আল্লামতানি ওয়া আল্লিমনি মা ইয়ানফাউনি ওয়ার জুকনি ইলমান তানফাউনি

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা শিক্ষা দান করেছ তার দ্বারা আমাকে উপকৃত কর, আর যা আমার জন্য উপকারে আসবে তা আমাকে শিক্ষা দান কর, আমার উপকারে আসবে এমন জ্ঞান আমাকে দান কর।” {১৬৭৩}

{১৬৭৩} সিলসিলা সহিহাহ ৩১৫১, আলবানী বলেন, হাদিসটি ঈমাম মুসলিমের শর্তানুসারে সহিহ হাকিম ১ম খণ্ড ৫১০ পৃষ্ঠা। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৬৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তার শেষাংশে আছে,

وَزِدْنِي عِلْمًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ حَالِ أَهْلِ النَّارِ

ওয়া জিদনি ইলমান ওয়াল হামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হালিন ওয়া আউজু বিল্লাহি মিন হালি আহ্লিন নার

আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দাও, সকল অবস্থাতেই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য আর আমি জাহান্নামীদের দূরবস্থা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।” {১৬৭৮}

{১৬৭৪} তিরমিজি ৩৫৯৯, ইবনি মাজাহ ২৫১, ৩৮৩৩ । আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৬৭. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] তাঁকে এই দুআ শিখিয়েছেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ، عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ (1)، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ، عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَاذَ بِهِ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ، وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ، وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَأَسْأَلُكَ أَنْ تَجْعَلَ كُلَّ قَضَاءٍ قَضَيْتَهُ لِي خَيْرًا

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসালুকা মিনাল খয়রি কুল্লিহি আজিলিহি ওয়া আজিলিহি মা আলিমতু মিনহু ওয়া মা লাম আ’লাম ওয়া আউজু বিকা মিনাস সাররি কুল্লিহি আজিলিহি ওয়া আজিলিহি মা আলিমতু মিনহু ওয়া মা লাম আ’লাম আল্লাহুম্মা ইন্নি আসালুকা মিন খায়রি মা সাআলাকা আব্দুকা ওয়া নাবিয়্যুকাল্লাহুম্মা ইন্নি আসালুকাল জান্নাতা ওয়া মা কাররাবা ইলায়হা মিন কাওলি আও আমালিন ওয়া আউজুবিকা মিনান নার ওয়া মা কররাবা ইলায়হা মিন কওলিন আও আমালিন ওয়া আসালুকা আন তাজআলা কুল্লা ফাদায়িন কদায়তাহু লিয় খইর

“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে যাবতীয় কল্যাণ ভিক্ষা করছি, যা তাড়াতাড়ি আসে, যা দেরিতে আসে, যা জানা আছে, যা জানা নেই। আর আমি যাবতীয় মন্দ হতে তোমার আশ্রয় ভিক্ষা করছি- যা তাড়াতাড়ি আগমনকারী আর যা দেরিতে আগমনকারী আর যা আমি জানি আর যা অবগত নই। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে ঐ মঙ্গলই চাচ্ছি যা চেয়েছেন- তোমার [নেক] বান্দা ও তোমার নাবী, আর তোমার কাছে ঐ মন্দ বস্তু থেকে পানাহ চাচ্ছি যা হতে তোমার বান্দা ও নাবী ঃ আশ্রয় চেয়েছেন। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জান্নাত চাচ্ছি এবং ঐসব কথা ও কাজ চাচ্ছি যেগুলো আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দেবে। আর আমি জাহান্নাম হতে তোমার নিকট পানাহ চাচ্ছি এবং ঐসব কথা ও কাজ হতেও পানাহ চাচ্ছি যেগুলো আমাকে জাহান্নামের নিকটবর্তী করে দেবে। আর আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি যে, তুমি আমার জন্য যেসব ফায়সালা করে রেখেছ তা আমার জন্য কল্যাণকর করে দাও। {১৬৭৫}

{১৬৭৫} ইবনি মাজাহ ৩৮৪৬, আহম্মদ ২৪৪৯৮, ২৪৬১৩। আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৬৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দুটি কালিমাহ আছে, যেগুলো দয়াময়ের কাছে অতি প্রিয়, মুখে উচ্চারণ করা খুবই সহজ, দাড়িপাল্লায় অত্যন্ত ভারী। [বাণী দুটি হচ্ছে],

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহান্নাল্লাহিল আযীম

আমরা আল্লাহর প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, মহান আল্লাহ [যাবতীয় ক্রটি-বিচূতি থেকে] অতি পবিত্র। {১৬৭৬}

{১৬৭৬} বোখারী ৬৪৬, আর দাউদ ৫৬০, ইবনি মাজাহ ৭৮৮. আহম্মদ ১১১২৯ ৷ আল্লাহর যিকর ও দুআ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply