আরাফায় অবস্থান এবং আল্লাহ তাআলার বাণী- “অতঃপর তোমরা ফিরে যাও যেখান থেকে মানুষেরা ফিরে যায়”

আরাফায় অবস্থান এবং আল্লাহ তাআলার বাণী- “অতঃপর তোমরা ফিরে যাও যেখান থেকে মানুষেরা ফিরে যায়”

আরাফায় অবস্থান এবং আল্লাহ তাআলার বাণী- “অতঃপর তোমরা ফিরে যাও যেখান থেকে মানুষেরা ফিরে যায়” >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২১. অধ্যায়ঃ আরাফায় অবস্থান এবং আল্লাহ তাআলার বাণী- “অতঃপর তোমরা ফিরে যাও যেখান থেকে মানুষেরা ফিরে যায়”

২৮৪৪

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কুরায়শগণ এবং তাদের ধর্মের অনুসারীরা [জাহিলী যুগে] মুযদালিফায় অবস্থান করত। তারা নিজেদের নামকরণ করেছিল আল-হুম্‌স। আর সমস্ত আরববাসীরা আরাফাতে অবস্থান করত। যখন ইসলামের আবির্ভাব হল, আল্লাহ তাআলা তাহাঁর নবী [সাঃআঃ]-কে আরাফায় অবস্থান করার ও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন। আল্লাহর বাণীর তাৎপর্যও তাই :

ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ‏

অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করিবে”- [সুরা আল বাক্বারাহ্‌ ২ : ১৯৯]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮২১, ইসলামিক সেন্টার- ২৮১৯]

২৮৪৫

হিশাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [উরওয়াহ্‌] বলেন, আল-হুমস্‌ ব্যতীত সকল আরব উলঙ্গ অবস্থায় বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করত। কুরায়শ ও তাদের বংশধরগণকে আল-হুমস্‌ বলা হতো। আরবরা উলঙ্গ অবস্থায়ই ত্বওয়াফ করত। কিন্তু আল-হুমস্‌ তাদেরকে কাপড় দান করলে স্বতন্ত্র কথা। তাদের পুরুষরা পুরুষদের এবং মহিলারা মহিলাদের কাপড় দান করত। আল-হুমস্‌ মুযদালিফার বাইরে যেত না, আর সব লোক আরাফায় চলে যেত। হিশাম বলেন, আমার পিতা [উরওয়াহ্‌] আয়িশা [রাদি.]-এর সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করিয়াছেন, আয়েশাহ [রাদি.] বলেছেন, আল হুমস্‌- যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেছেনঃ

ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ

“অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করিবে”- [সুরা আল বাক্বারাহ্‌ ২ : ১৯৯]। আয়িশা [রাদি.] বলেন, লোকেরা আরাফাহ্‌ থেকে প্রত্যাবর্তন করত আর আল-হুমস্‌ মুযদালিফাহ্‌ থেকে প্রত্যাবর্তন করত। তারা বলত, আমরা কেবলমাত্র হারাম এলাকা থেকেই প্রত্যাবর্তন করব। অতঃপর যখন

أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ

“তোমরা প্রত্যাবর্তন কর- যেখান থেকে লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে” আয়াত নাযিল হল, তখন থেকে তারা আরাফায় গেল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮২২, ইসলামিক সেন্টার- ২৮২০]

২৮৪৬

জুবায়র ইবনি মুতইম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমার একটি উট হারিয়ে গেল। আরাফাহ্‌ দিবসে আমি তাহাঁর খোঁজে বের হলাম। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে লোকদের সাথে আরাফায় অবস্থানরত দেখলাম। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! ইনি তো হুমস্‌-এর অন্তর্ভুক্ত, কী ব্যাপার ইনি এখানে কেন? অথচ কুরায়শদেরকে হুমস্‌- এর মধ্যে গণ্য করা হতো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮২৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৮২১]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply