নতুন লেখা

প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন , আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফযিলত

প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন , আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফযিলত

প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন , আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফযিলত >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩৬. অধ্যায়ঃ প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন , আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফযিলত

২৬৩৪

মুআযাহ্ আল আদাবিয়্যাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ]-এর স্ত্রী আয়েশাহ [রাদি.]-এর কাছে জানতে চাইলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি প্রতি মাসে তিনদিন সওম পালন করিতেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। আমি পুনরায় তাকে জিজ্ঞেস করলাম, মাসের কোন্ কোন্ দিন তিনি সওম পালন করিতেন? আয়িশা [রাদি.] বলিলেন, তিনি মাসের যে কোন দিন সওম পালন করিতে দ্বিধা করিতেন না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬১১, ইসলামিক সেন্টার-২৬১০]

২৬৩৫

ইমরান ইবনি হুসায়ন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] তাকে বলিলেন অথবা [অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ] তিনি কোন ব্যক্তিকে বলেছেন এবং তিনি তা শুনলেন, হে অমুক! তুমি কি এ মাসের মধ্যভাগে সওম পালন করেছিলে? সে বলিল, না। তিনি বলিলেন, যখন তুমি তা ভঙ্গ করিবে, তখন দুদিন সওম পালন করিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬১২, ইসলামিক সেন্টার-২৬১১]

২৬৩৬

আবু ক্বাতাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ]-এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করিল, আপনি কিভাবে সওম পালন করেন? তার এ কথায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] অসন্তুষ্ট হলেন। উমর [রাদি.] তাহাঁর অসন্তোষ লক্ষ্য করে বলিলেন, “আমরা আল্লাহ্‌র উপর [আমাদের] প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর [আমাদের] দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর উপর আমাদের নবী হিসেবে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহ্‌র কাছে তাহাঁর ও তাহাঁর রসূলের অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি”। উমর [রাদি.] কথাটি বার বার আওড়াতে থাকলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত রসূল [সাঃআঃ]-এর অসন্তোষের ভাব দূরীভূত হল। তখন উমর [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! যে ব্যক্তি সারা বছর সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বলিলেন, সে সওম পালন করেনি এবং ছেড়েও দেয়নি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করিলেন, যে ব্যক্তি একদিন পর একদিন সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বলিলেন, এটা দাঊদ [আঃ]-এর সওম। তিনি আবার জিজ্ঞেস করিলেন, যে একদিন সওম পালন করে ও একদিন করে না, তার অবস্থা কিরূপ? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আমি আশা করি যে, আমার এতটা শক্তি হোক। তিনি পুনরায় বলিলেন, প্রতি মাসে তিনদিন সওম পালন করা এবং রমজান মাসের সওম এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত সারা বছর সওম পালনের সমান। আর আরাফাহ্ দিবসের সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহ্‌র কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে। আর আশুরার সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহ্‌র কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফ্‌ফারাহ্‌ হয়ে যাবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬১৩, ইসলামিক সেন্টার-২৬১২]

২৬৩৭

আবু ক্বাতাদাহ্ আল আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। এতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] অসন্তুষ্ট হলেন। তখন উমর [রাদি.] বলিলেন, আমরা আল্লাহ্‌র উপর [আমাদের] প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর [আমাদের] দ্বীন হিসেবে, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর উপর [আমাদের] রসূল হিসেবে এবং আমাদের কৃত বাইআতের উপর আমরা সন্তুষ্ট। অতঃপর সারা বছর সওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বলিলেন, সে সওম পালন করেনি, ইফত্বার করেনি, সে সওম পালন করেনি এবং সওমহীনও থাকেনি। অতঃপর একাধারে দুদিন সওম পালন করা ও একদিন সওম পালন না করা সম্পর্কে জিজ্ঞস করা হল। তিনি বলিলেন, এভাবে সওম পালনের সামর্থ্য কার আছে? অতঃপর একদিন সওম পালন ও দুদিন সওম ত্যাগ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বলিলেন, আল্লাহ যেন আমাদের এরূপ সওম পালনের সামর্থ্য দান করেন। অতঃপর একদিন সওম পালন করা ও একদিন না করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বলিলেন, তা আমার ভাই দাঊদ [আঃ]-এর সওম। অতঃপর সোমবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলিলেন, এ দিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং এ দিনই আমি নুবূয়াতপ্রাপ্ত হয়েছি বা আমার উপর [কুরবান] নাযিল করা হয়েছে। তিনি আরও বলিলেন, প্রতি মাসে তিনদিন এবং গোটা রমজান সওম পালন করাই হল সারা বছর সওম পালনের সমতূল্য। অতঃপর আরাফাহ্‌ দিবসের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলেন তিনি বলিলেন, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফ্‌ফারা হয়ে যাবে। অতঃপর আশূরার সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলিলেন, বিগত বছরের গুনাহের কাফ্‌ফারাহ্‌ হয়ে যাবে।

এ হাদীসে শুবাহ্-এর বর্ণনায় আরও আছে, “অতঃপর সোমবার ও বৃহস্পতিবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল”। কিন্তু আমাদের বৃহস্পতিবারের কথা ভুলবশতঃ বর্ণিত হয়েছে, তাই আমরা তার উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬১৪, ইসলামিক সেন্টার-২৬১৩]

২৬৩৮

শুবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্রে এ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬১৫, ইসলামিক সেন্টার-২৬১৪]

২৬৩৯

গইলান ইবনি জারীর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্রে এ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

শুবাহ্-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে তিনি [গইলান] সোমবারের উল্লেখ করিয়াছেন কিন্তু বৃহস্পতিবারের উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬১৬, ইসলামিক সেন্টার-২৬১৫]

২৬৪০

আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে সোমবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ঐদিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং ঐদিন আমার উপর [কুরআন] নাযিল হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬১৭, ইসলামিক সেন্টার-২৬১৬]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: