যে কোন প্রাণী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়া নিষেধ

যে কোন প্রাণী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়া নিষেধ

যে কোন প্রাণী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়া নিষেধ >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ২৮৩ : যে কোন প্রাণী এমনকি পিঁপড়েকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়া নিষেধ

1/1617. عَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: بَعَثَنَا رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْثٍ، فَقَالَ: «إِنْ وَجَدْتُمْ فُلاَناً وَفُلاناً» لِرَجُلَيْنِ مِنْ قُرَيْشٍ سَمَّاهُمَا «فَأَحْرِقُوهُمَا بِالنَّارِ» ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ أَرَدْنَا الخرُوجَ: «إنِّي كُنْتُ أَمَرْتُكُمْ أَنْ تُحْرِقُوا فُلاناً وَفُلاناً، وَإِنَّ النَّارَ لاَ يُعَذِّبُ بِهَا إِلاَّ الله، فَإِنْ وَجَدْتُمُوهُمَا فَاقْتُلُوهُمَا». رواه البخاري

১/১৬১৭। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাঃআঃ একবার আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন এবং কুরাইশ বংশীয় দুই ব্যক্তির নাম নিয়ে আদেশ দিলেন যে, ‘তোমরা যদি অমুক ও অমুককে পাও, তাহলে তাহাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিও।’ অতঃপর যখন যাত্রা শুরু করলাম, তখন তিনি বলিলেন, ‘‘আমি তোমাদেরকে অমুক অমুক লোককে আগুন দিয়ে জ্বালাতে বলেছিলাম। কিন্তু আগুন দিয়ে জ্বালানোর শাস্তি কেবল আল্লাহই দেন। বিধায় তোমরা যদি তাহাদেরকে পাও, তাহলে তাহাদেরকে হত্যা করে দিও।’’ [বুখারী] [1]

2/1618 وَعَنِ ابنِ مَسعُود رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ، فَانْطَلَقَ لِحَاجَتِهِ، فَرَأيْنَا حُمَّرَةً مَعَهَا فَرْخَانِ، فَأَخَذْنَا فَرْخَيْهَا، فَجَاءَتِ الحُمَّرَةُ فَجَعَلَتْ تَعْرِشُ، فَجَاءَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «مَنْ فَجَعَ هَذِهِ بِوَلَدِهَا ؟، رُدُّوا وَلَدَهَا إِلَيْها» . وَرَأَى قَرْيَةَ نَمْلٍ قَدْ حَرَّقْنَاهَا، فَقَالَ: «مَنْ حَرَّقَ هَذِهِ؟» قُلْنَا : نَحْنُ، قَالَ: «إِنَّهُ لاَ يَنْبَغِي أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلاَّ رَبُّ النَّارِ» . رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

২/১৬১৮। ইবনি মাসঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি পেশাব-পায়খানা করিতে চলে গেলেন। অতঃপর আমরা একটি লাল রঙের [হুম্মারাহ] পাখী দেখলাম। পাখীটির সাথে তার দুটো বাচ্চা আছে। আমরা তার বাচ্চাগুলোকে ধরে নিলাম। পাখীটি এসে [আমাদের] আশে-পাশে ঘুরতে লাগল। এমতাবস্থায় নবী সাঃআঃ ফিরে এলেন এবং বলিলেন, ‘‘এই পাখীটিকে ওর বাচ্চাদের জন্য কে কষ্টে ফেলেছে? ওকে ওর বাচ্চা ফিরিয়ে দাও।’’ তারপর তিনি পিঁপড়ের একটি গর্ত দেখিতে পেলেন, যেটাকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। তা দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘‘এ গর্তটি কে জ্বালাল?’’ আমরা জবাব দিলাম যে, ‘আমরা [জ্বালিয়েছি]।’ তিনি বলিলেন, ‘‘আগুনের মালিক [আল্লাহ] ছাড়া আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়া আর কারো জন্য সঙ্গত নয়।’’ [আবূ দাঊদ বিশুদ্ধ সূত্রে] [2]


[1] সহীহুল বুখারী ৩০১৬, তিরমিযী ১৫৭১, আবূ দাউদ ২৬৭৩, আহমাদ ৮০০৭, ৮২৫৬, ৯৫৩৪, দারেমী ২৪৬১

[2] আবূ দাউদ ২৬৭৫, আহমাদ ৩৮২৫

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply