আযানের বর্ণনা

আযানের বর্ণনা

আযানের বর্ণনা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩. অধ্যায়ঃ আযানের বর্ণনা

১. অধ্যায়ঃ আযানের সূচনা
২. অধ্যায়ঃ আযানের শব্দগুলো দুবার করে এবং ইকামতের শব্দগুলো একবার করে
৩. অধ্যায়ঃ আযানের বর্ণনা
৪. অধ্যায়ঃ একই মাসজিদে দুজন মুওয়ায্‌যিন রাখা ভাল
৫. অধ্যায়ঃ অন্ধ ব্যক্তির সাথে চক্ষুস্মান লোক থাকলেও তার আযান দেয়া জায়িয
৬. অধ্যায়ঃ অমুসলিম রাষ্ট্রের [বা এলাকার] কোন জনপদে আযানের শব্দ শুনা গেলে সেখানে আক্রমণ করা নিষেধ
৭. অধ্যায়ঃ মুওয়ায্‌যিনের আযান অনুরূপ শ্রবণকারীর বলা, নবী[সাঃআঃ]-এর উপর দুরূদ পাঠ করা এবং তাহাঁর জন্যে ওয়াসীলাহ্‌ প্রার্থনা করা
৮. অধ্যায়ঃ আযানের ফাযীলাত এবং আযান শুনে শাইতানের পলায়ন

৭২৩ : আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুসলিমরা মাদীনায় আসার পর একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করিতেন। এজন্যে কেউ আযান দিত না। একদিন ব্যাপারটি নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করিল। তাদের একজন বলিল, নাসারাদের নাকূসের একটি অনুরূপ একটি নাকূস [ঘন্টা] ব্যবহার কর। তাদের অপরজন বলিল, ইয়াহূদীদের শিঙ্গার অনুরূপ একটি শিঙ্গা ব্যবহার করে। উমর [রাদি.] বলিলেন, তোমরা নামাজের জন্য ডাকতে একটি লোক পাঠাও না কেন? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হে বিলাল! উঠো এবং নামাজের জন্যে ডাক।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭২১, ইসলামিক সেন্টার-৭৩৬]

৭২৪ : আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বিলাল [রাদি.]-কে আযানের শব্দ জোড় সংখ্যায় এবং ইকামাতের শব্দ বেজোড় বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইয়াহ্‌ইয়া তার বর্ণনায় ইবনি উলাইয়্যাহ্‌-এর সূত্রে বলেছেন, তিনি আইয়ূব [রাদি.]-এর কাছে এ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বলিলেন, কিন্তু কাদ্‌কা- মাতিস্‌ সলা-হ্‌ শব্দটি ব্যতীত [এটি দুবার বলবে] বাকী শব্দগুলো একবার করে বলবে

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭২২, ইসলামিক সেন্টার-৭৩৭]

৭২৫ : আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [লোকেদের] নামাজের সময় জানানোর উদ্দেশে একটা কিছু নির্দিষ্ট করার জন্যে সহাবাগণ পরস্পর আলোচনা করিলেন। তাঁরা বলিলেন, আগুন জ্বালানো হোক অথবা নাকূস [ঘন্টা] বাজানো হোক। বিলালকে আযানের শব্দগুলো দুবার এবং ইকামাতের শব্দগুলো একবার করে উচ্চারণ করার নির্দেশ দেয়া হল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭২৩, ইসলামিক সেন্টার-৭৩৮]

৭২৬ :খালিদ আল হায্‌যা হইতে উল্লেখিত সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

যখন লোকসংখ্যা বেড়ে গেল, সহাবাগণ নামাজের সময় জানানোর একটি উপায় খুঁজে বের করার জন্যে পরস্পর আলোচনা করিলেন…… অতঃপর সাকাফী-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন। এ বর্ণনায় [আরবি] শব্দের পরিবর্তে [আরবি] শব্দের উল্লেখ করা হয়েছে। [অর্থাৎ “আগুন জ্বালানো হোক” উভয় শব্দের অর্থ একই]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭২৪, ইসলামিক সেন্টার-৭৩৯]

৭২৭ : আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বিলাল [রাদি.]-কে আযান জোড় সংখ্যায় এবং ইকামাত বেজোড় সংখ্যায় বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭২৫, ইসলামিক সেন্টার-৭৪০]

৭২৮ : আবু মাহযূরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী[সাঃআঃ] তাকে এ আযান শিক্ষা দিয়েছেনঃ

اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ

“আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার” [আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান]। পাঠে [চারবার]।

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“আশহাদু আল লা-ইলা-হা-ইল্লাল্ল-হ” [আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই],

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” [আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই]।

أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ

“আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ” [আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল],

أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ 

“আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ” [আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল]।

আবার তিনি [সাঃআঃ] বলেছেনঃ

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”, দুবার।

 أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ

আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ” দুবার।

حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ

“হাইয়্যা আলাস সলা-হ্‌” [নামাজের জন্য এসো] দুবার।

حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ

“হাইয়্যা আলাল ফালা-হ্‌” [কল্যাণের জন্যে এসো] দুবার।

ইসহাক্‌ তার বর্ণনায় আরও দুটি বাক্য উল্লেখ করিয়াছেন,

 اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ

“আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার” এবং

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“লা-ইলা-হা ইল্লাহ-হ”।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭২৬, ইসলামিক সেন্টার-৭৪১]

৭২৯ : ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর দুজন মুওয়ায‌যিন ছিলঃ বিলাল [রাদি.] এবং অন্ধ আবদুল্লাহ ইবনি উম্মু মাকতূম [রাদি.]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭২৭, ইসলামিক সেন্টার-৭৪২]

৭৩০ : আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

[উপরের হাদীসের] অবিকল বর্ণিত হয়েছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭২৮, ইসলামিক সেন্টার-৭৪৩]

৭৩১ : আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ইবনি মাকতূম [রাদি.] রসূল্ললাহ [সাঃআঃ]-এর সম্মতিতে আযান দিতেন। তখন তিনি ছিলেন অন্ধ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭২৯, ইসলামিক সেন্টার-৭৪৪]

৭৩২ : হিশাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উল্লিখিত সানাদ পরম্পরায় হিশাম থেকে [উপরের হাদীসের] অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৩০, ইসলামিক সেন্টার-৭৪৫]

৭৩৩ : আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রভাতে শত্রুর উপর আক্রমণ করিতেন। তিনি আযানের শব্দ শুনার জন্যে কান পেতে অপেক্ষায় থাকতেন। তিনি আযান শুনতে পেলে আক্রমণ থেকে বিরত থাকতেন, অন্যথায় আক্রমণ করিতেন। তিনি এক ব্যক্তিকে

اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ

আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার

বলিতে শুনেছেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এ ব্যক্তি মুসলিম। সে পুনরায় বলিল,

 أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেলে। অতঃপর লোকটির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখলেন, সে মেষপালের রাখাল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৩১, ইসলামিক সেন্টার-৭৪৬]

৭৩৪. আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুওয়ায্‌যিন যা বলে তোমরা তাই-ই বল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৩২, ইসলামিক সেন্টার-৭৪৭]

৭৩৫. আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী[সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেনঃ তোমরা যখন মুওয়ায্‌যিনকে আযান দিতে শুন, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বল। অতঃপর আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। কেননা, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমাত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্যে আল্লাহর কাছে ওয়াসীলাহ্‌ প্রার্থনা কর। কেননা, ওয়াসীলাহ্‌ জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেয়া হইবে। আমি আশা করি, আমিই হব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্যে ওয়াসীলাহ্‌ প্রার্থনা করিবে তার জন্যে [আমার] শাফাআত ওয়াজিব হয়ে যাবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৩৩, ইসলামিক সেন্টার-৭৪৮]

৭৩৬. উমর ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মুওয়ায্‌যিন যখন

 اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ

“আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার” বলে তখন তোমাদের কোন ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলেঃ

 اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ

“আল্লহু আকবার, আল্ল-হু আকবার”। যখন মুওয়ায্‌যিন বলেঃ

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” এর জবাবে সেও বলেঃ

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”। অতঃপর মুওয়ায্‌যিন বলে:

أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ

আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্লা-হ” এর জবাবে সে বলেঃ

أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ

“আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ্‌। অতঃপর মুওয়ায্‌যিন বলেঃ

حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ

“হাইয়্যা আলাস সলা-হ্‌” এর জবাবে সে বলেঃ

لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

“লা-হাওলা ওয়ালা-কুও্‌ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ”। অতঃপর মুওয়ায্‌যিন বলেঃ

 حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ

“হাইয়্যা আলাল ফালা-হ্‌” এর জবাবে সে বলেঃ

لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

““লা-হাওলা ওয়ালা-কুও্‌ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ”। অতঃপর মুওয়ায্‌যিন বলেঃ

اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ

“আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার”এর জবাবে সে বলেঃ

اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ

“আল্ল-হু আকবর, আল্ল-হু আকবার”। অতঃপর মুওয়ায্‌যিন বলেঃ

 لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“লা-ইলা-হা ইল্লাল-হ” এর জবাবে সে বলেঃ

 لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”। আযানের এ জবাব দেয়ার কারণে সে বেহেশতে যাবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৩৪, ইসলামিক সেন্টার-৭৪৯]।

৭৩৭.সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ মুওয়ায্‌যিনের আযান শুনে যে ব্যক্তি বলে,

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا

“আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্‌দাহু, লা-শারীকা লাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু, ওয়া রসূলুহু, রাযীতু বিল্লা-হি রব্বান ওয়াবি মুহাম্মাদিন রসূলান ওয়াবিল ইসলা-মী দীনান” তার গুনাহ মাফ করা হইবে। কুতাইবাহ্‌ তার হাদীসে [আরবী] শব্দটি উল্লেখ করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৩৫, ইসলামিক সেন্টার-৭৫০]

৮. অধ্যায়ঃ আযানের ফাযীলাত এবং আযান শুনে শাইতানের পলায়ন

৭৩৮. তাল্‌হাহ্‌ ইবনি ইয়াহ্‌ইয়া তার চাচার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মুআবিয়াহ্‌ ইবনি আবু সুফ্‌ইয়ান [রাদি.]-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় মুওয়ায্‌যিন তাকে নামাজের জন্যে ডাকতে আসল। মুআবিয়াহ্‌ [রাদি.] বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ কিয়ামাতের দিন মুওয়ায্‌যিনদের গর্দান সবচেয়ে বেশি উঁচু হইবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৩৬, ইসলামিক সেন্টার-৭৫১]

৭৩৯.ঈসা ইবনি তালহাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মুআবিয়াহ [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছিঃ তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে উপরোক্ত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৩৭, ইসলামিক সেন্টার-৭৫১]

৭৪০.জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী[সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ শাইতান নামাজের আযানের শব্দ শুনে পালাতে পালাতে রাওহা পর্যন্ত চলে যায়।

সুলাইমান [আমাশ] বলেন, আমি তাকে [আবু সুফ্‌ইয়ানকে] রাওহা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, এ স্থানটি মাদীনাহ্‌ থেকে ছত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৩৮, ইসলামিক সেন্টার-৭৫২]

৭৪১. আমাশ হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৩৯, ইসলামিক সেন্টার-নেই]

৭৪২. আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী[সাঃআঃ] বলেনঃ শাইতান যখন নামাজের আযান শুনতে পায় তখন বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালাতে থাকে যেন আযানের শব্দ তার কানে পৌঁছতে না পারে। মুওয়ায্‌যিন যখন আযান শেষ করে তখন সে ফিরে এসে [নামাজ আদায়কারীর] সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করিতে থাকে। সে পুনরায় যখন ইকামাত শুনতে পায়- আবার চলে যায় যেন এর শব্দ তার কানে না যেতে পারে। যখন ইকামাত শেষ হয় তখন সে ফিরে এসে [নামাজ আদায়কারীদের অন্তরে] সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করিতে থাকে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৪০, ইসলামিক সেন্টার-৭৫৩]

৭৪৩. আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মুওয়ায্‌যিন যখন আযান দেয় তখন শাইতান পিছন ঘুরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৪১, ইসলামিক সেন্টার-৭৫৪]

৭৪৪. সুহায়ল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বানু হারিসাহ্‌ গোত্রের কাছে পাঠালেন। রাবী বলেন, আমার সাথে একটি বালক অথবা আমার এক সাথী ছিল। একটি বাগানের ভিতর থেকে তার নাম ধরে কে যেন তাকে ডাকল। আমার সাথী বাগানের মধ্যে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিল, কিন্তু কিছুই দেখিতে পেল না। আমি এ ঘটনা আমার পিতার কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বলিলেন, আমি যদি জানতে পারতাম যে তুমি এমন অবস্থার মুখোমুখি হইবে তবে তোমাকে পাঠাতাম না, কিন্তু যখন তুমি সেরূপ কোন শব্দ শুনতে পাও তখন নামাজের অনুরূপ আযান দিবে। কেননা আমি আবু হুরায়রা্[রাদি.]-কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হাদীস বর্ণনা করিতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ যখন নামাজের আযান দেয়া হয় শাইতান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৪২, ইসলামিক সেন্টার-৭৫৫]

৭৪৫. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী[সাঃআঃ] বলেনঃ যখন নামাজের আযান দেয়া হয়, শাইতান পিছন ঘুরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালিয়ে যায় যেন আযানের শব্দ সে শুনতে না পায়। আযান শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে। আবার যখন ইকামাত দেয়া হয় তখন সে পলায়ন করে। ইকামাত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে এবং নামাজ আদায়কারীদের মনে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করিতে থাকে। সে তাকে বলে, এটা স্মরণ কর, এটা স্মরণ কর। সে কথাগুলো নামাজের আগে তার স্মরণও ছিল না। শেষ পর্যন্ত নামাজ আদায়কারী দ্বিধায় পড়ে যে, সে বলিতেও পারে না যে, কত রাকাআত পড়ল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৪৩, ইসলামিক সেন্টার-৭৫৬]

৭৪৬. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী[সাঃআঃ]-এর কাছ থেকে [উপরের হাদীসের] অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এ বর্ণনার শেষের অংশ নিম্নরূপঃ এমনকি লোকের খেয়ালই থাকে না যে, সে কিভাবে নামাজ শেষ করিল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৪৪, ইসলামিক সেন্টার-৭৫৭]

By ইমাম মুসলিম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply