আবু দাউদ শরীফ বাংলা – ব্যবসা-বাণিজ্য অধ্যায়

আবু দাউদ শরীফ বাংলা – ব্যবসা-বাণিজ্য অধ্যায়

আবু দাউদ শরীফ বাংলা – ব্যবসা-বাণিজ্য অধ্যায় , এই অধ্যায়ে হাদীস ৯০ টি (৩৩২৬ – ৩৪১৫) >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায় – ২৩ঃ ব্যবসা-বাণিজ্য, অনুচ্ছেদঃ ১-৩৬=৩৬টি, হাদীসঃ (৩৩২৬-৩৪১৫)=৯০টি

অনুচ্ছেদ-১ঃ ব্যবসায় কসম ও অহেতুক কথার সংমিশ্রণ
অনুচ্ছেদ-২ঃ খনিজ দ্রব্য উত্তোলন করা
অনুচ্ছেদ-৩ঃ সন্দেহমূলক বস্তু পরিহার করা
অনুচ্ছেদ-৪ঃ সুদখোর ও সুদদাতা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৫ঃ সুদ প্রত্যাহার করা
অনুচ্ছেদ-৬ঃ ক্রয়-বিক্রয়ে [মিথ্যা] কসম করা অপছন্দনীয়
অনুচ্ছেদ-৭ঃ মাপে সামান্য বেশী দেয়া এবং মজুরীর বিনিময়ে কিছু মেপে দেয়া
অনুচ্ছেদ-৮ঃ নাবী [সাঃআঃ]-এর বাণী ঃ মাদীনাহ্‌র পরিমাপই মানসম্মত
অনুচ্ছেদ-৯ঃ ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে কড়াকড়ি করা
অনুচ্ছেদ-১০ঃ ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা অনুচিৎ
অনুচ্ছেদ-১১ঃ উত্তমরূপে দেনা পরিশোধ করা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১২ঃ মুদ্রার আন্ত-বিনিময় প্রসঙ্গ
অনুচ্ছেদ-১৩ঃ তরবারির বাট দিরহামের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয়
অনুচ্ছেদ-১৪ঃ রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে স্বর্ণমুদ্রা নেয়া
অনুচ্ছেদ-১৫ঃ পশুর বিনময়ে পশু বাকীতে ক্রয়-বিক্রয়
অনুচ্ছেদ-১৬ঃ এ বিষয়ে অনুমতি সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৭ঃ নগদে বদলী ক্রয়-বিক্রয়
অনুচ্ছেদ-১৮ঃ খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রয়
অনুচ্ছেদ-১৯ঃ মুযাবানা পদ্ধতির ক্রয়-বিক্রয়
অনুচ্ছেদ-২০ঃ আরিয়া [গাছের ফল পেড়ে] বিক্রয় সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২১ঃ আরিয়্যার পরিমাণ
অনুচ্ছেদ-২২; আরিয়্যার ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ-২৩ঃ খাওয়ার উপযোগী হওয়ার পূর্বে ফল ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২৪ঃ কয়েক বছরের জন্যে অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়
অনুচ্ছেদ-২৫ঃ ধোঁকাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয়
অনুচ্ছেদ-২৬ঃ ঠেকায় পড়ে ক্রয়-বিক্রয়
অনুচ্ছেদ-২৭; অংশীদারী কারবার
অনুচ্ছেদ-২৮ঃ ব্যবসায়ীর বৈপরিত্য করা
অনুচ্ছেদ-২৯ঃ যে ব্যক্তি মালিকের বিনা অনুমতিতে তার মাল দিয়ে ব্যবসা করে।
অনুচ্ছেদ-৩০ঃ মূলধনবিহীন অংশীদারী ব্যবসা
অনুচ্ছেদ-৩১ঃ ভাগচাষ সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩২ঃ ভাগচাষের ব্যাপারে কঠোরতা
অনুচ্ছেদ-৩৩ঃ মালিকের বিনা অনুমতিতে তার জমিতে কৃষিকাজ করা
অনুচ্ছেদ-৩৪ঃ মুখাবারা [ভাগে বর্গা দেয়া] সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩৫ঃ বাগান ও জমি বর্গা দেয়া
অনুচ্ছেদ-৩৬; অনুমানের ভিত্তিতে পরিমাণ নির্ধারণ করা

অনুচ্ছেদ-১ঃ ব্যবসায় কসম ও অহেতুক কথার সংমিশ্রণ

৩৩২৬. ক্বায়িস ইবনি আবু গারাযাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর যুগে আমাদেরকে [ব্যবসায়ীদের] সামাসিরাহ [দালাল সম্প্রদায়] বলা হতো। একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদেরকে এই নামের চেয়ে অধিক সুন্দর নাম দিলেন। তিনি বলিলেনঃ হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়! ব্যবসায়িক কাজে বেহুদা কথাবার্তা এবং অপ্রয়োজনীয় শপথ হয়ে থাকে। সুতরাং তোমরা ব্যবসায়ের পাশাপাশি সদাক্বাহ করে তাহাকে ত্রুটিমুক্ত করো।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [ ২১৪৫ ] আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩২৭. ক্বায়িস ইবনি আবু গারাযাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত। এতে আরো রয়েছে ঃ তিনি [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ [ব্যবসায়] মিথ্যা বলা ও শপথ করা হয়ে থাকে। আবদুল্লাহ আয-যুহরীর বর্ণনায় রয়েছে ঃ বেহুদা কথাবার্তাও মিথ্যা হয়ে থাকে।

সহিহ ঃ এর পূর্বেরটি দেখুন [৩৩২৬]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২ঃ খনিজ দ্রব্য উত্তোলন করা

৩৩২৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা এক লোক জনৈক ব্যক্তিকে দশ দীনার ঋণ দেয়। পরে তা আদায় করার জন্য সে ঋণ গ্রহীতার পিছনে লাগে এবং বলে, আল্লাহ্‌র শপথ! তুমি আমার পাওয়া পরিশোধ না করা অথবা জামিনদার না নিয়ে আসা পর্যন্ত আমি তোমার পিছু ছাড়বো না। বর্ণনাকারী বলেন, নাবী [সাঃআঃ] তার যামিন হলেন। অতঃপর সে তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সোনা নিয়ে এল। নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে জিজ্ঞেস করিলেন ঃ এ সোনা তুমি কোথায় পেলে? সে বললো, খনি থেকে। তিনি বলিলেনঃ এগুলো আমাদের দরকার নেই এবং এর মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার পক্ষ হইতে উক্ত ঋণ পরিশোধ করিলেন।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২৪০৬]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩ঃ সন্দেহমূলক বস্তু পরিহার করা

৩৩২৯. নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি ঃ হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট। আর উভয়ের মাঝে অনেক সন্দেহজনক জিনিস আছে। বর্ণনাকারী কখনও […আরবী…] শব্দের পরিবর্তে […আরবী…] শব্দ বলিয়াছেন। আমি তোমাদের সামনে এর উপমা পেশ করছি। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্‌ চারণভূমি নির্ধারিত করেছেন। আর আল্লাহ্‌র নির্ধারিত চারণভূমি হচ্ছে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ। যে রাখাল তার পশুপালকে নিষিদ্ধ এলাকার নিকটে চড়ায়, তার পশু ঐ নিষিদ্ধ এলাকায় ঢুকে পড়ার আশংকা থাকে। একইভাবে যে ব্যক্তি সন্দেহজনক জিনিসে জড়ায় সে হারামে লিপ্ত হইতে পারে।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [৩৯৮৪]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৩০. আমির আশ-শাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে উক্ত হাদিস বলিতে শুনিয়াছি। তিনি বলেনঃ এ দুইয়ের [হালাল-হারামের] মাঝে অনেক সন্দেহজনক বস্তু রয়েছে। অনেক লোকই এ বিষয়ে জ্ঞান রাখে না। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বস্তু বর্জন করিবে সে তার দ্বীন ও সম্মান সংরক্ষণ করিতে সক্ষম হইবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সন্দেহজনক কাজে জড়াবে, সে শীঘ্রই হারামে লিপ্ত হইবে।

সহিহ ঃ এর পূর্বেরটি দেখুন [৩৩২৯]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৩১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ মানুষের উপর এমন এক যুগ আসবে, যখন কেউ-ই সুদ খাওয়া ছাড়া থাকিবে না। যদি কেউ সুদ না খায় তবুও তার ধোঁয়া তাহাকে স্পর্শ করিবে। ইবনি ঈশার বর্ণনায় রয়েছে ঃ তার ধুলা-ময়লা তাহাকে স্পর্শ করিবে।

দুর্বল ঃ ইবনি মাজাহ [২২৭৮], মিশকাত [২৮১৮], যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৪৮৬৪]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৩২. আসিম ইবনি কুলাইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা থেকে [কুলাইব] গোত্রের জনৈক ব্যক্তির সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে এক ব্যক্তির জানাযায় অংশগ্রহণের জন্য রওয়ানা হলাম। আমি দেখলাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ক্ববরের কাছে দাঁড়িয়ে খননকারীকে নির্দেশ দিচ্ছেন ঃ পায়ের দিকটা আরো প্রশস্ত করো, মাথার দিকটা আরো প্রশস্ত করো। তিনি সেখান থেকে ফিরতে উদ্যত হলে এক মহিলার পক্ষ হইতে দাওয়াত দানকারী এসে তাঁকে স্বাগত জানালেন। তিনি তার বাড়িতে এলে খাবার উপস্থিত করা হলো। তিনি খেতে শুরু করলে অন্যরাও খাওয়া শুরু করলো। বর্ণনাকারী বলেন, আমাদের মুরব্বীরা লক্ষ্য করিলেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খাবারের একটি লোকমা মুখে তুলে তা নাড়াচাড়া করছেন। তিনি বলিলেনঃ আমার মনে হচ্ছে, বকরীর মালিকের অনুমতি ছাড়াই এটি নিয়ে আসা হয়েছে। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি একটি বকরী কিনতে বাকী নামক বাজারে লোক পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে বকরী পাওয়া যায়নি। অতঃপর আমার প্রতিবেশীর কাছে এই বলে লোক পাঠালাম যে, তুমি যে বকরীটি কিনেছো তা তোমার ক্রয়মূল্যে আমাকে দিয়ে দাও। কিন্তু তাহাকেও [বাড়িতে] পাওয়া যায় নি। আমি তার স্ত্রীর কাছে লোক পাঠালে সে বকরীটা পাঠিয়ে দেয়। একথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ এ গোশত বন্দীদেরকে খাওয়াও।

সহিহ ঃ আহকামুল জানায়িয [১৪৩-১৪৪]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪ঃ সুদখোর ও সুদদাতা সম্পর্কে

৩৩৩৩. আবদুর রহমান ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [আবদুল্লাহ] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সুদখোর, সুদদাতা, সুদের সাক্ষী ও এর দলীল লেখক সবাইকে অভিশম্পাত করেছেন।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২২৭৭]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৫ঃ সুদ প্রত্যাহার করা

৩৩৩৪. সুলায়মান ইবনি আমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বিদায় হাজ্জে বলিতে শুনিয়াছি ঃ জাহিলী যুগের সব ধরণের সুদ বাতিল করা হলো। তোমরা মূলধন ফেরত পাবে। তোমরা যুলুম করিবে না এবং তোমাদের প্রতিও যুলুম করা হইবে না। জাহিলী যুগের সব ধরণের হত্যার প্রতিশোধ বাতিল ঘোষণা করা হলো। আমি প্রথমেই আল-হারিস ইবনি আবদুল মুত্তালিবের হত্যার প্রতিশোধ বাতিল ঘোষণা করছি। [বর্ণনাকারী বলেন] সে বনূ লাইসে দুধপানরত ছিল। এমতাবস্থায় হুযাইল সম্প্রদায় তাহাকে হত্যা করে। তিনি [সাঃআঃ] বলেনঃ আমি কি পৌছে দিয়েছি? উপস্থিত জনতা বলেন, হাঁ, তিনবার। তিনি তিনবার বলেনঃ হে আল্লাহ্! আপনি সাক্ষী থাকুন।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [৩০৫৫]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৬ঃ ক্রয়-বিক্রয়ে [মিথ্যা] কসম করা অপছন্দনীয়

৩৩৩৫. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি ঃ কসম কাটলে অধিক মাল বিক্রিতে সহায়ক হইতে পারে কিন্তু তা বরকত দূর করে দেয়। ইবনিস সারহির বর্ণনায় রয়েছে ঃ উপার্জনে [বরকত] দূর করে দেয়। হাদিসটি তিনি সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব ও আবু হুরায়রা সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] এর কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন।

সহিহ ঃ নাসায়ী [৪৪৬১, ৪১৫৫]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭ঃ মাপে সামান্য বেশী দেয়া এবং মজুরীর বিনিময়ে কিছু মেপে দেয়া

৩৩৩৬. সুওয়াইদ ইবনি ক্বায়িস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি এবং মাখরাফাহ আল-আবদী হাজার নামক স্থান থেকে ব্যবসায়ের জন্য কাপড় কিনে আনি। অতঃপর আমরা তা মক্কায় নিয়ে আসি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হেঁটে আমাদের কাছে আসলেন। তিনি আমাদের সাথে একটি পাজামার দর করিলেন, আমরা সেটি তাহাঁর কাছে বিক্রি করলাম। এ সময় এক ব্যক্তি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে [জিনিসপত্র] ওজন করে দিচ্ছিল। তিনি তাহাকে বলেনঃ ওজন করো এবং একটু বেশী দাও।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২২২০]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৩৭. আবু সাফওয়ান ইবনি উমাইর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মক্কায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট আসলাম তখনও তিনি [মাদীনাহ‌্য়] হিজরাত করেননি। এরপর হাদিসের বাকী অংশ উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ। কিন্তু এই বর্ণনায় ঃ “পারিশ্রমিকের বিনিময়ে” কথাটি উল্লেখ নেই। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ক্বায়িসও সুফিয়ানের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে সুফিয়ানের বর্ণনা সঠিক।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২২২১]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৩৮. ইবনি আবু রিযমাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার পিতাহাকে বলিতে শুনিয়াছি, এক ব্যক্তি শুবাহকে বলিলেন, সুফিয়ান আপনার বিপরীত করেছেন। তিনি বলিলেন, তুমি আমার মস্তিষ্ক খেয়েছো! ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনি মাঈন থেকে জানতে পেরেছি, তিনি বলিয়াছেন, কেউ সুফিয়ানের বিপরীত বর্ণনা করলে সুফিয়ানের বর্ণনাই নির্ভরযোগ্য গণ্য হইবে।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৩৯. শুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সুফিয়ানের স্মরণশক্তি আমার স্মরণশক্তির চেয়ে অধিক মজবুত।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

অনুচ্ছেদ-৮ঃ নাবী [সাঃআঃ]-এর বাণী ঃ মাদীনাহ্‌র পরিমাপই মানসম্মত

৩৩৪০. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ ওজনের ক্ষেত্রে মক্কাবাসীদের ওজন মানসম্মত এবং পরিমাপে মদীনাহ্‌বাসীদের পরিমাপ মানসম্মত। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আল-ফিরয়ারী এবং আবু আহমদ এ হাদিস সুফিয়ান থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর ইবনি দুকাইন হাদিসের মতনে উভয়ের সাথে একমত হয়েছেন। আবু আহমদ ইবনি উমারের পরিবর্তে ইবনি আব্বসের নাম উল্লেখ করেছেন। ওয়ালীদ ইবনি মুসলিম এ হাদিস হানযালাহ হইতে বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে ঃ মাদীনাহ্‌র ওজন ও মক্কার পরিমাপ মানসম্মত। ঈমাম আবু দাউদ বলেন, আত্বা হইতে মালিক ইবনি দীনার কর্তৃক বর্ণিত নাবী [সাঃআঃ] এর এ হাদিসের মতনে মতভেদ আছে।

সহিহ ঃ নাসায়ী [৪৫৯৪, ৪২৮১]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯ঃ ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে কড়াকড়ি করা

৩৩৪১. সামুরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের উদ্দেশ্যে খুত্ববাহ প্রদানের সময় জিজ্ঞেস করিলেন ঃ এখানে অমুক গোত্রের কেউ আছে কি? এতে কেউ সাড়া দিলো না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করিলেন ঃ এখানে অমুক গোত্রের কেউ আছে কি? এবারও কেউ সাড়া দিলো না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করিলেন ঃ এখানে অমুক গোত্রের কোন লোক আছে কি? তখন এক ব্যক্তি উঠে বললো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি উপস্থিত আছি। তিনি বলিলেনঃ প্রথম দুবারের ডাকে তোমাকে সাড়া দিতে কিসে বাধা দিয়েছে? আমি তোমাদেরকে একমাত্র কল্যাণের জন্যই আহবান করি। তোমাদের গোত্রের এ লোক ঋণের কারণে আটক রয়েছে। সামুরাহ [রাদি.] বলেন, আমি দেখলাম, ঐ ব্যক্তি তার পক্ষ হইতে সব ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছে। ফলে তার কোন পাওনাদারই বাকী থাকলো না। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সামআনের পিতার নাম মুশান্নাজ।

হাসান ঃ নাসায়ী [৪৬৮৪, ৪৩৬৮]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৩৪২. আবু বুরদাহ ইবনি মূসা আল-আশআরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ আল্লাহ্‌র নিকট নিষিদ্ধ কবীরাহ গুনাহসমূহের পরে সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো, কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে আল্লাহ্‌র দরবারে উপস্থিত হওয়া এবং এই ঋণ পরিশোধের কোন ব্যবস্থা না করে যাওয়া।

দুর্বল ঃ মিশকাত [২৯২২], যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর[১৩৯২]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৪৩. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিজে তার জানাযা পড়তেন না। একদা তাহাঁর নিকট একটি লাশ আনা হলে তিনি জিজ্ঞেস করিলেন ঃ তার উপর কোন ঋণ আছে কি? সাহাবীগণ বলিলেন, হাঁ, দুই দীনার ঋণ আছে। তিনি বলিলেনঃ তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জানাযা আদায় করো। তখন আবু ক্বাতাদাহ আল-আনসারী [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! ঋণ পরিশোধের যিম্মা আমি নিলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার জানাযা পড়লেন। পরবর্তীতে আল্লাহ্‌ যখন তাহাঁর রাসূলকে বিভিন্ন যুদ্ধে বিজয়ী করিলেন, তখন তিনি বলিলেনঃ আমি প্রত্যেক মুমিনের তার নিজের সত্তার চাইতে অধিক প্রিয়। সুতরাং কেউ ঋণ রেখে মারা গেলে তা পরিশোধের দায়িত্ব আমার। আর কেউ সম্পদ রেখে মারা গেলে তা তার উত্তরাধিকারদের প্রাপ্য।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [৪৫]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৪৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] থেকে উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে ঃ একদা নাবী [সাঃআঃ] ব্যবসায়ী কাফেলার কাছ থেকে জিনিস কিনলেন। কিন্তু তখন তাহাঁর কাছে এর মূল্য পরিশোধের মত কিছুই ছিল না [বাকীতে কিনলেন]। পরে তিনি জিনিসগুলো লাভে বিক্রি করিলেন। তিনি লাভের অংশটা আবদুল মুত্তালিব গোত্রের বিধবা ও দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ আমি এখন থেকে এমন কোন জিনিস ক্রয় করবো না, যার মূল্য পরিশোধের অর্থ আমার কাছে নেই।

সহিহ ঃ যঈফাহ [৪৭৬৬]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১০ঃ ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা অনুচিৎ

৩৩৪৫. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ সচ্ছল ব্যক্তির জন্য দেনা পরিশোধে গড়িমসি করা অন্যায়। আর তোমাদের কোন [সচ্ছল] ব্যক্তিকে কারোর ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হলে সে যেন তা মেনে নেয়।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২৪০৩]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১১ঃ উত্তমরূপে দেনা পরিশোধ করা সম্পর্কে

৩৩৪৬. আবু রাফি [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একটি ছোট উট ধার নিলেন। অতঃপর তাহাঁর নিকট যাকাতের উট এলে তিনি আমাকে উঠতি বয়সের একটি উট দিয়ে ঋণ পরিশোধের নির্দেশ দিলেন। আমি বলিলাম, [বাইতুল মালে] কেবল ছয়-সাত বছর বয়সের উট আছে। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তাহাকে তাই দাও। কারণ মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম যে উত্তমরূপে দেনা পরিশোধ করে।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২২৮৫]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৪৭. মুহাবির ইবনি দিসার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি আমার পাওনা পরিশোধ করিলেন এবং কিছু বেশী দিলেন।

সহীহঃ নাসায়ী [৪৫৯১, ৪২৭৮]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১২ঃ মুদ্রার আন্ত-বিনিময় প্রসঙ্গ

৩৩৪৮. উমার [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] স্বর্ণের বিনিময় স্বর্ণের সাথে যদি উভয় পক্ষ হইতে নগদ আদান-প্রদান না হয়, তবে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হইবে। গমের বিনিময় গমের সাথে, যদি উভয় পক্ষ হইতে [সমান] আদান-প্রদান না হয়, তবে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হইবে। খেজুরের বিনিময় খেজুরের সাথে, যদি উভয় পক্ষ হইতে নগদ লেনদেন [সম-পরিমাণ] না হয়, তবে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। যবের বিনিময় যবের সাথে, যদি উভয় পক্ষ হইতে নগদ লেনদেন [সম-পরিমাণ] না হয়, তবে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২২৫৩]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৪৯. উবাদাহ ইবনিস সামিত [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ স্বর্ণের বিনিময় স্বর্ণের সাথে সমান সমান হইবে, চাই তা স্বর্ণের পাত হোক বা স্বর্ণের মুদ্রা এবং রূপার বিনিময় রূপার সাথে সমান সমান হইবে, চাই তা রূপার পাত হোক বা রূপার মুদ্রা। গমের সাথে গমের বিনিময়, যবের সাথে যবের বিনিময়, খেজুরের সাথে খেজুরের বিনিময় এবং লবণের সাথে লবণের বিনিময় পরিমাণে ও ওজনে সমান হইতে হইবে। কেউ অতিরিক্ত দিলে বা নিলে তা সুদ সাব্যস্ত হইবে। রূপার বিনিময়ে সোনা বা সোনার বিনিময়ে রূপার বিক্রি করার ক্ষেত্রে পরিমাণে কম-বেশী হওয়া দোষণীয় নয়, তবে আদান-প্রদান নগদে হইতে হইবে, বাকিতে বিনিময় হইতে পারে না। যবের বিনিময়ে গম অথবা যব বিক্রি করার ক্ষেত্রেও পরিমাণে কম-বেশি হওয়া দোষণীয় নয়, তবে আদান-প্রদান নগদে হইতে হইবে, বাকিতে নয়। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সাঈদ ইবনি আবু আরূবাহ ও হিশাম আদ-দাসতাওয়াঈ ক্বাতাদাহ হইতে মুসলিম ইবনি ইয়াসার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে তার সূত্রে উপরোক্ত হাদিস বর্ণনা করেছেন।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২২৫৪]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৫০. উবাদাহ ইবনি সামিত [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদিসটি নাবী [সাঃআঃ]-এর সূত্রে কিছুটা কম-বেশী করে বর্ণিত হয়েছে। এতে অতিরিক্ত রয়েছেঃ নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ এসব ক্ষেত্রে একধরনের বস্তু অন্য ধরনের বস্তুর সাথে বিনিময় হলে তোমরা ইচ্ছামত পরিমাণ নির্ধারণ করিতে পারো। তবে আদান-প্রদান হইতে হইবে নগদে।

সহিহ ঃ এর পূর্বেরটি দেখুন। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৩ঃ তরবারির বাট দিরহামের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয়

৩৩৫১. ফাদালাহ ইবনি উবাইদ [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, খায়বার বিজয়ের বছর নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট একটি মালা আনা হলো। এতে স্বর্ণদানা ও পুঁতি ছিল। বর্ণনাকারী আবু বাক্‌র ও ইবনি মানী বলেন, মালাটিতে স্বর্ণদানার সাথে পুঁতির দানা লটকানো ছিল। মালাটি এক ব্যক্তি নয় কিংবা সাত দীনারে কিনে ছিল। নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ উভয় প্রকারের দানা পৃথক না করা পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। লোকটি বললো, আমি শুধু পুঁতির দানাগুলো চাচ্ছি। নাবী [সাঃআঃ] পুনরায় বলিলেনঃ উভয় প্রকার দানা পৃথক না করা পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। অতঃপর সে মালাটি ফেরত দিলে তা থেকে সোনা পৃথক করা হলো। বর্ণনাকারী ইবনি ঈসা বলেন, আমি এর দ্বারা ব্যবসা বুঝেছি। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইবনি ঈসার নুস্‌খায় হিজারাতা শব্দ ছিল। তিনি তা পরিবর্তন করে তিজারাতা শব্দ বসিয়েছেন।

সহিহঃ তিরমিজি [১২৭৮]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৫২. ফাদালাহ ইবনি উবাইদ [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, খায়বার বিজয়ের দিন আমি বারো দীনারে একটি মালা ক্রয় করি। তাতে স্বর্ণ-দানা ও পুঁতি ছিল। আমি স্বর্ণ দানাগুলো পৃথক করে দেখি, তা পরিমাণে বারো দীনারের চেয়েও বেশি। বিষটি আমি নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে জানালে তিনি বলেনঃ উভয় প্রকারের দানা পৃথক করার পূর্বে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়িয নয়।

সহীহঃ এর পূর্বেরটি দেখুন। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৫৩. ফাদালাহ ইবনি উবাইদ [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা খায়বার বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে ছিলাম এবং ইয়াহুদীদের সাথে ক্রয়-বিক্রয় করছিলাম। আমরা তাহাদের থেকে এক দীনারের বিনিময়ে এক আওকিয়া সোনা কিনলাম। অধস্তন বর্ণনাকারী কুতাইবাহ ব্যতীত অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ দুই বা তিন দীনারের কথা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর সকলে এইরূপে বর্ণনা করেছেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমারা সোনার বিনিময়ে সোনা ক্রয়-বিক্রয় করিবে না দাড়ি-পাল্লার উভয় দিক ওজনে সমান না হলে।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪ঃ রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে স্বর্ণমুদ্রা নেয়া

৩৩৫৪. ইবনি উমার [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আল বাকী নামক বাজারে দীনারের বিনিময়ে উট বিক্রি করতাম, কিন্তু মূল্য গ্রহণের সময়ে আমি দীনারের পরিবর্তে দিরহাম নিতাম। আবার কখনও দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দীনার নিতাম। অর্থাৎ আমি কখনো এটার পরিবর্তে ওটা এবং কখনো ওটার পরিবর্তে এটা গ্রহণ করতাম। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলাম। তিনি তখন হাফসাহ্‌র [রাদি.] ঘরে ছিলেন। আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমার দিকে দেখুন। আমি আপনার কাছে জানতে চাই। আমি আল বাকী নামক বাজারে দীনারের বিনিময়ে উট বিক্রি করে দিরহাম গ্রহণ করি এবং দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দীনার গ্রহণ করি। অর্থাৎ আমি এটার [দীনারের] পরিবর্তে ওটা [দিরহাম] গ্রহণ করি এবং ওটার [দীনারের] বিনিময়ে এটা [দিরহাম] গ্রহণ করি। রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ এরূপ গ্রহণে কোন অসুবিধা নেই, তবে সেদিনের বাজারদরে গ্রহণ করিবে এবং কিছু অমীমাংসিত না রেখে পরস্পর পৃথক হওয়ার আগেই তা করিবে।

দুর্বলঃ ইরওয়া [১৩২৬], মিশকাত [২৮৭১]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৫৫. সিমাক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার সনদ হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু [আরবি] বাক্যাংশটুকু উল্লেখ করেননি। তবে পূর্ববর্তী বর্ণনাটি পুর্ণাঙ্গ।

আমি এটি সহিহ এবং যঈফেও পাইনি। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

অনুচ্ছেদ-১৫ঃ পশুর বিনময়ে পশু বাকীতে ক্রয়-বিক্রয়

৩৩৫৬. সামুরাহ [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] পশুর বিনিময়ে পশু ধারে বিক্রি করিতে নিষেধ করেছেন।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২২৭০]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬ঃ এ বিষয়ে অনুমতি সম্পর্কে

৩৩৫৭. আবদুল্লাহ ইবনি আস [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে একটি অভিযানের জন্য সৈন্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন। সৈন্য প্রস্তুতে উটের অভাব দেখা দিলো। তিনি তাহাকে যাকাতের উট প্রাপ্তি সাপেক্ষে উট ধার নিতে বলিলেন। তদানুযায়ী তিনি যাকাতের উট প্রাপ্তি সাপেক্ষে দুই দুইটি উটের বিনিময়ে এক একটি উট গ্রহণ করিলেন।

দুর্বলঃ মিশকাত [২৮২৩]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭ঃ নগদে বদলী ক্রয়-বিক্রয়

৩৩৫৮. জাবির [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দুটি গোলামের বিনময়ে একটি গোলাম কিনেছেন।

সহীহঃ তিরমিজি [১২৬২]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮ঃ খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রয়

৩৩৫৯. আবদুল্লাহ ইবনি ইয়াযীদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

যায়িদ আবু আইয়াশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাকে জানিয়েছেন, তিনি সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস [রাদি.]-কে বার্লির বিনিময়ে গম কেনা-বেচা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিলেন। সাদ [রাদি.] তাহাকে জিজ্ঞেস করিলেন, উভয়ের মধ্যে কোনটি অধিক উত্তম? তিনি বলিলেন, গম। বর্ণনাকারী বলেন, সাদ [রাদি.] যায়িদকে এর বিনিময় করিতে নিষেধ করিলেন। তিনি [সাদ] বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট পাকা খেজুরের বিনিময়ে খুরমা ক্রয় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিতে শুনিয়াছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করলেনঃ পাকা খেজুর শুকানো হলে কি ঘাটতি হয়? সাহাবীগণ বলিলেন, হাঁ। অতঃপর তিনি এরূপ বিনিময় করিতে নিষেধ করিলেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইসমাঈল ইবনি উমাইয়্যাহ এ হাদিস মালিকের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২২৬৪]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৬০. সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস [রাঃ] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পাকা খেজুরকে খুরমার বিনিময়ে বাকিতে বিক্রি করিতে নিষেধ করেছেন।

শাযঃ ইরওয়া [৫/১৯৯-২০০]। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, উক্ত হাদিস ইমরান ইবনি আবু আনাস বনূ মাখযূমের মুক্তদাস সাদ [রাদি.] হইতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সহীহঃ এতে বাকীতে কথা নেই। ইরওয়া [ঐ]।আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

অনুচ্ছেদ-১৯ঃ মুযাবানা পদ্ধতির ক্রয়-বিক্রয়

৩৩৬১. ইবনি উমার [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] গাছের খেজুর আন্দাজ করে খেজুরের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করিতে, আঙ্গুরকে কিশমিশের বিনিময়ে অনুমান করে ক্রয়-বিক্রয় করিতে এবং খেতের ফসল গমের মাধ্যমে অনুমানে ক্রয়-বিক্রয় করিতে নিষেধ করেছেন।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২২৬৫]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২০ঃ আরিয়া [গাছের ফল পেড়ে] বিক্রয় সম্পর্কে

৩৩৬২. খারিজাহ ইবনি যায়িদ ইবনি সাবিত [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] আরিয়া পদ্ধতিতে খুরমা ও খেজুর ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৬৩. সাহল আবু হাসমা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] শুকনা খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করিতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরিয়া পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন। যাতে ক্রেতার পরিবার তাজা ফল খেতে পারে।

সহীহঃ নাসায়ী [৪৫৩২]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১ঃ আরিয়্যার পরিমাণ

৩৩৬৪. আবু হুরাইরাহ[রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পাঁচ ওয়াসাকের কম বা পাঁচ ওয়াসাক পরিমাণে আরিয়্যা পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, জাবির [রাদি.] বর্ণিত হাদিসে চার ওয়াসাক উল্লেখ রয়েছে।

সহীহঃ নাসায়ী [৪২৩৩, ৪৫৩৩]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২২; আরিয়্যার ব্যাখ্যা

৩৩৬৫. আস ইবনিল হারিস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে রাব্বিহি ইবনি সাঈদ আল-আনসারীর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আরিয়্যা হচ্ছে কেউ অন্য কোন ব্যক্তিকে তার বাগানের একটি খেজুর গাছ দান করলো অথবা কেউ তার খেজুর বাগান থেকে কাউকে একটি বা দুটি খেজুর গাছ এই বলে নির্দিষ্ট করলো যে, এই গাছের ফল সে নিবে। অতঃপর প্রকৃত মালিক শুকনা খেজুরের বিনিময়ে দান করা খেজুর গাছের তাজা ফল ক্রয় করলো।

সহীহঃ নাসায়ী [৪৫৪১, ৪২৩১]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৬৬. ইবনি ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আরিয়্যা হলো- কোন ব্যক্তি তার কিছু খেজুর গাছ অন্য কাউকে দান করলো। অতঃপর দাতার নিকট এটা অপ্রিয় মনে হলো যে, [গ্রহীতা] ব্যক্তি এ গাছের কাছে আসুক। এমতাবস্থায় সে [গ্রহীতা] ব্যক্তি তার গাছের খেজুর অনুমান করে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে মালিকের কাছে বিক্রি করে দিলো [এটাই আরিয়্যা]।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

অনুচ্ছেদ-২৩ঃ খাওয়ার উপযোগী হওয়ার পূর্বে ফল ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে

৩৩৬৭.আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গাছের ফল উপযোগী হওয়ার পূর্বে ক্রয়-বিক্রয় করিতে নিষেধ করেছেন। তিনি বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়কেই নিষেধ করেছেন।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২২১৪]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৬৮. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লাল বা হলুদ বর্ণ হওয়া পর্যন্ত খেজুর বিক্রি করিতে এবং শীষ জাতীয় বস্তু [পাকার পূর্বে] ক্রয়–বিক্রয় করিতে নিষেধ করেছেন। অবশ্য প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিনষ্ট হওয়ার সময় অতিক্রান্ত হলে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। তিনি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই নিষেধ করেছেন।

সহিহ ঃ তিরমিজি [১২৪৯-১২৫০]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৬৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গণীমাতের মাল বণ্টনের পূর্বে ক্রয়-বিক্রয় করিতে, সব ধরনের বালা-মুসিবত দূর হওয়ার পূর্বে খেজুর ক্রয়-বিক্রয় করিতে এবং কোমরবন্ধ ব্যতিত সলাত আদায় করিতে নিষেধ করেছেন।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৭০. জাবির [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুশাক্কাহ না হওয়া পর্যন্ত ফল বিক্রি করিতে নিষেধ করেছেন। জাবির [রাদি.]–কে মুশাক্কাহ শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এর অর্থ হল লাল ও হলুদ বর্ণ ধারণ করা এবং তা খাওয়ার উপযোগী হওয়া।

সহিহ ঃ আহাদীসূল বুযূ। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৭১. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] আঙ্গুর কালো রং ধারণ করার আগে এবং খাদ্যশষ্য পুষ্ট হওয়ার আগে ক্রয়-বিক্রয় করিতে নিষেধ করেছেন।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২২১৭]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৭২. ইউনুস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবুয যিনাদকে উপযোগী হওয়ার পূর্বে ফল ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, উরওয়াহ ইবনিয যুবাইর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সাহল ইবনি হাসামাহ হইতে যায়িদ ইবনি সাবিত [রাদি.] সূত্রে বর্ণনা করেন যে, যায়িদ বলিয়াছেন, লোকেরা ফল [খাওয়া ও ব্যবহার করার] উপযোগী হওয়ার পূর্বে ক্রয়-বিক্রয় করতো। তাহাদের ফল কাটার সময় ক্রেতা এসে বলত, ফলে মড়ক লেগেছে, পোকা ধরেছে, রোগ হয়েছে। সে এসব অজুহাত দাঁড় করিয়ে মূল্য কম দেয়ার চেষ্টা করতো অথবা মোটেই দিতে চাইতো না। একদা নাবী [সাঃআঃ] এর সামনে তাহাদের অত্যধিক ঝগড়া হলে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদেরকে পরামর্শ দিলেন যে, ফল পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় করো না। এ নির্দেশ ছিলো তাহাদের অধিক ঝগড়া ও মতবিরোধ এড়ানোর জন্য।

সহিহ ঃ আহাদীসুল বুয়ূ। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৭৩. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] উপযোগী হওয়ার পূর্বে খেজুর ক্রয়-বিক্রয় করিতে নিষেধ করেছেন। আর এর ক্রয়-বিক্রয় অবশ্যই দীনার বা দিরহামের মাধ্যমে হইবে। তবে আরিয়্যার অনুমতি আছে।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২২১৬] আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৪ঃ কয়েক বছরের জন্যে অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়

৩৩৭৪. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] কোন গাছের বা বাগানের ফল কয়েক বছরের জন্য অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করিতে নিষেধ করেছেন এবং ক্ষতিপূরণের জন্য মূল্য কর্তনের ব্যবস্থা রেখেছেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ ক্ষতিপূরণের কথাটি নাবী [সাঃআঃ] এর দিকে সম্পৃক্ত করা সঠিক নয়। এটা মদীনাহ্‌বাসীদের মত।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২২১৮]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৭৫. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] মুআওয়ামাহ নিষিদ্ধ করেছেন। আহমাদ ইবনি হাম্বল কিংবা ইয়াহইয়া ইবনি মাঈন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিয়াছেনঃ মুআওয়ামাহ অর্থ হলো, কয়েক বছরের জন্য অগ্রিম বিক্রয়।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৫ঃ ধোঁকাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয়

৩৩৭৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ধোঁকাবাজীর মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করিতে নিষেধ করেছেন। উসমানের বর্ণনায় রয়েছে ঃ তিনি কংকর নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২১৯৪]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৭৭. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] দুই ধরণের ক্রয়-বিক্রয় এবং দুই ধরণের পোশাক পরিধানের নিয়মকে নিষিদ্ধ করেছেন। ক্রয়–বিক্রয়দ্ব্য় হলো, মুলামাসা ও মুনাবাযা [অর্থাৎ ক্রেতা বা বিক্রেতার মধ্যে কেউ কোন কাপড়ে হাত দিলো, অথবা তা একে অন্যের প্রতি ছুঁড়ে মারলো – আর এতেই বিক্রয় নির্ধারিত হয়ে গেলো]। আর পোশাক পরিধানের নিয়ম দুটি হলো, লুঙ্গি ইত্যাদি পরিধান না করে শুধু এক চাঁদরে সমস্ত শরীর আবৃত করে চাঁদরের একদিক কাঁধে উঠিয়ে রাখা। অথবা লুঙ্গি বা এরূপ কাপড় পরিধান করে হাঁটুদ্বয় খাড়া করে বসা, অথচ লজ্জাস্থান খোলা রয়েছে।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২১৭০]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৭৮. আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে নাবী [সাঃআঃ] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদিস বর্ণিত। তবে এই বর্ণনায় আরো রয়েছে ঃ লুঙ্গি ইত্যাদি না পরে শুধু একটি চাঁদরে সমস্ত শরীর আবৃত করা এবং চাঁদরের উভয় দিক বাম কাঁধে উঠিয়ে রাখা এবং ডান দিক খোলা রাখা। মুনাবাযা হলো ঃ ক্রেতা বা বিক্রেতার এরুপ বলা যে, আমি যখন এই কাপড় নিক্ষেপ করবো তখন ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। আর মূলামাসা হলো ঃ ক্রেতা কাপড়টি হাত দিয়ে স্পর্শ করলে তা খুলে দেখিতে পারবে না এবং পরিবর্তনও করা যাবে না; ক্রেতা তা হাত দিয়ে স্পর্শ করার মাত্রই তা ক্রয় করা বাধ্যতামূলক হইবে।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৭৯. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষেধ করেছেন,… অতঃপর পুরো হাদিসটি সুফিয়ান ও আবদুর রায্‌যাক বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৮০. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পশুর পেটের বাচ্চার বাচ্চা বিক্রি করিতে নিষেধ করেছেন।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২১৭৯]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৮১. ইবনি উমার [রাদি.] থেকেও নাবী [সাঃআঃ] সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি [ইবনি উমার] বলেন, পেটের বাচ্চার বাচ্চা অর্থাৎ উষ্ট্রীর পেট থেকে যে বাচ্চা জন্ম নিবে সেই বাচ্চা পরবর্তীতে যে বাচ্চা প্রসব করিবে তা ক্রয় করা।

সহিহ ঃ পূর্বেরটি দেখুন। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৬ঃ ঠেকায় পড়ে ক্রয়-বিক্রয়

৩৩৮২. আলী ইবনি আবু ত্বালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মানুষের উপর এমন এক কঠিন সময় আসবে যখন ধনীরা তাহাদের হাতের জিনিস খরচ করিতে চরম কৃপণতা করিবে, অথচ তাহাদেরকে কৃপণতা করিতে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ “তোমরা পারস্পরিক অনুগ্রহ করিতে ভুলে যেও না” [সূরাহ বাক্বারাহ ঃ ২৩৭]। লোকেরা ঠেকায় পড়ে বিক্রয় করিতে বাধ্য হইবে। অথচ নাবী [সাঃআঃ] ঠেকায় পড়ে ক্রয়-বিক্রয় করিতে, ধোঁকাবাজীর মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করিতে এবং পরিপক্ক হওয়ার পূর্বে ফল ক্রয়-বিক্রয় করিতে নিষেধ করেছেন।

দূর্বল ঃ মিশকাত [২৮৬৫], যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৬০৬৩]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৭; অংশীদারী কারবার

৩৩৮৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ বলেনঃ আমি দুই অংশীদারের মধ্যে তৃতীয় অংশীদার, যতক্ষণ তারা একে অন্যের সাথে বিশ্বাঘাতকতা না করে। যখন এক অংশীদার অপরের সাথে খিয়ানত করে তখন আমি তাহাদের থেকে সরে যাই।

দূর্বল ঃ ইরওয়া [১৪৬৮], যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [১৭৪৮]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৮ঃ ব্যবসায়ীর বৈপরিত্য করা

৩৩৮৪. উরওয়াহ ইবনি আবুল জাদ আল-রাবিকী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে একটি কুরবানীর পশু বা বকরী কিনতে একটি দীনার প্রদান করলে তিনি [তা দিয়ে] দুটি বকরী কিনে পরে একটি বকরী এক দীনারে বিক্রি করে দিলেন এবং একটি বকরী ও একটি দীনার নাবী [সাঃআঃ]-এর খিদমাতে পেশ করিলেন। তখন তিনি [সাঃআঃ] তার ক্রয়-বিক্রয়ে বরকতের দুআ করিলেন। অতঃপর তিনি যদি মাটিও কিনতেন, তাতেও লাভবান হইতেন।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২৪০২]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৮৫. উরওয়াহ আল-বারিক্বী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এই সানাদে অনুরূপ হাদিস শাব্দিক পার্থক্য সহকারে বর্ণনা করেছেন।

আমি এটি সহিহ এবং যঈফেও পাইনি। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৩৮৬. হাকীম ইবনি হিযাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিজের জন্যে একটি একটি কুরবানীর পশু কিনতে তাহাকে একটি দীনারসহ বাজারে পাঠালেন। তিনি এক দীনারে তা ক্রয় করে দুই দীনারে বিক্রি করিলেন। তিনি পুনরায় ফিরে গিয়ে এক দীনারে তাহাঁর জন্য একটি কুরবানীর পশু কিনে একটি দীনারসহ নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট উপস্থিত হলেন। নাবী [সাঃআঃ] দীনারটি সাদাক্বাহ করে দিলেন এবং তার ব্যবসায় বরকতের জন্যে দুআ করিলেন।

দূর্বল ঃ তিরমিজি [১২৮০], মিশকাত [২৯৩৭]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৯ঃ যে ব্যক্তি মালিকের বিনা অনুমতিতে তার মাল দিয়ে ব্যবসা করে।

৩৩৮৭. সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, তোমাদের কেউ এক ফারাক চাউলের অধিকারী লোকের মত হইতে সক্ষম হলে যেন তাই হয়। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! চাউলওয়ালা কে? জবাবে তিনি গুহার মুখে পাথরচাপা পড়ে আটকে পড়া লোকদের ঘটনা বর্ণনা করিলেন। তাহাদের প্রত্যেকে পরস্পরকে বললো, তোমরা তোমাদের জীবনের সবচেয়ে উত্তম কাজটি স্মরণ করো। নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তাহাদের মধ্যকার তৃতীয় ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহ্! তুমি তো অবহিত আছো, আমি এক ফারাক চাউলের বিনিময়ে এক ব্যক্তির মজুর নিয়োগ করেছিলাম। সন্ধ্যা বেলায় আমি তার প্রাপ্য তাহাকে দিতে চাইলে সে তা নিতে অসম্মতি জানিয়ে চলে গেলো। আমি তার মজুরী কাজে খাটিয়ে তদ্বারা অনেক গরু ও রাখাল জমা করলাম। পরবর্তীতে লোকটি এসে আমার সাথে সাক্ষাত করে বললো, আমার প্রাপ্য দিন। আমি তাহাকে বলিলাম, ঐসব গরু ও তার রাখালদের নিয়ে যাও। সে ওগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে চলে গেলো।

মুনকার, এর প্রথম দিকের অতিরিক্ত অংশসহ। তবে হাদিসটি অতিরিক্ত অংশ বাদে সহীহাইনে বর্ণিত আছে। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ মুনকার

অনুচ্ছেদ-৩০ঃ মূলধনবিহীন অংশীদারী ব্যবসা

৩৩৮৮. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি, আম্মার ও সাদ [রাদি.] এই মর্মে চুক্তি করি যে, আমরা বদরের যুদ্ধে যা পাবো, তাতে আমরা সমান অংশীদার হবো। তিনি বলেন, সাদ দুজন দুশমনকে বন্দী করে আনলেন কিন্তু আমি ও আম্মার কিছুই লাভ করিতে পারিনি।

দূর্বল ঃ ইবনি মাজাহ [২২৮৮], ইরওয়া [১৪৭৪]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩১ঃ ভাগচাষ সম্পর্কে

৩৩৮৯ .আস ইবনি দীনার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি উমার [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমরা ভাগচাষকে আপত্তিকর ভাবতাম। কিন্তু রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.]-কে বলিতে শুনলাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ভাগচাষ বর্জন করিতে বলিয়াছেন। আমি [আমর] কথাটি তাউসকে জানালে তিনি বলিলেন, আমাকে ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিয়াছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ভাগচাষ নিষেধ করেননি। বরং তিনি বলিয়াছেনঃ তোমাদের কারো বিনিময় ছাড়া ধার হিসেবে জমি দেয়াটা এর উপড় নির্ধারিত কর গ্রহন অপেক্ষা উত্তম।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২৪৬৪]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৯০. উরওয়াহ ইবনিয যুবাইর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

যায়িদ ইবনি সাবিত [রাদি.] বলেন, আল্লাহ্ রাফি ইবনি খাদিজকে ক্ষমা করুন। আল্লাহ্‌র শপথ! আমি হাদিস সম্পর্কে তার চেয়ে অধিক জ্ঞাত। একদা নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট দুই ব্যক্তি আসলো। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় আছে ঃ দুইজন আনসারী লোক আসলো। তারা উভয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত ছিলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমাদের অবস্থা এরূপ হলে তোমরা ভাগচাষ করো না। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় রয়েছে ঃ রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] শুধু শুনেছেন, “তোমরা ভাগচাষ করো না”।

দূর্বল ঃ ইবনি মাজাহ [৩৬৬]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৯১. সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা নালার পার্শ্ববর্তী জমি ভাগচাষে দিতাম। এতে নিজ থেকেই পানি প্রবাহিত হতো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে এরূপ করিতে নিষেধ করিলেন। তিনি আমাদেরকে স্বর্ণ মুদ্রা অথবা রৌপ্য মুদ্রার বিনিময়ে জমি ভাড়ায় খাটাতে আদেশ করেন।

হাসান ঃ নাসায়ী [৩৮৯৪]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৩৯২. হানযালাহ ইবনি ক্বায়িস আল-আনসারী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.]-কে সোনা [দীনার] ও রূপার [দিরহাম] বিনিময়ে জমি ভাড়ায় খাটানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এতে আপত্তি নেই। রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] যুগে লোকেরা নালার পার্শ্ববর্তী জমি, পাহাড়ের পাদদেশের জমি ও অন্যান্য কৃষিভূমি ভাগচাষে খাটাতো। এতে দেখা যেতো, এ অংশে কোন ফসলই উৎপন্ন হতো না কিন্তু ওপর অংশে যথেষ্ট ফসল উৎপন্ন হতো। আবার কখনো এ অংশের ফসল নিরাপদ থাকতো অথচ অপর অংশের ফসল নষ্ট হয়ে যেতো। তখন ভাগচাষ ব্যতিত জমি বন্দোবস্ত দেয়ার অন্য কোন নিয়ম প্রচলিত ছিলো না। তাই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ভাগ চাষ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। অবশ্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকলে কোন আপত্তি নেই। বর্ণনাকারী ইবরাহীমের বর্ণনাটি পূর্ণাঙ্গ।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৯৩. হানযালাহ ইবনি ক্বায়িস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রাফি খাদীজ [রাদি.]-কে জমি বর্গা দেয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, ভাগচাষ করিতে নিষেধ করেছেন। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, সোনা-রূপার বিনিময়ে? তিনি বলিলেন, সোনা-রূপার বিনিময়ে হলে কোন দোষ নেই।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩২ঃ ভাগচাষের ব্যাপারে কঠোরতা

৩৩৯৪. ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাকে সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] জানিয়েছেন, ইবনি উমার [রাদি.] তার জমি ভাগচাষে খাটাতেন। তিনি যখন অবহিত হলেন, রাফি ইবনি খাদীজ আল-আনসারী [রাদি.] বলিয়াছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ভাগচাষে জমি খাটাতে নিষেধ করেছেন, তখন আবদুল্লাহ [রাদি.] তার সাথে সাক্ষাৎ করিলেন। তিনি বলিলেন, হে ইবনি খাদীজ! জমি বর্গা দেয়া সম্পর্কে আপনি রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছ থেকে কি হাদিস বর্ণনা করেন? রাফি [রাদি.] আবদুল্লাহ ইবনি উমারকে বলিলেন, আমি আমার দুই চাচার নিকট শুনিয়াছি, তারা উভয়ে বদরের যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন, তারা নাবী [সাঃআঃ] এর পরিবারের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জমি বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আমি জানতাম, রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] যুগে ভাগচাষ প্রচলন ছিলো। অতঃপর আবদুল্লাহ [রাদি.] এই আশংকা করেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ বিষয়ে হয়তো নতুন কোন নির্দেশ দিয়েছেন যা তার জানা নেই। অতঃপর তিনি জমি বর্গা দেয়া বর্জন করেন।

ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আইয়ূব, উবাইদুল্লাহ, কাসীর ইবনি ফারক্বাদ এবং মালিক এরা সকলেই রাফি হইতে খাদীজের মাধ্যমে হাদিসটি নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করেছেন। আওযাই [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হাফ্‌স ইবনি ইনান হইতে রাফি [রাদি.] সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, আমি হাদিসটি রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছে শুনিয়াছি। অনূরূপভাবে যায়িদ ইবনি আবু উনাইসাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হাকীম হইতে রাফির মাধ্যমে ইবনি উমার [রাদি.] সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি রাফির কাছে এসে জিজ্ঞেস করিলেন, আপনি কি রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছে শুনেছেন? রাফি বলিলেন, হাঁ। এমনিভাবে ইকরিমাহ ইবনি আম্মার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবুন-নাজ্জাশীর হইতে রাফি সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমি নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে [এ হাদিস] শুনিয়াছি। আওযাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবুন-নাজ্জাশী হইতে রাফি ইবনি খাদীজের সূত্রে এবং তিনি তার চাচা যুহাইর ইবনি রাফি সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

সহিহ ঃ নাসায়ী [৩৯০৪]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৯৫. সুলায়মান ইবনি ইয়াসার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] বলেন, আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] যুগে জমি ভাগচাষে খাটাতাম। তিনি উল্লেখ করিলেন, তার এক চাচা তার কাছে এসে বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একটি কাজ বর্জন করিতে বলিয়াছেন, যা আমাদের জন্য লাভজনক ছিলো। কিন্ত আল্লাহ্ ও তাহাঁর রাসূলের আনুগত্য করা আমাদের জন্য তার চেয়েও অধিক লাভজনক ও কল্যাণকর। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বলিলাম, তা কীভাবে? তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যার জমি আছে সে নিজে তা চাষ করিবে অথবা তার ভাইকে যেন চাষ করিতে দেয়। সে যেন তা এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্য প্রদানের বিনিময়ে বর্গা না দেয়।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৯৬. আইয়ূব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ইয়ালা ইবনি হাকীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আমাকে লিখে পাঠালেন যে, আমি [ইয়ালা] সুলায়মান ইবনি ইয়াসারের নিকট উবাইদুল্লাহর সানাদে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ হাদিস শুনিয়াছি।

আমি এটি সহিহ এবং যঈফেও পাইনি। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৩৯৭. ইবনি রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু রাফি [রাদি.] রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছ থেকে আমাদের নিকট এসে বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে একটি লাভজনক কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি নিষেধ করেছেন ঃ আমাদের কেউ যেন ভাগচাষের শর্তে কারো জমি না খাটায়। তবে তার নিজের জমি থাকলে কিংবা কেউ তাহাকে এমনিতেই চাষের জন্য জমি দান করলে সে চাষাবাদ করিবে।

হাসান, এর পরবর্তী হাদিস দ্বারা। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৩৯৮. মুজাহিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উসাইদ ইবনি যুহাইর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিয়াছেন, একদা রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] আমাদের নিকট এসে বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তোমাদেরকে একটি কাজ থেকে বিরত থাকতে বলিয়াছেন যা তোমাদের জন্য লাভজনক ছিলো। কিন্তু আল্লাহ্ ও তাহাঁর রাসূলের আনুগত্য করা তোমাদের জন্য অধিক লাভজনক। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তোমাদেরকে জমি বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি তার জমির মুখাপেক্ষী নয় সে যেন তার অন্য ভাইকে কোন বিনিময় ছাড়াই তা চাষাবাদ করিতে দেয়, অথবা পরিত্যক্ত রেখে দেয়।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২৪৬০]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৯৯.আবু জাফর আল-খাতমী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমার চাচা আমাকে ও তার এক গোলামকে সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর নিকট প্রেরণ করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তাহাকে বলিলাম, আমরা ভাগচাষ সম্পর্কে আপনার কিছু বক্তব্য জানতে পেরেছি। তিনি বলিলেন, ইবনি উমার [রাদি.] রাফি ইবনি খাদীজ বর্ণিত হাদিস না জানা পর্যন্ত ভাগচাষ আপত্তিকর মনে করেননি। ইবনি উমার [রাদি.] রাফির নিকট আসলে রাফি [রাদি.] তাহাকে জানান, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বনী হারিসার কাছে যান। তিনি যুহাইরের জমির ফসল দেখে বলিলেন, যুহাইরের জমিতে কি সুন্দর ফসল ফলেছে! লোকেরা বললো, হাঁ, তবে ফসল অমুক ব্যক্তির। তিনি বলিলেনঃ তোমাদের ফসল তোমরা নিয়ে যাও এবং তাহাকে কৃষিকাজের খরচ ফেরত দাও। রাফি [রাদি.] বলেন, আমরা আমাদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে নিলাম এবং তাহাকে কৃষির খরচ ফেরত দিলাম। সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, তোমার ভাইয়ের অভাব দূর করো অথবা দিরহামের বিনিময়ে ভাড়া খাটাও।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪০০. রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুহাকালা ও মুযাবানা পদ্ধতির ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলিয়াছেনঃ তিন ব্যক্তি কৃষিকাজ করিতে পারে। [এক] যার নিজস্ব জমি আছে সে তাতে চাষাবাদ করিতে পারে। [দুই] যে ব্যক্তি ধারে জমি নিয়েছে সে তাতে জমি চাষাবাদ করিতে পারে। [তিন] যে ব্যক্তি সোনা [দীনার] ও রূপার [দিরহাম] বিনিময়ে জমি ভাড়া নিয়েছে সে তাতে চাষাবাদ করিতে পারে।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২৪৪৯]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪০১. ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি সাঈদ ইয়াকূব আত-তালাক্বানীকে এটি পাঠ করিতে শুনালাম। আপনাদেরকে ইবনিল মুবারক, সাঈদ আবু শুজার সূত্রে বলিয়াছেন, তিনি বলিলেন, আমাকে উসমান ইবনি সাগল ইবনি রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] বলিয়াছেন। উসমান বলেন, আমি রাফি ইবনি খাদীজের নিকট ইয়াতীম হিসাবে প্রতিপালিত হয়েছি। আমি তার সাথে হাজ্জও করেছি। একদা আমার ভাই ইমরান ইবনি সাহল এসে তাহাকে জিজ্ঞেস করিলেন, আমরা আমাদের অমুক জমি দুশো দিরহামের বিনিময়ে অমুককে ধার দিয়েছি। তিনি [রাফি] বলিলেন, এটা বর্জন করো। কেননা নাবী [সাঃআঃ] জমি ধার দিতে নিষেধ করেছেন।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ শায

৩৪০২. রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি একটি জমিতে চাষাবাদ করেন। একদা নাবী [সাঃআঃ] সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন, এ সময় রাফি জমিতে পানি দিচ্ছিলেন। তিনি তাহাকে জিজ্ঞেস করিলেন ঃ এ ফসল কার এবং জমির মালিক কে? রাফি [রাদি.] বলিলেন, এ ফসল আমার, শ্রমও আমার। আমার অর্ধেক ভাগ এবং অমুকের পুত্রের [জমির মালিকের] অর্ধেক ভাগ। তিনি বলিলেনঃ তোমরা উভয়ে সুদের ব্যবসায় লিপ্ত হলে। মালিককে জমি ফিরিয়ে দাও এবং তোমার খরচ তার কাছ থেকে নিয়ে নাও।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৩ঃ মালিকের বিনা অনুমতিতে তার জমিতে কৃষিকাজ করা

৩৪০৩,রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি মালিকের অনুমতি ছাড়া তার জমিতে চাষাবাদ করে সে উৎপাদিত ফসলের অংশ পাবে না। তবে সে তার খরচ ফেরত পাবে।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২৪৬৬]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪ঃ মুখাবারা [ভাগে বর্গা দেয়া] সম্পর্কে

৩৪০৪. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুযাবানা, মুহাকালা, ও মুআওয়ামা করিতে নিষেধ করেছেন। আবুয–যুবাইর হাম্মাদের সূত্রে বর্ণনা করেন, তাহাদের [হাম্মাদ ও সাঈদ ইবনি মীনাআ] উভয়ের একজন মুআওয়ামা বর্ণনা করেছেন এবং অন্যজন বায়উস সিনীন [কয়েক বছরের অগ্রিম চুক্তিতে ক্রয়-বিক্রয়] কথা বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তাহাদের বর্ণনা একই বিন্দুতে মিলিত হয়েছে। তিনি সানাইয়া নিষেধ করেছেন; কিন্তু আরিয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২২৬৬, ২২৬৭]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪০৫ .জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুযাবানা ও সানাইয়া করিতে নিষেধ করেছেন, তবে পরিমাণ নির্ধারিত থাকলে তা করা যাবে।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪০৬. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি ঃ যে ব্যক্তি মুখারাবা [বর্গা] বর্জন করেনি তার বিরুদ্ধে আল্লাহ্ ও তাহাঁর রাসূলের পক্ষ হইতে যুদ্ধের ঘোষণা দাও।

দূর্বল ঃ যঈফাহ [৯৯৩], যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৫৮৪১]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৪০৭. যায়িদ ইবনি সাবিত [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুখাবারা করিতে নিষেধ করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, মুখাবারা কি? তিনি বলিলেন? কারো জমি অর্ধাংশ, এক-তৃতীয়াংশ অথবা এক-চতুর্থাংশ ফসলের বিনিময়ে চাষ করা। {১}

সহীহঃ ইরওয়া [১৪৭৭]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫ঃ বাগান ও জমি বর্গা দেয়া

৩৪০৮.ইবনি উমার [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খায়বারের অধিবাসীদের এ শর্তে চাষাবাদ করিতে দিয়েছিলেন যে, উৎপন্ন ফল অথবা ফসলের অর্ধেক তারা পাবে।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ[২৪৬৭]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪০৯. ইবনি উমার [রা] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] খায়বারের ইয়াহুদীদেরকে সেখানকার বাগান ও জমি এই শর্তে চাষাবাদ করিতে দিয়েছিলেন যে, তারা নিজেদের খরচে তা চাষাবাদ করিবে এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে উৎপন্ন ফলের অর্ধেক প্রদান করিবে।

সহিহঃ এর পূর্বেরটি দেখুন। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪১০. ইবনি আব্বাস [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খায়বার বিজয়ের পর শর্ত আরোপ করিলেন যে, এখানকার জমি এবং যাবতীয় সোনা-রূপা আমার। খায়বারে বসবাসকারী ইয়াহুদীরা বললো, আমরা কৃষিকাজে আপনাদের চেয়ে অধিক পারদর্শী। সুতরাং এখানে আমাদেরকে চাষাবাদ করিতে দিন, উৎপাদিত ফলের অর্ধেক আপনাদের এবং অর্ধেক আমাদের। তিনি উক্ত শর্তে তাহাদেরকে জমি চাষ করিতে দিলেন। অতঃপর খেজুর কাটার সময় এলে তিনি আবদুল্লাহ ইবনি রাওয়াহা [রাদি.]- কে তাহাদের কাছে প্রেরণ করেন। তিনি তাহাদের খেজুরের পরিমাণ অনুমান করিলেন। মাদীনাহবাসিরা একে খারস বলতো। তিনি বলিলেন, এতে এই এই পরিমাণ খেজুর হইবে। তারা বললো, হে ইবনি রাওয়াহা [রাদি.]! আপনি পরিমাণের চেয়ে বেশী অনুমান করেছেন। তিনি বলিলেন, আমি প্রথমে খেজুর সংগ্রহ করবো। আমি যে পরিমাণ অনুমান করেছি তার অর্ধেক তোমাদের দিবো। তারা বললো, এটাই সঠিক [হক্ব]। আর আসমান-যমীন হক্বের জন্যই সুপ্রতিষ্ঠিত আছে। আমরা আপনার কথা মোতাবেক গ্রহণ করিতে সম্মত।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৩৪১১. জাফার ইবনি বুরক্বান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার সনদ হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ অর্থবোধক হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি [আবদুল্লাহ] ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, সাফরা ও বাইদা এর অর্থ হলোঃ সোনা ও রূপা।

সনদ সহিহ। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪১২. মিক্বসাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] খায়বার বিজয় করিলেন। অতঃপর হাদিসের বাকী অংশ যায়িদ সূত্রে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি [আবদুল্লাহ] অনুমান করে খেজুরের পরিমাণ নির্ধারণ করে বলিলেন, আমি খেজুর কাটবো এবং আমি অনুমানে নির্ধারিত পরিমাণের অর্ধেক তোমাদের দিবো।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৬; অনুমানের ভিত্তিতে পরিমাণ নির্ধারণ করা

৩৪১৩. আয়িশাহ [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] আবদুল্লাহ ইবনি রাওয়াহা [রাদি.]-কে খায়বারে পাঠাতেন। তিনি সেখানকার বাগানের খেজুর পাকার সময় তা খাওয়ার উপযোগী হওয়ার পূর্বে অনুমান করে পরিমাণ নির্ধারণ করিতেন। অতঃপর তিনি ইয়াহুদীদেরকে এখতিয়ার দিতেনঃ তারা এই পরিমান নিতে পারে। অথবা ঐ পরিমান নিয়ে অবশিষ্ট অংশ তাহাকে দিবে। এরূপ করা হতো ফল খাবারযোগ্য হওয়ার এবং বণ্টনের পূর্বে যাকাত নির্ধারণ করার জন্য।

সনদ দুর্বলঃ অনুরূপ মিশকাত [১৮০৬]। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৪১৪. জাবির [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাহাঁর রাসূলকে খায়বার এলাকা ফাই হিসাবে দিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সেখানকার অধিবাসীদের সেভাবে রাখলেন যেভাবে তারা ছিল। তিনি সেখানকার জমি তাহাদেরকে চাষবাদ করিতে দিলেন। তিনি সেখানে আবদুল্লাহ ইবনি রাওয়াহা [রাদি.]-কে প্রেরণ করিলেন। তিনি সেখানে গিয়ে তাহাদের ফসলের পরিমাণ নির্ধারণ করিলেন।

সহীহঃ পরবর্তী [৩৪১৫] হাদিস দ্বারা। আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪১৫. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ইবনি রাওয়াহা [রাদি.] খায়বারের বাগানে ফলের পরিমাণ অনুমানে নির্ধারণ করেন চল্লিশ হাজার ওয়াসক। এরপর তিনি সেখানকার ইয়াহুদীদের ইখতিয়ার দিলে তারা বিশ হাজার ওয়াসক দিতে রাজি হয় এবং ফল তাহাদের অধিকারে নিয়ে নেয়।

আবু দাউদ শরীফ বাংলা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply