আল্লাহর ভালবাসা নিআমত ও উম্মতে মুহাম্মাদি ফযীলত

আল্লাহর ভালবাসা নিআমত ও উম্মতে মুহাম্মাদি ফযীলত

আল্লাহর ভালবাসা নিআমত ও উম্মতে মুহাম্মাদি ফযীলত>> হাদীসে কুদসী এর মুল সুচিপত্র দেখুন

আল্লাহর ভালবাসা নিআমত ও উম্মতে মুহাম্মাদি ফযীলত

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আল্লাহর নি‘আমত
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজ
হাউজে কাউসার
সুপারিশের হাদীস
উম্মতে মুহাম্মাদির ফযীলত
বদরি সাহাবীদের ফযীলত

৪৫. অনুচ্ছেদঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আল্লাহর নিয়ামত

হাদীসে কুদসী ৮১ – ইব্‌ন আব্বাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আমি আমার রবকে একটি বিষয় জিজ্ঞাসা করেছি, আফসোস আমি যদি তা জিজ্ঞাসা না করতাম। আমি বলেছিঃ হে আমার রব আমার পূর্বে অনেক রাসূল ছিল, তাহাদের কারো জন্য বাতাস অনুগত করে দেয়া হয়েছে, তাহাদের কেউ মৃতদের জীবিত করত। আল্লাহ্‌ বলেনঃ আমি কি তোমাকে ইয়াতিম পাই নি অতঃপর আশ্রয় দিয়েছি? আমি কি তোমাকে পথভোলা পাই নি অতঃপর পথ দেখিয়েছি? আমি কি তোমাকে অভাবী পাই নি অতঃপর তোমাকে সচ্ছল করেছি? আমি কি তোমার বক্ষ উন্মুক্ত করি নি? আমি কি তোমার থেকে বোঝা দূর করি নি? রাসূল বলেনঃ আমি বলেছিঃ অবশ্যই হে আমার রব”। (তাবরানি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৪৬. অনুচ্ছেদঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজ

হাদীসঃ ৮২ – আনাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “অবশ্যই আমার কতক লোক হাউজে আমার নিকট হাজির হইবে, অবশেষে যখন আমি তাহাদেরকে চিনব আমার পিছন থেকে তাহাদেরকে ছো মেরে নেয়া হইবে, আমি বলবঃ আমার লোক। আমাকে (আল্লাহ্) বলবেনঃ আপনি জানেন না আপনার পর তারা কি আবিষ্কার করেছে”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৮৩ – আয়েশা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনিয়াছি, যখন তিনি তার সাথীদের মাঝে ছিলেনঃ “আমি হাউজের ওপর থাকব, অপেক্ষা করব তার জন্য যে তোমাদের থেকে আমার কাছে আসবে। আল্লাহর শপথ আমার থেকে কতক লোক বিচ্ছিন্ন করা হইবে, আমি বলবঃ হে আমার রব (তারা) আমার ও আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত, তিনি বলবেনঃ তুমি জান না তোমার পর তারা কি করেছে, তারা তাহাদের পশ্চাতেই ধাবিত ছিল”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৪৭. অনুচ্ছেদঃ হাউজে কাউসার

হাদীসঃ ৮৪ – আনাস ইব্‌ন মালিক (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদের মাঝে ছিলেন, হঠাৎ তিনি তন্দ্রা গেলেন, অতঃপর হাসতে হাসতে মাথা তুললেন। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল কিসে আপনাকে হাসাচ্ছে?! তিনি বললেনঃ “এ মুহূর্তে আমার ওপর একটি সূরা নাযিল করা হয়েছে, অতঃপর তিনি পড়লেনঃ
﴿إِنَّآ أَعۡطَيۡنَٰكَ ٱلۡكَوۡثَرَ ١ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنۡحَرۡ ٢ إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ ٱلۡأَبۡتَرُ ٣﴾ (الكوثرঃ ١، ٤)
“নিশ্চয় আমি তোমাকে আল-কাউসার দান ‎করেছি। অতএব তোমার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত ‎পড় এবং নহর কর। নিশ্চয় তোমার প্রতি শত্রুতা পোষণকারীই ‎নির্বংশ” (সূরা কাউসারঃ ১-৩) অতঃপর তিনি বললেনঃ “তোমরা জান কাউসার কি?” আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তার রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ “এটা একটা নহর, এর ওয়াদা আল্লাহ আমার নিকট করিয়াছেন, তাতে রহিয়াছে প্রচুর কল্যাণ। এটা এক হাউজ তাতে আমার উম্মত গমন করিবে, তার পাত্রগুলো নক্ষত্রের সংখ্যার ন্যায়, তাহাদের থেকে এক বান্দাকে ছো মেরে নেয়া হইবে, আমি বলবঃ হে আমার রব, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত, তিনি বলবেনঃ তুমি জান না তোমার পর তারা কি আবিষ্কার করেছে”। (সহিহ মুসলিম ও আবু দাউদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৪৮. অনুচ্ছেদঃ সুপারিশের হাদিস

হাদীসে কুদসী ৮৫ – মাবাদ ইব্‌ন হিলাল আনাজি থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা বসরার কতক লোক একসাথে আনাস ইব্‌ন মালেকের নিকট গেলাম। আমরা আমাদের সাথে সাবেত আল-বুনানিকে নিয়ে গেলাম, যেন সে আমাদের পক্ষে তাকে সুপারিশের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি বাড়িতেই ছিলেন, আমরা তাকে দোহা (চাশতে)র সালাত আদায় করতে পেলাম। আমরা অনুমতি চাইলাম, তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন, তিনি বিছানায় উপবিষ্ট ছিলেন। আমরা সাবেতকে বললামঃ সুপারিশের হাদিসের পূর্বে কোন বিষয় সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করবেন না, তিনি বললেনঃ হে আবু হামযাহ, তারা আপনার ভাই বসরার অধিবাসী, তারা আপনার নিকট এসেছে সুপারিশের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য। অতঃপর তিনি বললেনঃ মুহাম্মদ (সাঃআঃ) আমাদেরকে বলেছেনঃ “যখন কিয়ামতের দিন হইবে মানুষ ভীড়ে ঠাসাঠাসি করিবে, অতঃপর তারা আদম আলাইহিস সালামের নিকট আসবে ও বলবেঃ আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন, তিনি বলবেনঃ আমি এর উপযুক্ত নই, তবে তোমরা ইবরাহিমের নিকট যাও, কারণ তিনি রহমানের খলিল। তারা ইবরাহিমের নিকট আসবে, তিনি বলবেনঃ আমি এ জন্য নই, তবে তোমরা মুসার নিকট যাও, কারণ তিনি আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী। তারা মুসার নিকট আসবে, তিনি বলবেনঃ আমি এ জন্য নই, তবে তোমরা ঈসার নিকট যাও, কারণ তিনি আল্লাহর (পক্ষ থেকে বিশেষ) রূহ ও তার বাণী। তারা ঈসার নিকট আসবে, অতঃপর তিনি বলবেনঃ আমি এ জন্য নই, তবে তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাও, অতঃপর তারা আমার নিকট আসবে, আমি বলবঃ আমি এ জন্য, আমি আমার রবের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব, আমাকে অনুমতি দেয়া হইবে, তিনি আমাকে প্রশংসার বাক্য শিক্ষা দিবেন যা দ্বারা আমি তার প্রশংসা করব, যা এখন আমার স্মরণ নেই। আমি তার প্রশংসা করব ও সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, তিনি বলবেনঃ হে মুহাম্মদ মাথা উঠাও, তুমি বল তোমার কথা শোনা হইবে, তুমি চাও তোমাকে দেয়া হইবে, তুমি সুপারিশ কর তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হইবে। আমি বলবঃ হে আমার রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত। তিনি বলবেনঃ যাও, সেখান থেকে বের কর যার অন্তরে গমের ওজন বরাবর ঈমান রহিয়াছে, আমি যাব ও অনুরূপ করব। অতঃপর ফিরে আসব ও সে প্রশংসার বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব, অতঃপর তার সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, অতঃপর বলা হবেঃ হে মুহাম্মদ মাথা উঠাও, বল তোমার কথা শোনা হইবে, চাও তোমাকে দেয়া হইবে, সুপারিশ কর তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হইবে। আমি বলবঃ হে আমার রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত। তিনি বলবেনঃ যাও, সেখান থেকে বের কর যার অন্তরে অণু অথবা সরিষা পরিমান ঈমান রহিয়াছে, আমি যাব ও অনুরূপ করব। অতঃপর ফিরে এসে সে বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব অতঃপর সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, বলা হবেঃ হে মুহাম্মদ মাথা উঠাও, বল তোমার কথা শোনা হইবে, চাও তোমাকে দেয়া হইবে, সুপারিশ কর কবুল করা হইবে, অতঃপর আমি বলবঃ হে আমার রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত। তিনি বলবেনঃ যাও, বের কর যার অন্তরে সরিষার অণু অণু অণু পরিমাণ ঈমান রহিয়াছে, অতএব আমি তাকে জাহান্নাম থেকে বের করব, আমি যাব ও অনুরূপ করব”। আমরা যখন আনাসের কাছ থেকে প্রস্থান করলাম, আমি আমাদের কতক সাথীকে বললামঃ আমরা যদি হাসান বসরি হয়ে যাই, তার নিকট আনাসের হাদিস বর্ণনা করি! তখন তিনি আবু খলিফার ঘরে আত্মগোপন করে ছিলেন, আমরা তার নিকট আসলাম, তাকে সালাম করলাম, তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন, আমরা তাকে বললামঃ হে আবু সায়িদ, আমরা আপনার নিকট আপনার ভাই আনাস ইব্‌ন মালেকের কাছ থেকে এসেছি, তিনি আমাদেরকে সুপারিশ সম্পর্কে যা শুনিয়েছেন তা কখনো শুনেনি। তিনি বললেনঃ বল, আমরা তাকে হাদিস বললাম, এখানে এসে শেষ করলাম। তিনি বললেনঃ বল, আমরা বললাম এরচেয়ে বেশী বলেন নি। তিনি বললেনঃ তিনি আমাকে বলেছেন পূর্ণ বিশ বছর পূর্বে, জানি না তিনি ভুলে গেছেন বা তোমাদের (পক্ষ থেকে কম আমলের উপর) নির্ভর করে থাকাকে অপছন্দ করিয়াছেন। আমরা বললামঃ হে আবু সায়িদ আপনি আমাদেরকে বলুন, তিনি হাসলেন ও বললেনঃ মানুষকে তড়িৎ প্রবণ করে সৃষ্টি করা হয়েছে, আমি তো তোমাদেরকে বলার জন্যই বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন যেমন তোমাদেরকে তা বলেছেন। তিনি বলেনঃ “অতঃপর আমি চতুর্থবার ফিরব এবং সে বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব, অতঃপর তার সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, বলা হবেঃ হে মুহাম্মদ, মাথা উঠাও, বল শোনা হইবে, চাও দেয়া হইবে, সুপারিশ কর কবুল করা হইবে। আমি বলবঃ হে আমার রব, যারা বলেছে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ তাহাদের ব্যাপারে আমাকে অনুমতি দিন। তিনি বলবেনঃ আমার ইজ্জত, বড়ত্ব, মহত্ত্ব ও সম্মানের কসম, অবশ্যই আমি তাকে বের করব, لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ যে বলেছে”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৪৯. অনুচ্ছেদঃ উম্মতে মুহাম্মাদির ফযিলত

হাদীসে কুদসী ৮৬ – আবু সায়িদ খুদরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন নুহ আলাইহিস সালামকে ডাকা হইবে, তিনি বলবেনঃ সদা উপস্থিত, আপনার সন্তুষ্টি বিধানে আমি সদা তৎপর হে আমার রব, তিনি বলবেনঃ তুমি পৌঁছিয়েছ? তিনি বলবেনঃ হ্যাঁ, তার উম্মতকে বলা হবেঃ সে তোমাদের পৌঁছিয়েছে? তারা বলবেঃ আমাদের নিকট কোন সতর্ককারী আসে নি। তিনি বলবেনঃ তোমার জন্য কে সাক্ষী দিবে? তিনি বলবেনঃ মুহাম্মদ ও তার উম্মত, অতঃপর তারা সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় তিনি পৌঁছিয়েছেন, আর রাসূল হইবেন তোমাদের সাক্ষী। এ হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বাণীঃ
﴿ وَكَذَٰلِكَ جَعَلۡنَٰكُمۡ أُمَّةٗ وَسَطٗا لِّتَكُونُواْ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ وَيَكُونَ ٱلرَّسُولُ عَلَيۡكُمۡ شَهِيدٗاۗ ١٤٣ ﴾ (البقرةঃ ١٤٣) ( وَالْوَسَطُ الْعَدْلُ ».
“আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী ‎উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের উপর ‎সাক্ষী হও এবং রাসূল সাক্ষী হন তোমাদের ‎উপর” (সূরা বাকারাদিআল্লাহু আঃ ১৪৩) ওয়াসাত অর্থ ইনসাফপূর্ণ পথ বা মধ্যমপন্থার অনুসারী”। (সহিহ বুখারি, সুনান তিরমিযি ওইবনু মাজাহ) হাদিসটি সহিহ।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৮৭ – আবু মুসা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “যখন কিয়ামতের দিন হইবে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুসলিমের নিকট একজন ইহুদি অথবা খৃস্টান দিবেন, অতঃপর বলবেনঃ এ হচ্ছে তোমার জাহান্নাম থেকে মুক্তির বিনিময়” । (সহিহ মুসলিম ও মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৮৮ – আবু মুসা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “এ উম্মতকে তিন ভাগে উপস্থিত করা হবেঃ প্রথম ভাগ বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। দ্বিতীয় ভাগ থেকে সামান্য হিসেব নেয়া হইবে, অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করিবে। তৃতীয় ভাগ নিজেদের পিঠের ওপর বড় পাহাড়ের ন্যায় পাপসহ উপস্থিত হইবে, অতঃপর আল্লাহ তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন, অথচ তিনি তাহাদের সম্পর্কে অধিক জানেনঃ এরা কারা? তারা বলবেঃ এরা আপনার কতক বান্দা। তিনি বলবেনঃ এসব তাহাদের থেকে হটাও, এগুলো ইহুদি ও খৃস্টানদের ওপর রাখ এবং তাহাদেরকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও”।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসঃ ৮৯ – আবু উমামা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “যখন কিয়ামতের দিন হইবে একদল মানুষ দাঁড়াবে, তাহাদের নূর সূর্যের ন্যায় দিগন্ত ঢেকে ফেলবে, অতঃপর বলা হবেঃ উম্মী নবী, প্রত্যেক নবী এ জন্য প্রস্তুত হইবেন। অতঃপর বলা হবেঃ মুহাম্মদ ও তার উম্মত। অতঃপর একদল দাঁড়াবে তাহাদের নূর চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায় দিগন্তের মধ্যবর্তী সব ঢেকে ফেলবে, বলা হবেঃ উম্মী নবী, প্রত্যেকেই এ জন্য প্রস্তুত হইবেন, অতঃপর বলা হবেঃ মুহাম্মদ ও তার উম্মত। অতঃপর একদল দাঁড়াবে তাহাদের নূর আসমানের তারকার ন্যায় দিগন্তের মধ্যবর্তী সব ঢেকে ফেলবে, বলা হবেঃ উম্মী নবী, প্রত্যেকেই এ জন্য প্রস্তুত হইবেন, অতঃপর বলা হবেঃ মুহাম্মদ ও তার উম্মত। অতঃপর দু’ মুষ্টি উঠাবেন ও বলবেনঃ এটা তোমার জন্য হে মুহাম্মদ ও এটা আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য হে মুহাম্মদ। অতঃপর মীযান কায়েম করা হইবে এবং হিসাব আরম্ভ হইবে”। (তাবরানি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসে কুদসী ৯০ – আনাস ইব্‌ন মালিক (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “সাদা এ আয়নার ন্যায় অনুরূপ আয়না নিয়ে জিবরিল আমার নিকট এসেছে তাতে কালো একটি ফোঁটা। আমি বললামঃ হে জিবরিল এটা কি? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে জুমা, আল্লাহ যা তোমার ও তোমার উম্মতের জন্য ঈদ বানিয়েছেন, তোমরাই ইহুদি ও খৃস্টানদের পূর্বে, (অর্থাৎ তাহাদের সাপ্তাহিক ঈদের পূর্বদিন তোমাদের ঈদের দিন) তাতে একটি মুহূর্ত রহিয়াছে, সে সময় বান্দা আল্লাহর নিকট কোন কল্যাণ প্রার্থনা করিবে না, যা তিনি তাকে দিবেন না। তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ এ কালো ফোঁটা কি? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে কিয়ামত জুমার দিন কায়েম হইবে, আমরা একে মাযিদ বলি। তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ ইয়াওমুল মাযিদ কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ জান্নাতে প্রশস্ত ময়দান তৈরি করিয়াছেন, সেখানে তিনি সাদা মিশকের স্তূপ রেখেছেন, যখন জুমার দিন হয় আল্লাহ সেখানে অবতরণ করবেন, সেখানে নবীদের জন্য স্বর্ণের মিম্বার রাখা হয়, আর শহীদদের জন্য মুক্তোর চেয়ার এবং (জান্নাতের) প্রাসাদসমূহ থেকে হূরুল ঈন’ বা ডাগর নয়না হূর অবতরণ করে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-গান করিবে। তিনি বলেনঃ অতঃপর আল্লাহ বলবেনঃ আমার বান্দাদের কাপড় পরিধান করাও, তাহাদের কাপড় পরিধান করানো হইবে। তিনি বলবেনঃ আমার বান্দাদের খাদ্য দাও, তাহাদের খাদ্য দেয়া হইবে। তিনি বলবেনঃ আমার বান্দাদের পান করাও, তাহাদের পান করানো হইবে। তিনি বলবেনঃ আমার বান্দাদের সুগন্ধি দাও, তাহাদের সুগন্ধি দেয়া হইবে। অতঃপর বলবেনঃ তোমরা কি চাও? তারা বলবেঃ হে আমাদের রব তোমার সন্তুষ্টি। তিনি বলেনঃ তিনি বলবেনঃ আমি তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছি, অতঃপর তাহাদেরকে নির্দেশ দিবেন, তারা যাবে ও হূরল ঈন’ প্রাসাদসমূহে প্রবেশ করিবে যা সবুজ মণি-মুক্তা ও লাল ইয়াকুত পাথরের তৈরি”। (আবু ইয়ালা)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৯১ – ইব্‌ন ওমর (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের পূর্বের উম্মতের তুলনায় তোমাদের স্থায়িত্ব হচ্ছে আসর সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আহলে তাওরাতকে তাওরাত প্রদান করা হয়েছে, তারা তার ওপর দিনের অর্ধেক আমল করে অতঃপর অক্ষমতা প্রকাশ করেছে, তাই তাহাদেরকে এক কিরাত  এক কিরাত দেয়া হয়েছে। অতঃপর আহলে ইঞ্জিলকে ইঞ্জিল দেয়া হয়েছে, তারা তার ওপর আমল করেছে আসর সালাত পর্যন্ত, অতঃপর তারা অক্ষমতা প্রকাশ করেছে, তাই তাহাদেরকে এক কিরাত এক কিরাত দেয়া হয়েছে। অতঃপর তোমাদেরকে কুরআন দেয়া হয়েছে, তোমরা তার ওপর আমল করেছ সূর্যাস্ত পর্যন্ত, তাতেই তোমাদেরকে দুই কিরাত দুই কিরাত প্রদান করা হয়েছে। কিতাবিরা বলিলঃ তারা আমাদের তুলনায় আমলে কম, কিন্তু সওয়াবে অধিক। আল্লাহ বললেনঃ আমি কি তোমাদের হক থেকে সামান্য বঞ্চিত করেছি? তারা বলিলঃ না, তিনি বললেনঃ এটা আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে চাই দান করি”। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৯২ – সাওবান (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা আমার জন্য জমিন ঘুচিয়ে দিলেন ফলে আমি তার পূর্ব-পশ্চিম দেখেছি, নিশ্চয় আমার উম্মতের রাজত্ব পৌঁছবে যতটুকু আমার সামনে পেশ করা হয়েছে। আমাকে লাল ও সাদা দু’টি ভাণ্ডার  প্রদান করা হয়েছে, আমি আমার রবের নিকট আমার উম্মতের জন্য প্রার্থনা করেছি যেন, তাহাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস করা না হয়, যেন তাহাদের ওপর তাহাদের ব্যতীত কোন দুশমন চাপিয়ে দেয়া না হয়, যে তাহাদের সমূলে ধ্বংস করিবে। আমার রব আমাকে বলেছেনঃ হে মুহাম্মদ আমি যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তা প্রত্যাখ্যান করা হয় না, আমি তোমার উম্মতের জন্য তোমাকে প্রদান করলাম যে, তাহাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দ্বারা ধ্বংস করব না। তাহাদের ওপর তাহাদের ব্যতীত কোন দুশমন চাপিয়ে দেব না যারা তাহাদের সমূলে ধ্বংস করিবে, যদিও দুনিয়ার প্রান্ত থেকে এসে একত্র হয়, অথবা বলেছেনঃ দিগন্তের মধ্য থেকে এসে, তবে তারা একে অপরকে ধ্বংস করিবে, একে অপরকে বন্দি করিবে”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৯৩ – আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) ইবরাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহর এ বাণী তিলাওয়াত করেনঃ
﴿رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضۡلَلۡنَ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلنَّاسِۖ فَمَن تَبِعَنِي فَإِنَّهُۥ مِنِّيۖ ٣٦﴾ (ابراهيمঃ ٣٦)
“হে আমার রব, নিশ্চয় এসব মূর্তি অনেক মানুষকে ‎পথভ্রষ্ট করেছে, সুতরাং যে আমার অনুসরণ ‎করেছে, নিশ্চয় সে আমার দলভুক্ত” (সূরা ইবরাহিমঃ৩৬) ‎ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছেনঃ
﴿ إِن تُعَذِّبۡهُمۡ فَإِنَّهُمۡ عِبَادُكَۖ وَإِن تَغۡفِرۡ لَهُمۡ فَإِنَّكَ أَنتَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ ١١٨ ﴾ (المائ‍دةঃ ١١٨)
“যদি আপনি তাহাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন ‎তবে তারা আপনারই বান্দা, আর তাহাদেরকে ‎যদি ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয় আপনি ‎পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” (সূরা মায়েদাঃ১১৮) অতঃপর তিনি হাত উঠিয়ে বলেনঃ “হে আল্লাহ আমর উম্মত, আমার উম্মত” এবং ক্রন্দন করেন। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “হে জিবরিল মুহাম্মদের নিকট যাও, -নিশ্চয় তোমার রব অধিক জ্ঞাত,- তাকে জিজ্ঞাসা কর কি জন্য কাঁদ? জিবরিল আলাইহিস সালাম এসে তাকে জিজ্ঞাসা করেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাকে বললেনঃ তিনিই ভাল জানেন। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে জিবরিল মুহাম্মদের নিকট যাও, তাকে বলঃ নিশ্চয় আমি তোমার উম্মতের ব্যাপারে তোমাকে সন্তুষ্ট করব, তোমাকে অসন্তুষ্ট করব না”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৯৪ – মালিক ইব্‌ন সাসা থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ … এখানে তিনি মেরাজের হাদিস বর্ণনা করেন, তাতে রহিয়াছে, “অতঃপর আমার ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়, অতঃপর আমি এগিয়ে মুসা পর্যন্ত আসি, তিনি বলেনঃ কি করেছ? আমি বললামঃ আমার ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছে। তিনি বলেনঃ মানুষ সম্পর্কে তোমার চেয়ে আমি বেশী জানি, আমি বনি ইসরাইলকে কঠিনভাবে পরীক্ষা করেছি, তোমার উম্মত পারবে না, ফিরে যাও তোমার রবকে বল। আমি ফিরে যাই, অতঃপর তাকে বলি, তিনি তা চল্লিশ ওয়াক্ত করে দেন, অতঃপর অনুরূপ ঘটে, ফলে ত্রিশ করে দেন, অতঃপর অনুরূপ ঘটে, ফলে বিশ করে দেন, অতঃপর অনুরূপ ঘটে, ফলে দশ করে দেন, অতঃপর মুসার নিকট আসি, তিনি অনুরূপ বলেন, ফলে তা পাঁচ করে দেয়া হয়। অতঃপর মুসার নিকট আসি, তিনি বলেনঃ কি করেছ? আমি বললামঃ পাঁচ ওয়াক্ত করে দিয়েছেন, তিনি অনুরূপ বলেন। আমি বললামঃ আমি সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করেছি। অতঃপর ঘোষণা দেয়া হয়ঃ নিশ্চয় আমি আমার ফরয বাস্তবায়ন করেছি, আমার বান্দাদের থেকে হালকা করেছি, আমি এক নেকির প্রতিদান দিব দশ”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৯৫– ইব্‌ন মাসউদ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “(হজের ) মৌসুমে সকল উম্মত আমার সামনে পেশ করা হয়েছে, ফলে আমি আমার উম্মত দেখেছি, তাহাদের আধিক্য ও হালত আমাকে খুশি করেছে, তারা সমতল ও পাহাড় সর্বত্র পূর্ণ ছিল। তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মদ তুমি কি সন্তুষ্ট হয়েছ? আমি বললামঃ হ্যাঁ, হে রব। তিনি বললেনঃ তাহাদের সাথে শত্তুর হাজার বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে, যারা ঝাঁড়-ফুঁক চায় না, জ্বলন্ত লোহার সেক দেয়ার চিকিৎসা গ্রহণ করে না এবং অশুভ লক্ষণ নেয় না, বরং তারা তাহাদের রবের ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করে। উক্কাশা বলেনঃ দোআ করেন যেন আল্লাহ আমাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ তাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করুন”। অতঃপর অপর ব্যক্তি বলেঃ আমার জন্য দোআ করুন যেন আল্লাহ আমাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করেন, তিনি বলেনঃ “উক্কাশা তোমাকে অতিক্রম করে গেছে”। (মুসনাদে আহমদ, ইব্‌ন হিব্বান)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৯৬ – ইব্‌ন আব্বাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “কুরাইশরা নবী (সাঃআঃ)কে বলিলঃ তুমি তোমার রবের নিকট দোআ কর যেন সাফা’কে আমাদের জন্য স্বর্ণ বানিয়ে দেন, তাহলে আমরা তোমার ওপর ঈমান আনব। তিনি বললেনঃ তোমরা তাই করিবে? তারা বলিলঃ হ্যাঁ। ইব্‌ন আব্বাস বলেনঃ অতঃপর তিনি দোআ করেন, ফলে তার নিকট জিবরিল আগমন করেন ও বলেনঃ তোমার রব তোমাকে সালাম করিয়াছেন, তিনি বলছেনঃ যদি তুমি চাও তাহলে সাফা’কে তাহাদের জন্য স্বর্ণ বানিয়ে দিব, অতঃপর যে কুফরি করিবে, তাকে আমি এমন আযাব দিব যা দুনিয়ার কাউকে দিব না। যদি চাও আমি তাহাদের জন্য তওবা ও রহমতের দরজা খুলে দিব। তিনি বলেনঃ বরং তওবা ও রহমতের দরজা”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৯৭ – উবাদাহ ইব্‌ন সামেত থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “কোন এক রাতে নবী (সাঃআঃ)ের সাথীগণ তাকে হারিয়ে ফেলেন, সাধারণত তারা কোথাও অবতরণ করলে তাকে তাহাদের মাঝে রাখতেন, তাই তারা চিন্তিত হল, তারা ধারণা করিল আল্লাহ তার জন্য না তাহাদের ব্যতীত অন্য সম্প্রদায় মনোনীত করিলেন! এভাবেই নবী (সাঃআঃ)কে নিয়ে চিন্তা করতে লাগল, হঠাৎ তাকে দেখে তাকবীর বলে উঠল, তারা বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আশঙ্কা করছিলাম যে, আল্লাহ না আপনার জন্য আমাদের ব্যতীত অন্যদের মনোনীত করেন! রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ না, বরং তোমরা আমার দুনিয়া ও আখেরাতের সাথী। আল্লাহ তাআলা আমাকে জাগ্রত করে বলেনঃ হে মুহাম্মদ, আমি এমন কোন নবী ও রাসূল প্রেরণ করি নি যে আমার নিকট একটি বস্তু প্রার্থনা করেছে আমি তাকে দেই নি। হে মুহাম্মদ, তুমি চাও, দেয়া হইবে। আমি বললামঃ আমার চাওয়া হচ্ছে কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের জন্য সুপারিশ করা”। আবু বকর বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল সুপারিশ কি? তিনি বললেনঃ “আমি বলবঃ হে আমার রব, আমার সুপারিশ চাই যা আপনার নিকট আমি গোপনে জমা রেখেছি। আল্লাহ বলবেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর আমার রব জাহান্নাম থেকে আমার অবশিষ্ট উম্মত বের করবেন, অতঃপর তাহাদেরকে জান্নাতে নিক্ষেপ করবেন”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৫০. অনুচ্ছেদঃ বদরি সাহাবিদের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ৯৮ – আলি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আবু মুরসিদ গনভি, যুবায়ের ও আমাকে প্রেরণ করেন, আমরা সবাই ছিলাম ঘোড় সওয়ার, তিনি বলেনঃ “তোমরা যাও, রওদাতা খাখ’ এ পৌঁছ, সেখানে এক মুশরিক নারী রহিয়াছে, তার সাথে হাতেব ইব্‌ন আবি বালতাআর পক্ষ থেকে মুশরিকদের প্রতি লেখা চিঠি আছে”। আমরা তাকে সেখানেই পেলাম যার কথা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদেরকে বলেছেন, সে উঠে চড়ে যাচ্ছিল, আমরা বললামঃ চিঠি, সে বলিলঃ আমার সাথে চিঠি নেই। আমরা তাকে নামিয়ে তালাশ করলাম কিন্তু কোন চিঠি পেলাম না। আমরা বললামঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মিথ্যা বলেন নি, তুমি অবশ্যই চিঠি বের করিবে অথবা আমরা তোমাকে উলঙ্গ করব, যখন সে পীড়াপীড়ি দেখল, তার কোমরের ফিতার দিকে নজর দিল, -চিঠিটি কাপড়ে মোড়ানো ছিল,- অতঃপর সে তা বের করিল, আমরা চিঠি নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ছুটলাম। অতঃপর ওমর (রাদিআল্লাহু আঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল সে আল্লাহ, রাসূল ও মুমিনদের সাথে খিয়ানত করেছে, আমাকে ছাড়ুন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী (সাঃআঃ) (হাতেবকে) বললেনঃ “যা করেছ কেন করেছ?” হাতেব বলিলঃ আল্লাহর কসম, আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি বেঈমান হওয়ার কোন কারণ নেই, আমি চেয়েছি তাহাদের নিকট আমার একটা হাত থাক, যার বিনিময়ে আল্লাহ আমার পরিবার ও সম্পদের সুরক্ষা দিবেন, আপনার সাথীদের এমন কেউ নেই যার বংশের কোন লোক সেখানে নেই, যার দ্বারা আল্লাহ তার পরিবার ও সম্পদ রক্ষা করেন। অতঃপর নবী (সাঃআঃ) বললেনঃ “সে সত্য বলেছে, তার ব্যাপারে ভালো ব্যতীত মন্দ বল না”। ওমর বললেনঃ সে আল্লাহ, রাসূল ও মুমিনদের খিয়ানত করেছে, আমাকে অনুমতি দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ “সে কি বদরি নয়? অতঃপর বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ বদরিদের ব্যাপারে অবগত হয়েছেন, অতঃপর বলেছেনঃ তোমরা যা ইচ্ছা কর, তোমাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব, অথবা তোমাদের আমি ক্ষমা করে দিয়েছি”। অতঃপর ওমরের দু’চোখ অশ্রু সিক্ত হয়ে গেল, তিনি বলেনঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই অধিক জানেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম ও আবু দাউদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

Leave a Reply