সার্বক্ষণিক আল্লাহর যিকর ও পরকালের বিষয়ে চিন্তা করা …

সার্বক্ষণিক আল্লাহর যিকর ও পরকালের বিষয়ে চিন্তা করা

সার্বক্ষণিক আল্লাহর যিকর ও পরকালের বিষয়ে চিন্তা করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩. অধ্যায়ঃ সার্বক্ষণিক আল্লাহর যিকর ও পরকালের বিষয়ে চিন্তা করা ও আল্লাহর ধ্যানে মশগুল থাকা এবং কোন কোন সময় তা ছেড়ে দেয়া ও দুনিয়াবী কাজে লিপ্ত থাকা জায়িয

৬৮৫৯. রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাতিব হান্‌যালাহ্‌ আল্‌ উসাইয়িদী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আবু বাক্‌র সিদ্দীক [রাদি.] আমার সঙ্গে দেখা করিলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করিলেন, হে হানযালাহ্‌! তুমি কেমন আছ? তিনি বলেন, জবাবে আমি বললাম, হানযালাহ্‌ তো মুনাফিক হয়ে গেছে। সে সময় তিনি বলিলেন, সুবহানাল্লাহ্‌ তুমি কি বলছ? হানযালাহ্‌ [রাদি.] বলেন, আমি বললাম, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে থাকি, তিনি আমাদের জান্নাত-জাহান্নামের কথা শুনিয়ে দেন, যেন আমরা উভয়টি চাক্ষুষ দেখছি। সুতরাং আমরা যখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সন্নিকটে থেকে বের হয়ে আপনজন স্ত্রী-সন্তান এবং ধন-সম্পদের মধ্যে নিমগ্ন হয়ে যাই তখন আমরা এর অনেক বিষয় ভুলে যাই। আবু বকর [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহর কসম! আমারও একই অবস্থা। নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎ করবো। তারপর আমি এবং আবু বকর [রাদি.] রওনা করলাম এবং এমনকি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে গেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]! হানযালাহ্‌ মুনাফিক হয়ে গেছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তা কী? আমি বললাম, আমরা আপনার কাছে থাকি, আপনি আমাদের জান্নাত-জাহান্নামের কথা মনে করিয়ে দেন, যেন আমরা তা  দেখিতে পাই। তারপর আমরা যখন আপনার নিকট হইতে বের হই এবং স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদের মধ্যে নিমগ্ন হই সে সময় আমরা এর অনেক বিষয় ভুলে যাই। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জীবন আমি তাহাঁর কসম করে বলছি। আমার কাছে থাকাকালে তোমাদের যে অবস্থা হয়, যদি তোমরা সবসময় এ অবস্থায় অনড় থাকতে এবং সার্বক্ষণিক আল্লাহর যিকরে পড়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ফেরেশ্‌তাগণ তোমাদের বিছানায় ও রাস্তায় তোমাদের সাথে মুসাফাহা করত। কিন্তু হে হানযালাহ্‌! এক ঘণ্টা [আল্লাহর যিকরে] আর এক ঘন্টা [দুনিয়াবী কাজে ব্যয় করিবে] অর্থাৎ আস্তে আস্তে [চেষ্টা কর]। এ কথাটি তিনি [সাঃআঃ] তিনবার বলিলেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭৬৯]

৬৮৬০. হানযালাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা এক সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে ছিলাম। তিনি আমাদেরকে ওয়ায করিলেন এবং জাহান্নামের কথা মনে করিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, তারপর আমি গৃহে আসলাম এবং সন্তান-সন্ততিদের সাথে খেল-তামাশা করলাম এবং স্ত্রীর সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করলাম। এরপর আমি বাড়ি থেকে রওনা করলাম। পথে আবু বকর [রাদি.]-এর সাথে দেখা করলাম। আমি তাহাঁর সাথে এ প্রসঙ্গে আলোচনা করলাম। অতঃপর তিনি বলিলেন, আমিও তো এমনই করি, যেমন তুমি বললে। তারপর আমরা দুজনই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে দেখা করলাম। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! হানযালাহ্‌ তো মুনাফিক হয়ে গেছে। তারপর তিনি বলিলেন, তা কী? তারপর আমি আমার সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করলাম। এরপর আবু বকর [রাদি.] বলিলেন, আমিও তো এমনই করি যেমন হানযালাহ্‌ করেছে। তিনি বলিলেন, হে হানযালাহ্‌! কিছু সময় আল্লাহর স্মরণের জন্য এবং কিছু সময় দুনিয়াবী কাজের জন্য। ওয়ায-নাসীহাতের মুহূর্তে তোমাদের মন যেমন থাকে, সবসময় যদি তা এ রকম থাকত তবে ফেরেশ্‌তাগণ অবশ্যই তোমাদের সাথে মুসাফাহা করত। এমনকি প্রকাশ্যে রাস্তায় তারা তোমাদের সালাম করত।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭৭০]

৬৮৬১. হান্‌যালাহ্‌ আত্‌ তামীমী আল উসাইয়িদী আল কাতিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা নবী [সাঃআঃ]-এর কাছে ছিলাম। তিনি আমাদের জান্নাত-জাহান্নামের কথা মনে করিয়ে দিলেন। তারপর সুফ্‌ইয়ান [রাদি.] হাদীসটি পূর্বোক্ত হাদীসদ্বয়ের হুবহু বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭৭১]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply