আল্লাহর কথাবার্তা, বাণী, ইচ্ছা, চাওয়া ও ফেরেশ্‌তাদের প্রতি আল্লাহর আহ্বান

আল্লাহর কথাবার্তা, বাণী, ইচ্ছা, চাওয়া ও ফেরেশ্‌তাদের প্রতি আল্লাহর আহ্বান

আল্লাহর কথাবার্তা, বাণী, ইচ্ছা, চাওয়া ও ফেরেশ্‌তাদের প্রতি আল্লাহর আহ্বান >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৯৭, জাহমিয়াদের মতের খণ্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ, অধ্যায়ঃ (২৮-৩৯)=১২টি

৯৭/২৮. অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার বানীঃ আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এ কথা আগেই স্থির হয়ে গেছে। (সুরা আস্‌ সাফফাত ৩৭/১৭১)
৯৭/২৯. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ কোন বিষয়ে আমি ইচ্ছে করলে বলি, হয়ে যাও, ফলে তা হয়ে যায়। (সুরা আন-নাহল ১৬/৪০)
৯৭/৩০. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণীঃ
৯৭/৩১. অধ্যায়ঃ আল্লাহর ইচ্ছা ও চাওয়া।
৯৭/৩২. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী :
৯৭/৩৩. অধ্যায়ঃ জিবরাইলের সঙ্গে রবের কথাবার্তা , ফেরেশ্‌তাদের প্রতি আল্লাহর আহ্বান।
৯৭/৩৪. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বানীঃ তা তিনি জেনে শুনে নাযিল করিয়াছেন। আর ফেরেশ্‌তারা এর সাক্ষী। (সুরা আন-নিসা ৪/১৬৬)
৯৭/৩৫. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণীঃ তারা আল্লাহর ওয়াদাকে বদলে দিতে চায়। (সুরা আল-ফাতহ ৪৮/১৫)
৯৭/৩৬. অধ্যায়ঃ ক্বিয়ামাতের দিনে নাবী ও অপরাপরের সঙ্গে মহান আল্লাহর কথাবার্তা
৯৭/৩৭. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণীঃ এবং মুসা (আঃ) এর সঙ্গে আল্লাহ বাক্যালাপ করেছিলেন। (সুরা আন্-নিসা ৪/১৬৪)
৯৭/৩৮. অধ্যায়ঃ জান্নাতবাসীদের সঙ্গে রবের কথাবার্তা।
৯৭/৩৯. অধ্যায়ঃ আদেশ দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহ কর্তৃক বান্দাকে স্মরণ করা এবং দুআ, মিনতি, বার্তা ও বাণী প্রচারের মাধ্যমে বান্দা কর্তৃক আল্লাহকে স্মরণ করা।

৯৭/২৮. অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার বানীঃ আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এ কথা আগেই স্থির হয়ে গেছে। (সুরা আস্‌ সাফফাত ৩৭/১৭১)

৭৪৫৩

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা যখন (সৃষ্টির) কাজ সম্পন্ন করিলেন, তখন তাহাঁর নিকট তাহাঁর আরশের ওপর লিখে দিলেন, “আমার রহমত আমার ক্রোধকে ছাড়িয়ে গেছে”।(আঃপ্রঃ- ৬৯৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৪৫)

৭৪৫৪

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (র) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) যিনি সত্যবাদী এবং সত্যবাদী বলে স্বীকৃত আমাদের কাছে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি হলো এমন বীর্য থেকে যাকে মায়ের পেটে চল্লিশ দিন কিংবা চল্লিশ রাত একত্রিত রাখা হয়। তারপর তেমনি সময়ে আলাক হয়, তারপর তেমনি সময়ে গোশতপিণ্ডে পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ তার কাছে ফেরেশতা প্রেরণ করেন। এই ফেরেশতাকে চারটি বিষয় সম্পর্কে লেখার করার জন্য হুকুম দেয়া হয়। যার ফলে ফেরেশতা তার রিযক, আমাল, আয়ু এবং দুর্ভাগা কিংবা ভাগ্যবান হওয়া সম্পর্কে লিখে দেয়। তারপর তার মধ্যে প্রাণ ফুঁকে দেয়া হয়। এজন্যই তোমাদের কেউ জান্নাতীদের আমাল করে এতটুকু এগিয়ে যায় যে, তার ও জান্নাতের মাঝে কেবল এক গজের দূরত্ব থাকতেই তার উপর লিখিত তাক্দীর প্রবল হয়ে যায়। তখন সে জাহান্নামীদের মত আমাল করে। শেষে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের মত আমাল করে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক গজের দূরত্ব থাকতে তার উপর তাকদীরের লেখা প্রবল হয়, ফলে সে জান্নাতীদের মত আমাল করে, শেষে জান্নাতেই প্রবেশ করে। (আঃপ্রঃ- ৬৯৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৪৬)

৭৪৫৫

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করিলেন, হে জিব্রীল! আপনি আমাদের সঙ্গে যে পরিমাণ সাক্ষাত করেন, তার চেয়ে বেশী সাক্ষাত করিতে কিসে বাধা দেয়? এরই প্রেক্ষাপটে কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়ঃ (ফেরেশতাগণ বলেন) আমরা আপনার প্রতিপালকের হুকুম ছাড়া অবতরণ করি না, যা আমাদের সামনে আছে, আর যা আমাদের পেছনে আছে আর এ দুয়ের মাঝে যা আছে তা তাহাঁরই, আপনার প্রতিপালক কক্ষনো ভুলে যান না। (সুরা মারইয়াম ১৯/৬৪)। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলেন, এটি মুহাম্মাদ (সাঃআঃ) -এর প্রশ্নের উত্তর।(আঃপ্রঃ- ৬৯৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৪৭৪)

৭৪৫৬

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর সঙ্গে মদিনায় একটি কৃষিক্ষেত দিয়ে চলছিলাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তখন একটি খেজুরের ডালের উপর ভর দিয়ে চলছিলেন। তারপর তিনি যখন ইয়াহূদীদের এক কাওমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তারা একে অপরকে বলিতে লাগল, তাঁকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। আবার কেঊ কেঊ বলিল, তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করো না। শেষে তাঁরা রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিল। তারপর রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) খেজুরের শাখার ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন আমি তাহাঁর পেছনেই ছিলাম। আমি ভাবছিলাম, তাহাঁর ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে। পরে তিনি বললেনঃ “তোমাকে তারা রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল, রূহ হচ্ছে আমার প্রতিপালকের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত (একটি হুকুম)। এ সম্পর্কে তোমাকে অতি সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে।” – (সুরা ইসরা ১৭/৮৫)। তখন তাদের একজন আরেকজনকে বলিতে লাগল, বলেছিলাম তোমাদেরকে তাঁকে কোন প্রশ্ন করো না।(আঃপ্রঃ- ৬৯৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৪৮)

৭৪৫৭

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের নিয়্যতে যে লোক বের হয়, আর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এবং তাহাঁর কলেমার বিশ্বাসই যদি তাকে বের করে থাকে, এমন লোকের জন্য আল্লাহ স্বয়ং যিম্মাদার হয়ে যান। হয়তো তাকে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, নচেৎ যে জায়গা থেকে সে বের হয়েছিল সওয়াব কিংবা গনীমতসহ তাকে সে জায়গায় ফিরিয়ে আনবেন।(আঃপ্রঃ- ৬৯৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৪৯)

৭৪৫৮

আবু মূসা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক লোক নাবী (সাঃআঃ) -এর কাছে এসে বলিল, কেউ যুদ্ধ করে মর্যাদার জন্য, কেউ বীরত্বের জন্য, কেউ লোক দেখানোর জন্য। এদের কার যুদ্ধটা আল্লাহর পথে হচ্ছে? নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ যে লোক আল্লাহর বাণীকে উর্দ্ধে তুলে ধরার জন্য যুদ্ধ করে, সেটাই আল্লাহর পথে।(আঃপ্রঃ- ৬৯৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫০)

৯৭/২৯. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ কোন বিষয়ে আমি ইচ্ছে করলে বলি, হয়ে যাও, ফলে তা হয়ে যায়। (সুরা আন-নাহল ১৬/৪০)

৭৪৫৯

মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনিয়াছি, আমার উম্মাতের মধ্যে সব সময় এমন একটি দল থাকবে, যারা আল্লাহর হুকুম আসা পর্যন্ত অন্যান্য লোকের বিরুদ্ধে জয়ী থাকবে।(আঃপ্রঃ- ৬৯৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫১)

৭৪৬০

মুআবীয়াহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনিয়াছি, আমার উম্মাত হইতে একটি দল সব সময় আল্লাহর হুকুমের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদেরকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করিতে চাইবে কিংবা বিরোধিতা করিবে, তারা এদের কোন ক্ষতি করিতে পারবে না। ক্বিয়ামাত আসা পর্যন্ত তারা এ অবস্থায় থাকবে। মালিক ইবনু ইয়ুখামির (রাদি.) বলেন, আমি মুআয (রাদি.) কে বলিতে শুনিয়াছি, তাঁরা হইবে সিরিয়ার লোক।

মুআবিয়াহ (রাদি.) বলেন, মালিক ইবনু ইয়ুখামির (রাদি.) বলেন, তিনি মুআয (রাদি.) -কে বলিতে শুনেছেন, তাঁরা হইবে সিরিয়ার।(আঃপ্রঃ- ৬৯৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫২)

৭৪৬১

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, নাবী (সাঃআঃ) একবার মুসায়লামার কাছে একটু অবস্থান করিলেন। তখন সে তার সঙ্গীদের মধ্যে ছিল। নাবী (সাঃআঃ) তাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমি যদি আমার কাছে এ টুকরাটিও চাও, তা হলে আমি তোমাকে তাও তো দিচ্ছি না। তোমার সম্পর্কে আল্লাহ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা তুমি এড়াতে পারবে না। আর যদি তুমি ফিরে যাও, তা হলে আল্লাহ স্বয়ং তোমাকে ধ্বংস করে দেবেন। (আঃপ্রঃ- ৬৯৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫৩)

৭৪৬২

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি নাবী সাঃআঃ-এর সঙ্গে মাদ্বীনাহ্য় এক কৃষিক্ষেত কিংবা অনাবাদী জায়গা দিয়ে যাচ্ছিলাম। নাবী সাঃআঃ নিজের সঙ্গে রাখা একটা খেজুরের শাখার উপর ভর দিয়ে চলছিলেন। তারপর আমরা একদল ইয়াহূদীকে অতিক্রম করছিলাম। তাদের একে অন্যকে বলিতে লাগল, তাঁকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। আবার তাদের কেউ কেউ বলিল, তাঁকে জিজ্ঞেস করো না। হয়তো তিনি এমন বিষয় উপস্থাপন করবেন, যা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় লাগবে। তা সত্ত্বেও তাদের কেউ বলে উঠল, আমরা অবশ্যই তাঁকে জিজ্ঞেস করব। অতঃপর তাদের একজন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর দিকে এগিয়ে প্রশ্ন করিল, হে আবুল কাসিম! রূহ কী? এতে নাবী সাঃআঃ চুপ থাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন বুঝতে পেরেছিলাম, তাহাঁর প্রতি ওয়াহী নাযিল হচ্ছে, এরপর তিনি পড়লেনঃ তোমাকে তারা রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল, রূহ হচ্ছে আমার প্রতিপালকের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত (একটি হুকুম)। এ সম্পর্কে তোমাকে অতি সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে।- (সুরা ইসরা ১৭/৮৫)। আমাশ বলিলেন, আয়াতে وَمَا أُوتُواআমাদের কিরাআতে এমনটাই আছে। [১২৫] (আঃপ্রঃ- ৬৯৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫৪)

৯৭/৩০. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণীঃ

বল, সমুদ্রগুলো যদি আমার প্রতিপালকের কথা লেখার জন্য কালি হয়ে যায়, তবে আমার প্রতিপালকের কথা লেখা শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র অবশ্যই নিঃশেষ হয়ে যাবে, আমি যদি এর সাহায্যের জন্য আরো এত পরিমাণ সমুদ্র নিয়ে আসি তবুও। (সুরা কাহাফ ১৮/১০৯)। আল্লাহর বাণীঃ দুনিয়ার সব গাছ যদি কলম হয় আর সমুদ্র (কালি হয়) আর তার সাথে আরো সাত সমুদ্র যুক্ত হয়, তবুও আল্লাহর (প্রশংসার) কথা (লেখা) শেষ হইবে না। – (সুরা লুক্বমান ৩১/২৭)। আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি ছয় দিনে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন, অতঃপর আরশে সমুন্নত হয়েছেন। দিনকে তিনি রাতের পর্দা দিয়ে ঢেকে দেন, তারা একে অন্যকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে এবং সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি তাহাঁরই আজ্ঞাবহ। জেনে রেখ, সৃষ্টি তাহাঁর, হুকুমও (চলবে) তাহাঁর, মহীয়ান, গরীয়ান আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতিপালক- (সুরা আল-আরাফ ৭/৫৪)। (—) অর্থ (—) অধীন করে দেয়া।

৭৪৬৩

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদের নিয়্যত নিয়ে যে লোক বের হইবে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ এবং তাহাঁর কলেমার প্রতি বিশ্বাস ব্যতীত অন্য কিছু তাকে তার ঘর থেকে বের করেনি, তবে এমন লোকের জন্য আল্লাহ যামিন হয়ে যান। হয়তো তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেবেন, নইলে সে যে সওয়াব ও গনীমাত হাসিল করেছে, তা সহ তাকে তার বাসস্থানে ফিরিয়ে আনবেন। (আঃপ্রঃ- ৬৯৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫৫)

৯৭/৩১. অধ্যায়ঃ আল্লাহর ইচ্ছা ও চাওয়া।

আল্লাহর বাণীঃ তোমরা ইচ্ছা করিবে না যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন- (সুরা আদ দাহর ৭৬/৩০)। আল্লাহর বাণীঃ তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর- (সুরা আলু ইমরান ৩/২৬)। কোন বিষয় সম্পর্কে কক্ষনো বল না যে, ওটা আমি আগামীকাল করব আল্লাহ ইচ্ছে করলে বলা ছাড়া- (সুরা কাহাফ ১৮/২৩-২৪)। আল্লাহর বাণীঃ তুমি যাকে ভালবাস তাকে সৎপথ দেখাতে পারবে না, বরং আল্লাহই যাকে চান সৎ পথে পরিচালিত করেন- (সুরা আল-ক্বাসাস ২৮/৫৬)। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাদি.) তাহাঁর পিতা মুসাইয়্যাব থেকে বলেন, উক্ত আয়াত আবু তালিব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না- (সুরা আল-বাক্বারাহ ২/১৮৫)।

৭৪৬৪

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যখন তোমরা আল্লাহর কাছে দুআ করিবে, তখন দুআয় দৃঢ়সংকল্প থাকবে। তোমাদের কেউই এমন কথা বলবে না, তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে দাও। কারণ, আল্লাহ্কে বাধ্যকারী কেউ নেই। (আঃপ্রঃ- ৬৯৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫৬)

৭৪৬৫

আলী ইবনু আবু ত্বলিব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁর ও রাসুল-কন্যা ফাতিমার কাছে রাতে আসলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমরা সালাত আদায় করছ না? আলী বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের জীবন তো আল্লাহর হাতে। তিনি যখন আমাদেরকে ঘুম থেকে জাগাতে চান জাগিয়ে দেন। আমি এ কথা বলার পর, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) ফিরে গেলেন। কথার কোন উত্তর দিলেন না। যাওয়ার সময় তাঁকে উরুর ওপর হাত মেরে বলিতে শুনিয়াছি, মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই বিতর্ক প্রিয়।(আঃপ্রঃ- ৬৯৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫৭)

৭৪৬৬

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ ঈমানদার শস্যক্ষেতের নরম ডগার মত। জোরে বাতাস বইলেই তার পাতা ঝুঁকে পড়ে। বাতাস শান্ত হলে, আবার সোজা হয়ে যায়। ঈমানদারদেরকে বালা-মুসিবত দিয়ে এভাবেই ঝুঁকিয়ে রাখা হয়। আর কাফেরের দৃষ্টান্ত দেবদারু গাছ, যা একেবারেই কঠিন ও সোজা হয়। ফলে আল্লাহ যখন চান সেটিকে মূলসহ উপড়ে ফেলেন। (আঃপ্রঃ- ৬৯৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫৮)

৭৪৬৭

আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে বলিতে শুনিয়াছি, যখন তিনি মিম্বরে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের আগের উম্মাতদের তুলনায় তোমাদের অবস্থানের সময়কাল আসরের সালাত ও সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়। তাওরাতের ধারকদেরকে তাওরাত দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক আমাল করিল, তবে দুপুর হলে তারা অপারগ হয়ে গেল। এ জন্য তাদেরকে এক এক কীরাত করে পারিশ্রমিক দেয়া হলো। অতঃপর ইনজীলের ধারকদেরকে ইনজীল দেয়া হলো, তারা সে মোতাবেক আমাল করিল আসরের সালাত পর্যন্ত, তারপর তারা অক্ষম হয়ে পড়লে তাদেরকে দেয়া হলো এক কীরাত এক কীরাত করে। অতঃপর তোমাদেরকে কুরআন দেয়া হলো। ফলে এ কুরআন মোতাবেক তোমরা আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমাল করেছ। এ জন্য তোমাদেরকে দুকীরাত দুকীরাত করে পারিশ্রমিক দেয়া হয়েছে। তাওরাতের ধারকরা বললো, হে আমাদের প্রতিপালক! তারাতো আমলে সবচেয়ে কম আবার পারিশ্রমিকে সবচেয়ে অধিক। আল্লাহ তখন বললেনঃ তোমাদের পারিশ্রমিকে তোমাদের উপর কোন যুল্ম করা হয়েছে কি? তারা বলিল, না। তখন আল্লাহ বলিলেন, সেটি হচ্ছে আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে চাই তাকে দিই। (আঃপ্রঃ- ৬৯৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫৯)

৭৪৬৮

উবাদাহ ইবনু সামিত (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একদল লোকের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর কাছে বায়আত করেছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের বায়আত এ শর্তে কবূল করছি যে, তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করিবে না, চুরি করিবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করিবে না, তোমাদের হাত ও পায়ের মধ্যবর্তী লজ্জাস্থানের ব্যাপারে কোন অপবাদ রটনা করিবে না, কোন ন্যয়সঙ্গত কাজে আমার অবাধ্য হইবে না। তোমাদের যারা এ সব পূর্ণ করিবে, আল্লাহর কাছে তার প্রতিদান আছে। আর কেউ এ সব জিনিসের কোনটায় জড়িয়ে পড়লে তাকে যদি সে জন্য দুনিয়ায় শাস্তি দেয়া হয়, তাহলে তা হইবে তার জন্য কাফ্ফারা এবং পবিত্রতা। আর যাদের দোষ আল্লাহ ঢেকে রাখেন সেটি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন, ইচ্ছা করলে ক্ষমা করবেন।(আঃপ্রঃ- ৬৯৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬০)

৭৪৬৯

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর নাবী সুলাইমানের ষাটজন স্ত্রী ছিল। একদা সুলাইমান (আঃ) বলিলেন, আজ রাতে আমি অবশ্য অবশ্যই আমার সব স্ত্রীর কাছে যাব। যার ফলে স্ত্রীরা সবাই গর্ভবতী হয়ে এক একজন অশ্বারোহী প্রসব করিবে যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করিবে। অতএব সুলাইমান (আঃ) তাহাঁর সব স্ত্রীর কাছে গেলেন, তবে তাদের একজন স্ত্রী ব্যতীত আর কেউ গর্ভবতী হলো না। সেও প্রসব করলো একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান। নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ যদি সুলাইমান (আঃ) ইনশা-আল্লাহ বলিতেন, তাহলে অবশ্যই স্ত্রীরা সবাই গর্ভবতী হত এবং এমন সন্তান প্রসব করতো যারা অশ্বারোহী হয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করত। (আঃপ্রঃ- ৬৯৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬১)

৭৪৭০

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) এক বেদুঈনের কাছে প্রবেশ করিলেন তার রোগের খোঁজখবর নিতে। তিনি বললেনঃ তোমার চিন্তার কোন কারণ নেই। ইনশাআল্লাহ তুমি সুস্থ হয়ে যাবে। বেদুঈন বলিল সুস্থতা? না, বরং এটি এমন জ্বর যা একজন বেশি বুড়োকে সিদ্ধ করছে, ফলে তাকে কবরে নিয়ে ছাড়বে। নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, তবে তাই।(আঃপ্রঃ- ৬৯৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬২)

৭৪৭১

আবু ক্বাতাদাহ তাহাঁর পিতা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

যখন তাঁরা সালাত থেকে ঘুমিয়ে ছিলেন তখন নাবী (সাঃআঃ) বলেছিলেনঃ আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন তোমাদের রূহ্কে নিয়ে নেন, আর যখন ইচ্ছা ফিরিয়ে দেন। এরপর তারা তাদের প্রয়োজন সারলেন এবং ওযূ করিলেন। এতে সূর্য উঠে সাদা রং হয়ে গেল। নাবী (সাঃআঃ) উঠলেন, সালাত আদায় করিলেন।(আঃপ্রঃ- ৬৯৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৩)

৭৪৭২

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার একজন মুসলিম ও একজন ইয়াহূদী পরস্পর গালাগালি করিল। মুসলিম লোকটি বলিল, সে মহান সত্তার কসম ! যিনি জগতসমূহের ওপর মুহাম্মাদ (সাঃআঃ) কে মনোনীত করিয়াছেন। এরপর ইয়াহূদীটিও বলিল, সে মহান সত্তার কসম ! যিনি জগতসমূহের ওপর মূসা (আঃ) কে মনোনীত করিয়াছেন। এরপরই মুসলিম লোকটি হাত উঠিয়ে ইয়াহূদীকে চড় মারল। তখন ইয়াহূদী রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর কাছে গেল এবং তার ও মুসলিম লোকটির মধ্যে যা ঘটেছে তা জানাল। তারপর রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ তোমরা আামাকে মূসার উপর প্রাধান্য দিও না। কেননা, সব মানুষ (শিঙ্গায় ফুৎকারে) অজ্ঞান হয়ে যাবে। তখন সর্বপ্রথম আমি জ্ঞান ফিরে পাব। পেয়েই দেখব, মূসা (আঃ) আরশের একপাশ ধরে আছেন। অতএব আমি জানি না, তিনি কি অজ্ঞান হয়ে আমার আগেই জ্ঞান ফিরে পেয়ে গেলেন, নাকি তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে আল্লাহ অজ্ঞান হওয়া থেকে মুক্ত রেখেছেন। (আঃপ্রঃ- ৬৯৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৪)

৭৪৭৩

আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ দাজ্জাল মদীনার দিকে আসবে, তখন সে দেখিতে পাবে ফেরেশতাগণ মাদীনাহকে পাহারা দিয়ে রেখেছে। কাজেই দাজ্জাল ও প্লেগ মদীনার নিকটেও আসতে পারবে না ইন্শাআল্লাহ। (আঃপ্রঃ- ৬৯৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৫)

৭৪৭৪

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ প্রত্যেক নাবীর জন্য একটি (খাস) দুআ আছে। আমার সে দুআটি ক্বিয়ামাতের দিন আমার উম্মাতের শাফাআতের জন্য লুকিয়ে রাখার ইচ্ছা করছি ইন্শাআল্লাহ। (আঃপ্রঃ- ৬৯৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৬)

৭৪৭৫

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম এমন অবস্থায় আমাকে একটি কূপের কাছে দেখিতে পেলাম। অতঃপর আমি সে কূপ থেকে আল্লাহর ইচ্ছায় পানি উঠালাম। তারপর আবু কুহাফার পুত্র (আবু বক্‌র) তা নিলেন এবং তিনি এক বা দু বালতি উঠালেন। তার উঠানোতে দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। তারপর উমার তা নিলেন। তখন তা বিরাট একটি বালতিতে রূপ ধারণ করিল। আমি লোকের মধ্যে কোন বাহাদুরকে তার মত পানি তুলতে আর দেখিনি। এমনকি লোকেরা কূপের চারপাশ একেবারে ভিজিয়ে ফেলল। (আঃপ্রঃ- ৬৯৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৭)

৭৪৭৬

আবু মূসা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) -এর অভ্যাস ছিল, তাহাঁর কাছে কোন যাচ্ঞাকারী কিংবা অভাবী লোক এলে তিনি সাহাবীদের বলিতেন, তোমরা তার জন্য সুপারিশ কর, এর প্রতিদান পাবে। আর আল্লাহ তাহাঁর রাসূলের মুখ দিয়ে তাই প্রকাশ করেন, যা তিনি চান। (আঃপ্রঃ- ৬৯৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৮)

৭৪৭৭

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

যে, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন: তোমাদের কেউ এভাবে দুআ করো না, হে আল্লাহ! তুমি চাইলে আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমি চাইলে আমার প্রতি রহম কর। তুমি চাইলে আমাকে রিয্‌ক দাও। বরং দুআ প্রার্থী খুবই দৃঢ়তার সঙ্গে দুআ করিবে কেননা, তিনি যা চান তাই করেন। তাকে বাধ্য করার কেউ নেই।(আঃপ্রঃ- ৬৯৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৯)

৭৪৭৮

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি এবং হুর ইবনু কায়স ইবনু হিস্‌ন ফাযারী (রাদি.) মূসা (আঃ) -এর সঙ্গীর ব্যাপারে দ্বিমত করছিলেন যে, তিনি কি খাযির ছিলেন? এমন সময় তাদের পাশ দিয়ে উবায় ইবনু কাব আনসারী (রাদি.) যাচ্ছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস(রাদি.) তাঁকে ডেকে বলিলেন, আমি এবং আমার এ বন্ধু মূসা (আঃ) -এর সঙ্গী সম্পর্কে বিতর্ক করেছি মূসা (আঃ) যার সঙ্গে সাক্ষাতের পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি কি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে তাহাঁর সম্পর্কে কিছু বলিতে শুনেছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। অবশ্যই আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে তার ব্যাপারে উল্লেখ করে বলিতে শুনিয়াছি যে, এক সময় মূসা (আঃ) বানী ইসরাঈলের একদল লোকের মাঝে ছিলেন। এমন সময় এক লোক তাহাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, মূসা! আপনি কি জানেন, আপনার চেয়ে বেশি জ্ঞানী কেউ আছেন? মূসা (আঃ) বলিলেন, না। তারপর মূসা (আঃ) -এর কাছে ওয়াহী নাযিল হল যে, হ্যাঁ আছেন, আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা (আঃ)তাহাঁর সঙ্গে দেখা করার পথ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। সুতরাং আল্লাহ সেজন্য একটি মাছকে নির্দেশ হিসেবে ঠিক করিলেন এবং তাকে বলা হল, মাছটিকে যখন হারিয়ে ফেলবে, তখন সেদিকে ফিরে যাবে, তবে তুমি তাহাঁর দেখা পাবে। এরই প্রেক্ষাপটে মূসা (আঃ) সাগরে মাছের চিহ্ন ধরে খোঁজ করিতে থাকলে মূসার সঙ্গীটি বলিল, আপনি কি লক্ষ্য করিয়াছেন, আমরা যখন শিলাখণ্ডে (বসে) ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। সেটার কথা আপনাকে বলিতে শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল- (সুরা কাহাফ ১৮/৬৩)। মূসা বলিল, এটাই তো সে জায়গা যেটা আমরা খুঁজছি। কাজেই তারা তাদের পায়ের চিহ্ন ধরে ফিরে গেল। তখন তারা পেল- (সুরা কাহাফ ১৮/৬৪-৬৫)। তাদের এ দুজনের ঘটনা যা ঘটেছিল, আল্লাহ তারই বর্ণনা দিয়েছেন। (আঃপ্রঃ- ৬৯৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭০)

৭৪৭৯

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন: আমারা আগামীকল্য বানী কিনানা উপত্যকায় অবস্থান করব ইন্শা-আল্লাহ, যেখানে কাফিররা কুফরির উপর দৃঢ় থাকার শপথ নিয়েছিল। তিনি (এ কথার দ্বারা) মুহাস্সাবকে উদ্দেশ্য করছিলেন। (আঃপ্রঃ- ৬৯৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭১)

৭৪৮০

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) তায়েফবাসীদেরকে অবরোধ করিলেন। তবে তা জয় করিতে পারলেন না। তখন তিনি বললেনঃআমরা ইন্শা-আল্লাহ ফিরে যাব। মুসলিমগণ বলে উঠল, “আমরা ফিরে যাবো? কিন্তু জয় তো হলো না।” নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃআগামীকাল সকালে লড়াই কর। পরদিন তারা লড়াই করিল। অনেক লোক আহত হল। নাবী (সাঃআঃ) আবার বললেনঃআমরা ইনশা আল্লাহ আগামীকাল সকালে ফিরে যাব। এবার কথাটি যেন মুসলিমদেরকে আনন্দ দিল। ফলে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) মুচকি হাসলেন।(আঃপ্রঃ- ৬৯৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭২)

৯৭/৩২. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী :

তাহাঁর কাছে সুপারিশ কোন কাজে আসবে না, তবে তাদের ব্যতীত যাদেরকে তিনি অনুমতি দেবেন। অতঃপর তাদের (অর্থাৎ আল্লাহর নৈকট্যলাভকারী মালায়িকার কিংবা অন্যের জন্য সুপারিশ করার অনুমতিপ্রাপ্তদের) অন্তর থেকে যখন ভয় দূর হইবে তখন তারা পরস্পর জিজ্ঞেস করিবে– তোমাদের পালনকর্তা কী নির্দেশ দিলেন? তারা বলবে– যা সত্য ও ন্যায় (তার নির্দেশই তিনি দিয়েছেন), তিনি সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ।- (সুরা সাবা ৩৪/২৩)। আর এখানে এ কথা বলা হয়নি, তোমাদের প্রতিপালক কী সৃষ্টি করিয়াছেন?

আল্লাহ বলেনঃ কে সে যে তাহাঁর অনুমতি ছাড়া তাহাঁর কাছে সুপারিশ করিবে? (সুরা আল-বাক্বারাহ ২/২৫৫)। বর্ণনাকারী মাসরুক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাদি.) থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ যখন ওয়াহীর দ্বারা বলেন, তখন আসমানের অধিবাসীরা কিছু শুনতে পায়। তাদের অন্তর থেকে যখন ভয় দূর করে দেয়া হয় আর শব্দ স্তিমিত হয়ে যায়, তখন তারা বুঝতে পারে যে, যা ঘটেছে তা অবশ্যই একটা বাস্তব সত্য। তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করিতে থাকে তোমাদের প্রতিপালক কী বলেছেন? জাবির (রাদি.) আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাদি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) থেকে শুনিয়াছি, আল্লাহ সকল বান্দাকে হাশরে সমবেত করে এমন আওয়াজে ডাকবেন যে, নিকটবর্তীদের মত দূরবর্তীরাও শুনতে পাবে। আল্লাহ বলেবেন আমিই মহা সম্রাট, আমিই প্রতিদানকারী।

৭৪৮১

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী সাঃআঃ বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা যখন আসমানে কোন নির্দেশ জারি করেন, ফেরেশ্তারা তাহাঁর নির্দেশের প্রতি বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশের জন্য স্বীয় পাখাসমূহ হেলাতে থাকেন। তাদের পাখা হেলানোর শব্দটি যেন পাথরের উপর শিকলের ঝনঝনির ধ্বনি।

বর্ণনাকারী বলেন, আলী এ ক্ষেত্রে শব্দটিকে সাফাওয়ান এবং অন্যরা সাফওয়ান পড়েছেন। এরপর ফেরেশ্তাদের অন্তর থেকে যখন ভীতি দূর করা হয় তখন তারা একে অপরকে বলিতে থাকে, তোমাদের প্রতিপালক কী হুকুম জারি করিয়াছেন? তাঁরা বলেন, তিনি বলেছেন, সত্য। তিনি মহান ও সর্বোচ্চ।

বর্ণনাকারী আলী…..আবু হুরাইরাহ (রাদি.) থেকে এরকমই বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ فُزِّعَপড়েছেন। বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন যে, আমর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-ও এভাবেই পড়েছেন। তিনি বলছেন, আমার জানা নেই, বর্ণনাকারী এরকম শুনেছেন কি না? তবে আমাদের কিরাআত এরকমই। [৪৭০১] (আঃপ্রঃ- ৬৯৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭৩)

৭৪৮২

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেনঃ আল্লাহ তাহাঁর কোন এক নাবী থেকে (মধুর সুরে) যেভাবে কুরআন শুনেছেন, সেভাবে আর কিছুই তিনি শোনেননি। আবু হুরাইরাহ (রাদি.)-এর এক সঙ্গী বলেছেন,يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ -এর অর্থ আবু হুরাইরাহ (রাদি.) উচ্চৈঃস্বরে কুরআন পড়া বোঝাতেন। [৫০২৩] (আঃপ্রঃ- ৬৯৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭৪)

৭৪৮৩

আবু সাঈদ খুদরি (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা আদামকে বলবেন, হে আদাম ! আদাম (আঃ) জবাবে বলবেন, হে আল্লাহ! তোমাদের নিকটে আমি হাযির, তোমার প্রতি আমি বহু ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অতঃপর আল্লাহ তাকে এ শব্দে ডাকবেন, আল্লাহ তোমাকে নির্দেশ করিয়াছেন, তোমার সন্তানদের মধ্য থেকে জাহান্নামে পাঠানোর জন্য একটি দলকে তুমি বের কর।(আঃপ্রঃ- ৬৯৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭৫)

৭৪৮৪

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কোন নারীর ব্যাপারে আমি এত হিংসা করিনি, যতটা খাদিজাহ (রাদি.) –এর ব্যাপারে করেছি। আর তার কারণ এই যে, নাবী (সাঃআঃ) –এর রব্ব তাঁকে আদেশ দিয়েছেন যে, খাদিজাহ (রাদি.) –কে জান্নাতের একটি ঘরের খোশ খবর পৌঁছে দিন। (আঃপ্রঃ- ৬৯৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭৬)

৯৭/৩৩. অধ্যায়ঃ জিবরাইলের সঙ্গে রবের কথাবার্তা , ফেরেশ্‌তাদের প্রতি আল্লাহর আহ্বান।

মামার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, (—) -এর অর্থ হচ্ছে , তোমার উপর কুরআন অবতীর্ণ করা হয়। (—) -এর অর্থ তুমি কুরআন তাদের নিকট হইতে গ্রহণ কর। যেমন বলা হয়েছে- (—) আদাম (আঃ) তাহাঁর রব্বের নিকট থেকে কয়েকটি বাক্য গ্রহণ করিলেন।

৭৪৮৫

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন তিনি জিব্রীলকে ডেকে বলেন, আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তাই তুমিও তাকে ভালবাস। কাজেই জিব্রীল (আঃ) তাকে ভালবাসেন। অতঃপর জিব্রীল (আঃ) আসমানে এ ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তোমরাও তাকে ভালবাস। তখন তাকে আসমানবাসীরা ভালবাসে এবং পৃথিবীবাসীদের মধ্যেও তাকে গ্রহণীয় করা হয়। (আঃপ্রঃ- ৬৯৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭৭)

৭৪৮৬

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে ফেরেশ্তাগণ আসেন, একদল রাতে আর একদল দিনে। তাঁরা আবার একত্রিত হন আসরের সলাতে ও ফজরের সলাতে। তারপর তোমাদের মাঝে যাঁরা রাতে ছিলেন তাঁরা উপরের জগতে চলে যান। তখন আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, অথচ তিনি সবচেয়ে অধিক জানেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কী অবস্থায় রেখে এসেছ? তখন তাঁরা বলেন, আমরা তাদেরকে সালাতরত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি আর যখন আমরা তাদের কাছে গিয়েছিলাম, তখনও তারা সলাতের হালাতেই ছিল। (আঃপ্রঃ- ৬৯৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭৮)

৭৪৮৭

আবু যার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আমার কাছে জিবরীল (আঃ) এসে এ খোশখবর দিল যে, আল্লাহর সঙ্গে শরীক না করে কেউ মারা গেলে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। আমি বললাম, যদি সে চুরি ও যিনা করে তবুও কি! নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ যদিও সে চুরি করে ও যিনা করে।(আঃপ্রঃ- ৬৯৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭৯)

৯৭/৩৪. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বানীঃ তা তিনি জেনে শুনে নাযিল করিয়াছেন। আর ফেরেশ্‌তারা এর সাক্ষী। (সুরা আন-নিসা ৪/১৬৬)

মুজাহিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, ওদের মধ্যে নেমে আসে তার হুকুম- (সুরা আত্ তালাক ৬৫/১২)। সপ্তম আকাশ ও সপ্তম যমীনের মাঝখানে।

৭৪৮৮

বারাআ ইবনু আযিব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) একবার বলেছেনঃ হে অমুক! যখন তুমি তোমার বিছানায় যাবে তখন বলবে, হে আল্লাহ! আমি আমার নিজেকে তোমারই কাছে সোর্পদ করছি। আমার চেহারাকে তোমার দিকে ফিরাচ্ছি! আমার কর্ম তোমার কাছে সোপর্দ করছি। আমার নির্ভরতা তোমারই প্রতি আশা ও ভয় উভয় হালাতেই। তোমার নিকট ব্যতীত আর কোথাও আশ্রয় ও মুক্তির জায়গা নেই। আমি ঈমান এনেছি তোমার কিতাবের প্রতি যা তুমি নাযিল করেছ এবং তোমার নাবীর প্রতি যাঁকে তুমি পাঠিয়েছ। অতঃপর এ রাতে যদি তোমার মওত হয়, তাহলে ফিতরাতের ওপর তোমার মওত হইবে। আর যদি (জীবিত থেকে) তোমার ভোর হয়, তুমি প্রতিদান পাবে।(আঃপ্রঃ- ৬৯৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮০)

৭৪৮৯

আবদুল্লাহ ইবনু আবু আওফা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আহযাবের দিনে বলেছেনঃ কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ তুমি দলগুলোকে পরাজিত কর এবং তাদেরকে প্রকম্পিত কর।

হুমায়দী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে…..আবদুল্লাহ (রাদি.) বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) কে বলিতে শুনিয়াছি ………। (আঃপ্রঃ- ৬৯৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮১)

৭৪৯০

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি কুরআনের আয়াতঃ “তুমি সলাতে স্বর উঁচু করিবে না এবং অতিশয় ক্ষীণও করিবে না …” (সুরা ইসরা ১৭/১১০)- এর তাফসীরে তিনি বলেন, এ আয়াতটি তখন নাযিল হয়, যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) মাক্কাহয় লুকিয়ে ছিলেন। সুতরাং যখন তিনি তাহাঁর স্বর উচু করিতেন তাতে মুশরিক্‌রা শুনে গালমন্দ করত কুরআনকে, কুরআন নাযিলকারীকে এবং যাঁর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তাঁকে। এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ বললেনঃ (হে নাবী) তুমি সলাতে তোমার স্বর উঁচু করিবে না, যাতে মুশরিক্‌রা শুনতে পায়। আর তা অতিশয় ক্ষীণও করিবে না যাতে তোমার সঙ্গীরাও শুনতে না পায়। এই দুয়ের মধ্যপথ গ্রহণ কর। তুমি স্বর উঁচু করিবে না, তারা শুনে এভাবে পাঠ করিবে যেন তারা তোমা হইতে কুরআন শিখতে পারে। (আঃপ্রঃ- ৬৯৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮২)

৯৭/৩৫. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণীঃ তারা আল্লাহর ওয়াদাকে বদলে দিতে চায়। (সুরা আল-ফাতহ ৪৮/১৫)

لقولفصل অর্থাৎ চিরসিত্য وماهوبالهزل এর অর্থ কুরআন খেল-তামাশার বস্তু নয় ।

৭৪৯১

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, আমাকে আদম সন্তান কষ্ট দেয়। কারণ তারা সময়কে গালি দেয়। পক্ষান্তরে আমিই দাহর বা কাল। কেননা আমার হাতেই সকল বিষয়। আমিই রাত ও দিনের বিবর্তন ঘটাই।(আঃপ্রঃ- ৬৯৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৩)

৭৪৯২

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ ঘোষণা করেন যে, সওম আমার জন্যই, আর আমিই এর প্রতিদান দেব। যেহেতু সে আমারই সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তার প্রবৃত্তি, তার আহার ও তার পান ত্যাগ করেছে। আর সওম হল ঢাল। সওম পালনকারীর জন্য আছে দুটি আনন্দ। এক আনন্দ হলো যখন সে ইফ্‌তার করে, আর এক আনন্দ হলো, যখন সে তার রব্বের সঙ্গে মিলিত হইবে। আল্লাহর কাছে সওমকারীর মুখের গন্ধ মিস্কের সুগন্ধি হইতেও উত্তম। (আঃপ্রঃ- ৬৯৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৪)

৭৪৯৩

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ একদা আইউব (আঃ) বস্ত্রহীন অবস্হায় গোসল করছিলেন। তখন সোনার একদল পঙ্গপাল তার ওপর পড়লে তিনি তা তাহাঁর কাপড়ে ভরতে থাকেন। তখন তার রব্ব ডেকে বললেনঃ হে আইউব! তুমি যা দেখছ, তা থেকে তোমাকে কি আমি অভাবহীন করি নি? আইউব (আঃ) বলিলেন, হ্যাঁ হে আমার রব! তবে তোমার বরকত থেকে আমি অভাবহীন নই।(আঃপ্রঃ- ৬৯৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৫)

৭৪৯৪

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আমাদের রব্ব প্রত্যেক রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকী থাকে তখন পৃথিবীর আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন, আমার কাছে যে দুয়া করিবে, আমি তার দুয়া কবুল করব। আমার কাছে যে চাইবে, আমি তাকে দেব। আমার কাছে যে ক্ষমা প্রার্থনা করিবে, তাকে আমি ক্ষমা করে দেব।(আঃপ্রঃ- ৬৯৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৬)

৭৪৯৫

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে বলিতে শুনেছেন। আমরা (পৃথিবীতে) সর্বশেষে আগমনকারী, তবে ক্বিয়ামাতের দিন অগ্রগামী। (আঃপ্রঃ- ৬৯৭৭ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৭ প্রথমাংশ)

৭৪৯৬

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

হাদীসটির এ সনদে আরো আছে যে, আল্লাহ বলেনঃ তুমি খরচ কর, তাহলে আমিও তোমার ওপর খরচ করব। (আঃপ্রঃ- ৬৯৭৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৭ শেষাংশ)

৭৪৯৭

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

জিবরীল (আঃ) নাবী (সাঃআঃ) -কে বলিলেন, এই তো খাদীজাহ আপনার জন্য একটি পাত্রে খাবার নিয়ে এসেছেন। বর্ণনাকারী সন্দেহে বলেছেন, অথবা পাত্র নিয়ে এসেছেন, অথবা পানীয় নিয়ে এসেছেন। আপনি তাঁকে তাহাঁর রবের পক্ষ থেকে সালাম বলুন। আর তাঁকে এমন একটি মোতির তৈরি প্রাসাদের খোশখবর দিন, যেখানে চেঁচামেচি বা কষ্ট থাকবে না।(আঃপ্রঃ- ৬৯৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৮)

৭৪৯৮

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ ঘোষণা করিলেন, আমি আমার নেক্‌কার বান্দাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি, কোন মানুষেরর কল্পনায়ও আসেনি।(আঃপ্রঃ- ৬৯৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৯)

৭৪৯৯

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) রাতে যখন তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করিতেন তখন এ দুআ করিতেনঃ হে আল্লাহ! সব প্রশংসা একমাত্র তোমারই, তুমিই আসমান ও যমীনের জ্যোতি। তোমারই সমস্ত প্রশংসা, তুমিই আসমান ও যমীনের একমাত্র পরিচালক। তোমারই সব প্রশংসা, তুমিই আসমান ও যমীন এবং এ দুয়ের মধ্যে যা আছে সব কিছুর রব। তুমি মহাসত্য। তোমার প্রতিশ্রুতি সত্য। তোমার বাণী সত্য। তোমার সাক্ষাৎ সত্য। জান্নাত সত্য। জাহান্নাম সত্য। নাবীগণ সত্য। ক্বিয়ামাত সত্য। হে আল্লাহ! তোমারই জন্য আনুগত্য স্বীকার করি। তোমারই প্রতি ঈমান আনি। তোমারই উপর ভরসা করি এবং তোমারই দিকে ফিরি। তোমারই জন্য বিতর্ক করি। তোমার কাছেই আমি সিদ্ধান্ত চাই। কাজেই আমার আগের ও পরের গোপনীয় ও প্রকাশ্য যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দাও। তুমিই আমার একমাত্র মাবূদ। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। (আঃপ্রঃ- ৬৯৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯০)

৭৫০০

উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (র) হইতে বর্ণিতঃ

উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব, আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস ও উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ) -এর স্ত্রী আয়েশাহ (রাদি.) -এর ঘটনার ব্যাপারে বর্ণনা করেন। যখন অপবাদ রটনাকারীরা তাহাঁর ব্যাপারে যা বলার তা বলিল, তখন আল্লাহ তাদের অপবাদ থেকে তাঁকে পবিত্র বলে ঘোষণা দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আয়েশাহ (রাদি.) থেকে বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকে হাদীসটির কিছু কিছু অংশ আমাকে বর্ণনা করিয়াছেন। আয়েশাহ (রাদি.) বলেন, কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি ধারণা করিনি যে, আল্লাহ আমার পবিত্রতার পক্ষে এমন ওয়াহী নাযিল করবেন যা তিলাওয়াত করা হইবে। আমার মান-সম্মান আমার কাছে এর চেয়ে কম ছিল যে, আল্লাহ আমার ব্যাপারে এমন কালাম করবেন যা তিলাওয়াত করা হইবে। তবে আমি আশা করতাম যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) স্বপ্নে এমন কিছু দেখবেন, যদদ্বারা আল্লাহ আমার পবিত্রতা ঘোষণা করবেন। কিন্তু আল্লাহ নাযিল করলেনঃ যারা অপবাদ রটনা করেছে…… থেকে দশটি আয়াত(সুরা আন্-নূর ১০/২১)। [২৫৯৩] (আঃপ্রঃ- ৬৯৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯১)

৭৫০১

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা কোন গুনাহর কাজ করিতে চাইলে তা না করা পর্যন্ত তার গুনাহ লেখো না। আর যদি তা করেই ফেলে, তাহলে তা সমপরিমাণ লেখো। আর যদি আমার (মাহাত্ন্যের) কারণে তা ত্যাগ করে, তাহলে তার পক্ষে একটি নেকী লেখো এবং যদি বান্দা কোন ভাল কাজের ইচ্ছা করিল কিন্তু তা না করে, তবুও তোমরা তার জন্য একটি নেকী লেখো। তারপর যদি তা করে, তবে তোমরা তার জন্য কাজটির দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত লেখো।(আঃপ্রঃ- ৬৯৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯২)

৭৫০২

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেনঃ আল্লাহ সৃষ্টিকে পয়দা করিলেন। তারপর যখন তিনি এর থেকে অবসর হলেন তখন রাহীম (আত্মীয়তার বন্ধন) উঠে দাঁড়াল। আল্লাহ সেটিকে বলিলেন, তুমি থাম। আত্মীয়তার বন্ধন তখন বলিল, আমাকে ছিন্নকারী থেকে আশ্রয় চাওয়ার জায়গা এটা। এতে আল্লাহ ঘোষণা করিলেন, তুমি কি এতে রাযী নও, যে লোক তোমার সঙ্গে সৎভাব রাখবে আমিও তার সঙ্গে সৎভাব রাখব আর যে তোমাকে ছিন্ন করিবে, আমিও তাকে ছিন্ন করব? সে বলিল, আমি এতে সন্তুষ্ট, হে আমার প্রতিপালক! আল্লাহ বললেনঃ তা-ই তোমার জন্য। তারপর আবু হুরাইরাহ (রাদি.) তিলাওয়াত করলেনঃ فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ الاية ক্ষমতা পেলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিবে আর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করিবে। (সুরা মুহাম্মাদ ৪৭/২২)। [৪৮৩০] (আঃপ্রঃ- ৬৯৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৩)

৭৫০৩

যায়দ ইবনু খালিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) -এর সময় একবার বৃষ্টি হলো। তিনি বললেনঃ আল্লাহ বলছেন, (বৃষ্টি হওয়ার ব্যাপার নিয়ে) আমার বান্দাদের কতক আমার সঙ্গে কুফ্‌রী করছে, আর কতক ঈমান এনেছে। (আঃপ্রঃ- ৬৯৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৪)

৭৫০৪

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার সাক্ষাত পছন্দ করলে আমিও তার সাক্ষাত পছন্দ করি। আর সে আমার সাক্ষাত অপছন্দ করলে, আমিও তার সাক্ষাত অপছন্দ করি।(আঃপ্রঃ- ৬৯৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৫)

৭৫০৫

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ আল্লাহ বলেনঃ আমার সম্পর্কে আমার বান্দার ধারণার মতই ব্যবহার করে থাকি। (আঃপ্রঃ- ৬৯৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৬)

৭৫০৬

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ এক লোক কোন ভাল আমাল করেনি। মৃত্যুর সময় সে বলিল, মারা যাওয়ার পর তোমরা তাকে পুড়িয়ে ফেল। আর অর্ধেক স্থলে আর অর্ধেক সাগরে ছড়িয়ে দাও। সে আরো বলিল, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ যদি তাকে পেয়ে যান তাহলে অবশ্য অবশ্যই তাকে এমন শাস্তি দেবেন, যা তামাম জগতের আর কাউকে দেবেন না। তারপর আল্লাহ সাগরকে হুকুম দিলে সাগর তাতে যা ছিল তা একত্রিত করিল। স্থলকে হুকুম দিলে সেও তাতে যা ছিল তা একত্রিত করিল। তারপর আল্লাহ বললেনঃ তুমি কেন এরকম করলে? সে উত্তর করিল, তোমার ভয়ে। আর তুমি অধিক জান। এ কারণে আল্লাহ তাকে মাফ করে দিলেন। (আঃপ্রঃ- ৬৯৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৭)

৭৫০৭

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী সাঃআঃ-কে এ কথা বলিতে শুনিয়াছি, এক বান্দা গুনাহ করিল। বর্ণনাকারী أَصَابَ ذَنْبًا না বলে কখনো أَذْنَبَ ذَنْبًا বলেছেন। তারপর সে বলিল, হে আমার রবব! আমি তো গুনাহ করে ফেলেছি। বর্ণনাকারী أَذْنَبْتُ -এর স্থলে কখনো أَصَبْتُ বলেছেন। তাই আমার গুনাহ ক্ষমা করে দাও। তার প্রতিপালক বললেনঃ আমার বান্দা কি একথা জেনেছে যে, তার রয়েছে একজন রবব যিনি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন। আমার বান্দাকে আমি মাফ করে দিলাম। তারপর সে আল্লাহর ইচ্ছে অনুযায়ী কিছুকাল অবস্থান করিল এবং সে আবার গুনাহ্তে জড়িয়ে গেল। বর্ণনাকারীর সন্দেহ أَصَابَ ذَنْبًا কিংবা أَذْنَبَ ذَنْبًا বলা হয়েছে। বান্দা আবার বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আবার গুনাহ করে বসেছি। এখানে أَصَبْتُ কিংবা أَذْنَبْتُ বলা হয়েছে। আমার এ গুনাহ তুমি মাফ করে দাও। তখন আল্লাহ বললেনঃ আমার বান্দা কি জেনেছে যে, তার আছে একজন রবব যিনি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন। এরপর সে বান্দা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছুকাল সে অবস্থায় থাকল। আবারও সে গুনাহ্তে জড়িয়ে গেল। এখানে أَصَابَ ذَنْبًا কিংবা أَذْنَبَ ذَنْبًا বলা হয়েছে। সে বলিল, হে আমার রবব! আমি তো আরো একটি গুনাহ করে ফেলেছি। এখানে أَصَبْتُ কিংবা أَذْنَبْتُ বলা হয়েছে। আমার এ গুনাহ মাফ করে দাও। তখন আল্লাহ বললেনঃ আমার বান্দা কি জেনেছে যে, তার একজন রবব আছেন, যিনি গুনাহ মাফ করেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন। আমি আমার এ বান্দাকে মাফ করে দিলাম। এরকম তিনবার বলিলেন। (আঃপ্রঃ- ৬৯৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৮)

৭৫০৮

আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী সাঃআঃ আগের যুগের এক লোক সম্পর্কে আলোচনা করিলেন। অথবা তিনি বলেছেন, তোমাদের আগে যারা ছিলেন তাদের এক লোক। তিনি তার ব্যাপারে বলিলেন, অর্থাৎ আল্লাহ তাকে সম্পদ ও সন্তান দান করিলেন। যখন তার মৃত্যু হাজির হল তখন সে তার সন্তানদেরকে বলিল, আমি তোমাদের জন্য কেমন পিতা ছিলাম? তারা বলিল, উত্তম পিতা। তখন সে বলিল, সে আল্লাহর কাছে কোন নেক আমাল রেখে যেতে পারেনি। এখানে لَمْ يَبْتَئِرْ কিংবা لَمْ يَبْتَئِزْ বলা হয়েছে। অতএব, আল্লাহ (তার উপর) সমর্থ হলে, অবশ্যই তাকে আযাব দিবেন। অতএব তোমরা লক্ষ্য রাখবে, আমার মওত হলে তোমরা আমাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেবে। এরপর যখন আমি কয়লা হয়ে যাব, তখন ছাই করে ফেলবে। বর্ণনাকারী এখানে فَاسْحَقُونِي কিংবা فاسْحَكُوْنِي বলেছেন। তারপর যেদিন প্রচন্ড বাতাসের দিন হইবে সেদিন বাতাসে ছড়িয়ে দেবে। নাবী সাঃআঃ বললেনঃ পিতা এ বিষয়ে ছেলেদের নিকট থেকে ওয়াদা নিল। আমার রবেবর শপথ! ছেলেরা তাই করিল। এক প্রচন্ড বাতাসের দিনে তাকে ছড়িয়ে দিল। তারপর মহান আল্লাহ নির্দেশ দিলেন। তুমি অস্তিত্বে এসে যাও তক্ষুণি সে উঠে দাঁড়াল। মহান আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করিলেন, হে আমার বান্দাহ! তুমি যা করেছ তা কেন করলে? সে উত্তর দিল, তোমার ভয়ে। নাবী সাঃআঃ বলেছেনঃ এর বিনিময়ে তাকে ক্ষমা করে দিলেন। রাবী আবার অন্য বর্ণনায় বলেছেনঃ আল্লাহ ক্ষমা দ্বারাই এর বিনিময় দিলেন।

বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ হাদীস আবু উসমানের কাছে বর্ণনা করলে তিনি বলিলেন, আমি হাদীসটি সালমান (রাদি.) থেকে শুনিয়াছি। তবে তিনি এটুকু যোগ করিয়াছেন, اَذْرُونِي فِي الْبَحْر আমাকে সমুদ্রে ছড়িয়ে দাও।

রাবী বলেন, কিংবা তিনি বলেছেন, অথবা যেমন তিনি বর্ণনা করিয়াছেন। (আঃপ্রঃ- ৬৯৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৯)

মুতামির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিত। তিনি لَمْ يَبْتَئِرْ – বর্ণনা করিয়াছেন। [৩৪৭৮]

খালীফা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) মুতামির থেকে لَمْ يَبْتَئِزْ বর্ণনা করিয়াছেন। ক্বাতাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এ সবের বিশ্লেষণ করিয়াছেন لَمْ يَدَّخِرْ অর্থাৎ সঞ্চয় করেনি দ্বারা। (আঃপ্রঃ- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০০০)

৯৭/৩৬. অধ্যায়ঃ ক্বিয়ামাতের দিনে নাবী ও অপরাপরের সঙ্গে মহান আল্লাহর কথাবার্তা

৭৫০৯

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) কে আমি বলিতে শুনিয়াছি যে, ক্বিয়ামাতের দিন যখন আমাকে সুপারিশ করার অনুমতি দেয়া হইবে তখন আমি বলব, হে আমার রব্ব! যার অন্তরে এক সরিষা পরিমাণ ঈমান আছে, তাকে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করাও। তারপর তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হইবে। তারপর আমি বলব, তাকেও জান্নাতে প্রবেশ করাও, যার অন্তরে সামান্য ঈমানও আছে। আনাস (রাদি.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর হাতের আঙুলগুলো যেন এখনো দেখছি।(আঃপ্রঃ- ৬৯৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০০১)

৭৫১০

মাবাদ ইবন হিলাল আনাযী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বসরাবাসী কিছু লোক একত্রিত হয়ে আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) -এর কাছে গেলাম। আমাদের সঙ্গে সাবিত (রাদি.) -কে নিলাম, যাতে তিনি আমাদের কাছে আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিত শাফাআত সম্পর্কিত হাদীস জিজ্ঞেস করেন। আমরা তাঁকে তাহাঁর মহলেই চাশতের সালাতরত পেলাম। তাহাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন। তখন তিনি তাহাঁর বিছানায় উপবিষ্ট অবস্থায় আছেন। অতঃপর আমরা সাবিত (রাদি.) -কে অনুরোধ করলাম, তিনি যেন শাফাআতের হাদীসটি জিজ্ঞেস করার পূর্বে অন্য কিছু জিজ্ঞেস না করেন। তখন সাবিত (রাদি.) বলিলেন, হে আবু হামযাহ! এরা বস্‌রাবাসী আপনার ভাই, তারা শাফাআতের হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিতে এসেছে। অতঃপর আনাস (রাদি.) বলিলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ (সাঃআঃ) হাদীস বর্ণণা করিয়াছেন যে, ক্বিয়ামাতের দিন মানুষ সমুদ্রের ঢেউয়ের মত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তাই তারা আদাম (আঃ) -এর কাছে এসে বলবে, আমাদের জন্য আপনার রব্বের নিকট সুপারিশ করুন। তিনি বলবেনঃ এ কাজের জন্য আমি নই। বরং তোমরা ইবরাহীম (আঃ) -এর কাছে যাও। কারণ, তিনি হলেন আল্লাহর খলীল। তখন তারা ইবরাহীম (আঃ) -এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি এ কাজের জন্য নই। তবে তোমরা মূসা (আঃ) -এর কাছে যাও। কারণ তিনি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছেন। তখন তারা মূসা (আঃ) -এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো এ কাজের জন্য নই। তোমরা ঈসা (আঃ) -এর কাছে যাও। কারণ তিনিই আল্লাহর রূহ ও বাণী। তারা তখন ঈসা (আঃ) -এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো এ কাজের জন্য নই। তোমরা বরং মুহাম্মাদ (সাঃআঃ) -এর কাছে যাও। এরপর তারা আমার কাছে আসবে। আমি বলব, আমিই এ কাজের জন্য। আমি তখন আমার রব্বের নিকট অনুমতি চাইব। আমাকে অনুমতি দেয়া হইবে। আমাকে প্রশংসাসূচক বাক্য ইল্‌হাম করা হইবে যা দিয়ে আমি আল্লাহর প্রশংসা করব, যেগুলো এখন আমার জানা নেই। আমি সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে প্রশংসা করব এবং সাজদাহয় পড়ে যাবো। তখন আমাকে বলা হইবে, ইয়া মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। তুমি বল, তোমার কথা শোনা হইবে। চাও, দেয়া হইবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হইবে। তখন আমি বলবো, হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মাত! আমার উম্মাত! বলা হইবে, যাও, যাদের হৃদয়ে যবের দানা পরিমাণ ঈমান আছে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দাও। আমি গিয়ে এমনই করব। তারপর আমি ফিরে আসব এবং পুনরায় সেসব প্রশংসা বাক্য দ্বারা আল্লাহর প্রশংসা করবো এবং সাজদাহয় পড়ে যাবো। তখন বলা হইবে, হে মুহাম্মদ! মাথা উঠাও। তোমার কথা শোনা হইবে। চাও, দেয়া হইবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হইবে। তখনো আমি বলব, হে আমার রব্ব! আমার উম্মাত! আমার উম্মাত! তখন বলা হইবে, যাও, যাদের এক অণু কিংবা সরিষা পরিমাণ ঈমান আছে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের কর। আমি গিয়ে তাই করব। আমি আবার ফিরে আসব এবং সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করবো। আর সাজদাহয় পড়ে যাবো। আমাকে বলা হইবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। বল, তোমার কথা শোনা হইবে। চাও, দেয়া হইবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হইবে। আমি তখন বলবো, হে আমার রব্ব, আমার উম্মাত! আমার উম্মাত! এরপর আল্লাহ বলবেন, যাও, যাদের অন্তরে সরিষার দানার চেয়েও অতি ক্ষুদ্র পরিমাণও ঈমান আছে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আন। আমি যাবো এবং তাই করবো। আমরা যখন আনাস (রাদি.) -এর নিকট থেকে বের হয়ে আসছিলাম, তখন আমি আমার সঙ্গীদের কোন একজনকে বললাম, আমরা যদি আবু খলীফার বাড়িতে নিজেকে গোপনে রাখা হাসান বস্‌রীর কাছে গিয়ে আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) -এর বর্ণিত হাদীসটি তাহাঁর কাছে বর্ণনা করতাম। এরপর আমরা হাসান বস্‌রীর কাছে এসে তাহাঁর কাছে অনুমতি চাওয়ার সালাম দিলাম। তিনি আমাদেরকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। আমরা তাঁকে বললাম, হে আবু সাঈদ! আমরা আপনারই ভাই আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) এর নিকট হইতে আপনার কাছে আসলাম। শাফাআত বিষয়ে তিনি যেমন বর্ণনা দিয়েছেন, তেমন বর্ণনা করিতে আমরা আর কাউকে দেখেনি। তিনি বলিলেন, আমার কাছে সেটি বর্ণনা কর। আমরা তাঁকে হাদীসটি বর্ণনা করে শোনালাম। এরপর আমরা শেষখানে এসে বর্ণনা শেষ করলাম। তিনি বলিলেন, আরো বর্ণনা কর। আমরা বললাম, তিনি তো এর অধিক আমাদের কাছে বর্ণনা দেননি। তিনি বলিলেন, জানিনা, তিনি কি ভুলেই গেলেন, না তোমরা নির্ভরশীল হয়ে পড়বে বলে বাকীটুকু বর্ণনা করিতে অপছন্দ করিলেন। বিশ বছর আগে যখন তিনি শক্তি সামর্থ্যে ও স্মরণশক্তিতে দৃঢ় ছিলেন, তখন আমার কাছেও হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন। আমরা বললাম, হে আবু সাঈদ! আমাদের কাছে হাদীসটি বর্ণনা করুন। তিনি হাসলেন এবং বলিলেন, মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে, খুব বেশি সত্বরতা প্রিয় করে। আমি তো বর্ণনার উদ্দ্যেশেই তোমাদের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করিয়াছেন, আমার কাছেও তা বর্ণনা করিয়াছেন, তবে পরে এটুকুও বলেছিলেন, আমি চতুর্থবার ফিরে আসবো এবং সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করব এবং সাজদাহয় পড়ে যাবো। তখন বলা হইবে, হে মুহাম্মদ! মাথা উঠাও। বল, তোমার কথা শোনা হইবে। চাও, দেয়া হইবে। শাফাআত কর, গ্রহণ করা হইবে। আমি বলব, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাদের সম্পর্কে শাফাআত করার অনুমতি দান কর, যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে। তখন আল্লাহ বলবেন, আমার ইয্‌যত , আমার পরাক্রম, আমার বড়ত্ব ও আমার মহত্ত্বের শপথ! যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করব। (আঃপ্রঃ- ৬৯৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০০২)

৭৫১১

আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ সবশেষে জান্নাতে প্রবেশকারী এবং জাহান্নাম থেকে সর্বশেষে পরিত্রান পাওয়া লোকটি জাহান্নাম থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে আসবে। তার রব্ব তাকে বলবেন, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলবে, হে আমার রব্ব! জান্নাত তো পরিপূর্ণ! আল্লাহ এভাবে তাকে তিনবার বলবেন। প্রত্যেকবারই সে উত্তর দিবে, জান্নাত তো পরিপূর্ণ। পরিশেষে আল্লাহ তাকে বলবেন, তোমার জন্য আছে এ পৃথিবীর চেয়ে দশ গুণ (বড়)। [৬৫৭১; মুসলিম ১/৮৪, হাদীস ১৯৩] (আঃপ্রঃ- ৬৯৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০০৩)

৭৫১২

আদী ইবনু হাতিম (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তার রবব অতি সত্বর কথা বলবেন। তার ও আল্লাহর মাঝখানে কোন তর্জমাকারী থাকবে না। এরপর সে তাকাবে ডান দিকে, তখন তার আগের আমাল ব্যতীত সে আর কিছু দেখবে না। আবার তাকাবে বাম দিকে, তখনো আগের আমাল ব্যতীত আর কিছু সে দেখবে না। আর সামনে তাকাবে তখন সে জাহান্নাম ব্যতীত আর কিছুই দেখিতে পাবে না। কাজেই জাহান্নামকে ভয় কর এক টুকরো খেজুরের বিনিময়ে হলেও।

বর্ণনাকারী আমাশ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)……খায়সামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে অনুরূপই বর্ণনা দিয়েছেন। তবে তিনি وَلَوْ بِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ যদি পবিত্র কথার বদলেও হয় কথাটুকু যোগ করিয়াছেন। [১৪১৩; মুসলিম ১২/১৯, হাদীস ১০১৬, আহমাদ ১৮২৭৪] (আঃপ্রঃ- ৬৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০০৪)

৭৫১৩

আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী বিদ্বান নাবী সাঃআঃ-এর নিকট এসে বললো, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ আসমানসমূহকে এক আঙ্গুলে, পৃথিবীকে এক আঙ্গুলে, পানি ও কাদামাটি এক আঙ্গুলে এবং বাকী সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলে উঠিয়ে ঝাঁকুনি দিয়ে বলবেন, আমিই রাজাধিরাজ, আমিই রাজাধিরাজ। আমি তখন নাবী সাঃআঃ-কে দেখলাম, তিনি তার কথার সমর্থনে তাজ্জব হয়ে এমনভাবে হাসলেন যে, তাহাঁর মাড়ির দাঁতগুলো প্রকাশিত হয়ে পড়ল। অতঃপর নাবী সাঃআঃ কুরআনের বাণী পড়লেনঃ وَمَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهِ তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা উপলব্ধি করেনি- (সুরা আনআম ৬/৯১)। وَالْأَرْضُ جَمِيعاً قَبْضَتُهُ ……. عَمَّا يُشْرِكُونَ ক্বিয়ামাতের দিন সমগ্র পৃথিবী তাহাঁর হাতের মুষ্ঠিতে থাকবে, আর আকাশমন্ডলী থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাহাঁর ডান হাতে। মাহাত্ম্য তাহাঁরই, তারা যাদেরকে তাহাঁর শারীক করে তিনি তাদের বহু ঊর্ধ্বে।- (সুরা আয্ যুমার ৩৯/৬৭)। [৪৮১১] (আঃপ্রঃ- ৬৯৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০০৫)

৭৫১৪

সাফওয়ান ইবনু মুহরিয (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক লোক ইবনু উমার (রাদি.) কে জিজ্ঞেস করিল, আল্লাহর সঙ্গে বান্দার গোপন কথাবার্তা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে আপনি কী বলিতে শুনেছেন? তিনি বলিলেন, তোমাদের কেউ তার রব্বের নিকটবর্তী হলে তিনি তাহাঁর ওপর রহমতের ছায়া বিস্তার করে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি কি এ কাজ করেছ? সে বলিল, হ্যাঁ। আল্লাহ আবারো জিজ্ঞেস করবেন, তুমি কি এ কাজ করেছ? সে তখনো বলবে, হ্যাঁ। আল্লাহ এভাবে তার স্বীকারোক্তি নেবেন। তারপর আল্লাহ বলবেন, আমি দুনিয়ায় তোমার ওসব কাজ গোপন রেখেছিলাম। আমি আজকেও তোমার জন্য তা ক্ষমা করে দিলাম। [২৪৪১]

আদাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ……. ইবনু উমার (রাদি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে শুনিয়াছি। (আঃপ্রঃ- ৬৯৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০০৬)

৯৭/৩৭. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণীঃ এবং মুসা (আঃ) এর সঙ্গে আল্লাহ বাক্যালাপ করেছিলেন। (সুরা আন্-নিসা ৪/১৬৪)

৭৫১৫

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আদাম ও মূসা (আঃ) বিতর্ক করিলেন। মূসা (আঃ) বলিলেন, আপনি সেই আদাম, যিনি নিজ সন্তানদের জান্নাত থেকে বের করে দিলেন। আদাম (আঃ) বলিলেন, আপনি হচ্ছেন সেই মূসা , যাকে আল্লাহ রিসালাত দিয়ে সম্মানিত করিলেন এবং যার সঙ্গে কথা বলে তাহাঁর মর্যাদাকে বাড়িয়ে দিলেন। আপনি এমন একটি ব্যাপারে কেন আমাকে অভিযুক্ত করছেন, আমাকে পয়দা করারও আগে যেটি নির্ধারিত হয়ে গেছে। এভাবে আদাম (আঃ) মূসা (আঃ) -এর ওপর বিজয়ী হলেন। (আঃপ্রঃ- ৬৯৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০০৭)

৭৫১৬

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্বিয়ামাতের দিন ঈমানদারদেরকে একত্রিত করা হইবে। তখন তারা বলবে, আমরা যদি আমাদের রব্বের কাছে সুপারিশ নিয়ে যাই তাহলে তিনি আমাদেরকে এ জায়গাটি থেকে স্বস্তি দিবেন। তখন তারা আদাম (আঃ) -এর কাছে এসে আবেদন জানাবে, আপনি মানব বংশের পিতা আদাম। আল্লাহ আপনাকে সৃষ্টি করিয়াছেন আপন কুদরতের হাতে। এবং তাহাঁর ফেরেশ্‌তাদের দিয়ে আপনাকে সাজদাহ করিয়েছেন। আর সব জিনিসের নাম আপনাকে শিখিয়েছেন। তাই আপনি আমাদের রব্বের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন, তিনি যেন আমাদের স্বস্তি দেন। তখন আদাম (আঃ) তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। তারপর তিনি তাদের কাছে নিজের সে ভুলের কথা বলবেন, যা তিনি করেছিলেন। (আঃপ্রঃ- ৬৯৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০০৮)

৭৫১৭

আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে এক রাতে কাবার মসজিদ থেকে সফর করানো হয়। বিবরণটি হচ্ছে, নাবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে এ বিষয়ে ওয়াহী পাঠানোর আগে তাহাঁর কাছে তিনজন ফেরেশ্‌তার একটা জামাআত আসল। অথচ তখন তিনি মাসজিদুল হারামে ঘুমিয়ে ছিলেন। এদের প্রথম জন বলিল, তিনি কে? মধ্যের জন্য বলিল, তিনি এদের সব চেয়ে ভাল লোক। সর্বশেষ জন বলিল, তা হলে তাদের সবচেয়ে ভাল লোকটিকেই নিয়ে চল। সে রাতের ঘটনা এতটুকুই। এ জন্য তিনি আর তাদেরকে দেখেননি। শেষে তারা অন্য এক রাতে আসলেন, যা তিনি অন্তর দ্বারা দেখছিলেন। তাহাঁর চোখ ঘুমায়, অন্তর ঘুমায় না। সে রকম অন্য নাবীগণের (আঃ) চোখ ঘুমিয়ে থাকে, অন্তর ঘুমায় না। এ রাতে তারা তাহাঁর সঙ্গে কোন কথা না বলে তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে যমযম কুপের কাছে রাখলেন। জিবরীল (আঃ) তাহাঁর সাথীদের থেকে নাবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দায়িত্ব নিলেন। জিবরীল (আঃ) তাহাঁর গলায় নিচ হইতে বুক পর্যন্ত বিদীর্ণ করিলেন এবং তাহাঁর বুক ও পেট থেকে সবকিছু নেড়েচেড়ে যমযমের পানি দ্বারা নিজ হাতে ধৌত করেন। সেগুলোকে পরিষ্কার করিলেন, তারপর সোনার একটি তশ্‌তরী আনা হল। এবং তাতে ছিল একটি সোনার পাত্র যা পরিপূর্ণ ছিল ঈমান ও হিক্‌মাতে। তাহাঁর বুক ও গলার রগগুলো এর দ্বারা পূর্ণ করিলেন। তারপর সেগুলো যথাস্থানে রেখে বন্ধ করে দিলেন। তারপর তাঁকে নিয়ে পৃথিবীর আসমানের দিকে উঠলেন। আসমানের দরজাগুলো হইতে একটি দরজাতে নাড়া দিলেন। ফলে আসমানবাসীগণ তাঁকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করিলেন, এ কে? তিনি উত্তরে বলিলেন, জিবরীল। তারা আবার জিজ্ঞেস করিলেন, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বলিলেন, আমার সঙ্গে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। জিজ্ঞেস করিলেন, তাহাঁর কাছে কি দূত পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তখন তাঁরা বলিলেন, মারহাবান ওয়া আহলান (আপনাকে ধন্যবাদ, আপনি আপনজনের মধ্যে এসেছেন)। তাহাঁর আগমনে আসমানবাসীরা খুবই আনন্দিত। আল্লাহ যমীনে কী করিতে চাচ্ছেন, তা আসমানবাসীদেরকে না জানানো পর্যন্ত তারা জানতে পারে না। দুনিয়ার আসমানে তিনি আদাম (আঃ)-কে পেলেন। জিবরীল (আঃ) তাঁকে দেখিয়ে বলিলেন, তিনি আপনার পিতা, তাঁকে সালাম দিন। নাবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে সালাম দিলেন। আদাম (আঃ) তাহাঁর সালামের উত্তর দিলেন এবং বলিলেন, মারহাবান ওয়া আহলান হে আমার পুত্র! তুমি আমার কতইনা উত্তম পুত্র। নাবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুটি প্রবহমান নদী দুনিয়ার আসমানে দেখলেন। জিজ্ঞেস করিলেন, এ নদী দুটি কোন নদী হে জিবরীল! জিবরীল (আঃ) বলিলেন, এ দুটি হলো নীল ও ফুরাতের মূল। এরপর জিবরীল (আঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে সঙ্গে নিয়ে এ আসমানে ঘুরে বেড়ালেন। তিনি আরো একটি নদী দেখলেন। এর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল মোতি ও জাবারজাদের তৈরী একটি প্রাসাদ। নাবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নদীতে হাত মারলেন। সেটা ছিল অতি উন্নতমানের মিস্‌ক। তিনি বলিলেন, হে জিবরীল! এটি কী? জিবরীল (আঃ) বলিলেন, হাউযে কাউসার। যা আপনার রব আপনার জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন। তারপর তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে সঙ্গে করে দ্বিতীয় আসমানে গেলেন। প্রথম আসমানের ফেরেশ্‌তাগণ তাঁকে যা বলেছিলেন এখানেও তা বলিলেন। তারা জানতে চাইল, তিনি কে? তিনি বলিলেন, জিবরীল! তাঁরা বলিলেন, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তাঁরা বলিলেন, তাহাঁর কাছে কি দূত পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তাঁরা বলিলেন, মারহাবান ওয়া আহলান। তারপর নাবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে সঙ্গে করে তিনি তৃতীয় আসমানের দিকে গেলেন। প্রথম ও দ্বিতীয় আসমানের ফেরেশতারা যা বলেছিলেন, তৃতীয় আসমানের ফেরেশ্‌তারাও তাই বলিলেন। তারপর তাঁকে সঙ্গে করে তিনি চতুর্থ আসমানের দিকে গেলেন। তাঁরাও তাঁকে আগের মতই বলিলেন। তারপর তাঁকে নিয়ে তিনি পঞ্চম আসমানে গমন করিলেন। তাঁরাও পূর্বের মতো বলিলেন। এরপর তিনি তাঁকে নিয়ে ষষ্ঠ আসমানের দিকে গেলেন। সেখানেও ফেরেশ্‌তারা আগের মতই বলিলেন। সর্বশেষে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে নিয়ে সপ্তম আসমানে গেলে সেখানেও ফেরেশ্‌তারা তাঁকে আগের ফেরেশ্‌তাদের মতো বলিলেন। প্রত্যেক আসমানেই নাবীগণ রয়েছেন। নাবী (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাম উল্লেখ করিয়াছেন। তার মধ্যে আমি সংরক্ষিত করেছি যে, দ্বিতীয় আসমানে উদরীস (আঃ), চতুর্থ আসমানে হারুন (আঃ), পঞ্চম আসমানে অন্য একজন নাবী যার নাম আমি স্মরণ রাখতে পারিনি। ষষ্ঠ আসমানে রয়েছে ইবরাহীম (আঃ) এবং আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার মর্যাদার কারণে মূসা (আঃ) আছেন সপ্তম আসমানে। সে সময় মূসা বলিলেন, হে আমার রব্ব। আমি তো ধারণা করিনি আমার ওপর কাউকে উচ্চমর্যাদা দান করা হইবে। তারপর নাবী (সাঃআঃ) -কে এত উপরে উঠানো হলো, যে ব্যাপারে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউই জানে না। শেষে তিনি সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছলেন। এখানে প্রবল পরাক্রমশালী আল্লাহ তাহাঁর নিকটবর্তী হলেন। অতি নিকটবর্তীর ফলে তাঁদের মাঝে দুধনুকের ফারাক রইল অথবা তারও কম। তখন আল্লাহ তাহাঁর প্রতি ওয়াহী পাঠালেন। অর্থাৎ তাহাঁর উম্মাতের উপর রাত ও দিনে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের কথা ওয়াহীযোগে পাঠানো হলো। তারপর নাবী (সাঃআঃ) নামলেন। আর মূসার কাছে আসলে মূসা (আঃ) তাঁকে আটকিয়ে বলিলেন, হে মুহাম্মাদ! আপনার রব্ব আপনাকে কী নির্দেশ দিলেন? নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, রাত ও দিনে পঞ্চাশ বার সালাত আদায়ের। তখন মূসা (আঃ) বলিলেন, আপনার উম্মাত তা আদায় করিতে পারবে না। কাজেই আপনি ফিরে যান, তাহলে আপনার রব্ব আপনার এবং আপনার উম্মাত হইতে এ আদেশটি সহজ করে দেবেন। তখন নাবী (সাঃআঃ) জিবরাঈলের (আঃ) দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন তিনি এ ব্যাপারে তাহাঁর থেকে পরামর্শ চাচ্ছিলেন। জিবরাঈল (আঃ) তাঁকে ইশারায় বলিলেন হ্যাঁ, আপনি ইচ্ছে করলে তা হইতে পারে। তাই তিনি নাবী (সাঃআঃ) -কে নিয়ে প্রথমে আল্লাহর কাছে গেলেন। তারপর নাবী (সাঃআঃ) যথাস্থানে থেকে বলিলেন, হে আমার রব্ব! আমার উম্মাত এটি আদায় করিতে পারবে না। তখন আল্লাহ দশ ওয়াক্ত ,লাত কমিয়ে দিলেন। এরপর মূসা (আঃ) -এর কাছে ফিরে আসলে তিনি তাঁকে থামালেন। এভাবেই মূসা তাঁকে তাহাঁর রব্বের কাছে পাঠাতে থাকলেন। শেষে পাঁচ ওয়াক্ত বাকী থাকল। পাঁচ সংখ্যায়ও মূসা (আঃ) তাঁকে থামিয়ে বলিলেন, হে মুহাম্মাদ! আমি আমার বানী ইসরাঈল কাওমের কাছে এটা হইতেও সামান্য কিছু পেতে চেয়েছি। তবু তারা দুর্বল হয়েছে এবং পরিত্যাগ করেছে। অথচ আপনার উম্মাত শারীরিক, মানসিক, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি সব দিক দিয়ে আরো দুর্বল। কাজেই আপনি আবার যান এবং আপনার রব্ব থেকে আদেশটি আরো সহজ করে আনুন। প্রতিবারই নাবী (সাঃআঃ) পরামর্শের জন্য জিবরাঈলের দিকে তাকাতেন। পঞ্চমবারেও জিবরীল তাঁকে নিয়ে যাত্রা করিলেন। নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ হে আমার রব্ব! আমার উম্মাতের শরীর, মন, শ্রবণশক্তি ও দেহ খুবই দুর্বল। তাই আদেশটি আমাদের থেকে আরো সহজ করে দিন। এরপর পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেলেনঃ মুহাম্মাদ! নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, আমি আপনার নিকট উপস্থিত, বারবার উপস্থিত। আল্লাহ বলিলেন, আমার কথার কোন পরিবর্তন পরিবর্ধন হয় না। আমি তোমাদের উপর যা ফরয করেছি তা উম্মুল কিতাব তথা লাওহে মাহফুযে সংরক্ষিত আছে। প্রতিটি নেক আমলের দশটি নেকী রয়েছে। উম্মুল কিতাবে সালাত পঞ্চাশ ওয়াক্তই লেখা আছে। তবে আপনার ও আপনার উম্মাতের জন্য তা পাঁচ ওয়াক্ত করা হলো। এরপর নাবী (সাঃআঃ) মূসার কাছে ফিরে আসলে মূসা (আঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন, আপনি কী ব্যবস্থা নিয়ে এসেছেন? নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, আল্লাহ আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে প্রতিটি নেক আমলে বদলে দশটি সাওয়াব নির্ধারিত করিয়াছেন। তখন মূসা (আঃ) বলিলেন, আল্লাহর শপথ! আমি বানী ইসরাঈলের নিকট হইতে এর চেয়েও অল্প জিনিসের আশা করেছি। কিন্তু তারা তাও আদায় করেনি। আপনার রব্বের কাছে আপনি আবার ফিরে যান, যেন তিনি আরো একটু কমিয়ে দেন। এবার নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, হে মূসা, আল্লাহর শপথ! আমি আমার রব্বের কাছে বারবার গেছি। আবার যেতে লজ্জাবোধ করছি, যেন তাহাঁর সঙ্গে মতভেদ করছি। এরপর মূসা (আঃ) বলিলেন, নামতে পারেন আল্লাহর নামে। এ সময় নাবী (সাঃআঃ) জাগ্রত হলেন, দেখলেন, তিনি মাসজিদে হারামে আছেন। [৩৫৭০; মুসলিম ১/৭৪, হাদীস ১৬২, আহমাদ ১২৫০৭] (আঃপ্রঃ- ৬৯৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০০৯)

৯৭/৩৮. অধ্যায়ঃ জান্নাতবাসীদের সঙ্গে রবের কথাবার্তা।

৭৫১৮

আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ জান্নাতবাসীদেরকে বলবেন, হে জান্নাতীগণ! তখন জান্নাতীগণ বলবেন, হে আমাদের রব্ব! আমরা উপস্থিত, আপনার কাছে উপস্থিত হইতে পেরে আমরা ভাগ্যবান। আপনার হাতেই কল্যাণ। আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট? তারা বলবেন হে আমাদের রব্ব! আমরা কেন সন্তুষ্ট হব না? আপনি আর কোন সৃষ্টিকে যা দান করেননি, তা আমাদেরকে দান করিয়াছেন। তখন আল্লাহ বলবেন, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম বস্তু দান করব না? তারা বলবেন, হে রব্ব! এর চেয়ে উত্তম বস্তু কোনটি? আল্লাহ বলবেন, তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টি বিধিবদ্ধ করলাম। অতঃপর আমি তোমাদের উপর কক্ষনো অসন্তুষ্ট হবো না। (আঃপ্রঃ- ৬৯৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০১০)

৭৫১৯

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) একবার আলোচনায় রত ছিলেন। তখন তাহাঁর নিকট একজন গ্রাম্য লোকও উপস্থিত ছিল। নাবী (সাঃআঃ) বলছিলেন, একজন জান্নাতবাসী অনুমতি চাইবে কৃষিকাজ করার জন্য। আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি যা চাও তা কি পাওনি? সে বলবে, হ্যাঁ, পেয়েছি। তবে আমি কৃষিকাজ করিতে ভালবাসি। অতি সত্বর ব্যবস্থা করা হইবে। এই বীজ বোনা হইবে। তক্ষুনি নিমিষে চারা গজাবে, সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং তা কাটা হইবে আর তা পাহাড় সমান স্তুপ করা হইবে। আল্লাহ তখন বলবেন, হে আদাম সন্তান! লও। কারণ, তোমাকে কোন কিছুই পরিতৃপ্ত করিবে না। তখন বেদুঈন লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসুল! ঐ লোকটিকে আপনি কুরাইশী কিংবা আনসারী পাবেন। কারণ, তাঁরা হলেন কৃষিজীবি। আর আমরা কৃষিজীবি নই! এতে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) হেসে দিলেন।(আঃপ্রঃ- ৭০০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০১১)

৯৭/৩৯. অধ্যায়ঃ আদেশ দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহ কর্তৃক বান্দাকে স্মরণ করা এবং দুআ, মিনতি, বার্তা ও বাণী প্রচারের মাধ্যমে বান্দা কর্তৃক আল্লাহকে স্মরণ করা।

আল্লাহর বাণীঃ কাজেই তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। (সুরা আল-বাক্বারাহ ২/১৫২) তাদেরকে নূহের কাহিনী শোনাও। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থিতি আর আল্লাহর আয়াত দ্বারা তোমাদের প্রতি আমার উপদেশ দান যদি তোমাদের নিকট অসহ্য মনে হয় (তাতে আমার কোন পরোয়া নেই) কারণ আমি ভরসা করি আল্লাহর উপর। তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর, পরে তোমাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তোমাদের মাঝে যেন অস্পষ্টতা না থাকে, অতঃপর আমার উপর তা কার্যকর কর আর আমাকে কোন অবকাশই দিও না। আর যদি তোমরা (আমার আহবান থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও (তাতে আমর কোন ক্ষতি হইবে না), আমি তো তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছি না, আমার পারিশ্রমিক আছে কেবল আল্লাহরই নিকট, আমাকে আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে শামিল হওয়ারই আদেশ দেয়া হয়েছে। (সুরা ইউনুস ১০/৭১-৭২)

(—) এর অর্থ বিপদ, সঙ্কট। মুজাহিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, (—)(—) এর ভাবার্থ হচ্ছে- তোমরা আমার নিকট পেশ কর তোমাদের মনে যা কিছু আছে। আরবীতে বলা হয়, (—) -তুমি স্পষ্ট করে বল, তবে আমি ফায়সালা দেব। মুজাহিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, (—)(—) এর ভাবার্থ হচ্ছে, কোন ব্যক্তি নাবী (সাঃআঃ) -এর কাছে এসে তাহাঁর অথবা কুরআনের বাণী শুনতে চাইলে সে নিরাপদ স্থানে গিয়ে পৌঁছা পর্যন্ত নিরাপত্তা ও আশ্রয়প্রাপ্ত বলে স্বীকৃত। (—) এর অর্থ আল-কুরআন, (—) এর অর্থ দুনিয়ায় হক (কথা) বলেছে এবং এতে (নেক) আমাল করেছে।

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply