নতুন লেখা

তিন আঙ্গুল দ্বারা খাবার খাওয়া মুস্তাহাব – রিয়াদুস সালেহীন

তিন আঙ্গুল দ্বারা খাবার খাওয়া মুস্তাহাব – রিয়াদুস সালেহীন

তিন আঙ্গুল দ্বারা খাবার খাওয়া মুস্তাহাব – রিয়াদুস সালেহীন >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ১০৯: তিন আঙ্গুল দ্বারা খাবার খাওয়া মুস্তাহাব

খাওয়ার পর আঙ্গুল চেটে ও চুষে খাওয়া উত্তম। তা চাটার পূর্বে মুছে [বা ধুয়ে] ফেলা অপছন্দনীয়। বাসন চেটে খাওয়া ও নিচে পড়ে যাওয়া খাবারের লুকমা বা দানা তুলে খাওয়া উত্তম এবং আঙ্গুল চাটা বা চুষার পর হাত-পা ইত্যাদিতে মুছা বৈধ।

1/752عَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: « إِذَا أكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَاماً، فَلاَ يَمْسَحْ أَصَابِعَهُ حَتَّى يَلْعَقَهَا أَوْ يُلْعِقَها ». متفقٌ عَلَيْهِ

১/৭৫২। ইবনি আব্বাস রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তোমাদের কেউ যখন আহার করে, সে যেন তার আঙ্গুলগুলি না মুছে; যতক্ষণ না সে তা নিজে চেটে খায় কিংবা অন্য [শিশু প্রভৃতি]কে দিয়ে চাঁটিয়ে নেয়।’’ [বুখারী ও মুসলিম][1]

2/753 وَعَن كَعبِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: رَأَيتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَأكُلُ بثَلاَثِ أَصَابِعَ، فَإِذَا فَرَغَ لَعِقَهَا . رواه مسلم

২/৭৫৩। কা‘ব ইবনি মালেক রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃকে তিন আঙ্গুল দ্বারা [রুটি, খেজুর ইত্যাদি] খেতে দেখেছি। অতঃপর যখন তিনি খাবার শেষ করিলেন, তখন সেগুলিকে চাটলেন।’ [মুসলিম][2]

3/754 وَعَن جَابِرٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَمَرَ بِلَعْقِ الأَصَابِعِ وَالصَّحفَةِ، وَقَالَ: « إنَّكُمْ لاَ تَدْرُونَ فِي أيِّ طَعَامِكُمُ البَرَكَةُ ». رواه مسلم

৩/৭৫৪। জাবের রাঃআঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ খাবারান্তে আঙ্গুল ও থালা চেটে খাবার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘‘তোমরা জান না যে, তোমাদের কোন্ খাদ্যে বরকত নিহিত আছে।’’ [মুসলিম][3]

4/755 وَعَنهُ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: « إِذَا وَقَعَتْ لُقْمَةُ أحَدِكُمْ، فَلْيأخُذْهَا فَلْيُمِطْ مَا كَانَ بِهَا مِنْ أَذىً، وَلْيَأْكُلْهَا، وَلاَ يَدَعْهَا لِلشَّيْطَان، وَلاَ يَمْسَحْ يَدَهُ بِالمِنْدِيل حَتَّى يَلْعَقَ أصَابِعَهُ، فَإنَّهُ لاَ يَدْري فِي أيِّ طَعَامِهِ البَرَكَةُ ». رواه مسلم

৪/৭৫৫। উক্ত রাবী হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যখন কারো খাদ্য গ্রাস [বা দানা পাত্রের বাইরে] পড়ে যাবে, তখন সে যেন তা থেকে নোংরা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ছেড়ে না দেয়। আর রুমালে হাত মুছে ফেলার পূর্বে যেন আঙ্গুলগুলি চেটে নেয়। কেননা, সে জানে না যে, তার কোন্ খাদ্যাংশে বরকত নিহিত আছে।’’ [মুসলিম][4]

5/756 وَعَنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: « إنَّ الشَّيْطَانَ يَحْضُرُ أحَدَكُمْ عِنْدَ كُلِّ شَيْءٍ مِنْ شَأنِهِ، حَتَّى يَحْضُرَهُ عِنْدَ طَعَامِهِ، فإذَا سَقَطَتْ لُقْمَةُ أحَدِكُمْ فَلْيَأخُذْهَا فَليُمِطْ مَا كَانَ بِهَا مِنْ أذىً، ثُمَّ لِيَأْكُلْهَا وَلاَ يَدَعْهَا للشَّيْطَانِ، فإذَا فَرَغَ فَلْيَلْعَقْ أصَابِعَهُ، فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي فِي أيِّ طَعَامِهِ البَرَكَةُ ». رواه مسلم

৫/৭৫৬। উক্ত রাবী থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘শয়তান তোমাদের সমস্ত কাজ কর্মে তোমাদের নিকট উপস্থিত হয়; এমনকি তোমাদের খাবারের সময়েও উপস্থিত হয়। সুতরাং যখন কারো খাবার লুকমা [থালার বাইরে] পড়ে যায়, তখন সে যেন তা তুলে তা থেকে নোংরা পরিষ্কার করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ফেলে না রাখে। আর আহারান্তে আঙ্গুলগুলি চেটে নেয়। কারণ, তার জানা নেই যে, তার কোন্ খাবারে বরকত নিহিত আছে। [মুসলিম][5]

6/757 وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ إِذَا أكَلَ طَعَاماً، لَعِقَ أصَابِعَهُ الثَّلاَثَ . قَالَ: وَقَالَ: «إِذَا سَقَطَتْ لُقْمَةُ أَحَدِكُمْ فَلْيُمِط عَنهَا الأَذَى، وليَأكُلْهَا وَلاَ يَدَعْهَا لِلشَّيْطان». وأَمَرَ أن تُسلَتَ القَصْعَةُ، قَالَ: « فإنَّكُمْ لاَ تَدْرُونَ في أيِّ طَعَامِكُمُ البَرَكَة ». رواه مسلم

৬/৭৫৭। আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাঃআঃ যখন আহার করিতেন তখন নিজ তিনটি আঙ্গুল চেটে খেতেন এবং বলিতেন, ‘‘কারো খাবারের লুকমা নিচে পড়ে গেলে, সে যেন তা তুলে পরিষ্কার করে খেয়ে ফেলে এবং শয়তানের জন্য  ফেলে না রাখে।’’ আর তিনি আমাদেরকে খাদ্যপাত্র [বা বাসন] চেটে খেতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘‘তোমরা জান না যে, তোমাদের কোন্ খাবারে বরকত নিহিত আছে।’’ [মুসলিম][6]

7/758 وَعَن سَعِيدِ بنِ الحَارِثِ: أَنَّهُ سَأَلَ جَابِراً رضي الله عنه عَنِ الوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ، فَقَالَ: لاَ، قَدْ كُنَّا زَمَنَ النَّبِيِّ ﷺ لاَ نَجِدُ مِثْلَ ذَلِكَ الطَّعامِ إِلاَّ قَلِيلاً، فَإِذَا نَحْنُ وَجَدْنَاهُ، لَمْ يَكُنْ لَنَا مَنَادِيلُ إِلاَّ أَكُفَّنَا، وَسَواعِدَنَا، وَأقْدَامَنَا، ثُمَّ نُصَلِّي وَلاَ نَتَوَضَّأُ . رواه البخاري

৭/৭৫৮। সা‘ঈদ ইবন হারেস কর্তৃক বর্ণিত, তিনি জাবের রাঃআঃ-কে আগুনে স্পর্শ করা বস্তু খাওয়ার পর ওযূ করা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি বলিলেন, ‘না। [ওযূ করিতে হবে না।] নবী সাঃআঃ এর যুগে তো আমরা এরূপ খাদ্য খুব কমই পেতাম। আর যখন আমরা তা পেতাম, তখন আমাদের তো হাতের চেটো, হাতের নলা ও পা ছাড়া কোন রুমাল ছিল না। [আমরা এগুলিতে মুছে ফেলতাম।] তারপর [নতুন] ওযূ না করেই আমরা নামায আদায় করতাম।’ [বুখারী][7]


[1] সহীহুল বুখারী ৫৪৫৬, মুসলিম ২০৩১, আবূ দাউদ  ৩৮৪৭, ইবনু মাজাহ ৩২৬৯, আহমাদ ২৬৬৩, ৩২২৪, ২৭৭৭৩, দারেমী ২০২৬

[2] মুসলিম ২০৩২, আবূ দাউদ  ৩৮৪৮, আহমাদ ১৫৩৩৭, ২৬৬২৬, দারেমী ২০৩৩

[3] মুসলিম ২০৩৩, ইবনু মাজাহ ৩২৭০, আহমাদ ১৩৮০৯, ১৩৯৭৯, ১৪১৪২, ১৪২১৮, ১৪৫২১, ১৪৮০২, ১৪৮১৫

[4] প্রাগুপ্ত

[5] মুসলিম ২০৩৪, তিরমিযী ১৮০১, আহমাদ ৮২৯৪, ৯১০৫

[6] মুসলিম ২০৩৪, তিরমিযী ১৮০১, আবূ দাউদ  ৩৮৪৫, আহমাদ ১২৪০৪, ১৩৬৭৫, দারেমী ১৯৪২, ২০২৫, ২০২৮

[7] সহীহুল বুখারী ৫৪৫৭, তিরমিযী ৮০, নাসায়ী ১৮৫, আবূ দাউদ  ১৯১, ১৯২, ইবনু মাজাহ ৪৮৯, ৩২৮২, আহমাদ ১৩৮৮৭, ১৪০৪৪, ১৪৫০৩, ১৪৬০২, ১৪৬৬২, মুওয়াত্তা মালেক ৫৭

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

ইলম (জ্ঞান ও শিক্ষা) বিষয়ক অধ্যায়

পরিচ্ছেদ – ২৪১ঃ ইল্মের ফযীলত পরিচ্ছেদ – ২৪২ঃ মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজেব

Leave a Reply

%d bloggers like this: