কারো কারো অন্তর থেকে ঈমান ও আমানাতদারী উঠিয়ে নেয়া

কারো কারো অন্তর থেকে ঈমান ও আমানাতদারী উঠিয়ে নেয়া

কারো কারো অন্তর থেকে ঈমান ও আমানাতদারী উঠিয়ে নেয়া >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৬৪. অধ্যায়ঃ কারো কারো অন্তর থেকে ঈমান ও আমানাতদারী উঠিয়ে নেয়া এবং অন্তরে ফিত্‌নার সৃষ্টি হওয়া

২৬৩

হুযাইফাহ্‌ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] আমাদেরকে দুটি কথা বলেছিলেন, সে দুটির একটি তো আমি স্বচোখেই দেখেছি আর অপরটির অপেক্ষা করছি। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেছেন, মানব হৃদয়ের মূলে আমানাত নাযিল হয়, {৫৩} তারপর কুরআন অবতীর্ণ হয়। অনন্তর তারা কুরআন শিখেছে এবং সুন্নাহর জ্ঞান লাভ করেছে। তারপর তিনি আমাদেরকে আমানাত উঠিয়ে নেয়ার বর্ণনা দিলেন। বলিলেন, মানুষ ঘুমাবে আর তখন তার অন্তর হতে আমানাত তুলে নেয়া হইবে। ফলে তার চিহ্ন থেকে যাবে একটি নুকতার মত। এরপর আবার সে ঘুমায় তখন তার অন্তর থেকে আমানাত তুলে নেয়া হইবে। ফলে তার চিহ্ন থেকে যাবে ফোস্কার মত; যেন একটি আগুনের ফুলকি যা তুমি তোমার পায়ে রগড়ে দিলে। তখন তাতে ফোস্কা পড়ে যায় এবং তুমি তা ফোলা দেখিতে পাও অথচ তাতে [পুঁজ-পানি ব্যতীত] কিছু নেই। তারপর রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] কয়েকটি কাঁকর নিয়ে তাহাঁর পায়ে ঘষলেন এবং বলিলেন, যখন এমন অবস্থা হয়ে যাবে তখন মানুষ বেচাকেনা করিবে কিন্তু কেউ আমানাত শোধ করিবে না। এমন কি বলা হইবে যে, অমুক বংশে একজন আমানাতদার আছেন। এমন অবস্থা হইবে যে, কাউকে বলা হইবে বড়ই বাহাদুর, হুঁশিয়ার ও বুদ্ধিমান অথচ তার অন্তরে দানা পরিমাণ ঈমান থাকিবে না।

হুযাইফাহ্‌ [রাঃআ:] বলেন, এমন এক যুগও গেছে যখন যে কারোর সাথে লেনদেন করিতে দ্বিধা করতাম না। কারণ সে যদি মুসলিম হতো তবে তার দীনদারীই তাকে আমার হাক্‌ পরিশোধ করিতে বাধ্য করতো। আর যদি সে খৃষ্টান বা ইয়াহূদী হতো তবে তার প্রশাসক তা শোধ করিতে তাকে বাধ্য করত। কিন্তু বর্তমানে আমি অমুক অমুক ব্যতীত কারো সাথে লেনদেন করিতে রাজি না।

ইবনি নুমায়র ও ইসহাক্‌ ইবনি ইবরাহীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ….. আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্রে পূর্ব বর্ণিত সানাদের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা. ২৬৫, ২৬৬; ই.সে. ২৭৫, ২৭৬]

{৫৩} হাসান বলেন, আমানাত অর্থ দ্বীন ইসলাম, তাহাঁর দ্বীন সম্পূর্ণ আমানাত। আর আবুল আলিয়া বলেন, আমানাত অর্থ শারীআতের বিধি ও নিষেধ। মুকাতিল [রাঃআ:] বলেন, আমানাত অর্থ ইবাদাত। ইমাম ওয়াহিদী বলেন, অধিকাংশ মুফাস্‌সিরীনদের কথা এটাই যে, আমানাত অর্থ ফারযসমূহ ও ইবাদাতসমূহ যা পালন করিতে হইবে। পালন না করলে আল্লাহর আযাব হইবে। [সংক্ষিপ্ত নাবাবী]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply