আত্মসাৎ । উপদেশ মুলক হাদিস সমুহ বাংলায়

আত্মসাৎ । উপদেশ মুলক হাদিস সমুহ বাংলায়

আত্মসাৎ । উপদেশ মুলক হাদিস সমুহ বাংলায় , এই অধ্যায়ে মোট (১৫-৩৪) =২০টি হাদীস >> উপদেশ হাদিস এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৩ঃ আত্মসাৎ

পরিচ্ছেদঃ আত্মসাৎ

১৫. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম] এরশাদ করেন, [১] কোন যেনাকার যেনা করিতে পারে না যখন সে যেনা করে, মুমিন থাকা অবস্থায়। [২] কোন মদখোর মদপান করিতে পারে না যখন সে মদ্যপান করে, মুমিন থাকা অবস্থায়। [৩] কোন চোর চুরি করিতে পারে না যখন সে চুরি করে, মুমিন থাকা অবস্থায়। [৪] কোন ডাকাত এরূপে ডাকাতি বা ছিনতাই করিতে পারে না যে লোক তার প্রতি নযর উঠিয়ে দেখে [অর্থাৎ প্রকাশ্যে] যখন সে ডাকাতি করে, মুমিন থাকা অবস্থায়। [৫] তোমাদের কেউ গণীমতের মালে [বা কোন মালে] খেয়ানত করিতে পারে না যখন সে খেয়ানত করে, মুমিন থাকা অবস্থায়। অতএব তোমরা সাবধান হও? তোমরা সাবধান হও

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৫৩]। অত্র হাদিস দ্বারা বুঝা যায় যে, মানুষ যখন খিয়ানত করে তখন মুমিন থাকে না। মুমিন হওয়ার জন্য তওবা করিতে হইবে। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৬. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, মুনাফিকের আলামত হচ্ছে তিনটা- যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে, ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট কোন কিছু আমানত রাখা হয়, তা সে খিয়ানত করে

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৫৫]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] আমাদেরকে এরূপ উপদেশ খুব কমই দিয়েছেন, যাতে একথাগুলি বলেননি যে, যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই এবং যার অঙ্গীকারের মূল্য নেই তার দ্বীন-ধর্ম নেই

[আহমাদ হাদিস/১১৯৩৫, মেশকাত হাদিস/৩৫, বাংলা মেশকাত হাদিস/৩১]। অত্র হাদিস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আমানত রক্ষা করা এবং অঙ্গীকার পূরণ করা পূর্ণ মুমিন হওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৮. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি তোমার কাছে আমানত রেখেছে তাকে সময় মত আমানত বুঝিয়ে দাও। আর যে তোমার সাথে খিয়ানত করে তার খিয়ানত করো

না [তিরমিজি, আবু দাউদ, দারেমী, মেশকাত হাদিস/২৯৩৪]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৯. সাঈদ ইবনি যায়েদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি অত্যাচার করে অর্ধহাত যমীন দখল করেছে, নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন অনুরূপ সাতটি যমীন তার কাঁধে ঝুলিয়ে দেয়া হইবে

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/২৯৩৮]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২০. তাবেঈ সালেম তাহাঁর বাপ আব্দুল্লাহ ইবনি ওমর হইতে হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে অনধিকারে কারো কিছু যমীন নিয়েছে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে সাত তবক যমীন পর্যন্ত ধসিয়ে দেওয়া হইবে

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/২৯৫৮]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২১. ইয়ালা ইবনি মুররা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যেকোন ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো এক বিগত জমি দখল করে তাকে আল্লাহ তা সাত তবকের শেষ পর্যন্ত খুঁড়তে বাধ্য করবেন। অতঃপর তার গলায় তা শিকলরূপে পরিয়ে দেওয়া হইবে, যাবৎ না মানুষের বিচার শেষ করা হয়

[আহমাদ, মেশকাত হাদিস/২৯৬০]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২২. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করা হল, মানুষের মধ্যে উত্তম কে? তিনি বলিলেন, প্রত্যেক নিষ্কলুষ অন্তঃকরণ সত্যভাষী। সাহাবাগণ আরয করিলেন, সুদূকুল লিসান তো আমরা বুঝি, তবে মাখ্মূমুল কালব কি? তিনি বলিলেন, নির্মল ও পবিত্র অন্তঃকরণ, যা পাপ করেনি, যুলুম করেনি, যা খিয়ানত করেনি ও যা হিংসা-বিদ্বেষ হইতে মুক্ত

[ইবনি মাজাহ, বায়হাক্বী শুআবুল ঈমান, মেশকাত হাদিস/৫২২১]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৩. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যখন তোমার মধ্যে চারটি বস্তু বিদ্যমান থাকে, তখন দুনিয়ার যা কিছুই তোমার থেকে চলে যায় তাতে তোমার কোন ক্ষতি নেই। আমানত রক্ষা করা, সত্য কথা বলা, উত্তম চরিত্র হওয়া এবং খানা-পিনাতে সতর্কতা অবলম্বন করা

[আহমাদ, শুআবুল ঈমান, মেশকাত হাদিস/৫২২২]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৪. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

যখনই গনীমতের মাল লাভ করিতেন, তখন বেলাল [রাদি.]-কে আদেশ করিতেন। [তিনি যেন লোকদের যার কাছে যাকিছু আছে তা উপস্থিত করার জন্য ঘোষণা করেন]। তিনি জনগণের মধ্যে ঘোষণা করিতেন, তখন লোকেরা তাদের স্ব স্ব গনীমত নিয়ে আসত। অতঃপর সমস্ত মাল হইতে [বায়তুল মালের] এক-পঞ্চমাংশ বের করিতেন এবং অবশিষ্টগুলি লোকদের মধ্যে বণ্টন করে দিতেন। একদা এক ব্যক্তি এর [খুমুস বের করা এবং সমস্ত মাল বিতরণ করে দেওয়ার] পর একখানা পশমের লাগাম নিয়ে আসল এবং বলল, ইয়া রসূলুল্লাহ! ইহা গনীমতের মাল, যা আমি পেয়েছিলাম। তার কথা শুনে রাসূল [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করিলেন, বেলাল যে তিন তিনবার ঘোষণা করেছিল, তুমি কি তা শুনেছ? সে বলল, হ্যাঁ, [শুনিয়াছি]। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, সেই সময় তা আনতে তোমাকে কে বাধা দিয়েছিল? তখন সে বিভিন্ন ওযর পেশ করিল। রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, যাও, তুমি ক্বিয়ামতের দিন এই রশি নিয়েই উপস্থিত হইবে। আমি তোমার নিকট হইতে এটা গ্রহণ করব না

[আবু দাউদ, মেশকাত হাদিস/৪০১২]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৫. খাওলাহ বিনতে কায়স [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূল [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এই পার্থিব সম্পদ শ্যামল ও সুমিষ্ট [অর্থাৎ আকর্ষণীয়] তবে যেই ব্যক্তি ন্যায়ভাবে প্রাপ্ত হয় তাতে তার বরকত হয়। আবার বহু লোক এমনও আছে, যে আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের সম্পদে [অর্থাৎ গনীমতের মালে] যথেচ্ছা তসরূপ করে, তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন ব্যতীত আর কিছুই না

[তিরমিজি, মেশকাত হাদিস/৪০১৭]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৬. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

একদা নবী [সাঃআঃ] আমাদের মাঝে বক্তব্য দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন, তিনি খিয়ানত সম্পর্ককে বক্তব্য দিলেন এবং খিয়ানতের বিষয়টি খুব বড় করে পেশ করিলেন। তারপর তিনি বলিলেন, ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের কাউকে আমি এমন অবস্থায় পাব যে, তার কাঁধের উপর উট চিৎকার করিতে থাকিবে। সে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে রক্ষা করুন। আমি বলব, আজ আল্লাহর সামনে তোমার জন্য সামান্য কিছু করার ক্ষমতা আমি রাখি না, যা পূর্বেই বলেছি। ক্বিয়ামতের দিন আমি তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় পাব যে, তার কাঁধের উপর ঘোড়া চিৎকার করিতে থাকিবে। সে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে রক্ষা করুন, আমি বলব, আজ আল্লাহর সামনে তোমার জন্য সামান্য কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই, যা আমি পূর্বেই বলেছি। ক্বিয়ামতের দিন আমি যেন তোমাদের কাউকে এই অবস্থায় দেখিতে না পাই যে, সে কাঁধের উপর একটি ছাগল বহন করছে এবং আমাকে বলবে, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] আমাকে সাহায্য করুন। আর আমি বলব, আমি কিছুই করিতে পারব না।

আমিতো তোমাকে আল্লাহর বিধান পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছি। কিয়ামতের দিন আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় দেখিতে না পাই যে, সে নিজের কাঁধের উপর চিৎকার রত একটি মানুষ বহন করে নিয়ে আসবে আর আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আর আমি বলব, আজ আমি তোমার জন্য কিছুই করিতে পারব না। আমি আল্লাহর বিধান তোমাকে পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছি। ক্বিয়ামতের দিন আমি যেন তোমাদের কাউকে এ অবস্থায় দেখিতে না পাই যে, সে নিজের কাঁধের উপর কাপড় ইত্যাদির এক খণ্ড বহন করে নিয়ে আসছে। আর তা ভীষণভাবে তার কাঁধের উপর দুলছে, তখন সে আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন, আর আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছুই করিতে পারব না। কিয়ামতে আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না দেখিতে পাই যে, সে নিজের কাঁধের উপর অচেতন সম্পদ [সোনা-চাঁদি] বহন করে নিয়ে আসছে। আর আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আর আমি বলব, আজ আমি তোমাকে কোন সাহায্য করিতে পারব না। আমি তো তোমাকে আল্লাহর বিধান পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছি

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৩৯৯৬]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৭. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

মিদআম নামে একটি গোলাম রাসূল [সাঃআঃ]-কে হাদিয়া দিয়েছিল। মিদআম এক সময় রাসূল [সাঃআঃ]-এর উটের পিঠের হাওদা নামাচ্ছিল এমতাবস্থায় একটি তীর এসে তাকে লাগে এবং সে মারা যায়। ছাহাবীগণ বলেন, তার জন্য জান্নাত। রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, কখনই নয়। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই ঐ চাদরটি যেটি সে খায়বারের গনীমত বণ্টন করার পূর্বে আত্মসাৎ করেছিল সে চাদরটি জাহান্নামের আগুন তার উপর উত্তেজিত করছে। এ কথা শুনে একজন লোক একটি জুতার ফিতা বা দুটি জুতার ফিতা রসূলের নিকট নিয়ে আসল। রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, একটি বা দুটি জুতার ফিতা আত্মসাৎ করলেও জাহান্নামে যাবে

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৩৯৯৭; বাংলা ৮ম খণ্ড, হা ৩৮২১]। অত্র হাদিসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আত্মসাৎকৃত বস্তু ক্ষুদ্র হলেও তার পরিণাম জাহান্নাম। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৮. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ]-এর গনীমতের মালের এক ব্যক্তি দায়িত্বশীল ছিল, যে কারকারা নামে পরিচিত। সে মারা গেলে রাসূল [ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে জাহান্নামী বলে ঘোষণা করেন। ছাহাবীগণ তার নিকট গিয়ে দেখলেন সে একটি চাদর আত্মসাৎ করেছি

ল [ইবনি মাজাহ, হাদিস/২৮৪১, হাদিস ছহীহ, বুখারী, মেশকাত হাদিস/৩৯৯৮; বাংলা ৮ম খণ্ড, হাদিস/৩৮২২]।এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ওমর [রাদি.] আমাকে বলিলেন, খায়বারের যুদ্ধের দিন ছাহাবীগণের একটি দল বাড়ী ফিরে আসছিলেন। ঐ সময় ছাহাবীগণ বলিলেন, অমুক অমুক শহীদ, শেষ পর্যন্ত এমন এক ব্যক্তিকে ছাহাবীগণ শহীদ বলিলেন, যার ব্যাপারে রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, কখনো নয়, আমি তাকে জাহান্নামে দেখছি সে একটি চাদর আত্মসাৎ করেছে

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৪০৩৪; বাংলা ৮ম খণ্ড, হাদিস/৩৮৫৭]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩০. খাওলা আনছারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূল [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে সম্পদ দখল করিবে। ক্বিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম রয়েছে

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/৩৯৯৫; বাংলা মেশকাত ৮ম খণ্ড, হাদিস/৩৮১৯ জিহাদ অধ্যায়]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩১. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া গ্রহণ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ রাসূলগণকে যা আদেশ করিয়াছেন মুমিনদেরও তাই আদেশ করিয়াছেন। তারপর রাসূল [সাঃআঃ] একটি লোকের আলোচনা করিলেন, যে ব্যক্তি সফরে থাকায় ধুলায় মলিন হয়। আকাশের দিকে দুহাত উত্তোলন করে প্রার্থনা করছে, হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক! কিন্তু তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোষাক হারাম, তার জীবিকা নির্বাহ হারাম, কিভাবে তার দোআ কবুল হইবে

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/২৭৬০, বাংলা মেশকাত ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদিস/২৬৪০, ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়]। অত্র হাদীছে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে খাদ্য পানি পোষাক হারাম থাকলে ইবাদত কবুল হইবে না। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩২. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, মানুষের উপর এমন একটি সময় আসবে, যখন মানুষ হালাল-হারাম উপার্জনে বিবেচনা করিবে না

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/২৭৬১]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩. কাব ইবনি উজরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, হারাম খাদ্য দ্বারা পরিপুষ্ট শরীর জান্নাতে যাবে না

মেশকাত/২৭৮৭ ; বাংলা ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাঃ/২৬৬৭]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪. নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, হালালও স্পষ্ট হারামও স্পষ্ট। উভয়ের মধ্যে কিছু অস্পষ্ট রয়েছে, যা অনেক মানুষ জানে না। যে ব্যক্তি অস্পষ্ট থেকে বেঁচে থাকিবে সে তার দ্বীন ও তার মর্যাদাকে পূর্ণ করে নিবে। আর যে ব্যক্তি অস্পষ্ট গ্রহণ করিবে সে হারামকে গ্রহণ করিবে। যেমন একটি রাখাল ক্ষেতের সীমানায় ছাগল চরালে শস্য খেতে যেতে পারে। মনে রেখো, প্রত্যেক বাদশার একটি সীমা রয়েছে আর আল্লাহর সীমানা হচ্ছে তাহাঁর হারাম। নিশ্চয়ই শরীরে একটি টুকরা আছে, টুকরাটি ঠিক থাকলে সম্পূর্ণ শরীর ঠিক থাকিবে, টুকরাটি নষ্ট হয়ে গেলে সম্পূর্ণ শরীর নষ্ট হয়ে যাবে। আর তা হচ্ছে অন্তর

বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/২৭৬২]।,এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

Leave a Reply